#মায়ার_যাতনা
#পর্ব_১১
#অরুনিতা_আঁখি
উজ্জ্বল শ্যামবর্ণ্যা এক মোহনীয় রমণী দোঁলনায় দোল খাচ্ছে,,,পিছন থেকে বছর নয়-দশেক ছোট মেয়েটা যতবার ধাক্কা দিচ্ছে,,ততবার রমণী’র খিলখিল হাসির প্রকোপ বাড়ছে!!
স্নিগ্ধ সেই হাসি নিস্তব্ধ পরিবেশে যেন একটু বেশি সাড়া ফেলছে!!
দোঁলনার গতিতে রমণীটির কোমর ছুঁয়ে যাওয়া খোলা চুল গুলো হালকা বাতাসে উড়ছে,,,আর কিছু অবাধ্য চুল বারবার চোখ-মুখ ছুঁয়ে যাচ্ছে,,,কিন্তু এতে রমণীটি একদমই বিরক্ত হচ্ছে না!!
“এত সুন্দর আর স্নিগ্ধ কেন এই দৃশ্য,,যেন প্রকৃতির সমস্ত সৌন্দর্য এসে মিশেছে সেই মুহূর্তে!!”
দূর থেকে দাঁড়িয়ে রুদ্র নির্বাক হয়ে তাকিয়ে আছে; তার চারপাশে কী ঘটছে সে জানেই না। তার সমস্ত মনোযোগ আটকে গেছে সেই স্নিগ্ধ, অপরূপা নারীর উপর—যেন সময় থেমে গেছে,,গতি থেমে গিয়ে মেয়েটির মায়াবী বদনে আটকে আছে!!
এদিকে ফোনের ও’পাশ থেকে রায়হান মির্জার কন্ঠ ভেসে আসছে,,
~”হ্যালো,,,হ্যালো!!রুদ্র কথা বলছিস না কেন??
কোথায় হারিয়ে গেছিস ব্যাটা!!
আরেএএ… দূররররর!!”….
অনেকক্ষণ নিজে নিজেই বকবক করে অবশেষে বিরক্ত হয়ে কল কেটে দিলেন রায়হান মির্জা।।
কিন্তু এতেও রুদ্রের কোনো হেল-দোল হলো না,,সে একই ভঙ্গিতে সামনের দৃশ্যপটে থমকে আছে!!
~~~~~~~~~
দীর্ঘ পাঁচ দিনের তীব্র জ্বর কাটিয়ে মায়া অবশেষে আজকে কিছুটা সুস্থ অনুভব করছিলো,,, আর কাকতালীয়ভাবে আজকে মায়ার জন্মদিন!!
মায়া ভাবলো হয়তো নিয়তি’ও তার জীবনের নতুন সূচনা চাইছে।।
হ্যাঁ আজকের দিনটা বিশেষ,,আর এই দিনেই মায়া তার নতুন পথচলা শুরু করবে,,স্বাধীনভাবে মুক্ত বিহঙ্গের মতো।।
আর কারো কথা সে ভাববে না,,কোনো কষ্ট যাতনা তাকে ছুঁতে পারবে না আর,,,,সে আকাশের মুক্ত পাখি হবে!!
সকালে ফজরের নামাজ আদায় করে,,,কিছুক্ষণ কোরআন তেলাওয়াত করলো।তারপর সকালের হালকা-পাতলা কিছু নাস্তা তৈরি করে মায়া গোসল করে নিলো।
মায়া আয়নার সামনে বসে নিজেকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছে।।
একখানা সাদা শুভ্র রঙের থ্রি পিস তার গাঁয়ে,,,সম্পূর্ণ সাদা।।
সে বিশ্বাস করে সাদা শুভ্রতা ও নির্মলতার প্রতীক।।তার রঙহীন জীবনে এই রঙটা একদম মানানসই,,, বিশেষত আজকের এই দিনের জন্য!!
মায়া দুতলা ডুপ্লেক্স মির্জা ম্যানশনটি থেকে বাইরে বেরিয়ে আসে,,ঘরে থাকতে থাকতে রুহু যেন পচে গেছে তার।।
ম্যানশনটির ফ্রন্ট ইয়ার্ড এর একপাশে সুইমিং পুল আর খোলা মাঠ,,,আর অপর পাশে বিশাল বড় গার্ডেন আর বসার জায়গা,,,মাঝখানে গেট থেকে মেনশন পর্যন্ত প্রশস্ত রাস্তা।।
মায়া অবাক হয়ে সবকিছু পর্যবেক্ষণ করছে,,”এতো সুন্দর বাড়িও হয়!!মনে হচ্ছে আধুনিক যুগের রাজা-বাদশাদের বাড়ি!!
মায়া হাঁটতে হাঁটতে সুইমিং পুলের পাশে এসে বসে পড়লো,,,পুলের স্বচ্ছ পানিতে পাঁ ভিজিয়ে রাখলো কতক্ষণ।।
তারপর উঠে হেঁটে আবার বাগানের দিকে গেলো,,
বেশি বিদেশি কত রকমের ফুল বাগানে,,যার অধিকাংশরে’ই নাম তার জানা নেই,,এমন কি দেখেও’নি কোনোদিন!!
বাগানের মালি বাগান ক্লিন করছে,,, আর তার পিছে একটা ছোট বাচ্চা মেয়ে ঘুরঘুর করছে।।মায়া এগিয়ে গেল সেদিকে……
~আসসালামু আলাইকুম রহিম চাচা,,ভালো আছেন??
~”ওয়ালাইকুম আসসালাম,,আরেহ মায়া ম্যাডাম যে!!
ভালো আছি আমি,,আপনি কেমন আছেন??”
মায়াকে দেখে হেসে হেসে লোকটা উত্তর করলো।
বাবার বয়সী একটা লোক মায়াকে ম্যাডাম বলে ডাকছে,,সেটা তার মোটেও ভালো লাগেনি।।সে খানিকটা রাগত স্বরে বললো
~রহিম চাচা,,,আপনাকে আমি কতবার বলেছি আমাকে ম্যাডাম বলে ডাকবেন না!!
আমার নাম মায়া,,,’মায়া’ বলে ডাকবেন আমাকে।।আর বেশি কঠিন হলে আম্মাজান ডাকবেন!!
মায়ার এত আন্তরিকতায় আর সম্মানে লোকটার মুখ উজ্জ্বল হলো বেশ,,,তিনি খানিক লজ্জা পেলেন,, বললেন,,,
~আমার ভুল হয়েছে আম্মাজান!এখন থেকে আর ম্যাডাম ডাকবোনা আপনাকে।।তো আপনার কি কিছু লাগবে আম্মাজান??
~”না আপাতত কিছু লাগবে না,,তবে আপনার পাশে কিউট বাচ্চা মেয়েটা কে??”মায়া হেসে বাচ্চাটার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞাসা করলো।।
~’ও’? ‘ও’ আমার ছোট মেয়ে ‘নাজিয়াত’।।অনেকদিন ধরে আবদার করছিলো সাহেবদের বাড়ি দেখবে,,আজকে তো জেদ ধরে কান্নাকাটি করছিলো,,,তাই না এনে আর থাকতে পারিনি।।
এবার লোকটার মুখে কিছুটা বিভ্রান্তি দেখা যাচ্ছে,,মায়া তা খেয়াল করেছে।।কিছুটা মন’ক্ষুন্ন হলো তার,,”লোকটা এত কেন সংকীর্ণ বোধ করছে তার কাছে??
মায়া তাকালেো বাচ্চাটার দিকে,,যে এখন বাবার পিছনে মুখ লুকিয়ে আছে।।সে হাত দিয়ে ইশারা করে নিজের কাছে ডাকলো মেয়েটাকে।।মেয়েটা হয়তো ভয় পাচ্ছে,,,
মেয়েটা কাছে আসতেই মায়া তার চুলে হাত বুলিয়ে আদর করে দিয়ে বলল,,
~তোমার নামটা আমার কাছে বড় লেগেছে,,,এখন থেকে আমি তোমাকে ছোট একটা নাম দিলাম,”আশু”।।ঠিক আছে??
মেয়েটা মাথা নাড়িয়ে সায় জানালো।।
~ চাচা,,সকাল থেকে অনেক কাজ করেছেন!!আমি পায়েস রেধেছিলাম,,আপনারা এখানে একটু বসুন আমি নিয়ে আসছি,,একসাথে খাবো!!
রহিম মিয়াকে লজ্জা পেতে দেখা গেলো,,তিনি বারণ করতে চাইলেন মায়াকে,, কিন্তু মায়ার জোড়াজুড়িতে তা আর করতে পারলেন না।।
সকালের শান্ত মনোরম পরিবেশ,,চারদিক থেকে ঠাণ্ডা ফুরফুরে হাওয়া শরীর-মনকে শীতল করে দিচ্ছে যেন!!
বাগানের পাশে ঘাসের উপর মাদুড় পেঁতে বসেছে তারা।।মায়া তিন জনের জন্য পায়েস আর ফ্লাক্সে করে চা এনেছে।।
হাসি মজা করতে করতে তিনজনেই খেয়ে নিচ্ছে,,বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে এরা হয়তো যুগ জনম ধরে একজন আরেকজনের সাথে পরিচিত।।
~~~~~~~~~~~
মায়ার সারাটা দিন ছোট মেয়েটার সাথে হাসি-খেলা করতে করতে কেটে গিয়েছে।। বাচ্চাটা খুব তাড়াতাড়ি সহজ হয়ে গিয়েছে তার সাথে,, আর হবেই না বা কেন!!কথায় আছে,,”বাচ্চাদের সাথে মিশতে গেলে বাচ্চা হতে হয়”,,,মায়ার এই গুনটা খুব ভালোই আছে।।
ছোটবেলায় তার চঞ্চলতা ও দুষ্টুমিতে সবাই অতিষ্ঠ হয়ে যেত।।আর তারপর তো,,জীবনের এক একটা ধাক্কায় তার সেই স্বভাব কোথায় হারিয়ে গিয়েছে!!
অল্প বয়সেই সে অনেক কিছু বুঝতে শিখে গিয়েছে।।
আজ এই মেয়েটাকে দেখে বুঝলো,,,তার হারানো চঞ্চলতা ফিরিয়ে আনা দরকার।।মায়াকে দেখে এখন কেউ বুঝতেই পারবে না,,,”কাল পর্যন্ত মেয়েটার উপর দিয়ে কি গিয়েছে!!”
বিকেলবেলা,,,মায়া রহিম মিয়া কে দিয়ে বাগানের শেষ মাথায় দু’টো মাঝারি সাইজের গাছের বড় শক্তপোক্ত ঢালে রশি বেধে দোঁলনা বানিয়েছে।।
দোঁলনা যে নেই এমন নয়,,”পুল থেকে খানিকটা দূরে মেটালিক স্টোনের একটা আছে,, এছাড়াও ছাদেও আছে একটা।।”
কিন্তু রোদে দিয়ে কোন বোকা সেখানে দোল খেতে যাবে,,মায়া বুঝে পায়না!!
বাগানের এদিকটায় গাছের ছায়া ঘেরা শান্ত শীতল আর সবচেয়ে সুন্দর পরিবেশ,,সাথে সব সময়ের জন্য হালকা মৃদুমন্দ বাতাস তো রয়েছেই।।ব্যাসস,, আর লাগে কি!!
মায়া প্রথমে দোঁলনায় আশু’কে বসালো,,আর পিছন থেকে সে ধাক্কা দিচ্ছিলো।
এবার মায়ার পালা,,,আশু পিছন থেকে ধাক্কা দিচ্ছিলো,,,আর মায়ার দোল খেতে খেতে সেই খিল খিল করা হাসি,,দুজনেই হাসছে!!
আর তখনই সেখানে ফোনে কথা বলতে বলতে রুদ্রের আগমন,, (আর তারপর তো যা ঘটলো সেটা সবারই জানা!!)
মায়া এখনো লক্ষ্য করেনি রুদ্রকে,,কিন্তু রুদ্র তার সকল হুশ জ্ঞান হারিয়ে তাকিয়ে আছে।।
তারা চাহনিতে কি আছে কে জানে! মুগ্ধতা আর বিস্ময়?নাকি সাথে অন্য কিছু !!?
কেউ যে এতক্ষণ ধরে মায়া আর আশুকে পর্যবেক্ষণ করছে,,সেদিকে তাদের কারো খেয়াল আছে??
রুদ্র ভাবছে,,”এখানে বাচ্চাটা আসলে কে??” এদের দুইজনের কাউকেই তো বড় মনে হচ্ছে না।।
আর মুখের যে উচ্ছ্বাস,,তাতে মনে হচ্ছে এদের থেকে সুখী কেউ হতেই পারে না!!
বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হতে চললো,,আশুকে আবার বাড়ি যেতে হবে।।মায়া আশুকে নিয়ে দোলনা ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো।।
আশুর হাত ধরে কয়েক ধাপ সামনে আগাতেই মায়ার মাথায় যেন বাজ পড়লো,,” রুদ্র!!এ শয়তানটা এখানে কি করছে!!”মায়া এতটাই হতবাক হয়েছে যে নিজের জায়গা থেকে নড়তেও ভুলে গিয়েছে।।
এদিকে মায়ার কাজল কালো হরিণী চোখে চোখ পড়তেই রুদ্রের যেন কয়েকটা হার্টবিট মিস হয়ে গিয়েছে!!রুদ্র আনমনে এক হাত বুকের বাম পাশে নিয়ে চেপে ধরলো।
ধীরে ধীরে মায়ার চেহারা থেকে অবাকতার রেশ কাটলো,,,সেই সাথে চোখে জমা হতে থাকলো একরাশ ক্ষোভ,ঘৃণা আর বিতৃষ্ণা!!
রুদ্রের চোখ একবারের জন্য’ও মায়ার দিক থেকে সরেনি,,,তাই মায়ার চোখের চাহনির পরিবর্তন সবটাই তার নজরে পড়লো!!সে অস্ফুট স্বরে আওড়ালো,,
~”এ নারী কি চোখ দিয়েই মে**রে দেবার পরিকল্পনা করছে নাকি!!”
সেই বাক্য মায়ার কানে আসেনি!! সে আর’ও জোরে আশু’র হাত চেপে ধরে যত দ্রুত সম্ভব রুদ্রের পাশ কাটিয়ে চলে যেতে চাচ্ছে।।
রুদ্রের সামনে থেকে পাশ কাটিয়ে চলে গেলে,,রুদ্র আবার ঘাঁর বাকিয়ে তাকিয়ে থাকলো,,কিন্তু মায়া একবারের জন্য’ও পিছনে ফিরে তাকায়নি!!
~”উফফ! ড্যামম্ ইট্ !!
এই নারী থেকে হাজারগুন সুন্দরী হট মেয়েরা আমার পিছন পরে আছে,,, কিন্তু তবুও….তবুও মেয়েটা আমাকে সব কিছু থেকে ডিস্ট্রাক্টেড করছে!!”
“হাউ ক্যান ইট পসিবল্!! মেয়েটার সামান্য চোখের ঝলকানি পুরো সাত দিন আমাকে শান্তিতে থাকতে দেয়নি,,,আর এখন তো পুরো ফুল প্যাকেজ হয়ে চলে এসেছে!!”
রুদ্র কপাল চেপে ধরলো,,,
~”মেয়েটা বড্ড জ্বালাচ্ছে আমাকে!!”
~~~~~~~~~~~~~
~ রহিম চাচা,,এরপর থেকে নাজিয়াত যখনই এখানে আসতে চাইবে আপনি নিয়ে আসবেন ওকে।।
বাসায় একা আমার সময় কাটে না,,আপনি ওকে নিয়ে আসলে আমি খুব খুশি হবো।।
~ঠিক আছে মায়া ম্যাডাম,,,ইয়ে মানে আম্মাজান!!
আমি মাঝে মাঝে ওকে নিয়ে আসবো,,,ওর ও নাকি আপনাকে খুব পছন্দ হয়েছে।।
মেয়েটা সহজে কারো সাথে মিশতে চায় না,,,আপনার সাথে এত তাড়াতাড়ি মিশবে আমি কখনো ভাবতেও পারিনি।।
মায়া হালকা হাসলো লোকটার কথায়।।
~তাহলে আজ আসি আম্মাজান??
~”জ্বি চাচা।।”
সে আশু’র দিকে তাকিয়ে হাত দিয়ে বিদায় জানালো,,বললো,,- ” আবার আমার কাছে আসবে তো ফ্রেন্ড??”
মেয়েটা ঘনঘন মাথা নাড়িয়ে সায় জানিয়ে বলল,,
~আমি তোমাকে খুব মিস করব ফ্রেন্ড,,,তবে এখন আমি যাই? আল্লাহ হাফেজ!!
~আল্লাহ হাফেজ!!
~~~~~~~~~~~~
অফিসের কাজে রুদ্রকে শহর ছাড়িয়ে বাইরে যেতে হয়েছিল।সন্ধ্যার দিকেই ফাইল নিয়ে সে রওনা দিয়েছিল।।
ভ্যাপসা গরম পরছে!আকাশের অবস্থা ভালো না,,যেকোনো সময় ঢালা বৃষ্টি নামতে পারে।। আর দুর্ভাগ্যবশত,,শহরে ফেরার পথে পথিমধ্যে গাড়িটা খারাপ হয়ে যায়।।রুদ্র কি করবে বুঝতে পারছে না,,, বাড়ি ফেরার জন্য এখনো দেড় কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হবে।।অনেকক্ষণ চেষ্টা করার পরেও গাড়িটা ঠিক হচ্ছে না,,এটাকে এখন গ্যারেজে নিতে হবে।।কিন্তু আশেপাশে কোথাও গ্যারেজ ও দেখা যাচ্ছে না!!
~ Ohhh, f***!!
এই রাস্কেলটা নষ্ট হওয়ার আর সময় পেল না!!
বিরক্ত হয়ে রুদ্র গাড়ি থেকে কিছুটা দূরে এসে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে সিগারেট ধরালো।।আকাশ থেকে মেঘের গর্জন শোনা যাচ্ছে,,যেকোনো সময় বৃষ্টি পড়া শুরু হতে পারে।।
হলো’ও তাই!! রুদ্র ভাবতে না ভাবতেই আকাশের ঢল নামিয়ে বৃষ্টি পড়া শুরু হয়েছে।।
বৃষ্টিতে রুদ্রের এলার্জি!!ছোটবেলায় একবার ভিজে ছিল,,তার জন্য তাকে সপ্তাহ খানিকের’ও বেশি সময় জ্বরে ভুগতে হয়েছে।।তাকে নিয়ে হাসপাতালে দৌড়াদৌড়ি করার মতো অবস্থা ছিল!!তারপর থেকে রায়হান মির্জা আর কখনোই তাকে বৃষ্টিতে ভিজতে দেয়নি।।রুদ্র’ও আর কোনদিন ভিজেনি!!
রুদ্র যেখানে দাঁড়িয়েছিল সেখান থেকে একটু দূরে একটা চায়ের দোকান দেখা যাচ্ছিলো।বৃষ্টি থেকে বাঁচার জন্য রুদ্র তাড়াতাড়ি করে সেখানে গিয়ে ঠাঁই নিলো।ভাবলো বৃষ্টি না থামা পর্যন্ত এখানে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করা যাক,,কোন উ’বার পেলেই চলে যাবে।।মোবাইলটা কোথায় রেখেছে কে জানে? খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না!!না হলে তো আসিফ কে ফোন দিয়ে কোনো একটা ব্যবস্থা করা যেত।।
দোকানদার নেই এখানে,,দোকানটা বন্ধ আছে আপাতত।।রুদ্র বেঞ্চিতে বসে মাথা নিচু করে রেখেছিলো,,মূলত বৃষ্টি থামার অপেক্ষা করছিল।।এমন সময় বেঞ্চির অপর পাশে আরেকজনকে এসে বসতে দেখা গেল।।রুদ্র তাকালো না সেদিকে,,”কে এসেছে,না এসেছে তাতে তার কি?”
কিন্তু অপর পাশের মানুষ’টি এবার রুদ্রের সামনে এসে দাঁড়ালো,,,
~”বাবা,,খুব খিদে পেয়েছে!!আমাকে কিছু খাবার দিতে পারবে??”
ভাঙ্গা ও রুক্ষ সূক্ষ্ম এক মহিলার কন্ঠ কানে আসতেই রুদ্র মাথা তুলে সামনে তাকালো।।
কিন্তু সামনের মানুষটিকে দেখে রুদ্রের যেন পুরো দুনিয়া ঘুরছে,, মনে হচ্ছে পায়ের নিচের জমিন সরে গিয়েছে!!
অপরদিকে সামনের মানুষটিরও একই দশা!!দুজনেই যেন কথা বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছে।।তারা শুধু আকাশ সমান অবিশ্বাস আর বিস্ময় নিয়ে একে অপরের দিকে নির্বাক হয়ে তাকিয়ে আছে।।………………
~~~~~~~~~~~~~~~
সন্ধ্যায় রহিম মিয়া ও আশুকে বিদায় দেওয়ার পর,,মাগরিবের নামাজ আদায় করে পড়তে বসেছিল মায়া।।পড়তে পড়তে কখন যে বইয়ে মুখ ডুবিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে, তা তার অজানা।। এটা তার পুরনো অভ্যাস,,প্রায় সময়’ই পড়তে বসে বইয়ের মধ্যে মুখ লুকিয়ে ঘুমিয়ে যায়!!
মাঝ রাত্রিতে খিদে লাগায় তার ঘুম ভেঙে যায়।। মায়া উঠে বসে,,মুখের উপর বই পড়ে আছে!!
রাগ লাগলো তার নিজের উপর,,”বাজে অভ্যাসটা ছাড়াতে হবে!!এভাবে কুম্ভকর্ণের মত পড়ে পড়ে ঘুমালে ভালো ভার্সিটিতে পড়ার স্বপ্ন তার স্বপ্নই রয়ে যাবে।।”
সময় দেখার জন্য মোবাইলটা হাতে নিতেই দেখলো তার বেস্ট ফ্রেন্ড মারিয়া ফোন আর মেসেজ দিয়ে রেখেছে।।কাল সকাল সকাল মারিয়ার সাথে দেখা করতে যেতে হবে।।সেটা বলার জন্যই মেসেজ করেছিল।।
রাত দু’টো বাজে,,, এখন আর ভাত খেতে ইচ্ছে করছে না।।কিচেনে গিয়ে দেখল কিছু আছে কিনা,,তার বানানো পায়েস এখনো পড়ে আছে,,,সেটাই খেয়ে নিলো।।
মায়া পড়েছে বিপদে,,মারিয়ার সাথে দেখা করতে যাওয়ার জন্য তার টাকা প্রয়োজন,,,টাকা আছে তার ব্যাগে।।ওই রুম থেকে তার লাগেজ আনলেও সেই ব্যাগটা আনতে মনে ছিল না।।
“তারমানে তাকে এখন আবার ওই শয়তানটার ঘরে যেতে হবে??”
যেহেতু সকাল সকাল মারিয়ার সাথে দেখা করতে হবে,,তারমানে রাতের মধ্যেই তাকে ব্যাগটা আনতে হবে।।কারণ সকালে জানোয়ার’টা জেগে থাকতে পারে,, আর সে ওই লোকটার মুখ’ও দর্শন করতে চায় না!!
মায়া ভাবলো এখন অনেক রাত হয়েছে,,প্রথমে সে চুপি চুপি ঘরের দরজা দিয়ে দেখবে লোকটা আদৌ ঘরে আছে কিনা,, না থাকলে তো সবচেয়ে ভালো!!
আর থাকলে দেখতে হবে জেগে আছে কিনা??
যেই ভাবা সেই কাজ!! মায়া শব্দহীন পায়ে রুদ্রের ঘরের দরজার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে,, তারপর দরজা হালকা একটু ফাঁকা করে দেখলো রুদ্র ঘরেই আছে।।মায়া একদিক থেকে একটু আতঙ্কিত হলেও অন্য দিক থেকে স্বস্তি পেয়েছে,,,কারণ শয়তানটা কাঁথা মুড়ি দিয়ে ঘুমিয়ে আছে!!
মায়া অতি সন্তর্পনে পা টিপে টিপে ঘরে প্রবেশ করলো…………………
…….চলবে??
(আপনাদের লেখিকা একজন গরিব’স মানুষ🫠
লেখালেখির সুবাধে দুই দিনের মাথায় মোবাইলে নেট আনতে হয়েছে,,না হলে আমি দুই তিন মাস একাধারে ফ্রি ইন্টারনেট চালানোর মানুষ ছিলাম😶)
https://www.facebook.com/share/1AYhCCqwqL/
https://www.facebook.com/share/g/1AufQdkZf8/
এই গল্পের নেক্সট পার্ট এর হাইলাইট নোটিফিকেশন পেতে অবশ্যই কমেন্ট অথবা follow ফলো করে রাখুন..!

