#মায়ার_যাতনা
#পর্ব_১৩
#অরুনিতা_আঁখি
…………………..
“আসসালামু আলাইকুম,”
আমি মায়া—সেই মেয়ে, যে আপনার বাবাকে ফাঁসিয়ে আপনাকে বিয়ে করেছিলাম!
কিন্তু এবার আপনাকে নিশ্চিন্ত করছি, আপনার ইচ্ছা পূর্ণ হতে চলেছে।
আপনি চেয়েছিলেন, আমি যেন স্বেচ্ছায় আপনাকে মুক্তি দিই—চিরতরে।
তবে তার আগে, আপনাকে বিয়ে করার অপরাধে আপনি চেয়েছিলেন আমার প্রতিটি মুহূর্তকে দগ্ধ করে অঙ্গার করে দিতে।
আমার বিশ্বাস, আপনার সেই উদ্দেশ্যও সফল হয়েছে।
আমার ধারণা মতে, আমি যথেষ্ট শাস্তি পেয়েছি!
এবার সময় এসেছে, আপনার জীবন থেকে আমার মতো নোংরা মানুষকে বহিষ্কার করার।
তবে, এর জন্য প্রয়োজন আমাদের দুজনেরই সিদ্ধান্ত ও মতামত।
চিরকুটে যেটা সম্ভব নয়—এজন্যই আমি সরাসরি আপনার সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলাম।
আপনার ঘরে গিয়েছিলাম, কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে আপনি আমাকে সেই সুযোগ দেননি—তার আগেই…….।।
যা হোক,
আপনার বিচারে আমার শাস্তি যদি সত্যিই শেষ হয়ে থাকে, তবে এবার অন্তত আমাকে সেই সুযোগ দিন—
আজ বিকেলজুড়ে আর আগামীকাল সকাল আমি ছাদে অপেক্ষায় থাকব।
আপনার এবং আপনার ভবিষ্যৎ অর্ধাঙ্গিনীর জন্য অগ্রিম শুভকামনা—
আপনাদের জীবন হোক সুখে পরিপূর্ণ।
ইতি,
“কুৎসিত মেয়ে”
~~~~~~~
ছাদে আলাদা করে উপরে রুফটপ দিয়ে আলাদা বসার জায়গা আছে,,, এক কাপ কফি নিয়ে ছাদে খোলা আকাশের নিচে সেখানে বসে বই পড়ছে ,,ফুরফুরে বাতাসে বেশ ভালই লাগছে তার। পরনে হালকা গোলাপি রঙের থ্রি পিস,,গায়ে পাতলা সুতির ওড়না জড়ানো।। কোমর ছড়ানো চুলগুলো আজ বেনুনি করে এক পাশ করে রাখা।।বরাবরের মতো স্নিগ্ধ আর কোমল লাগছে মেয়েটাকে!!
পড়ার ফাঁকে ফাঁকে কফির কাপে ছোট ছোট চুমুক বসাচ্ছে।।
কিন্তু কিছুক্ষণ ধরে মায়ার কেমন কেমন যেন লাগছে,,মনে হচ্ছে আশেপাশে কেউ আছে,,গুরুত্বপূর্ণ চ্যাপ্টার কমপ্লিট করছে বলে সে বিষয়টাকে পাত্তা দেয়নি।।কিন্তু এখন আর সে ইগনোর করতে পারলো না,,বই থেকে মুখ উঠিয়ে আশেপাশে তাকালো।।তখনই রুদ্রকে দরজার পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ভরকালো।।রুদ্র কে এই সময়ে এখানে সে আশা করেনি।।হ্যাঁ,চিরকুটে সে বিকেল বেলার কথা বললেও,,,তখন তার খেয়াল ছিল না যে রুদ্র বিকেলে বাসায় থাকে না।। আর ফিরে গিয়ে আবার চিরকুট সংশোধন করতে তার বিরক্ত লাগছিল,,তাই আর সংশোধন করা হয়নি।।
রুদ্রের থেকে চোখ সরিয়ে মায়া একবার নিজেকে ভালো করে পরখ করে দেখলো সব ঠিক আছে কিনা,,,তারপর ওড়না টেনে মাথায় কাপড় দিলো।
“এই লোক কখন এলো??আর এসেছে কি তার চিরকুট পরে নাকি এমনিতেই।।”
রুদ্রের গায়ে একটি লাল টি শার্ট,,হাঁটু পর্যন্ত একটি ব্ল্যাক শর্ট প্যান্ট,,আর মাথায় একটি লাল ক্যাপ উল্টো করে পরে আছে।।রুদ্রকে দেখে মায়ার রাগ লাগলো,,জানে ঘরে সে ছাড়াও আরো একটি মেয়ে বাস করে,,,তাহলে এমন অর্ধ পোশাক পড়ে থাকার মানে কি!!কখনো শার্টলেস থাকে তো কখন আবার হাঁটু দেখিয়ে বেড়ায়,,সে সিক্স প্যাক ওয়ালা মাস্যল ম্যান বলে কি এভাবে নির্লজ্জের মতো একটা মেয়ের সামনে থাকতে হবে নাকি!!
একবার নজর পড়তেই মায়া আর তাকালো না রুদ্রের দিকে,,আবার মনোযোগ রাখলো বইয়ের উপর।।ভাবলো,,”লোকটা যদি চিরকুট পড়েই এখানে এসে থাকে তাহলে নিশ্চয়ই তাকে জিজ্ঞাসা করবে,,আগ বাড়িয়ে কোনো কথা বলার কি দরকার?”
রুদ্র প্যান্টের পকেটে দু’হাত গুজে স্বাবলীল ভঙ্গিতে হেঁটে এসে মায়ার সামনে দাঁড়িয়েছে।রুদ্রকে নিজের সামনে দেখে মায়া বই থেকে চোখ তুলে আবার রুদ্রের দিকে তাকালো,,,
রুদ্র মায়ার দিক থেকে চোখ না সরিয়েই শীতল কন্ঠে জিজ্ঞাসা করলো,,
~বলো,, কি বলবে?
মায়া খানিক ঘাঁবরে গিয়ে বললো,,”জ্বি??”
~”কি জন্য ডেকেছিলে??”
~ওও হ্যাঁ,,আপনি আগে ওখানটায় গিয়ে বসুন!! আমরা বসে বিষয়টা নিয়ে আলোচনা করি?
~বসবো না,,যা বলার তাড়াতাড়ি বলো।।
~আচ্ছা,,ঠিক আছে।।
তবে আমি আমার পুরো কথা শেষ করার পর,,আপনি আপনার সিদ্ধান্ত বা মতামতটা জানাবেন,, ততক্ষণ আমার কথা দয়া করে মনোযোগ দিয়ে শুনবেন।।
আমাদের এই যে ‘বিয়ে’ নামক নাম মাত্র সম্পর্কটা,,সেটা আমি বা আপনি কেউই এখন আর এই সম্পর্কটাতে আগ্রহী নই,,অর্থাৎ আমাদের দুজনের কাছেই এই সম্পর্কটার কোন মূল্য নেই।।আমি এই বিয়েটাকে অস্বীকার করছি,,আর যেহেতু বিয়ের সুত্রে আমি আপনাদের বাড়িতে এসেছি,,,তাই এখন এ বাড়িতে থাকার আমার কোন অধিকার নেই।।
আমি চলেও যেতাম আপনাকে মুক্ত করে দিয়ে,,কিন্তু এই মুহূর্তে আমি কোন বাসা খুঁজে পাচ্ছি না থাকার মতো,,আর না খুঁজে পাচ্ছি কাজ।।
আমাদের বিয়ের প্রায় দু মাস হতে চললো,,আমরা মন থেকে সম্পর্কটাকে শেষ করলেও আইনি ভাবে সেটা এখনো আছে।।আর আমি যতটুকু শুনেছি,,তা যদি ভুল না হয়ে থাকে তাহলে ছয় মাস না হওয়া পর্যন্ত ডিভোর্স করানো যায় না।।
আমি আপনার কাছে বাকি চার মাস পর্যন্ত সময় চাইছি,,,আর কয়েকদিন বাদে আমার এইচএসসি পরীক্ষার রেজাল্ট প্রকাশিত হবে,,আর তারপর পাবলিক ভার্সিটিগুলোর মধ্যে এডমিশন টেস্ট শুরু হবে।।আমি সেখানকার কোনো একটা ভার্সিটিতে চান্স পেলেই এখান থেকে চলে যাবো।
আপনারা যদি অনুমতি দেন তাহলে আমি এই বাড়িতে থাকবো।।তবে আপনি চিন্তা করবেন না,,আমি শুধু শুধু বিনে পয়সায় আপনাদের বাড়িতে থাকবো না।।এর বিনিময়ে প্রতিমাসে আমি নির্দিষ্ট অ্যামাউন্ট এর টাকা দিবো।।
আপনি কি বুঝেছেন আমার কথা??আর আপনি কি এই শর্তে রাজি??
রুদ্র আদৌ কতটুকু বুঝেছে বা শুনেছে তার ধারণা করা যায় না।।কারণ মায়ার এতগুলো কথার মাঝে পুরোটা সময় তার দৃষ্টি ছিল কথা বলতে থাকা মায়ার অনবরত নড়তে থাকা পাতলা গোলাপি অধর যুগল ও ঘন পল্লব বিশিষ্ট সেই ভাসা ভাসা আঁখি জোড়ার দিকে।। ” আচ্ছা মেয়েটার সাথে সাথে কি তার চোখ জোড়াও কথা বলে!!আর মেয়েটা কি তোতা পাখি নাকি??এতো বুলি একসাথে কিভাবে আওড়ায়!!”
~কি হলো স্যার,,কিছু বলছেন না কেন??
রুদ্রের সম্ভীত ফিরলো,,গলা ঝেড়ে গম্ভীর কণ্ঠে জিজ্ঞাসা করলো,,
~ রিয়েলি মিস মায়া??এ ম্যানশন এর জাস্ট ওয়ান ইঞ্চি পরিমাণ জায়গারও রেন্ট কি তুমি এফোর্ড করতে পারবে??
~ হ্যাঁ,,,আপনি ঠিকই বলেছেন।।আপনাদের ইট কনা’ও ভীষণ দামী,,আমার হয়তো সত্যিই সামর্থ্য নেই এফোর্ড করার।।কিন্তু আমার কাছে আরো একটি অফার আছে,,আপনাদের বাসায় তো এখন আর সার্ভেন্ট নেই।।আমাকে এখানে আশ্রয় দেওয়ার বিনিময়ে,,আমি এখানকার রান্নার কাজ ও যাবতীয় অন্যান্য কাজ করে দেবো,,,আর সাথে প্রতিমাসে আমার সাধ্যমত নির্দিষ্ট টাকা পে করবো।।
~ওকে ফাইন,,তোমার কথা বুঝলাম আমি।।
বাট তুমি যদি কোন ভার্সিটিতে চান্স না পাও,,তাহলে কি করবে??
~আমি নিজের পরিশ্রম এবং ভাগ্যের উপর আশা রাখছি,,,ইনশাআল্লাহ পেয়ে যাবো।
আর যদি না’ও পাই,,তাহলেও আর এখানে থাকবো না,,তার গ্যারান্টি আপনি নিতে পারেন।।
~কিন্তু এত কষ্ট করার কি দরকার,,,তোমার বাবা মায়ের কাছে গেলে তোমাকে কি তারা গ্রহণ করবে না??
এতক্ষণ পর্যন্ত শক্ত থাকা মায়ার ভিতরে এবার চিড় ধরলো,,কণ্ঠরোধ হয়ে আসলো তার।।”লোকটা তাকে কষ্ট দিতে আর কত নিচে নামবে??”কিন্তু সে তো আর লোকটার উদ্দেশ্য হাসিল হতে দিবে না।। গলায় উঠে আসা কান্না গিলে নিয়ে মায়া রুদ্রকে শক্ত কণ্ঠে বললো,,
~আর কত নিচে নামবেন??মানুষের দুর্বল জায়গায় আঘাত করতে আপনি খুব ভালোবাসেন তাই না??
আমি অনাথ জেনেও বারবার আমার বাবা-মার কথা তুলে আমাকে কষ্ট দেওয়ার জন্য এতো জঘন্য পন্থা কেন অবলম্বন করেন??
মায়ার এতগুলো কথার মাঝে একটা কথাই কেবল রুদ্রের কানে বারবার বাজতে লাগলো,,”মায়া অনাথ!!”
~”কিহহ? তুমি অনাথ মানে……..?” রুদ্রের কন্ঠে প্রকাশ পেল এক আকাশ সমান বিস্ময় আর আশ্চর্য ভাব।।
~~~~~~~~~~~~~
রায়হান মির্জা ~রুদ্র তুমি চিৎকার কেন করছো??আমি বলেছিলাম তোমাকে যে আমার বন্ধু মারা গিয়েছে এক্সিডেন্টে,,, তুমি তার জানাজায়’ও গিয়েছিলে।।তুমি সেসব ভুলে গিয়ে এখন আমার উপর চিৎকার করছো!!
রুদ্র~ না না না বাবা!!তুমি কখনো বলোনি আমাকে যে সেই লোকটা মায়ার বাবা ছিলো।তোমার নিজের কতগুলো ফ্রেন্ড,,আমি কিভাবে বুঝব যে সেটা মায়ার বাবা ছিলো!!
রায়হান মির্জা ~ তখন কি তুমি মায়া কে চিনতে??মায়া তখন ছয় মাসের দুধের শিশু ছিলো,,তখন তোমাকে বললে তুমি কি কিছু বুঝতে??
রুদ্র~অন্তত বিয়ের সময় তো বলা উচিত ছিল যে মেয়েটার বাবা-মা নেই।।
রায়হান মির্জা~তুমি কি আমাকে কখনো কিছু বলার সুযোগ দিয়েছো??তোমার সাথে তো আমি বিয়ে নিয়ে কথাই বলতে পারছিলাম না।।তার আগেই তুমি সব ভাঙচুর করে ফেলে দিতে,,কত কষ্ট করে আমার তোমাকে রাজি করাতে হয়েছিলো!!এমনকি রাজি হওয়ার পরেও মায়ার সম্পর্কে তুমি শুধু আমাকে একটা কথাই জিজ্ঞাসা করেছিলে,,”মেয়েটার ফ্যামিলি স্ট্যাটাস আর আর্থিক অবস্থা কেমন??
আমার উত্তর ছিল “মধ্যবিত্ত”,,,,আর এটা শোনার পর তুমি মেয়েটাকে বিয়ে করতে আরও বেশি নাখোশ হয়েছিলে।।
আর কিছু জানতে চাওনি তুমি,,মেয়েটার নাম দাম পরিচয় কিছুই না!!
রুদ্র ~তারপরেও তুমি আমাকে জানাতে পারতে বাবা!!তুমি ইচ্ছা করেই জানাওনি।।
রায়হান মির্জা~হ্যাঁ আমি জানাইনি,,মায়া মধ্যবিত্ত পরিবারের জেনেই তো তুমি ওকে বিয়ে না করার জন্য বেঁকে বসেছিলে!!
আর তার উপর তুমি যদি জানতে ওর নিজস্ব কোনো পরিবারই নেই,, বরং ওর মামাদের কাছে মানুষ তাহলে তুমি ওকে কখনোই বিয়ে করতে না রুদ্র!!
রুদ্র আবারও রেগে চিৎকার করে উঠলো,,,” How could you do this,Dad?? You are so irresponsible to me !!”
রায়হান মির্জা~ওহ এখন আমি ইরেস্পন্সিবল!! আমি যদি ইরেসপন্সিবল হতাম তাহলে তুমি কখনোই মায়ার মত এত ভালো মেয়ে পেতে না,, তুমি একচুয়ালি মায়াকে ডিজার্ভ ই করো না।।
ইরেস্পন্সিবল আমি না,, বরং তুমি!! কতটা দায়িত্বজ্ঞানহীন হলে তুমি তোমার বউয়ের খোঁজ খবর না নিয়েই বিয়ে করো!! আর কতটা কাণ্ডজ্ঞানহীন হলে বিয়ের এত দিনেও তুমি তোমার নিজের বউয়ের সম্পর্কে কিছুই জানোনা!!
আমার তো এখন নিজের কাজের জন্য অনুতাপ হচ্ছে,, মায়ার মতো একটা ভালো মেয়ের কপালে আমি কি করে তোমার মতো একটা বাঁদর ঝুলিয়ে দিলাম!!
আচ্ছা আমি না হয় তোমাকে মায়ার সম্পর্কে কিছুই বলিনি,,বিয়েতে মায়ার মামা মামনি ছাড়া আর কেউই উপস্থিত ছিল না।।
কোন মেয়ের বিয়েতে তার বাবা-মা উপস্থিত থাকে না??বলো আমাকে?
এমন হাঁটুর নিচে বুদ্ধি নিয়ে তুমি কিভাবে টপ বিজনেসম্যান হলে সেটা এখনো আমার বুঝে আসে না!!
রুদ্র~আড়্রহহহহহহ!!!!
আই সেইড স্টপ ড্যাড,,,তুমি কিন্তু এবার আমাকে ইনসাল্ট করছো।।
রায়হান মির্জা ~আমি ঠিকই বলেছি,,রুদ্র।তুমি…..
রায়হান মির্জা আর কিছু বলতে পারলেন না,,তার আগেই রুদ্র রাগে খেই হারিয়ে নিজের হাতের মোবাইল ফ্লোরে আছড়ে ফেলল।।
রায়হান মির্জা ~হ্যালো, হ্যালো রুদ্র তুমি কি শুনতে পাচ্ছো? হ্যালো….
নিশ্চিত হারাম**দা টা আবার রেগে ভাঙচুর করছে।।এতদিন নাটক করলেও এবার রায়হান মির্জার মায়ার জন্য দুশ্চিন্তায় সত্যি সত্যি বুকের ব্যথা বাড়ছে,,
“ভুল করেছি! খুব বড়ো ভুল করেছি! এই হারা*/মিটা’র মতো রাগী বদমেজাজি,,যে কিনা কখনোই নিজের রাগের কন্ট্রোল করতে পারেনা,,তার সাথে মায়া মামনির মতো এতো সরল মেয়ের বিয়ে দেওয়া ঠিক হয়নি।।”
“খোদা জানে,, এদের ভবিষ্যৎ কি হবে!! ”
~~~~~~~~~
রুদ্র বারান্দায় রকিং চেয়ারে হেলান দিয়ে দোলছে আর স্মোকিং করছে!!
সাধারণত কোনো কিছু নিয়ে চিন্তিত বা ফ্রাস্ট্রেটেড ফিল করলে তার স্মোকিং করার হার বেড়ে যায়।।
এই যেমন এখন…..কয়েক মুহূর্তের মধ্যে বড় বড় ধোঁয়া উড়িয়ে প্যাকেটের অর্ধেকটা শেষ করে ফেলেছে!!
‘ফ্রাস্টেটেড ‘ শব্দটা তার ডিকশনারিতে ছিলো না,,,কিন্তু মেয়েটা আসার পর সেই শব্দটা নতুন করে যোগ হয়েছে।।
এক হাতে কপাল ঘেঁষে আনমনে কিছু হিসাব কষছে সে।।তার ভাবনায় আপাতত কি চলছে কে জানে!!
~~~~~~~~~~~
মারিয়া~ মায়া আমার কথা শোন,,, ঢাকা শহরে বাসা খুঁজে পাওয়া,জব খুঁজে পাওয়া চারটি খানে কথা না।।
আমার তো এখনই টিউশন গুলো লাগবে না,,তোর লাগবে।।আমি স্টুডেন্টদের সাথে কথা বলেছি তারা রাজি হয়েছে।।আর এখন কিনা তুই রাজি হচ্ছিস না!!
মায়া~ কিন্তু তাই বলে তুই আমাকে এত স্বার্থপর হতে বলছিস?আমি তোর কাজ কেন নিবো??
মারিয়া~ ওরে বোকা রেএএএ!!!আমার কি এখন টাকার অভাব আছে!! অভিজ্ঞতা বাড়বে বলে আমি শখের বসে টিউশন দু’টো শুরু করেছিলাম,,কিন্তু এখন আমার বিরক্ত লাগছে।।কিন্তু মাসের অর্ধেকে তো আর শেষ করে দেওয়া যায় না,,তুই প্লিজ আমাকে হেল্পটা কর মায়া? প্লিজ বোন??
মায়া~আমাকে হেল্প করার জন্য তুই আবার মিথ্যে বলছিস না তো??
মারিয়া~ আরেহহ নাা!!মিথ্যে কেন বলবো?
মায়া~ আচ্ছা ফোন রাখ তাহলে,,আমি পরে তোকে ভেবে জানাচ্ছি।।
মারিয়া~ আচ্ছা,, আল্লাহ হাফেজ জানু।।….
…….
মাসের অর্ধেক চলছে,,এ সময় বাসা পাওয়া আর টিউশনি পাওয়া বেশ কঠিন।।বিয়ের কারণে মায়ার আগের টিউশনি গুলো ছাড়তে হয়েছিল।।কিন্তু এখন সেটার ভীষণই প্রয়োজন,,হাতে থাকা টাকাগুলো দিয়ে কতদিন চলবে আর??
ভালো ভার্সিটিতে চান্স পেলে টিউশনের সুযোগ আর স্যালারি দুটোই বেড়ে যায়।।কিন্তু মায়ার হচ্ছে এখন ঝুলন্ত অবস্থা,,না কলেজ আর না ভার্সিটি।।
তার জন্য মনে হয় না সুযোগটা আসবে,,কিন্তু কি করবে এখন কাজের’ও যে খুব প্রয়োজন।।
মাস শেষে এখানে থাকার ভাড়া আর নিজের যাবতীয় হাত খরচার জন্য একটা পার্টটাইম জব অথবা টিউশনের খুব প্রয়োজন।।
অনেকক্ষণ ভাবনা চিন্তার পর মায়া মারিয়ার সিদ্ধান্তে সম্মত হলো।।
~~~~~~~~~~~~~~
প্রতিদিনের রুটিন মাফিক আজকে মায়া সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে রান্না ঘরে চলে এসেছে সকালের ব্রেকফাস্ট তৈরি করার জন্য।।
চুলায় রান্না বসিয়ে লিভিং রুমে আসলো ঘর ঝাঁট দেওয়ার জন্য।।কিন্তু এখানে এসে রুদ্রকে সোফায় বসে থাকতে দেখে মায়া যারপরনাই বিস্মিত হলো।।
“রুদ্র তো এতো সকালে ঘুম থেকে উঠে না,,আর উঠলেও তাকে লিভিং রুমে থাকতে দেখা যায় না,,,আজ হঠাৎ এখানে কি করছে!!”
মায়া আর ভাবলো না বেশি কিছু,,”তার নিজের বাড়ি যেখানে ইচ্ছা সেখানে থাকতেই পারে,,এখানে অবাক হওয়ার কিছু নেই।।”
সে আপাতত গায়ে ওড়না বেঁধে কাজে নেমে পড়েছে,,রুদ্রের দিকে তার তাকানোর সময় বা ইচ্ছা কোনোটাই নেই।।ঝার দেওয়া শেষ হলে আবার কিচেনে চলে গেল।।
কিন্তু কাজ করার মাঝে তাকে অসস্থিতে পড়তে হচ্ছে বারবার,,,লিভিং রুম থেকে কিচেন রুম সরাসরি দেখা যায়।।সন্দেহের বসে মায়া একবার রুদ্রের দিকে তাকালো,,কিন্তু যেটা ভেবেছে তার কিছুই না,,রুদ্র ল্যাপটপে মুখ ডুবিয়ে নিজের কাজ করছে।।
“দূররর,,, আমিও না!!ওই লোক কেন আমার দিকে তাকিয়ে থাকবে!!
তবে ইদানিং অকারনে এমন ফিল হওয়ার মানে বুঝছি না,,কোন কিছুই অতিরিক্ত ভালো না।।
মনে হচ্ছে মানবিকতার সাথে সাথে আমার ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় প্রয়োজনের তুলনায় বেশি হয়ে গিয়েছে!! ”
“আর এই বিরক্তিকর লোকটা নিজের ঘরে না থেকে এখানে কী করছে,,,লোকটাকে দেখলেই মেজাজ ঠিক থাকে না!!”
কাজ করতে করতে মায়া একাই বিড়বিড় করছে।।
রান্না করা শেষ হলে ডাইনিং টেবিলে ফোন রেখে, কিচেন থেকে একটা একটা করে ডিশ এনে টেবিলে সাজিয়ে রাখছে।।
রুদ্রের জন্য খাবার সাজিয়ে রেখে মায়া নিজের খাবার নিয়ে রুমে চলে এলো।। লোকটার আশেপাশে থাকতেও তার কেমন বিষের মতো লাগে,,,মনে হয় বিতৃষ্ণা আর ক্ষোভে তারা পুরো শরীরের কোষগুলো আন্দোলন করছে!!
মায়া খাবার খাওয়ার পরেও অনেকক্ষণ নিচে নামলো না,,রুদ্র একেবারে অফিসে চলে গেলেই নামবে।।
মারিয়া কে টিউশনের ব্যাপারটা নিয়ে তার সিদ্ধান্ত জানানো প্রয়োজন।।
“কিন্তু ফোনটা….?ফোনটা যেন কোথায় রাখলাম?”
“ইশশশ!!ফোনটা হয়তো আমি কিচেন রুমে অথবা লিভিং রুমের কোথাও রেখে চলে এসেছি।।”
এতক্ষণে হয়তো লোকটা চলে গিয়েছে।। মায়া এঁটো বাসন নিয়ে নিচে নামলো।।
নিচে নেমে রুদ্রকে দেখতে না পেয়ে যেন হাফ ছেড়ে বাঁচলো সে।।এবার ফোন টা খুঁজতে হবে!!
কিন্তু মায়া এতো খুজেও কোথাও তার ফোন’টা দেখতে পাচ্ছে না।। কিচেন রুম থেকে শুরু করে লিভিং রুমের প্রত্যেকটা কোনায় কোনায় সবখানে দেখা শেষ,,,কিন্তু কোথাও নেই!!
প্রায় আধা ঘন্টা ধরে মোবাইল খুঁজতে খুঁজতে সে দিশেহারা হয়ে পড়লো।।কিন্তু সে মোবাইলের টিকিটা’ও খুজে পাচ্ছে না!!
রাতারাতি এটা কিভাবে হারিয়ে গেলো??এখানেই তো থাকার কথা!!
কাজ করতে করতে বেখেয়ালে সে ফোনটা কোথায় রেখেছে তাই মনে করতে পারছে না।।
ফোন না পেয়ে চিন্তায় তার মাথা ধরে গিয়েছে,,,সে মাথা চেপে ধরে সোফায় বসে পড়লো।।……………
… চলবে???
(গল্প দিতে দুই দিন লেট হওয়ার জন্য দুঃখিত😢)
https://www.facebook.com/share/1AYhCCqwqL/
https://www.facebook.com/share/g/1AufQdkZf8/
এই গল্পের নেক্সট পার্ট এর হাইলাইট নোটিফিকেশন পেতে অবশ্যই কমেন্ট অথবা follow ফলো করে রাখুন..!
#গল্প_ঘর

