মায়ার_যাতনা #পর্ব_১৪ #অরুনিতা_আঁখি

0
211

#মায়ার_যাতনা
#পর্ব_১৪
#অরুনিতা_আঁখি

বিকেল বেলা,,মায়া বিষন্ন মনে সুইমিং পুলের পাড়ে এসে বসে আছে।।মন বিষন্ন থাকার কারণ মূলত সারাদিন খুজেও সে তার ফোনটাকে পায়নি!!

কিচ্ছু ভালো লাগছে না,,পড়ায় মন দিতে পারছে না।।কতো কষ্টে টাকা জমিয়ে সে মোবাইলটা ফোন টা কিনেছিল,,আর এখন কিনা কি করে মোবাইলটা হুট করেই হারিয়ে ফেললো!!

পুলের স্বচ্ছ নীল পানিতে তার চেহারা হালকা হালকা দেখা যাচ্ছে।।মায়া শূন্য দৃষ্টিতে সেখানে তাকিয়ে থাকলো,,যত সময় যাচ্ছে মন খারাপেরা ডানা মেলে এসে তাকে ঘিরে ধরছে!!

শুনশান নীরবতা,,এদিকটায় কেউ নেই।।পাখির কিচিরমিচির ডাক,,আর নিজের নিঃশ্বাসের ধ্বনি শোনা যাচ্ছে শুধু!!

এমন সময় পিছন থেকে কারো গম্ভীর ও ভারী কণ্ঠস্বর ভেসে আসলো,,

~এইই মেয়ে,,তুমি এখানে কি করছো??

মায়া পুলের একেবারে কিনারায় দুহাত দিয়ে হাঁটুমুড়ে উবু হয়ে ধ্যাঁন জ্ঞান হারিয়ে জলের দিকে তাকিয়ে ছিল।।এমন শুনশান নিস্তব্ধ পরিবেশে আচমকা এমন কর্কশ কণ্ঠ শুনে মায়া এতটাই ভয় পেয়েছে যে তার শরীর কেঁপে ওঠে পায়ে ব্যালেন্স হারিয়ে উবু হয়েই পানিতে মুখ থুবরে পড়লো।।

কয়েক মুহূর্তে কি ঘটে গেল,,ঘটনার আকস্মিকতা রুদ্র ও মায়া কেউই ঠাওর করতে পারলো না!!

মায়া এতটাই বিস্মিত ও হকচকালো যে,সে যে সাঁতার কাটতে পারে সেটাই ভুলে গিয়েছে কিছুক্ষণের জন্য ।।যার কারনে পুলের অগভীর স্বল্প পানিতেও তাকে বেশ নাকানি চুবানি খেতে হয়েছে!!

মায়া নিজেকে একটু ধাতস্থ করে সামাল দিতেই,,ফের বিরক্ত ভঙ্গিতে রুদ্র মায়াকে ধমকালো,,বললো,,

~স্টুপিড একটা!! এমন বাঁদরের মত লাফালাফি করছো কেন!!

মায়ার এমনিতেই সকাল থেকে আজ মন মেজাজ ভালো নেই,,তার মধ্যে ‘মরার উপর খাড়ার ঘাঁ’ দিতে এ শয়তানটা এসে হাজির হয়েছে,,,এসেছে তো এসেছে সাথে গজব নিয়ে এসেছে!!

~কি হলো ওখানে সং য়ের মতো দাঁড়িয়ে থেকে কি বিড়বিড় করছো!!

রাগে মায়ার পুরো শরীর জ্বলছে যেন,, এখন কথা বলতে গেলে নিশ্চয়ই উল্টাপাল্টা কিছু বলে দিবে,,,পরে এ নিয়ে আবার ঝামেলা হবে।।সে রুদ্রের কোনো কথার প্রত্যুত্তর করলো না,,চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকলো গলা সমান পানিতে।।

রুদ্রের এতক্ষনের বিরক্তি এবার রাগে পরিণত হলো,,দাঁতে দাঁত চেপে সে মায়াকে বললো,,

~ ইডিয়েট!! আমি তোমার সাথে কথা বলছি,,তুমি কি শুনতে পাচ্ছ না??
তাড়াতাড়ি পুল থেকে উঠে আসো,,বলছি!!

~”ধূরর,,পুরো দিনটাই খারাপ যাচ্ছে আমার।।
সকালে কার মুখ দেখে যে ঘুম থেকে উঠেছিলাম!”
ওও হ্যাঁ!! মনে পড়েছে,,,সকালে ঘুম থেকে উঠেই তো এই ফালতু লোকটার মুখ দেখতে হয়েছে আমাকে!!
অসহ্যকর লোক একটা!!আগে তো সপ্তাহে একদিন এর দেখা পাওয়া যেত না,,তখনই ভালো ছিলাম।।আর এখন কোত্থেকে যখন তখন আমার সামনে এসে উজার হচ্ছে!!”
“বিরক্তিকর লোক একটা!!”
উপরের কথাগুলো মনে মনে বললেও,শেষের কথাটি মায়া বেশ জোরেই বলে ফেলল,,যার কারনে রুদ্রের কানে এসেছে তা।।
চোয়াল শক্ত হয়ে আসলো তার,,,

~”কি বললে তুমি আমাকে??”

“এইই রে শুনতে পেয়েছে নাকি?”মায়া খানিক ঘাবড়ালেও ভয় পেল না,,শান্ত ভঙ্গিতে উত্তর করলো,,

~কইই…. কি বলেছি আমি??

~তুমি আমাকে ‘বিরক্তিকর’ বলোনি??

~ও শুনেছেন?তাহলে আবার জিজ্ঞাসা করছেন কেন??

~ Youuuuuu………!!!!!

রুদ্র মাথার চুল টেনে ধরে কতক্ষন একই জাগায় পায়চারী করলো,,”বেয়াদব নারী রীতিমতো তার ধৈর্যের পরীক্ষা নিচ্ছে!!”ফোঁসফোঁস করে শ্বাস পেলে নিজেকে শান্ত করতে চাইলো রুদ্র।।

~ লিসেন,, স্টুপিড গার্ল!!পানি থেকে উঠে আসো…..কথা আছে।।তোমার সাথে ঝগড়া করার মুডে নেই আমি।।

মায়া আর কথা বাড়ালো না,,লোকটার লাল চেহারা আর ফুলে ওঠা নীলচে রগ দেখেই বুঝা যাচ্ছে রাগে বোম হয়ে আছে,,পরে দেখা যাবে তার কথা না শুনলে আবার বাবা-মা তুলে কথা বলা শুরু করবে!!
তাছাড়া রুদ্র না বললেও তাকে উঠতে হতো,,সারাক্ষণ এভাবে পানিতে দাঁড়িয়ে থাকার ইচ্ছে নেই তার।।

মায়া সাঁতার কেটে পাড়ে উঠে আসার মাঝে হঠাৎ করে তার কিছু একটা মনে হতেই সে নিজের শরীরের দিকে তাকালো।।” ইশশ!!কে বলেছে আজকে সাদা জামা পরতে??সব ঝামেলা কি একসাথে জোট বেঁধে আজকেই তার উপরে চাপলো!!” মায়া আর এক পা’ও সামনে এগোতে পারল না,,সেখানে স্থির হয়ে দাড়িয়ে থাকলো।।

~এখান থেকে যান এখন,,আমি পরে আসছি।।

~তুমি কি শুনোনি আমার কথা আমি কি বলেছি??
আমার তোমার সাথে জরুরী কথা আছে।।

~জরুরী কথা পরে বলা যাবে,, আপনি প্লিজ এখন এখান থেকে যান!!

~বাই এনি সান্স,,তুমি কি আমাকে তাড়িয়ে দিচ্ছো??

~আপনাদের বাড়ি আপনাদের ঘর,,আপনাকে তাড়িয়ে দেওয়ার আমি কে?? আমি শুধু আপনাকে অনুরোধ করছি।।

~কেনো,,,আমি এখানে থাকলে কি সমস্যা??

~এটা আমার ব্যক্তিগত,,,আপনাকে বলা যাবে না, দয়া করে এখন এখান থেকে যান।।

গলা পর্যন্ত পানি ছিল মায়ার,,কথা বলতে বলতে সে নিজের অজান্তেই সামান্য উঠে দাঁড়িয়েছিল।।যার কারনে পানি কাঁধের অল্প একটু নিচে অব্দি নেমে এসেছে।।
রুদ্র কিছুক্ষণ তীক্ষ্ণ চোখে মায়াকে পর্যবেক্ষণ করে ঘুরে দাঁড়ালো চলে যাওয়ার জন্য।।কিন্তু মাঝপথে থেমে আবার ফিরে আসলো,,কি মনে করে যেন নিজের কোট খুলে মায়ার দিকে এগিয়ে দিয়ে বললো,,

~”আমি চলে যাচ্ছি,,এটা পরে উঠে এসো।।”

রুদ্রের কোট এগিয়ে দেয়ার কারণ মায়া বুঝলো না,,তবে যাই হোক এই লোকের কোনো জামা কাপড় আর সে ধরবে না,,আগের কথা সে ভুলেনি,,”কিভাবে সে স্পর্শ করার কারণে জামা কাপড় গুলো পুড়িয়ে দিত!!”

~ধন্যবাদ।। কিন্তু এটা আমার লাগবে না,,আপনি নিজের ঘরে চলে যান তাহলেই হবে।।

~”হুশশশ….আমি যখন পড়তে বলেছি তার মানে পড়তে তোমাকে হবেই….No more arguments”.

~আমার এটা লাগবে না বলেছি তো,,তাছাড়া আপনি পড়তে বললেই কেন আমাকে পড়তে হবে!!

~”বাইরে গার্ডরা আছে,,তাদেরকে নিজের শরীর দেখাতে চাও??”

“রুদ্র পরোক্ষভাবে আবার মায়ার চরিত্র নিয়ে কথা বলছে??” অপমানে মায়ার চোখ জ্বলে উঠলো।।সে ধারালো কিন্তু শান্তভাবে জবাব দিলো,,

~আমি দেখেছি গার্ডদেরকে তারা অনেক দূরে আছে, এত দূর থেকে কেউ আমাকে দেখতে আসবে না।।

আর তাছাড়া শরীর দেখানোর কথা যদি বলেনই,,তাহলে বলবো “আমার শরীর,আমার যাকে ইচ্ছা হয় তাকে দেখাবো.. তাতে আপনার কি?”

এবার যেন রুদ্রের ধৈর্যের সবটুকু বাদ ভেঙ্গে গেল,,সে রেগে হুংকার ছেড়ে বললো,,

~”এক সেকেন্ডের মাঝে যদি তুমি এটা না পড়ো,,,তাহলে তোমার ঘাড় ত্যরামো জন্মের মতো ছুটাবো আমি।।
পুল থেকে টেনে এনে এভাবেই আমার সামনে বসিয়ে রাখবো!!”

এবার মায়া সত্যি সত্যিই ভয় পেলো,,কিন্তু সে দমে গেল না,,

~ভাই,,আপনি যান না নিজের কাজে!!আমি কি পরবো না পরবো সেটা সিদ্ধান্ত নেওয়ার সম্পূর্ণ অধিকার আছে আমার!!

~’অধিকার’ মাই ফুটট্!!
সবার চোখের দৃষ্টি কি তোমার মতো দুর্বল মনে করো??

মায়া এবার চুপ করে আছে,,কি করবে বুঝতে পারছে না!!কিন্তু মায়ার নীরবতা রুদ্রকে আরো খেপিয়ে তুললো।।সে বাঁকা তীক্ষ্ণ হেসে মায়ার দিকে এগিয়ে আসতে আসতে বললো,,

~মনে হচ্ছে,,তোমাকে আমার স্টাইলে না বোঝালে হবে না।।

মায়া পাঁড় থেকে কিছুটা দূরে ছিলো,,রুদ্র হঠাৎই বুনো শিকারীর মতো উড়ে এসে লম্বা হাতে খপ করে মায়ার হাত টেনে ধরলো।।

মায়া কিছু বুঝে ওঠার সুযোগ পেল না,,তার আগেই রুদ্রের আকস্মিক আক্রমণে হতভম্ব হলো।।কিছুমুহূর্ত পর মস্তিষ্ক সচল হতেই যখন রুদ্রের উদ্দেশ্য বুঝলো,,তখন আতঙ্কে তার জানের পানি শুকিয়ে এলো যেন!! “এই জানোয়ার টা কি সত্যি সত্যিই তাকে এভাবে উপরে তুলবে নাকি!!”
মায়া হাত ছাড়াতে ছটফট করতে করতে বললো,,

~নোংরা লোক,,কোন সাহসে আপনি আবার আমার হাত ধরেছেন??
ভালো হবে না বলছি…..ছাড়ুন আমার হাত!!

রুদ্রের মুখে ক্রুর হাসি,,,সে হাত ছাড়ার বদলে আরো শক্ত করে চেপে ধরলো।।
রুদ্রের কাজে মায়াকে আরো বেশি আতঙ্ক ঘিরে ধরছে,,ভয়ে কান্না করে দিল এবার।।

~”চরিত্রহীন লোক কোথাকার!!তুই যেই চোখ দিয়ে আমার দিকে তাকাবি,,সেই চোখ আমি গেলে দেব।।”
মায়া কান্না করতে করতে আবোল-তাবোল বকছে রুদ্রকে।।
কিন্তু এতে রুদ্রের কোন হেলদোল হলো বলে বোঝা গেল না!!মায়া যত আবোল তাবোল বকছে,,রুদ্র তাকে ততো পাড়ের কাছে টেনে আনছে।।

অবশেষে মায়া হার মানলো,,ভাঙা কান্না জড়িত কন্ঠে রুদ্রকে বললো,,

~”ঠিক আছে,,কোটটা দিন আমি পড়ছি।।
ছাড়ুন আমার হাত…..এমন অভদ্রতা করবেন না দয়া করে।।”

~”উহুমমম….খুব দেরি করে ফেলেছো।।এখন আমি তোমার কথা শুনছি না…..”কথাটা বলেই রুদ্র মায়াকে টেনে পুরোপুরি পাড়ে এনে ফেলল।।

মায়া লজ্জায় অপমানে ভয়ে হাউমাউ করে কাঁদছে,, আর হাত দিয়ে রুদ্রকে ইচ্ছেমতো কিল ঘুষি মারছে!!
রুদ্রকে দেখে মনে হচ্ছে সে বিষয়টাকে ইনজয় করছে,,কিন্তু কিছুক্ষণ পর সে মায়ার হাত ছেড়ে দিলো।।
তারপর কোট’টা মায়ার গায়ে জড়িয়ে দিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে চলে যেতে যেতে বললো,,

~রিলেক্স… আমি কিছুই দেখিনি!!
আর হ্যাঁ… কোট’টা গায়ে ভালো করে জড়িয়ে তবেই ঘরে আসবে।।

তারপর ভ্রু’কুটি কুঞ্চিত করে,,মুখ বাঁকিয়ে বললো,,

“মেয়ে মানুষ বুঝে কম চিল্লায় বেশি!!
ভালোভাবে বললে কথা শুনেনা,,অভদ্র নারী!!”

~~~~~~~~~~

(পর্ব অত্যন্ত ছোট হয়েছে,,ব্যস্ততার জন্য লিখতে পারিনি,,তবে একদিন পরেই দিয়েছি,,আশা করি মন খারাপ করবেন না।।)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here