#মায়ার_যাতনা
#পর্ব_১৫
#অরুনিতা_আঁখি
পরের দিন সকালবেলা,,মায়া ঠিক করলো সকাল সকালই মারিয়া’দের বাসার উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়বে,,এছাড়া মারিয়ার সাথে কথা বলার আর কোনো উপায় দেখছে না সে।।
যেহেতু সকাল সকালই বের হওয়ার কথা চিন্তা করেছে,,তাই সে অনুযায়ী তাকে দ্রুত ঘরের কাজ সারতে হবে।।
মায়া ঘর থেকে বেরিয়ে ড্রয়িং রুমে আসতেই দেখলো রুদ্র গতকালকের মতো আজকেও সোফায় ল্যাপটপ নিয়ে বসে আছে!!
মারিয়ার সাথে দেখা করতে যাবে বলে যাও একটু মনটা ভালো হয়েছিল,,,কিন্তু হনুমানটা সব নষ্ট করে দিলো…..!!
“এর কি থাকার জন্য কোনো ঘর নেই??সকাল সকাল তার দিনটা খারাপ করার জন্য কেন এখানে এসেই ল্যাপটপে মুখ ডুবাতে হবে!!”
রুদ্রকে দেখেই মায়ার মুখে বিরক্তির ছাপ ফুটে উঠেছে,,রুদ্র তা স্পষ্ট খেয়াল করেছে।কিন্তু তাতে রুদ্রের একটুও রাগ হচ্ছে না,,বরং দেখতে ভালো লাগছে!!
এই যে সদ্য ঘুম থেকে ওঠা মেয়েটার ফুলো ফুলো চেহারা,,ভোরের কুয়াশার মতো স্নিগ্ধতা তার চোখে মুখে ঠিকরে পড়ছে..বিরক্তিতে চোখ নাক হালকা কুচকে রেখেছে,,”,মেয়েটাকে কি জীবন্ত বেবি ডলের মতো লাগছে না!!
হ্যাঁ…লাগছেই তো!!”
রুদ্র মায়ার দিকে নির্নিমেষ তাকিয়ে আছে,,একবারও চোখের পলক পড়ছে না!!
মুগ্ধতার বেড়াজালে আনমনেই বলে উঠলো,,
~”কিউট গার্ল!!”
রুদ্র জানেনা আজকাল কেন তার শুধু মেয়েটার দিকে তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছা করে….জানতেও চায় না!!
শুধু জানে, রুদ্র কায়নাথ মির্জা যা চায়, তাই করবে। আর এখন, সে মেয়েটিকে দেখতে চায়—যেভাবেই হোক, যতক্ষণই হোক।
“”Nothing is greater than my will, and no reason can stand in its way!!”
কারণ রুদ্রের জগতে ইচ্ছের পেছনে কারণ খোঁজা বড়ই অর্থহীন…
~~~~~~~~
মায়া কোনো দিকে না তাকিয়ে দ্রুত কাজ করছে,,রুদ্র খানিক কপাল কুঁচকালো…”মেয়েটা কি আজ একটু বেশি তাড়াহুড়ো করছে না??”
নিজের উপর যখন অনেকক্ষণ কারো দৃষ্টি থাকে,,তখন একটু না একটু হলেও মানুষ তা উপলব্ধি করতে পারে।।যেটা আজকাল মায়ার ক্ষেত্রে হচ্ছে,,শুধু মনে হয় কেউ তাকে দেখছে,,কেউ তাকে ফলো করছে!!
মায়া জানে এটা তার মনের ভুল,,তারপরও নিজের সন্দেহকে সে কমাতে পারে না।।
আশেপাশে তো কেউ নেই কে তাকে ফলো করবে??
আর রুদ্র…!! রুদ্র তো কষ্মিনকালেও না!!
যে মানুষ সে কালো বলে তার উপস্থিতিকে’ও ঘৃণা করে সে কোন দুঃখে তার উপর নজর রাখতে যাবে!!
মায়া দীর্ঘশ্বাস ফেলে পুনরায় কাজে মন দেওয়ার চেষ্টা করলো,,কিন্তু তবুও সন্দেহের বশে তাকালো একবার রুদ্রের দিকে।।
এদিকে মায়াকে ঘার ফিরিয়ে নিজের দিকে তাকাতে দেখে রুদ্র তাড়াতাড়ি নজর ফিরিয়ে নিলো ল্যাপটপের দিকে!! ভাব এমন যেন,,দুনিয়াতে সে আর তার ল্যাপটপ ছাড়া আর কেউই নেই।।
মায়া দেখলো,,রুদ্র দ্রুত কিবোর্ডে হাত চেপে কি যেন লিখছে,,,তারমানে রুদ্রের মনোযোগ পুরো দমে তার কাজের দিকে৷।
আরো একবার নিজের সন্দেহ ভুল প্রমাণিত হওয়ায় মায়া স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললো।।
“যাক বাবা….এবার শান্তিতে সেও নিজের কাজ করতে পারবে।।
আর এই ব্যাপার নিয়ে তার সন্দেহ হবে না,,,আর হলেও সে পাত্তা দিবে না।।
মায়া নিজের সিক্সথ্ সেন্স কে গুলি মেরে উড়িয়ে দেওয়ার চিন্তাভাবনা করছে,,,এর জন্য বারবার অস্বস্তিতে তার কাজের ডিস্টার্ব হচ্ছে!!
এদিকে,,,মায়াকে হঠাৎ করে নিজেকে পরোখ করতে দেখে রুদ্র বেশ হকচকিয়েছে!!
“মেয়েটা কি বুঝে গেলো নাকি!!”
রুদ্র সামান্য ঘাবড়ালো,,”না না মেয়েটাকে বুজতে দেওয়া যাবে না,,,পরে আবার আমাকে কি ভাববে,,কে জানে??তখন তো একবার চরিত্রহীন উপাধিও দিয়ে দিয়েছিল….
রুদ্র কিছু একটা ভেবে নিজের টি শার্টের গলায় ঝুলে থাকা কালো সানগ্লাস টা বের করে চোখে পড়লো…….!!
~~~~~~~~~~~~
মায়া রান্না সেরে ওয়াশ রুম থেকে ফ্রেশ হয়ে এসেছে,,তারপর আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে ঠিকঠাক করে ড্রয়ার খুললো বোরকা নেওয়ার জন্য।।
কিন্তু ড্রয়ার খুলতেই মায়া যা দেখলো,,তাতে বিস্ময়ে সে ‘থ’ হয়ে গিয়েছে।। “তার মোবাইল…!! এটা এখানে কি করছে??
মায়া মোবাইলটা হাতে নিয়ে উল্টেপাল্টে দেখছে,,”হ্যাঁ এটা তো আমারই ফোন।।
মায়া ফ্রিজ হয়ে আছে যেন,,কোন কিছু ভাবতে পারছে না।।
“সে তো কোনদিন ফোন ড্রায়ারে রাখেনা!!আর তাছাড়া মায়ার মনে পড়ে না সে গত দুদিনে ড্রয়ার খুলেছে কিনা।।”
“হে আল্লাহ এটা কিভাবে সম্ভব!!”
এই বাড়িতে ভূত-টূত নেই তো আবার??কথাটা ভাবতেই মায়ার শরীরে দিয়ে যেন ঠান্ডা শীতল স্রোত বয়ে গেল।।ভয়ে গলা শুকিয়ে এলো তার।।
না..নাহ!!কি ভাবছি আমি এসব?? ওসব ভূত-টূত বলতে কিছু নেই।।
থাকলে থাকতে পারে জ্বী..!!কিন্তু ওদের নিশ্চয়ই ফোন চালানোর প্রয়োজন পড়বে না!!
সব অদ্ভুতুরে চিন্তায় মায়ার শরীর ঘামছে!! পরে নিজেকে নিজে বুঝালো,,নিশ্চয়ই সে নিজেই বেখেয়ালে ফোনটা এখানে রেখেছিল,,পরে হয়তো সে এটা ভুলে গিয়েছে।।
“বয়স কত হবে আমার….১৯??,,,এখনো তো বুড়ো হয়ে যায়নি।।তাহলে এত তাড়াতাড়ি বুড়োদের মতো ভুলে যাওয়ার ব্যামো ধরলো কেন আমাকে??”
তবে যাই হোক,,,নিজের শখের ফোন খুঁজে পেয়ে মায়া বড্ড খুশি আজ…..এতো খুশি যে বলে বোঝানো যাবে না।।সে খোদার কাছে শুকরিয়া আদায় করলো।।
ফোনটা তার জন্য খুবই প্রয়োজনীয়,,,কারণ এখন নতুন ফোন নেওয়ার মতো টাকা তার হাতে নেই।।যেগুলো আছে সামনে কোচিং এ ভর্তি হতে সেই টাকাগুলো খরচ হয়ে যাবে।
~~~~~~~~~~~~
রুদ্র~ আসিফ,,ছবিগুলো ইরফান কে দিয়ে চেক করিয়েছিস তো??
আসিফ~ ইয়েস, স্যার।।
রুদ্র~ রাস্কেল!! ও কি বলেছে সেটা’ও কি আমার জিজ্ঞেস করে জানতে হবে!!
আসিফ~ ইয়ে..মানে… সরি স্যার!!
ও বলেছে ছবিগুলো শক্তিশালী AI দিয়ে বানানো হয়েছে,,,এবং খুবই দক্ষ এডিটর কাজটা করেছে।।
ছবিগুলোকে খুবই সূক্ষ্মভাবে না দেখলে বুঝা যাবে না যে এটা ফেক!!
কথাগুলো শুনে রুদ্রের কোন ভাবান্তর হলো কিনা বোঝা গেল না,,,অত্যন্ত শান্ত কন্ঠে পুনরায় জিজ্ঞাসা করলো,,
~ ওই বাস্টা*র্ড কে কি করেছিস??
~বস!! শা** পালিয়ে যেতে চেয়েছিল,,,ওটাকে ধরে এনে স্পেশাল রুমে বেঁধে রেখেছি।।
~গুড জব!! এখন ছবিগুলো হাতে দে আমার,,,দেখি শা** এত কষ্ট করে কি বানালো।।
আসিফ অবাক হলো,,বিস্ময় নিয়ে জিজ্ঞাসা করলো,,
~তার মানে আপনি এখনো ছবিগুলো দেখেননি,,বস??
~নোপপ্…
~কিন্তু কেনো??
~কারণ তখন দেখার প্রয়োজন পরেনি….
~তাহলে এখন দেখতে চাইছেন কেন?? আর ছবিগুলো চেক করতেই বা পাঠালেন কেন??
রুদ্র ব্রু কুঁচকে তাকালো আসিফের দিকে,,আসিফ ভরকালো তাতে….পরে মুখে হালকা একটু মিথ্যে হাসির রেখা টেনে আমতা আমতা করে বললো
~ না মানে…আ..আমি তো এমনি জানতে চাইছিলাম আর কি…. হে হে!!
রুদ্র বিরক্ত হলো,,,” রাবিশ এর মতো দাঁত বের না করে ছবিগুলো দে আর এখান থেকে কেটে পড়…”
আসিফের জায়গায় অন্য কেউ হলে নিশ্চিত অপমানিত বোধ করতো,,কিন্তু আসিফের সেই ফিলিংস হচ্ছে না!এর কারণ দু’টো _প্রথমত,,বসের এসব গালি শুনতে শুনতে তার অভ্যাস হয়ে গেছে।।
দ্বিতীয়ত,,,সে প্রতিদিন মনে মনে রুদ্রকে খাঁটি বাংলায় যেসব গা*লি দেয়….সেগুলোর কাছে রুদ্রের এসব ইংরেজি গা*লি কিছুই না!!
কথাগুলো ভেবেই আসিফ আনন্দে বেশ জোড়ে হেসে ফেলল।।
~আসিফের বাচ্চা!!!….আবারো ছাগলের তিন নম্বর বাচ্চার মতো হাসছিস কেন!!
কানের নিচে ঠাসস্ করে লাগাবো একটা…..
রুদ্রের গগনবিধারী রাম ধমক শুনে আসিফ থতমত খেয়ে ভাবনা ছেড়ে বেরিয়ে আসলো,,ভয়ে গায়ের শার্ট আলগা করে বুকে থুতু দিলো।।
~ইয়াকক্…..রাস্কেল!!এটা কি করছিস তুই??
~ওহহ বসস্!! এটা নিয়ম,,ভয় পেলে বুকে থুতু দিতে হয়,,,এটা আমাদের মহাজ্ঞানী দাদী নানীরা শিখিয়ে গিয়েছেন।।
রুদ্র শার্টের হাতা ভাঁজ করতে করতে আসিফের দিকে তেড়ে আসলো,,
~”তোঁকে তো আমি……….”
“এইরে এখানে থাকলে,,এখন জীবন ঝুঁকিতে থাকবে,,লাইফ রিস্ক নিয়ে লাভ নেই…পালাতে হবে!!” আসিফ টেবিলে ছবিগুলো রেখে চোখ বন্ধ করে দৌড় দিলো,,,দৌড়াতে দৌড়াতে রুদ্রের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিলো,,,
~”সরি বন্ধু….ইয়ে মানে রুদ্র…না মানে বসস্!!”
আসিফ চলে গেলে রুদ্র নিজের গালে হাত বুলিয়ে হালকা মুচকি হাসলো……….
~~~~~~~~~~~~~
অন্ধকার ঘর,,চারদিকে ধুলোবালি জমা…চেয়ারে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় বসে আছে একটা যুবক,,,শরীরের অবস্থা বেজায় খারাপ।।গায়ের পোশাক ছিঁড়া,,,আর শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন।।দেখেই মনে হবে কিছু মুহূর্ত আগেও বেধড়ক মার খেয়েছে!!
হঠাৎই দরজা দিয়ে অন্ধকার ঘরে সরু আলোকরশ্মির দেখা মিললো,,জুতোর ঠক ঠক আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে,,”কেউ আসছে!!….”
চওড়া ও লম্বা গঠনের এক পুরুষালী ছায়া দেখা যাচ্ছে,,,ধীরে ধীরে ছায়াটি তার কাছেই এগিয়ে আসছে।।
লোকটা কে হতে পারে,,বুঝতে পেরেই ছেলেটির কলিজার পানি শুকিয়ে এলো যেন!! আতঙ্কে পুরো শরীর ঠকঠক করে কাঁপছে…জীবনের মায়া ঘিরে ধরেছে ….”তাকে বাঁচিয়ে রাখবে তো??”
লোকটা ধীরে ধীরে তার সামনে এসে দাঁড়ালো,,কিছুক্ষণ স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলো তার দিকে।।সেই দৃষ্টিতে কি ছিল সে জানেনা,,,তবে তার অন্তরাত্মা কেঁপে উঠেছে।।
কিছুক্ষণ তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে হঠাৎই লোকটা ছেলেটির বুকের মাঝ বরাবর লাথি দিলো,,,,ছেলেটি চেয়ার সমেত উল্টে পড়ল মেঝেতে……..!!
……চলবে??
( *পর্ব ছোট হয়েছে…..!! * গল্প দিতে দেরি করেছি!!…..আজকে এসব বললে আপনাদের আমি অভিশাপ দিবো বলে দিলাম😤
আর আমার অভিশাপ কিন্তু কাজে লেগে যায়🤐)
https://www.facebook.com/share/1AYhCCqwqL/
https://www.facebook.com/share/g/1AufQdkZf8/
এই গল্পের নেক্সট পার্ট এর হাইলাইট নোটিফিকেশন পেতে অবশ্যই কমেন্ট অথবা follow ফলো করে রাখুন..!
#গল্প_ঘর

