#মায়ার_যাতনা
#পর্ব_১৬
#অরুনিতা_আঁখি
লোকটা ছেলেটার বুকের উপর শক্ত করে পা দিয়ে চেপে ধরে ইস্পাত সমান কঠিন কণ্ঠস্বরে ঘর কাঁপিয়ে হুংকার ছেড়ে বললো,,
~মিথ্যে কেন বলেছিস…. শুয়ো**রের বাচ্চা!!
….বল্…..!!
এতো মা*র খেয়ে,,, আর এখন বুকের উপর বুট জুতোর শক্ত চাপ পড়ায়,,ছেলেটা কথা বলার শক্তিটুকু পাচ্ছে না,,তারপরেও অনেক কষ্টে বলার চেষ্টা করলো
~আ..আামি মিথ্..থ্যা.. বলি..নি স্যা..র!!
লোকটা এবার বুকে লাথি মেরে বসলো,,,লাথির তোড়ে মুখ থেকে গলগল রক্ত বের হলো ছেলেটার।।
তারপর বুক থেকে পা সরিয়ে ছেলেটির মাথার পাশে বসে কলার টেনে হিসহিসিয়ে বললো,,,
~ওর ফোনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতিটা ইনপুট আউটপুট ইনফরমেশন…. এভরি ডিটেলস ফ্রম এভরি অ্যাঙ্গেলস সব আমার জানা আছে….সেখানে কোথাও তোর চিহ্নটুকুও নেই…ইভেন নট অ্যা লিটল্ বিট!!
তাহলে তোর কথার সত্যতা কোথায়??
~আপ..আপনি ভুল বুজছেন রুদ্র স্যার….ও অনেক চালাক মেয়ে…ধরা খেয়ে যাবে বলে নিশ্চয়ই সব ডিলিট করে দিয়েছে….
কথাগুলো মুখ থেকে বের হতে না হতেই মুখে শক্ত ঘুষির আঘাতে নাক ফেটে গেল তার।।
~ “ইউউ বাস্টার্ড…!! আর একটা মিথ্যে কথা বললে…” রুদ্র পকেট থেকে গা**ন বের করে ছেলেটার মুখে ভিতর ঠেসে ধরলো,,,,বললো,,
“এটা কি দেখেছিস ..?? বেশি না একটা গু*লি তোকে পরপারে পাঠানোর জন্য যথেষ্ট…
বেশি ক্যাঁচাল আমার পছন্দ না…সত্যিটা না বললে এক সেকেন্ডের মধ্যে এটা তোর পেটে ঢুকবে শুয়ো**রের বাচ্চা..!! ”
রুদ্রের চোখে মুখের আগুন ও হিংস্রতা’ই বলে দিচ্ছে তার কথার এপার ওপার হলেই তার নিঃশ্বাস বন্ধ করতে সময় লাগবে না।।ছেলেটি থরথর করে কাঁপছে…প্রাণের ভয়ে সে সত্যি বলা শুরু করলো…
~ আমার বোন আর মায়া কলেজে একসাথে পড়ে।।
কলেজের ক্যাম্পাসে ওদের শেষ ক্লাস উপলক্ষে বড় করে অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছিলো…. ঐদিন আমার বোনের কারণে আমাকেও যেতে হয়েছে।।
ক্যাম্পাসে ভিড় ছিলো অনেক…. যে যার মতো আনন্দ করছিলো…সবাই নাচ্ছিলো গাইছিলো…নিজেদের মতো করে হৈ-হুল্লোড় করছিল!!
আমিও আমার বন্ধুদের কে নিয়ে ইনজয় করছিলাম… কিন্তু ওই মেয়েটা….ঐ মেয়েটা জানিনা কোথা থেকে এসে হুট করে ভরা ক্যাম্পাসে সবার সামনে আমাকে থাপ্পর দিয়ে বসলো!!
শুধু থাপ্পর দিয়েই থেমে থাকে নি…মুখে যা আসছিলো তা’ই বলে আমাকে অপমান করছিল…!!
ক্যাম্পাসের সবার নজর ছিল আমাদের দিকে… সবাই আমার দিকে তাকিয়ে হাসছিলো..কেউ কেউ ভিডিও করছিল।। বিনা দোষে সবাই আমাকে বু’লি করছিলো…আমার তখন খুব খারাপ লেগেছিলো…ইচ্ছে করছিল সবকিছু ছারখার করে দিতে!! ওই দিনের ঘটনার পরে সবাই আমাকে উপহাসের নজরে দেখতো….এমনকি আমার বন্ধুরাও!!
আমি লজ্জায় আমার বোনের সামনে যেতে পারতাম না…কাউকে মুখ দেখাতে পারতাম না।।সেই থাপ্পরের কথা মনে পড়লে… রাতে আমি ঘুমাতে পারতাম না!!
আমি ঠিক করেছিলাম ওই থাপ্পরের অপমানের প্রতিশোধ মেয়েটাকে আমি তিনগুণ হারে ফিরিয়ে দিবো…যতদিন না ওই মেয়েটার থেকে প্রতিশোধ নিতে পারছি ততদিন আমি শান্তি পাচ্ছিলাম না।।
প্রথমে মেয়েটার নাম পরিচয়,,,কোথায় থাকে….সবকিছু খুঁজে বের করেছি।। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে…মেয়েটাকে আমি একা পাচ্ছিলাম না কোথাও।।
তারমধ্যে হঠাৎ একদিন শুনি ওর নাকি বিয়ে হয়ে গিয়েছে,,,আমার বিশ্বাস হয়নি।।তাই নিশ্চিত হতে আমি বাসায় গিয়েছিলাম….
ওর মামনীদের কে বললাম আমি ওর বন্ধু,,,ওর খোঁজ না পাওয়ায় জানতে এসেছি।।উনারা কিভাবে যেন আমার দিকে তাকাচ্চ্ছিলেন….আমার মনে হচ্ছিল ধরা পড়ে যাবো হয়তো উনারা বিশ্বাস করেননি আমাকে….
তবে আমাকে অবাক করে দিয়ে কি ভেবে যেন ওর একজন মামনি মায়ার স্বামী অর্থাৎ আপনার সম্পর্কে সব ডিটেলস আমাকে দিলো….
আর তারপর……তারপর প্রতিশোধের নেশায় মত্ত হয়ে ওই ওর সাথে ঘনিষ্ঠ থাকা অবস্থায় সেই মিথ্যে ছবিগুলো… আর আপনাকে সেই মিথ্যে কথাগুলো বলেছিলাম….. কিন্তু আমি ভাবিনি এভাবে আপনি সত্যিটা জেনে যাবেন….
আমি ভুল করেছি স্যার… আমাকে মাফ করে দিন।।আমি আর কখনো ওর আশেপাশেও আসবো না…
রুদ্র সমস্ত কথা অত্যন্ত শান্তভাবে শুনে হঠাৎই হু হা করে হেসে দিলো….ছেলেটির গলা চেপে ধরে বললো,,,
~ “আমার বউ একদম কুলল্….কাউকে এমনি এমনি থাপ্পর দেওয়ার মতো ও না… নিশ্চয়ই তুই কোন বড় বেয়াদবি করেছিস ওর সাথে….??
ইউ ডিজার্ব দিসস্ হেল!!….এখানে পচে পচে মর শালা বাস্টার্ড…” গলা ছেড়ে দিয়ে রুদ্র অত্যন্ত নিষ্ঠুর ভঙ্গিতে ছেলেটিকে পা মাড়িয়ে চলে গেলো…….
~~~~~~~~
মোবাইল পাওয়ার পরপরই মারিয়ার সাথে কথা বলে নিয়েছিলো মায়া… মাসের আর দশ দিন বাকি,,,প্রথমে ভেবেছিলো মাস শেষ হলে পড়ানো শুরু করবে….কিন্তু মারিয়ার অনুরোধে অগত্যা তাকে আজকে থেকেই টিউশনে যেতে হবে……
এখন বাজে দুপুর দু’টো…. মারিয়াকে ফোন করে মায়া বাসা থেকে বের হলো— বিকেল তিনটায় একটা আছে…আর অন্যটা পাঁচটায় ভাগ্য ভালো দুটো টিউশন’ই এই বাসা থেকে খুব একটা দূরে না…কিন্তু তবুও যেহেতু প্রথম দিন…তার আগে আগে যাওয়া উচিত….
~~~~~~~~~~
রাস্তায় দাঁড়িয়ে মায়া রিক্সার জন্য অপেক্ষা করছে,,,হাতের ঘড়িতে আরো একবার সময় দেখে নিলো- সন্ধ্যা ৬ টা ১০ বাজে এখন,,যদিও ব্যস্ততম ঢাকা শহরে এটা হয়তো রাতের সময়ের মধ্যে পড়েই না….কিন্তু তবুও মায়ার সামান্য ভয় ভয় লাগছে।।
আরো কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর অবশেষে মায়া একটা খালি রিকশা পেয়ে উঠে পড়লো।।
রাতে এই শহরটা একটু বেশিই সুন্দর লাগে মনে হয়….রিকশা চলছে….তার সাথে তাল মিলিয়ে মৃদুমন্দ জড়ো হাওয়া মায়ার শরীর মনকে শীতল করে দেওয়ার প্রয়াস চালাচ্ছে….!!
ম্যানশনে ফিরতে ফিরতে প্রায় ছয়টা চল্লিশের মতো সময় গড়ালো…।
দরজার কাছে এসে মায়া একটু বিভ্রান্তিতে পড়লো,,”দরজা তো সে লক করে গিয়েছিল বাইরে থেকে…তাহলে দরজা খুলল কে!!চাবি তো শুধুমাত্র তার কাছে আর…..!!এক মিনিট রুদ্র আসেনি তো..??
হ্যাঁ..রুদ্রই হবে!! ইদানিং লোকটা সম্ভবত একটু তাড়াতাড়ি’ই বাড়ি ফিরছে,,, তাই এটা অসম্ভব কিছু নয়।।”
মায়া ঘরে প্রবেশ করতে করতে বিরক্তি নিয়ে বললো,,
” এ কি পাগল!! তাড়াতাড়ি ঘরে ফিরেছে ভালো কথা…তাই বলে ঘরের দরজা লক করবেনা??এভাবে খুলে রেখেছে কেন??
দেখো,, ঘরের লাইটটাও জ্বালায়নি….পুরো ঘর কেমন অন্ধকার করে রেখেছে!!……..বিরক্তিকর লোক একটা!!
মায়া মোবাইলের টর্চ দিয়ে আস্তে ধীরে হেঁটে ঘরের লাইট জালালো!!
পুরো ঘর উজ্জ্বল হয়ে উঠলো আবার….”হ্যাঁ,,এইবার ঠিক আছে!!”
কথাটি বলে মায়া আশেপাশে তাকালো একবার,,,আর তখনই সোফায় পায়ের উপর পা তুলে বসে থাকা রুদ্রকে নিজের দিকে শিকারী দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে দেখে ভয়ে চমকে উঠলো…!!
“এই পাগল লোক এখানে ভূতের মত বসে আছে কেন!! আল্লাহ…আরেকটু হলে ভয়ে আমি হার্ট অ্যাটাক করতাম!!”
মায়া নিজেকে সামলে নিলো…তারপর রুদ্রকে পাত্তা না দিয়ে ভাবলেসহীন ভাবে নিজের ঘরের দিকে যেতে লাগলো…।
~ “দাঁড়াও…”
মায়ার চলতে থাকা পা থেমে গেলো,,পিছু ফিরে জিজ্ঞাসা করলো,,
~জ্বি…কিছু বলবেন??
~ “কোথায় গিয়েছিলে?? ” রুদ্রের থমথমে কণ্ঠস্বর।।
মায়া একটু থমকালো…ভাবলো,,”ওনাদের বাড়িতে যেহেতু থাকছি,,তাই কোথায় যাচ্ছি না যাচ্ছি তা জানার অধিকার আছে ওনাদের… অন্তত রাতের বেলায়!!” মায়া বিষয়টিকে সাধারণভাবেই নিলো…তারপর শান্তভাবে উত্তর করলো…
~জ্বি…আমার কাজ ছিল… আজ থেকে দুজন স্টুডেন্টকে পড়াচ্ছি…তাই বাইরে যেতে হয়েছে।।
~ ” কার পারমিশান্ নিয়ে গিয়েছিলে? ”
মায়ার মুখায়ব শক্ত হলো এবার..শক্ত কণ্ঠে বললো,,
~আশ্চর্য…আমি আমার কাজে যাচ্ছি,,,এখানে আমি কেন কারো পারমিশন নিবো!!
~”নিতে হবে…তোমার রাত করে বাসায় ফিরা আমি এলাউ করব না!!”
~এখন সন্ধ্যা…রাত নয়!!আমার এখন থেকে প্রতিদিনই এই সময়ে বাসায় ফিরতে হবে…আপনাদের বাসায় থাকি বলে যদি আপনার এতে সমস্যা হয়…তাহলে বলবেন আমি অন্য বাসা দেখবো।…
~”ইউউ…!!” রুদ্র কিছু বলতে গিয়েও থেমে গেলো,,,নিজের চুল টেনে জোরে শ্বাস ফেললো…তারপর শান্ত কন্ঠে বললো..
~ “কিসের প্রয়োজনে তুমি এসব সস্তা টিউশনি করবে!!”
~ ” প্রথমত,, টিচিং একটা সম্মানীয় কাজ,, এটা কখনোই সস্তা হতে পারে না।।
আপনার ভাষ্য মতে যদি এটা সস্তা হয়েও থাকে…তাহলেও আমার কিছু করার নেই।।আমার নিজেকে চালাতে হলে এই সস্তা কাজ করতেই হবে…!! ”
~”দ্যাট মিন্স ইউ নিড মানি…ওকে আমি তোমাকে টাকা দিবো,,,তোমার যত লাগে তার থেকে হাজারগুন বেশি দিবো…বাট তোমার এসব ফালতু কাজ ছাড়তে হবে।। ”
~দুঃখিত…আমি কেন শুধু শুধু আপনার কাছ থেকে টাকা নেবো??
আমি ভিক্ষুক নই যে, যে কারো কাছ থেকে টাকা নিবো!!
রুদ্র দাঁতে দাঁত চাপলো,,,হিসহিসিয়ে জোড়ালো কন্ঠে বললো,,
~”আমি যে কেউ নই!! আমি তোমার হা………”
মায়া রুদ্রকে থামিয়ে দিয়ে বললো,,
~কেউ নন আপনি!! আপনি আমার কেউ হন না….
আমাদের মধ্যে কোন সম্পর্ক নেই…সেটা আমরা দুজন দুজনকে স্পষ্ট করে জানিয়েছি এবং আমরা একটা মানিও…
রুদ্র এবার দমে গেল যেন..!!কিছুক্ষণ থেমে থেকে বললো,,
~ ” কিন্তু তুমি আমার দায়িত্ব!!” শীতল শোনা গেল রুদ্রের কণ্ঠস্বর…
রুদ্রের কথা শুনে মায়ার হাসি পেলে যেন,,,হেসেও ফেললো..
~ওহ রিয়্যেলি? আমি আপনার দায়িত্ব??
আমি এতদিন ভুল ভেবেছি তাহলে,,,”আপনি তো দেখছি বিশাল দায়িত্বশীল লোক!!” মায়ার হাসি থামছে না..।
এটা সেই প্রাণ খোলা হাসি নয়,,,যেটাতে রুদ্র মুগ্ধ হয়..হৃদয় থমকে যায় তার।। বরং এই হাসি রুদ্রকে বিদ্রুপ করে..!?রুদ্র বুঝতে পেরেছে তা,,,,চোয়াল শক্ত হয়ে উঠলো,,”মেয়েটা তাকে বিদ্রুপ করছে!! ”
মায়া হাসি থামিয়ে সিরিয়াস হয়ে বললো,,
~দুঃখিত হাসার জন্য!! কিন্তু আপনি একটা কথা মাথায় রাখুন,,,আমি কারো দয়া বা করুনার অংশীদার হতে ইচ্ছুক নই।।
আলহামদুলিল্লাহ,,আল্লাহ আমাকে একটা সুস্থ শরীর দিয়েছেন।।যতদিন পারবো কাজ করে খেটে খাবো…!!
আমি কখনোই আপনার দায়িত্বের পাত্রী হবো না..আপনার দয়া আমার লাগবে না..!!
এক নিঃশ্বাসে কথাগুলো বলেই মায়া দ্রুত পায়ে ঘরে চলে গেলো…. রুদ্র দু’হাত মুষ্টিবদ্ধ করে তার চলে যাওয়া দেখলো……।।
~~~~~~~~
মায়া ঘরে এসে ঠাস করে দরজা বন্ধ করে দিলো,,তারপর ফ্রেশ হয়ে পড়তে বসেছে…..
রাত দশটা বাজে,,মায়া বই পড়ছে এখনো।।কিন্তু তার পড়ায় বিঘ্ন ঘটলো,,দরজা ধাক্কানোর আওয়াজে।।
মায়া টেবিল ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো,,,,বিরক্ত হয়ে দরজা খুলে দিতেই সামনে রুদ্রকে দেখতে পেলো…
মায়া ভ্রু কুচকে জিজ্ঞাসা করলো,,
~ কি ব্যাপার??
~ “কফি লাগবে..”
~ ঠিক আছে একটু অপেক্ষা করুন এক্ষুনি বানিয়ে এনে দিচ্ছি…
~অপেক্ষা করতে পারবোনা…আমার ঘরে দিয়ে আসবে…
~ আমি যেতে পারব না আপনার ঘরে.. আপনি এখানেই বসুন..আমার অল্প সময় লাগবে!!
~ একটু আগে তো আমাকে দায়িত্ব নিয়ে খুব কথা শোনালে…এখন নিজেই নিজের কাজে ফাঁকি দিচ্ছো??
ছাদে তুমি কি শর্ত দিয়েছিলে ভুলে গেছো??
~ভুলে যাইনি আমি…কাজে ফাঁকি’ও দিচ্ছি না….।।
ঠিক আছে,,আপনি যান আমি দিয়ে আসবো রুমে…..
রুদ্র আর কথা বাড়ালো না…পকেট এ দুহাত গুজে মুখ দিয়ে শিস বাজাতে বাজাতে নিজের রুমে চলে গেলো…….
একটু পর মায়া হাতে ব্লাক কফি নিয়ে রুদ্রের রুমের সামনে এসে দাঁড়ালো,,এই রুমটাকে দেখলেও তার ঘৃণায় দম বন্ধ হয়ে আসে।।কিন্তু এখন কিছু করার নেই,,,ঘৃণার অনুভূতিকে বালিশ চাপা দিয়ে সে দরজায় নক করলো…..তখন ভিতর থেকে রুদ্রের গলা শোনা গেলো,,,
~”ভিতরে আসতে পারো।।”
মায়া দরজা ঠেলে আস্তে ধীরে কফি নিয়ে রুমে প্রবেশ করলো।।রুদ্র তখন বিছানার কর্নারের সাথে হেলান দিয়ে বসে শেক্সপিয়রের লেখা কোনো একটা বই পড়ছিলো…মায়া খেয়াল করেনি এতো কিছু!!
সে রুদ্রের পাশে ব্যাড সাইট টেবিলে কপির মগ রেখে আবার চলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে পা বাড়ালো…তখনই পেছন থেকে রুদ্রের কণ্ঠস্বর ভেসে আসলো….
~ “হেইই কিউউ্টি….!!”
মায়ার মনে হলো সে বোধহয় ভুল শুনেছে,,” এমন সম্মোধন করার মত ছেলে রুদ্র না,,, তাও আবার তাকে!!” সে অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করলো,,
~কিছু বললেন আমাকে??
রুদ্র ভাবলেসহীন কন্ঠে জবাব দিলো,,
~ “নাথিং..”
মায়া অবাক হলেও কিছু বলল না,, ছোট করে “ওহহ ” জবাব দিয়ে সে আবারও পিছু ঘুরে পা বাড়ালো চলে যাওয়ার জন্য…..
কিন্তু পাজি রুদ্র পিছু ডেকে পুনরায় পথ রোধ করলো মেয়েটার…..
~ “ওয়েটট্….যেও না!!”…….
….চলবে???
(তাড়াহুড়ায় কি লিখেছি নিজেও জানিনা… নিজের লেখাকে নিজের’ই কেমন নিষ্প্রাণ লাগছে!! 😶)
https://www.facebook.com/share/1AYhCCqwqL/
https://www.facebook.com/share/g/1AufQdkZf8/
এই গল্পের নেক্সট পার্ট এর হাইলাইট নোটিফিকেশন পেতে অবশ্যই কমেন্ট অথবা follow ফলো করে রাখুন..!
#গল্প_ঘর

