মায়ার_যাতনা #পর্ব_১৭ #অরুনিতা_আঁখি

0
225

#মায়ার_যাতনা
#পর্ব_১৭
#অরুনিতা_আঁখি

~ কি সমস্যা? আবার ডাকছেন কেন?

~ “আমি তোমাকে যেতে বলেছি..?”

~ নাহ!!

~ তাহলে যাচ্ছো কেন??

~ আশ্চর্য!! আপনাকে তো কফি দিয়েছি,,আমার কাজ শেষ,তাহলে অযথা এখানে কেন থাকবো??

~ “থাকতে হবে,,আমি যতক্ষণ না যেতে বলবো ততক্ষণ থাকতে হবে৷
আর তোমার কাজ শেষ হয়নি এখনো”,,,, রুদ্র হাত দিয়ে কাবার্ড এর দিকে ইশারা করে বললো,, ” ওই যে ঐ খানে আমার যে কয়টা ড্রেস আলাদা রাখা আছে,,সেগুলো সুন্দরভাবে আয়রন করে গুছিয়ে দাও।”

মায়া তাকালো কাবার্ডের দিকে….অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করলো,,

~ “কিন্তু এই কাজগুলো তো নিজেই করতেন আপনি…!!”

~ “সো হোয়াট..? এখন থেকে তুমি করবে…”

~ নিজের টা নিজে করুন….আমি পারবো না করতে!!

~ “তুমি তো দেখছি খুব ফাঁকিবাজ মেয়ে!! আবার নিজের দায়িত্বের কথা ভুলে যাচ্ছো..!”

~ দেখুন,,আমি শুধু রান্নাবান্না আর ঘরের কাজ করবো বলেছিলাম…. আপনার পার্সোনাল মেইড হবো বলিনি..!?

রুদ্র ভ্রু কুঁচকে মায়ার দিকে তাকিয়ে আছে,,,মুখের অভিব্যক্তি বুঝা যাচ্ছে না তার!! হঠাৎই বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো ….।।

মায়ার দিকে শান্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে রুদ্র ধীরে ধীরে পা ফেলে এগিয়ে আসছে……মায়া নিজের জায়গা থেকে একটুও নড়লো না,,যদিও সে ভয় পাচ্ছে ” শয়তা*নটার মুখে মুখে তর্ক করার জন্য যদি আবার আঘাত করে..? এর তো কথার আগে হাত বেশি চলে!! ” মনে মনে সামান্য ভয় পেলেও উপরে উপরে সে নিজেকে শক্ত রাখলো….

রুদ্র মায়ার থেকে ঠিক এক হাত দূরত্বে এসে থামলো,,,তারপর আচমকা মায়ার কানের দিকে ঝুঁকে ফিসফিসিয়ে হাস্কিস্বরে বললো,,

~ ” কোনটাকে ‘পার্সোনাল মেইড’ বলে,, তা জানো তুমি ‘লিট্যল্ বার্ড ‘….!!

মায়ার কানে মনে হচ্ছে কেউ গরম সিসা্ ঢেলে দিয়েছে..!!চরম মাত্রার অস্বস্থিতে সে রুদ্রের থেকে আরও দুই তিন পা পিছে সরে দাঁড়ালো…

~ “ক…কি সব উল্টোপাল্টা বলছেন আপনি? আর দয়া করে এসব আলতু-ফালতু নামে আমাকে ডাকবেন না… আমার নাম মায়া। নাম ধরে ডাকতে না পারলে, আগে যেমন ডাকতেন—কালো কাক, নোংরা চরিত্রহী…”না,আর একটা শব্দও উচ্চারণ করতে পারছেনা মায়া…কারণ রুদ্র তার এক হাত মায়ার পিছনে ঘাড়ে চেপে মায়াকে কাছে টেনে এনেছে,, আর অপর হাতের শক্তপোক্ত আঙ্গুল দিয়ে তার ঠোঁট জোড়া বন্দি করে রেখেছে….।।

~ “হুঁশশশ… নো মোর সাউন্ড…”
হাজারবার ডাকব তোমাকে আলতু-ফালতু নামেই।
আমার মুখ, আমি যাকে যা ইচ্ছা, তাই বলে ডাকব… রাইট?”

শেষের কথাটা মায়াকে জিজ্ঞাসা করলেও,, মায়া কোন উত্তর করতে পারছে না… পারবে কিভাবে??
রুদ্র তো এখনো তার ঠোঁটের বাঁধন খোলেনি, আর খোলার কোনো তাড়াও নেই তার মধ্যে।
সে তো তাকিয়ে আছে মায়ার সুগভীর চোখের দিকে…এই চোখ জোড়া বড় রহস্যময়… যখনি রুদ্র তাকায় হৃদয় থমকে যায় তার,,,মনে হয় মেয়েটার হয়ে তার আঁখি জোড়া কথা বলে…”আচ্ছা ও কি মেয়েটার এই রহস্যময় চোখ জোড়ার ভাষা পড়তে জানে..!!

এই যে এখন মেয়েটার চোখের অস্থির ছটপটানি,,,আর কিছুক্ষণ পরপর রুদ্রের দিকে ক্ষুব্ধ দৃষ্টি’ই তো বলে দিচ্ছে যে রুদ্রের আশেপাশে মেয়েটা কতটা আনইজি ফিল করছে….রুদ্র কেন মেয়েটার চোখে তার প্রতি অসীম ক্ষোভ, রাগ দেখতে পায়??

কেনো অন্য সবার দিকে মেয়েটার চোখের চাহনি যতটা কোমল আর মায়াময়ী হয়,, রুদ্রের দিকে তাকালে কেন সেই চাহনি তার থেকে হাজারগুণ বেশি শক্ত হয়ে আসে..কেনো তার দিকে একটু কোমল ভাবে তাকায় না!!

” মেয়েটা তাকে ঠিক কতটা ঘৃণা করে….!!……নিশ্চয়ই অনেক?? ”
কথাগুলো ভাবতে ভাবতে রুদ্রের কেমন অস্থির লাগে….রুদ্র মায়ার চোখ থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নেয়…তবে এবার তার দৃষ্টি পড়ে অন্য কোথাও…!!

মায়ার হালকা গোলাপি অধর জোড়া,,,যেখানে তার হাতের স্পর্শ লেগে আছে…ঠোটের দিকে দৃষ্টিপাত করতে করতেই রুদ্রের কেমন ঘোঁর লেগে আসে….!!
রুদ্রের দৃষ্টি ঘোলাটে..!তার ভিতরে কিছু একটা অনুভব হচ্ছে….কিছু একটা করতে ইচ্ছে করছে!!

রুদ্র এবার আনমনে মায়ার কোমল ঠোঁটে তার হাতের বুড়ো আঙুল দিয়ে আলতো ভাবে রাব্ করছে….অজান্তেই তার মুখ মন্ত্রমুগ্ধের মতো মায়ার ঠোঁটের দিকে এগিয়ে আসছে…!!

কিন্তু হঠাৎই রুদ্রের ঘোর কাটলো হাতের চিনচিনে যন্ত্রণায়…ধীরে ধীরে যন্ত্রণাটা বাড়ছে…রুদ্র এক ঝটকায় মায়াকে ছেড়ে দূরে সরে দাঁড়ালো….

হাতের মাংস ফেঁড়ে সূচালো পিনের মতো কোনো একটা বস্তু গেঁথে আছে,,সেখান থেকে চিড়চির করে রক্ত বের হচ্ছে…রুদ্র অবাক হয়ে মায়ার দিকে তাকালো,,,কিন্তু মায়াকে কাঁদতে দেখে তার বিস্ময় বাড়লো…”মেয়েটা কাঁদছে কেন!! ”

কি হয়েছে..?মস্তিষ্কে হালকা চাপ প্রয়োগ করতেই কিছু মুহূর্তের আগের ঘটনা রুদ্রের চোখের সামনে ভেসে উঠলো…. নিজের কর্মকান্ডের কথা মনে পড়তেই হাতের ব্যথা ভুলে রুদ্র নিজের চুল টেনে ধরলো…” হোয়াট দ্যা ফ**!! আমি এসব কি করছিলাম??……
অ্যাম আই লুজিং মাই মাইন্ড?…”ওহহ গড্….!!এসব কি হচ্ছে আমার সাথে!! ”

মায়া কান্না থামিয়ে,, রেগে আগুন ঝরা কন্ঠে রুদ্রকে বললো,,

~ লম্প*ট কোথাকার!! আপনাকে আমি অন্তত আপনার গার্লফ্রেন্ডের প্রতি লয়াল ভেবেছিলাম… এখন দেখছি আপনি ওনাকেও ঠকাচ্ছেন!!
জানোয়ার…সাহস কি করে হয় আমাকে ছোঁয়ার..!?
লজ্জা করে না,,, নিজের গার্লফ্রেন্ড রেখে অন্য নারীকে স্পর্শ করতে??

আসলে মায়া শুরু থেকেই নিজের ঘাড় আর মুখ থেকে রুদ্রের হাত সরানোর চেষ্টা করছিলো,,, হাত দিয়ে যত রকমের আঘাত করা যায় সবটাই করছিলো….কিন্তু তাতে রুদ্রের বিন্দুমাত্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।।
তার মধ্যে রুদ্রের ক্রমাগত কাছে এগিয়ে আসা আর বাজে নজর….মায়ার মনে হচ্ছিল ঘৃণায় সে মরেই যাবে।।
রাগে ক্ষোভে মায়া হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়েছিলো,,,ওড়না থেকে পিন ছুটিয়ে নিজের সর্বশক্তি দিয়ে হাতে গেঁথে দিয়েছে….”আর এর জন্য তার বিন্দুমাত্র আফসোস হচ্ছে না!! ”

রুদ্র হতবাক হয়ে আছে….এমন সিরিয়াস মুহূর্তেও তার মাথায় এক আজগুবি প্রশ্ন আসলো,,” সে যতদূর জানে,,,ঘরে বউ রেখে বাইরে গার্লফ্রেন্ড বানানো পাপ….আর এখন এই নারীর কথায় মনে হচ্ছে,,,বাইরে গার্লফ্রেন্ড রেখে ঘরের বউকে ছোঁয়াটা পাপ!! ”
কিন্তু রুদ্রের এই আজগুবি চিন্তা বেশিক্ষণ টিকলো না,, হাতের যন্ত্রণায় আর মায়ার অদ্ভুত ব্যবহারে…

মায়া ওড়না দিয়ে জোরে জোরে তার ঠোঁট ঘষছে…।।হঠাৎ সে ওয়াশরুমের দিকে দৌড়ে চলে গেল,,,রুদ্র চোয়াল শক্ত করে মায়ার কর্মকাণ্ড দেখছে,,,যা বুঝেছে তা শিওর হওয়ার জন্য সে’ও মায়ার পিছু পিছু ওয়াশরুমে গেলো,,,মায়া বারবার ওর ঠোঁট চোখমুখে পানি দিচ্ছে,,,যেন ভীষণ নোংরা কিছু লেগে আছে তার মুখে।।

রুদ্রের চোখ -মুখ লাল হয়ে উঠেছে,,,দুহাত শক্তভাবে মুষ্টি বদ্ধ করে রাখায় সূচালো পিন আর’ও বেশি গেঁথে গিয়েছে ,,, হাতের কপালের ব্যেইনি রগ ভেসে উঠেছে!!

রুদ্র বরাবর’ই রগছটা অহংকারী মানুষ,,, বাবা ছাড়া আর কারো সামনে তার রাগ কন্ট্রোলে থাকেনা।।কিন্তু এ কয়েকদিন ভিন্ন কিছু ঘটেছিল….এই মেয়েটার সামনে আসলে কিভাবে যেন তার রাগ কমে যায়…!!

এই যে মেয়েটা মাঝে মাঝেই বিরাট দুঃসাহস দেখিয়ে তাকে বাজে কথা শোনায়… এমনকি একটু আগেও মেয়েটার এমন ভয়ানক আঘাতেও তার খুব একটা রাগ হয়নি….. কিন্তু এখন!?

যেখানে প্রতিটা মেয়ে রুদ্রকে পাওয়ার স্বপ্ন দেখে…”দ্যা গ্রেট রুদ্র কায়নাথ মির্জার” সামান্য একটু দেখা পাওয়ার জন্য,, স্পর্শ পাওয়ার জন্য হাজার হাজার মেয়ে ছটফট করে,,,সেখানে কিনা এই মেয়ে….!?এতো ইগো এইই নারীর..!?
বিষয়টা রুদ্রের আত্মঅহমিকায় আঘাত করলো যেন… ইগোয়িস্টিক রুদ্রের ইগো হার্ট হয়েছে এতে…

মায়া বেরিয়ে এসেছে ওয়াশরুম থেকে,,,দেখলো রুদ্র রক্তচক্ষু নিয়ে তার দিকে তাকিয়ে থেকে হাত থেকে একটানে ফিন বের করলো,,আঁতকে উঠেছে মায়া…কিন্তু রুদ্রের মুখ থেকে একটু আওয়াজ’ও বের হয়নি….!!

ফিনটা বেশ ভালোই বড় ছিলো,,যার এক তৃতীয়াংশেরও বেশি রুদ্রের হাতের মাংসে গেঁথেছিল….রুদ্রের পুরো হাত র**ক্তে মাখামাখি,, মেঝে’ও সেম অবস্থা…!!

মায়া নরম মনের মেয়ে,,, কিন্তু তবুও তার মনে হচ্ছে সে কাজটা একদম ঠিক করেছে…হালকা অনুশোচনা কাজ করলেও… রুদ্র এটার’ই প্রাপ্য বলে তার ধারণা…

অনেকক্ষণ সময় কাটলো,,,নীরবতা ভেঙে রুদ্র শক্ত কন্ঠে বললো,,

~ “লিসেন্,,,সার্ভেন্টদের জন্য ঘরের কাজ আর পার্সোনাল কাজ বলতে কিছু হয় না,,, তাদেরকে সেটাই করতে হয় যেটা তাদের মালিক বলে….
এখন তুমি যদি সেটা করতে না পারো,,,তাহলে সত্যিটা মেনে নাও,,, যে তুমি আসলে মুখেই বড় বড় কথা বলো শুধু…. বাট তুমি অ্যাকচুয়ালি দায়িত্বজ্ঞানহীন অ্যান্ড তুমি কোনো কাজের যোগ্য না….”

“সার্ভেন্ট…!?”…..হ্যাঁ,,মায়া তো জানে সে এই বাড়ির কাজের লোক ”
মায়া বিশ্বাস করে,,,”পৃথিবীতে কোন কাজ’ই ছোট নয়.. “….কিন্তু তবুও….তবুও সরাসরি কাজের লোক কথাটা মায়ার কেন জানি খারাপ লাগলো….না চাইতেও চোখ থেকে এক ফোঁটা অশ্রু গড়িয়ে পড়লো…!!

রুদ্র লক্ষ্য করেছে সেটা,,,তার কেমন যেন অস্থির লাগছে যেন,,,সে দ্রুত মায়ার সামনে থেকে সরে ফার্স্ট এইড বক্স নিয়ে বিছানায় বসলো…

মায়া শান্ত কন্ঠে বললো,,,

~ ঠিক আছে,,,আমি আমার ভুল বুঝতে পেরেছি,,, এক্ষুনি আপনার ড্রেস আয়রন করে দিচ্ছি আমি….

মায়ার মেঘে ঢাকা মলিন মুখ…!! রুদ্র তা দেখার সাহস করলো না আর…

মায়া কাবার্ড থেকে রুদ্রের আলাদা করে রাখা ড্রেসগুলো একটা একটা করে নামিয়ে বিছানায় রাখছে….

তারপর শার্টগুলোকে ভালো করে দেখে নিয়ে রুদ্রকে বললো,,

~দেখুন তো এগুলোই কিনা??

রুদ্র জবাব দিলো না,,,মায়া ফের বললো,,,

~ ঠিক আছে আমি এই ড্রেসগুলো আমার রুমে নিয়ে যাচ্ছি,,,সকালে সবগুলো পেয়ে যাবেন….

রুদ্র এবার থমথমে গলায় জবাব দিলো,,

~”নাহহ…তোমার রুমে নিয়ে গেলে আমি কিভাবে বুঝবো তুমি সবকিছু ঠিকঠাক করেছো কিনা??
কাজে তো ফাঁকিও দিতে পারো…!! তাই যা করার আমার সামনে এখানে বসেই করবে….

মায়া আর কথা বাড়লো না,,চুপচাপ নিজের কাজ করে যাচ্ছে….” মায়ার মুখটা ভীষণ মলিন দেখাচ্ছে…. চোখ ছল ছল করছে!! ”

রুদ্র বিড়বিড় করে আওড়ালো,,

~ ” ভালোভাবে বললে কথা শুনেনা”
“অবাধ্য নারীদের এভাবেই বোঝাতে হয় ”

…….চলবে??

( দিয়েই দিলাম…..🫣)

https://www.facebook.com/share/1AYhCCqwqL/
https://www.facebook.com/share/g/1AufQdkZf8/
এই গল্পের নেক্সট পার্ট এর হাইলাইট নোটিফিকেশন পেতে অবশ্যই কমেন্ট অথবা follow ফলো করে রাখুন..!
#গল্প_ঘর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here