#মায়ার_যাতনা
#পর্ব_১৮
#অরুনিতা_আঁখি
………..
ভোরবেলা থেকেই মায়ার বুকের ভেতর কেমন ধুকপুকানি বাজতে শুরু করছে। বাইরে আকাশে সূর্য উঠেছে ঠিকই, কিন্তু তার চোখের সামনে সবকিছুই ধোঁয়াশা লাগছে। প্রতিটি মিনিট পার হওয়া তার কাছে ঘন্টার সমান দীর্ঘ মনে হচ্ছে। আজকে যে —উচ্চ মাধ্যমিকের রেজাল্ট দিবে।।
গলা বুক শুকিয়ে কাঠ…! সকাল থেকে কতবার যে পানি খেয়েছে…!যত সময় যাচ্ছে উদ্বিগ্নতা তত বাড়ছে…
সকালের রান্না শেষ করে মায়া ফ্রেশ হয়ে ওযু করে আসলো…. দু রাকাত নফল সালাত আদায় করে কোরআন তেলাওয়াত করতে বসেছে…. কয়েক পাতা তেলাওয়াত করতেই হঠাৎ শব্দ করে ফোন ভেজে উঠলো…
তিলাওয়াত শেষ করে কুরআন মঞ্জিলে চুমু একে সযত্নে রেখে দিলো…।।
মোবাইল খুলে দেখলো মারিয়া ফোন করেছে,,সে কল ব্যাক করলো….অপর পাশ থেকে সঙ্গে সঙ্গেই কল রিসিভ হলো…….
~ “হ্যাঁ,,,মারিয়া কেমন আছিস? ”
~ দোস্ত এখনো পর্যন্ত ভালো আছি….কিন্তু সামনে থাকবো কিনা বলতে পারছিনা..! জানিস তো রেজাল্ট দিয়েছে কিছুক্ষণ আগে…
~ “ওহহ দিয়ে দিয়েছে..? দেখেছিস রেজাল্ট?? ”
~ না দেখিনি এখনো,,,,আগে তোরটা জেনে তারপর রেজাল্ট দেখবো,,,চিন্তা হচ্ছে আমার!
~ “নাহহ!! আমার ভয় লাগছে,,,,আগে তোরটা দেখ… ”
~ মানছি না….মানবো না!! আমি আগে বলেছি, তাই আগে তোরটা দেখবি….
~ “কিন্তু মারু….!! আমার বেশি ভয় লাগছে,,,পারবো না আমি… ”
~ “মায়ার বাচ্চা…!!! ” মারিয়া রেগে গেলো এবার…!
~ এইইই রে মারু,,,রাগিস না!!,,,আমার কাছে একটা ভালো আইডিয়া আছে… “দুজনে একসাথে দেখি চল..।। ”
~ “ওমমম্…. ঠিক আছে!!”আমার অনেক এক্সাইটেড লাগছে…তাড়াতাড়ি গিয়ে দেখে ফেল যা,,আমিও দেখছি আমারটা..।।
কল কেটে মায়া আর মারিয়া দুজনেই নিজেদের রেজাল্ট বের করতে ব্যস্ত হয়ে পড়লো…..
মায়ার বুকের ধুঁকপুকানি বেড়ে চলেছে,,,হাত কাঁপছে অনবরত,,,আল্লাহর নাম জপতে জপতে সব ইনফরমেশন দিয়ে অবশেষে সাবমিট করলো……
~~~~~~
” ওয়ান,, টু,, থ্রি….”
~”4.89(মারিয়া) /// ~4.94(মায়া),,,” মায়া আর মারিয়া দুজনেই ফোনের দুইপাশ থেকে সমস্বরে চিৎকার করে বলে উঠলো।।
” ইআহুুুুুুউউ!!!”
মায়া~ মারুুুউ্উ্….আলহামদুলিল্লাহ আমি খুব
খুশি….!!
মারিয়া~ দোস্ত আমিও ভীষণ খুশি….কিন্তুু.!!!!
মায়া~ “কিন্তুু কিইই??”
“আমাদের দুজনের কেউই তো প্লাস পাইনি…!!” মারিয়ার কন্ঠে কিঞ্চিত আফসোস প্রকাশ ফেলো…
~ এ প্লাস পাইনি তো কি হয়েছে…” আমরা দুজনেই বেশ ভালো রেজাল্ট পেয়েছি মারুউ,,,খারাপ তো কেউ করিনি…..(মায়া)
~ হুমমম…!! (মারিয়া)
~ মারিয়া এসব চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতো..!! সামনে এডমিশন টেস্ট,,, এখন থেকে আর’ও ভালোভাবে পড়তে হবে….দোয়া কর যাতে দুজন একই ভার্সিটিতে পড়তে পারি……(মায়া)
~ ওকে ওকে..!! তাহলে চল আজকে দেখা করি??
~ আজকে??
~ হ্যাঁ আজকেই…. আজকে শুক্রবার তাই তোর কাজ থাকার কথা না,,সেই সাথে এটা আমাদের জন্য স্পেশাল ডে,,, তাই আজকে এই দিনটা আমরা একসাথে উপভোগ করবো।।
~ কিন্তু কোথায় দেখা করবি??
~ বট*তলা নদীর পা*ড়ে..,,আর শোন তোর জন্য একটা সারপ্রাইজ আছে…।।
মায়া কৌতুহলী হয়ে জিজ্ঞাসা করলো,,,”কি সারপ্রাইজ??”
মারিয়া~ উহুুমম্…!! সেটা তো বলা যাবে না,,,আর বললে তো সেটা সারপ্রাইজ থাকবে না..!
মায়া~ “দূরর্ বেটি!! জানাবিই না যখন,,তাহলে বললি কেনো…এখন যতক্ষণ না জানতে পারছি ততক্ষণ শান্তি পাবো না…।” মায়া বিরক্তি কন্ঠতে বললো।
ওপাশ থেকে মারিয়ার উচ্চস্বরে হাসির শব্দ শোনা যাচ্ছে,,,যেন মায়ার মস্তিষ্কের আগ্রহী পোকাদেরকে জাগিয়ে সে খুব মজা পাচ্ছে…..
~~~~~~~~~
আজকে অফ ডে হওয়ায়,, রুদ্র অফিসে যায়নি।।
সে আপাতত ড্রয়িং রুমের সোফায় বসে টিভি দেখছে … আজকাল বাসায় ফিরলেই নিজের রুমেই তার কেন যেন কমফোর্টেবল ফিল হয় না….ড্রয়িং রুমকেই তার এখন কমফোর্ট জোন মনে হয়।।
ড্রয়িং রুম থেকে অনতি দূরে সোজাসুজি রাফসান মির্জার ঘর,,, রাফসান মির্জার সুবিধার জন্যই তিনি নিচ তলার এই ঘরটিকে বেছে নিয়েছেন।
দরজা খোলা থাকলে সোজাসুজি হওয়ায় ড্রয়িং রুম থেকেই ঘরের ভিতরের অংশটাও বেশ ভালোভাবেই দেখা যায়।।
টিভির স্ক্রিনে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট ম্যাচ চলছে,,,টানটান উত্তেজনা! কিন্তু রুদ্রের মনে হয় না সেদিকে খুব একটা মনোযোগ আছে..!
রুদ্র ঘাড় ঘুরিয়ে আরও একবার রাফসান মির্জার ঘরের দিকে তাকালো,,,” না এবারও,, বন্ধ দরজা ছাড়া আর কিছুই দেখা যাচ্ছে না!! ”
রুদ্রের এবার বিরক্তির সাথে সাথে রাগ লাগছে….!
রাফসান মির্জার ঘরের দরজাটিকে তার এখন সবচেয়ে বিরক্তিকর বস্তু মনে হচ্ছে…।
” আশ্চর্য! মেয়েটা কি সব সময় এমন দরজা বন্ধ করে থাকে নাকি??
রান্না করে সেই কখন ঘরে গিয়েছে,,, একবারও বের হয়নি??
বিরক্তিকর মেয়ে একটা! ওর কি দম বন্ধ লাগছে না এভাবে ঘরবন্দিনী হয়ে থাকতে! ”
সকালে রুদ্রকে খাবার সার্ভ করে মায়া নিজের খাবার নিয়ে রুমে চলে আসে,,,তারপর সেই যে দরজা বন্ধ করে…! যতক্ষণ না রুদ্র অফিসে যায় ততক্ষণ আর বাইরে বের হয় না।।আর আজকেও তার ভিন্ন কিছু ঘটেনি….
ব্রেকফাস্ট করার পরেও রুদ্র সকাল থেকে ড্রয়িং রুমেই অবস্থান করছে….মাঝে যদিও বিরক্ত হয়ে নিজের ঘরে চলে গিয়েছিল…! কিন্তু সেখানে এক ঘন্টা থেকেই আবার ড্রয়িংরুমে চলে এসেছে…। ম্যানশন এর সবচেয়ে আরামদায় লাক্সারিয়াস্ ও সুন্দর কামড়াটি রুদ্রের জন্য বরাদ্দ..!
কিন্তু তবুও আজকাল কিসের জন্য যেন রুদ্রের সেখানে মন টিকে না এক মুহূর্ত…!
………
অনেকক্ষণ সময় কাটলো,,,রুদ্রের বিরক্তি চরম সীমায়… সে টিভি বন্ধ করে উঠে দাঁড়ালো।।
“রাস্কেল মেয়েটা পেয়েছে টা কি আমাকে..! শুধু শুধু এতক্ষণ অপেক্ষা করা যায়! ” রুদ্র বিড়বিড় করে মায়াকে বকতে বকতে রায়হান মির্জার ঘরের সামনে গিয়ে দাঁড়িয়েছে,,,ভাবলো দরজায় নক করবে..!
রুদ্র হাত তুলে দরজায় নক করার আগেই আকস্মিক দরজা খুলে গেলো…!রুদ্র ভড়কালো খানিকটা..
এদিকে দরজা খুলে রুদ্রকে সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে মায়া’ও বেশ চমকে উঠে ,,,কিছু মুহূর্ত স্তব্ধ থেকে রুদ্রকে শক্ত কড়া গলায় জিজ্ঞাসা করলো,,,
~ কি হয়েছে? আমার ঘরের সামনে কি করছেন?
মায়ার এমন কড়া গলায় রুদ্র ভ্যাবাছেকা খেয়ে আমতা আমতা করে বললো,,
~ খ্..খিদে পেয়েছে আ..আমার…।
~ এখন এগারোটা বাজে মাত্র…!
~ তো.. কি হয়েছে! আমার খিদে লাগতে পারে না?
~ না.. ঠিক সেটা বলিনি।।আমি যতদূর জানতাম আপনি দুপুর এক’টা দু’টোর আগে লাঞ্চ করেন না…
~ ভুল জানতে তুমি..!আমার যখনই খিদে পায় তখনই খাই..!
~ আচ্ছা বুঝেছি…ডাইনিং টেবিলে গিয়ে বসুন,,খাবার সার্ভ করে আমাকে যেতে হবে…!
রুদ্র এতক্ষণ বিষয়টা খেয়াল করে দেখেনি,,,মায়ার কথায় তাকে একবার উপর থেকে নিচ পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করে দেখলো।।
গায়ে কালো বোরকা জড়ানো,,,আর মাথায় কালো স্কার্ফ বাঁধা।।ছোটখাটো গোলগাল মুখটা দেখা যাচ্ছে শুধু…গালের দুপাশে স্কার্পের চাপে গুলুমুলু গাল গুলো আরেকটি ফুলে আছে….মুখে প্রসাদনীর লেশমাত্র নেই,,,বড় ও ঘন পাপড়ি বিশিষ্ট ভাসা ভাসা চোখ গুলো দিয়ে কেমন বিরক্তি নিয়ে তাকিয়ে আছে রুদ্রের দিকে….ছোটখাটো মুখের ছোট্ট একটা নাক..!আর সেখানে ছোট্ট একটা নাকফুল…! মেয়েটার গায়ের রং কে উজ্জল শ্যাম বর্ণ না বলে,হলদে ফর্সা’ও বলা যায়..!
খুবই সাধারণ..!এত সাধারন এর মাঝেও রুদ্রের কাছে মেয়েটিকে ভীষণ অসাধারণ লাগছে…!
” আচ্ছা মেয়েটা কি সত্যিই এত মোহনীয়?? নাকি শুধু রুদ্রের কাছেই এমন লাগছে. ? কই আগে তো কাউকে এমন লাগেনি..! ”
ভাবনার মাঝে আর’ও একবার নাকফুলের দিকে খেয়াল করতেই রুদ্র অবাক হলো,,,বিয়ের সময় মেয়েটাকে যথেষ্ট অর্নামেন্টস দেওয়া হয়েছে… সেখানে বেশ অনেকগুলো গোল্ড এন্ড ডায়মন্ডের নোজ রিং ছিলো,,,অথচ এ পর্যন্ত মেয়েটিকে সেখানকার একটা অর্নামেন্টসও পড়তে দেখেনি..!
মেয়েটার নাকে যে নোজ রিং টি আছে ছোট গোলাপি একটা পাথরের…দেখে ডায়মন্ডের তো মনে হচ্ছে না! আর গোল্ডের তো একেবারেই না!
রুদ্রের রাগ লাগলো,,,” এতো এক্সপেন্সিভ অর্নামেন্টস থাকতে,,,রুদ্রের বউ হয়ে কিনা মেয়েটা বাজারের কম দামী নোজ রিং পরছে!!
যদিও এতেও তাকে অ্যাট্রাক্টিভ দেখাচ্ছে……..!”
“আরেএএ ভাইই…!আপনি কি কানে কম শুনেন নাকি? “,,ভাবনার মাঝে মেয়েলি কন্ঠের এত জোরে চিৎকার শুনে রুদ্রের ধ্যান ভাঙল,,,
“এই মেয়ে সমস্যা কি,,, আস্তে কথা বলো! এত জোরে চিৎকার করছো কেন! “রুদ্র কানে হাত দিয়ে বিরক্তির স্বরে বললো…. মায়া এত জোরে চিৎকার করেছিল যে,,আরেকটু হলে বোধহয় রুদ্রের কান’ই ফেটে যেতো..!
মায়া রেগে বললো,,,,
“ও এখন আমাকে আস্তে কথা বলতে বলা হচ্ছে?? আর আপনি যে কানে তালা লাগিয়ে রেখেছেন তার বেলা?
আমি আপনাকে বিগত পাঁচ মিনিট ধরে টেবিলে গিয়ে বসতে বলছি….অথচ আপনি তা না শুনে হ্যাবলার মতো আমার মুখের দিকে তাকিয়ে আছেন..!
সব সময় আমার দিকে এভাবে তাকিয়ে থাকেন কেন? এত কি দেখেন আমার মুখের দিকে…!
আমি ঠিক কতটা কুৎসিত দেখতে,,, আর আমার চেহারায় কি কি খুঁত আছে সেসব খুঁজে বের করেন? ”
” শাট আপ…এত পকরপকর না করে আজকে ফ্রাইডেতেও কোথায় যাওয়ার জন্য রেডি হয়েছো, সেটার জবাব দাও আগে।
” দুঃখিত,, আপনাকে জানানোর প্রয়োজন মনে করছি না আমি! ”
মায়া নির্বিকার ভঙ্গিতে কথাটি বলেই দরজার সামনে থেকে রুদ্রকে পাশ কাটিয়ে কিচেনে চলে গেল।।
রুদ্র অপমানিত বোধ করলো,,,দাঁতে দাঁত চেপে দাঁড়িয়ে থাকল সে।
মায়া রুদ্রকে খাবার সার্ভ করে কোন দিকে না তাকিয়ে চলে যাচ্ছিলো,,,কিন্তু রুদ্র দরজার সামনে থেকে দ্রুত হেঁটে এসে তার সামনে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে….
“আরেহ… সমস্যা কি আপনার? সব সময় আপনি আমার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ান কেন? ”
” শুনো মেয়ে! আমি এখন তোমার সাথে ঝগড়া করার মুডে নেই…যেটা জিজ্ঞেস করেছি,,, সেটার উত্তর দাও…! ”
” কেন আপনি কে যে,, সব সময় আমার ব্যক্তিগত ব্যাপারে আপনাকে কৈফিয়ত দিতে হবে? ”
রুদ্র মায়ার দিকে খানিকটা ঝুঁকে ধারালো কন্ঠে বললো,,” জানতে চাও,, আমি কে ? ”
মায়া এক পা পিছিয়ে গিয়ে শক্ত গলায় বললো,,”নাহ,,জানতে চাই না।।আপনার সাথে ফালতু প্যাঁচাল পাড়ার সময় নেই আমার,,আমাকে যেতে হবে..!”
রুদ্র সোজা হয়ে দাঁড়ালো,,,থমথমে গলায় বললো,,
“আমার প্রশ্নের উত্তর না দিলে,,এখান থেকে এক পাও নড়তে পারবে না তুমি..!”
মায়া রুদ্রের কথায় পাত্তা না দিয়ে তার পাশ কাটিয়ে চলে যাওয়ার জন্য পা বাড়ালো…!
কিন্তু যেতে পারলো না,,, কারণ রুদ্র অলরেডি মায়ার হাত শক্তভাবে নিজের হাতে বন্দি করে নিয়েছে…..
~ ” হাত ছাড়ুন….খারাপ হয়ে যাবে কিন্তু!! “মায়া অত্যন্ত শীতলভাবে বললো…
রুদ্র বাঁকা, তীর্যক এসে ফিসফিস করে বললো,,,”চলো একটা চ্যালেঞ্জ হয়ে যাক,,, আজ যদি তুমি আমার হাত ছাড়িয়ে নিজেকে মুক্ত করতে পারো…..তাহলে আমি তোমার লাইফে একদমই ইন্টারফেয়ার করবো না..!”
” জানোয়ার,,শক্তি দেখাচ্ছিস আমাকে…! লজ্জা করে না তোর,বারবার একটা মেয়ে নিষেধ করার পরেও…..”
রুদ্র মায়াকে একটানে কাছে এনে কোমর জড়িয়ে ধরে নিজের সাথে আষ্টেপৃষ্ঠে মিশিয়ে নিলো,,,তারপর মুখ নিচে নামিয়ে মায়ার চোখের দিকে নিবিড় দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে হাস্কিস্বরে আওরালো,,,
” ইয়েস আই অ্যা’ম শ্যাম’লেস! নিষিদ্ধ জিনিসের প্রতি আমার আগ্রহ বরাবরই একটু বেশি..!
তুমি আমাকে ঘৃণা করো তাই না? আমার স্পর্শ,,আমার অস্তিত্ব সবকিছুকে ঘৃণা কর?
ট্রাস্ট মি…ঘৃণিত জিনিসগুলো করতে আমার সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে…!
তবে তোমার সাহস মনে হয় না একটু বেশি বেড়ে গেছে? আমাকে তুই তোকারি করছো? তোমার জায়গায় অন্য কেউ হলে এই স্পর্ধা দেখানোর জন্য দুনিয়া*তেই থাকতো না…!
তবে তোমাকেও ছেড়ে দেবো না…সাবধান করছি আমার ধৈর্যের সীমা অতিক্রম করো না…না হলে আমি বাধ্য হবো তোমার ঘৃণার পরিমান আর’ও বাড়াতে…!”
” কু*ত্তা…ছাড় আমাকে! আমি তোর বাড়িতেই থাকবো না আর… দরকার হলে রাস্তায় থাকবো আমি,,,চরিত্র*হীন লু*চ্চা ল*ম্পট লাফা*ঙ্গার জানো*য়ার….ছাড় বলছি! “মায়া রাগে হিতাহিত জ্ঞান শূন্য হয়ে মুখে যা আসছে তাই বলছে আর ছাড়া পাওয়ার জন্য মুচড়া-মুচড়ি করছে….কিন্তু রুদ্রের মত বডিবিল্ডারের কাছে সে নিতান্তই চুঁনোপুটি….যার কারনে রুদ্রের গাঢ় বন্ধন থেকে এক চুল ও নড়তে পারেনি…..!
নিজের সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টা করেও মায়া একটু নড়তে পারছে না…বৃথা চেষ্টা করতে করতে এক পর্যায়ে মায়া হাঁপিয়ে গিয়ে একেবারে শান্ত হয়ে গেল… মাথা নিচু করে চুপচাপ চোখের পানি ফেলতে লাগলো…..
রুদ্র ক্রুর হেসে ডান হাতের তর্জনী আঙ্গুল মায়ার থুঁতনিতে ঠেকিয়ে তার মুখ উঁচু করলো,,,,তারপর নিবিড় দৃষ্টিতে মায়ার ভেজা বন্ধ চোখের পাতা ও পুরো মুখে একবার দৃষ্টি বুলিয়ে শীতল কন্ঠে বলল,,
~ ” এতোটুকুতেই শক্তি শেষ? ”
মায়া চোখ খুললো,,,তারপর রুদ্রের দিকে অত্যন্ত ঘৃণিত নজরে তাকিয়ে ভাঙ্গা কন্ঠে আওড়ালো,,,
” পৃথিবীর সবচেয়ে জঘন্য মানুষ আপনি..! ”
” লিট্যল বার্ড… তুমি কি একটু বেশিই রিয়েক্ট করো না??আমাকে একটু আগে যেসব বললে সেসব অপবাদ তো এমনি এমনি মেনে নেওয়া যায় না….!
বিয়ের এতদিনে’ও আমি তোমাকে একটা কি*সও করিনি… অথচ তুমি আমাকে কত বড় বড় অপবাদ দিয়ে দিলে!!
দ্যাটস্ নট ফেয়ার… ওয়াইফি!!”
” দয়া করে ছাড়ুন আমাকে…আর আপনার নোংরা মুখ বন্ধ রাখুন।।
আমি ******** জায়গায় আমার বান্ধবীর সাথে দেখা করতে যাচ্ছিলাম…!
এখন তো শুনেছেন,,,আর কোন ঝামেলা চাইছি না আমি….যেতে দিন এবার! ”
রুদ্র কিছু না বলে আপাতত শেষবারের মতো কোমর জড়িয়ে মায়াকে মেজে থেকে কিছুটা শূন্যে তুলে মায়ার মাথা নিজের বুক বরাবর করলো…. তারপর দু সেকেন্ডের জন্য মায়াকে নিজের সাথে পুরোপুরি মিশিয়ে ভীষণ টাইট হাগ করলো একবার…. তারপর মায়াকে ছেড়ে কিছুটা দূরে সরে দাঁড়িয়ে বললো,,,
” ত্যাড়ামো না করে,,, আগেই যদি আমার কথার উত্তর দিয়ে দিতে… তাহলে এত ঝামেলা হতোই না… অবশ্য আমার খারাপ লাগেনি….. তুমি চাইলে এমন ত্যাড়ামো রোজ রোজ করতে পারো,,যাতে পরেরবার….! “রুদ্র কথা থামিয়ে দিয়ে তির্যক হাসলো।।
মায়া শুধু স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে,,,”রাগে ঘৃণায় ম*রে যেতে ইচ্ছে করছে তার..!”
“এইবার কি আমি যেতে পারি..?”
” নাহহ…! কথা আছে…..,,শুনেছি তোমাদের রেজাল্ট দিয়েছে….পয়েন্ট কত তোমার?”
” 4.94….”
রুদ্র কেমন নাক মুখ কুঁচকে বললো,,,
” ছেহহ!! রুদ্র মির্জার বউ কিনা সামান্য প্লাস আনতে পারেনি…!লোকে শুনলে কি বলবে….! ”
মায়া যেন শুনেও কিছু শুনলো না,,,সে হন হন করে দ্রুত হেঁটে চলে যাচ্ছে।। রুদ্র পিছন থেকে জোরে জোরে বললো,,
” এই মেয়ে বাইরে যাচ্ছো,, ভালো কথা! কিন্তু গাড়ি নিয়ে যাবে… ড্রাইভারকে বলে দিচ্ছি আমি।
যদি শুনি…..ত্যাড়ামো করে গাড়ি নিয়ে যাওনি,,,,তাহলে কিন্তু তোমাকে কাঁচা চিবিয়ে খাবো….।”
~~~~~~~~~~~~~~
মায়া মারিয়াকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছে,,, মারিয়া এবার খানিকটা বিরক্ত হয়ে বললো,,
~ “মায়া এবার থাম…।সে কখন থেকে কাঁদছিস তুই! তোকে ডেকেছি কি এই জন্যে…?”
~ “দোস্ত তুই প্লিজ যেভাবেই পারিস,,যত দ্রুত সম্ভব আমাকে একটা বাসা, আর জব খুঁজে দে…! আমি ওই বাড়িতে আর থাকতে পারছি না….জাহা*ন্নাম লাগছে আমার!” মারিয়ার কাঁধ থেকে মাথা উঠিয়ে ভাঙা কান্না জড়িত গলায় বলল।।
মারিয়ার কি যে খারাপ লাগছে…!ও তো চেষ্টা কম করছে না,,,সে মায়ার মাথায় হাত বুলিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করছে,,বুঝানোর স্বরে বলল,,
” তোকে তো বলেছি… এডমিশন টেস্ট পর্যন্ত একটু ধৈর্য ধর।। কি হয়েছে… আমাকে খুলে বল!
ওই বড়লোকের ব্যাটা কি তোকে আবার কিছু বলেছে..? ”
~ “মারিয়া তুই জানিস না… ওই লোকটাকে আমি ঠিক কতটা ঘৃণা করি! দেখলেই আমার রাগে পুরো শরীর জ্বলতে থাকে….আমি কত কষ্টে যে নিজেকে শান্ত রাখি,, তুই জানিস না তা..!
কিন্তু ঐ লোকটা… সুযোগ পেলেই আমাকে অপমান করে! আমার উপর কর্তৃত্ব ফলানোর চেষ্টা করে….আর এখন..এখন তো মাঝে মাঝে অসভ্যতাও করে…!
আমি আর সহ্য করতে পারছি না মারিয়া…. তুই প্লিজ বুঝ একটু…!”
…চলবে??
( আমার কয়েকজন পাঠিকা বলতেছে,,রোমান্টিক পর্ব দিতে,,তাদেরকে বলে রাখি… ভাই আমার শরম করে,,, যাই একটু আধটু লিখি,,তা যে কতবার কাঁটা ছেড়া করি!!🤦♀️
আর আপনাদের সবাইকে বলে রাখি,,, একটু গঠনমূলক কমেন্ট করবেন! মাঝে মাঝে একটু মন ভালো করার জন্য কমেন্ট বক্সে ঢুকলে আমার মন আর’ও খারাপ হয়ে যায়….
কারণ বেশিরভাগই কমেন্টেই থাকে,,,( ” পর্ব ছোট হয়েছে অথবা গল্প দিতে দেরি করেছি..!)🙂
এত ব্যস্ততার মাঝেও ঘন্টার পর ঘন্টা গল্প লিখে এসব শুনতে কি কারো ভালো লাগে…! 🙂)
https://www.facebook.com/share/1AYhCCqwqL/
https://www.facebook.com/share/g/1AufQdkZf8/
এই গল্পের নেক্সট পার্ট এর হাইলাইট নোটিফিকেশন পেতে অবশ্যই কমেন্ট অথবা follow ফলো করে রাখুন..!
#গল্প_ঘর

