মায়ার_যাতনা #পর্ব_১৯ #অরুনিতা_আঁখি

0
226

#মায়ার_যাতনা
#পর্ব_১৯
#অরুনিতা_আঁখি
……..

দুপুর আর বিকেলের মাঝামাঝি সময়,,, নদীর পাড়ে বসে দুই বান্ধবী বাদাম খাচ্ছে,,আর গল্প করতে করতে নিজেদের মতো করে আনন্দময় সময় পার করছে।।
বাদামের খোসা ছাড়াতে ছাড়াতে হঠাৎ মারিয়া বেশ চিন্তিত স্বরে বলে উঠলো,,,

” দোস্ত,,, কোচিংয়ে ভর্তি হবি কবে? আর ৫-৬ দিন পরেই হয়তো ভর্তি শেষ হয়ে যাবে…!”

” ওও হ্যাঁ…! মারু ভর্তি হতে যেন কত টাকা লাগবে? ”

” প্রায় কুঁড়ি – একুশ হাজারের মতো খরচ হবে!”

” ওহহ..!এক কাজ কর তুই ভর্তি হয়ে যা…দুই দিনের মধ্যে টাকা ম্যানেজ করে আমিও হয়ে যাব বরং।।”

” আমি ভর্তি হয়ে গিয়েছি সপ্তাহখানেক আগেই… ”

” ভালো করেছিস দোস্ত…!”

“হুমম,,,তুইও হয়ে যা তাড়াতাড়ি…বেশি দেরি করিস না যেন…প্রয়োজনে আমি তোকে কিছু টাকা দিয়ে সাহায্য করবো..! ”

” না..নাহহ,,,লাগবে না টাকা..!আমি ম্যানেজ করে নিতে পারবো।এমনিতেই তুই আমাকে নিয়ে কম প্যারাতে থাকিস না…সবসময়ই আমাকে হেল্প করিস তুই!
শুধু আমিই এক অকর্মণ্য বান্ধবী…যে কিনা তোর কোনো কাজেই আসিনা..!”,,,শেষের কথাটি মায়া একটু মন খারাপ করে বললো।

মায়াকে মন খারাপ করতে দেখে মারিয়া সান্ত্বনা দেওয়ার বদলে উল্টো রাগ করলো,,

” মারবো ধরে এক চড়!! তুই আমার কোনো কাজেই আসিস না..?
তোর মনে নেই…স্কুল কলেজে থাকতে আমি কত ডাম্ব্ ছিলাম? তুই আমায় পড়ালেখায় এতো এতো সাহায্য করেছিস বলেই তো আজ আমি মোটামুটি লেভেলের স্টুডেন্ট…!
তারপরে কলেজে থাকতে প্রায়ই সময় আমার এসাইনমেন্ট গুলো কে করে দিতো..?
এত সহজেই নিজের ক্রেডিট গুলো ভুলে যাস….! তোকে কি আমি এমনি এমনি হাদারাম বলি…?”

মারিয়ার রাগ করা দেখে মায়া হেসে ফেললো,,,

” তবুও তোর সাহায্যের কাছে ওইসব কিছুই না…!

আচ্ছা বাদ দে সেসব কথা,,তুই নাকি আমাকে কি চমক দিবি..? কই তোর চমক..?”

মায়া চমক এর কথা বলাতে হঠাৎ যেন মারিয়ার হুঁশ ফিরলো…খুশিতে গদ গদ হয়ে এক লাফে বসা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে উৎসাসিত কন্ঠে মায়া কে বললো,,

” মায়া রেএএ..! তোর জন্য যে চমক রেডি করেছি…তা দেখে তুই আমার জন্য প্রাউড ফিল করবি!!
তুই এখানে অপেক্ষা কর একটু… আমি এখনই গিয়ে তোর চমক নিয়ে আসছি… ”

মারিয়ার কথায় মায়া আলতো হেসে জবাব দিলো,,,

” তোকে বান্ধবী হিসেবে পেয়ে আমি এমনিতেও গর্বিত….মারু! ”

মায়ার কথা মারিয়া শুনল না বোধহয়….সে তো হন্তদন্ত হয়ে দৌড়ে কোথাও চলে গিয়েছে..!

কিছুক্ষণ পর আবার ফিরে এলো….

তবে এবার মারিয়াকে দেখে বিস্ময়ে মায়ার মুখ আপনা আপনি হাঁ হয়ে গিয়েছে….সে চোখ বড় বড় করে মুখে হাত দিয়ে তাকিয়ে আছে মারিয়ার দিকে…..এইদিকে মায়ার এমন রিঅ্যাকশন দেখে মারিয়ার ভাব বেড়ে গেল যেন… তার চোখে মুখের উচ্ছ্বাস ভীষণ নজরে পড়ছে..!

” মারুউউ…! দোস্ত….! কী এটা…!? “,,মায়ার উচ্ছ্বাসিত কন্ঠস্বর….।

” সাররপ্রাইইজ্….!!”…..মারিয়া মুখে বড়সড় হাসির রেখা টেনে কথাটি বলল,,, তারপর আবার মায়াকে জিজ্ঞাসা করলো,,,”পিংক কালারের…! কিউট না দেখতে? ”

” ভীষণ কিউট এটা….একদম তোর মতো..!”

মারিয়া এক হাত নিজের গালে ছুঁয়ে ভঙ্গিমা করে বললো,,
” যাহহ.. কি বলিস?? আমার কিউটনেসের কাছে এর কোনো তুলনাই হয় না..। ”

মারিয়ার বলা ধরণ দেখে মায়া হেসে ফেলল,,বললো,, “হ্যাঁ হ্যাঁ জানি আমি,,,আমি তো এমনি বলছিলাম..!
কিন্তু তুই চালাতে পারিস এটা??”

মারিয়া নিজের পিংক কালারের সাইকেলটা নিয়ে মায়ার দিকে এগিয়ে আসতে আসতে বলল,,

” একদম জবরদস্ত চালাতে পারি…তিন দিন ধরে শিখেছি। ভাবলাম আমার তো একটা বেস্টু আছে,, তাকে নিয়ে একটা রাইড্ দিয়ে আসা যাক..! ”

মায়াকে এবার একটু বিভ্রান্ত হতে দেখা গেল,,,
” এই নাহহ.. মারু! আমি আগে কখনো সাইকেলে চড়িনি,,, তুই একাই বরং রাইড্ দে এদিকটায়… আর আমি দেখি আমার বেষ্টু কেমন সাইকেল চালাতে পারে..।”

“তুই উঠ্ তো….একা ঘুরে মজা নেই।। তাছাড়া তুই থাকতে আমি একা একা কেন সাইকেল নিয়ে ঘুরবো!? ”

” কিন্তু মারু এটা তো বালুর রাস্তা…এখানে এমনিতেই সাইকেল চালাতে কষ্ট হবে… তার উপর তুই নতুন শিখেছিস মাত্র।। এখন ডাবলিং চালাতে গেলে একটু বেশিই চাপ পরবে না তোর উপর? ”

” আরেহ…বোকা।এটা বালুর রাস্তা বলেই তো আমাদের জন্য সুবিধা হয়েছে,,, এখানে যদি আমরা পড়েও যাই,,তাহলে বেশি ব্যথা পাবো না।”

” তবুও আমাকে নিয়ে চালাতে গেলে তোর কষ্ট হবে বেশি…।”

” আরেহ… কচুপোঁড়া।বেশি কথা না বলে উঠ্ তো,, তোকে নিয়ে চালাতে আমার কষ্ট কেন হবে? তুই কি মোটু? ”

মায়া কিঞ্চিৎ ইতস্তত করে বলল,, ” ইয়য়ে মানে মারু,,,এখানে আশেপাশে মানুষজন কম নেই… খোদা না করুক যদি কিছু মিছু একটা হয়ে যায়…তাহলে ওরা আমাদের নিয়ে হাসাহাসি করবে তো।।

মারিয়া এবার চরম রেগে গেলো,,,বললো,,
“বুঝেছি বিশ্বাস করিস না তুই আমায়,,থাক তুই এখানে। আমি যাচ্ছি চলে…. তোর সাথে আর কখনো দেখা করব না আমি। ”

মায়া বুঝল পরিস্থিতি বিগরে গেছে,,,এবার তার নিজের উপরেই বিরক্ত আসলো,,” সবকিছুতেই কেন এত ভয় পেতে হবে তাকে? মেয়েটা কত খুশি মনে তার কাছে একটা আবদার করছে… আর ও কিনা…! ”

“দোস্ত রাগ করিস না…আচ্ছা চল,,,তুই যা বলবি তাই হবে.. আমি আর কিছু বলবো না! “কথাটি বলে মায়া মারিয়ার সাইকেলের পিছনে চড়ে বসলো।।

মারিয়াকে এখনো মুখ কালো করে বসে থাকতে দেখে মায়া পেছন থেকে পিঠে চাপর মারলো,,বিরক্ত হয়ে বলল,,

“কি হলো চালা??”

মারিয়া সাইকেল চালানো শুরু করতে করতে বললো,,” মায়ার বাচ্চা,,,থাপ্পর মারলি কেন? ব্যথা পেয়েছি না আমি..! ”

” আচ্ছা সরি সরি…! তবে এভাবে কথায় কথায় মুখ ফুলালে আরো খাবি..! ”
মারিয়া মুখ ভেংচালো…! সাইকেল চলছে নিজের গতিতে,,

“এই মারু, সাবধানে চালা প্লিজ.. সাইকেল এমন আঁকাবাঁকা হয়ে চলছে কেন! “,,মায়ার ভীত কণ্ঠস্বর।

” আরে চিন্তা করিস না তুই…. সাইকেল এমন ভাবেই চালায়।
তাছাড়া সাইকেল চালানোতে আমি একদম প্রো….!”

কিন্তু তবুও মায়া আশ্বস্ত হতে পারল না,,, সাইকেল যেভাবে হেলে দুলে চলছে…!

” এই মারিয়া কি করছিস…. আরে সামনে একটা লোক দাঁড়িয়ে আছে… হর্ন বাজা নয়তো সাইকেল টার্ন কর।। ”
মারিয়া বারবার হর্ন বাজাচ্ছে,, কিন্তু সামনের লোকটাকে সড়তে দেখা যাচ্ছে না।।

” এই মারিয়া তুই সাইকেল টার্ন কর নয়তো ব্রেক কর… লোকটা ফোনে কথা বলছে তাই হয়তো শুনতে পাচ্ছনা।”

“দোস্ত এটা তো উপর নিচ পথ….আমি ব্রেক করতে পারছিনা!! ”

” তাহলে টার্ন কর?? আমরা তো লোকটার অনেক কাছে এসে পড়েছি..! তাড়াতাড়ি কর। ” মায়া চিন্তিত কন্ঠে বলল।

পরের মুহূর্তেই—

“আআআআহহহহহ!!”

কয়েক মুহূর্তের মধ্যে কি ঘটে গেল তা মায়া, মারিয়া কিংবা ফোনে কথা বলতে থাকা লোকটা, কেউই ঠাওর করতে পারেনি।।
মারিয়া আর সাইকেল ঘুরানোর সুযোগ পায়নি,, তার আগেই যা ঘটার ঘটে গিয়েছে। লোকটা উল্টো ঘুরে দাঁড়িয়ে কথা বলছিল বিধায় সাইকেল সোজা গিয়ে তার পিছনের অংশে আঘাত করেছে,,,যার ফলে লোকটা হুমড়ি খেতে খেতে বালিতে গিয়ে মুখ থুবড়ে পড়েছে…!

এদিকে,, মায়া আর মারিয়া নিজেরাও সাইকেল সমেত বালিতে ছিঁটকে পড়েছে।।

~~~~~~~
বন্ধুদের সাথে বটতলা নদীর পাড়ে ঘুরতে এসেছিল আয়ান,,মোটামুটি জম্পেশ একটা পার্টি জমিয়ে ছিল তারা..। কিন্তু হঠাৎ করে বড় ভাইয়ের ফোন কল আশায় সে কথা বলতে বলতে অনেকটা দূরে নীরব স্থানে এসে দাঁড়িয়েছে।।
আয়ান কথা বলায় মগ্ন ছিলো,,,কিন্তু হঠাৎ করেই কিছু বুঝে ওঠার আগেই পেছনের অর্থাৎ কোমরের মাঝ বরাবর অংশে কোন কিছুর প্রচন্ড জোরে ধাক্কায় নিজেকে ব্যালেন্স রাখতে পারেনি…মাটিতে উল্টে পড়েছে সে।

কি থেকে কি হয়ে গেল আয়ানের এখনো মাথা কাজ করছে না।খুব বেশি ব্যথা না পেলেও মুখ থুবরে পড়ায় নাকে ব্যথা পেয়েছে,,,সেই সাথে পেছনের অংশে শক্ত আঘাতে বেশ ব্যথা পেয়েছে সে।।এদিকে মোবাইলের অপর পাশ থেকে কারো ‘হ্যালো হ্যালো’ করার প্রতিধ্বনি আসছে..!
বেশ কিছুক্ষণ পর নিজেকে ধাতস্থ করে নিয়ে আয়ান মোবাইল কানে ধরে বলল,,
” ভাই ফোন রাখো,, আমি এখন কথা বলার মতো অবস্থায় নাই।
কোথা থেকে যেন গজব এসে আমার উপর পড়েছে…!? ”
সে নিজেই ফোন কেটে দিল তারপর।

অপরদিকে,, মায়া আর মারিয়া এতক্ষণে নিজেদের সামলে নিয়ে উঠে দাঁড়িয়েছে।। বালিতে পড়ায় শরীরের কোন অংশ কেটে যাওয়ার মতো অবস্থায় পড়তে হয়নি তাদের,, তবে ভারী সাইকেল শরীরের উপর পড়ায় ভালোই ব্যথা পেয়েছে।

মায়া আর মারিয়া একে অপরের দিকে তাকালো,,

মায়া এগিয়ে গিয়ে মারিয়াকে ধরে বললো,,
“মারিয়া,,ঠিক আছিস তুই? বেশি ব্যথা পেয়েছিস কোথাও?

মারিয়া তাকে আশ্বস্ত করে বললো,,
” আমি ঠিক আছি। খুব একটা ব্যথা পাইনি,,, তুই ঠিক আছিস তো? ”

মায়া মারিয়া সেই কথার জবাব করলো না,,সামনে কিছু একটা দেখে তার উদ্বিগ্নতা বাড়লো।।

” ওইই দেখ্! লোকটা এখনো উঠতে পারছে না,, মনে হয় বেশি ব্যথা পেয়েছে।
আমাদের তাকে গিয়ে সাহায্য করা উচিত! “,,মায়ার চিন্তিত ও হতাশাগ্রস্ত কণ্ঠস্বর।

মারিয়া তাকালো পিছনের দিকে,,” লোকটা পুরো হাত-পা মেলে মাটিতে শুয়ে আছে,, একটুও নড়চড় নেই। ”

” হ্যাঁ,,ঠিক বলেছিস তুই।। চল দেখে আসি গিয়ে। ”

কথাটি বলে মারিয়া এগিয়ে গেল,, মায়া ও আসলো পিছু পিছু।।

মারিয়া আয়ানের সামনে দাঁড়িয়ে একটু ইতস্তত করে জিজ্ঞাসা করলো,,
” এই যে,, শুনতে পাচ্ছেন? আপনার কি বেশি লেগেছে? ”

আয়ান এতক্ষণ ইচ্ছে করেই উঠেনি,,আসলে তার উঠতে ইচ্ছা করছিলো না।।কিছুদিন আগে একজন বুড়ো মহিলা তাকে অভিশাপ দিয়েছিলো,,বলেছিলো,,” পথে প্রান্তরে প্রতি মুহূর্তে মুহূর্তে তার উপর গজব পড়বে!! ”
বুড়ো মহিলা এই অভিশাপ তাকে এমনি এমনি দেয়নি… সেসব অনেক লম্বা কাহিনী।
আয়ান তখন মহিলার সেই অভিশাপকে গুরুত্ব না দিলেও,, এখন এই মুহূর্তে তাকে বিষয়টা প্রচন্ড ভাবাচ্ছে!,,, ” বুড়ির কথা আবার কাজে লাগা শুরু হয়নি তো..!?না হলে এই ফাঁকা জায়গায় তার সাথে এমন অদ্ভুতুড়ে ঘটনা কিভাবে ঘটেছে..!”

নিজের ভাবনার মাঝে হঠাৎ কোন নারীর আওয়াজ শুনে সে মুখ তুলে উপরে তাকালো,,,তখন নীল জামা পরে এক সুন্দরী যুবতী মেয়েকে সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে অবাক হলো।।
তখন পুনরায় যুবতীর কণ্ঠস্বর ভেসে আসলো,,

” কি হলো মিস্টার? কিছু বলুন..!
আপনার কি উঠতে কষ্ট হচ্ছে? আমি কি সাহায্য করবো? ”

আয়ান নিজেই উঠে দাঁড়ালো,, কিঞ্চিত বিস্ময় নিয়ে আশেপাশে তাকাতেই অদূরে সাইকেল পড়ে থাকতে দেখে তার বিস্ময় বাড়লো। তারপর আবার সামনের দাঁড়িয়ে থাকা দুজন যুবতীকে পর্যবেক্ষণ করে,, কিছুক্ষণের মধ্যেই তার কাছে সব ঘটনা পরিষ্কার হয়ে উঠলো।

” তারমানে এই অ্যাক্সিডেন্ট আপনারা করেছেন? ”

কথাটা জিজ্ঞাসা করতেই সামনে থাকা রমণীর চেহারায় অপরাধবোধ স্পষ্ট হয়ে উঠলো।

মারিয়া আমতা আমতা করে বললো,,
” নাহ মানে! অ্যাক্সিডেন্টটা ভুল করে হয়েছে,,, আসলে জায়গাটা একটু ঢালু তো,,,তাই আমি সাইকেলটা ব্যালেন্স করতে পারিনি। তার জন্য সরি…! ”

কিন্তু মারিয়ার সরি কোন কাজেই আসলো না,,,আয়ান অত্যাধিক ক্ষোভ নিয়ে আগুন ঝরা কন্ঠে বলল,,
” সরি..! হ্যাঁ? সরি বললেই সব সমাধান হয়ে যাবে।।
মানুষ মে*রে আপনি সরি বলতে আসবেন.. আর আমরা তা মেনে নিব? ”

মারিয়া আশ্চর্য হয়ে বললো,,

“আরে আরেহ..! আপনি চিল্লাচ্ছেন কেন ? আমি কোথায় মানুষ মার**লাম?
আপনাকে তো পুরোপুরি সুস্থই দেখতে পাচ্ছি… সামান্য একটা বিষয় নিয়ে সিনক্রেয়েট করার কি মানে?”

মারিয়ার কথায় আয়ান রেগে গিয়ে আরও জোরে চিল্লিয়ে উঠলো,,

” সামান্য বিষয়…!এটা আপনার কাছে সামান্য বিষয় মনে হচ্ছে?
আপনি জানেন এর জন্য আমি এতক্ষণ কি কি অদ্ভুত চিন্তা করে ভয় পাচ্ছিলাম!
তাছাড়া আর একটু হলেই তো আমার পেছনের অংশ পুরোপুরি ফেটে*ই যেত..!”

আয়ানের শেষের কথা শুনে মারিয়া তার পিছনে মায়ার দিকে তাকালো..মায়া নিজের হাসি কোনোরকমে চেপে রাখলেও,,মারিয়া তা পারেনি ।।
সে মুখে হাত চেপে হু হা করে হেসে দিলো।
এদিকে মারিয়াকে হাসতে দেখে,মায়ার মাথায় যেন বাঁজ পরলো,, “এমন সিরিয়াস মুহূর্তে কে হাসে! এখন যদি লোকটা আরও রেগে যায়? ”

মায়ার ভাবনাই সত্যি হলো,, মারিয়া কে হাসতে দেখে আয়ানের রাগে যেন এক চিমটি ঘি পড়লো!
রাগে খেই হারালো সে,,

” নির্লজ্জ বজ্জ্বাত মহিলা! লজ্জা করে না এমন কাণ্ড ঘটিয়ে হি’হি করে হাসতে..!সামনে যে একটা জলজ্যান্ত মানুষ দাঁড়িয়ে ছিলো দেখতে পাননি?
অন্ধ হলে বাড়িতে বসে থাকবেন,, বাইরে বের হওয়ার কি দরকার? ”

আয়ানের করা এহেন অপমানে মারিয়া যেন অবাক হতেও ভুলে গিয়েছে..!
সে অবাক হয়ে পিছনে মায়ার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞাসা করলো,,” এইই মায়া! আমি যা শুনলাম তুইও কি তাই শুনেছিস?
এই ছেঁমরা কি বললো আমাকে,,” আমি নাকি মহিলা?আবার আমাকে নির্লজ্জ বললো,, অন্ধ বললো..!”

মায়া হাত দিয়ে ইশারা করে মারিয়াকে শান্ত হতে বলল,,
” মারু,,,আর এখানে থাকার দরকার নেই! আয় আমরা চলে যাই… শুধু শুধু ঝামেলায় জড়িয়ে কি লাভ বলতো..?”

কিন্তু মারিয়া পাত্তাই দিল না তার কথায় ,,, “কেউ তাকে অপমান করবে,,আর সে তাকে ছেড়ে দিবে,, এমন ব্যক্তি মারিয়া নাহ!”,,সে আয়ানের দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো,,
” আমি যা শুনেছি,,আপনি কি তাই বলেছেন? ”

আয়ান মারিয়ার কথায় ব্যঙ্গ করে বলল,,,” এ তো দেখছি অন্ধ হওয়ার সাথে সাথে কানে কালা’ও! ”

মারিয়া এবার আয়ানের দিকে তেড়ে এসে আঙ্গুল উঁচিয়ে বললো,,
” একদম উল্টাপাল্টা কথা বলবি না,,আমি 19 বছরের এক যুবতী মেয়ে,,কোন মহিলা নই! আর অন্ধ কিংবা কানে কালাও নই!
এইগুলা সব তুই তুই তুই… তুই মহিলা,,তোর বাপ মহিলা,, তোরে চৌদ্দগুষ্টি মহিলা!
আর কানে কালা আমি নাকি তুই?? সাইকেলে কয়বার বেল বাজিয়েছি আমি,, তুই নিজেই শুনিস নি। তাই তুই কানে কালা,, তোর চৌদ্দগুষ্টি কালা! ”

“কীহহহ! কত বড় সাহস! দোষ করে আবার গলাবাজি করা? আবার তাকে গালিগালাজ করছে এই বেয়াদব মেয়েটা? ” আয়ানের বিস্ময় যেন সর্ব সীমানায় ঠেকে গিয়েছে….

” বেয়াদব মেয়ে… ঠাঁটিয়ে গাল লাল করে দিবো একদম!
মহিলা বলায় জ্বলছে?আমি একচুয়ালি ভুল বলেছি… তুই মহিলা না,,তুই একটা বুঁড়ি।
তুই একটা অসভ্য থার্ড ক্লাস মেয়ে….।”

” কী বললি তুই!! আমি বুড়ি? থার্ডক্লাস মেয়ে?আমাকে মারবি তুই..!
দেখাচ্ছি মজা তোকে… ওয়েট! ”

দাঁতে দাঁত চেপে রক্তচক্ষু নিয়ে কথাগুলো বলেই মারিয়া আয়ানের উপর হামলে পড়লো..!মূলত তার ছোট ছোট দাড়ির উপর হামলে পড়লো।

মারিয়া চেয়েছিল আজ এই ছেলের চুলগুলো সব টেনে ছিড়ে ফেলবে,, কিন্তু আয়ান তার থেকে বেশ লম্বা হওয়ায় চুলের নাগাল পায়নি,, তাই তার ছোট ছোট দাড়িগুলোতেই খাঁমচি কেটে ধরলো,,

মুখে বাড়াল নখের খামচি পড়ায় আর দাঁড়িতে টান লাগায় আয়ান ব্যথায় হালকা কুঁকিয়ে উঠেছে।।
দাঁড়ির টান কমাতে আয়ান নিজের অজান্তেই বেশ কিছুটা নিচে ঝুঁকে গিয়েছে।।
তবে এতে মারিয়া যেন নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করার আরো সুযোগ পেলো,,সে এবার দাঁড়ির সাথে সাথে আয়ানের চুলও টেনে ধরেছে।।
আয়ান যন্ত্রনায় কুঁকিয়ে উঠেছে,, আর তা দেখে মারিয়ার মুখে ফুটে উঠছে বিজয়ের হাসি।
তবে মারিয়ার এই হাসি বেশিক্ষণ টিকলো না,, কারণ ইতিমধ্যে আয়ান নিজেও মারিয়ার চুল টেনে ধরেছে।।
আয়ান এত জোরে চুল টেনে ধরেছে,, যে মারিয়ার মনে হচ্ছে তার চুল ছিঁড়ে মাথার চামড়া সহ উঠে যাবে হয়তো।।
এত ব্যথাও মারিয়া কে হার মানাতে পারেনি,, সে বরং আয়ানের চুল ও দাড়িতে রাখা দুই হাত আরও শক্ত করে টেনে ধরলো।।

” জংলি মহিলা ..! ছাড় বলছি আমার চুল-দাঁড়ি..!”

” এই কালো পাঠা,,,তুই আমার চুল টেনে ধরেছিস কেন…?”

” জংলি বেয়াদব মেয়ে,,, একদম গায়ের রং নিয়ে খোঁটা দিবি না বলে দিলাম…। নিজে একটু ফর্সা হয়েছিস বলে কি অহংকার দেখাচ্ছিস?
মিছে অহংকার দেখাস না,, ফর্সা হলেও তুই দেখতে সুন্দর না,, একদম শাতচুন্নির মতো দেখতে লাগে তোকে..
অপরদিকে আমি কালো হলেও যথেষ্ট হ্যান্ডসাম। ”

” কি বললি তুই!! ” মারিয়া দাঁতে দাঁত চেপে তার হাতের জোড় আরও বাড়ালো।।

” আআহহহ!!” ব্যথায় আয়ান শব্দ করে উঠলো,, তবে সে নিজেও তার হাতের জোর বাড়িয়ে বললো,,

” ঠিকই বলেছি আমি,, তোকে দেখতে একদম জংলি জঙলি লাগে।
তোর সাথে যে মেয়েটা আছে,, সেই মেয়েটাকে দেখতে কত মিষ্টি লাগে। আমি বুঝে পাইনা,, এত সুইট একটা মেয়ে তোর সাথে কিভাবে থাকে? তোকে ভয় পায়না ও? ”

” কি আমি জংলি!!
তুইও শুনে রাখ তাহলে,,আমি যদি জংলি হই তুই হচ্ছিস জঙ্গল… তুই একটা রামছাগল,, কালো পাঠা, খাসি..!
আআহহহ!! ছাড় আমাকে! ব্যাথা পাচ্ছি! ”

” তুই ছাড় আগে,,, আমিও ব্যাথা পাচ্ছি..!”

অপরদিকে,,এদের কান্ড কারখানা দেখে মায়া বিস্ময়ে প্রথমে বেশ কিছুক্ষণ ফ্রিজ হয়েছিলো….
তারপর যখন তার হুঁশ ফিরলো,,,দৌড়ে এসে সে মারিয়া আর আয়ানকে ছুটানোর চেষ্টা করতে লাগলো।

মায়ার মনে হচ্ছে সে একাই বকবক করছে,,সামনের দুজন ঝগড়া আর চুলোচুলি করতে এতটাই ব্যস্ত যে তাদের আশেপাশে যে কেউ একজন চিলিয়ে চিল্লিয়ে তাদের থামতে বলছে সেটা কেউই শুনতে পাচ্ছে না।।
মায়ার নিজেকে বড্ড অসহায় মনে হচ্ছে এখন,, “এদেরকে টেনেটুনেও বের করা যাচ্ছে না,, মনে হচ্ছে দুজন দুজনের সাথে শক্ত আঠার মত আটকে আছে।। ”

মায়া আবারও মারিয়াকে টানা শুরু করলো,,
” দোহাই লাগে মারিয়া,,, ছেড়ে দে লোকটাকে! আশেপাশে মানুষজন আসতে শুরু করেছে…. লোকে কি বলবে। ”

মারিয়া এবার মায়ার কথার উত্তর করল,,
“লোকে যা বলার বলুক,,, আজকে এই অসভ্য লোকটার চুল দাড়ি সব ছিড়বো আমি..! ”

” ওহহ আমি বুঝি তোমাকে ছেড়ে দিবো,,তোমাকে আমি ন্যাড়া জংলি বানিয়ে ছাড়বো..!”

মায়া হতাশ হলো…..” হে খোদা! সাহায্য কর! ”

~~~~~~~~~~

ম্যানশন এ ফিরতে ফিরতে মায়ার পুরো বিকাল কেটে সন্ধ্যা হয়ে এলো….!
যাহ ঝামেলা হলো! মায়ার এখন খালি মনে হচ্ছে কোনরকমে তাকে ঘরে গিয়ে যত দ্রুত সম্ভব কিছুক্ষণের জন্য হলেও ঘুমোতেই হবে..!,,, সবকিছু বিরক্ত লাগছে তার কাছে।
মায়া রিকশা থেকে নেমে টাকা দিয়ে আর কোন দিকে নজর দিল না।।
মাথা নিচু করে সে দ্রুত হাঁটতে থাকলো,,, তবে ম্যানশন এর দরজার কাছে আসতেই হঠাৎ কারো শক্ত বুকের সাথে ধাক্কা খেয়ে মায়া ধপাস করে নিচে পড়ে গেলো…..!

……চলবে??

(আজকে যেহেতু রুদ্র মায়ার পার্ট আসেনি,, তাই ইনশাল্লাহ কালকে আরেকটা পার্ট দিব।)

https://www.facebook.com/share/1AYhCCqwqL/
https://www.facebook.com/share/g/1AufQdkZf8/
এই গল্পের নেক্সট পার্ট এর হাইলাইট নোটিফিকেশন পেতে অবশ্যই কমেন্ট অথবা follow ফলো করে রাখুন..!
#গল্প_ঘর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here