মায়ার_যাতনা #পর্ব_21 #অরুনিতা_আঁখি

0
208

#মায়ার_যাতনা
#পর্ব_21
#অরুনিতা_আঁখি
…..

হঠাৎ করেই ঝড়ো হাওয়া বইতে শুরু করেছে,, সেই ঝড়ো হাওয়া যেন কার’ও ভিতরের উত্তাল পাত্তাল ঢেউয়ের’ই প্রতিরূপ..!
গত রাতের সাজসজ্জা ছাদের গায়ে লেপ্টে আছে এখনো,, শুধু পার্থক্য এতোটুকুই সেই সজ্জা এখন আর প্রাণবন্ত লাগছে না…ক্যান্ডেল গুলো নিভে গেছে কিছু আগেই,, ফুলগুলো নেতিয়ে পড়েছে কিছুটা,,তবে সেখান থেকে এখনো হালকা মিষ্টি সুভাস ভেসে আসছে।

রুদ্র দু’হাত পকেটে রেখে আকাশে পানে স্থির দৃষ্টি রেখে চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে।
বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে নিস্তব্ধ, ভেতরে কী চলছে সেটা নির্ণয়ের উপায় নেই।
তবে তার হালকা ধূসর নীল বর্ণের চোখে এখন লালচে ছাপ স্পষ্ট —ঘুমহীন ক্লান্তি থেকে নাকি অন্য কিছু, বোঝা মুশকিল।

একসময় অদ্ভুত শান্ত ভঙ্গিতে ধীর পায়ে সামনে এগিয়ে এল সে। টেবিলের উপর রাখা কেকটার দিকে তাকাল—সাদা ক্রিমের উপর সুন্দর করে লেখা আছে,
“Congratulation Angel”

চকলেট কিংবা কেক দুটোই রুদ্রের কাছে বিদঘুটে খাবার,, এগুলো যে তার অপছন্দের খাবারের লিস্টে প্রথম তা আর বলার বাকি থাকে না।
তবে অদ্ভুত ,, টেবিলে সাজিয়ে রাখা লোভনীয় ও সুন্দর কেক’টি চকলেটের!
এর কারণ–এগুলো তার চক্ষুশুল হলেও কোনো একজনের পছন্দের!

দু’পাশে এদিক ওদিক করে ঘাড় মটকে, কেকের পাশে রাখা ছুরি তুলে কেকের এক টুকরো কাটল। অর্ধেকটা মুখে দিল, বাকিটা হাতেই রইল। মুখে তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা গেল না তার।

তারপর হঠাৎই রুদ্রের পায়ের আঘাতে টেবিলটা বিকট শব্দে নিচে পড়লো..সঙ্গে সঙ্গেই ঝর ঝর করে ভেঙে গেল কাঁচের টেবিলটা, আর সেই সাথে সম্পূর্ণ কেকটা কাঁচের অংশগুলোর মতো চিহ্ন বিচ্ছিন্ন হয়ে লেপ্টে গেল নিচে..।
কিন্তু এমন একটা কান্ড করেও রুদ্রের মধ্যে বিন্দুমাত্র ভাবাবেগ দেখা গেল না…সে বরং হাতে থাকা তার আধ খাওয়া কেকের অংশটুকু নিয়ে স্বাভাবিক ভঙ্গিতে হেঁটে সিড়ি বেয়ে ছাদ থেকে নিচে নেমে যাচ্ছে..।

~~~~~
মায়া ঘুমিয়ে আছে, দরজা জানালা লাইট সবকিছু বন্ধ থাকায় ঘরে আলোর লেশ মাত্র নেই!
মায়া মূলত ইচ্ছে করেই ঘর এমন অন্ধকার করে ঘুমায়।
তার কাছের কেউ শুনলে হয়তো প্রথমে বিশ্বাস করবে না, কারণ যেই মেয়ে কখনো ভরা আলোতে’ও রাত্রে একাকী থাকতে পারতোনা,তার কাছে এমন কিছু আশা করা একটুখানি অবিশ্বাস্য বৈকি!
তবে কথায় আছে, সময় আর পরিস্থিতি সবকিছু বদলে দিতে সক্ষম। মায়ার ক্ষেত্রে’ও হয়তো তার প্রতিফলন ঘটেছে।
মায়ার একরকম অন্ধকার ফোবিয়া ছিল বলা যায়, যেটা কাটাতে তার বেশ কসরত করতে হয়েছে।
এর জন্য কত রাত যে তার বিনিদ্রায় কাটাতে হয়েছে! ভয়ে চোখের পাতা এক পলকের জন্য বন্ধ করতে পারতো না পর্যন্ত।
তারপর হঠাৎই একদিন তার মনোবল শক্তি বেড়ে গেল,আর সেই সাথে জেদ!
তারপর থেকে ইচ্ছে করেই এমন অন্ধকারে থাকতে শুরু করেছে,, অবশ্য এতে তাকে বেশ ভুগতেও হয়েছে।ঘুম তো ধরা দিতই না, উল্টো অতিরিক্ত ভয়ে রাতে খিঁচুনি উঠতো।
জেদ করে মায়া তারপরের কিছুদিন ঘুমের ওষুধ খাওয়া শুরু করলো….আর তারপর,খোদার অশেষ রহমতে কিভাবে কিভাবে যেন মায়ার ভয়টা কমে এলো…।
……
মায়া ঘরের দরজা বন্ধ রাখলেও ভিতর থেকে লক করেনি,, আর এরই সুযোগে কোনো এক লম্বা সুঠাম দেহের অধিকারী ছায়া মানব দরজার নব্ ঘুড়িয়ে
তার স্থির ও আত্মগরিমা পূর্ণ পদক্ষেপে ধীরে ধীরে প্রবেশ আনলো ঘরে..!
ছায়া মানবটি অন্ধকারেই হেঁটে হেঁটে বিছানার কাছে এসে থামলো, তারপর হঠাৎ কি মনে করে পকেট থেকে লাইটার বের করে তার আনা ক্যান্ডেলটা জ্বালালো..!
ক্যান্ডেলটির স্বল্প মৃদু হলদেটে আলোতে মায়াকে পর্যবেক্ষণ করতেই মানবটির এতক্ষণের ইস্পাতসম শক্ত চোয়াল আর তীক্ষ্ণ সূচালো দৃষ্টি এক মুহূর্তেই শান্ত শীতলতায় রূপ নিল!

মেয়েটার গায়ে ওড়না নেই! বুকে বালিশ চেপে এক পাশ হয়ে শুয়ে আছে। দীর্ঘ পুরু সুতার ন্যায় এক ঝাক কালো কেশরাশি বালিশ ও পিঠ মাঝে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। এরই মাঝে আবার সামনের একগুচ্ছ কেশ মুখের একপাশের চোখ,কান,আর গালের কিছু অংশ ঢেকে রেখেছে।তবে ফ্যানের বাতাসে সামনের সেই স্বল্প কেশগুচ্ছ দোলা দিয়ে যাচ্ছে বারবার..!
মেয়েটার দিগল পল্লব বিশিষ্ট চোখের পাতা কেমন শান্ত নির্বিঘ্নে বন্ধ হয়ে আছে! নাকে হালকা শিশির বিন্দুর মতো চিকন ঘাম জমেছে…আর ঠোঁটজোড়া..!

মানবটি এই ঠোঁট জোড়ার ব্যাখ্যা করতে জানেনা! শুধু জানে,,এর দিকে বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকা যায় না — কেমন নেশা লেগে যায়…অস্থির লাগে!

জামার গলার অংশটি একটু বেশিই বড়…মানবটির শকুনী দৃষ্টি নিষিদ্ধ কিছুতে আটকাতে চায়!…

মায়াকে পর্যবেক্ষণ করতে করতে সুঠাম দেহের সেই ছায়া মানবটি নিজের অজান্তেই মায়ার উপর অনেকটা ঝুঁকে পড়ে, কিছু মুহূর্তফল পরে মন্ত্রমুগ্ধের মতো কাঁপা হাতে রমনীর মুখে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকা চুল কোমল হস্তে কানের পিঠে গুঁজে দেয়….!
…..
ঘুমের মধ্যে মায়ার কেমন অস্বস্তি লাগছে,, মনে হচ্ছে কেউ তাকে গভীর দৃষ্টিতে দেখছে,,নাকে কোনো সুগন্ধির ঘ্রাণ ভেসে আসছে।শুধু তাই নয়, মনে হচ্ছে কেউ তার মুখের উপর শ্বাস ফেলছে!

এদিকে, মায়া কে হালকা নড়তে দেখে মানব’টি দ্রুত তার উপর থেকে সরে দাঁড়ায়,,তারপর আচমকাই ফুঁ দিয়ে এতক্ষন জ্বলতে থাকা ক্যান্ডেলটা নিভিয়ে দিয়ে পুরো ঘর আগের মত অন্ধকার করে ফেলে।

মায়া চোখ মেলে এক জটকায় উঠে বসে,, দু সেকেন্ড থম মেরে বসে থেকে টেবিল ল্যাম্প জ্বালানোর জন্য বিছানার পাশে হাত বাড়ায়।

কিন্তু হায় বিধিবাম! সুইচ টেপার আগেই অন্ধকারে কোনো এক অশরীরির শক্তপোক্ত হাত মায়ার হাত’কে চেপে ধরে!
মায়ার হৃদপিণ্ড ছলকে ওঠে যেন! শরীরের রক্ত প্রবাহ বন্ধ হয়ে আসে এমন অদ্ভুতুড়ে ঘটনায়! ভয়ে সে চিৎকার দিয়ে উঠে,“ আআআ……!”

বেচারী মায়া ভালো করে চিৎকার’ও করতে পারলো না,,তার আগেই মুখে নরম কেক জাতীয় কোনো সুস্বাদু খাবারের অস্তিত্ব টের পেল…।
মায়া এতটাই হতবিহ্বল যে, সে অন্ধকারেই চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছে শুধু ! মুখের খাবারটুকু চি্বোতে কিংবা ফেলতেও ভুলে গেছে!

হত্চকিতার ভাব কাটতেই মায়া যখন মুখের খাবারটুকু ফেলে দিতে চাইলো, তখনই পুনরায় শক্ত হাতের চাপে মায়ার মুখ পুরোপুরি লকড্ হয়ে গেল!
………..

…চলবে?

(প্রিয় পাঠিকারা,যতটুকু দিয়েছি ততটুকু নিয়েই খুশি থাকেন!
আমি একজন ব্যস্ত মানুষ, শুধুমাত্র শখের বসে একটু গল্প লিখি।
আমি কিন্তু বেশি দেরি করি নাই গল্প দিতে, মাত্র একদিন পরেই দিয়ে দিয়েছি! 🤐)

https://www.facebook.com/share/1AYhCCqwqL/
https://www.facebook.com/share/g/1AufQdkZf8/
এই গল্পের নেক্সট পার্ট এর হাইলাইট নোটিফিকেশন পেতে অবশ্যই কমেন্ট অথবা follow ফলো করে রাখুন..!
#গল্প_ঘর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here