আমরন_চেয়েছি_তোমায়
লেখায়_সুরাইয়া_নওশিন
০৯
শায়লা বেগম এর ভালোবাসার শাসন হজম করে সানি বিছানায় এসে মাত্র বসেছে। শায়লা বেগম এর একমাত্র আদরের ছেলে সানি মেহরাজ শিকদার। ছেলেকে নিয়ে সব সময় দুশ্চিন্তা তার। যাকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে আছে সে ছেলের ভালো মন্দ কিছু হলে কি হবে তার। তার জীবনে আশ্বাস, ভরসা, সুখ, শান্তি তার এক মাত্র ছেলে সানি মেহরাজ শিকদার। সানিকে কিছু সময় শাসন করেছে এরপর যত্ন ও করেছে। মায়েদের ভালোবাসা এমনই হয়ে থাকে শাসন এরপর যত্ন। এতো সময় শায়লা বেগম এর ঘরে ছিলেন। মায়ের সঙ্গে কিছু সময় কাটিয়ে নিজের ঘরে এসে বিছানায় বসেছে।বিছানার পাশে ছোট টি টেবিলে উপরে রাখা টিস্যু পেপার থেকে একটা টিস্যু পেপার ছিড়ে নিলো। নাকটা বন্ধ হয়ে আসছে তার। মাথাটাও ধরে আসছে ভীষণ।
সারা অনেকক্ষণ যাবৎ পায়চারি করছিলো সানির ঘরের দিকে। তার বাবা এভাবে সানিকে কথায় বলায় ভীষণ খারাপ লেগেছে তার। সে জানে বাবা সবাইকে নিয়ে দুশ্চিন্তা করে, তার রাগ বেশি, তিনি ভীষণ কড়া মানুষ তাই বলে এই ভাবে কথাগুলো বলা ঠিক হয় নি। আর সানিও নিজের কাঁধে সবটা নিয়ে নিলো। এতো বড় কথা বললো অথচ কিচ্ছু বললো না। কোনো জবাব দিলো না সে। মানুষটার এতো ধৈর্য্য শক্তি দেখে অবাক হলো সে। সানি যথেষ্ট প্রতিষ্ঠিত এখন অন্য কেউ হলে ঠিক চলে যেতো। শিকদার বাড়িতে তার যাওয়া হয় নি। তবে তার মায়ের মুখে শুনেছে খান বাড়ি থেকেও দ্বিগুণ বিশাল বড় বাড়ি, তাদের অর্থ বিত্ত, ক্ষমতা অনেক। সানি বড় চাচা সাইফ রেজওয়ান শিকদার নাম করা বিজনেসম্যান। রাজনীতিতে না দাঁড়ালেও ওতপ্রতভাবে জড়িতো সে। তার লোকজন অধিকাংশ এমপি। সানি বাবা সাগর মাইন শিকদার এর নাম এখনও সবাই বলে। তুখোড় রাজনীতিবিদ ছিলেন তিনি। তার বিশাল বড় মাফিয়া গ্রুপ ছিলো যাদের নাম শুনে সবাই পেতো প্রচন্ড রাগী স্বভাবের ছিলেন সাগর মাইন শিকদার। শিকদার বাড়ির সবাই নাকি ভীষণ রাগি, আর জেদি অথচ সানি কত ধৈর্য্য শীল। আজ সানির জায়গায় সারা থাকলে সারাও হয়তো রেগে উঠে আসতো। তার বাবা কত রাগ দেখায়, কত শাসন করে অথচ কোনো জবাব দিতে দেখেনি সারা। মানুষটার এই ধৈর্য্য শক্তি ভীষণ অবাক করে সারাকে।
সারা অনেক সাহস নিয়ে সানির ঘরে উঁকি মারে সে। তখন ঘরে আসার কারন ছিলো এখন বিনা কারণে সানির ঘরে আসতে ভীষণ সংকচ কাজ করছে সারার মনে। যদি সানি প্রশ্ন করে বসে কেন এসেছে কি জবাব দিবে সে। বিষয়টি কতটা লজ্জা কর হবে। তবে সারার সানিকে খুবই দেখতে ইচ্ছে করছে। এমনিতেই মানুষটার ঠান্ডা লেগে নাজেহাল অবস্থা আর এর ভেতর কত কথা শুনতে হলো তার। মানুষটার জন্য ভীষণ মায়া হচ্ছে। সারা শুকনো ঢোক গিলে উঁকি দিয়ে দেখে সানি বিছানায় বসে আছে আর একটু পর পর নাক টানছে। একদম বাচ্চা মানুষের মতো লাগছে। পরনে হাল্কা বাদামী রঙের টি শার্ট আর সাদা রঙের টাউজার। মানুষটা কত গোছালো, তবে আজ ভিন্ন এক সানিকে দেখেছে সারা। যেটা সারা কখনও কল্পনায়ও আন্দাজ করতে পারে নি। সারা দরজায় দাঁড়িয়ে ভাবছে ডাকবে নাকি এখান থেকে চলে যাবে। ভীষণ দুটোনায় পরেছে সে। এসময় সানি ঠান্ডা লেগে যাওয়ায় ভারি কন্ঠে বলে,,
” আর কত সময় বাইরে দাঁড়িয়ে উঁকি মারবি। অন্যের ঘরে আড়ি পাতার এমন বাজে অভ্যাস কবে হলো তোর। ”
সারার চোখ জোড়া রসালোর মতো গোল আকৃতি ধারন করে। একবারের জন্যও দরজার দিকে চোখ রাখে নি। সে কিভাবে বুঝলো কেউ এসেছে তাও আবার সে। মানুষটা ডাক্তারি পড়ার পাশাপাশি কালা জাদু শিখেছে নাকি। নাকি শরীরে কোনো উপড়ি জ্বিন ভূতের আঁচড় আছে। সানি আবারও বলে উঠে,,
” ভেতরে আয়। ”
সারা এবার ধীর পায়ে পা ফেলে সানির ঘরে প্রবেশ করে। তখন সানির ঘর না দেখলেও এখন পরখ করে দেখছে আশেপাশে তাকিয়ে। জানালার পাশে একটা বিশাল বড় বিছানা। জানালা দিয়ে বাইরের আলো ঘরে প্রবেশ করছে। শুয়ে থেকে জানালা দিয়ে রাতের আকাশ উপভোগ করা যাবে ঠিক তার সাফি ভাইয়ের ঘরের মতো। বিষয়টি ভীষণ ভালো লাগে তার। কিন্তু তার ঘর এমন নয়, এই জন্য অনেক আফসোস হয় তার। কি সুন্দর বিছানায় শুয়ে রাতের আকাশ উপভোগ করবে। চাঁদের আলো ছড়িয়ে পরবে তার গাঁয়ে। একদিকে ড্রেসিং টেবিল আর একটা আলমারি। আর একপাশে সম্পূর্ণ জুড়ে বুকসেল্ফ। আর বুক সেল্ফ জুড়ে বই, সেখানে একটা রোলিং চেয়ার। সারা এসব দেখে মনে মনে বলে,,
” এতো বই। এতো বই মানুষ কিভাবে পরে। এই জন্য মানুষটা এতো অদ্ভুত, বই পড়ে পড়ে মাথা গিয়েছে তার। ভাই বই পড়লেও এতো পড়ে না৷ ভাইকে সব সময় পড়াতেই দেখছি ।কি অদ্ভুত একজন পড়াতে ভালোবাসে, আর একজন পড়তে। এই দুজন সত্যি ভিন্ন কোনো গ্রহ থেকে আগত, সাধারণ মানুষ নয়। ”
সানি সারার দিকে তাকিয়ে বলে,,
” ঘর পছন্দ হয় নি। ”
সানির কথায় ঘোর কাটে সারা। তড়িৎ গতিতে বলে উঠে,,
” আমি আসলে দেখতে এসেছিলাম আপনার ঠান্ডা কমেছে কি না তাই আর কি। ”
” আমার রুমে আসার কোনো কারন জানতে চেয়েছি কি আমি। এখানে কারন বলার কি আছে আসতেই পারিস। ”
সারার মন খুশিতে যেন পাখা মেলে নৃত্য করতে চাইছে।এতো বড় সুযোগ বিনা পরিশ্রমে পেয়ে গেলে খুশি হবে না কেন। এতোক্ষন কত কি ভাবছিলো সারা। সারার খুশিতে যেন আত্নহারা। মানুষটা মাঝে মাঝে এতো ভালো কাজ করে, তার মনটাই ভালো করে দেয়। তবুও সারা একটু মিনমিনে গলায় বলে,,
” যদি আপনার সমস্যা হয় আর কি ”
সানি সারার দিকে ভ্রু কুচকে তাকায়।
” আমার সমস্যা হবে কেন? এটা কেমন কথার ধরন। ”
” না মানে মনে হলো আর কি। ”
” ইদানীং প্রয়োজনীয় থেকে অপ্রয়োজনীয় জিনিস বেশি বুঝচ্ছিস তুই। ”
সারা আর এ বিষয়ে কথা বাড়ালো না। সানি তাকে অনুমতি দিয়ে মনটা ভালো করে দিয়েছে। তাই সারা প্রসঙ্গ পালটে বলে,,
” আপনার এখন শরীর কেমন? ”
” ঔষধ খেয়েছি দেখা যাক। আল্লাহ চাইলে দ্রুত সেরে যাবে ইনশাআল্লাহ। অনেক দিন পর বৃষ্টিতে ভিজেছি আবার দীর্ঘ সময় ভেজা কাপড়ে থাকা হয়েছে তাই দ্রুত ঠান্ডা লেগে গেলো। ”
সানি বিছানায় হাত ইশারা করে বলে,,
” বস এখানে। ”
সারা ধীর পায়ে এগিয়ে গিয়ে অনেকটা দুরত্ব রেখে সানির পাশে বসে। সারা অনবরত দুই হাত কচলাচ্ছে। সানি সারার হাতের দিকে তাকায়। তার মুখের ভঙ্গি আর কর্মকান্ড দেখে বুঝতে পারছে সারা কিছু বলতে চাইছে। কিন্তু কিছু একটা জড়তার কারনে বলতে পারছে না সে। সানি সারার দিকে তাকিয়ে বলে,,
” কিছু বলবি। ”
সারা বলতে গিয়ে ভীষণ দ্বিধা বোধ করছে। তার বাবার কথা বলতে গিয়েও পারছে না। সারা অনেকটা ইতস্তত নিয়ে বলে,,
” আপনি বাবার কথায় মন খারাপ করেছেন। ”
সারার প্রশ্নে সানি স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে সারার দিকে। মেয়েটা সত্যি বড় হয়ে গিয়েছে। আগে নিজের জেদ টাই দেখতো এখন অন্যের মন খারাপ প্রসঙ্গ খেয়াল রাখছে। সানি সারার দিকে তাকিয়ে শুকনো ঢোক গিলে। সারা ভীষণ সংকচ নিয়ে মাথা নিচু করে রয়েছে। তাই সানির এই দৃষ্টি পরখ করতে পারছে না। যদি পরখ পারতো তাহলে এই দৃষ্টির চাপা অসহায়ত্ব বুঝতে পারতো।
সানি কিছু সময় নিশ্চুপ থেকে মৃদুস্বরে হেঁসে উঠে। সানির মৃদু হাঁসির শব্দ শুনে সারা অবাক হয়ে সানির দিকে তাকায়। এই মানুষকে তো হাঁসির কোনো কথা বলে নি। তাহলে এমন হাঁসছে কেন। ভীষণ অদ্ভুত লাগছে সারার কাছে। সানি হাঁসি মুখে জবাব দেয়,,
” বড় মামার কথায় মন খারাপ কেন করবো। তিনি এই বাড়ির বড় তাই দুশ্চিন্তাও একটু বেশি। আর শাসন, দুশ্চিন্তা তারাই করে যারা ভালোবাসে আর হারানোর ভয় করে। বড় মামা এমনই, তার ভালোবাসা এমনি ওনার শাসনের মাঝে ভালোবাসা। মুখ ফুটে ভালোবাসা ব্যক্ত করতে পারেন না তিনি। অতিরিক্ত দুশ্চিন্তায় এমন রাগ দেখিয়েছি। আমি এসব বুঝি তাহলে মন খারাপ কেন করবো। ”
সারা অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সানির দিকে। কত সহজে কথা গুলো বলে ফেললো।বিন্দুমাত্র খারাপ লাগে নি তার। এ কেমন মানুষ। সারা কোনো ভাবান্তর না করেই ঘোরের মাঝে বলে বসলো,,
” আপনি কি মানুষ। খারাপ সবারই লাগার কথা। এটা অস্বাভাবিক বিষয় নয়। আপনি সত্যি ভীষণ অদ্ভুত মানুষ। আপনার জায়গায় আমি হলে রাগে সেখান থেকে উঠে যেতাম। আর আপনি চুপচাপ বসে খাবার খেলেন। ”
সানির চিন্তা ধারা পালটে গেলো। সারার এখনও বড় হয় নি। তার বাঁচ্চামো স্বভাব, বদমেজাজি, রাগ, জেদ এখনও আছে। তার ধৈর্য্য শক্তি নেই। কিন্তু সারার ধৈর্য্য সানির ভীষণ প্রয়োজন। সারা ধৈর্য্য না ধরলে, বদমেজাজি, রাগ, জেদ না ত্যাগ করলে সানি যে হেরে যাবে। খুব বাজে ভাবে হেরে যাবে সে।
সানি সারার দিকে তাকিয়ে দীর্ঘ শ্বাস ফেলে বলে,,
” একটা কথা কি জানিস সারা একটা সম্পর্কে কে কাকে কতটা ভালোবাসে সেটার থেকে গুরুত্বপূর্ণ কে কাকে কতটা বুঝে। এই বুঝা পরায় সম্পর্ক গড়ে আবার সম্পর্ক ভাঙ্গে। ভালোবাসায় সম্পর্ক গড়ে ঠিকি কিন্তু টিকে থাকার জন্য প্রয়োজন বুঝা পরা, বিশ্বাস,ত্যাগ, ধৈর্য্য আর অপেক্ষা। এছাড়া সম্পর্কে বিচ্ছেদ অনিবার্য। যেকোনো সম্পর্ক বাবা মার সাথে সন্তান, ভাই বোন, আত্নীয়তা, বন্ধুত্ব, প্রেমিক প্রেমিকা, স্বামী স্ত্রী সকল সম্পর্ক স্থায়িত্ব বুঝা পরায়। আর আমি এসব বুঝি। আমার উপর সব সময় কেউ সন্তুষ্ট থাকবে এমন কোনো কথা নেই। আমি ভুল করতেই পারি আমার উপর রেগে যেতেই পারে। একটা মানুষের ভালোবাসা যেমন সাচ্ছন্দ্যে মানুষ গ্রহন করে তেমনি রাগ, অভিমানও গ্রহণ করতে হয়। এখানে মনমালিন্যতা বাড়িয়ে নিজের মনের অশান্তি বাড়িয়ে লাভ আছে। মনে যত অশান্তি, মন তত ক্লান্ত, তত মনের ব্যধি বুঝতে পেরেছিস। ”
সারা অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে মানুষটার দিকে। মানুষটিকে যত দেখে, মানুষটার যত কথা শুনে তত অবাক হয় মেয়েটা। একপ্রকার জোর করে মেয়েটার মনে জায়গায় দখল করে নেয়। মানুষটার বাচন ভঙ্গি, চিন্তা ভাবনা এতো সুন্দর কেন? না চাইতেও তার হৃদয়ে গভীর ভাবে দাগ কেটে যায়।
সারাকে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে সারার চোখের সামনে তুড়ি মারে সানি। সারার সঙ্গে সঙ্গে ঘোর কেটে যায়। একটু নড়েচড়ে বসে সারা। সানি সারার দিকে তাকিয়ে বলে,,
” কি মেয়েরে তুই, নিজের বাবার বিরুদ্ধে উস্কে দিতে এসেছিস। ”
সারা মিনমিনে গলায় বলে,,
” উস্কে দিলাম কোথায়। ”
” তাহলে এই সব কি ছিলো। যাই হোক কথা না বাড়িয়ে যা ঘুমিয়ে পর। আজ সারাদিন অনেক ধকল গিয়েছে কাল আবার ভার্সিটি আছে। ”
সারার আবারও ইচ্ছে না থাকা সত্ত্বেও বেরিয়ে যেতে হলো সারার। মানুষটা সত্যি পানষে, অসহ্য। মনে মনে সারা সানিকে অনেক অপবাদ দিয়ে বেরিয়ে এলো ঘর থেকে। সারার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে দীর্ঘ শ্বাস ফেলে সানি।
সাফি আয়াদ সানির ঘরের দিকে আসছিলো। পেছন থেকে সারাকে দেখলো যেতে। সাফি আর আয়াদের আন্দাজ করতে কষ্ট হলো সারা সানির ঘর থেকে বেরিয়ে এলো। আয়াদ অনেক উৎসাহ নিয়ে সানির ঘরে প্রবেশ করে এক গাল হাঁসি দিয়ে বলে,,
” গুরু কি অবস্থা চলছে হু হু ”
সানি আয়াদের কন্ঠ শুনে ভ্রু বাঁকিয়ে দৃষ্টি রাখে আয়াদের দিকে। আয়াদের হাঁসি দেখে বুঝতে পারলো সারাকে ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে দেখেছে আর সেই সুবাধে তার মুখে এমন হাঁসি। সানি নাক টেনে ভারি কন্ঠে জবাব দেয়,,
” কি অবস্থা যাবে ”
সাফি দুম করে এসে বিছানায় গাঁ এলিয়ে শুয়ে পরলো। শরীরটা তারও ভালো নেই। সাধ করে বৃষ্টিতে ভিজে নাজেহাল অবস্থা। আয়াদ সানির পাশে বসে সানির কাঁধে এক হাত রেখে মুখে দুষ্টুমির হাঁসি রেখে বলে,,
” ভালোই চলছে তাহলে গুরু হ্যাঁ, এই রাতে ঘরে। ”
আয়াদ সানির দিকে তাকিয়ে ভ্রু নাচায় কয়েকবার। সানি আয়াদের কথার ইঙ্গিত বুঝতে পেরে আয়াদের হাত তার কাঁধ থেকে সরাতে সরাতে বলে,,
” নাউজুবিল্লাহ, আস্তাগফিরুল্লাহ এ এমন অপবাদ দিবি না। বড় ভাই কিন্তু পাশে শুয়ে আছে। এভাবে বড় ভাইয়ের সামনে কলংকের দাগ লাগাবি না বলে দিলাম। আমি ভদ্র ছেলে। তুই কিন্তু বয়সের তুলুনায় বেশি পাকনা হয়ে গিয়েছিস আয়াদ। বড় ভাইয়ের সামনে কি সব অসভ্য, নির্লজ্জের মতো কথা বলিস। ”
” এ মা আমি ভুল কি বললাম, আর আমার বয়স কত ১৯ বছর বয়স এখনও কারও প্রেমে ডুব দেই নি। আর তুমি যে ১৬ বছরের বয়সে ডুব দিয়ে নাকানিচুবানি খেয়েছো আর তার বড় ভাইকে তার বোনকে বিয়ে করবে বলে প্রস্তাব দিয়েছো তাহলে কে বেশি পাকনা বলো আমায়। ”
সাফি এবার আওয়াজ করে হেঁসে উঠে। সানি আয়াদের মাথায় জোরে গাট্টা মেরে সাফিকে উদ্দেশ্য করে বলে,,
” ভাই তুমি এসব কথা একে কেন বলেছো। ছোটো দের সামনে মান সম্মান রাখলে না আমার। এ তো আমার চরিত্রে দাগ লাগাতে উঠে পরে লেগেছে। ”
সাফি হাঁসতে হাঁসতে বলে,,
” প্রেম আর কলংক একই সুতোয় গাঁথা। তোর কাছে প্রেম সমাজের কাছে কলংক। প্রেমে পরা মানে কলংকের দাগ লাগানো। কলংকের দাগ দেখে ভয় পেলে চলবে। তাই বলেছি, ওর জানা উচিত কারও প্রেমে পরে সাহসী পুরুষ হতে হয় চরিত্রহীন নয়। তার দায়িত্ব নিতে জানতে হয়, এরপর না হয় ভালোবাসা। ওর সবটাই জানা উচিত, বুঝা উচিত। যাতে আমি যা জীবনে হোঁচট খেয়েছি সে হোঁচট যেন আয়াদ না খায়। ”
আয়াদ সাফির বুকের উপর শুয়ে পরতে পরতে বলে,,
” বাহ প্রফেসর সাফি মেহতাব খান এর কি ডায়লগ। ”
সানি পাশে শুয়ে পরতে পরতে বলে,,
” এটা ডায়লগ নয় একজন পুরুষের বৈশিষ্ট্য এমনি থাকা উচিত। একটা নারীকে ভালোবাসলে তার দায়িত্ব নেওয়াটাও জানতে হয়। ভালোবাসা মুখে প্রকাশ করলেই হয় না দায়িত্ব আর যত্নের মাঝে বুঝিয়ে দিতে হয়। ”
আয়াদ দীর্ঘ শ্বাস ফেলে বলে,,
” এই দুই জ্ঞ্যানের ভান্ডার এর মাঝে আমি এক জ্ঞ্যান শুন্য মস্তিষ্কের অধিকারী। ”
সানি আর সাফি দুজনে হাঁসে আয়াদের কথায়। সানি সাফির দিকে তাকিয়ে বলে,,
” তোমার কি খারাপ লাগছে ভাই। ”
” হ্যাঁ একটু, মাথা ধরেছে ভীষণ। কিন্তু তোর তো খুব বাজে অবস্থা। ”
“‘ হ্যাঁ, যাওয়ার সময় ঔষধ নিয়ে যেও। যদি ঠান্ডা লাগে খেয়ে নিও। ”
আয়াদ কপাল কুচকে বলে,,
” আমাকে নিয়ে যাও নি তাই ঠান্ডা লেগেছে। ভালো হয়েছে। ”
সাফি আয়াদের মাথায় গাট্টা মেরে বলে,,
” আমি তোকে বলি নি, তুই তো বললি বন্ধুদের সাথে ঘুরতে যাবি।”
আয়াদ হতাশ হয়ে বলে,,
” গেলে খারাপ লাগতো, তোমাদের দুজনের কেউ আছে আমার তো নেই। ”
সাফি ধাক্কা মেরে আয়াদকে সরিয়ে দেয় তার বুক থেকে। সানি হাঁসতে হাঁসতে বলে,,
” এই বার আয়াদ সঠিক কথা বলেছে। ”
সাফি সানির দিকে ভ্রু কুচকে তাকায়। সানি আবারও বলে,,
” এখন কেন এভাবে তাকাও। সারাক্ষণ খুব তো মজা নাও আমার সাথে। ”
তিন ভাইয়ের খুনশুটি গল্প চললো কিছু সময়। তাদের দুজনের আসার উদ্দেশ্য সানির মনটা হাঁসি খুশি করা। আয়াদ ভীষণ রেগে ছিলো সাফি তাকে বুঝিয়ে শুনিয়ে সানির ঘরে এনেছে। খারাপ সাফিরও লেগে ছিলো তবে নিজেকে সামলে নিয়েছে। সে জানে তার বাবা কড়া স্বভাবের আর তার কথার ধরন এমন। শিকদার বাড়ির ক্ষোভ বরাবরই সানির উপর প্রয়োগ করে তার বাবা। সানির সাথে কথা বলে অনেকটা মন শান্ত হয়েছে দুজনেরই। তাদের তিন ভাই এর সম্পর্ক এমন কষ্ট পায় একজন কিন্তু তার কষ্টে মন খারাপ হয় বাকি দুজনের। যেন সুখ,দুঃখ, কষ্ট এক সাথে ভাগাভাগি করার শপথ নিয়েছে তারা।
সারা চুপচাপ শুয়ে আছে। তার মস্তিষ্ক জুড়ে যেন সানির বসতি। হুট করে মানুষটা এসে তার পুরো মস্তিষ্ক দখল করে নিয়েছে। তার বাচনভঙ্গি, তার ব্যাক্তিত্ব, তার চিন্তাধারা , তার ধৈর্য্যশক্তি বরাবরই মুগ্ধ করে তাকে। তার গাঢ় দৃষ্টি এতটা প্রখর দীর্ঘ সময় সেই দৃষ্টির দিকে তাকিয়ে থাকা তার ক্ষমতা নেই। তার সাথে সময় কাটাতে ভালো লাগে, তার নিকটে যেতে ভালো লাগে, তার সঙ্গ চায় কিন্তু সেই মানুষটা তার আশেপাশে ভিড়লে মনে এক অসম্ভব ঝড়ের তোলপাড় সৃষ্টি হয়। তার বেগ এতটা যেন ছুটে চলে আসতে চায় সেই মানুষটার থেকে। আবার দূরে সরে আসলে সেই মানুষটার চিন্তা মস্তিষ্ক যেন ঘুমাতে দেয় না। এটা যেন এক ভয়ংকর যন্ত্রণা। কারও কাছে নিজের এই যন্ত্রনা দায়ক অনুভুতির কথা বললে সবার কাছে হাঁসির খোরাক হবে সে, এটা সে ঠিকি জানে। কিন্তু লোকের কাছে হাঁসির হলেও তার কাছে যে ভীষণ যন্ত্রনা দায়ক এটা কাকে বুঝাবে সে। তেরো বছর বয়সে ভালো মন্দ বুঝে কি সে। এটা ভালো লাগা। যদি ভালো লাগা হয় তাহলে আর কেন দ্বিতীয় পুরুষের দিকে তার দ্বিতীয় বার নজর পরলো না। কারও যত্ন, কারও বাচনভঙ্গি, কারও ব্যাক্তিত্ব কেন তার মস্তিষ্কে জায়গা করে নিলো না। ছয় বছর পর আবারও সেই একই মানুষ এর যত্ন, বাচনভঙ্গি, ব্যাক্তিত্ব তার মস্তিষ্ক খুব সহজে জায়গা করে নিলো। এটা কি এখনও বয়সের দোষ, নাকি তার অনুভূতির দোষ। কিন্তু এই অনুভূতিকে সে তো প্রশ্রয় দিতে চায় নি। তাহলে কেন এমন অস্থিরতা। এই মুহুর্তে একটা উক্তি সারার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে,,
” মরার আগে আর একবার মরতে চাইলে কাউকে নিজের থেকে বেশি চেয়ে দেখো,কারও মায়ায় আটকে যেও। ”
সারার চিন্তার বিচ্ছেদ ঘটে ফোনের শব্দে। সারা দীর্ঘ শ্বাস ফেলে ফোন হাতে নিয়ে দেখে আরহির ফোন। সারা ফোন তুলে বলে,,
” আসসালামু আলাইকুম ”
” ওয়ালাইকুম আসসালাম ”
সারার কন্ঠটা ভীষণ ভারি, সব সময় তার কথায় যেমন উৎফুল্লতা থাকে আজ কেমন মনমরা মতো। আরহি কিছুটা চিন্তিত হয়ে সারাকে প্রশ্ন করে,,
” কি হয়েছে জানু। তোর কন্ঠ এমন শুনাচ্ছে কেন? সব কিছু ঠিক ঠাক তো। ”
সারা জোরপূর্বক হাঁসার চেষ্টা করে বলে,,
” কই কিছু না তো। আজ তো অনেক ঘুরলাম মন খারাপ হওয়ার প্রশ্নই আসে না। ক্লান্ত তাই হয়তো এমন কন্ঠ লাগছে। ”
” সত্যি।”
” আরে হ্যাঁ জানু সত্যি। ”
আরহি আর প্রসঙ্গ বাড়ালো না।
” এই ছবি গুলো দে না জানু। ”
বাড়ির এতো কিছুর মাঝে ছবি নেওয়ার কথা সে ভুলেই গিয়েছিলো। অন্য দিন হলে আগে ছবিই নিতো সারা। কিন্তু আজ এতো কিছুর মাঝে ভুলেই গিয়েছে। আসলে মানুষ পরিস্থিতির চাপে বাধ্য হয়ে স্বভাব পরিবর্তন হয়। আজ কিছুটা উপলব্ধি করতে পারছে সারা।
” ইশ রে জানু, আমি তো ভাইয়ের থেকে নিতে ভুলে গিয়েছে। ছবি তো সব ভাইয়ের ফোনে তোলা। ”
” তুই একটু নিয়ে দে না আমাকে। ”
” না আমি এখন অনলাইন এ যাবো না। খুব ঘুম পাচ্ছে আমার। তুই ভাইয়ের কাছে চাইতে পারছিস না। ”
আরহি বেশ অবাক হলো। দুজনের স্বভাব এ ক্ষেত্রে এক। ছবি তুললে দুজনেই দেখার জন্য অস্থির হয়ে পরে। আজ মেয়েটার কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। আরহি কৌতূহল নিয়ে বলে,,
” কি হয়েছে সত্যি করে বলতো তুই। অন্য দিন হলে তো তুই ছবি নেওয়ার জন্য পাগল হয়ে যাস। অথচ আজকে কি হলো তোর।”
” আমি ভাইয়ের ফোনে আগেই ছবি গুলো দেখেছি কিন্তু নিতে ভুলে গিয়েছি তাই কোনো ইন্টারেস্ট নেই। তুই ভাইয়ের থেকে নে না। ছবি তো চাইবি, ভাইকি তোকে খেয়ে ফেলবে নাকি। তুই একটু বেশি ভয় পাশ আমার ভাইকে। এতো সুন্দর ঘুরতে নিয়ে গেলো থ্যাংকস তো জানানো উচিত তোর। এতো ভাব কেন তোর? ”
আরহি বুঝতে পারছে, ফোন না রাখলে সারার এ ভাষন দীর্ঘ সময় চলবে। আর এ ভাষন শুনতে শুনতে তার কান ব্যথা হয়ে গিয়েছে। আর শুনতে চাইছে না সে।
তাই আরহি চটজলদি বলে উঠে,,
” ঠিক আছে ঠিক আছে আর বলতে হবে না। আমি নিচ্ছি তোর ভাইয়ের থেকে। ”
সারা হাঁসি মুখে বলে,,
” আচ্ছা জানু, আল্লাহ হাফেজ। ”
সারা মুচকি হেঁসে ফোনটা রেখে দিলো। সারা এমনটাই চেয়ে ছিলো। দুজনকে বেশ ভালো লাগে তার।
আরহি ফোন হাতে নিয়ে ভাবতে লাগলো, সারা তো ভুল কিছু বলে নি মানুষটা ঘুরে নিয়ে আসলো ধন্যবাদ জানানো প্রয়োজন।বিষয়টি কেমন অভদ্রতা দেখায়। কিন্তু মানুষটার সাথে কথা বলতে তার ভয় লাগে। সে নিজেও জানে না এতটা কেন ভয় লাগে। হয়তো তার গম্ভীর আচরণ এর জন্য। আরহি ফোনের দিকে তাকিয়ে দেখে রাত ১১ টা বাজবে। এতো রাতে মেসেজ দেওয়া ঠিক হবে। এতোক্ষণ ব্যস্ত থাকায় এসব কথা মাথায় আসে নি। ভাবলো মেসেজ দিয়ে রাখবে যদি জেগে থাকে তাহলে জবাব দিবে আর না হলে নেই। মনে সাহস নিয়ে মেসেঞ্জারে সাফি মেহতাব খান এর আইডি তে গেলো আরহি। এতোদিন প্রোফাইল খুব বেশি মনোযোগ দিয়ে না দেখলেও আজ দেখলো সে। কালো শার্ট আর প্যান্ট পরে চেয়ারে বসে আছে। ভালো ভাবে মনোযোগ দিয়ে দেখলো ছবিটা এটা তার কেবিনে তোলা ছবি। ছবিতেও মুখে হাঁসি নেই কেমন গম্ভীর একটা ভাব। হুট করে আজকের দিনের কথা মনে পরলো, মানুষটার হাঁসি কি সুন্দর। মুহুর্তে নিজের মাথায় নিজেই গাট্টা মারে সে। এসব কি ভাবছে সে। আরহি দেখলো সাফি মেহতাব খান আইডিতে সবুজ বাতি জ্বলছে এখন। তারমানে সে অনলাইন এ এসেছে। আরহি নিজের চিন্তা ভাবনা দূরে টেলে দিয়ে মেসেজ দিলো সাফি কে,,
” আসসালামু আলাইকুম স্যার ”
সাফি সানির ঘর থেকে মাত্র এসে বিছানায় শুয়ে ফোন হাতে নিয়ে অনলাইনে এসেছে। আরহি জান্নাত সামনে আসাতে অবাক হলো সাফি। এই রাতে আরহি তাকে মেসেজ দিয়েছে। মেয়েটার আজ সাহস দেখে অবাক না হয়ে পারলো না। দু দন্ড দাঁড়িয়ে তার সামনে কথা বলার সাহস নেই, রাত ১১ টায় তাকে মেসেজ দিয়েছে।
সাফি অল্প কিছুটা সময় নিয়ে জবাব দেয়,,
” ওয়ালাইকুম আসসালাম ”
আরহির বুক এবার ভীষণ ভাবে কাঁপছে। নিজের এমন অদ্ভুত কর্মকাণ্ডে নিজেই বিরক্ত হয়ে যায় আরহি মাঝে মাঝে। আরহি সাহস জুগিয়ে লিখে,,
” ধন্যবাদ স্যার। ”
সাফি আরহির মেসেজ পড়ে মুচকি হাঁসে। সাফি মুচকি হেঁসে আরহিকে বিম ভ্রান্তিতে ফেলতে জবাব দেয়,,
” এতো রাতে ধন্যবাদ দিতে মেসেজ দিয়েছো। ”
সাফি আরহিকে না দেখেই উপলব্ধি করতে পারছে আরহির ভীতু মুখটা। নিশ্চয়ই এই মুহুর্তে মেয়েটার হাত কাঁপছে, ভয়ে মুখটা শুকিয়ে গিয়েছে। আরহির এই ভীতু মুখটা ভীষণ ভালো লাগে সাফির। খুব মিস করছে এখন, এই মুহুর্তে যদি তাকে স্ব চোখে দেখতে পারতো। তবে তার কল্পনার জগৎ এ আবিষ্কার করলো আরহির ভীতু মুখটা। সাফি ধারণা সত্যি আরহির ভয়ে হাত কাঁপছে, গলাটাও শুকিয়ে গিয়েছে। আরহি জিহবা দিয়ে ঠোঁটটা ভিজিয়ে নিলো। সারার কথায় আবেগে পরে কেন যে মেসেজ দিতে গেলো সে। আসলে আবেগ জিনিসটা সত্যি ভালো না। কি জবাব দিবে এবার। আরহি শুকনো ঢোক গিলে কাঁপা কাঁপা হাতে হাতে লিখে,,
” আসলে ব্যস্ত ছিলাম অনেকটা। মা সারাদিন কাজ করেছে একা, অনেকটা ক্লান্ত। তাই রাতের কাজ একা করতে গিয়ে দেরি হয়ে গেলো। সরি স্যার রাতে মেসেজ দেওয়ার জন্য। ”
সাফির কপাল কুচকে এলো। একটা মানুষ এতো সরি কিভাবে বলতে পারে। সাফি বেশ বিরক্ত হলো। এরপর সাফি জবাব দিলো,,
” আমি কি তোমাকে বলেছি তুমি ভুল করেছো। তাহলে সরি বলছো কেন? যাই হোক ধন্যবাদ দেওয়ার কিছু নেই। অনেক রাত হয়েছে ঘুমিয়ে পড়ো এখন। ”
আরহি যেন প্রান ফিরে পেলো।আরহি এবার সাহস নিয়ে লিখে,,
” স্যার ছবি গুলো দেওয়া যাবে। ”
সাফি এবার আরহির মেসেজ দেওয়ার রহস্য বুঝতে পারলো। সারার হয়তো বলেছে। নয়তো আরহি তাকে মেসেজ দিবে এটা আসলে অসম্ভব ব্যপার।
সাফি দীর্ঘ শ্বাস ফেলে বলে,,
” তোমার হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বার দাও। ডকুমেন্ট করে দেই নয়তো ক্লিয়ার ছবি যাবে না। ”
আরহি সাফিকে হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বার দেয়। যদিও সাফির কাছে আগে থেকেই ছিলো কিন্তু আরহিকে বিষয় গুলো নিয়ে ভাবাতে চাচ্ছে না সে। আরহি ফোন নাম্বার দিতেই মিনিট খানেক ভেতর আরহির হোয়াটসঅ্যাপ এ তাদের ছবি গুলো দেয়। আবার কিভেবে ছবি গুলো সারাকেও পাঠিয়ে দেয়। আরহি ছবি গুলো ভীষণ খুশি হয়ে যায়। আরহি আবারও মেসেজ লিখে,,
” ধন্যবাদ স্যার।”
সাফি আবারও দীর্ঘ শ্বাস ফেলে জবাব দেয়,,
” ঠিক আছে। ”
সাফি কিভেবে আবারও মেসেজ লিখে,,
” কারও সামনে নিজেকে ছোট করতে নেই, নিজেকে এতো দূর্বল ভাবতে নেই। মানুষ দূর্বলতার সুযোগ নিতে খুব ভালোবাসে। তাই কাউকে সুযোগ করে দিতে নেই। একটু স্ট্রং হওয়া প্রয়োজন বুঝলে। ঠিক আছে বেশি রাত জেগো না, ঘুমিয়ে পড়ো তাড়াতাড়ি। আল্লাহ হাফেজ। ”
সাফির মেসেজ পড়ে অনেক অবাক হলো আরহি। হুট করে এসব বলার কারন খুঁজে পেলো না সে। বিস্মিত হয়ে জবাব দিলো,,
” আল্লাহ হাফেজ ”
আরহি বেশ কিছুক্ষন সময় সাফির কথা ভাবলো। কোনো জবাব না পেয়ে সে প্রসঙ্গ বাদ দিয়ে ছবি দেখায় মনোযোগ দিলো সে। তবে অদ্ভুত বিষয় হলো আজ সে নিজের ছবি দেখায় ব্যস্ত না হয়ে পরে বার বার চোখ আটকে যাচ্ছে সাফির হাস্যজ্বল মুখটাতে। প্রতিটি ছবিতে সাফি তার পাশে দাঁড়িয়ে। বার বার জুম করে দেখছে সে। নিজের এমন অদ্ভুত কান্ডে তড়িৎ গতিতে ফোনটা পাশে রেখে দিলো সে। বার বার সাফির কথা গুলো কানে বাজছে। তাদের নিয়ে মাঝির বলা উক্তি গুলো কানে বাজছে। আরহি দুই হাতে কান চেপে ধরলো সে। উফ, ভীষণ অসহ্য লাগছে তার। আরহি জোরে জোরে শ্বাস নিয়ে নিজেকে শান্ত করে ঘুমানোর চেষ্টা করছে।
সারা এদিক ওদিক ফিরছে ঘুম নেই। বিরক্ত হয়ে ফোন হাতে নিলো সে। ফোন হাতে নিয়ে অনলাইন যেতে পরপর অনেক গুলো মেসেজ হোয়াটসঅ্যাপ। মেসেজ গুলো গিয়ে দেখে আজকের ছবি পাঠিয়েছে তার সাফি ভাই। সারা ছবি গুলো খুবই মনোযোগ দিয়ে দেখছে। সানির সাথে তার ছবি গুলো দেখে নিশ্বাস কেন জানি ভারি হয়ে এলো। দীর্ঘ শ্বাস ফেলে ছবি গুলো দেখতে লাগলো কয়েকবার। এরপর সারার একা একটা ছবি দেখতে পেলো নৌকা বসে রয়েছে সে। এই একটা ছবি একা তুলেছে সে। বাকি সব ছবি দলবদ্ধ ভাবে। সারা বিষন্ন মন নিয়ে ফেসবুকে যায়। এরপর ছবিটা পোস্ট করে। ক্যাপশনে লিখে,,
” নদীর স্রোতে মিলিয়ে যাচ্ছে আমার হাঁসি ও অশ্রু—যেখানে সর্বদা তুমি আমার সাথে, অথচ তাকে আমি কখনও ধরতে পারি না। ”
চলবে_____
[ বিঃদ্রঃ গল্পটা সম্পূর্ণ কাল্পনিক রোমান্টিক গল্প।
বাস্তবতার সাথে মিলাবেন না। ]

