আমরন_চেয়েছি_তোমায়
লেখায়_সুরাইয়া_নওশিন
১০
এক বিষাদময় যন্ত্রণা, এক ভয়ানক অস্থিরতা নিয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করে সারা।
সকলের সামনে হাঁসি খুশি থাকলেও রাত যত গভীর হতে থাকে সানির বুকটা তত ভারি হয়ে আসে। হাজারো দুশ্চিন্তা যেন মস্তিষ্কের নিউরনের ব্যথা বাড়িয়ে দিচ্ছে। চোখ যেন ঘুমাতে পারছে না, চোখের কোনে ভীড় করে আসা অশ্রুর জন্য। মাথা এক হাত রেখে অপর হাত তার বক্ষে রেখে খোলা জানালা দিয়ে তাকিয়ে আছে দূর আকাশে। চাঁদ নেই, কিন্তু কত গুলো তারা মিটিমিটি জ্বলছে। অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র তারা রাতের আকাশে সৌন্দর্য যেন দ্বিগুন বাড়িয়ে দিয়েছে। যেন এক গাঢ় রঙে কাপড়ে স্বর্ন দিয়ে বুনা নকশা। উপরওয়ালা নিঁখুত কারিগরি কাজ। সানির চোখের কোন বেয়ে গড়িয়ে পরা পানি বিন্দু বিন্দু করে ভিজিয়ে দিচ্ছে বালিশ। সানি আনমনে দূর আকাশের দিকে তাকিয়ে বলে,,
” মিস ইউ আব্বু। খুব মিস করছি তোমাকে। আমি ফিরে যেতে চাই আমার শৈশবে। আবারও তোমার কোলে মাথা রেখে হাজারো বায়না করতে চাই। ”
সানি নিশব্দে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠে। কানে ভাসে রায়হান খান এর প্রতিটি কথা। সে কি অনিরাপদ এই খান বাড়ির সন্তানদের জন্য। কিভাবে অনিরাপদ হয় সে, এই খান বাড়ির সন্তানরা তার ভাই বোন। সাফি ভাই তাকে সে নিজের বড় ভাই মানে। তার কথা, তার উপদেশ সব সময় আদেশ রুপে বিনা জবাবদিহিতায় মেনেছে সে। আয়াদ তার স্নেহের ছোট ভাই, ওর প্রতিটা আবদার, ওর মুখের হাঁসির জন্য সব কিছু করতে পারে সে। আর আয়রা স্নেহের ছোট বোন। আর সারা সে তো তার প্রান, অস্তিত্ব, তার আত্না তাহলে কিভাবে সে অমঙ্গল হয়। তার প্রান চলে যাবে এদের কিছু হওয়ার আগে। শিকদার বাড়ির কৃত কর্মে ন্যায় অন্যায় সম্পর্কে কিছু জানে না সে। তার বাবা মানুষের সাথে কেমন আচরণ করেছে তাও জানে না। তবে এতোটুকু জানে তার বাবা রাজনীতিবিদ হোক, মাফিয়া হোক তবে তাকে সঠিক শিক্ষা দিয়েছে। সব সময় ভালো উপদেশ দিয়েছে। সব সময় উপদেশ দিয়েছে সৎ, ভালো মানুষ হওয়ার। এমনকি যেদিন তার বাবার সাথে শেষ কথা হয় ওই দিন তার বাবা তার মাথায় হাত বুলিয়ে, কপালে চুমু এঁকে বলেছিলেন,,
” আমার ছেলে সৎ,আদর্শবান ডাক্তার হবে। সমাজের সেবক হবে আমার গর্ব হবে। ”
শেষ উক্তিটি এতোটুকুই ছিলো তাকে স্কুলে পৌঁছে দেওয়ার সময় মাথায় হাত বুলিয়ে তাকে বুঝিয়েছিলেন। স্কুল থেকে ফিরে এসে দেখে বাবা জড়িয়ে আছে সাদা কাফনে। বুকে রক্ত, তিন তিনটে গুলি তার বাবার বুক ক্ষত বিক্ষত করে দিয়েছে। তার মা বাবার ক্ষত বিক্ষত দেহের পাশে বসে জ্ঞ্যান হারিয়ে ফেলেছে বার বার।সেই দিনের দৃশ্য চোখে ভাসতেই চোখ মুখ খিঁচে বন্ধ করে ফেলে সানি। যেদিন মন খারাপ হয় সেদিন ভীষণ ভাবে তার বাবার কথা স্মরণ হয়। নিজেকে তখন ভীষণ অসহায় মনে হয়। আজ যেমনটা মনে হচ্ছে। রায়হান খান এর উক্তি কানে ভাসছে তার। তার মৃত্যুতে কি কোনো যায় আসে না তার। একটুও মায়া হয় না তার। নিজেকে ভীষণ অযোগ্য মনে হচ্ছে সানির। এদিকে শারীরিক অসুস্থতা, আর এক দিকে মানসিক যন্ত্রণা এ রাত যেন কাটতেই চাইছে না।
সানি নাকটেনে ফোনটা বালিশের পাশ থেকে নেয়। উদ্দেশ্য ছিলো গল্প শুনা। সানি উপন্যাস পড়তে ভীষণ ভালোবাসে। মন খারাপ হলে উপন্যাসের বই পড়া শুরু।তার বুক সেল্ফ জুড়ে অর্ধেকটা উপন্যাসের বই আর বাকি অর্ধেক তার ডাক্তারের পড়াশোনার বই। তবে ঠান্ডা লাগার জন্য বই পড়ার শক্তি হচ্ছে না। তাই ভাবলো ফোনে কোনো উপন্যাসের গল্প শোনা যাক। বাস্তবতার শোকে কাতর হয়ে নির্ঘুম রাত পার করার থেকে অবাস্তব কল্পনার সুখে ভেসে রাত পার করে দেওয়া ভালো। আজ দুচোখের পাতা এক করতে পারবে না নিশ্চিত। এই ভেবে ফোন হাতে নেওয়া। কিন্তু কিভেবে ফেসবুকে গেলো সানি। চোখের সামনে পরলো ১ ঘন্টা আগে পোস্ট করা সারার আবেগ প্রবন স্ট্যাটাস। সানি খুব মনোযোগ দিয়ে বিরবির করে পড়তে লাগে স্ট্যাটাস টা,,
” নদীর স্রোতে মিলিয়ে যাচ্ছে আমার হাঁসি ও অশ্রু—যেখানে সর্বদা তুমি আমার সাথে, অথচ তাকে আমি কখনও ধরতে পারি না। ”
সানি চোখ জোড়া বন্ধ করে গাঢ় শ্বাস ছাড়ে। চারদিকে থেকে সকল দুশ্চিন্তা ঘিরে রেখেছে তাকে। মাথায় রাখা হাতটা কপালে আনে। এরপর কপাল চোখ বার বার হাত দিয়ে স্পর্শ করতে থাকে সে। গাঢ় দীর্ঘ শ্বাস ফেলে বলে,,
” আমি তোমাকে বুঝাতে ব্যর্থ নাকি তুমি আমাকে বুঝতে ব্যর্থ। তুমি কি আমার চোখের ভাষা বুঝো না। ভালোবাসার সুন্দর মধুর ভাষা হলো দৃষ্টি ভাষা, নিরবতার ভাষা। আমাকে হারাতে, আমাকে ব্যর্থ করতে উঠে পরে লেগেছো তুমি। ”
সানির মেজাজটাই বিগড়ে গেলো। আরও মেজাজ বিগড়ে গেলো সেই পোস্টে করা সারা বন্ধু বান্ধবের মন্তব্য গুলো দেখে। অনেক রকমের মন্তব্য। তবে যে মন্তব্য তার দৃষ্টি কটু লেগেছে কাওসার নামে আইডি থেকে,, ” বান্ধবী কাকে পাশে পেয়েও ছুঁতে পারছিস না। “। বিরক্তিতে কপাল ভাজ হয়ে আসে সানির। সারাদিন সময় কাটানোর পর, এতো যত্নের পর এমন পোস্ট। এ মেয়েটা সত্যি কখনও তাকে বুঝবে না, সব সময় উল্টো বুঝবে আর তো জেদ রয়েছে। তার এমন আবেগ প্রবন স্ট্যাটাস এ কত বাজে মন্তব্য করছে, কেমন মজা নিচ্ছে সবাই। এসব খুবই বিরক্ত লাগছে সানির কাছে। বিশেষ করে কাওসারের এমন মন্তব্যে। সানি রেগে গিয়ে ফোনটা ছুঁড়ে মারে বিছানায়। রাগে বিরবির করে বলে,,
” একবার সব কিছু ঠিক করতে দে তারপর তোর এই আবেগ প্রবন স্ট্যাটাস দেওয়া বের করছি আমি। তোর বেশি বুঝা বার করছি আমি। আমিও দেখব কিভাবে ধরে রাখিস আমায়। ”
সানি কপাল কুচকে চোখ বন্ধ করে শুয়ে রইলো। মাঝ রাতে গাঁ কেঁপে জ্বর এলো সানির। এতো রাতে কাউকে ডেকে আরও ঘুম নষ্ট করতে চাইছে না সে। এদিক ওদিক ফিরে রাত পার করলো। আজ রাত তার জন্য অনেক দীর্ঘ ছিলো। ভোর সকালে আরও বারে জ্বরের তীব্রতা। ভোর সকালে ফজরের নামাজ পরে শায়লা বেগম আসলেন সানির ঘরে। বিছানায় কমফোর্ট জড়িয়ে আপাদমস্তক সম্পূর্ণ ঢেকে শুয়ে আছে সানি। তার ছেলে তো এখন শুয়ে থাকার নয়। বুঝতে বাকি রইলো না অসুখ বেরেছে।ভোরের একটু আগে চোখ লেগেছে সানির। শায়লা বেগম সানির পাশে বসে কমফোর্টটা সরিয়ে সানির মুখটা বের করলেন। চোখে আলো পরতেই কাঁচা ঘুম ভেঙে যায় সানির। চোখ মুখ কুচকে তাকায় সে, জ্বরের কারনে চোখ জোড়া লাল হয়ে আছে ভীষণ। শায়লা বেগম আঁতকে উঠলেন ছেলের এমন চেহারা দেখে। কপালে হাত দিয়ে দেখলেন ভীষণ জ্বর। শায়লা বেগম আতংকিত কন্ঠে বলে উঠলেন,,
” এ কি বাবা তোর না ভীষণ জ্বর। কখন এলো ডাকবি না আমাকে। ”
সানি ঘুম জড়ানো কন্ঠে বলে উঠে,,,
” তেমন কিছু না মা ”
শায়লা বেগম রাগি কন্ঠে বলে উঠলেন,,
” জ্বরে গাঁ পুড়ে যাচ্ছে আর তেমন কিছু না। দাঁড়া আমি মাথায় পানি দিয়ে দেই। ”
শায়লা বেগম পাত্রে করে পানি আনলেন। চোখে মুখে চিন্তার ছাপ স্পষ্ট। সানির গাঁ ভালোভাবে মুছে দিচ্ছেন তিনি। এরি মাঝে শাহানা বেগম, নূর জাহান বেগম ও আসলেন। সাফির হাল্কা ঠান্ডা লেগেছে খুব বেশি ঠান্ডা লাগে নি। হয়তো লাগতো কিন্তু সানির দেওয়া ঔষধ আগেই খেয়ে নিয়েছে সে। ভার্সিটি, অনলাইনে ক্লাস, অফিসের কাজ কত কাজ পরে আছে। এ সময় অসুস্থ হলে মাঠে মারা যাবে সে।এতো কাজ কে সামলাবে। অসুস্থ শরীর নিয়ে তার করতে হতো তার। সাফি সানির খোঁজ নিতে এসে দেখে জ্বরে পরে আছে। আর তাকে ঘিরে বসে রয়েছে এ মহিলা সদস্য গন। সাফি ঘরে প্রবেশ করে সানির খোঁজ নিলো। সাফিকেও নাক টানতে দেখে আরও এক দফায় কথা শুনতে হলো দুজনকে এক সাথে। সাফিও সব কথা মাথা নিচু করে শুনে তাদের অভিমান ভেঙে নিজের ঘরে আসলো। ভার্সিটিতে যেতে হবে তার। এর আগে সকালে একটা অনলাইনে ক্লাস আছে সেটা নিয়ে নিবে। ব্যস্ততায় দিন কাটে তার। শায়লা বেগম শাহানা বেগম আর নূর জাহান বেগমকে বললেন বাড়ির সকলের খাবারের ব্যবস্থা করতে। এদিকটা সে সামলে নিবে। সকাল সকাল সবাই বেরিয়ে যায়, না খাইয়ে কাজে তো পাঠানো যায় না। তাই বাধ্য হয়ে চলে গেলেন সংসার এর কাজে।
রাতে ঠিক ভাবে ঘুম না হওয়ায় সকালে দেরি করে ঘুম ভাঙ্গে সারার। ইদানীং সব কিছু এলোমেলো তার। সারা ঘুম থেকে উঠে নামাজ আদায় করে চলে গেলো সাফির ঘরে। উদ্দেশ্য আজ সে ভার্সিটিতে যাবে না। আরহিকে যেন ভার্সিটিতে নিয়ে যায়। তার ভার্সিটিতে যাওয়ার একদম ইচ্ছে নেই আজ। আরহি তো যাবেই সব তথ্য ওর থেকেই নেওয়া যাবে। এই উদ্দেশ্যে সাফির ঘরে প্রবেশ করে সারা। সাফি অনলাইন ক্লাসের জন্য মাত্র প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই মুহুর্তে সারার আগমন। সাফি সারাকে দেখে বলে উঠে,,
” কি ব্যাপার বইনা এতো সকাল ভাইয়ের ঘরে। নিশ্চয়ই কোনো মতলব রয়েছে। ”
সারা মুখ বাঁকিয়ে বলে,,
” আমি কি মতলবে তোমার ঘরে আসি। ”
সাফি মুচকি হেঁসে বলে,,
” সব সময় মতলবে না আসলেও এতো সকালে আসলে কোনো না কোনো মতলবেই আসিস। তাই বাহানা বাদ দিয়ে বল কি হয়েছে? ”
সারা মিনমিনে গলায় বলে,,
” আজ আমি ভার্সিটিতে যাবো না। তুমি শুধু আরহিকে নিয়ে যাও। একদিন ভার্সিটি না গেলে কি হবে। ”
সাফি সারার দিকে তাকাতেই সারা করুন কন্ঠে বলে উঠে,,
” প্লিজ প্লিজ ভাইয়া, প্লিজ ”
সাফি বোনের এমন অনুরোধ দেখে চাইতেও বারন করতে পারলো না।
” ঠিক আছে ”
সারা খুশি হয়ে সাফির দিকে এগিয়ে এসে জড়িয়ে ধরে বলে,,
” থ্যাংকস ভাইয়া। ”
সাফি হাঁসি মুখে সারার মাথায় হাত রেখে বলে,,
” বাপ রে আর এতো ভালোবাসা দেখাতে হবে না বইনা আমার। ”
সারা মুখ তুলে সাফির দিকে তাকায়, আহ্লাদী কন্ঠে বলে,,
” আমি আমার ভাইকে ভালোবাসি তাহলে দেখাবো না কেন? ”
সাফিকে নাক টানতে দেখে সারা কপাল কুচকে বলে,,
” তোমারও ঠান্ডা লেগেছে। ”
” হাল্কা ঠান্ডা লেগেছে সেরে যাবে। কিন্তু সানির যা অবস্থা অনেক জ্বর এসেছে। ”
সারা আতংকিত কন্ঠে বলে উঠে,,
” সানি ভাইয়ের জ্বর এসেছে। ”
” হুম তুই জানিস না। তুই বরং সানির ঘরে যা, আমি অনলাইন এ ক্লাস নেই। ”
” ঠিক আছে ”
সারা চিন্তিত হয়ে সানির ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে কড়া নাড়ে,,
” সানি ভাই”
শায়লা বেগম জবাব দেয়,,
” ভেতরে আয় সারা। ”
সারা ধির পায়ে এগিয়ে গেলো বিছানার দিকে। সানি একবার ঘুরে সারা দিকে তাকায়। চোখে চোখ পরে দুজনের। সানি তার চোখ সরিয়ে নেয়। সারার উপর ভিষণ মেজাজ বিগড়ে আছে তার। ছেলে মেয়ের এতো খোলা মেলা মেলামেশা একদম পছন্দ নয় তার। সারা সুযোগ না দিলে একটা ছেলে এই ভাবে মন্তব্য করার সাহস পায় না। সারা তাকিয়ে আছে সানির দিকে, সানির রোগা চেহারা দেখে বুকটা কেঁপে উঠছে সারার। শায়লা বেগম সারাকে উদ্দেশ্য করে বলে,,
” দেখ দুই ভাইয়ের কান্ড দুটোই অসুখ বাঁধিয়ে বসে রয়েছে। ”
সারা যেন সুযোগ পেয়ে গেলো। শায়লা বেগম এর সঙ্গে তালে তাল মিলিয়ে বলে,,
” আমি বলেছিলাম মামনি আপনার ছেলেকে যেন বৃষ্টিতে না ভিজে, অসুখ হবে উল্টো আমাকে ঝাড়ি মেরে চুপ করে রেখেছিলো।”
সানি আর এক দফায় কথা শুনলো শায়লা বেগম থেকে। সানি কপাল কুচকে সারার দিকে তাকিয়ে মনে মনে বলে,,
” মিথ্যুক ”
সারা এক নজর সানির দিকে তাকিয়ে নিজের মুখ ঘুরিয়ে নিলো কিছুটা ভাব নিয়ে। শায়লা বেগম কিছু সময় বকে সারাকে আবারও উদ্দেশ্য করে বলে,,
” মা তুই একটু মাথায় পানি দিয়ে দে। আমি খাবার আনি এরপর ঔষধ খাইয়ে দেই। ”
সারা হতভম্ব হয়ে গেলো। সে সানির মাথায় পানি দিবে। সারা অপ্রস্তুত হয়ে বলে,,
” আমি। ”
” দে মা একটু কষ্ট করে। আমি এখনি চলে আসবো। ”
সারা সানির মুখ পানে তাকায়। সানির প্রতিক্রিয়া দেখতে চায় সে। কিন্তু মানুষটার মুখে কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। একদম স্বাভাবিক ভাবে শুয়ে রয়েছে। ততক্ষণে শায়লা বেগম উঠে দাঁড়িয়েছে। শায়লা বেগম আবারও বললেন,,
” আমি এক্ষুনি চলে আসছি। ”
শায়লা বেগম চলে যেতে ধির পায়ে এগিয়ে গিয়ে বিছানা ঘেষে ধারালো। সানি চুপচাপ শুয়ে আছে। সারার কর্মকান্ড দেখছে সে আড়চোখে। সারা ধীর পায়ে এসে অনেকটা দুরত্ব রেখে বসলো বিছানায়। সানির রোগা মুখের দিকে তাকিয়ে নরম কন্ঠে বলে,,
” আপনার অনেক খারাপ লাগছে তাই না৷ ”
সানি সারার দিকে তাকিয়ে বিরক্ত ভরা কন্ঠে বলে,,
” নাহ ভালো লাগছে। আরামে শুয়ে আছি আর সবাই কি সুন্দর সেবা করছে। ”
সানি আবার মুখ ঘুরিয়ে চোখ জোড়া বন্ধ করে নেয়। সারা অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো সানির দিকে। সানির চোখ মুখ, কথার ধরন স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছে সে তার উপর রাগ করেছে। সারা ধারণা করলো এই মুহুর্তে মিথ্যে বলার কারণে শায়লা বেগম এর থেকে কথা শুনিয়ে নিলো এই কারনে হয়তো সানি রেগে গিয়েছে তার উপর। এছাড়া রাগের তো সে কিছু করে নি। কাল পর্যন্ত সব ঠিক ছিলো। তাহলে ভোর হতে হতে এমন তো কোন কান্ড করে নি যাতে সানি রাগ করবে। সারা অসহায় কন্ঠে বলে,,
” সরি ”
সানি অবাক হয়ে চোখ মেলে সারার দিকে ঘুরে তাকায়।
এতো সহজে না জেনে, না শুনে সরি বলার মেয়ে তো সারা নয়। সারা তো জেদি, এক রোখা স্বভাবের একটা মেয়ে। ভুল হলেও সরি বলে না, সেখানে কোনো কিছু না জেনেই সরি বললে অবাক তো হওয়া স্বাভাবিক। সানি অবাক হয়ে বললো,,
” সরি কেন?”
সারা এবার সানির থেকে চোখ সরিয়ে নিয়ে মাথা নিচু করে বলে,,
” ওই তো মিথ্যে বলে মামুনি থেকে কথা শুনিয়ে নিলাম। এই জন্য আপনি রাগ করেছেন আমার উপর আর এই ভাবে কথা বলছেন আমার সাথে। ”
সানি সারার কথায় দীর্ঘ শ্বাস ফেললো। এই মেয়েটার উপর রাগ দেখিয়ে লাভ নেই। বরং উল্টো বুঝবে আর পাঁচ গাল বানিয়ে ঘরে বন্দী হয়ে থেকে নিজেকে কষ্ট দিবে। এসব একদম ভালো লাগে না সানির। সারার মতো তারও অবুঝ আর অধৈর্য্য হলে চলবে না। নিজের রাগ সংযত করলো সানি। এরপর সারার দিকে তাকিয়ে বলে,,
” রাগ করি নি আমি। নে এবার মাথায় পানি দিয়ে দে আমার। চোখ জ্বলছে ভীষণ আমার।”
সানির এমন কথায় সকল জড়তা ভুলে গেলো সারা। তড়িৎ গতিতে সানির মাথায় পানি দিতে লাগলো। মানুষটার জন্য ভীষণ খারাপ লাগছে তার। সারার উরুর উপরে রাখা হাতটা হুট করে সানি ধরে তার নিজের কপালে রাখে। সানির গরম হাতের স্পর্শ পেয়ে পুরো শরীর কেঁপে উঠে সারার। ভিষণ জ্বর সানির শরীরে। এতোক্ষনে সানির শরীর স্পর্শ করে দেখেনি সে। সারা আতংকিত কন্ঠে বলে ,
” অনেক জ্বর না আপনার শরীরে।
” ঠিক হয়ে যাবে। মাথা হাত বুলিয়ে দে। এই ভাবে কেউ মাথায় পানি দিয়ে দেয়। ”
সারা এতোক্ষনে সংকোচ এর কারনে সানিকে স্পর্শ করে নি। তাদের সম্পর্ক তো জড়তায় ভরা। গতকাল কিভেবে সানি তার সাথে এই ভাবে কথা বলেছে, তার হাত স্পর্শ করেছে, তার এতো নিকটে এসেছিলো সারার জানা নেই। বিষয়টি এখনও কৌতূহল, আর স্বপ্নের মতো। সানি তো তাকে স্পর্শ করার অধিকার দেয় নি, আর তাদের মাঝে এমন কোনো সম্পর্ক না সারা বিনা হেঁচকিয়ে সানিকে স্পর্শ করবে। জড়তা, দ্বিধা কাজ করা অস্বাভাবিক কিছু নয়।
সারা সানির কথায় জবাব দিলো না। কাঁপা কাঁপা হাতে হাত বুলিয়ে দিতে লাগে সানির কপালে আর চুলে। সানি আবেশে চোখ জোড়া বন্ধ করে নেয়। অনুভব করে প্রিয় মানুষটার আলতো হাতের স্পর্শ। সারার এবার হাত কাঁপছে না বরং সুন্দর করে মাথায় পানি দিয়ে দিচ্ছে সানির। কিছুক্ষন পর সানি চোখ বন্ধ করে বলে,,
” হয়েছে আর দিতে হবে না। ভেজা চুলে আর কিছু সময় থাকলে ঠান্ডা আরও বেড়ে যাবে। ”
সানির কথায় থেমে গেলো সারা। সানি চোখ মেলে সারার দিকে তাকিয়ে বলে,,
” যা টাওয়ালটা নিয়ে আয়। মাথা মুছতে হবে। ”
সারা সানির কথা মতো উঠে গিয়ে টাওয়াল নিয়ে এসে আবারও সে জায়গায় বসে। এরপর কিছু না বলে নিজ থেকেই টাওয়াল দিয়ে সানির চুল মুছে দিতে লাগে। সানি মনে মনে নিশব্দে হাঁসে। সারা ভালো ভাবে চুল মুছে টাওয়ালটা বেলকনিতে মেলে আসে। সারা আবারও বসতেই শায়লা বেগম খাবার নিয়ে হাজির। সারাকে উদ্দেশ্য করে বলে,,
” আসতে দেরি হয়ে গেলো মা। খাবার তৈরি করা হয় নি। আমি শুধু হাল্কা খাবার নিয়ে আসলাম। যাতে ছেলেটাকে ঔষধ খাইয়ে দিতে পারি। তোর মাথায় পানি দেওয়া শেষ। ”
সানি অনেক কষ্টে দুই হাতে ভর দিয়ে উঠে বসতে বসতে বলে,,
” বেশি পানি দিলে ঠান্ডা আরও বেড়ে যাবে তাই আমি বারন করলাম। ”
” আচ্ছা ঠিক আছে। এই বার আয় আমি খাইয়ে দেই। ঔষধ খেয়ে ঘুমিয়ে পর। ”
★★★
সাফি খাওয়া দাওয়া করে ভার্সিটির জন্য বেরিয়ে পরে। এর আগে আবার সানির সাথে দেখা করতে যায়। সানিকে ঘুমাতে দেখে আর ডাক দেয় নি সাফি। সাফি আরহির দের বাসার গলির সামনে দাঁড়ায়। হাল্কা গোলাপি রঙের থ্রি- পিচ আর সাদা রঙের হিজাব বাঁধা। দাঁড়িয়ে আছে আরহি। আরহির এই ভাবে একা সাফির সাথে ভার্সিটিতে যেতে ভয় জড়তা দুটো কাজ করছে। তবে তার যেতে হবেই বারন করে লাভ নেই। সাফি তাকে ঠিকই নিয়ে যাবে। আর তার পরিবারও সাফির উপর তার দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছে একদম। বিষয়টি তার মোটেও ভালো লাগে না।
গাড়ি থামতে দেখে আরহি পেছনে দরজা খুলতে যাওয়ার আগেই সাফি ভেতর থেকে সামনের দরজা খুলে দেয়। আরহি হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে থাকে। এখন এই মানুষটার পাশাপাশি বসে তাকে যেতে হবে। এমনিতেই কয়দিন ধরে কি সব অদ্ভুত চিন্তা ভাবনা ঘুরপাক খাচ্ছে তার মাথায়। এই মানুষটার আশেপাশে থাকতে চাচ্ছে না সে। কিন্তু ভাগ্যের ফেরে বার বার এই মানুষটার সম্মুখীন হতে হয় তার।
সাফি গম্ভীর কন্ঠে বলে,,
” ভেতরে এসো। ”
আরহি বাধ্য হয়ে মাথা নিচু করে গিয়ে সিটে বসে পরে। এরপর গাড়ির দরজা লাগিয়ে দিয়ে বলে,,
” আসসালামু আলাইকুম স্যার ”
সাফি অনেকটা দুরত্ব বজায় রেখে সিট বেল্ট লাগিয়ে দিতে দিতে বলে,,
” ওয়ালাইকুম আসসালাম ”
সাফি তার মতো ড্রাইভ করছে আর আরহি চুপচাপ বসে রয়েছে। ভীষণ বিরক্ত লাগছে তার। এই চুপচাপ বসে থাকতে আরহির একদম ভালো লাগে না। কিন্তু মানুষটার জন্য বাধ্য হয়ে চুপচাপ থাকতে হয়। যার জন্য আরও বেশি বিরক্ত মানুষটিকে। সাফিকে হাঁচি দিতে দেখে আরহি নড়ে চড়ে উঠে সাফির দিকে তাকায়।
” আপনার ঠান্ডা লেগেছে। ”
সাফি ড্রাইভ করতে করতে নাক টেনে বলে,,
” হাল্কা ”
আরহি মিনমিনে গলায় বলে,,
” এতো সময় ভেজা কাপড়ে থাকতে হবে জেনেও বৃষ্টিতে ভেজা একদম ঠিক হয় নি আপনার। ”
আরহি কথা শুনে ড্রাইভ করতে করতে সামনে তাকিয়ে ভ্রু বাঁকালো সাফি। আরহির কথার মুখ ফুঁটেছে তার সামনে একটু বিস্মিত হলো সাফি। সাফি ড্রাইভ করতে করতে বলে,,
” অনেক দিন পর এমন পরিবেশ তাই লোভ সামলাতে পারি নি। তবে সমস্যা নেই ঠিক হয়ে যাবে। হাল্কা ঠান্ডা লেগেছে। ”
হুট করে আরহির মনে পরে তার হিজাব এর কথা। সাফিকে বলবে কি বলবে না এই দ্বিধায় রয়েছে। নিজের মনে নিজেকেই শান্তনা দিলো আরহি। তার হিজাব সে চাইবে এখানে ভয়ের কি রয়েছে। এসব অতিরিক্ত ভয় খুবই বারাবারি। আরহি মনে সাহস যুগিয়ে ধীর কন্ঠে বলে,,
” আমার হিজাব ছিলো আপনার কাছে। ”
সাফি ড্রাইভ করতে করতে বুঝেও না বুঝার ভান করে বলে,,
” কীসের হিজাব ”
আরহি হা হয়ে তাকিয়ে রইলো সাফির দিকে। এক রাতের ব্যবধানে কিভাবে সব ভুলে গেলো। আর এমন মস্তিষ্ক নিয়ে এতো ভালো পরীক্ষার ফলাফল কিভাবে করলো সে। আরহি অবাক হয়ে তাকিয়ে বললো,,
” কাল যে আপনি আমার হিজাব গলায় বাঁধলেন ভুলে গিয়েছেন আপনি। ”
সাফি এবার একটু অবাক হওয়ার ভান করে বলে,,
” ওহ আচ্ছা। মনে পরেছে কিন্তু কোথায় রেখেছি ভুলে গিয়েছি। ”
মুহুর্তে কপাল কুচকে আসে আরহির। গাল ফুলিয়ে মাথা নিচু করে বসে রইলো। কোনো জবাব দিলো না। তবে মন ভরে মনে মনে বকলো সাফিকে। তবুও তৃপ্তি পাচ্ছে না। ইচ্ছে করছে আচ্ছা তারে লোকটিকে যদি বকতে পারতো। ভীষণ অসহ্য লাগছে লোকটিকে।মন চাচ্ছে সব চুল টেনে টাকলা বানিয়ে ফেলতে। সামলিয়ে যখন রাখতে পারবে না তাহলে নিয়েছে কেন দায়িত্ব। সে তো নিতে বলে নি, আগ বাড়িয়ে দায়িত্ব নিয়ে কেন এতো অবহেলা। তার পছন্দের রঙের হিজাবটা হারিয়ে ফেললো। এখন রাগে কান্না আসছে আরহির। সাফি আরহির দিকে আড় চোখে তাকিয়ে নিশব্দে মনে মনে হেঁসে ড্রাইভিং এ মনোযোগ দিলো। দুজনের মাঝে আর কোনো কথা হলো না। আরহির রাগ হলো, একবার অন্তত্য তার সরি বলা উচিত ছিলো নিজের এমন গাফিলতির জন্য। কিন্তু লোকটির মুখে কোনো অনুশোচনা নেই। গাড়ি থামতেই সিট বেল্ট খুলতে যাবে আরহি আর পারলো না। রাগে হাত কাঁপছে তার। সাফি গাড়ি থেকে নেমে দরজা খুলে আরহির সিট বেল্টটা খুলে দিলো। আরহির এই রাগী মুখটা দেখে ঠোঁট চেপে হাঁসছে সাফি। আরহির হনহন করে হাঁটা শুরু করে মাঠের সামনে দিয়ে। সাফি আরহির পেছনে পেছনে হাঁটছে আর নিশব্দে মনে মনে হাঁসছে। সাফির নজর পরে পাশে ছেলেরা ফুটবল খেলছে। আর তাদের ছুঁড়ে মারা বল আরহির দিকেই আসছে। আরহির সেদিকে খেয়াল নেই রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে হাঁটছে মেয়েটা। সাফি আরহির কনুই ধরে নিজের দিকে সরিয়ে নিয়ে আসে। হুট করে এমন আক্রমনে চমকে উঠে আরহি। ভয় পেয়ে খাঁমছে ধরে সাফির কোমড়ের দিকে শার্টের অংশটুকু। ভয়ে এখনও বুক কাঁপছে আরহি। নিশ্বাস ভারি হয়ে এসেছে। সাফি দ্রুত গতিতে আরহির কনুই ছেড়ে দেয়।এরপর ছেলেদের উদ্দেশ্য করে চেঁচিয়ে বলে উঠে,,
” সাবধানে দেখে খেলো তোমরা। ”
সাফির কথা শুনে ঘোর কাঁটে আরহির। আরহি সাফির শার্ট ছেড়ে দেয়। আরহি ভীতু ভীতু চোখে সাফির দিকে তাকায়। সাফি গম্ভীর কন্ঠে বলে,,
” আশেপাশে তাকিয়ে দেখে শুনে হাঁটতে হয়। চোখ দিয়েছে দেখার জন্য। এখন এই বলটা তোমার গাঁয়ে লাগলে কি হতো। ”
আরহি চোখ মুখ কুচকে মিনমিনে গলায় জবাব দেয়,,
” সরি ”
সাফি বিরক্ত হয়ে বলে,,
” এখানে সরি বলার কি রয়েছে। এতো সরি বলো কেন তুমি? কথায় কথায় সরি বলা না শিখে দেখে শুনে হাঁটা শিখো। যাতে কাউকে সরি বলতে না হয়। ”
আরহির সব সময় এমন সরি বলা একদম পছন্দ নয় সাফির। সাফি যা করে আরহির মুখ থেকে সরি আর ধন্যবাদ শোনার জন্য নয়। সাফি খুবই বিরক্ত হয়ে যায় এসবে, আরহি কবে তাকে বুঝবে। তার সঙ্গে নির্দ্ধিধায় কথা বলবে, তাকে ভরসা করবে। তার ভয়, তার সমস্যা সবার আগে তাকে বলবে। তার আস্থার সঙ্গি হতে চায়। সে চায় না ভয় পেয়ে, কিংবা বাধ্য তার সঙ্গে থাকুক।আরহি নিজ ইচ্ছায় তার সঙ্গ চাক।
এমন সময় একজন ছেলে এদিকে বল নিতে দৌঁড়ে আসতে আসতে বলে,,
” সরি স্যার, স্যার ফুটবল খেলা হবে খেলবেন না। ”
সাফি ছেলেটির দিকে তাকিয়ে বলে,,
” টুর্নামেন্ট তো তিনদিন পর। আজ থেকেই খেলা।”
” স্যার প্র্যাকটিস চলবে তিনদিন। রিমন স্যার বলেছে এই বার নাকি আমাদের হারিয়ে ছাড়বে।”
সাফি মুখে হাঁসি এনে বলে,,
” ওহ আচ্ছা তাই নাকি। ”
ছেলেটি বল হাতে নিয়ে বলে,,
” জ্বি স্যার তাড়াতাড়ি আসুন। আপনার জন্য জার্সি রেডি। ”
” আচ্ছা যাচ্ছি যাও। ”
আরহি ভ্রু কুচকে সেখানে দাঁড়িয়ে তাদের কথোপকথন শুনছিলো। ছেলেটি চলে গেলে আরহি সাফির দিকে তাকিয়ে বলে,,
” এ বছরেও এবারও এদের টিমে আপনি। ”
সাফি আরহির প্রশ্নে আরহির দিকে কপাল কুচকে তাকায়। গম্ভীর কন্ঠে বলে,,
” এ বছরে তুমি আমার বউ দেখেছো। ”
আরহি সাফির দিকে তাকিয়ে স্বাভাবিক ভাবে বলে উঠে,,
” আপনি তো বিয়ে করেন নি। তাহলে বউ দেখবো কিভাবে। ”
” তাহলে অবিবাহিত টিম রেখে বিবাহিত টিমে খেলবো কেন আমি। ”
কথাটি বলে সাফি সেখান থেকে হাঁটা শুরু করে। আরহি সাফির দিকে তাকিয়ে চোখ মুখ কুচকে বিরক্ত ভরা কন্ঠে বিরবির করে দাঁতে দাঁত চেপে বলে,,
” এ বছর কেন বাকি যত বছর আসবে আপনাকে অবিবাহিত টিমেই খেলতে হবে। সাতশো বছরেও বউ পাবেন না আপনি। প্যাঁচা মুখো একটা, কে বিয়ে করবে আপনাকে । ”
চলবে_________
https://www.facebook.com/share/1AYhCCqwqL/
https://www.facebook.com/share/g/1AufQdkZf8/
Follow ✓
আপনাদের কমেন্টের লাইক দেওয়ার মানে হল এই গল্পের পরবর্তী পর্বটি আসছে ,
তাই প্লিজ আপনাদের মন্তব্য জানান…
Comment…

