আমার উপমা তুমি—-১৬ (রোমান্টিক এলার্ট।) আফরোজা আঁখি

0
28

আমার উপমা তুমি—-১৬ (রোমান্টিক এলার্ট।)
আফরোজা আঁখি

কাশফিয়া দাঁড়িয়ে ছিল ওর বেলকনিতে, কথা বলে যাচ্ছিল মমীর সাথে। হঠাৎই চোখ পড়ল পাশের ফ্ল্যাটের দিকে। ওর রুমের বেলকনি বরাবর ইয়াশের রুম। কাচের জানালাটার কাছে দাঁড়িয়ে আছে ইয়াশ, এক ধ্যানে তাকিয়ে আছে কাশফিয়ার দিকে। কাশফিয়া এখানে এসেছিল সময় বেছে বেছে ফ্ল্যাটের সবচেয়ে বড় রুমটাই দেওয়া হয়েছিল ওকে। শুনেছে, এই রুমটাতে আগে ইনায়া থাকতো। ভালোই হলো, বেলকনিতে আসার বাহানায় ইয়াশের উপর নজর রাখা যাবে। কৌশিকরা এখানে আসার পর ইনায়ার আম্মু-আব্বু চলে গেছেন নিচতলায়, যেখানে আগে কৌশিক থাকতো। তবে উনারা দেখা করে যান প্রতিদিনই এসে।

কৌশিক এখন অনেকটাই সুস্থ আছে, আবারও মন দেবে নিজের কাজে। আজকেই ওর ল ফার্ম থেকে নোটিশ এসেছে, সুস্থ হলে যেন জয়েন করে আবারও। কৌশিকের ল ফার্মের এক সিনিয়র এসেছে আজ। নাম উনার রাকিব, কোনোভাবে হয়তো দেখেছে কাশফিয়াকে, কিছু না ভেবেই বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে বসেছে কৌশিকের কাছে। প্রথমে আমতা-আমতা করলেও পরে আবার সায় জানালো কৌশিক। কাশফিয়া বড় হয়েছে, বিয়ে তো ওকে দিতেই হবে! দেরি না করে বিয়েটা এখনই দিয়ে দিলে মন্দ হবে না। ছেলেটা সুন্দর, উচ্চশিক্ষিত, ভালো চাকরি করে কাশফিয়া সবসময় ভালো থাকবে ওর কাছে। কৌশিক এ বিয়েতে সম্মতি দিয়েছে দেখে রাগ হলো ইনায়ার। এ কেমন বিচার কৌশিকের! নিজে ভালোবেসে বিয়ে করলো, অথচ বোনকে জিজ্ঞেসও করল না তার কোনো পছন্দ আছে কিনা? সবচেয়ে বড় কথা, কাশফিয়া তো বিবাহিত! ইয়াশ এসব জানলে ঝামেলা বাধাবে নিশ্চিত।

————–

সকাল গড়িয়ে বিকেল হয়েছে। আকাশে মেঘ ডাকছে আজ। হুট করেই প্রকৃতি কেমন অশান্ত হয়ে উঠেছে। দরজার ঠকঠক আওয়াজে ধ্যান ভাঙে কাশফিয়ার। তাকিয়ে দেখতে পেল কৌশিক আর ইনায়াকে। কৌশিকের ঠোঁটের কোণে হাসি লেগে আছে, অথচ ইনায়ার মুখে কেমন রাগী রাগী ভাব। দুজনের মধ্যে ঝামেলা হলো কিনা বুঝতে পারছে না কাশফিয়া। ঝামেলা হলে তো আবার একসাথে আসতো না দুজনে! হয়তো অন্য কারণে রেগে আছে ইনায়া। মুখে হাসি টেনে ভাই ভাবিকে ভেতরে আসতে বলল কাশফিয়া। কৌশিক এগিয়ে এসে কাশফিয়ার হাতে কিছু শপিং ব্যাগ ধরিয়ে দিল। সেজেগুজে রেডি হতে বলল ওকে। কাশফিয়া বুঝল না কিছুই, ওরা কি কোনো অনুষ্ঠানে যাচ্ছে? নাকি বাড়িতে গেস্ট আসবে? কৌতূহলী হয়ে জিজ্ঞেস করল কাশফিয়া,

“সাজব কেন ভাইয়া? আমরা কি কোথাও যাচ্ছি?”

“না, বাসায় গেস্ট আসবে।”

“গেস্ট আসার সাথে আমার সাজগোছের কী সম্পর্ক?”

“এতো কথা বলিস না তো কাশফি, যা বলেছি তাই কর।”

ইনায়াকে কিছু বলার সুযোগ দিল না কৌশিক। কাশফিয়ার বিছানায় শপিং ব্যাগগুলো সব রেখে চলে গেল ইনায়াকে নিয়ে।

————–

ঘরভর্তি মানুষের সামনে বসে আছে কাশফিয়া। গায়ে জড়ানো একটা নীল রঙের সুন্দর জামদানি শাড়ি, তার উপর সোনালি সুতোর কাজ। কৌশিক অনেকগুলো শাড়িই এনে দিয়েছিল কাশফিয়াকে, বেছে বেছে নীল রঙের শাড়িটাই পরল সে। কারণও আছে বটে,এই রঙটা তো ইয়াশের পছন্দের! কিন্তু ইয়াশের পছন্দের রঙের শাড়ি পরেই অন্য কারো সামনে বসে আছে কাশফিয়া! এখানে এসে যা বুঝল, কৌশিক বিয়ে ঠিক করতে চাইছে ওর। বারবার বলার পরেও ছেলেটার দিকে সে তাকিয়েও দেখেনি, রাগ হচ্ছে খুব। কৌশিক না জানুক, ইনায়া তো জানে কাশফিয়া নিজের মন দিয়ে বসে আছে ইয়াশকে। তাহলে কেন এতো আয়োজন তার বিয়ে নিয়ে? তাও অন্য কারোর সাথে! ছেলের বাড়ির লোক বলল কৌশিকের উদ্দেশ্যে,

“তোমার বোনকে আমাদের ছেলের জন্য পছন্দ হয়েছে, কৌশিক। তুমি বললে আজকেই বিয়ের দিন তারিখ ঠিক করে নিতে চাই।”

ভদ্রমহিলার কথাটা বলে শেষ হলো কিনা, কিছু ভাঙার বিকট শব্দ আসল কানে। সবার চোখ গেল সদর দরজার দিকে। কাশফিয়াও তাকাল সেদিকে, নজরে আসল ইয়াশের রাগান্বিত মুখশ্রী। ইয়াশকে রেগে-মেগে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে দ্রুত উঠে দাঁড়াল সে। কৌশিক বিভ্রান্ত হলো ইয়াশের এহেন কাজে। কী এমন হলো যে ওর বাড়ি বয়ে এসে এভাবে ভাঙচুর করছে ইয়াশ? ইনায়া চুপ করেই দাঁড়িয়ে রইল রুমের এক কোণে। এরকম কিছু যে হবে আগে থেকেই জানা ছিল ওর। ইয়াশ এগিয়ে আসল কৌশিকদের কাছে, ভ্রু জোড়া কুঁচকে রাগান্বিত মুখশ্রী নিয়ে তাকাল কাশফিয়ার দিকে। কালকেই তো সব ঠিক হলো ওদের মধ্যে, কোন সাহসে উপমা ছেলেপক্ষের সামনে এসে কনের সাজে বসেছে? ইয়াশের যে রাগ হচ্ছে, ইচ্ছে করছে সবার সামনেই টেনে চড় বসাতে কাশফিয়ার গালে। এদিকে ভিতু ভিতু চাহনিতে কাশফিয়া একবার তাকাচ্ছে ভাইয়ের দিকে, তো আরেকবার ইয়াশের দিকে। কৌশিক হতভম্ব হয়ে জিজ্ঞেস করল ইয়াশকে,

“এসবের মানে কী ইয়াশ?”

“একই প্রশ্ন আমারও,এসবের মানে কী কৌশিক? আমার বিয়ে করা বউকে তুই অন্য কারো সাথে বিয়ে দিতে চাইছিস কোন সাহসে?”

চোখ মুখের ভাবভঙ্গি পরিবর্তন হয়ে গেল কৌশিকের, মনে হলো ইয়াশের কথাটা শুনে আকাশ থেকে পড়ল ও। কাশফিয়ার সাথে ইয়াশের বিয়ে হলো কবে আর কীভাবে? এই কথাগুলো তবে এতোদিন ইয়াশ বা কাশফিয়া কেউ-ই বলল না কেন ওকে? অবাকের সহিত জিজ্ঞেস করল কৌশিক,

“তোর বিয়ে করা বউ মানে? মজা করছিস ইয়াশ?”

ইয়াশ বাঁকা হাসল, পাশে দাঁড়িয়ে থাকা কাশফিয়াকে টেনে নিয়ে আসল নিজের কাছে। হাত রাখল ওর কোমরে। কাশফিয়া তাকিয়ে আছে ইয়াশের দিকে,ইয়াশও তাকাল ওর উপমার মুখপানে। আলতো করে চুমু দিল কাশফিয়ার কপালে। উপস্থিত সবাই মুখ সরিয়ে নিলেন অন্য দিকে। তরতর করে রাগ বাড়ছে কৌশিকের, বাহিরের মানুষদের সামনে ঝামেলা করবে না ভেবে কিছু বলতেও পারছে না। কিন্তু ইয়াশের এমন অসভ্যতামিতে বিরক্ত হচ্ছে কৌশিক। সবার মুখ জুড়ে বিরক্ততার চাপ থাকলেও মিটিমিটি হাসছে ইনায়া। কৌশিকের দিকে তাকাল ইয়াশ, বলল ওকে।

“দেখলি তো তোর বোন আমাকে বাধা দেয়নি। এর থেকে বেশি কিছু করলেও বাধা দিবে না। বুঝে নে এবার মজা করছি কিনা!”

প্রচন্ড রাগে চিৎকার দিয়ে বলে উঠল কৌশিক, —-“ইয়াশ, কি অসভ্যতামো এগুলো?” ইয়াশের ভাবভঙ্গির পরিবর্তন হলো না তেমন ও দাঁড়িয়ে আছে আগের মতোই। তাকিয়ে আছে কাশফিয়ার দিকে। কাশফিয়াও নির্লজ্জের মতো মুচকি হাসছে ইয়াশের বুকে মুখ গুজে। সামনে কে আছে না আছে খেয়ালই নেই ওর। কাশফিয়ার অশান্ত মনটা শান্ত হয়েছে ইয়াশকে পেয়ে।এতো সময় মনে মনে আল্লাহকে ডাকছিল, আর ইয়াশের আসার অপেক্ষা করছিল সে। এতো কিছু দেখে সোফায় বসে থাকা রাকিব আর ওর বাড়ির লোক উঠে দাঁড়ালেন। কৌশিকের দুই একটা কথা শুনিয়ে চলে গেলেন উনারা। কেমন অপমানিত বোধ হচ্ছে কৌশিকের। বিয়ে যদি করেছেই দুজনে তাহলে আগে বলল না কেন? কৌশিক আর ইয়াশের মধ্যে ঝামেলা হলো। কাশফিয়াকেও বকাঝকা দিল কৌশিক। ইয়াশের রাগ হলো, সেন্টার টেবিলে রাখা কাচের জিনিসপত্র সব ভেঙে গুড়িয়ে দিল তখনই। কৌশিকের মেজাজ খারাপ হলো এবার, রাগ দেখিয়ে বলল,

“হচ্ছে টা কি ইয়াশ? তুই এতো উশৃঙ্খল হলি কবে থেকে? আমার বাসা থেকে বের হয়ে এসব বাঁদরামো কর।”

ইয়াশ বাঁকা হাসল। একবার তাকাল কাশফিয়ার দিকে,পরে আবার কৌশিকের দিকে তাকিয়ে বলল,

“যাচ্ছি। সময় মতো আমার উপমাকে এসে নিয়ে যাব, দেখেশুনে রাখবি।”

বেরিয়ে গেলো ইয়াশ। কাশফিয়াও যেতে চাইলো ওর পিছু পিছু, কিন্তু বাধা দিল কৌশিক। হাত টেনে ধরল কাশফিয়ার। কাশফিয়া অসহায়ের মতো তাকাল ভাইয়ের দিকে, বলল,

“কি হলো ভাইয়া? যেতে দাও আমাকে।”

“কোথায় যাবি তুই? ইয়াশের কাছে?”

“হ্যাঁ।”

“তাহলে আর আমার বাড়িতে আসবি না। আমাকে ভাইয়া বলেও ডাকবি না। আমি ভুলে যাব তুই আমার বোন।”

ছলছল করে উঠলো কাশফিয়ার চোখ দুটো। এই বুঝি চোখ বেয়ে পানি পড়বে, এমন অবস্থা। ইনায়ার বিরক্ত লাগছে কৌশিকের কাজে। কিছু বললেও শুনবেনা কৌশিক, ভালো করেই জানে। কিছু বললও না সে, কাশফিয়াকে চোখের ইশারায় শান্ত হতে বলল কেবল। কৌশিক ধমকের স্বরে কাশফিয়াকে নিজের রুমে যেতে বলল, কাশফিয়াও শুনল ওর কথা, একরাশ মন খারাপ নিয়ে চুপচাপ চলে গেলো নিজের রুমে।

—————

রোহির অসুস্থতা বাড়ছে দিন দিন। না পেরেই ডাক্তারের পরামর্শে উজ্জ্বল ওকে নিয়ে এসেছে লন্ডনে, ভর্তি করিয়েছে দ্য রয়্যাল মার্সডেন হাসপাতাল নামের একটা হাসপাতালে। এটি ক্যান্সার চিকিৎসায় ইউরোপের অন্যতম শীর্ষ হাসপাতাল। ইয়াশের ভরসায় আর ডাক্তারদের কথায়ই নিয়ে আসা এখানে। ইয়াশও আসলো মাত্রই। করিডরে বসে থাকা উজ্জ্বলের কাছে গেলো ও। সিমি আর আফিয়াও আছে। সিমি কান্না করছে রোহির অবস্থা দেখে। ইয়াশ আসতেই দৌড়ে গেছে ওর কাছে। কান্না করতে করতে বলছে,—-“মামাই, আমার ফুপি কি আর ভালো হবেনা?”

ইয়াশ সিমির মাথায় হাত বুলালো, বলল সান্ত্বনা দিয়ে,

“রোহি ভালো হয়ে যাবে সিমি। আল্লাহকে ডাকো, উনি সব ঠিক করে দিবেন।”

“মিথ্যা আশ্বাস দিও না ইয়াশ। এটা কি আদৌ সম্ভব!”

উজ্জ্বলের কথায় ঘুরে তাকাল ইয়াশ। বলল ওকে,

“ভেঙে পড়ো না, আল্লাহর উপরে ভরসা রাখো ভাইয়া।”

দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলল উজ্জ্বল— “এছাড়া আর কিইবা করব!”

————–

কাশফিয়া দাঁড়িয়ে আছে বেলকনিতে, বারবার তাকাচ্ছে ইয়াশের ফ্ল্যাটের দিকে। এক নজর ওকে দেখবে বলেই হয়তো বারবার এসে দাঁড়াচ্ছে এখানে। কিন্তু ইয়াশ কোথায় গেলো? কেন ওর দেখা পাচ্ছেনা কাশফিয়া! আজ দুইদিন হলো ইয়াশের কোনো খবর নেই। বারবার ফোনটা হাতে নিয়ে কল দিচ্ছে ওর নাম্বারে, কিন্তু রিসিভ করছে না ইয়াশ। এদিকে কৌশিক উঠেপড়ে লেগেছে ওর বিয়ে দিবে বলে। ইয়াশের কাজে বিরক্তি চলে এসেছে কৌশিকের। কাশফিয়াকে যদি ওর ভালোই লেগে থাকে, বলতে পারতো সুন্দর মতো! তা না করে বাইরের লোকেদের সামনে অস্বস্তিতে ফেলল ওকে। অপমান করলো সবার সামনে! উনারা যাওয়ার পরেও ঝামেলা করল কৌশিকের সাথে। এগুলো ভেবেই জেদ করে বসেছে কৌশিক, যাই হয়ে যাক ইয়াশের কাছে যেতে দিবেনা নিজের বোনকে। ইনায়া আর কৌশিকের মধ্যেও ঝামেলা হয়েছে এ নিয়ে। কাশফিয়া নিচে আসল, মাত্রই দরজার দিকে তাকাতেই ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটে উঠলো ওর। মমী দৌড়ে আসল কাশফিয়ার কাছে, ওর পায়ের কাছে বসে মেঝেতে ঘষে যাওয়া কাশফিয়ার ওড়নাটা ধরে টানছে। মমীকে দেখে ভ্রু কুঁচকাল কৌশিক। ইনায়াকে ডেকে বলল,—-“এটাকে বাইরে রেখে আসো।”

ভাইয়ের কথা কানে আসলেই দ্রুত মমীকে কোলে তুলে নিল কাশফিয়া, দৌড়ে চলে গেলো নিজের রুমে। কৌশিক অবাক হচ্ছে কাশফিয়াকে দেখে, এই মেয়ে এতো অবাধ্য হলো কবে থেকে? ইয়াশের জন্যই কি ওর এতো পরিবর্তন?

মমীকে কোলে নিয়ে বেলকনিতে এসেছে কাশফিয়া, বারবার তাকাচ্ছে ইয়াশের ফ্ল্যাটের দিকে। পরে আবার মমীর দিকে তাকিয়ে বলছে ওকে,—-“মমী, আমার তিত করলা বরটা কোথায় গেলো বল তো? এতো স্বার্থপর কেন লোকটা! আমাকে ফেলে রেখে কোথায় না কোথায় ঘুরছে।” মমী কি বুঝল কে জানে, তাকিয়ে রইলো কাশফিয়ার মুখের দিকে।

————–

কৌশিক বারবার ইয়াশকে নিয়ে এটা-সেটা বলছে, বিরক্ত হচ্ছে কাশফিয়া। রাগে কৌশিক ইনায়ার অজান্তেই বেরিয়ে এসেছে বাড়ি থেকে। ভেবেছিলো ইয়াশের কাছেই যাবে, ওখানেও যায়নি। আবারও অভিমান হয়েছে ইয়াশের উপরে। ওই মানুষটা খুব স্বার্থপর, বারবার কষ্ট দেয় ওকে। হুট করে এসে মায়া বাড়িয়ে আবার হারিয়ে যায় লোকটা। ইয়াশ কি বুঝে না, তাকে ছাড়া কাশফিয়ার চারিপাশ অন্ধকার লাগে? কষ্ট হয় ওকে না দেখলে। হাঁটতে হাঁটতে কোথায় চলে এসেছে নিজেও জানে না কাশফিয়া। আশেপাশে তাকিয়ে দেখল সব কেমন অচেনা লাগছে। বাড়ির সীমানা পেরিয়ে যে অনেক দূরে চলে এসেছে, বুঝতে বাকি নেই ওর। একা একা এই অচেনা জায়গায় হাঁটতে ভয় লাগছে কাশফিয়ার। আফসোস হচ্ছে এখন, কেন জেদ করে আসতে গেলো? ইয়াশই বা হুট করে কোথায় হারিয়ে গেলো? এসব ভাবছে আর কান্না করছে কাশফিয়া। হঠাৎই শুরু হলো বৃষ্টি। আকাশপানে একবার তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল কাশফিয়া। এই বৃষ্টিরা ওর মন খারাপের খবর জানে কী করে? কীভাবে অসময়ে এসে ওর চোখের পানি মিশিয়ে নেয় বৃষ্টির পানির সাথে?

অনেক্ষন হলো কাশফিয়া বসে আছে একটা ব্রেঞ্চে, বৃষ্টির পানিতে ভিজে গায়ের জামাটা লেপ্টে গেছে শরীরের সাথে। চারিদিকে অন্ধকার নেমে এসেছে অনেক আগেই, এবার যেন ভয় বাড়ছে কাশফিয়ার। কোথায় গিয়ে খুঁজবে সে ইয়াশকে? রাস্তার ওপর প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে একটা কালো রঙের মার্সিডিজ কার। পেছনের সিটে বসে থাকা ইয়াশ এক ধ্যানে তাকিয়ে আছে কাশফিয়ার দিকে। এই মেয়ে ওর জন্য এতো পাগল হলো কবে? যে ভাইয়ের খোঁজে এসেছিল ওর কাছে, সেই ভাইকে রেখে ইয়াশকে খুঁজতে ব্যস্ত সে? ঠান্ডায় কাঁপছে কাশফিয়া, এভাবে বেশিক্ষণ বৃষ্টির পানিতে ভিজলে জ্বর আসবে নির্ঘাত,এই ভেবে ইয়াশ নামল গাড়ি থেকে। দ্রুত গেলো কাশফিয়ার কাছে। সামনে কেউ দাঁড়িয়ে আছে বুঝে মুখ তুলে তাকাল কাশফিয়া,দেখল ইয়াশ দাঁড়িয়ে আছে ওর সামনে। বৃষ্টিতে ভিজে গেছে ওর পুরো শরীর, চুলগুলো সব এসে লেপ্টে গেছে কপালের সাথে। কাশফিয়া কথা না বলে কেবল দেখে যাচ্ছে ইয়াশকে। ইয়াশের ডাকে ধ্যান ভাঙলো কাশফিয়ার,

“উপমা!”

উঠে দাঁড়াল কাশফিয়া। কান্না করে দিল হুট করেই। ক্রন্দনরত অবস্থাতেই বলল ইয়াশকে,

“কোথায় হারিয়ে যান আপনি? আমাকে কষ্ট দিতে ভালো লাগে, তাই না?”

ইয়াশ মুচকি হাসল। কথা না বাড়িয়ে কোলে তুলে নিল কাশফিয়াকে। পড়ে যাওয়ার ভয়ে কাশফিয়াও আঁকড়ে ধরল ইয়াশের গলা।

ঠান্ডায় কাঁপছে কাশফিয়া, তবুও জড়িয়ে ধরে রেখেছে ইয়াশকে। ওর দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে ঠোঁট ছুঁয়ালো ইয়াশের ঠোঁটের সাথে। ইয়াশ অবাক হলো কাশফিয়ার কাজে। এই মেয়ে হুশে আছে তো? এতো ফাস্ট হলো কবে থেকে? ইয়াশ ঠোঁট কামড়ে হাসল, ডাকল কাশফিয়াকে—-“উপমা!”
সাথে সাথে জবাব এলো কাশফিয়ার থেকে,—-“বলুন।”

ইয়াশ কাশফিয়ার কানের কাছে গিয়ে ফিসফিস করে বলল,

“ডু ইউ ওয়ান্ট মাই অ্যাফেকশন?”

কাশফিয়া আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরল ইয়াশকে। লজ্জায় মুখ লোকাল ইয়াশের বুকে। ইয়াশ হাসল, কাশফিয়াকে নিজের কোল থেকে নামিয়ে বসাল পাশের সিটে। ড্রাইভিং সিটে তাকিয়ে একবার দেখে নিল, মনোযোগ দিয়ে ড্রাইভ করছে ওর ভোলাভালা ড্রাইভার। এই ছেলে যেমন ক্যাবলাকান্ত, ভুলেও পেছনের দিকে তাকাবে না,এই বিশ্বাস ইয়াশের আছে। তাকালে যায় আসেনা, দেখলে দেখুক বউকেই তো আদর করবে!

ইয়াশ তাকাল কাচুমাচু হয়ে বসে থাকা কাশফিয়ার দিকে। কাশফিয়ার পিঠের ভিজে চুলগুলো সরিয়ে দিল ইয়াশ। জামার ফিতেটা খুলে দিয়ে চুমু দিল ওর পুরো পিঠে। ইয়াশের ঠোঁটের উষ্ণ স্পর্শে বারবার কেঁপে উঠছে কাশফিয়া। কিন্তু বাধা দিচ্ছে না ইয়াশকে। ইয়াশেরও কেমন পাগল পাগল লাগছে এখন। নিজেকে সামলালো কোনোভাবে। ইয়াশ ভেবেছিল, কাশফিয়াকে রেখে আসবে কৌশিকের কাছেই। কি যেন ভেবে ড্রাইভারকে দ্রুত গাড়ি ঘুরাতে বলল। নিয়ে যেতে বলল ওর ফ্ল্যাটে।

কাশফিয়াকে কোলে তুলে নিজের রুমে নিয়ে আসল ইয়াশ। ওকে বিছানায় ফেলে গায়ে থাকা ভিজে জামাটা খুলে দিল। কাশফিয়া নিভু নিভু চোখে তাকাল ইয়াশের দিকে। ইয়াশের কেমন অস্থির লাগছে, শার্টের বোতামে হাত চালাতে চালাতে এগিয়ে আসল কাশফিয়ার কাছে। ইয়াশের মুখের গরম শ্বাস আছড়ে পড়ছে কাশফিয়ার চোখ মুখে। ইয়াশ আলতো করে নিজের ঠোঁট ছুঁয়ালো কাশফিয়ার পুরো মুখে। কাশফিয়া নিজের হাত বুলালো ইয়াশের ঘন চুলের ভাঁজে। ইয়াশ ওর কানের কাছে গিয়ে হিসহিসিয়ে বলল তখন,—-“উপমা,ভেবেচিন্তে আমাকে কাছে ডাকলে তো?” কথা বলল না কাশফিয়া জড়িয়ে ধরল ইয়াশের গলা। ইয়াশ বুঝল কাশফিয়া কাছে চাইছে ওকে, কিছু না ভেবেই আঁকড়ে ধরল প্রেয়সীর গোলাপসম পাতলা ঠোঁটজোড়া। ইয়াশের হাতের স্পর্শ গভীর হচ্ছে,ঠোঁটের অবাধ্য ছোঁয়া পাগল করে দিচ্ছে ওকে। ইয়াশ ঠোঁট ছেড়ে গলায় মুখ ডুবিয়েছে কাশফিয়ার। চুমুর জায়গায় কামড় পড়তেই ব্যথায় মৃদু আর্তনাদ করে বলে উঠেছে কাশফিয়া,—-“আহহ,লাগছে।”

ইয়াশ তাকাল কাশফিয়ার মুখপানে,ঠোঁটে আঙুল ছুঁইয়ে বলল,

“তুমিই তো আমাকে কাছে ডাকলে উপমা। এখন কান্না করলেও ছাড়ব না। সহ্য করে নাও।”

ঘন ঘন শ্বাস ফেলে অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে নিল কাশফিয়া। ইয়াশ আবারও উন্মাদের মতো আচরণ করতে শুরু করল। ঝাপিয়ে পড়ল কাশফিয়ার উপর। কাশফিয়াও আটকালো না ইয়াশকে, নিজেও সায় জানালো ওর পাগলামিতে।একটা সময় ইয়াশের বলিষ্ঠ দেহের নিচে চাপা পড়ল কাশফিয়ার ছোট্ট শরীরটি। পুরো রুমে নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে শুনা যাচ্ছে কেবল ইয়াশ উপমার ঘন শ্বাস প্রশ্বাসের শব্দ। বাইরে বৃষ্টির প্রকোপ বেড়েছে, ঝড়ের তান্ডব চলছে প্রকৃতিতে৷ এদিকে বন্ধ নিস্তব্ধ রুমটাতে এক হতে ব্যাস্ত দুই ভালোবাসার মানুষ।

#চলবে……

পড়ুন রোমান্টিক ই-বই “রাগে অনুরাগে সিক্ত কাব্য”
https://link.boitoi.com.bd/GQcM

গল্প রিলেটেড সব আপডেট পেতে গ্রুপে জয়েন হোন।
https://facebook.com/groups/569604222322147

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here