আমার উপমা তুমি (০৭) আফরোজা আঁখি

0
30

আমার উপমা তুমি (০৭)
আফরোজা আঁখি

ভোরের আলো ফুটেছে, চারিদিকে পাখির কিচিরমিচির ডাক শোনা যাচ্ছে বাইরে। জানালার পর্দা ভেদ করে বাইরের আলো এসে ইয়াশের চোখে পড়তেই ঘুম ভেঙে গেছে ওর। চোখ মুখে বিরক্তি নিয়ে পাশে থাকা ছোট বালিশটা মাথার উপরে চেপে ধরে বলছে,

“আহহা উপমা, জানালা আটকে চুপচাপ এসে শুয়ে পড়ো তো।”

“আর কত ঘুমাবেন?”

ইয়াশ কথা বলল না, চোখ দুটো আবারও লেগে এসেছে ওর। হুট করেই মনে পড়ল কাল রাতের ঘটনা প্রচণ্ড জ্বরে গা পুড়ে যাচ্ছিল উপমার। এখন কি ঠিক আছে সে? উঠে বসল ইয়াশ, পাশেই এসে দাঁড়িয়েছিলো কাশফিয়া ওর হাত টেনে নিজের কাছে বসাল। কপালে, গালে হাত দিয়ে দেখল জ্বর কমেছে কিনা। নিশ্চিত হলো ইয়াশ এখন আর গায়ে জ্বর নেই মেয়েটার।
কাশফিয়া এক ধ্যানে তাকিয়ে আছে ইয়াশের মুখপানে। এই মানুষটা ওকে নিয়ে এত ভাবে? অথচ পরিচয় মাত্র কিছুদিনের।
কাশফিয়ার এমন ফ্যাল ফ্যাল করা চাহনি দেখে ভ্রু কুঁচকাল ইয়াশ। কাশফিয়া মনে হয় ভয় পেল ইয়াশের এমন চাহনিতে, চোখ সরিয়ে নিল অন্যদিকে। ইয়াশ ওর চুপসে যাওয়া মুখটা দেখে হেসে বলল,

“আমি সুন্দর জানি, তাই বলে এভাবে তাকিয়ে থাকতে হবে?”

“হুহ্, কাশফিয়ার দিকেই কত মানুষ তাকিয়ে থাকে। সে কারো দিকে তাকায় না।”

“তাই বুঝি!”

“তা নয়তো কি?”

“মাত্রই কে যেন চোখ দিয়ে গিলে খাচ্ছিল আমাকে!”

লজ্জা পেল কাশফিয়া। ইয়াশের কথার উত্তরে কী বলবে বুঝতে না পেরে চুপ করে রইল সে। ইয়াশ হাসল আনমনে, উঠে চলে গেল ওয়াশরুমের দিকে।

জানালার পাশটায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে কাশফিয়া। মামার কথা খুব মনে পড়ছে ওর কেমন আছেন কে জানে! মামী ওর অবহেলা করলেও অসুস্থ মামা তো আগলে রেখেছিলেন ছোট থেকে।
সেদিন বিয়ে থেকে পালাতে মামাই বলেছিলেন ওকে। কাশফিয়ার মনে পড়ছে সেদিনের কথা, কনের সাজে যখন বসেছিল বিছানায়, কান্না করতে করতে ফুলে গিয়েছিল ওর চোখ মুখ। উপায় না পেয়ে ভেবেছিল মা বাবার কাছেই চলে যাবে সুইসাইড করে। দরজার ঠকঠক আওয়াজে ধ্যান ভাঙল ওর, মামার গলা শুনে দ্রুত গিয়ে খুলে দিল দরজাটা। ভাগ্নীকে বুকে জড়িয়ে বলছিলেন তিনি,

“তুই পালিয়ে যা কাশফি, তোর ভবিষ্যতের কথা ভেবেই আমি তখন এ বিয়েতে রাজি হয়েছিলাম। ছেলে এমন আমি জানতাম না রে মা। ক্ষমা করে দে আমাকে।”

মামার জোর করে রাখা দুই হাত ধরে বলল কাশফিয়া,

“আমি এ বিয়ে করব না মামা, তুমি আমাকে বাঁচিয়ে নাও। আমি ভাইয়ার কাছে যাব।”

“তুই এখান থেকে পালিয়ে যা মা।”

কাশফিয়া শুনল মামার কথা। কোনো কিছু না ভেবেই সুযোগ পেয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে গেল ও। কিছুদূর যেতেই দেখে নিলেন ওর মামী। ম’রে যাবেন বলে ভয় দেখিয়ে আটকাতে চাইলেন ওকে। মামীর মন বুলানো কথায় একটা সময় কাশফিয়ারও মনে হলো বিয়েটা করে নেবে সে, মামীকে কীভাবে মরতে দেখবে নিজের জন্য! তখন কোথা থেকে হন্তদন্ত হয়ে ছুটে আসলেন ওর মামা, চিৎকার দিয়ে বললেন কাশফিয়াকে,

“কাশফি, চলে যা মা, ফিরে আসবি না। ওই মদখোর মাতালের সাথে বিয়ে করার থেকে ভালো পালিয়ে যা তুই।”

কাশফিয়া ছলছল চোখে তাকিয়ে আছে মামার দিকে। ওর মামী তখন ওনার হাত ধরে চোখ রাঙিয়ে বললেন,

“আহাদের কাছে আমাদের ধারদেনা আছে। কাশফিয়াকে দিয়ে দিলে ওসব আর নেবেন না। নিজের ভালো কেন বুঝছ না তুমি?”

“চুপ করো, কয়টা টাকার জন্য আমার ভাগ্নীকে বিক্রি করে দেব? কখনোই না।”

রুম থেকে বেরিয়ে আসল আহাদ। চোখ পাকিয়ে তাকাল কাশফিয়ার মামা-মামীর দিকে। কথাবার্তা না বলেই গিয়ে সপাটে চড় বসাল ওনার গালে। শার্টের কলার টেনে ধরে বলল রেগেমেগে,

“ভাগ্নীর জন্য মায়া বেড়ে গেছে, বিয়ে দিবি না আমার সাথে? এই মেয়েকে আমার চাই, যেকোনো মূল্যে চাই। তুই ওকে পালিয়ে যেতে বলছিস কোন সাহসে?”

বলেই ওনাকে মাটিতে ফেলে মারতে শুরু করল আহাদ।কাশফিয়া দূর থেকে দাঁড়িয়ে দেখছে মাটিতে পড়ে থাকা ওর মামাকে। কষ্ট হলো ওর। কাছে এসে নিজেও চড় বসিয়ে দিল আহাদ লোকটার গালে। আহাদের রাগ বাড়ল তরতর করে। এই পুচকে মেয়ের এত সাহস! গায়ে হাত তুলল ওর। মনে মনে ভেবে নিল আহাদ যাই হয়ে যাক, এই মেয়েকে বিয়ে করেই ছাড়বে আজকে। কাশফিয়ার মামীও তখন খপ করে ধরে ফেললেন ওর হাতটা। কিন্তু আটকে রাখতে পারলেন না তিনি। মাটিতে পড়ে থাকা কাশফিয়ার মামা আঘাত করলেন আহাদকে, ওনার স্ত্রীকেও ধমক দিলেন হাত ছেড়ে দিতে। মামার কথায় এবার সত্যিই চলে গেল কাশফিয়া। দৌড়াতে দৌড়াতে যখন বাড়ির সীমানা পেরোল, তখনই সে থামল। কিন্তু অসাবধানতায় ধাক্কা লাগল ইয়াশের গাড়িটার সাথে। ভাবনার জগৎ থেকে বেরুলো কাশফিয়া। লক্ষ্য করল রোহি এসে কড়া নাড়ছে রুমের দরজায়। নিজেকে স্বাভাবিক করে বলল ওকে,

“রুমে আসুন আপু।”

“ইয়াশ কোথায় কাশফিয়া?”

“ওয়াশরুমে হবেন। কোনো দরকার?”

“দরকার তো ছিলই, তোমাদের খেতে ডাকছেন সবাই। সিমি কলেজে, তাই আমিই ডাকতে আসলাম। তাড়াতাড়ি চলে এসো, চাচি নইলে রাগ করবেন।”

“আসছি, আপনি যান।”

মুচকি হেসে চলে গেল রোহি। কাশফিয়া ওর পরনের থ্রিপিসটা পালটে কোনো রকমে শাড়ি পেছালো শরীরে। ঠিকঠাক হয়নি জানে, তবুও পরে নিয়েছে ওভাবেই। আয়নার সামনে যেতেই ড্রেসিং টেবিলের উপরে রাখা ফুলের মালাটা চোখে পড়ল ওর। মুহূর্তেই ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটে উঠল কাশফিয়ার এ ফুল যে ওর খুব পছন্দের।
মাথার ভেজা চুল টাওয়াল দিয়ে মুছতে মুছতে রুমে আসল ইয়াশ। কাশফিয়ার দিকে তাকাতেই চোখ দুটো বড় বড় হয়ে এল ওর শাড়ি পড়েছে না অন্য কিছু, বোঝা মুশকিল! তবে একটা জিনিস বুঝল ভালো করেই উপমা শাড়ি পড়তে পারেনা, হয়তো অভ্যাস নেই। ইয়াশ কাছে এল কাশফিয়ার, বলল ওকে,

“এই মেয়ে, শাড়ি পড়েছ নাকি গায়ে গামছা পেচিয়েছো?”

কথাটা কানে আসতেই ইয়াশের মুখপানে তাকাল কাশফিয়া। ঠিকঠাক মতো শাড়ি পড়তে পারেনা বলে কি লোকটা অপমান করলো ওকে! মুখ ভেংচি কেটে বলল কাশফিয়া,

“আপনি পড়িয়ে দিন তবে।”

ঠোঁট কামড়ে হাসল ইয়াশ। কাশফিয়ার দিকে এগুতে এগুতে বলল সে,

“ঠিক আছে, আমি ‘ইয়াশ রায়হান’ আবার ভদ্র ছেলে। কারোর কথা ফেলে না।”

ভ্রু জোড়া কুঁচকে এল কাশফিয়ার। কারো কথা ফেলে না মানে যেকেউ বললেই কি শাড়ি পড়িয়ে দেবে নাকি ইয়াশ তাকে! রাগ হলো কাশফিয়ার। মুখ ঘুরিয়ে নিল অন্যদিকে। ইয়াশ বুঝল হয়তো উপমার রাগের কারণ। হাসতে হাসতে চলে গেল রুম থেকে, যাওয়ার আগে বলেও গেল কাশফিয়াকে,

“তুমি যে পোশাকে কমফোর্টেবল, সেটাই পড়ো। শাড়ি পড়ার দরকার নেই।”

কাশফিয়া তখন মুখটাকে বেজার করে বলল ইয়াশকে,

“আসলে আমার শাড়ি পড়ার অভ্যেস নেই।”

ইয়াশকে কথাটা বলে হাতে থাকা শুকিয়ে যাওয়া ফুলের মালাটা নেড়েচেড়ে দেখল কাশফিয়া। আয়নার সামনে গিয়ে ক্লিপ দিয়ে মাথায় দিল সেটা। ইয়াশ ওর দিকে তাকিয়ে হাসছে আনমনে, বলছে বিড়বিড় করে,

“শাড়ি পড়ার অভ্যেস করতে হবে না উপমা। আমাকে ভালোবাসার অভ্যেস করো তুমি। আমাকে একটু আদরে রাখো। তোমার সবটুকু জুড়ে থাকতে চাই আমি।”

কাশফিয়ার মনে হলো ইয়াশ কিছু বলছে ওকে। ফিরে তাকাল ইয়াশের দিকে দেখল ইয়াশ চলে যাচ্ছে রুম থেকে বেরিয়ে।
ইয়াশের কথা শুনে কাশফিয়াও বদলে নিল শাড়িটা। এসব পড়ার অভ্যেস নেই ওর। কিন্তু ইয়াশের আম্মু এভাবে দেখলেই যদি রেগে যান তখন কী হবে? পরক্ষণেই আবার ভাবছে কাশফিয়া যাই হয়ে যাক, ইয়াশ বাঁচিয়ে নেবে ওকে।

——————

খাবার টেবিলে বসে আছেন সবাই। ইয়াশ আর কাশফিয়া এল মাত্রই। ইয়াশের পাশের চেয়ারটাতেই বসেছে কাশফিয়া। ওর সাজসজ্জা দেখেই রেগে গেলেন সুফিয়া বেগম। কেন বারবার উনার কথার অবজ্ঞা করছে মেয়েটা! নাকি শিখিয়ে দিচ্ছে ওনার ছেলেই! নিজেকে সংযত করলেন সুফিয়া বেগম, বললেন না কিছুই। কিছু বললেই তো ছেলে উনার রাগ দেখিয়ে চলে যাবে বাড়ি থেকে। উজ্জ্বল ইয়াশের ঠিক পাশের চেয়ারটাতেই বসে ছিল। কানের কাছে এসে বলছে ওকে,

“কি শালাবাবু, হয়ছে?”

“কি হবে?”

“বাসর।”

ইয়াশ একবার তাকাল উপমার দিকে। মনোযোগ দিয়ে খাবার খাচ্ছে মেয়ে। হাসল ইয়াশ, উজ্জ্বলের দিকে তাকিয়ে বলল ওর মতো ফিসফিস করেই,

“বউটা ছোট,বড় হোক কিছুটা। আমার আদর নিতে পারবে না এই বয়সে।”

“ধুর! কি যে বলো না তুমি। বউদের আদর না দিলে বয়স বাড়ে নাকি! তোমার আপুকে ও তো….”

ভ্রু কুঁচকে তাকাল ইয়াশ। উজ্জ্বলের মনে হলো ভুল সময় ভুল কথা বলেছে সে। এক হাত দিয়ে কান ধরে চোখের ইশারায় ক্ষমা চাইল ইয়াশের কাছে। এই ছেলেকে বোঝে না উজ্জ্বল কখন যে মজা করে আর কখন রাগ, এটাও বুঝতে পারে না সে।

———

হসপিটালের বেডে শুয়ে থাকা কৌশিকের অবস্থা ক্রমশই খারাপের দিকে যাচ্ছে। ইনায়া আর হসপিটালের অন্য ডাক্তাররা ঘিরে রেখেছেন ওকে, প্রাণপণে চেষ্টা করছেন ছেলেটাকে বাঁচিয়ে তোলার, কিন্তু অবস্থার অবনতি হচ্ছে কৌশিকের। শ্বাস নিতে অনেক কষ্ট হচ্ছে ওর। চোখ গড়িয়ে পানি পড়ছে ছেলেটার, বারবার বোনের মুখটা ভেসে উঠছে চোখের সামনে। এখন কিছুটা ঠিক হয়েছে কৌশিক, ভয় কমেছে ইনায়ার, কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই যদি আবার এরকম হয়! কোনো ভাবেই কৌশিকের ক্ষতি হতে দেবে না। যেভাবেই হোক বাঁচাতে হবে কৌশিককে, ইয়াশকে যে কথা দিয়েছে ইনায়া। ডাক্তারটা সহ সবাই বেরিয়ে গেছেন, কৌশিককে শিফট করা হয়েছে অন্য কেবিনে। হাতের গ্লাভস আর গায়ের এপ্রোনটা খুলে নিয়েছে ইনায়া, চেয়ার টেনে বসেছে কৌশিকের পাশে। বেশ কিছুক্ষণ পর জ্ঞান ফিরেছে ছেলেটার। চোখ খুলে তাকাতেই দেখল, এক অতি সুন্দর রমণী বসে আছে ওর পাশটায়, আদর করে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে মাথায়। সব রেখে কৌশিকের চোখ গেল ইনায়ার ছলছল চোখজোড়ার দিকে। কান্নার কারণে চোখের কাজল লেপ্টে গেছে মেয়েটার। তবুও কতো সুন্দর লাগছে ওকে,মুখে যেন রাজ্যের মায়া। বুঝে পায় না কৌশিক এই মেয়ে এত কাঁদে কেন? নাকি তার মতো দুঃখীর কাছে আসলেই দুঃখ বাড়ে মেয়েটার! তিন মাসে মনে হয় এই প্রথম কিছুটা ভালো লাগছে কৌশিকের। খুব করে মন চাইছে বাইরের আলো বাতাস গায়ে লাগাতে। কথা বলতে ইচ্ছে করছে ওর। ইনায়ার দৃষ্টি পড়ল কৌশিকের দিকে, উদ্ভিগ্ন হয়ে বলল ওকে,

“ঠিক আছেন আপনি? কী লাগবে? আমাকে বলুন, এক্ষুনি এনে দিচ্ছি।”

“আমাকে একবার ইয়াশের সাথে কথা বলিয়ে দাও, ইনায়া। আমাকে জানতে হবে আমার বোনকে ও পেয়েছে কিনা। ও ভালো আছে জানলে মরেও শান্তি পাব আমি।”

“এভাবে বলবেন না, আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন। আল্লাহ আপনাকে ভালো করে দেবেন।”

চোখ বন্ধ করে শ্বাস ছাড়ল কৌশিক। ইনায়া কল দিল ইয়াশের ফোনে, যদিও জানে এই সময় কল রিসিভ করবে না ইয়াশ। প্রথমবার রিংটোন বাজতে বাজতে কেটে গেল, পরেরবার কেউ একজন ধরল। ইয়াশই কলটা রিসিভ করেছে ভেবে লাউডস্পিকারে দিল ইনায়া। কথা বলছে না কেউই।ফোনের ওপাশের নীরবতা দেখে ইনায়াই আগে বলল,

“ইয়াশ রায়হান আছে?”

ভেসে এলো একটা মেয়েলি কণ্ঠস্বর। বলল সে,—–“উনি রুমে নেই।”

“কোথায় আছে?”

“বাইরে গেছেন। আসলে, আমি বলে দেব আপনি ফোন দিয়েছিলেন।”

ইনায়া কিছু বলার আগেই ফোনের লাইন কেটে গেল।পাশ ফিরতেই দেখল, কৌশিক এক ধ্যানে তাকিয়ে আছে ওর দিকে। ফোনের ওপর প্রান্তে কথা বলা মেয়েটার কণ্ঠস্বর খুব চেনা পরিচিত মনে হলো কৌশিকের। মনে হলো নিজের কেউ,এই কন্ঠস্বর কথা বলার ধরন যে ওর বোনের মতো। তবে কি ইয়াশ খুঁজে পেয়েছে কাশফিয়াকে!

#চলবে…..

পড়ুন রোমান্টিক ই-বই “রাগে অনুরাগে সিক্ত কাব্য”
https://link.boitoi.com.bd/GQcM

গল্প সম্পর্কে নিজেদের মতামত জানাতে জয়েন হন আমার গ্রুপে।

আমার গ্রুপ—https://facebook.com/groups/569604222322147

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here