আমার উপমা তুমি (০৯) [ রোমান্টিক এলার্ট। ] আফরোজা আঁখি

0
31

আমার উপমা তুমি (০৯) [ রোমান্টিক এলার্ট। ]
আফরোজা আঁখি

বিছানার উপরে রাখা ফোনটাতে বারবার রিংটোন বেজে কেটে যাচ্ছে। ইয়াশ মাত্রই আসল রুমে, আশেপাশে তাকিয়ে খুঁজল উপমাকে রুমের কোথাও নেই সে। বেলকনি, ওয়াশরুম সব জায়গাতেই দেখল, কিন্তু কোথাও নেই উপমা। মনটা কচকচ করছে ইয়াশের, কোথায় গেলো মেয়েটা? ফোনটা ফেলে রেখেই সিঁড়ি বেয়ে নিচে গেলো ইয়াশ।
এ কি দেখছে ইয়াশ! আফিয়া আর ইয়াশের আম্মু সুফিয়া বেগম হেসে হেসে কথা বলছেন উপমার সাথে! কিছুক্ষণ তাকিয়ে দেখল ইয়াশ,কাশফিয়ার চোখ পড়ল ওর দিকে। ভ্রু উঁচিয়ে ইশারায় জিজ্ঞেস করল কি হয়েছে। আনমনেই হাসল ইয়াশ এই মেয়ে সবার মন জিতে নিতে পারে সহজেই, যেভাবে জিতে নিয়েছে ওর রাগী মা বোনের মনও। ইয়াশ নিশ্চিত হয়ে চলে গেলো নিজের রুমে। বিছানার কাছটায় এসে হাতে নিল ফোনটা, কল দিল সেই নাম্বারে। ফোনের ওপার প্রান্তের মানুষটা কল রিসিভ করতেই বলল ইয়াশ।

“কৌশিক, কেমন আছে ইনায়া?”

“আপাতত ভালো।”

“ভয় নেই তো আর?”

“আছে। কৌশিক এখনও পুরোপুরি সুস্থ হয়নি, ইয়াশ। কম হলেও আরও মাস তিনেকের মতো তো লাগবেই। পায়ে আর মাথায় আঘাতটা বেশিই লেগেছিল। সুস্থ হতে সময় লাগবে।”

ইয়াশের ফর্সা মুখটা মুহূর্তেই ঢেকে গেল অন্ধকারে। কৌশিক পুরোপুরি ভালো না হলে নিজেকে যে ক্ষমা করতে পারবে না ইয়াশ। এক্সিডেন্টটা যে হয়েছিল ওর জন্যই। একটা সুস্থ সবল ছেলে তার জন্য অসুস্থ হয়ে পড়ে ছিল হসপিটালের বেডে। দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল ইয়াশ। কানে আসল ইনায়ার কথা,

“মেয়েটাকে পেয়েছিস?”

“কার কথা বলছিস?”

“যার জন্য পাগল হয়ে দেশে গেলি।”

ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটে উঠলো ইয়াশের,কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল ইনায়াকে,

“হুম, তাকে তো পেয়েছি। তুই জানিস মেয়েটা কে?”

“জানি তো! মেয়েটা আমাদের ইয়াশের ড্রিম গার্ল।”

“মেয়েটা কৌশিকেরই বোন।”

অবাকের স্বরে বলল ইনায়া,

“কী! এটা কি সত্যি?”

“ইয়াশ মিথ্যা কথা বলে না।”

“মেয়েটা কি জানে তার ভাইয়ের এক্সিডেন্টের ব্যাপারে?”

“না বলিনি আমি। মেয়েটা বড্ড অভিমানী। ওর প্রাণপ্রিয় ভাই আমার জন্য এক্সিডেন্ট করে হসপিটালের বেডে শুয়ে আছে জানলে, ও হয়তো এক্ষুণি আমার বাড়ি ছেড়ে চলে যাবে। আমার ভালোবাসাকে সে করুণা ভেবে ভুল করবে।”

ইনায়াকে কথাগুলো বলে বেলকনি থেকে রুমের দিকে তাকাল ইয়াশ। পুরো রুমে কেউ নেই উপমা হয়তো এখনও নিচেই আছে, এই ভেবে নিশ্চিত হলো সে। ইনায়ার সাথে বেশ কিছুক্ষণ কথা বলে কেটে দিল ফোনের লাইন।

———

অভিমানীর অভিমান হয়েছে, একটু একটু করে মনের মধ্যে জন্ম নেওয়া ভালোবাসা নিমিষেই শেষ হয়ে গেছে তার। ছোট্ট মনটা ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে প্রিয় মানুষের অবহেলায়। ভাইয়ের পরে যে মানুষটাকে সবচেয়ে বেশি বিশ্বাস করেছিল, যে যত্ন করে নিজ হাতে মেরে ফেলেছে কাশফিয়ার ভালোবাসাকে, কষ্ট দিয়েছে তাকে, কাশফিয়া ঠিক করেছে এখানে আর থাকবে না, চলে যাবে ইয়াশকে ছেড়ে। যে মানুষটা তাকে চায় না, ভালোবাসে না, তার কাছে কেনই বা পড়ে থাকবে সে! বিছানা থেকে নেমে ওয়াশরুমে যাবে বলে পা বাড়িয়েছিল কাশফিয়া। পায়ের দিকে তাকাতেই সুন্দর নূপুরজোড়া চোখে পড়ল ওর। অবাকে কপালে কিঞ্চিৎ ভাঁজ পড়ল তার, বিড়বিড় করে বলল।

“আমার পায়ে নূপুর আসল কোথা থেকে?”

দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ইয়াশ হাসল উপমার কথায়। এ মেয়ে এত বোকা কেন? যার প্রতি রাগ পুষে রেখেছে, সে যে মনে মনে তাকেই ভালোবাসে সেটা কি জানে এই মেয়ে!

———

ছাদে দাঁড়িয়ে আছে রোহি, পাশেই ইয়াশ। এতক্ষণ উজ্জ্বল আর ইয়াশ দাঁড়িয়ে গল্প করছিল এখানে, মাত্রই এসে উপস্থিত হয়েছে রোহি। উজ্জ্বলের জরুরি কাজ আছে তাই চলে গেছে ওখান থেকে। ইয়াশ চলে যাবে বলে পা বাড়িয়েছিল, তখনই দেখল বাতাসে ফুলের টবটা পড়ে যাচ্ছিলো মাটিতে রোহি তার ঠিক পাশটায় দাঁড়িয়ে, ব্যথা পাবে ভেবে ইয়াশ ওর হাত ধরে টান দিয়ে সরাল ওখান থেকে। টাল সামলাতে না পেরে পড়েই যাচ্ছিল রোহি ইয়াশ আগলে নিয়েছে তাকে দু’হাতে। মেয়েটা নিষ্পলক চোখে তাকিয়ে আছে ওর দিকে, ইয়াশের কেমন যেন লাগল বিষয়টা রোহিকে তো সে বরাবরই নিজের বোনের চোখে দেখে এসেছে।ইয়াশ চলে যেতে নিলেই বলল রোহি,

“আমাকে ভালোবাসা যায় না ইয়াশ? আমি এতোটাই খারাপ?”

রোহির এমন কথায় অবাক হলো না ইয়াশ মেয়েটার মনে যে তার প্রতি ভালোলাগা আছে, এটা বুঝেছে অনেক আগেই। মাথা ঘুরিয়ে তাকাল রোহির দিকে বলল ওকে।

“তুমি ভালো রোহি, ভীষণ ভালো! কিন্তু আমার ভালোবাসা যে নির্দিষ্ট কারো জন্য।”

“সেই ভাগ্যবতী তোমার উপমা, নিশ্চয়ই!”

চুপ রইল ইয়াশ, তাকাল আকাশপানে। কিছুক্ষণ পর বলল রোহিকে,

“তুমি তো অবুঝ নও রোহি। আমার হৃদয় জুড়ে অন্য নারীর বিচরণ জানার পরেও তুমি আমাকে চাইছ? পৃথিবীর কোথাও না কোথাও এমন কেউ আছে যে তোমাকে ভালোবাসবে, বুঝবে, আগলে রাখবে। আমাকে চেয়ে পাপ বাড়িও না নিজের, ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবো।”

“সেই মানুষটা তুমি হলে কি খুব ক্ষতি হতো ইয়াশ? আমি যে চেয়েও মাথা থেকে সরাতে পারি না তোমাকে। আমি কী করব বলো? তোমাকে ভালো না বাসার উপায় বলে দাও আমি আর ভালোবাসব না তোমাকে।”

কথা নেই ইয়াশের মুখে। কী-ইবা বলবে রোহির কথার উত্তরে? চুপচাপ মেয়েটা আজ নিজেকে ভেঙেচুরে প্রকাশ করছে যে ওর কাছে! ইয়াশের মনে হলো ছাদের দরজার সামনে থেকে এক্ষুনি গেলো কেউ। কে ছিলো? উপমা নিশ্চয়ই! মেয়েটা শুনল ইয়াশের পুরো কথা! নাকি অর্ধেক কথা শুনেই অভিমান বাড়ল তার প্রতি?
ইয়াশ চলে গেল ছাদ থেকে। ওর যাওয়ার পানে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল রোহি, দু’ফোটা পানি গড়িয়ে পড়ল চোখ থেকে, বলল সে,

“তোমাকে না পাওয়ার আক্ষেপ আমার সারাজীবন থাকবে ইয়াশ। হয়তো মৃত্যুর আগ পর্যন্ত। আমাকে একটু ভালোবাসলেও তো পারতে তুমি! এই অপূর্ণতা নিয়ে মরতে হতো না আমাকে।”

———

মেঝেতে বসে হাঁটুতে মুখ গুঁজে কান্না করছে কাশফিয়া। ছাদে তখন গিয়েছিল ইয়াশকে খুঁজতেই, যখন ইয়াশ আর রোহিকে ওভাবে এতটা কাছাকাছি দেখল মনের মধ্যে কী হচ্ছিল, কেবল কাশফিয়াই জানে। রোহির পাশে যে সহ্য হচ্ছিল না ইয়াশকে। রোহিই বুঝি সেই ভাগ্যবতী, যার জন্য কাশফিয়াকে সমানে অবহেলা করছে ইয়াশ। কথাগুলো ভেবে ডুকরে কেঁদে উঠল কাশফিয়া। মনে মনে ঠিক করল, আজকেই সে চলে যাবে এখান থেকে, আর কখনোই আসবে না ইয়াশের সামনে। বারবার দরজায় ধাক্কা দিচ্ছে ইয়াশ, ডেকে যাচ্ছে তার উপমাকে। উপমা কি তবে ভুল বুঝল ইয়াশকে? ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেল ইয়াশের, প্রচণ্ড রেগে গেল এবার। ধমকের স্বরে বলে উঠল কাশফিয়াকে।

“তুমি কি দরজা খুলবে, নাকি ভেঙে ফেলব? আমাকে দরজা ভাঙতে হলে তোমার অবস্থা থাকবে না, উপমা।”

চোখের পানি শাড়ির আঁচল দিয়ে মুছে নিল কাশফিয়া, উঠে গিয়ে দরজাটা খুলে দিল সে। চলে যাচ্ছে দেখে ইয়াশ ওর হাত ধরে আটকাল, রেগে বলল।

“সমস্যা কী তোমার?”

রাগে ফুঁসছে কাশফিয়া নিজেও, ইয়াশের থেকে নিজেকে ছাড়াতে চেয়ে বলল কটমট কণ্ঠে,

“আপনার সমস্যা কী? কারণে অকারণে আমাকে ছুঁবেন না, ছাড়ুন বলছি।”

তরতর করে রাগ বাড়ল ইয়াশের। শক্ত করে কাশফিয়ার হাত চেপে ধরে বলল,

“তোমাকে স্পর্শ করার সার্টিফিকেট আমি অনেক আগেই পেয়েছি, উপমা। তোমার শরীর, মন, মস্তিষ্ক জুড়ে বিচরণ করার অধিকার কেবল ইয়াশ রায়হানেরই আছে। ভুলে যাচ্ছ তুমি আমার বিয়ে করা বউ!”

“ওঠাকে বিয়ে বলে? দয়ালু ইয়াশ রায়হান আমাকে বাঁচাতে, আমার ভাইয়ার দেওয়া দায়িত্ব পালন করতেই কেবল এ বিয়ে করেছেন। আপনি আমাকে একবারও বলেছেন আমার ভাইয়া হসপিটালে পড়ে আছে? ওর এক্সিডেন্ট হয়েছে, তাও আপনার জন্য, বলেছেন আমাকে!”

হাতের বাঁধন আলগা হয়ে এল ইয়াশের, পিছিয়ে গেল কয়েক পা। এসব কথা উপমা জানল কী করে? তবে কি ইনায়ার সাথে ফোনে বলা কথাগুলো সব শুনে নিয়েছে উপমা? মেয়েটা কি এসবের জন্যই রাগ করে আছে ওর ওপর? কীভাবে বুঝাবে উপমাকে কৌশিকের সাথে এমনটা হোক, তা কখনোই চায়নি ইয়াশ। ইয়াশ তাকিয়ে আছে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা কাশফিয়ার দিকে। ও দরজা দিয়ে বেরিয়ে যেতে নিলেই আবারও হাতটা ধরে নিল ইয়াশ, একটানে এনে ফেলল নিজের বুকে। শরীর কাঁপছে ইয়াশের, কেমন অস্থির অস্থির লাগছে ভয় হচ্ছে মনের মধ্যে, উপমা কি ছেড়ে চলে যাবে তাকে? ইয়াশ যে মরে যাবে তাহলে। উপমাতেই যে ইয়াশের সব ভালোবাসা,ভালো লাগা, দুর্বলতা বুঝতে দিল না তা। চোখ-মুখের ভাবভঙ্গি পরিবর্তন করে রাগ মিশ্রিত কণ্ঠেই জিজ্ঞেস করল কাশফিয়াকে,

“কোথায় যাচ্ছ তুমি?”

“চলে যাচ্ছি। আপনার সাথে থাকলে, চোখের সামনে আপনাকে দেখলে দম বন্ধ লাগছে আমার।”

ইয়াশ বাঁকা হেসে উপমার কোমর চেপে ধরে শক্ত করে, চোখ মুখে রাগ নিয়ে বলল আবারও,

“দম আটকে মরে গেলেও তোমাকে আমার সাথেই থাকতে হবে, উপমা। আমার থেকে ভুলেও পালাতে চাইবে না জানে, মেরে ফেলব তোমাকে।”

নিজেকে ছাড়ানোর জন্য ছটফট করছে কাশফিয়া। ইয়াশ একসময় নিজেই ছেড়ে দিল ওকে। পালাতে চাইলে নিজের শক্তপোক্ত হাত দিয়ে থাপ্পড় বসাল কাশফিয়ার নরম তুলতুলে গালে। ছলছল চোখে ইয়াশের মুখপানে তাকাল কাশফিয়া বুঝল, ইয়াশ হয়তো বিরক্ত ওর প্রতি। তাই তো অমানুষের মতো চড় বসাল গালে। ইয়াশ এভাবে মারতে পারল তাকে! ভেবেই চোখের কোণে পানি জমছে কাশফিয়ার। এই ইয়াশকে পুরোপুরি অচেনা লাগছে ওর। ইয়াশ গম্ভীর এটা সে জানে, মাঝেমধ্যেই ধমক দিয়ে উঠে ভুল করলে। কিন্তু এমন আচরণ! এত কঠোর কি ইয়াশ কেবল কাশফিয়ার প্রতিই! রাগে রুমের জিনিসপত্র সব এক এক করে ভেঙে ফেলেছে ইয়াশ। বাড়ির লোকজন সবাই এসে দাঁড়িয়েছে ওদের রুমের দরজার সামনে,কি হয়ছে বুঝতে পারছেম না কেউ-ই। তবে কারোরই এটা বুঝতে বাকি নেই কাশফিয়ার সাথেই কোনো ঝামেলা হয়েছে ইয়াশের। সুফিয়া বেগম রুমে ঢুকলেন ইয়াশের, পরিস্থিতি সামাল দিতে নিজের সাথে করে নিয়ে গেলেন কাশফিয়াকে। ইয়াশের রাগ তো উনার জানা কখন আবার চড় থাপ্পড় মেরে বসে মেয়েটাকে। ছেলের রাগ কমলে না হয় নিজেই আবার দিয়ে যাবেন বউমাকে।

———

দিনের আলো কেটে গিয়ে রাত হয়েছে চারিদিক ঢেকে গেছে অন্ধকারে। বাইরে তুমুল বর্ষন শুরু হয়েছে। প্রকৃতি আজ অশান্ত হয়ে উঠেছে হুট করেই। কাশফিয়া আর ইয়াশের মান অভিমানের পালা শেষ হয়নি এখনও। আজকেই সব ঠিকঠাক করে এসেছে ইয়াশ সে ফিরে যাবে নিজের কাজের জায়গায়। পরিচিত দেশটাতে এখানের সবকিছুই বিরক্ত লাগছে ওর। ইয়াশ নিজের রুমেই যাচ্ছিলো মায়ের রুমটার দিকে চোখ যায় তখন। রাত প্রায় ১২ টার কাছাকাছি এতো রাতে দরজা খোলা দেখে ভাবল কি হয়েছে! ইয়াশ আস্তে আস্তে রুমে ঢুকলেই বিছানায় ওর আম্মুর পাশে শুয়ে থাকা কাশফিয়াকে দেখল। কি যেন হলো ইয়াশের উপমার ঘুমন্ত মায়াবী মুখশ্রী খুব করে টানছে ওকে। বার বার গোলাপী অধর জোড়া ঠোঁট ছুঁয়াতে ইচ্ছে করছে নিজের। ইয়াশ এগিয়ে গেলো কাশফিয়ার কাছে কোলে তুলে ওকে নিয়ে গেলো নিজের রুমে। কাশফিয়াকে বিছানায় রেখে ওর পুরো মুখে চুমু একেঁ দিল ইয়াশ। মেয়েটাকে আজ খুব করে কাছে পেতে ইচ্ছে করছে ওর। ওকে পুরোপুরি বিলিন করতে ইচ্ছে করছে নিজের মধ্যে। ইয়াশ আস্তে আস্তে কানের কাছে গিয়ে ডাকল কাশফিয়াকে।

“উপমা।”

ঘুমের মধ্যেই ইয়াশের গলা জড়িয়ে ধরল কাশফিয়া বলল অস্পষ্ট কন্ঠে।

“উমম।”

ইয়াশ হাত ছুঁয়ালো কাশফিয়ার ঠোঁটে বলল ওকে আবারও,

“তোমার এই গোলাপরাঙা ঠোঁটজোড়ার দখল নিতে দিবে আমাকে?”

কথা বলল না কাশফিয়া আরেকটু শক্ত করে জড়িয়ে ধরল ইয়াশকে। প্রেয়সীর গভীর আলিঙ্গন পাগল করে দিচ্ছে ইয়াশকে। কোনো কিছু না ভেবেই সে আঁকড়ে ধরল কাশফিয়ার অধর। তড়িৎ গতিতে চোখ খুলে তাকাল কাশফিয়ে ইয়াশকে ছেড়ে দিল সে। বুকে ধাক্কা দিয়ে সরাতে চাইল নিজের থেকে। বাধ মানল না ইয়াশ আরও গভীর হলো ওর চুম্বন ওর হাতের স্পর্শ। একসময় কাশফিয়ারও কি যেন হলো ছেড়ে দিল নিজেকে ইয়াশের হাতে। কাশফিয়ার পুরো শরীর জুড়ে রাজত্ব চালাচ্ছে ইয়াশ কখনো গলায় কখনো আবার ঠোঁটে মুখ ডোবাচ্ছে নিজের। ইয়াশের ঠোঁটের স্পর্শে পাগল হওয়ার অবস্থা কাশফিয়ার, খামচে ধরেছে ইয়াশের মাথার এলো মেলো চুল গুলো।পরনে থাকা শাড়ির আঁচল ধসে পড়েছে কখন খেয়াল নেই সেদিকে। ইয়াশের গায়ের শার্টটাও গড়াগড়ি খাচ্ছে মেঝেতে। দুজনে মিলে হারিয়ে গেছে ভালোবাসা রাজ্যে।

#চলবে…

“পড়ুন রোমান্টিক ই-বই “রাগে অনুরাগে সিক্ত কাব্য”
https://link.boitoi.com.bd/GQcM

গল্প রিলেটেড সব আপডেট পেতে গ্রুপে জয়েন হোন।
https://facebook.com/groups/569604222322147/

টাইপো — জাহারা মেহরিন সুবহা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here