আমার উপমা তুমি (১০)
আফরোজা আঁখি
চোখ খুলে তাকাতেই পাশে শুয়ে থাকা ইয়াশের ঘুমন্ত মুখশ্রী নজরে আসল কাশফিয়ার। পরম যত্নে তাকে আগলে রেখেছে নিজের বাহুডোরে। ইয়াশের উস্কোখুস্কো চুল, ফর্সা মুখে খোঁচা খোঁচা দাড়ি ওর সৌন্দর্য যেন বাড়িয়ে তুলেছে আরও। কাশফিয়া হাত ছুঁয়ালো ওর পুরো মুখে। ইয়াশ নড়েচড়ে উঠতেই চোখ বন্ধ করে নিল কাশফিয়া। কাল রাতের কথা মাথায় আসতেই লজ্জায় লাল হলো ওর পুরো মুখ। কিছুক্ষণ না যেতেই মনে পড়ল কাশফিয়ার, ইয়াশের ফোনে বলা কথাগুলো। কৌশিকের এক্সিডেন্টের কারণ সে নিজে। করুণা দেখাতেই কি তবে বিয়ে করে বাড়িতে নিয়ে এসেছে তাকে! ছাদে তখন রোহির সাথে ইয়াশকে ওভাবে দেখে রাগ হয়েছিল কাশফিয়ার। সবকিছু ভুলে গেলেও ওই ঘটনাটা কি করে ভুলবে? ইয়াশ ভালোবাসেনি কাশফিয়াকে তার মনজুড়ে তো রোহিই আছে। নিজের গায়ের দিকে তাকাতেই পরনে থাকা ইয়াশের শার্টটা চোখে পড়ল ওর। রাগ হলো নিজের উপরেই। কী করে বসেছে এসব! কাশফিয়া উঠে বসল হুট করেই। ইয়াশের থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে বিছানা থেকে নামতে যাবে, তখনই ওর হাতের কব্জিতে টান পড়ল। ইয়াশ একটানে কাশফিয়াকে নিয়ে এল নিজের বুকে, শক্ত করে জড়িয়ে ধরল আগের মতো করেই। বলল গম্ভীর কণ্ঠে,
“পালাতে চাইছ আমার থেকে?”
নিজেকে ইয়াশের থেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করতে করতে বলল কাশফিয়া,
“না, সারাজীবনের মতো ছেড়ে যেতে চাইছি আপনাকে।”
কাশফিয়াকে বিছানায় ফেলে ওর দিকে কিছুটা ঝুঁকল ইয়াশ। শক্ত হাতে চোয়াল চেপে ধরে বলল,
“কি বললে? আবার বলো, আমি শুনিনি।”
ইয়াশের চোখগুলো কেমন লাল লাল হয়ে আছে, চেহারায় রাগের আভাস। একটু হলেও তো ইয়াশের রাগের সাথে পরিচিত সে। ভয়ে চুপ করে রইলো কাশফিয়া, কথা বলল না আর। ইয়াশের কি যেন হলো সব ভুলে ঠোঁট ছুঁয়ালো কাশফিয়ার ঠোঁটে। ওর মাথার এলো মেলো চুল গুলো খামচে ধরল কাশফিয়া। ইয়াশের রাগ হলো আচমকাই, কাশফিয়ার কিছুক্ষণ আগে বলা কথাগুলো বার বার মনে পড়ছে ওর। প্রচন্ড রাগে ইয়াশ চুমুর জায়গায় কামড় বসাল কাশফিয়ার কাঁপা কাঁপা পাতলা ঠোঁটে। ঠোঁটের তীব্র জ্বলুনি আর ব্যথায় কাশফিয়া নিজের সবটুকু শক্তি দিয়ে ধাক্কা দিল ইয়াশের বুকে। শক্তপোক্ত শরীরের ইয়াশের শক্তির সাথে পেরে উঠল না কাশফিয়া। হার মানল সে, পুরো শরীর জুড়ে ইয়াশের ঠোঁটের ছোঁয়ায় নুইয়ে পড়ল লজ্জাবতী পাতার ন্যায়।
———
ঘুম ভাঙতেই আশেপাশে তাকিয়ে দেখল ইয়াশ, কাশফিয়া নেই পুরো রুমের কোথাও। ভাবল, হয়তো ওয়াশরুমে গেছে। দ্রুত গিয়ে দেখল, ওখানেও নেই কাশফিয়া। মাথাটা কেমন করছে ইয়াশের, তখন কি একটু বেশিই মিসবিহেভ করে ফেলেছে ওর সাথে! এই হলো ইয়াশের সমস্যা নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না সে, অতিরিক্ত রাগে ভুলভাল কাজ করে বসে, পরে আবার নিজেই আফসোস করে।
শার্টের হাতা গুটাতে গুটাতে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামছে ইয়াশ। সুফিয়া বেগম টেবিলে খাবার সাজিয়ে অপেক্ষা করছিলেন ছেলের জন্য। ওকে দেখা মাত্রই জিজ্ঞেস করলেন,
“বউমা কোথায় ইয়াশ, সকাল থেকে দেখছি না মেয়েটাকে?”
কপালে ভাঁজ পড়ল ইয়াশের। কাশফিয়া কি তবে বাড়িতে নেই! ছেলের উত্তর না পেয়ে আবারও বললেন সুফিয়া বেগম,
“কি হলো, বলছিস না যে! কি এতো ভাবছিস?”
“কিছু না আম্মু। আমি যাচ্ছি।”
“যাচ্ছি মানে? কোথায় যাচ্ছো তুমি?”
কথা বলল না ইয়াশ, চুপচাপ চলে গেলো বাড়ি থেকে। আনোয়ার সাহেব এসে দাঁড়িয়েছেন স্ত্রীর পাশে, ছেলের যাওয়ার পানে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন তিনি। ভাবলেন মনে মনে,নিজেদের ভুলেই কি ছেলেটা আজ এতো দূরে সরে গেলো উনাদের থেকে! আফসোস হয় আনোয়ার সাহেবের ইয়াশ তো এতোটা গম্ভীর, কঠোর ছিলো না কোনো কালেই। পড়াশোনার জন্য ছেলেকে বাহিরে পাঠানোটাই কি তবে কাল হলো উনাদের জন্য?
———
কাশফিয়ার কাজে অতিষ্ঠ ইয়াশ না বলে বাড়ি থেকে চলে গিয়েছিল কিছুক্ষণ আগেই। ইয়াশ আবার খুঁজে নিয়ে এসেছে ওকে। কাশফিয়াকে খুঁজে না পেয়ে গাড়িটা নিয়ে বের হয়েছিল তখন, বারবার আশেপাশে তাকিয়ে খুঁজছিল তার উপমাকে। চোখ মুখে চিন্তার চাপ ইয়াশের, যে কেউ দেখলেই বলে দিবে, ভালো নেই সে। একটা খোলামেলা জায়গায় এনে গাড়িটা দাঁড় করিয়েছে ইয়াশ। দেখল, লোকজন সব জড়ো হয়েছে এক জায়গাতে, মনে হলো এক্সিডেন্ট হয়েছে। ওসব নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে কাশফিয়াকে খুঁজতেই ব্যস্ত হয়ে পড়ল ইয়াশ। কয়েকজনকে ওর ছবি দেখাল, কিন্তু কেউই দেখেনি কাশফিয়াকে। মাথাটা ঘুরছে ইয়াশের, অন্ধকার লাগছে চারিপাশ। কোথায় খুঁজবে সে তার উপমাকে! কয়েকটা লোক হেঁটে যাচ্ছে আর বলছে,
“মেয়েটার বয়স খুব কম, ১৭ কি ১৮ হবে। এই বয়সেই এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করতে হলো মেয়েটাকে? আহারে জীবন!”
অন্য লোকটাও উনার কথার উত্তরে এমন কিছুই বলল। কিছু মুহূর্তের জন্য মাথাটা কেমন করছিল ইয়াশের, দম বন্ধ লাগছিল ওর। চিন্তিত হয়ে সামনে গিয়ে দাঁড়ালো লোক দুটোর, জিজ্ঞেস করল উনাদের,
“মে… মেয়েটা দেখতে কেমন?”
লোক দুটো একজন অন্যজনের মুখ চাওয়াচাওয়ি করে উত্তর দিল ইয়াশের কথার,
“মুখটা পুরো তেললে গেছে, বাবা। চেহারা কেমন কিছুই বোঝা যাচ্ছে না। তবে মেয়েটার পরনে নীল রঙের শাড়ি।সাজসজ্জায় মনে হলো সে বিবাহিত।”
কয়েক পা পিছিয়ে গেলো ইয়াশ, খামচে ধরল নিজের মাথার চুল। এই ঠান্ডার মধ্যেও ঘেমে নেয়ে একাকার অবস্থা ওর। লোক দুটো বুঝল না কিছুই, জিজ্ঞেস করল কি হয়েছে। কাউকে উত্তর না দিয়েই ইয়াশ ছুটে চলল এক্সিডেন্ট হওয়া জায়গাটাতে। লোকজন ঠেলে ভিতরে ঢুকল সে। প্রথমে মনে হলো মেয়েটা তার উপমাই,কথাটা ভেবে আবার নিজেই নিজেকে বকা দিয়ে বলল, না না,এটা হতে পারেনা। মেয়েটার হাতের দিকে তাকালে বুঝতে পারল ইয়াশ মেয়েটার গায়ের রঙ শ্যামলা, উপমা তো ফর্সা। তাছাড়া এটা ইয়াশের উপমা হতেই পারে না। ওর কিছু হলে যে ইয়াশ মরে যাবে, ওর বুকের বাম পাশে চিন চিন ব্যথার সৃষ্টি হবে। ইয়াশ চলে আসল ওই জায়গাটা ছেড়ে, ভাবল এবার পুলিশ স্টেশনেই যাবে। আকাশে মেঘ ডাকছে হয়তো বৃষ্টি আসার জানান দিচ্ছে আকাশপানে তাকাল ইয়াশ বুকের বাম পাশটায় হাত দিয়ে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে মনে মনে বলল,
“তুমি কোথায় হারিয়ে গেলে উপমা আমার এখানটায় যে খুব ব্যথা করছে। কি করে সারাব এই ব্যথা? কি করে কাটাব তুমি নামক শূন্যতা!”
চোখ বন্ধ করে শ্বাস ফেলফ ইয়াশ, পা বাড়াবে গাড়িতে উঠার জন্য, তখনই রাস্তার ওপাশে চোখ গেলো তার নীল শাড়ি পরিহিত এক মেয়ে বসে আছে কৃষ্ণচূড়া গাছের নিচে। গাছের ফুলগুলোর দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসছে, আর কি যেন ভাবছে। মনটা এবার শান্ত হলো ইয়াশের। কিন্তু তার উপমাকে পেয়ে খুশি হওয়ার বদলে তরতর করে রাগ বাড়ল ওর। কাছে গিয়ে কাশফিয়ার হাত ধরে হিড়হিড় করে টেনে নিয়ে গেলো গাড়িতে। বাড়িতে এসেও ধমক দিয়েছে বেশ কয়েকটা। সুফিয়া বেগম দেখছিলেন ছেলে বউমার ঝগড়া,কিছু বলতে গেলেই ইয়াশ থামিয়ে দিল উনাকে।কাশফিয়া তর্ক করছিল ইয়াশের মুখে মুখে এক তো করেছে তার উপর এতো গলাবাজি! রাগ হলো ইয়াশেই আরেকবার কাশফিয়ার গালে চড় বসাতে গেলেই ফুফিয়ে কান্না করে উঠল সে। ওর গাল দুটো এমনিতেই লাল হয়ে আছে ইয়াশের শক্তপোক্ত, পুরুষালী হাতের পর পর কয়েকটা থাপ্পড় খেয়ে। কাশফিয়ার পাকনামোর জন্য দুই গালে চড় পড়েছে বেশ কয়েকটা। লোকটার প্রতি প্রচণ্ড রাগ জমেছে কাশফিয়ার কীভাবে অমানুষের মতো গায়ে তুলেছে ওর! সারাদিনে একবারও কথা বলেনি ইয়াশের সাথে। আর কখনো কথা বলবে না বলেই ঠিক করেছে। একবার ফিরিয়ে নিয়ে এসেছে তো কি হয়েছে, সে আবার চলে যাবে। এই বাড়িতে ইয়াশের সাথে থাকার থেকে ভালো, গলায় দড়ি দিয়ে মরে যাবে। কথাগুলো ভাবছে আর কান্না করছে কাশফিয়া। দরজার ঠকঠক আওয়াজে ধ্যান ভাঙলো ওর। তাকিয়ে দেখল রোহি দাঁড়িয়ে আছে দরজার সামনে। রোহিকে দেখেই কালকের ঘটনাটা মনে পড়ে গেলো আবার। ওকে ভিতরে আসতে না বলে বসে রইলো ওভাবেই। রোহি বুঝল, কাশফিয়া রেগে আছে কোনো কারণে। নিজেই রুমে ঢুকে বসল ওর পাশে। বলল কাশফিয়াকে,
“তুমি কি আমার উপর রাগ করেছ কাশফিয়া?”
চোখের পানি মুছে নিল কাশফিয়া, নিজেকে শান্ত করে ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটিয়ে বলল রোহিকে,
“না তো,আমিতো রাগ করেছি নিজের উপর,নিজের ভাগ্যের উপর!”
মুচকি হেসে বলল রোহি,—–“ইয়াশ তোমারই, কাশফিয়া। ওর হৃদয়ে যত্ন করে উপমা নামটাই খোদাই করে রেখেছে। কি ভাবছ, এগুলো আমার কথা? এগুলো হলো ইয়াশের কথা। ইয়াশ তোমাকে ভালোবাসে। বুঝতে পারছ, তুমি কতোটা ভাগ্যবতী? ভাগ্যের দোষ দিয়ে ভুল করো না মেয়ে।”
কাশফিয়া নিশ্চুপ রইলো, কেবল তাকিয়ে রইলো রোহির মুখপানে। মেয়েটার মুখে হাসি, অথচ ভিতরটা জ্বলে পুড়ে শেষ হয়ে যাচ্ছে, সামনের মানুষটা হয়তো জানেও না এটা। কাশফিয়ার চুপ থাকা দেখে আবারও বলল রোহি,
“আমি যাকে খুব করে চাইতাম, তুমি তাকে অবজ্ঞা করে দূরে ঠেলে দিও না কাশফিয়া। তুমি তো ভাগ্যবতী ইয়াশের উপমা তুমি।”
নিজের মনকে কিছুটা শান্ত করে কাশফিয়া প্রশ্ন করল রোহিকে,
“আগে চাইতে! এখন চাও না বুঝি?”
ছলছল চোখ জোড়া নিয়ে রোহি তাকিয়ে আছে কাশফিয়ার মুখপানে। কান্না আটকে রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে সে। নিজের দুর্বলতা প্রকাশ করতে চায় না কাশফিয়ার সামনে, তাই উঠে চলে গেলো দ্রুত।
———
সময়টা সন্ধ্যা, বাহিরের আবহাওয়া তেমন ভালো না। কিছুক্ষণ পরপরই আকাশে মেঘ ডেকে বৃষ্টি শুরু হচ্ছে। বৃষ্টির পানিতে ভিজে বাড়ি ফিরেছে ইয়াশ, কাশফিয়া বসে আছে বিছানায়। ইয়াশের অবস্থা দেখে টাওয়ালটা বের করে দিল ওকে। ইয়াশ টাওয়াল না নিয়ে চোখ রাঙিয়ে তাকাল কাশফিয়ার দিকে, মুখ ভেংচি কেটে কাশফিয়াও চলে গেল টাওয়ালটাকে মেঝেতে ছুড়ে ফেলে।
ইয়াশ রক্তচক্ষু নিয়ে তাকিয়েছে কাশফিয়ার দিকে, আবারও ঝামেলা হতে পারে ভেবে চোখ বন্ধ করে ঘুমানোর ভান করছে কাশফিয়া। হঠাৎই টান পড়ল হাতের কবজিতে, ইয়াশ ওকে টেনে তুলে বলল রাগ দেখিয়ে,
“বেরিয়ে যাও।”
কাশফিয়াও রেগে-মেগে বলল ইয়াশকে,
“গিয়েছিলাম তো, নিয়ে এসেছেন কেন? আমি নিয়ে আসতে বলেছিলাম আপনাকে?”
“আমার ইচ্ছে হয়েছিলো তাই নিয়ে এসেছিলাম, এখন ইচ্ছে করছে তাই যেতে বলছি। চলে যাও তুমি।”
“ঠিক আছে, যাচ্ছি।”
কাশফিয়া চলে যাচ্ছিল রুম থেকে। দরজার বাইরে পা রাখবে তখনই ইয়াশ একটানে ওকে নিয়ে এল নিজের কাছে, রেগে বলল,
“কার কাছে যাবে? বিপদে পড়লে আমি ছাড়া আর কেউ বাঁচাতে আসবে না কিন্তু।”
“মরে গেলেও আমি আর আপনার সাহায্য নেব না।”
কথাটা বলেই এক ঝটকায় ইয়াশের থেকে নিজের হাতটা ছাড়িয়ে নিয়েছে কাশফিয়া, বেরিয়ে গেছে রুম থেকে। নিচে নেমে সদর দরজা খুলে বাইরে পা রেখেছিল মাত্রই। কিছু দূর যেতেই প্রকৃতির তাণ্ডব দেখে ভয় পেল সে, শরীরের শাড়িটাও ভিজে গেছে এতক্ষণে। কাশফিয়ার মনে হলো জেদ করে বাড়ি থেকে বেরোনো ঠিক হয়নি ওর, আজকের দিনটা থেকে কালকেই না হয় চলে যাবে। আবারও বাড়ির দিকে হাঁটতে শুরু করলে ধাক্কা লাগল কারো প্রশস্ত বুকের সাথে। প্রথমে ভাবল ইয়াশ তাকে নিতে এসেছে। কিন্তু মুখ তুলে যখন তাকাল, সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ঈশানকে দেখতে পেল কাশফিয়া। মনে পড়ে গেল সেদিনের কথা, ভয়ে কয়েক পা পিছু হটল সে। ঈশান বাঁকা হেসে এগিয়ে এল কাশফিয়ার কাছে, বলল ওকে,
“রোজ সোনা পাখি আমার কাছে আসো, ভালোবাসা দেব তোমাকে।”
ঈশানের এমন কথায় রাগ হলো কাশফিয়ার, ইচ্ছে হলো চড় বসিয়ে দিতে লোকটার গালে, কিন্তু এসব কিছুই করল না, পালিয়ে যেতে চাইল সে। সামনে দিকে তাকিয়ে দৌড়াবে, তখনই ঈশান শক্ত করে ধরে নিল ওর হাত, নিজের কাছে নিয়ে গিয়ে অশালীন দৃষ্টিতে তাকাল কাশফিয়ার শরীরের দিকে। নিজেকে কেমন উন্মাদের মতো লাগছে ঈশানের, এই মেয়েটাকে তার চাই যেভাবেই হোক চাই। ইয়াশকে বুঝাবে, ওকে মারার শাস্তি কী হতে পারে। এই মেয়েটার জন্যই তো মেরেছিল! আজকে এই মেয়েটাকে নিজের করে ছাড়বে ঈশান।
ঈশান ক্রমশই কাছে আসছে কাশফিয়ার স্পর্শ করতে চাইছে ওকে। কান্না পাচ্ছে মেয়েটার, রাগে ঘেন্নায় চড় বসিয়ে দিয়েছে ঈশানের গালে। রেগে তাকিয়েছে ঈশান, কাশফিয়ার চুলের মুঠি ধরে বলছে মেজাজ দেখিয়ে,
“এত বড় সাহস তোর! ঈশানের গায়ে হাত তুলেছিস? তোর অহংকার আমি ভেঙে মাটির সাথে গুড়িয়ে দেব মেয়ে।”
প্রচণ্ড ব্যথায় চোখ মুখ কুঁচকে বন্ধ করে নিল কাশফিয়া। গলা ফাটিয়ে চিৎকার দিয়ে ডাকল ইয়াশকে। কিন্তু ইয়াশ কি শুনল ওর কণ্ঠস্বর? এই বর্ষণের দিনে কীভাবেই বা কানে যাবে কাশফিয়ার ডাক? ভয় হচ্ছে কাশফিয়ার,তবে মনে মনে বিশ্বাস আছে ওর যাই হয়ে যাক, ইয়াশ বাঁচিয়ে নেবে এসে। কিন্তু ইয়াশ কোথায়? সে কি শুনছে না কাশফিয়ার ডাক?
কাশফিয়াকে একটা অন্ধকার রুমে এনে ধাক্কা দিয়ে বিছানায় ফেলেছে ঈশান। লাইট অন করতেই দেখল কাশফিয়া ঈশান তার গায়ের ভিজে শার্টের বোতামে হাত চালাতে চালাতে এগিয়ে আসছে ওর দিকে। চোখে ওর লালসা, ঠোঁটের কোণে শয়তানি হাসি। ভিতরটা কেঁপে উঠল কাশফিয়ার, কি হতে যাচ্ছে বুঝতে পেরেই মাথাটা ভনভন করে ঘুরতে শুরু করল, ভয়ে শুকিয়ে গেল গলা। ইয়াশ ব্যতীত অন্য কেউ তাকে ছুঁবে ভাবলেও ঘেন্না লাগছে ওর। মনে মনে ভেবে নিয়েছে কাশফিয়া যাই হয়ে যাক, নিজের সতিত্ব হারাবে না সে। জান বাঁচাতে নিজেকে বিলিয়ে দেবে না অন্য কারো হাতে। হাত দিয়ে খুঁজে খুঁজে সেন্টার টেবিলের উপরে রাখা ফুলদানিটা হাতে তুলে নিল কাশফিয়া, সজোরে আঘাত করল ঈশানের মাথায়। কিন্তু তেমন কিছুই হলো না। ঈশানের মাথা থেকে কিছুটা রক্ত বের হলে হাত চেপে ধরল সেখানে, হিংস্র বাঘের ন্যায় ঝাঁপিয়ে পড়ল কাশফিয়ার ওপর। অঘটন ঘটে যাওয়ার আগেই কেউ এসে টেনে তুলল ঈশানকে, ভারী কোনো জিনিস দিয়ে পরপর কয়েকটা আঘাত করল মাথার কাটাস্থানেই। গগন কাঁপানো চিৎকার দিয়ে উঠল ঈশান। ঈশানের ভাঙা হাতটা পা দিয়ে চেপে ধরল লোকটা। ঈশান ছটফট করছে এক হাত মাথায় চেপে ধরে বারবার বলছে ওকে মেরে না ফেলতে।
ভয়ে আর আতঙ্কে কিছুক্ষণ আগেই জ্ঞান হারিয়েছে কাশফিয়া। শেষবার নিভু নিভু চোখে তাকিয়ে পরিচিত কাউকে দেখতে পেল সে। মানুষটা এসে পরম যত্নে বুকে জড়িয়ে নিয়েছে তাকে। আলতো করে চুমু দিয়েছে ওর কপালে। কাশফিয়ারও ইচ্ছে হলো একইভাবে জড়িয়ে ধরবে মানুষটাকে, কিন্তু কথা বলার শক্তিটুকুও অবশিষ্ট নেই তার মধ্যে জড়িয়ে ধরা তো দূর!
#চলবে…..
★
“পড়ুন রোমান্টিক ই-বই “রাগে অনুরাগে সিক্ত কাব্য”
https://link.boitoi.com.bd/GQcM
গল্প রিলেটেড সব আপডেট পেতে গ্রুপে জয়েন হোন।
https://facebook.com/groups/569604222322147

