আমার উপমা তুমি (১১) আফরোজা আঁখি

0
32

আমার উপমা তুমি (১১)
আফরোজা আঁখি

দরজায় কলিং বেল বাজতেই দ্রুত উঠে গিয়ে দরজাটা খুলে দিলেন সুফিয়া বেগম। ইয়াশ দাঁড়িয়ে আছে দরজার সামনে, বৃষ্টির পানিতে ভিজে গেছে ওর পুরো শরীর। ইয়াশের কোলে অচেতন কাশফিয়াকে দেখে বুকের ভিতরটা কেঁপে উঠল সুফিয়া বেগমের। মনে মনে আওড়ালেন তিনি — “মেয়েটার সাথে খারাপ কিছু হলো না তো!” উজ্জ্বল দাঁড়িয়ে আছে ইয়াশের পিছনেই, চোখের ইশারায় বুঝালো শাশুড়িকে খারাপ কিছুই হয়নি ওর সাথে। নিশ্চিত হলেন সুফিয়া বেগম। সিমি, রোহি, আফিয়া সবাই এসে দাঁড়িয়েছে দরজার সামনে, চিন্তিত হয়ে আফিয়া বলেছে ভাইকে কাশফিয়াকে নিয়ে রুমে যেতে। ইয়াশ কাশফিয়াকে এনে শুয়ালো বিছানায়, দরজাটা বন্ধ করে কোনো কিছু না ভেবেই চেঞ্জ করে দিল ওর পরনের ভিজে শাড়িটা। বাইরে বৃষ্টির প্রকোপ কমেছে, রাত পেরিয়ে সকাল হয়েছে। কালকের তুলনায় প্রকৃতি আজ অনেকটাই শান্ত। চারদিকে বাতাস বইছে ঠিকই, তবে বৃষ্টি হচ্ছে না। কাশফিয়ার মাথার কাছে বসে আছে ইয়াশ, মেয়েটার জ্ঞান ফিরেনি এখনও। ইয়াশও চাইছে জ্ঞান না ফিরুক সে চলে গেলেই না হয় চোখ খুলুক তার উপমা। ইয়াশ নিষ্পলক চোখে তাকিয়ে আছে তার উপমার মায়াবী মুখপানে। এই দুই তিন দিনে যা বুঝেছে, মেয়েটার প্রচুর রাগ জমে আছে ইয়াশের প্রতি। দূরত্ব না বাড়ালে নিজের জীবনে ইয়াশের গুরুত্বটাও যে বুঝবে না এই মেয়ে। অনেক ভেবেচিন্তেই তাই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইয়াশ সে চলে যাবে এখান থেকে। ইয়াশ উঠতে নিলেই খেয়াল করল কাশফিয়ার শাড়ির আঁচল আটকে আছে ওর হাতে থাকা ঘড়ির সাথে। ইয়াশ বসল আবারও চোখ গেলো কাশফিয়ার মুখের দিকে। কাশফিয়ার গোলাপসম পাতলা ঠোঁট জোড়ায় নিজের ঠোঁট ছুঁয়ালো সে। ভিজে চুমুতে ভরিয়ে দিল ওর পুরো মুখ। কি যেন ভেবে হুট করেই উঠে দাঁড়াল ইয়াশ নিজের মাথার চুল খামচে ধরেই চলে গেলো সে ওখান থেকে। কাশফিয়ার কাছে থাকলেই বিপদ বার বার ছুঁয়ে দিতে ইচ্ছে করে ওকে।

————-

কালো রঙের শার্ট আর কালো প্যান্ট পরেছে ইয়াশ, হাতে একটা স্মার্ট ওয়াচ আর মাথার এলোমেলো চুলগুলো হাত দিয়ে পিছনে ঠেলে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে আসছে। পিছনেই উজ্জ্বল আসছে, হাতে ব্যাগপত্র নিয়ে। ড্রয়িং রুমে উপস্থিত সবাই কেবল তাকিয়ে দেখছেন সবটা। কাউকে কিছু না বলে ইয়াশ যাচ্ছে কোথায় বুঝতে পারছেন না কেউ-ই। বাড়ির সদর দরজা পেরিয়ে বাইরে পা রাখবে, তখনই সুফিয়া বেগম ডেকে উঠেছেন ছেলেকে। দৌড়ে ওর কাছে গেলেন সবাই, কিন্তু কথা না বলে দাঁড়িয়ে রইলেন।
সকলেই ইয়াশ বুঝল না কিছুই, ভ্রু কুঁচকে তাকাল সবার দিকে। তারপর বলল,

“সমস্যা কী তোমাদের?”

সুফিয়া বেগম অসহায়ের মতো তাকিয়ে বললেন ছেলেকে,

“কোথায় যাচ্ছিস বাবা?”

“যেখানে এতদিন ছিলাম, সেখানেই ফিরে যাচ্ছি আম্মু। আমার জব আছে, জানো নিশ্চয়ই তুমি!”

“বাইরের দেশে চলে যাবি কেবল চাকরির জন্য? দেশে থাক না বাবা, আমাদের এতো বড় ব্যবসা, এই বাড়ি গাড়ি সব তো তোর জন্যই।”

হাসি পেল ইয়াশের। অবাকও হলো সে বাড়ির সবার এত চিন্তা তাকে নিয়ে! আগে কোথায় ছিল এই ভালোবাসা? তাচ্ছিল্যের স্বরে হেসে বলল ইয়াশ,

“তোমাদের সবার আমার জন্য চিন্তা হয় আম্মু? কবে থেকে সবাই ভাবতে শুরু করলে আমার ভালো মন্দ নিয়ে?”

দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন আনোয়ার সাহেব, ছলছল চোখে তাকিয়ে রইলেন ছেলের দিকে। সুফিয়া বেগমেরও একই অবস্থা। ঈশানকে আপন করতে গিয়ে নিজের পেটের ছেলেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছেন তিনি। আজ যে আফসোস হচ্ছে বড়ই! কেন পড়াশোনার জন্য বাইরে পাঠালেন ছেলেকে! আফিয়া ভাইয়ের হাত ধরে কত কী বলে আটকানোর চেষ্টা করছে ওকে। বাড়াবাড়ি দেখে উজ্জ্বল ধমক দিয়ে বলে উঠেছে আফিয়াকে,

“ইয়াশের ক্যারিয়ার আছে, আফিয়া। এতো বড় জব ছেড়ে এখানে পড়ে থাকলে হবে?”

“চুপ করো! তুমিই আমার ভাইটার মাথা খেয়েছো।”

নির্বাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো উজ্জ্বল। শেষমেশ এই কথা শুনতে হলো তাকে! বোনের কথায় রাগ হলো ইয়াশের। সেও ধমক দিয়ে বলল আফিয়াকে,

“চুপ কর তো আপু! খাওয়ার এতো জিনিস থাকতে দুলাভাই আমার মাথা খেতে যাবেন কোন দুঃখে!”

চুপ করে গেল আফিয়া। পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা সিমির মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে ওকে সুন্দর মতো পড়াশোনা করতে বলে চলে গেল ইয়াশ বাড়ি থেকে বেরিয়ে। কান্না শুরু করে দিলেন সুফিয়া বেগম। এতো কিছু করেও ছেলের মনের ভুল ধারণা ভাঙতে পারলেন না তিনি। আবার কবে ফিরবে উনার ছেলে? কবেই বা মা বাবা পরিবারের প্রতি অভিমান শেষ হবে তার!

ইয়াশের জিনিসপত্র সব গাড়িতে তুলে দিয়েছে উজ্জ্বল।এয়ারপোর্ট পর্যন্ত সে যাবে ইয়াশের সাথেই। গাড়িতে উঠে বসেছে ইয়াশ, ড্রাইভারের পাশের সিটটাতেই বসেছে সে আর পিছনে উজ্জ্বল। সামনের মিররের দিকে খেয়াল করল ইয়াশ পিছনেই দাঁড়িয়ে আছে রোহি। ইয়াশের মনে হলো রোহি কিছু বলতে চায় ওকে। উজ্জ্বলকে বসতে বলে নামল গাড়ি থেকে। এগিয়ে গিয়ে সামনে দাঁড়াল রোহির সামনে। ইয়াশ কিছু বলবে, তার আগেই বলল রোহি,

“শেষবারের মতো একটা জিনিস চাইব ইয়াশ, দিবে আমাকে?”

বনিতা না করে বলল ইয়াশ, “কি চাই?”

ইয়াশের দিকে কিছুটা এগিয়ে গেলো রোহি, ইয়াশ দাঁড়িয়ে আছে তার আগের অবস্থানেই। রোহি নিজেকে স্বাভাবিক করে বলল ইয়াশকে,

“তোমার ভালোবাসা চাই, ইয়াশ। একটু ভালোবাসা দিবে আমাকে? তুমি অন্যের জেনেও আমি প্রতিনিয়ত অন্যায় করছি তোমাকে ভালোবেসে। তুমিও সামিল হও না আমার অন্যায়ে, একটু ভালোবাসো না আমাকে! তুমি নামক শূন্যতা যে আমাকে প্রতিনিয়ত গ্রাস করছে। আমি বেঁচে থেকেও মরে যাচ্ছি, বুঝতে পারছ না তুমি? কেন একটু ভালোবাসো না আমায়, ইয়াশ!”

অন্য সময় ইয়াশ চুপ থাকলেও এবার রাগ হচ্ছে ওর।
রোহি তো জানে ইয়াশ কেমন! ওর মনজুড়ে কেবল উপমাই আছে। কেন বাচ্চামি করছে রোহি! ইয়াশ রেগে কিছু বলতে নিলে হুহু করে হেসে উঠল রোহি। হাসতে হাসতে কিছুটা পিছিয়ে গিয়ে বলল ইয়াশকে,

“তুমি কি ভাবলে ইয়াশ, আমি এগুলোই বলতে এসেছি তোমায়? না না, রোহি তোমাকে ভুলে গেছে। তার মনে জন্ম নেওয়া তোমার প্রতি সব ভালোবাসার মৃত্যু ঘটেছে।খুশি হয়েছ তুমি?”

কথা নেই ইয়াশের মুখে। কী-ই বা বলবে ইয়াশ? এটাই যে চরম সত্যি যে যাকে চায়, সে কখনোই তাকে পায় না, তার প্রতি ভালোবাসা জন্মে না।এই যে ইয়াশই নিজের সবটুকু দিয়ে ভালোবাসে উপমাকে, সে তো বুঝে না ইয়াশের ভালোবাসার গভীরতা! রোহিকে বরাবরের মতোই বলল ইয়াশ,

“অপাত্রে ভালোবাসা দান করবে কেন রোহি? তুমি বরং তাকেই ভালোবেসো যে তোমাকে তোমার মতো করেই ভালোবাসবে, চাইবে, আগলে রাখবে নিজের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত।”

মুচকি হাসল রোহি, মাথা নাড়িয়ে কেবল সায় জানালো ইয়াশের কথায়। ইয়াশও হাসল ওর হাসির উত্তরে। চলে গেল ইয়াশ।রোহি তাকিয়ে রইলো ওর যাওয়ার পানে। রোহির এই মন বুলানো হাসির পিছনে যে চাপা কষ্ট লুকিয়ে, তা কি বুঝল ইয়াশ?
হয়তো না। সামনের মানুষটা জানলও না মেয়েটার ভিতর পুড়ছে তার বিরহে।

————-

জ্ঞান ফিরেছে কাশফিয়ার। আশেপাশে তাকিয়ে বুঝল রুমটা ইয়াশের। বাড়ির সবাই ঘিরে রেখেছেন ওকে। কাশফিয়া তবে ভুল দেখেনি, মানুষটা ইয়াশই ছিলো! বিপদে পড়লে ওই মানুষটা ছাড়া কেই-বা সাহায্য করবে ওকে! কাশফিয়া খুঁজল ইয়াশকে, কিন্তু সবাই থাকলেও ইয়াশ নেই সেখানে। উজ্জ্বল দাঁড়িয়ে আছে দরজার সামনে, ইয়াশের সাথে যাওয়ার কথা থাকলেও ইয়াশ ওকে বাড়ি ফিরিয়ে দিয়েছে কোনো একটা কাজে। উজ্জ্বলও ওকে বিদায় জানিয়ে চলে এসেছে নিজের দায়িত্ব পালন করতে।
উঠে বসল কাশফিয়া। সুফিয়া বেগম দ্রুত গিয়ে বসলেন বউমার পাশে। আফিয়া গরম স্যুপ নিয়ে এসেছে ওর জন্য। মুখে তুলেও দেখেনি কাশফিয়া। পুরো রুমে চোখ বুলিয়ে দরজার দিকেই তাকিয়ে রইলো সে। হয়তো আশা করছে ইয়াশ আসবে, কাশফিয়া ওর কথা অমান্য করেছিল বলে বড়সড় ধমক দিবে ওকে। কিন্তু আসছে না ইয়াশ? ইয়াশ কোথায়? একবারও আসল না কেন তার উপমাকে দেখতে! ইয়াশ কি তবে রাগ করল?
ভাবনায় ছেদ পড়ল কাশফিয়ার। সুফিয়া বেগম ওর মাথায় হাত বুলিয়ে আদুরে গলায় বললেন,

“কাকে খুঁজছো মা?”

কাশফিয়া সব লজ্জা সংকোচ ভয় একদিকে সরিয়ে দিয়ে বলল,

“আপনার ছেলে কোথায়, আম্মু?”

দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন সুফিয়া বেগম। ইয়াশ তবে কাশফিয়াকেও বলে যায়নি কিছু! মায়ের চুপ থাকা দেখে বলল আফিয়া,

“ও চলে গেছে কাশফিয়া।”

বুকের ভিতরটা মোচড় দিয়ে উঠল কাশফিয়ার। ইয়াশ চলে গেছে মানে! কোথায় চলে গেছে তাকে ছেড়ে? দ্রুত বিছানা থেকে উঠল কাশফিয়া। ওর ভয়ার্ত মুখশ্রীর দিকে তাকিয়ে আছেন সবাই।কথাটা যে ও মানতে পারেনি, বুঝতে বাকি নেই কারোর।কাশফিয়া বলল আফিয়ার সামনে দাঁড়িয়ে,

“চলে গেছেন মানে? কোথায় চলে গেছেন আপু? আমাকে বলো, কোথায় গিয়েছেন উনি? আমিও যাব উনার কাছে!”

চোখ জোড়ায় পানি জমল আফিয়ার, কষ্ট হলো কাশফিয়ার অবস্থা দেখে। সুফিয়া বেগম এসে দাঁড়িয়েছেন বউমার পাশে, শান্ত হতে বললেন কাশফিয়াকে। কিন্তু কাশফিয়া যে শান্ত হতে পারছে না, ওর পাগল মনটা বার বার খুঁজে চলেছে ইয়াশকে। উজ্জ্বলের গম্ভীর কণ্ঠ কানে আসল সবার। কাশফিয়াকে উদ্দেশ্য করে বলল সে,

“ইয়াশ চলে গেছে কাশফিয়া, ওর কাজের জায়গাতে ফিরে গেছে। যাওয়ার আগে আমাকে বার বার বলে গেছে, তোমার কলেজের কাছের হোস্টেলটাতে তোমাকে রেখে আসতে।
ইয়াশ নিয়ম করে টাকা পাঠাবে প্রতিমাসে। তোমাকে মন দিয়ে পড়াশোনা করতে বলেছে।”

দপ করে বিছানায় বসে পড়ল কাশফিয়া। চোখ বেয়ে পানি পড়ছে ওর। ইয়াশ ওর মনটা দখল করে বলেছে মন দিয়ে পড়াশোনা করতে! যে মনে ইয়াশ আছ সে মন অন্য কিছুতে বসাবে কি করে? কাশফিয়া তো নিজের ভুল বুঝেছে, ইয়াশের থেকে দূরে সরে গিয়ে বুঝেছে ইয়াশ ব্যতীত ওর আপন কেউ নেই। তাহলে ইয়াশ কেন বুঝল না কাশফিয়া কষ্ট পাবে ও চলে গেলে! কেন ছেড়ে চলে গেল ওকে! সবাই বুঝাচ্ছে কাশফিয়াকে, শান্ত হতে বলছে ওকে। কিন্তু ছোট্ট মনটা যে ভেঙে চুরে চুরমার হয়ে গেছে ওর।যেদিকে তাকাচ্ছে ইয়াশকেই যে দেখছে। কি যেন ভেবে চোখের পানি মুছে নিল কাশফিয়া। সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে বেরুলো বাড়ি থেকে। চারদিকে খুঁজল ইয়াশকে, না পেয়ে আশাহত হয়ে বসে পড়ল খোলা রাস্তাতেই। আকাশে মেঘ ডাকছে তখন, প্রকৃতি জানান দিচ্ছে বৃষ্টি হবে এখনই। ভাবতে না ভাবতেই শুরু হলো তুমুল বর্ষণ বৃষ্টির পানি ভিজিয়ে দিল কাশফিয়ার পুরো শরীর।
ঝড় তুফান ভয় পায় কাশফিয়া, কিন্তু আজ কি হলো ওর?
অষ্টাদশীর মন জুড়ে যে তোলপাড় চলছে, তার কাছে তো ঝড়ের তাণ্ডব কিছুই না! কাশফিয়া যে শেষ হয়ে যাচ্ছে ভিতরে ভিতরে।
ইয়াশকে সে পাবে কোথায়? কষ্ট পেলে কেই বা সান্ত্বনা দিবে তাকে? ভয়ে গলা শুকিয়ে আসলে কার বুকে ঠাঁই পাবে সে?ভুল করে কার ধমকে চুপ করে যাবে? আজ নিজেকে অসহায় লাগছে কাশফিয়ার। সবাই কেন ছেড়ে চলে যায় ওকে? মা-বাবা, ভাই এখন ইয়াশ!

——

লম্বা একটা জার্নির পর লন্ডনের মাটিতে পা রাখল ইয়াশ। চারিদিকে তাকিয়ে যখন সামনে তাকাল, দেখল কিছু পরিচিত মুখ। ইনায়া ছুটে এসেছে ইয়াশের কাছে, এক গাল হেসে প্রশ্ন করল ইয়াশকে,

“তা প্রফেসার সাহেব, কেমন হলো বাংলাদেশ ভ্রমণ?”

বাংলাদেশের কথা উঠতেই ইয়াশের মাথায় আসল উপমা নামটা। একদিন তো পেরিয়ে গেছে, উপমা নিশ্চয়ই জেনেছে ইয়াশ চলে এসেছে তাকে ছেড়ে। সে কি কষ্ট পেয়েছে ইয়াশের চলে আসায়? সে কি অনুভব করতে পারছে ইয়াশের শূণ্যতা? হয়তো না! ইয়াশের অভিমানীর যে অভিমান হয়েছে, তার মনে যে ইয়াশের প্রতি ভালোবাসা কম, ঘৃণাই বেশি। যেটুকু ভালোবাসা ছিলো তাও কি চাপা পড়ল ঘৃণার নিচে? দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল ইয়াশ, ইনায়ার প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে ঠাট্টার স্বরে বলল ওকে,

“ওসব কথা পরে, তোর প্রেম কেমন চলছে বল?”

মুচকি হাসল ইনায়া, হয়তো লজ্জা পেল ইয়াশের কথায়, কথা কাটাল অন্য কিছু বলে। ইয়াশ বুঝল ইনায়া লজ্জা পেয়েছে ওর কথায়, হাসল মনে মনে। কয়েক পা এগুতেই এক ২০-২১ বছর বয়সী মেয়ে এসে দাঁড়িয়েছে ইয়াশের সামনে। পরনে সাদা-কালো টপস আর গলায় ঝুলানো কালো স্কার্ফ। ঠোঁটের কোণে হাসি লেগে আছে মেয়েটার। একটা ফুলের তোড়া ইয়াশের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে হাসিমাখা মুখ করে বলল সে,

“ওয়েলকাম স্যার।”

ইয়াশও হাসল মেয়েটার হাসির উত্তরে, ফুলের তোড়াটা নিয়ে ধন্যবাদ জানালো মেয়েটাকে। ভালো মন্দ জিজ্ঞেস করে ওদের নিয়ে আসা গাড়িটাতে উঠে বসল সে। আপাতত তাকে বাসায় যেতে হবে, লম্বা একটা শাওয়ার নিয়ে ঘুম দিতে হবে। নইলে যে মাথা ঠিক হবে না ইয়াশের।

#চলবে……

পর্ব ছোট কেন এই অভিযোগ কেউ করবেন না। ছোট পর্ব হলেও প্রতিদিন দিই।

পড়ুন রোমান্টিক ই-বই “রাগে অনুরাগে সিক্ত কাব্য”
https://link.boitoi.com.bd/GQcM

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here