#আমার_উপমা_তুমি [ ঈদ স্পেশাল ] 🙊
#আফরোজা_আঁখি
•০৪
ইয়াশ রুমে আসছিল, তখন ধাক্কা লাগল কারো সাথে। সামনের মেয়েটা ভাবল ইয়াশ ধরে নেবে ওকে, কিন্তু ইয়াশ দাঁড়িয়ে আছে সেই আগের মতোই। মেয়েটা দপ করে পড়ে গেল মেঝেতে। কোমরে হাত দিয়ে ইয়াশের মুখপানে তাকিয়ে বলল সে।
‘এটা কী হলো ইয়াশ?’
‘আমার সামনে দপ করে এক আলুর বস্তা পড়ল।’
‘কীহ! আমি আলুর বস্তা?’
‘তাছাড়া কী?’
কথাগুলো ফোনের স্ক্রিনের দিকে দৃষ্টি রেখেই বলেছে ইয়াশ।কথা বলা শেষে চলে যাচ্ছিল নিজের রুমে। মেঝেতে বসে থাকা রোহি উঠে দাঁড়িয়ে ডেকে বলল ইয়াশকে।
‘আমি কি দেখতে এতোটাই খারাপ ইয়াশ? আমার দিকে তাকালে কি পাপ হতো তোমার!’
ইয়াশের পা জোড়া থেমে গেলো, এগিয়ে এল রোহির কাছে। রোহির প্রশ্নের উত্তরে বলল সে।
‘তুমি কি জানো আমি বিবাহিত? আমার সুন্দরী বউ থাকতে তোমার দিকে তাকাব কেন?’
রোহি পিছিয়ে গেল কয়েক পা। এটা শোনার জন্য প্রস্তুত ছিল না সে। কী বলল ইয়াশ! সে বিবাহিত! ইয়াশ কি মজা করছে রোহির সাথে! কৌতূহল দমাতে না পেরে রোহি জিজ্ঞেস করল ইয়াশকে।
‘তুমি কি মজা করছ আমার সাথে?’
‘সিরিয়াস বিষয় নিয়ে আমি ঠাট্টা মজা করি না রোহি, এটা তুমি ভালো করেই জানো।’
ইয়াশ চলে গেল নিজের রুমে। রোহি নীরব দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল ওর যাওয়ার পানে। রোহির ভিতরটা শুকিয়ে এল, মাথাটা কেমন ভনভন করছে ওর। ইয়াশ কি সত্যিই বলছে এসব! হোস্টেল থেকে বাড়িতে আসল কিছুক্ষণ আগেই। সিমিকে বারবার কল দিয়ে জিজ্ঞেস করছিল ইয়াশ এসেছে কিনা। উত্তর পাওয়ার সাথেসাথেই রোহি চলে এসেছে এখানে। এমন কিছু শুনতে হবে জানলে সে আসতো না কোনোভাবেই। সিমি এসে দাঁড়িয়েছে রোহির পাশে, বলছে ওকে।
‘কখন আসলে ফুপি?’
নিজেকে স্বাভাবিক করে বলল রোহি,
‘এইতো, এখনই।’
‘ঈদের ছুটিতে এসেছ তাই না? এবার আর তোমাকে যেতে দিচ্ছি না। আমি, মামাই আর তুমি মিলে ঘুরতে যাব। সাথে নতুন মামীকেও নেব।’
‘নতুন মামি!’
‘হ্যাঁ, মামাই বিয়ে করেছে। আব্বু বলেনি তোমাকে?’
রোহির মুখটা অন্ধকারে ঢেকে গেল মুহূর্তেই। কেন যেন রাগ হলো ওর। ধমক দিয়ে বলে উঠল সিমিকে।
‘এতো কথা কিসের সিমি! পড়তে যা, তোর না পরীক্ষা সামনে!’
সিমির হাসি মুখটা চুপসে গেল মুহূর্তেই। ফুপির মেজাজ খারাপ হলো কেন বুঝল না সে। চুপচাপ চলে গেল রোহির কাছ থেকে।
————
বিকেলে অনেক আত্মীয়রা এসেছেন ইয়াশকে দেখতে। এসে যখন শুনলেন ইয়াশ বিয়ে করে বাড়িতে বউ নিয়ে এসেছে, কত রকমের কথা বললেন একেকজন। কেউ কেউ আবার বলছিলেন, বিদেশেই হয়তো বিয়ে করে নিয়েছিল এই মেয়েকে, তাই সে এতো করে বলার পরেও আসেনি এতোদিন। সুফিয়া বেগমের মুখের দিকে তাকানো যাচ্ছিল না তখন। সিমিকে পাঠিয়েছেন কাশফিয়াকে নিয়ে আসতে, সবাই দেখতে চাইছিল ওকে। মাথায় ওড়না টেনে রুমভর্তি মানুষের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে কাশফিয়া। পরনে শাড়ির বদলে থ্রিপিস দেখেই মেজাজ খারাপ হয়ে গেছে সুফিয়া বেগমের। তিনি কিছু বলবেন, তার আগেই পাশের বাড়ির এক ভদ্রমহিলা বলে উঠেছেন।
‘বাড়ির বউয়ের এমন সাজ কেন সুফিয়া? তোমাদের বাড়ির বউয়েরা তো এভাবে থাকেনা। তাছাড়া এই মেয়ের বয়স তো আমাদের সিমির মতোই হবে। যাই বলো ইয়াশের পাশে ওকে এই মেয়েকে মানায় না।’
কাশফিয়ার কানে গেলো কিছু কথা, অস্বস্তি হচ্ছে ওর এসব শুনে মাথাটা নুইয়ে নিয়েছে তখনই। সুফিয়া বেগম উঠে এলেন কাশফিয়ার কাছে। আস্তে আস্তে বললেন ওকে।
‘এই মেয়ে, শাড়ি পড়তে বলেছি না তোমাকে! এসব কী পড়েছ! আমার গুণধর ছেলে কি তোমাকে শিখিয়ে দিয়েছে, মা যা বলবে তার উল্টোটা করবে!’
মেঝের দিকে তাকিয়েই জবাব দিল কাশফিয়া।
‘আ… আসলে আমার শাড়ি পড়ার অভ্যাস নেই।’
‘বড়লোক ছেলে পটানোর ভালোই অভ্যাস আছে, তাই না?’
সবার সামনে আফিয়ার এমন কথায় অস্বস্তিতে পড়লেন সুফিয়া বেগম। উজ্জ্বল মাত্রই অফিস থেকে এসেছে, স্পষ্টই শুনেছে আফিয়ার কথা। ধমক দিয়ে বলে উঠেছে ওকে।
‘আহ, তোমার কি সুবুদ্ধি হবে না কখনোই? মেহমানদের সামনে নতুন বউকে কী বলছ এসব?’
‘যা বলেছি, ঠিক বলেছি। তুমি জানো না, আমাদের রোহি ইয়াশকে পছন্দ করে। এই মেয়ে উড়ে এসে জুড়ে বসলেই আমি মেনে নেব নাকি!’
‘তুই মানার না মানার কে, আপু? আমার জীবন, আমার ইচ্ছা। আমি কাকে বিয়ে করব না করব, এটা কি তোমরা বলে দেবে? এই খন্দকার মঞ্জিলের সব নিয়মকানুন কি কেবল আমার জন্যই?’
গম্ভীর কণ্ঠের এমন কথায় থমকাল সবাই-ই। চুপ করে গেল আফিয়া, ঘরভর্তি মেহমানসহ বাড়ির সবার দৃষ্টি তখন ইয়াশের দিকে। রুম থেকে বেরিয়ে এসেছে রোহিও, দাঁড়িয়ে আছে রুমের এক কোণে। ইয়াশ এগিয়ে এল কাশফিয়ার কাছে, হাত টেনে নিজের কাছে আনল ওকে। চোখ মুখ থেকে চিন্তা ভাবটা মুহূর্তেই সরে গেলো কাশফিয়ার,ইয়াশ বলল সবাইকে উদ্দেশ্য করে।
‘ও ছোট! বয়সে আমার সাথে যায় না,এটা কোনো ব্যাপার না! আমি ওকে খাইয়ে পড়িয়ে বড় করে নেব। আমার পাশে উপমাকেই মানায়, আই রিপিট, উপমাকেই মানায়! আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আপনাদেরকে ভাবনা চিন্তা করার দায়িত্ব দিইনি আমি।’
সবার মুখগুলো চুপসে গেলো মুহূর্তেই, লজ্জায় মাথা নিচু করে ফেললেন নিজেদের। ইয়াশ ওর আম্মুর দিক্ব তাকিয়ে বলল।
‘আমি এই বাড়ি থেকে চলে যাচ্ছি।’
তড়িঘড়ি করে ছেলের সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন সুফিয়া বেগম। স্বামীও ওনার বাসায় নেই এই সময়টাতে। চিন্তিত কণ্ঠে বললেন ছেলেকে।
‘চলে যাবে মানে? কোথায় যাবে তুমি?’
‘থাকার জায়গার অভাব হবে না, আম্মু। যেখানে আমার ওয়াইফের সম্মান নেই, সেখানে আমি এক মুহূর্তও থাকব না।’
আফিয়া ছলছল চোখে তাকিয়ে আছে ভাইয়ের দিকে। কী-ই বা বলেছে সে! ইয়াশের কাছে বোনের চেয়ে বাইরের একটা মেয়ে এত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠলো! আফিয়া কাছে এল ভাইয়ের, বলল ওকে।
‘বাইরের একটা মেয়ের জন্য আমার সাথে তুই এভাবে কথা বলছিস ইয়াশ? এই মেয়েই তোর সব হলো? আমরা বুঝি কেউ নই!’
‘ও আমার হাত ধরে আমাকে বিশ্বাস করে এই বাড়িতে এসেছে, আপু। আমি কীভাবে ওর অপমান সহ্য করি!’
সুফিয়া বেগমেরও রাগ কম হয়নি আফিয়ার কথায়। চোখের ইশারায় শাসালেন মেয়েকে, ক্ষমা চাইতে বললেন ইয়াশের কাছে। আফিয়া ভাইয়াকে বড্ড ভালোবাসে, চাইছে না কোনোভাবেই বাড়ি ছাড়া হোক সে। ইচ্ছা না থাকলেও সরি বলেছে কাশফিয়াকে। কাশফিয়ার কেমন খারাপ লাগল আফিয়ার জন্য। কিছু বলতে নিলেই ইয়াশ চোখের ইশারায় চুপ থাকতে বলল ওকে। উজ্জ্বল মিটিমিটি হেসে বলছে ইয়াশকে।
‘এই না হলো আমার শালা, বউকে এভাবেই ভালোবাসতে হয়।’
ইয়াশ কথা বলল না, চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইলো ওখানেই। চোখ মুখে ওর রাগ স্পষ্ট। সুফিয়া বেগম জানেন ছেলের রাগ সম্পর্কে, হাতে পায়ে ধরে বুঝালেন ওকে। ইয়াশও মানল মায়ের কথা, কাশফিয়ার হাত ধরে নিয়ে গেলো ওকে রুমে। পুরোটা সময় রোহি এক ধ্যানে তাকিয়ে আছে কাশফিয়ার দিকে। মেয়েটার কী ভাগ্য! সে প্রতিনিয়ত যে মানুষটাকে চাইল, এই মেয়েটা কষ্ট ছাড়াই তাকে পেয়ে গেলো? কী আছে এই মেয়েটার মধ্যে! কিছু তো একটা আছেই, নইলে ইয়াশের মতো গম্ভীর, বদমেজাজি একটা মানুষ তার প্রেমে মজে! কীভাবে সবার থেকে সুন্দর করে প্রটেক্ট করল মেয়েটাকে। রোহির যে হিংসা হচ্ছে কাশফিয়ার ভাগ্যের উপর এই ভাগ্যটা ওর হলো না কেন? চোখ গড়িয়ে দু’ফোটা পানি পড়ল রোহির, কাউকে তা বুঝতে না দিয়ে চলে গেলো রুমে।
—————
সময় গড়িয়েছে দুই-তিন দিন। বাড়িতে কত আয়োজন চলছে ঈদের। হ্যাঁ, কালকেই ঈদ-উল-আজহা। মামাকে ছেড়ে এই বাড়িতে কাশফিয়ার প্রথম ঈদ। ভাইয়ের সাথে কথা হয় না ওর অনেক দিন। ইয়াশের হাত ধরে এই বাড়িতে আসার কারণটাই যে নিজের ভাইকে খুঁজে পাওয়া। যত দ্রুত সম্ভব কাশফিয়াকে যোগাযোগ করতে হবে ওর ভাইয়ার সাথে,নইলে যে কোনো ভাবেই শান্তি পাচ্ছে না মনে। কত কী ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়েছে, কখন নিজেও জানে না কাশফিয়া। ইয়াশ আস্তে আস্তে হেঁটে রুমে এসেছে ওর। পরক্ষণেই আবার নিজেকে বকাঝকা দিয়ে মনে মনে ভাবছে—–“নিজের রুমে এমন চোরের মতো ঢুকল কেন সে?” নিজের ভাবনায় নিজেই বিরক্ত হলো ইয়াশ।এগিয়ে গিয়ে সোফার পাশের সেন্টার টেবিলের উপর কয়েকটা শপিং ব্যাগ রাখল।সবগুলোই এনেছে তার উপমার জন্য। মেয়েটাকে ডাকতে যাবে, তখনই দেখল বেঘোরে ঘুমাচ্ছে মেয়েটা। পা থেকে মাথা পর্যন্ত ভালো করে দেখল কাশফিয়াকে। ভাবনায় এল ইয়াশের কালই তো ঈদ, মেয়েদের হাতে মেহেদি না থাকলে মানায়? কী যেন ভেবে হাসল ইয়াশ। আসার সময় জামাকাপড়ের সাথে শপ থেকে মেহেদির প্যাকেট নিয়েই এসেছিল। কাশফিয়ার কাছে এসে মেঝেতে বসল হাটু গেড়ে,কাশফিয়ার একটা হাত টেনে নিজের কাছে আনল ইয়াশ। আনাড়ি হাতে পরিয়ে দিল মেহেদি। আস্তে আস্তে বালিশের উপর কাশফিয়ার হাত দুটো রেখে চলে গেলো রুম থেকে। মেয়েটা কি বুঝলো এগুলো? হয়তো না। ঘুমন্ত কাশফিয়া হয়তো জানেও না কেউ একজন তাকে নিয়ে যতোটা ভাবে সে নিজেও হয়তো ততোটা ভাবেনা।
————
মন খারাপ করে বসে আছে কাশফিয়া, বিছানার উপরে রাখা শাড়িগুলোর দিকে তাকাচ্ছে বারবার। একটু আগেই সুফিয়া বেগম এসেছিলেন এই রুমে, কাশফিয়াকে বললেন শাড়ি পরে নিচে আসতে, ঈদের দিন বাড়ির বউ ঘরে বসে থাকবে ব্যাপারটা নাকি ভালো দেখায় না। কিন্তু কাশফিয়া যে শাড়ি পড়তে পারে না! একবারই পড়েছে, তাও জোর জবরদস্তি করে বিয়ের শাড়ি পড়িয়ে দিয়েছিল ওর মামী। ইয়াশ মাত্রই রুমে ঢুকেছিল, বিছানায় বসে থাকা কাশফিয়ার চিন্তিত মুখশ্রী নজরে এলো তার। শার্টের হাতাটা গুটাতে গুটাতে পাশে গিয়ে দাঁড়ালো কাশফিয়ার। ডাকল ওকে।
‘উপমা।’
কাশফিয়া মুখ তুলে তাকাল ইয়াশের দিকে, বলল মিনমিনে কণ্ঠে।
‘বলুন।’
‘মন খারাপ? কেউ কিছু বলেছে তোমাকে?’
কথা বলল না কাশফিয়া, মাথা ভর্তি চিন্তা নিয়ে বসে রইল সে আগের মতোই। ইয়াশের মনে হলো ওর ভাবনাই সত্যি হয়তো ওর মা বা বোন কেউ একজন এসে কথা শুনিয়েছে কাশফিয়াকে। ইয়াশ বসল ওর পাশে, বলল আবারও।
‘কে কি বলেছে আমাকে বলো।’
কাশফিয়ার মনে হলো ইয়াশ রেগে গেছে কোনো কারণে। ওকে শান্ত করতেই বলল সে।
‘কেউ কিছুই বলেনি আমাকে।’
‘তাহলে এভাবে মন খারাপ করে বসে আছ যে? তোমার ভাইয়াকে আমি নিয়ে আসব, অপেক্ষা করো কিছুদিন।’
‘ভাইয়ার জন্য মন খারাপ হয়নি।’
‘তাহলে!’
‘আমি শাড়ি পড়তে পারি না।’
ইয়াশের মনে পড়ল এখন, ওর আম্মুই তখন হম্বিতম্বি করছিলেন শাড়ি পড়া নিয়ে। ইয়াশ হয়তো বুঝল কী হয়েছে। কী যেন ভেবে হাসল সে, বলল কাশফিয়াকে।
‘আমি হেল্প করব?’
কাশফিয়ার কেমন লজ্জা হলো ইয়াশের কথায়। ফটাফট মাথা দুলিয়ে না না করে বলল ইয়াশকে।
‘তার দরকার নেই।’
‘ভয় পেয়ো না উপমা, আমি ওতোটাও খারাপ নই। বিশ্বাস করে দেখো একবার!’
ইয়াশ যতক্ষণ কথা বলেছে, কাশফিয়া এক ধ্যানে তাকিয়ে ছিল ওর মুখের দিকে। কী সুন্দর করে কথাটা বলল ইয়াশ! দেখা হওয়ার পর থেকে এই প্রথম ইয়াশকে ভালোভাবে কথা বলতে দেখল কাশফিয়া। তার ভাবনা তাহলে ভুল, ইয়াশ মোটেও তিত করলা নয়। হাসতেও জানে লোকটা। ইয়াশ বিছানা থেকে বেছে বেছে একটা নীল শাড়ি হাতে তুলে নিলো, নিজের চোখ বেঁধে নিল কাশফিয়ার গায়ের ওড়নাটা দিয়ে। যত্ন করে ওকে পড়িয়ে দিল শাড়িটা। পুরোটা সময় কাশফিয়া কেবল দেখছিল ইয়াশকে। এই মানুষটাকে যত দেখছে, ততোই অবাক হচ্ছে সে। কীভাবে সুপারম্যানের মতো এসে সব সময় সব বিপদ থেকে বাঁচিয়ে নেয় তাকে। শাড়ি পড়ানো শেষে কুচি ধরতে বলল কাশফিয়াকে, চোখের বাঁধন খুলে মেঝেতে বসে কুচিগুলো ঠিক করে দিল ওর। কাশফিয়া দাঁড়িয়ে আছে আয়নার সামনে, ইয়াশ তার ঠিক পেছনে। শাড়ির আঁচল টেনে কাশফিয়ার মাথায় দিয়ে দিলো ইয়াশ। ঠোঁটের হাসি চওড়া হলো কাশফিয়ার, হুট করেই মেঝেতে বসে পায়ে হাত দিয়ে সালাম করল ইয়াশকে। কি হচ্ছে বুঝতে না পেরে প্রশ্ন করল ইয়াশ।
‘আরে, কী করছ?’
‘আজকে না ঈদ, প্রথম সালামটা আমি আপনাকেই করলাম।’
ইয়াশ হাসল কেবল, কিছু না বলে রুম থেকে বেরিয়ে গেলো।যেতে যেতে বুকের বাম পাশটায় হাত দিয়ে বলছে বিড়বিড় কিরে—”পায়ে নয় উপমা,তুমি তো আমার এখানটায় থাকবে। কখনো হৃদপিন্ডের ব্যথা হয়ে কখনো আবার আমার ঠোঁটের কোণের হাসি হয়ে।” কথাগুলো ভেবে আনমনে হাসল ইয়াশ। কাশফিয়া চেয়ে রইলো ওর যাওয়ার পানে। লোকটা দেখতে মন্দ ন ঠিক যেন সিনেমার হিরোদের মতো। কতো সুন্দর কিরে উপমা নামে ডাকে তাকে। কাশফিয়া কি প্রেমে পড়ল এই তিত করলার? নিজের ভাবনায় নিজের হাসল কাশফিয়া।
#চলবে…..
★
পড়ুন রোমান্টিক ই-বই “রাগে অনুরাগে সিক্ত কাব্য”
https://link.boitoi.com.bd/GQcM
গল্প সম্পর্কে নিজেদের মতামত জানাতে জয়েন হন আমার গ্রুপে।
আমার গ্রুপ—https://facebook.com/groups/569604222322147

