আমার_উপমা_তুমি —০৫ #আফরোজা_আঁখি

0
33

#আমার_উপমা_তুমি —০৫
#আফরোজা_আঁখি

ইয়াশ যাওয়ার পর পরই কাশফিয়া ওয়াশরুমে গিয়েছিল। বেরিয়ে এসে বিছানার উপরে রাখা গিফট কার্ড, টাকা আর শাড়ি পেলো সে। এগুলো কার বুঝতে পারছে না কাশফিয়া। জিনিসগুলো নেড়েচেড়ে দেখল কিছুক্ষণ, বিড়বিড় করে আওড়ালো।

‘এগুলো কি আমার?’

‘রুমে কি তুমি ছাড়া আর কোনো মেয়ে আছে?’

ভড়কে তাকাল কাশফিয়া। এতো আস্তে করে বলল, লোকটা শুনে নিল কী করে? আমতা আমতা করে বলল ইয়াশকে,

‘না…আ, কিন্তু আমার জন্য এসব কেন?’

‘তুমি আমাকে এতো সুন্দর করে সালাম করলে, সালামি না দিলে বিষয়টা কেমন দেখায় না? তুমি তো পরে আমাকে কিপ্টে ভাবতে পারো। “ইয়াশ রায়হান” কিপ্টে নয় এটা বুঝাতেই তোমাকে সালামি দিলাম।’

মনে মনে হাসল কাশফিয়া। লোকটা কী সুন্দর অহেতুক লজিক দেখাতে পারে! তবে ইয়াশের আনা গিফটগুলো অনেক সুন্দর, ওর পছন্দের তারিফ করতে হয় বটে।

কাশফিয়ার দিকে তাকিয়ে কি যেন ভাবছে ইয়াশ। মাথা থেকে শাড়ির আঁচল পড়ে যাওয়ায় ফ্যানের বাতাসে চুলগুলো উড়ে এসে চোখ মুখে পড়ছে, বিরক্ত হচ্ছে কাশফিয়া। ইয়াশ লক্ষ্য করল বিষয়টা, কথা না বলে চাওয়ালো কাশফিয়াকে নিজের দিকে, যত্ন করে চুলগুলো সব গুজে দিল কানের পাশে। কাশফিয়া কেবল দেখে যাচ্ছে ইয়াশকে। হুট করেই ওর মাথায় আসল ভাইয়ের কথা, বলল ইয়াশকে,

‘আমাকে ভাইয়ার সাথে একবার কথা বলিয়ে দিবেন?’

মুহূর্তেই চোখ মুখের ভাবভঙ্গি পরিবর্তন হয়ে গেলো ইয়াশের। পিছিয়ে গেলো কয়েক পা। কাশফিয়া বুঝল না কিছুই, মনে হলো শরীর খারাপ হয়েছে। ইয়াশের কাছে গিয়ে গালে, কপালে হাত দিয়ে বলল সে,

‘কি হয়েছে আপনার, শরীর খারাপ লাগছে?’

‘না তো।’

‘ভাইয়ার সাথে একবার কথা বলিয়ে দিন না আমাকে। আমি শুধু জানতে চাই, ভাইয়া ভালো আছে কিনা।’

রাগত্ব স্বরে বলে উঠল ইয়াশ,

‘বলেছি তো ভালো আছে, এতো কথা কিসের উপমা! আমাকে সময় দাও, সময় আসলে কৌশিক ঠিক তোমার সাথে কথা বলবে।’

‘আপনার সাথে আমি এসেছি ভাইয়ার জন্যই, আর আপনি বারবার এড়িয়ে যাচ্ছেন বিষয়টা।’

মুখে মুখে তর্ক কোনো কালেই পছন্দ না ইয়াশের। মেয়েদের এতো বাড়াবাড়িও ভালো লাগেনা ওর। এই যে বারবার বলার পরেও কাশফিয়া উল্টো প্রশ্ন করে বসছে, রাগ লাগছে ইয়াশের। চোখ বন্ধ করে বড় বড় শ্বাস ফেলল ইয়াশ, নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণে রাখার বৃথা চেষ্টা চালালো কিছুক্ষণ। কাশফিয়াকে কিছু বলতে নিলেই দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা সিমির কণ্ঠস্বর ভেসে এল কানে।

‘মামাই, তোমাকে আর নতুন মামীকে সবাই নিচে ডাকছে।’

ইয়াশ তাকাল বাগ্নীর দিকে, নিজেকে স্বাভাবিক করে মুখে হাসি টেনে বলল ওকে,

‘আসছি, তুমি যাও।’

চলে গেলো সিমি। কাশফিয়া দাঁড়িয়ে রইলো ওখানেই। গুরুত্বপূর্ণ ফোনকল আসায় ইয়াশও চলে গেলো বাইরে।

বেশ কিছুক্ষণ পর রোহি এসে কড়া নাড়ল দরজায়। কাশফিয়া তখন বিছানায় বসে ছিলো। দরজার দিকে তাকাতেই অপরিচিত মুখ দেখল সে। মেয়েটা কে চেনে না কাশফিয়া। চিনবেই বা কী করে এসেছে তো মাত্র ৩-৪ দিন, হাতে গোনা দুয়েক জন ছাড়া এখনো বাড়ির সবাইকে দেখা হয়নি ওর। কাশফিয়া মুখে হাসি টেনে ভিতরে আসতে বলল রোহিকে। রোহিও আসল ওদের রুমে, পা থেকে মাথা পর্যন্ত ভালো করে দেখল কাশফিয়াকে। মেয়েটা সুন্দর, বয়স কম, গোলগাল চেহারার, ফর্সা দেখতে। মাথার লম্বা চুল, কাজল কালো চোখ এই চোখের মায়ায়ই বুঝি পড়েছি ইয়াশ! দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে ভাবল রোহি, মেয়েটাকে পছন্দ করার কারণ আছে বটে! কিন্তু রোহি কি দেখতে এতোটাই বাজে? ওকে ভালোবাসা যেতো না একবার? কথাগুলো ভেবে নিজেই নিজেকে বকাঝকা দিচ্ছে রোহি অন্য নারীর স্বামীকে নিয়ে কী ভাবছে সে! এসব! এগুলো যে পাপ। এদিকে কাশফিয়া তাকিয়ে আছে রোহির মুখপানে। মেয়েটা কে, জানতে ইচ্ছে করছে ওর। রোহি লক্ষ্য করল এটা, হেসে জিজ্ঞেস করল কাশফিয়াকে।

‘নাম কী তোমার?’

‘কাশফিয়া।’

ভ্রু কুঁচকে আরেকবার বলল রোহি,—–‘ইয়াশ যে তখন উপমা বলে ডাকল!’

সাথে সাথে উত্তর এল কাশফিয়ার থেকে,—–‘উনি উপমাই ডাকেন।’

আবারও কেমন মন খারাপ হলো রোহির। কী সুন্দর নাম দিয়েছে মেয়েটার ইয়াশ। ওর কেন এমন ভাগ্য হলো না? কেন চেয়েও পেলো না ইয়াশকে? প্রতিবার বাড়িতে আসলেই এই রুমটাতে আসতো রোহি। ইয়াশের রেখে যাওয়া সব জিনিসগুলো ছুঁয়ে দেখত সে। মনে হতো ইয়াশকেই ছুঁয়েছে। কিন্তু এখন এই রুমটাতে কেমন দমবন্ধ লাগছে। ওর প্রিয় মানুষটার সাথে এই রুমে অন্য এক মেয়ে থাকে। স্ত্রীর অধিকার নিয়ে তাকে স্পর্শ করে। না না, আর এগুলো ভাবতে পারছে না রোহি। বেশিক্ষণ এখানে থাকলে কান্না করে দিবে সে। দ্রুত বলল কাশফিয়াকে,

‘চাচি রাগ করবেন, তোমাকে না ডাকলেন অনেক আগে। তাড়াতাড়ি চলে এসো।’

রোহি চলে যাচ্ছিলো রুম থেকে। দরজার সামনে পা রাখতেই বলল কাশফিয়া।

‘আপনার পরিচয় দিলেন না তো?’

‘আমার পরিচয় জানলে তুমি খুশি হবে তো?’

‘তা হব না কেন?’

হাসল রোহি, যেতে যেতে বলল কাশফিয়াকে উদ্দেশ্য করে,

‘আমি রোহি।’

নামটা শোনা মাত্রই কপালে ভাঁজ পড়ল কাশফিয়ার, মনে হলো এই নামটা শুনেছে সে। হ্যাঁ, মনে পড়েছে তখন ইয়াশের আপুর মুখেই শুনেছিল, রোহি ইয়াশকে পছন্দ করে এই কথাটাই বলেছিলেন তিনি। আচ্ছা, মেয়েটা তো সুন্দর, পরী বললেও ভুল হবে না। ইয়াশ নিশ্চয়ই পছন্দ করে মেয়েটাকে? ওদের মধ্যে কী বাঁধা হয়ে দাঁড়াল কাশফিয়া? কিন্তু সবকিছুর পরেও এসব ভেবে তার এত খারাপ লাগছে কেন? কেন মনের মধ্যে কষ্ট হচ্ছে ইয়াশকে অন্য কারও পাশে ভাবতে? কাশফিয়া তো ভালোবাসে না মানুষটাকে, ওমন তিত করলার মতো স্বভাবের লোককে ভালোবাসবেই বা কে? কথায় কথায় মুখটাকে কষা আমের মতো বানিয়ে রাখে। কথাটা ভেবেই আনমনে হাসল কাশফিয়া। বেলকনিতেই দাঁড়িয়ে ছিল ইয়াশ, কাশফিয়া ভাবল ডাকবে ওকে। একসাথে নিচে যাবে দুজনে। ইয়াশ ব্যতীত কাউকেই তো চেনে না ভালো করে। দরজার সামনে যেতেই স্পষ্ট কানে এল কাশফিয়ার, কারও সাথে কলে কথা বলছে ইয়াশ চিন্তিত কণ্ঠে বলছে সে,

‘ও কী ঠিক আছে? বেঁচে আছে তো?’

‘বেঁচে আছে, তবে কন্ডিশন খুব একটা ভালো না। যখন তখন কিছু একটা হয়ে যেতে পারে।’

‘না না, ওকে বাঁচাতে হবে, নইলে যে আমি নিজেকে ক্ষমা করতে পারব না।’

কেবল ইয়াশের বলা কথাগুলোই শুনেছে কাশফিয়া, ফোনের ওপর প্রান্তে থাকা লোকটি কী বলেছে না বলছে, কানে আসেনি তার। কেমন অদ্ভুত ঠেকল বিষয়টা। সাথে মনে হলো ইয়াশ খুব চিন্তায় আছে। কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করল কাশফিয়া,

‘কাকে বাঁচানোর কথা বলছেন? কেনই বা ক্ষমা করতে পারবেন না নিজেকে?’

চমকে তাকাল ইয়াশ। “পরে কথা বলছি” বলে কেটে দিল ফোনের লাইন। মেজাজ দেখিয়ে বলল কাশফিয়াকে,

‘তোমাকে না বলেছি নিজের মতো থাকতে, আমাকে সব ব্যাপারে নাক গলানোর অধিকার দিয়েছি তোমাকে?’

‘আমি তো কেবল জানতে চাইলাম…’

পুরো কথাটা শেষ হওয়ার আগেই ইয়াশ থামিয়ে দিল ওকে। রেগে মেগে বলল ধমকের স্বরে।

‘এত জানতে হবে না তোমাকে। একটু ভালোভাবে কথা বলেছি দেখে নিজেকে আমার বউ ভাবতে শুরু করেছ তুমি? শুনো মেয়ে, ইয়াশকে পাওয়া এতটা সহজ না।’

কাশফিয়া রাগে না, সহজে তাই ইয়াশের কথায়ও রাগ লাগছে না ওর। তবে শেষ কথাটায় কেমন হাসি পেলো। মুখ ভেংচি কেটে বলল ইয়াশকে,

‘হুহ্! যেই না, চেহারা নাম রাখছে পেয়ারা। আপনাকে পাওয়ার জন্য বসে নেই কাশফিয়া। আমার পিছেই কত কত শাকিব খান ঘুরত।’

‘তা সেদিন তোমার শাকিব খানে’রা ছিল কোথায়? আমার থেকেই তো হেল্প নিতে হলো।’

‘আপনি কি আমাকে খোঁটা দিচ্ছেন?’

‘মনে করিয়ে দিলাম, তোমার ঠিকানা কেবল আমি পর্যন্তই উপমা।’

কাশফিয়াকে আসতে বলে চলে গেল ইয়াশ। শেষ কথাটা বলার সময় মুচকি হাসছিল ইয়াশ, গালে টোল পড়ছিল কি সুন্দর! কথাগুলো ভেবে হাসছে কাশফিয়া নিজে, পরক্ষণেই আবার নিজের মাথায় নিজে গাট্টা মেরে বলছে কাশফিয়া,

‘ধুর! এই লোককে নিয়ে তুই এত ভাবছিস কেন কাশফিয়া?’

—————

রাত হয়েছে অনেক, রুমে কাশফিয়া একাই ছিল। মনে হলো কেউ এসেছে। প্রথমে ভেবেছিল ইয়াশ, তাই তেমন খেয়াল করেনি বিষয়টা। কিন্তু যখন দেখল মেঝেতে হাঁটু গেড়ে বসে কেউ তাকিয়ে আছে ওর দিকে। আস্তে আস্তে এগিয়ে আসছে কাশফিয়ার দিকে ওর চোখ মুখে শ্বাস পড়ছে লোকটার, ভিতরটা কেঁপে উঠল তখনই। ইয়াশকে তো ভালো বলেই জানে কাশফিয়া, এমন কিছু করবে না এটাও জানে। তাহলে কে এসে বসেছে ওর সামনে? কে-ই বা কথা বলছে ফিসফিস করে? ভয়ে উঠে বসেছে কাশফিয়া, অপরিচিত কাউকে দেখে চিৎকার দিতে নিলেই সে হাত দিয়ে মুখ চেপে ধরেছে ওর, অশালীন দৃষ্টিতে তাকিয়েছে কাশফিয়ার দিকে। লোকটার হাতে কামড় বসিয়ে দিল কাশফিয়া। কিছুটা পিছিয়ে গিয়ে ভয়ে ভয়ে বলল,

‘কে আপনি? এত রাতে এখানেই বা কী করছেন?’

‘কাছে আসো রোজ।’

লোকটা হাত বাড়াল কাশফিয়ার দিকে। ভয়ে শরীর কাঁপছে কাশফিয়ার। ইয়াশই বা কোথায় গেল এই সময়? লোকটা নিজের হাত দিয়ে স্পর্শ করবে কাশফিয়ার গাল তখনই কেউ দ্রুত এসে টান দিল ওর হাতে। শক্ত হাতে গালে চড় বসিয়ে দিয়ে বলল রেগে মেগে,

‘হাউ ডেয়ার ইউ! র‍্যাসক্যাল! আমার রুমে ঢুকেছিস কার পারমিশন নিয়ে?’

ইয়াশের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ঈশানের ভাবমূর্তির পরিবর্তন হলো না তেমন, আবারও তাকাল বিছানায় গুটিশুটি মেরে বসে থাকা কাশফিয়ার দিকে। ঈশানের এমন চাহনিতে ভয় হলো কাশফিয়ার। দ্রুত এসে দাঁড়াল ইয়াশের পিছনে, বাহু আঁকড়ে ধরল ওর। ঈশানের মনে হয় পছন্দ হলো না বিষয়টা। ড্রিংক করে ঝাপসা দেখছে চোখে, ঠিক মতো দাঁড়াতেও পারছে না সে। তবুও নিজেকে ঠিক রেখে বলল ইয়াশকে,

‘শশশ! এটা তো আমার রুম, তোর রুম হলো কীভাবে?’

ইয়াশ বাঁকা হাসল, কী যেন ভেবে এগিয়ে গেল ঈশানের দিকে। ওর শার্টের কলার চেপে কাছে নিয়ে আসল নিজের, বলল বিড়বিড় করে,

‘বাহ! খন্দকার মঞ্জিলে মদ খেয়ে মাতলামোও হয়! কিন্তু ঈশান, তুই যে ভুল করেছিস, তোর এই নোংরা হাত দিয়ে আমার উপমাকে ছুঁতে চেয়েছিস, আমি কীভাবে ছেড়ে দিই তোকে?’

ইয়াশ টানতে টানতে নিচে নিয়ে গেল ঈশানকে। যাওয়ার আগে কাশফিয়াকে চোখের ইশারায় বলে গেলো নিচে না নামতে। কাশফিয়াও বাধ্য মেয়ের মতো শুনল ইয়াশের কথা। ড্রিম লাইটের আলো জ্বলছে কেবল। ঘুটঘুটে অন্ধকার পুরো বাড়িতে, রাত তো অনেক হলো এই সময়ে কেউ সজাগ থাকবে না, এটাই স্বাভাবিক। ইয়াশের রাগ লাগছে প্রচণ্ড। কয়টা চড় মেরেছে ঈশানের গালে, ঠিক নেই তার। ঈশানও এবার ক্ষেপেছে। নিজের সর্বশক্তি দিয়ে আঘাত করতে চেয়েছে ইয়াশকে। কিন্তু মাতাল অবস্থায় ইয়াশের শক্তির সাথে পেরে উঠেনি সে। ড্রয়িং রুমের জিনিসপত্র ভাঙার আওয়াজে জেগে গেছেন বাড়ির সবাই। হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এসেছেন ড্রয়িং রুমে। লাইট অন করতেই মেঝেতে বিধ্বস্ত অবস্থায় পড়ে থাকা ঈশানকে দেখল সবাই। ইয়াশের হাতে শক্তপোক্ত একটা কাঠের টুকরো, রক্ত ঝড়ছে ওটা থেকে। ওর কপালটাও কেটে গেছে খানিকটা। চোখ মুখে রাগ নিয়ে তাকিয়ে আছে ঈশানের দিকে। ইয়াশ আরেকবার আঘাত করতে যাবে ঈশানকে তখনই সুফিয়া বেগম মুখে হাত চেপে ডেকে উঠেছেন ইয়াশকে,

‘ইয়াশ, কী করছ এসব! ও ভাই হয় তোমার।’

ইয়াশ দাঁড়িয়ে ছিল খাবারের টেবিলের কাছে। রাগে মাথা ফেটে পড়ছে ওর। টেবিলে রাখা কাচের জিনিসপত্র সব ছুড়ে ফেলেছে মেঝেতে। চিৎকার দিয়ে বলে উঠেছে সুফিয়া বেগমকে,

‘ভাই! কিসের ভাই! আমার কোনো ভাই টাই নেই আম্মু, ও শুধু আর শুধুই তোমাদের ছেলে হয়, আমার কিছুই হয় না!’

বাড়ির সবাই-ই উপস্থিত ছিলেন তখন। ইয়াশের এমন রাগ দেখে ভয়ে হাত পা কাঁপছে সিমির, দৌড়ে নিজের রুমে চলে গেছে সে। বাকিরা হতবাক হয়ে কেবল তাকিয়ে আছে ইয়াশ আর ঈশানের দিকে। মাথায় প্রচণ্ড ব্যথা পেয়েছে ঈশান, মাথায় দুই হাত চেপে ডেকে বলছে মাকে,

‘আম্মু আমাকে বাঁচাও।’

ছেলের যন্ত্রণাময় আর্তনাদে ধ্যান ভাঙল সুফিয়া বেগমের। ইয়াশের থেকে চোখ সরিয়ে তাকালেন মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা ঈশানের দিকে। সবাই মিলে দৌড়ে এল ঈশানের কাছে। উজ্জ্বল আর বাকিরা মিলে নিয়ে গেল ওকে হসপিটালে। পুরোটা সময় ঘরের এক কোণে দাঁড়িয়ে ছিলেন আনোয়ার সাহেব। ছেলের এমন রাগের কারণ না বুঝলেও এটা বুঝতে পারছেন ভুল কিছু করেছে ঈশান। খুব সহজে রাগে না ইয়াশ কিন্তু রেগে গেলে তুলকালাম কান্ড বাধায় এটা ওনার জানা। কিন্তু নিজের ভাইকে এভাবে মারধর করাটা ভালো লাগল না তাঁর। কাছে এসে বললেন ইয়াশকে,

‘ঈশান ভুল করেছে?’

‘ভুল না করলে আমি ওকে মারতাম না, আব্বু।’

‘আমাদেরকে বলতে পারতে।’

‘তোমরা দুই একটা চড় থাপ্পড় দিতে, তাতে আমার মন ভরত না। ডক্টর যখন বলবে খন্দকার ঈশান তায়েফ ইজ নো মোর, তখন আমার মন শান্ত হবে।’

কপালে ভাঁজ পড়ল আনোয়ার সাহেবের। ছেলে তাঁর এত পাষাণ হলো কবে? কী-ই বা ভুল করেছে ঈশান, যে এভাবে মেরেও শান্তি হয়নি ইয়াশের? আনোয়ার সাহেব কথা বলতে চাইলেন ছেলের সাথে হাত উঁচিয়ে বাবাকে থামিয়ে দিল ইয়াশ, গটগট করে হেঁটে চলে গেল নিজের রুমে। ছেলের যাওয়ার পানে নির্বাক দৃষ্টিতে কেবল চেয়ে রইলেন আনোয়ার সাহেব।

#চলবে……

পড়ুন রোমান্টিক ই-বই “রাগে অনুরাগে সিক্ত কাব্য”
https://link.boitoi.com.bd/GQcM

গল্প সম্পর্কে নিজেদের মতামত জানাতে জয়েন হন আমার গ্রুপে।

আমার গ্রুপ—https://facebook.com/groups/569604222322147

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here