শুভ্রফুল — ১০ #কলমে_লিজা_আক্তার_আলো

0
47

#শুভ্রফুল — ১০
#কলমে_লিজা_আক্তার_আলো

[ কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ]

ঘুম ভাংতেই মাথাটা ঝিমঝিম করে উঠলো আলোর। হালকা ব্যাথা অুনুভূত হচ্ছে মাথায় । হাতটা কপালে নিতে যাবে তখনই নিজেকে কারোর বাহুডোরে দেখে চমকে তাকালো আলো। বিস্ফোরিত নয়নে তাকিয়ে রইলো শুভ্রর ঘুমন্ত বদনের দিকে। শুভ্রর উষ্ণ নিঃশ্বাস আঁচড়ে পড়ছে আলোর মুখের উপর। আলো বুঝতে পারলো সে বালিশে নয় বরং শুভ্রর হাতের উপর মাথা রেখে তার বক্ষস্থলে জায়গা করে নিয়েছে । পলকহীন তাকিয়ে রইলো আলো। বিরবির করে বললো সে,

” আমার অনুভূতি, অভিযোগ, ভালোবাসা, দুঃখ – কষ্ট, বিষণ্নতা, আমি আপনাকে কখনো বুঝতে দিবো না মি. শুভ্র শাহরিয়ার চৌধুরী। ওরফে আমার চৌধুরী সাহেব। আপনি আমার দূরের মানুষই রয়ে যাবেন। আমি আপনার থেকে দূরে থেকে অভ্যস্ত, আপনার ছায়াতলে নই।

কথাগুলো বিরবির করতে করতে তীব্র শক্তি দিয়ে শুভ্রর থেকে নিজেকে ছাড়ানো চেষ্টা করছে আলো।
কিন্তু, ছাড়ার বদলে শুভ্র আরো ঝাপটে ধরলো আলোর ছিমছাম গড়নের ছোট্ট দেহটাকে। ভড়কে গেলো আলো। বিস্ময়কর দৃষ্টিতে তাকালো শুভ্রর দিকে। সজাক না তবুও ছাড়ছে না। এতোবছর কোথায় ছিলো আজ এমন করছে কেন? আলোর অভিযোগ! আর বিরক্তি প্রকাশ পেলো শুভ্রের এহেন কাজে।

বেলা বাজে এখন অনেক, বাইরে রোদ ওঠেছে। পর্দার কারনে রুমে তেমন আলো আসেনি। আর গরম অনুভব হবে কিভাবে এসি বাড়িয়ে দিয়েছে শুভ্র। ওনি কি আজ ভার্সিটি যাবে না? আজ তো অনুষ্ঠান। আলো মুখটা শুঁকনো করে রইলো। স্যার বলেছে যেতেই যে হবে।

ডাকবে কিনা দ্বিধাবোধ করলো আলো। দ্বিধা দ্বন্ধ
কাটিয়ে আলো অনেক কষ্ট করে নিজের হাতটা ছাড়িয়ে কাঁপা হাতটা শুভ্রর হাত স্পর্শ করলো। শুভ্রর আঙুলে আঙুল ছুঁয়ে দিলো। নিজের পেটের উপর আগলে রাখা শুভ্রর শক্ত পোক্ত হাতটা টেনে নিজের থেকে সরানোর চেষ্টা করলো আলতো হাতে যেনো শুভ্রর ঘুম না ভাঙে।

” ডিস্টার্ব করো না তো আলো ঘুমোতে দাও। রাতে ঘুমোতে পারিনি।

চোখ বড় বড় করে তাকালো আলো শুভ্রর মুখপানে। লোকটা চোখ বন্ধ করে আছে । তবে সজাক মনে হচ্ছে। রেগে গেলো আলো ফুঁস করে ওঠে বলে উঠলো সে,

” সারারাত কি নাচ্ছিলেন? আমাকে ছাড়ুন আগে।
আর কবে আসলেন আপনি? কার সাথে ছিলেন যে ঘুমোতে পারেননি। আমি আপনাকে ডিস্টার্ব করিনি বরং আপনি আমায় ডিস্টার্ব করছেন। আমাকে ছুঁবেন না বলে দিলাম।

আলতো হাতে নয় আলো এক ঝটকায় ছাড়িয়ে নিলো শুভ্রের থেকে নিজেকে। রাগের তোপে শক্তি উদয় হয়েছে মেয়েটার। আলোর এমন উদ্ভট কাজে শুভ্রর ঘুম কবেই উধাও। সে ফ্যাল ফ্যাল করে আলোর দিকে তাকিয়ে আছে। মেয়েটা এতো কথা বলে? ঝগরুটে আলো?

আলো কপাল কুঁচকে শুভ্রর দিকে এক নজর তাকিয়ে পাশে তাকাতেই চিন্তিত হলো বাটিতে রুমাল ভেজানো, ট্যাবলেট রাখা, খাবার ও রাখা তবে খাওয়া হয়নি তেমন। আবার ও শুভ্রর দিকে তাকায়,

” এসব কি?

আলোর কথায় ত্যাড়াভাবেই উত্তর দিলো শুভ্র,

” নাচতে গেলে যেসব প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো লাগে।

চুল ভিজে অনুভব করলো আলো। মাথার বেন্ডেজ টা ও নেই, হাত ছুঁয়ালো কপালে ও মাথায়। বুঝতে পারলো না আলো তার জানামতে সে তো বেলকনিতে ছিলো। আলোর প্রশ্নবোধক চাহনিতে শুভ্র কিছুই বললো না। আলোর চোখ গেলো শুভ্রর গলদেশে, কামড়ের কয়েকটা স্পষ্ট চাপ। যা দাগ হয়ে কালচে হয়ে গিয়েছে। আধখোলা সার্টের বোতাম গুলো ছিড়া মাথায় কিছুই ডুকছে না আলোর কি হয়েছে এই লোকটার সাথে, প্রশ্ন করলো সে,

” কে আপনার এই অবস্থা করলো?

শুভ্র মৃদু হাসলো। চোখ দুটো ছোট ছোট করে বললো,

” তো আপনি জানেন না এসব কিভাবে হলো? কিছুই মনে নেই আপনার? আপনি আমায় কিভাবে পুরুষ নির্যাতন করেছেন৷ মনে পড়লে তো শান্তি পেতেন আপনি। তিন বছরের কষ্ট আমায় একরাতেই দিয়ে ফেলেছেন।

শুভ্রর কথায় আলো লজ্জায় মুর্চা গেলো। কি এমন করেছে সে যা তার মনে পড়ছে না। লজ্জায় চোখ নামিয়ে মনে করার চেষ্টা করছিলো সে। কিন্তু কিছুই মনে পড়ছে না আলোর।

শুভ্র বেডে থেকে নামতে নামতে বললো,

” মানুষ জ্বরের ঘোরে শক্তি পায় না। সেন্সলেস থাকে। বা অস্পষ্ট আবোলতাবোল কথা বলে আর আমার বউ, আমার নামে আমার কাছে নালিশ দিয়েছে। পানিশমেন্ট স্বরূপ কামড়ে দিয়েছে। চুল গুলোর বারোটা বাজিয়ে দিয়েছে। আরো…..

” চুপ করুন আপনি। আমি কিছুই করিনি আপনি সব মিথ্যা কথা বলছেন।

শুভ্র শব্দহীন হাসলো। বললো,

” তা তো আমি জানিই। কাকে বোঝাচ্ছো নিজের
সত্যি মিথ্যার কথা? মাথায় পানি না ডাললে ওই তীব্র গরম হওয়া কখনোই মাথা ঠান্ডা হতো না। সরি আগে জানলে ভিডিও করে রাখতাম।

আলো সবকিছু এড়াতে চলে যেতে নিলে হাত ধরে হেঁচকা টানে নিজের কাছে এনে ফেললো শুভ্র। আঁচড়ে পড়লো আলো শুভ্রর বক্ষস্থলে। শুভ্রর একহাত আলোর বাকানো ছোট্ট কোমরখানা জড়িয়ে নিলো নিজের সাথে। এলোমেলো চুলগুলো কানের পাশে স্বযত্নে গুঁজে দিয়ে ফিসফিসিয়ে বলে উঠলো,

” এসব লাভ ভাইট আমার আরো পাওনা আছে ম্যাম।
প্রতিদিন এমন তিন চারটা করে দিলে তিনবছরের শাস্তি স্বরূপ ভালোবাসা ও গুছিয়ে যাবে।

চোখ খিঁচে বন্ধ করে ফেললো আলো। লজ্জায় কেঁপে ওঠছে সে। শরীর কেমন অশার লাগছে। লোকটার মুখে কিছুই আটকায় না? ছাড়া পাওয়ার জন্য ছটফট করতে লাগলো সে। নিচু স্বরে বলে উঠে আলো ,

” বাজে কথা বলবেন না। আমাকে ছাড়ুন আমি ইচ্ছে করে কিছুই করিনি। তাই আমার দোষ দিবেন না।

শুভ্র আলোর মাথাটা ধরে নিজের কাছে টেনে কপালে চুমু খেলো। আলো আবেশে চোখ বন্ধ করে ফেললো।
ঘোর লাগা দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো আলোর দিকে। আলো ও তাতে সায় দিলো। ছবির ফ্রেমের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে তার ছোট্ট তনুমন ভুলে বসে আসলে মানুষ নাকি ছবি তাই তো বেহায়ার মতো তাকিয়ে থাকতো। আজ ও তার হেরফের হলো না। তার চোখের ভাষা কি লোকটা আদোও বোঝে? বোঝে তার চোখের গভীর কত যন্ত্রণা কত বিতৃষ্ণা লুকিয়ে আছে।

” আলো! এই আলো! দরজা খোল!

চমকে দূরে সরে আসলো আলো। ভয়ে সিঁটিয়ে গেলো সে। এসেছে এখন আর তার পিছু ছাড়বে না সাথে একটা অসভ্য ছেলে জন্ম দিয়েছে বউ থাকার পর ও অন্য মেয়ের দিকে কুনজর দেয়।

শুভ্র আলোকে ভয় পেতে দেখে হাত ধরলো আলোর।
সাথে করে নিয়ে দরজা খুললো সে। আতিকা বেগম
রাত অনেক অব্দি শুভ্রর আসার অপেক্ষা করেছিলেন।
কিন্তু, শুভ্র আসেনি। তাই তো এখন আসছিলো আলোকে কথা শুনাতে বাড়ি থেকে কিভাবে বের করা যায় সেই ব্যবস্থা করতে। কিন্তু শুভ্রকে দেখে ভড়কালো
আতিকা বেগম। নিজেকে দ্রুত সামলে নিয়ে হেঁসে উঠলেন তিনি বলেন,

” আরে শুভ্র যে, কত বছর পর দেখলাম ছেলেটাকে। কেমন আছিস শুভ্র বাবা আমার?

কথা বলছেন ঠিকই তিনি। তবে চোখ তার আলো ও আলো আর শুভ্রের মুঠোবন্দি হাতের দিকে। আলো
মাথা নিচু করে আছে। কারন একটায়, মানুষ মানুষকে ভয় পায় না ভয় পায় মানুষ ব্যবহারকে। আর এই মহিলার কথার যা ছিঁড়ি বলার বাহিরে। একটা সুস্থ মানুষকে অসুস্থ বানিয়ে দিতে তার কাছে ত্রিশ সেকেন্ডে
ই যথেষ্ট । শুভ্র লক্ষ করলো এবং ভদ্রতা বজায় রেখে বললো,

” আলহামদুলিল্লাহ আমি ভালো আছি। আপনি ভালো আছেন মামিমা?

চোখ সরিয়ে শুভ্রর দিকে তাকিয়ে আবার ও হাসলেন
তিনি। শুভ্র অবাক হলো চোখের সামনে গিরগিটির মতো রঙ বদলাচ্ছে মহিলাটা।

” আমি ও ভালো আছি। তা কখন এসেছিস তুই দেখলাম না তো আমরা কেউ ?

শুভ্র ও হাসি মুখে বললো,

” অনেক রাত করে আসছি মামিমা। আচ্ছা এখন যান আপনি আমরা কিছুক্ষণ পর নিচে আসতেছি।

মুখের উপর দরজা লাগিয়ে দিলো শুভ্র। আলো এতে ভিষণ অবাক হলো বললো,

” আপনি তো ওনাকে রীতিমতো অপমান করছেন। ওনি
যা ডেঞ্জারাস মহিলা।

” এটাই ওনার প্রাপ্য মিসেস। শুভ্র কথা বলে কিছুটা কাছে আসতে নিলে দূরে সরে দাঁড়ালো আলো। কিছুটা ধমকে বলে উঠলো,

” কাছে আসবেন না আমার।

ফোন হাতে নিয়ে অবাক হলো ন’টা বাজে এখন। চোখ দুটো বড় বড় করে শুভ্রর দিকে তাকালো। ফের বলে উঠলো আলো,

” আমার তো দশটার মধ্যে উপস্থিত থাকতে হবে। এখন কি হবে ন’টা পেরিয়ে যাচ্ছে তো।

” এই অসুস্থ শরীর নিয়ে কোথাও যেতে হবে না। ওইদিকটা আমি সামলে নিবো।

” আমি যাবো।

কথাটা বলে একটা সাদা শুভ্র শাড়ি বের করলো আলো
পেছন থেকে শুভ্র হাত টান দিয়ে নিজের দিকে ফেরালো। কিছুটা রাগ দেখিয়ে ফিসফিসিয়ে বলে উঠলো সে,

” সামান্য একটা গানের জন্য কোথাও যেতে হবে না।
গান গাওয়ার ইচ্ছে হলে আমার সামনে গাও কে বারন করেছে তোমায়? আমার বউ গান গাইবে আর কেউ মুগ্ধ হয়ে শুনবে তা তো এই শুভ্র হতে দিবে না।

” আপনার দেওয়ায় না দেওয়াতে কিছুই যায় আসে না মি. চৌধুরী। আমি যাবো মানে যাবো। কাউকে কথা দিলে সেটা জীবন দিয়ে হলে ও রাখার চেষ্টা করি। এখন তো আমি মরে যায়…..

” হুসসসসসস!

ঠোঁটে আঙুল ঠেকালো শুভ্র। রক্তিম চোখে তাকালো আলোর দিকে, ক্রোধান্বিত হয়ে বললো,

” কখনো যদি মরার কথা শুনি তাহলে এই শুভ্রই তোমায় মেরে ফেলবে বুঝলে বউ?

চক্ষু জোড়া লাল দেখে ভয় হলো আলোর বেশি বলে ফেললো নাকি? এ্যাহ এতোদিন দেখেনি মরে গেলে জানতো ও না আজ কষ্ট লাগছে ওনার।

মুখ ফিরিয়ে নিলো আলো। ওয়াশরুমে চলে গেলো সে।
বেশিক্ষণ থাকলে লোকটা আরো অনেক কথা শুনাবে।
তর্ক না করাই ভালো। শুভ্রর চোখে শুধু গতকালকের সকালে আলোর সাথে ঘটে যাওয়ার ঘটনার কথা মনে আসতেই কেন যেন অদ্ভুত ভয় কাজ করে। একটা মানুষ কিভাবে এতোটা কাছের হতে পারে কিছু মুহুর্তের মধ্যে? ভেবে পায় না শুভ্র। ভালোবাসা শব্দটার সাথে তার অনেক দূরত্ব। কিন্তু, ইদানীং তার আলোর জন্য সর্বদা ভয় কাজ করে হারানোর ভয়। শুভ্র বেলকনিতে চলে গেলো। দাঁড়িয়ে রইলো সে আনমনে। আলোকে সে বড্ড ভালোবেসে ফেলেছে।
_________________

” কতবড় সাহস শুভ্রর আমার মুখের উপর দরজা লাগিয়ে দিলো! নিশ্চয়ই ওই ফকিন্নি মেয়েটার কাজ।
শুভ্রর কাছে আমার নামে কান ভাঙিয়েছে সে। যা ইচ্ছে করে নে তোকে না তাড়াতে পারলে মেরে দিবো। এতোদিন শুধু শুভ্রর আসার অপেক্ষায় ছিলাম ওই ফকিন্নিকে এসেই ডিভোর্স দিবে কিন্তু শুভ্র উল্টা বউ নিয়ে খুশি। নাহ! আমি ডাকাত বংশের মাইয়া। মানুষ মারাটা আমার জন্য স্বাভাবিক ব্যাপার! টের ও পাবি না তোরা এই আধুনিক যুগে কত ধরনের বিষ আছে খাইয়ে মাটির বুকে রেখে আসবো।

একা একা বকতে বকতে চলে গেলেন আতিকা বেগম।
বাগানের কাছে আসতেই অচেনা দু’টো ছেলেকে দেখে
কপাল কুঁচকে তাকালো।

” কে তোমরা তোমাদের তো চিনলাম না। কার কাছে আসছো তোমরা ?

মিহুল ও রাফিন আসছে আলোর খালামনির সাথে কথা বলতে। ও বিয়ে করতে চাই আলোকে। অচেনা মহিলা দেখে সালাম দিলো তারা।

” আসসালামু আলাইকুম আন্টি। আপনি আমাদের চিনতে পারবেন না। আমি আলোর কাছে আসছি। আলোর খালামনির সাথে কিছু কথা আছে আমার।

মিহুলের কথায় সালামের উত্তর দিলো আতিকা বেগম।

” ওয়ালাইকুম আসসালাম। তবে কিসের কথা না জেনেশুনে তো ভেতরে যেতে দিতে পারি না।

রাফিন ইশারা দিতেই মিহুল বাধ্য হলো এখানেই বলতে।
দেরি করা চলবে না। কারন তার বাবা চাই না সে আলো
কে পাক। তাই ওনার বিরুদ্ধে গিয়ে একাই আলোর পরিবারের সাথে কথা বলতে চাই মিহুল। কেমন যেনো
নার্ভাসনেস কাজ করছে মিহুলের। পাওয়ার দেখিয়ে এমনিতেই যেতে পারতো কিন্তু এটা আলোর বাসা। আর আলোর বাসায় ভদ্র ভাবে না গেলে আলো রাগ করবে। আর আলোর রাগ মানে তাকে হারানো।

” আমি আলোকে ভালোবাসি। ওর পরিবারের সাথে বিয়ের বিষয়ে কথা বলে আসছি।

ভেতরে ভেতরে খুশিতে আত্মহারা হলে ও বাইরে গম্ভীর
হয়ে বলে উঠলেন তিনি এই তো সুযোগ।

” আমাদের বাড়ির মেয়েকে তো এভাবে তোমার হাতে তুলে দিতে পারি না। আমি ওর খালামনি। আমি তো আমার ছেলের সাথে ওর বিয়ে ঠিক করেছি। কিন্তু তুমি তো ওকে পাবে না। ওর আংকেল তা মানবে না।

নিহুলের আগে রাফিন ভয় পেলো। সে আতিকা বেগম এর কথা শেষ হতে না হতেই বলে উঠলো,

” আরে আন্টি আংকেলের কথা বাদ দিন আপনি। আলো ওকে ভালোবাসে আর ও আলোকে। প্লিজ আপনি সাহায্য করুন আমাদের। আলো ভালো থাকবে আমার বন্ধুর কাছে।

ভাবুক হয়ে চারদিকে তাকালেন আতিকা বেগম। কেউ নেই চারপাশে। চুপি চুপি বলেন,

” আমি ও চাই না আমার ছেলের বউ আলো হোক। আর আলো ও চাই না। আমি বিয়ে দিতে পারি কিন্তু আমার একটা শর্ত আছে। যদি রাখতে পারো তাহলে ভেবে দেখতে পারি।

” যা ইচ্ছে বলুন আমি শুধু আমার আলোকে চাই ব্যাস।

তিনি হাসলেন সয়তানি হাসি যাকে বলে। আপদ বিদায় হওয়ার এই তো সুযোগ নিজ থেকে এসে ধরা দিয়েছে।
তিনি বলেন,

” যদি আমায় দুলক্ষ টাকা দাও তাহলে তোমার হাতে কালই আমি তোমার আলোকে তুলে দিবো।

” আমরা কি ভেতরে যাবো না?

রাফিনের কথায় তাড়াহুড়ো দেখিয়ে বলে উঠলেন আতিকা বেগম,

” এই না না তোমার আংকেল আছে। আর আমি চায় না কেউ তোমাদের দেখুক। কালকে আমি নিজ হাতে আলোকে তোমার হাতে তুলে দিবো। মনে করে টাকাটা
নিয়ে এসো। এমনিতেই কত টাকা খরচ হয়েছে মেয়েটার জন্য। এখন আসো আর ফোন নাম্বারটা দিয়ে যাও।

রাফিন নাম্বার দিলো। কিন্তু মিহুল ভাবনায় ডুবে রইলো। তার চোখ বাড়িটার দিকে। কাউকে দেখা যাচ্ছে না।
চলে গেলো দুজন আতিকা বেগম এর তাড়া দেখানোর জন্য।

শব্দ করে হেসে উঠলেন আতিকা বেগম।

” উফ আপদ বুঝি এভাবেই বিদায় হয়। আর সাথে হাতে কিছু টাকাও আসবে। ভাগ্যিস বাইরে আসছিলাম নয়তো মিস করে ফেলতাম সব।

হাস্যমুখে ভেতরে চলে গেলেন তিনি।
_________________

আলো শাড়ি পড়ে বের হয় ওয়াশরুম থেকে। শুভ্র তাদের ছোট্র লিভিংরুমে বসেছিলো আলোর অপেক্ষায়। সময় নেই তাই চুল কোনোরকমে মুছে নিলো সে। হাঁটু অব্দি লম্বা চুলগুলো এলোমেলো হয়ে
পড়ে আছে আলোর পিট জুড়ে। দূর থেকে একজন নেষাতুর দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। আলো৷ নিজের মতো করে শাড়িটা ঠিকঠাক করছিলো। চুলগুলো আঁচড়াতে মিররে তাকাতেই হতবাক হলো আলো। পেছনে ফিরে তাকিয়ে বললো,

” আপনি!

” ইউ আর মাই শুভ্র ফ্লাওয়ার, মিসেস শুভ্র শাহরিয়ার চৌধুরী।

আলো শুভ্রর বেসামাল চাহনিতে, তার মাদকতা মেশানো কন্ঠে আঁটকে পড়ে গেলো ।

হঠাৎ তীব্র ও ঝাঁঝালো কণ্ঠে ফোনটা বেজে উঠলো আলোর,

চলবে,,,,,,

[ পেইজে ফলো দিয়ে লাইক কমেন্ট করবেন ]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here