শুভ্রফুল — ১১ #কলমে_লিজা_আক্তার_আলো

0
35

#শুভ্রফুল — ১১
#কলমে_লিজা_আক্তার_আলো

[ কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ]

” কখন আসবি তুই? সেই কখন থেকে তোর জন্য আমি অপেক্ষা করে যাচ্ছি!

আহির কথায় আলো ছোট্ট করে উত্তর দিলো,

” এই তো চলে আসছি।

” আচ্ছা জলদি আয়। তোর সাথে আমার আজ অনেক কথা আছে। না বললেই নয়!

” আচ্ছা বাই!

” বাই!

ফোনটা রেখে শুভ্রকে পাশ কাটিয়ে চলে গেলো আলো। এর মধ্যে শুভ্র বলে উঠলো,

” আমার সাথে যাবে। ওয়েট করো আমি আসছি।

” নাহ আমি যেতে পারবো। আপনি স্যার স্যারের মতো থাকুন না!

দাঁড়িয়ে গেলো শুভ্র। আলো হিজাব বাঁধতে বাঁধতে একপলক আড়চোখে তাকালো শুভ্রর মুখ পানে।
ভাবগতি তেমন ঠাহর করতে পারলো না।

” আমি ব্যথিত এক পা ও এই বাড়ির বাহিরে গেলে আমার চেয়ে খারাপ কেউ হবে না।

ঠান্ডা মাথায় হুমকি দিয়ে শুভ্র চলে গেলো ওয়াশরুমে শাওয়ার নিতে। হাসলো আলো, যা বলার বলুক। এই তো সুযোগ একাই চলে যাবে সে। এতো ভালোবাসা দেখাতে হবে না। বিরবির করে বলে নিচে আসলো আলো।

” আলো এসেছো তুমি? বসো আমি তোমাকে খাবার দিচ্ছি।

আতিকা বেগমের কথায় আশ্চর্যের সপ্তম আকাশে আলো। যেই মহিলা তার ছায়াটাও মারাই না, সহ্য করতে পারে না। অপছন্দের তালিকায় ফাস্ট হবে আলো। আর সেই মহিলা তাকে আদর করে খেতে বলছে? বিষটি মেশায়নি তো আবার খাবারের মধ্যে। সহ্য করার অসহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছে বোধহয়!

আলোকে অবাক হয়ে ভাবতে দেখে কাছে এলেন
আতিকা বেগম। আলোর হাত ধরে টেনে এনে চেয়ারে বসালেন তিনি। প্লেটে খাবার দিয়ে বললেন,

” আজ আমি রান্না করেছি তোমার পছন্দের খাবার
আর শুনো আমাকে মাফ করে দিও তোমাকে আমি এতোদিন অনেক কথা শুনিয়েছি। আসলে শুভ্র তোমায় পছন্দ করতো না তারউপর ছেলেটা বাড়ি ছাড়া হলো তোমায় বিয়ে করার জন্য তাই সব রাগ তোমার উপর ঝেড়েছিলাম।

বোবা বনে গেলো আলো। কি বলবে বুঝতে পারলো না সে। তবে ভালো কি না অভিনয় সেটা বোঝার উপায় নেই। আপাতত তার সাথে সায় দিতে হবে এটাই মূল কাজ এই মুহুর্তটা ঠিক রাখার জন্য।

” কি বলছেন এসব মামিমা। আপনি আমার বড় আপনি মাফ চাইবেন কেন? উল্টো আমার সবার কাছে মাফ চাওয়া উচিত। আমার জন্য আপনারা সবাই অনেক কষ্ট পেয়েছেন।

হাসলেন আতিকা বেগম। মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন,

” ঠিক আছে খেয়ে নাও তো। ভার্সিটি যেতে হবে তো।

” জ্বি

আল্লাহ ভরসা খেতে বসলো আলো। যা হওয়ার হবে। এমনিতে অনেক খিদে লেগেছে আলোর। তার খাওয়ার মধ্যে শুভ্র এলো। আফিয়া ও ফাহিমা চৌধুরী আসলেন। আসিফ চৌধুরী ও আরিফ চৌধুরী ব্যবসার কাজে বাইরে গিয়েছেন সেই ভোরে। অবাক হলে তিনজন আলোকে এতো যত্ন করে খাওয়াচ্ছে এই মানুষটা? যে সবচেয়ে বেশি কথা শুনিয়েছে আলোকে। আতিকা বেগম সবাইকে দেখে একটু বিব্রত হলে ও নিজেকে ঠিক করতে সময় নিলো না বেশি। হাসি হাসি মুখ করে
বলে উঠলেন তিনি,

” তোমরা এসে গিয়েছো বসো। আজ আমি সবাই কে নিজ হাতে খাবার বেড়ে খাওয়াবো।

আলো শুভ্রর দিকে তাকিয়ে ভাবছে একটা মানুষ কয়েক মিনিটের মধ্যে কিভাবে শাওয়ার নিলো? এতো তাড়া কিসের লোকটার। হয়তো তার জন্য, পরোক্ষণে চোখাচোখি হতেই চোখ নামিয়ে নিলো আলো। তাদের পরে নিচে আসলো রাফিদ ও রাফা। রাফিদ এসেই আলোর এক পাশে শুভ্র আরেকপাশে বসে পড়লো। শুধু বসেই নি বার বার তাকাচ্ছে কিভাবে যেনো। আচমকা এভাবে এসে পাশে বসাতে ভয়ে হতবিহ্বল হয়ে লজ্জা শরমের মাথা খেয়ে শুভ্রর হাত চেপে ধরলো আলো। খানিকটা সরে আসলো রাফিদের পাশ থেকে শুভ্রর কাছে। শুভ্র এতে অবাক হলো ভিষণ! ভয় পাচ্ছে কেন মেয়েটা? হাত ছাড়িয়ে নিলো সে। উঠে দাঁড়িয়ে গেলো তৎক্ষনাৎ! বলে উঠলো আলোর উদ্দেশ্যে,

” আলো আমার চেয়ারে এসে বসো।

আলো প্রথমে কষ্ট পেলো হাতটা এভাবে ছাড়িয়ে নেওয়ায়। পরবর্তীতে সস্থির নিঃশ্বাস নিলো। মৃদু হেসে দ্রুত দাঁড়িয়ে গেলো আলো বসলো শুভ্রর চেয়ারে। শুভ্র আলোর চেয়ারে বসতে বসতে টাস করে চাপড় বসালো রাফিদের কাঁধে। শাসনের স্বরে বললো,

” কিরে বউ রেখে বেড়াতে চলে আসছিস যে? মামিমা ওর বউ আসলো না কেন? বউ এর অবর্তমানে তো অন্যের বউয়ের দিকে চোখ চলে যেতে পারে।

অপমানবোধ করলো রাফিদ ও আতিকা বেগম । সে বারবার আড়চোখে তাকাচ্ছিলো আলোর দিকে। শুভ্র কি তাহলে লক্ষ করেছিলো। শুভ্র মনে মনে হাসলো। একটা ছেলের একটা মেয়ের প্রতি লোভাতুর দৃষ্টিটা কতটা কুৎসিত তা আরেকটা ছেলেই বুঝতে পারে। তবুও জোরপূর্বক হাসলো রাফিদ। আমতা আমতা করে বলে উঠলো,

” কি যে বলো না। সে তার বাবার বাড়িতে গিয়েছে।
নয়তো সাথে করেই নিয়ে আসতাম। তাই মা?

” ঠিকই বলেছে রাফিদ । বউমা বাসায় নেই ৷ থাকলে একা রেখে আসতাম নাকি!

আতিকা বেগম সাথে তাল মেলাচ্ছে দেখে অবাক হয় শুভ্র। সব সয়তানের মূল যে তার মা সেটা বুঝতে তেমন অসুবিধে হয়নি। কথার মধ্যে আসলাম সাহেব চলে আসলেন,

” কেমন আছিস শুভ্র? কতদিন পর দেখলাম তোকে।

” আলহামদুলিল্লাহ মামা আপনি ভালো আছেন?

” আলহামদুলিল্লাহ। আবার চলে যাবি নাকি?

হাসলো শুভ্র। বললো,

” না মামা একেবারের জন্য জব ছেড়ে নিজ ভার্সিটিতেই জব নিয়েছি। বাইরে যাওয়ার কোনো ইচ্ছে নেই।

আসলাম সাহেব আবার ও বলেন,

” জব করার কি খুব প্রয়োজন তোর? বাবা চাচা একা একা ব্যবসা সামলায় তুই তো তাদের সাথেই থাকতে পারিস।

” আমার ইচ্ছে আমার কাছে আগে। যেখানে মন চাই না সেখানে চাইলে ও থাকতে পারি না মামা। তাই নিজের ইচ্ছেকেই প্রাধন্য দিলাম।

আলো ও শুনলো শুভ্রর কথাগুলো । এজন্যই তো দেশ ছেড়ে চলে গিয়েছিলো শুভ্র। তার মন মানতে চাইনি এই বিয়েটা। তাহলে এখন আসছে কেন? কেন থাকে আটকে রাখছে নিজের মনের বিরুদ্ধে গিয়ে? । মৌন আলোর ধ্যান ভাঙলো শুভ্রর কথায়,

” খাচ্ছো না কেন?

আলো কিছুই বললো না। মনটা বিষিয়ে গেলো এই কয়েকটা শব্দ শুনে আধ খাওয়া খাবারের প্লেটটা রেখে নিঃশব্দে উঠে পড়লো আলো। বেসিনে চলে গেলো হাত ধুতে।

শুভ্র শুধু হতবাক নয়নে দেখছে কি হলো আবার আলোর? মেয়েটা হুটহাট এমন করে কেন? তাকে তো কেউ কিছুই বলেনি। তার সাথে ডাইনিংয়ে বসা সকল মানুষ তাকিয়ে দেখছে আলোর খাবার টেবিল ছেড়ে উঠে যাওয়া।

” কি হয়েছে ও ওঠে পড়লো কেন শুভ্র? কিছু হয়েছে?

আফিয়া চৌধুরীর কথায় না বোধক মাথা নাড়লো শুভ্র।
আতিকা বেগম হাসলেন। রাফিদ বার বার আলোর দিকে তাকাচ্ছে। শাড়িতে কি যে সুন্দর লাগছে যেনো আসমানে পরী এসে নেমেছে। ফাহিমা চৌধুরী ওঠে পড়লেন খাওয়া ছেড়ে। আলোর পাশে এসে দাঁড়ালেন তিনি,

” কি হয়েছে তোর খাবার খাওয়া ছেড়ে ওঠে পড়লি যে?

আলো হাত মুছতে মুছতে বলে,

” কিছু না কাকিয়া। অনেক দেরী হয়ে গিয়েছে। আহি আমার জন্য অনেকক্ষণ অপেক্ষায় করছে। যেতে হবে তাড়াতাড়ি।

শুভ্র খাওয়া থামিয়ে দিয়েছে সেই কবে। সে শুধু আলোর কথাগুলো শুনছিলো। আলোর দিকে তাকাতেই বুঝতে পারলো মেয়েটা কান্না করে দিবে এমন ভাব। চোখে পানি চিকচিক করছে। তার আর খাওয়া হলো না। হাত ধুইয়ে ফেললো সে। দু’জনেই রেডি হয়ে নিচে এসেছে। সবার সামনেই আলোর হাত ধরলো। আলো তাকালো শুভ্রর মুখ পানে। গম্ভীর মুখটা কেমন থমথমে হয়ে গিয়েছে। কোনো কথা না বলে হাত ধরে নিয়ে যেতে যেতে বলে উঠলো বাড়ির সকলের উদ্দেশ্যে,

” আমি বাসায় এসে দেখি যেনো রাফিদ তার বাসায় চলে গিয়েছে। নয়তো আমার বউয়ের দিকে কুদৃষ্টি দেওয়ার অপরাধে তার চক্ষু জোড়ার দুটো মারবেল দিয়ে কি করতে পারি তা নিজেও জানি না।

তীব্র রাশভারি কন্ঠে কথাগুলো বলে শুভ্র এক প্রকার টেনে নিয়ে গেলো আলোকে। আলো বুঝলো না কেন রাগ করছে লোকটা? রাগ তো তার করা উচিত।

অন্যদিকে শুভ্রর কথা সাবার মধ্যে বোমার মতো বিস্ফোরণ ঘটলো। সকলের চোখ রাফিদের দিকে। আর রাফিদ লজ্জায় চোখ নামিয়ে ফেলেছে। আতিকা বেগম ছেলের জন্য লজ্জা নয় বরং রাগ হচ্ছে শুভ্র আর আলোর উপর। তিনি পরিস্থিতি সামাল দিতে ছেলেকে
রেগে বলে উঠলেন,

” ছিহ! রাফিদ তুই তোর বড় ভাইয়ের বউয়ের দিকে নজর দিস লজ্জা করে না তোর? চলে যা এ বাড়ি থেকে। তোর জন্য আমাদের লজ্জায় মাথা কাটা যাচ্ছে।

আসলাম সাহেব ও লজ্জা পেলেন। ছেলেটা মায়ের মতো হয়েছে একদম। লজ্জা বলতে কিছু আছে বলে তাদের জানা নেই। রাফিদ মায়ের মুখের দিকে তাকালে
তিনি ইশারায় রুমে যাওয়ার কথা বলতেই রাফিদ হনহন করে চলে গেলো রুমে।

বাকিরা আর কিছুই বললো না এই বিষয়ে। যা বলার শুভ্র ভালো ভাবেই বুঝিয়ে দিয়েছে। নূন্যতম লজ্জাবোধ
থাকলে আর তাকাবে না বউ ব্যথিত কোনো নারীর দিকে।

আলো পার্কিংয়ে এসে ঠায় দাঁড়িয়ে পড়লো। বললো,

” আমি আপনার সাথে যাবো না। আর এই বাড়ির গাড়িতে তো না-ই।

শুভ্র ফের আলোর হাত ধরলো শক্ত করে। বললো,

” আলো আমি তোমার হাসবেন্ড হই। আর আমি আমার গাড়িতে তোমায় নিয়ে যাচ্ছি। আমার বাবার গাড়ি নয়।

আলো ঝটপট বলে উঠলো,

” আমি রিকশায় যাবো। আমি এভাবেই অভ্যস্ত। বিলাসবহুল জীবন আমার প্রয়োজন নেই।

” আমি কোনো কথা শুনতে চাচ্ছি না।

” আমি ও কোনো কথা শুনতে চাচ্ছি না।

আলোর মুখের উপর জবাব দেওয়া আর ত্যারামি করাতে চোখের পলকে তৎক্ষনাৎ পাঁজা কোলে তুলে নিলো শুভ্র। গাড়ির ফ্রন্ট সিটের দরজা খোলে বসিয়ে তারপর সে ড্রাইভিং সিটে বসলো।

” জোড় করেন কেন সবসময়।

” বউ যখন ঘারত্যাড়া তখন এমনই করতে হয়। চুপচাপ বসে থাকো।

মুখ ভেঙছি কাটলো আলো। জানালার দিকে তাকিয়ে রইলো সে। শুভ্র হাসলো আলোর দিকে তাকিয়ে।
মেয়েটা বড্ড নীরবতা ভালোবাসে। তাই শুভ্র আনমনে তাকালো ক্ষণে ক্ষণে কিন্তু বিরক্ত করলো না আলোকে।
______________

” আলো আসেনি এখনো আহি ?

মিহুলের কথায় আনমনে একাকী বসে থাকা কালো শাড়ি পরিহিতা আহির ধ্যান ভঙ্গ হলো। আজ মিহুল তাকে নিয়ে আসেনি একা একা চলে আসছে। বড্ড খারাপ লেগেছে আহির। কেমন ফাঁকা ফাঁকা লাগছে কোথাও। মিহুলের এড়িয়ে যাওয়ায় কষ্ট কেন হচ্ছে আহির বুঝে পাচ্ছে না মেয়েটা।

” ইউ লুক অ্যাবসোলিউটলি গর্জিয়াস, আহি।

মিহুলের কথার মধ্যে রাফিন এসে হাজির হলো। তাদের কথার মধ্যেই রাফিন আহির প্রশংসা করলো। আর মিহুল বরাবরের মতোই সাধারন ভাবলো। বোন হোক বা অন্যকেউ কখনো ভালো বলেনি। আহি ছোট্ট করে উত্তর দিলো,

” ধন্যবাদ রাফিন ভাইয়া। আলো আসবে কিছুক্ষণ পর।

দুজনের প্রশ্নের উত্তর দিয়ে সেই জায়গা ত্যাগ করলো আহি। মিহুল অবাক হলো আহির এমন পরিবর্তনে। মেয়েটা মন খারাপ করে আছে কেন? রাতে ও কথা বললো না। কাঁদলো অনেক আর এখন ও এড়িয়ে চলছে। স্যারের ডাকে মিহুল ও চলে যায়। আলোর অপেক্ষায় তার সময় যাচ্ছে না। মেয়েটার সাথে তার অনেক অনেক কথা জমে আছে। আজই বলতে হবে।

” মিহুল স্যার ডাকছে চল যায়।

” হুম।

________________

পার্কিং এড়িয়ায় গাড়ি পার্ক করে শুভ্র। আলো নেমে পড়লো দ্রুত। আহিকে খুঁজতে হবে তার।

” আপনি আসুন আমি যাচ্ছি।

কথাটা বলে শুভ্রকে সুযোগ দিলো না আলো চলে গেলো দ্রুত স্টেজের দিকে। আহি বোধহয় রাগ করে বসে আছে। প্রায় দের ঘন্টা লেইট হয়েছে। শুভ্র গাড়ি থেকে নেমে তাকাতেই দেখলো আলো উধাও। এতো কম সময়ের মধ্যে আসি বলে মেয়েটা উধাও হয়ে গেলো। খুঁজতে লাগলো শুভ্র। মানুষের ভীর চারদিকে।
প্রায় সংখ্যক স্টুডেন্টরা সাদা শাড়ী সাথে হীজাব পড়া।
আলোকে খোঁজে পাওয়া টাফ!

শুভ্র এদিকসেদিক ওলিগলির মতো খুঁজতে লাগলো আলোকে। ভাগ্যিস আলোর নাম্বারটা রাতে কালেক্ট করেছিলো। ফোন দিলো তৎক্ষনাৎ ধরলো না কেউ।
দ্রুত পা চালিয়ে স্টেজের দিকে যেতে লাগলো সে।
একা ছাড়া যাবে না আলোকে। মিহুল ছেলেটার লক্ষণ ভালো না। মেডিকেলে আলোর প্রতি পাগলামো দেখে শুভ্র এখন আলোকে ভার্সিটিতে এসেও চোখের সামনে রাখতে চাইছে।

চলবে,,,,,,

[ পেইজে ফলো দিয়ে রাখবেন পরবর্তী পার্ট পেতে ]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here