#শুভ্রফুল — ১২
#কলমে_লিজা_আক্তার_আলো
[ কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ]
কয়েক মিনিটের ব্যবধানে শুভ্র আলোকে হারিয়ে ছন্নছাড়া হয়ে খুঁজতে লাগলো চারদিকে। এরই মধ্যে প্রিন্সিপাল স্যার এনাউন্সমেন্ট করেছে থাকে স্টেজে যেতে তার কোনো খেয়ালই শুভ্রর নেই। আলোর পরিচিত কাউকে চোখের সামনে পরছে না শুভ্রর।
উন্মাদের মতো এদিক সেদিক যাকে পাচ্ছে কেবল
আলোকে দেখেছো সাদা শাড়ি পরিহিত প্লাস হিজাব পড়া। সকলের মুখে একটায় উত্তর দেখিনি, বা চিনি না।
অনেকেই নতুন স্যারকে এমন দিশেহারা হয়ে কাউকে খুঁজতে দেখে অদ্ভুত চোখে তাকিয়ে রইলো।
হন্যে হয়ে আলোকে খুঁজে না পেলেও আহিকে দেখেই থেমে গেলো শুভ্র। দম নিয়ে বড় করে নিঃশ্বাস ছাড়লো। আহি হঠাৎ স্যারকে এমন ভাবে দেখে বসা থেকে দাঁড়িয়ে গেলো। উদ্ধিগ্ন হয়ে বলে উঠলো সে,
” কি হয়েছে স্যার ? এমন করছেন কেন? আপনি কি অসুস্থ ?
হাঁপিয়ে গিয়েছিলো শুভ্র। তবুও বললো,
” আআলো কোথায়? তোমার কাছেই তো ও আসতেছিলো। দেখেছো ওকে?
আহি অবাক হলো ভিষণ। সে তো আলোর না আসাতে মন খারাপ করে বসে আছে আর আলো এসেছে তাহলে কোথায়? অবাক হয়ে আহি বলে,
” না স্যার আলো আসেনি তো। কিন্তু, আপনি এতো ভয় পাচ্ছেন কেন,
” এসব পরে আলোকে পাওয়া যাচ্ছে না আমায় হেল্প করো প্লিজ।
” আহি আলো আসেনি এখন…..
শুভ্রকে দেখে মিহুলের কথা থেমে গেলো সাথে সাথে। শুভ্রর চিন্তিত চেহারা দেখে সে বলে,
” কি হয়েছে স্যার? এনি প্রবলেম?
” ভাইয়া আলোকে খোঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
” কিহ!
” হ্যা ভাইয়া।
মিহুল হতবাক নয়নে তাকায় শুভ্রর দিকে,
” আপনি কিভাবে জানেন ওকে খোঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আর আলোর সাথে আপনার কি সম্পর্ক স্যার?
” সী ইজ মাই ওয়াইফ। মিসেস শুভ্র শাহরিয়ার চৌধুরী। আমার আলোর যদি কিছু হয় তাহলে আমি কাউকে ছাড়বো না। কাউকে না।
শুভ্রর সন্দেহের তালিকায় বার বার এই নামটায় আসছে । কেবলই মিহুল! ফের ভার্সিটির ওলিতে
গলিতে খুঁজতে লাগলো। শুভ্রর এই এক বাক্যে যেনো আহি আর মিহুলের মধ্যে বিস্ফোরণ ঘটলো
আগুন ঝড়া দৃষ্টিতে তাকালো সে। চোখ দুটো বড় বড় করে ফেললো, সাথে সাথে মুঠো বন্দী হলে হাত জোড়া। শুভ্র চলে গেলে ও শুভ্রর বলা কথাগুলো যেনো মিহুলকে বরফের ন্যায় স্তব্ধ করে দিয়েছে। আহি মিহুলের মুখের দিকে তাকিয়ে ভয় পেয়ে গেলো৷ আহি কাঁপা কাঁপা গলায় বলে,
” ভাইয়া তুমি ঠিক আছো তো?
মিহুল কিছুই বললো না নিজের মতো করে চলে গেলো সে। আহি অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো। কি হচ্ছে এসব আলো বিবাহিত? আর ও কিছুই বললো না এতোদিন ? কিন্তু কেন?
ভাবতে ভাবতে আহি ও আলোর খোঁজে ছুটলো চারদিকে। মেয়েটা কোথায় যেতে পারে ভেবে মাথায় আসলো প্রথমেই লাইব্রেরি এছাড়া তার যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। আর যদি কেউ কিডন্যাপ করে তাহলে কে করতে পারে? ওর সাথে তো কারোর শত্রুতা নেই। তাহলে কি..……
______________
মিহুল হাঁটু মুড়িয়ে বসে পড়লো ফ্লোরে। চোয়াল শক্ত করে আছে কেবল কিন্তু, শরীরে বিন্দু মাত্র শক্তি কাজ করছে না তার। আলো অন্য কারোর কথাটা মনে আসতেই হৃদপিণ্ডটা তীব্র যন্ত্রণায় ছটফট করছে। মনে হচ্ছে কেউ গলা চেপে ধরছে। আর বলছে, তুই হেরে গিয়েছস। তোর ভালোবাসা মিথ্যা, তোর আলো তোর নেই, তুই এতোদিন শুধু ভুল মানুষের পিছনে ছুটেছিস। তুই বোকা, তুই হেরে গিয়েছিস মিহুলল..!
“নাহহহহ!
চিৎকার করে উঠলো মিহুল। তার শরীর কাঁপছে
মাথায় তীব্র যন্ত্রণা করছে। বিরবির করে বলে উঠলো মিহুল,
” আমার আলো কেবলই আমার। আমি ব্যথিত সে মৃত।
আমার মন তোমার আপন ঠিকানা না হলে তুমার স্থায়ী
স্থায়ী ঠিকানা হবে কবর আলো। হ্যা কবর। তবুও তোমায় কারোর সাথে হতে দিবো না।
ছন্নছাড়া আর উগ্র হয়ে উঠলো মিহুল। পাগলের ন্যায় প্রলাপ শুরু করে দিয়েছে একাকী। কেউ নেই চারপাশে। সবকলেই স্টেজের সামনে।
আহি পেছন থেকে অসহায়ের মতো দাঁড়িয়ে আছে
মিহুলের অবস্থা দেখে গা শিউরে ওঠেছে আহির।
যদি সত্যিই আলো মিহুল ভাইয়ার না হয় তাহলে কি আলোর কোনো ক্ষতি করতে পারে? ভয় হলো আহির।
” আলো কোথায় তুই। কেন সবার জীবনটা এমন এলোমেলো করে দিচ্ছিস তুই? সত্যিই কি তুই উধাও হয়ে গিয়েছিস নাকি কেউ ইচ্ছে করে…!
______________
শুভ্র ভার্সিটির পেছনের গেইট অব্দি খোঁজলো। কোথাও নেই আলো। দিশেহারা হয়ে এদিকওদিক চোখ বুলাচ্ছে
শুভ্র। এই ভার্সিটিির আনাচ-কানাচ তার চেনা। কিন্তু আলো নেই জীবনটা যেনো অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে। বিরবির করে আওড়ালো শুভ্র..?
” কোথায় তুমি আলো ?
প্লিজ কাম ব্যাক, শুভ্রফুল। আই লাভ ইউ। ট্রাস্ট মি, আই ফিল লাইক আই ক্যান্ট ব্রিদ উইদাউট ইউ। প্লিজ কম ব্যাক।
উদাস হয়ে বসে পড়লো শুভ্র। ফোন বেজে উঠলো তার
রিসিভ করলো দ্রুত সে। কানে নিতেই ওপাশ থেকে অর্নবের কন্ঠস্বর,
” টেনশন করিস না আলোর কিছুই হবে না। আমি পুলিশকে জানিয়েছি। আর তারা প্রিন্সিপাল স্যার কে বলে দিয়েছে ভার্সিটির যতোগুলো বাইরেরও ভেতরের সিসিটিভি ফুটেজ চেইক করতে। তুই স্যারের সাথে দেখা কর। আমি এসে পড়েছি। আমি রাখছি।
শুভ্র কিছুই বললো না। চুপচাপ ফোনটা রেখে দিলো।
হারানোর ভয় ছিলো মনে আর তা আজ সত্যি হয়ে গেলো। মেয়েটাকে এতোবছর দূরে রেখে আবার ও হারিয়ে ফেললো শুভ্র। বাবা মাকে কি জবাব দিবে সে?
সাথে থাকার পর ও হারিয়ে ফেললো আলোকে।
_______________
” উমমমমমমম!
হালকা আলো রুমটায় জ্ঞান ফিরতেই ছটফট করতে লাগলো আলো। নিজেকে আবিষ্কার করলো একটা বন্ধ রুমে হাত পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায়। ঝাপসা আলোয়
চারদিকে তাকালো কোথাও কেউ নেই। বুঝতে পারলো না সে তো ভার্সিটির মাঠে ছিলো তাহলে এখানে কেন এলো? কে এনেছে এখানে? ভয়ে সিঁটিয়ে এলো মন।
শুভ্র কোথায়? তাকে এনেছে কেউ দেখলো না?
চলবে,,,,,,,
[ পেইজে ফলো দিয়ে রাখবেন। গল্প ভালো লাগলে ]

