শুভ্রফুল — ১৪ #কলমে_লিজা_আক্তার_আলো

0
43

#শুভ্রফুল — ১৪
#কলমে_লিজা_আক্তার_আলো

[ কপি নিষিদ্ধ ]

মেডিকেলের করিডোরে চৌধুরী বাড়ির সকলেই উপস্থিত। চিন্তিত মুখে OT এর দিকে তাকিয়ে আছে। ভয় আর টেনশনে আফিয়া চৌধুরী সেন্সলেস হয়ে যায়। তিনি আলোর এই অবস্থা জানার পর থেকেই শুভ্রকে দোষারোপ করেই যাচ্ছেন। সে থাকতে আলোর এ অবস্থা হলো কিভাবে? কেন তাকে আগলে রাখতে পারলো না। আলোর মুখের সেই কথাগুলো ইতিমধ্যে সকলের কানে পৌঁছে গিয়েছে আর সেটা মিহুল বলেছে। বার বার একটাই কথা আলোর এই অবস্থার জন্য শুভ্র দায়ী। ও পারেনি মেনে নিতে আলোকে। তাই ও কাউকে টাকা খাইয়ে আলোকে মারতে পাঠিয়েছে। শুভ্র কোনো জবাব দেইনি। সে মনমরা হয় বসে আছে। এসব কথায় তার উপর কোন ইফেক্ট পড়ছে না। আপাতত আলো ভালো হয়ে উঠুক তারপর জানা যাবে কেন ও শুভ্রকে অপরাধী বানালো? কি হয়েছিলো?
আর কে এমন একটা কাজ করলো? সব বের হবে।
মিহুলের পাগলামিতে জামিল সাহেব লোক দিয়ে জোরজবরদস্তি করে মেডিকেল থেকে বের করে এনেছেন। ডাক্তারকে অব্দি মারতে গিয়েছে মিহুল।

শুভ্র অনুভূতিশূন্য হয়ে বসে আছে স্তব্ধ হয়ে। অর্নব সাথেই বসে আছে। কারোর মুখে কোনো কথা নেই
আসিফ চৌধুরী ও আরিফ চৌধুরী অনেকটা ভেঙে পড়েছেন। চৌধুরী বাড়ির সকলের নয়নের মনি ছিলো আলো এ ক’বছর। নিজের আপন বাবা মায়ের মতো তাদের আগলে রেখেছে। খোঁজ খবর রেখেছে। কে কিসে খুশি সবটায় খেয়াল রেখেছে। আলোর প্রতি তাদের দায়িত্বের থেকে, তাদের প্রতি আলোর দায়িত্বের পাল্লা অধিকতর বেশি হবে। তাই তো সবর এতো মায়া আর টান তৈরি হয়েছে।

সময়টা এখন খুবই বিষণ্ণ আর ভয়ের আশংকায় জর্জরিত। তাই এই বিষয়ে কেউ কোনো কথা বলতে চাচ্ছে না। আগে আলোর বেঁচে থাকা তারপর অন্যসব।
______________

” আমায় ছেড়ে দাও আব্বু। ডাক্তারের বাচ্চা ডাক্তারের কত বড় সাহস ও আমার আলোরে চিকিৎসা না করেই বলে আলো বাঁচবে না। ওরে কোন হালায় ডাক্তার বানাইছে। ওর লাইসেন্স আমি আজই বাতিল করবো। ছাড়ো আমায়। ওকেই আগে অপারেশন থিয়েটারে পাঠাবো আমি। তারপর বলবো হালাই উপরে ওইঠা গেছে আর জমিনে ফিরবো না। আমরে ছাড়ো তোমরা।
তোমরা কেন বুঝতেছো না আমার কষ্ট হচ্ছে। আমি আলোর কাছে যাবো ও ঠিক নেই ওর পাশে কাউকে প্রয়োজন। ও ভয় পাচ্ছে। ওকে মেরে ফেলবে সবাই।

দুই ছেলে সক্ত করে ধরে রেখেছে মিহুলকে। পাশে
দাঁড়িয়ে ভয় পাচ্ছে আহি। পরিস্থিতি সামাল দিতে
হিমসিম খেতে হচ্ছে জামিল সাহেবকে। তিনি দুই ছেলেকে আদেশ দিলেন,

” ওকে রুমে নিয়ে বন্ধী করে রাখো। বাঁধন খুলবে না।

ক্ষোব্দ হলো মিহুল। সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে সরানোর চেষ্টা করলো ছেলেদের কে। কিন্তু তারা খুবই পাকা এই কাজে। শুধু শরীরের শক্তি নয় রশি দিয়ে বেঁধে রেখেছে দু’হাত। দাঁতে দাঁত পিষে বলে উঠলো মিহুল,

“আমাকে ছেড়ে দাও আব্বু নয়তো আমার চেয়ে খারাপ কেউ হবে না। আই হোপ আমি কি করতে পারি সেটা তোমার জানা আছে।

জামিল সাহেব শান্ত স্বরে বলেন,

“ওই মেয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। আর সবচেয়ে বড় কথা হলো মেয়েটা বাঁচবে কি না সন্দেহ। ওকে ভুলে যা বাপ..!

মিহুল দ্বিগুণ চেঁচিয়ে উঠলো,

” নিজের ছেলেকে যদি মাটির উপর দেখতে চাও তাহলে আমাকে আটকাবে না আব্বু। আর যদি মাটির বুকে নিজ হাতে ঘুম পাড়াতে চাও তাহলে আমিই নিজেকে সেই ব্যবস্থা করে দিচ্ছি কি বলো তুমি?

তিনি ছেলেদের দিকে অগ্নিদৃষ্টিতে তাকালো। যা বোঝার বুঝে ফেললো ছেলে দুটো। তৎক্ষনাৎ তারা মিহুলকে রুমের মধ্যে আঁটকে দিলো। অন্যদিকে মিহুল বারবার চিৎকার করছিলো, বারন করছিলো সে। কিন্তু শুনেনি কেউ। শাহানা বেগম ছলছল চোখে তাকিয়ে আছেন ছেলের এই অবস্থা দেখে। আহি অসহায়ের মতো তাকিয়ে ছিলো মিহুলের দিকে। মিহুলকে আঁটকে রাখা হলে আহি জামিল সাহেবের কাছে রিকোয়েস্ট করে,

” বড়বাবা আমার কথা বাদ দাও। মিহুল ভাইয়া যা চাই তা-ই হোক। নয়তো কিছু একটা করে ফেলতে পারে।
যা রাগ।

অনেক সাহস নিয়ে বললে ও জামিল সাহেবের তীক্ষ্ণ চাহনিতে মাথা নিচু করে চলে গেলো আহি। একদিকে আলোর অবস্থা, আরেকদিকে মিহুলের, ভালো লাগছে না কিছুই আহির। চাইলে ও যেতে পারছে না মেডিকেলে। জামিল সাহেবের নিষেধ। যাওয়া যাবে না আলোর কাছে। ভেতরটা শুধু ছটফট করছে কি হচ্ছে ওইদিকে? সব টিক হয়ে যাবে তো?

শাহানা বেগম ও চলে যান ছেলের কষ্ট সহ্য হচ্ছে না আর । সকলে চলে যেতেই জামিল সাহেব ফোন দেন কাউকে। ধরতেই তিনি হিসহিসিয়ে রুক্ষ মেজাজে বলে উঠলেন,

” জানো*য়ারের বাচ্চা বলছিলাম না তোদের যে মেডিকেল নেওয়ার আগেই যেনো শেষ হয়ে যায়।
কেন মেডিকেল নিতে হলো? এতো এতো টাকা দিয়েছি কি এভাবে কাজ করার জন্য?

ওপাশ থেকে কিছু বললে জামিল সাহেব আবার ও বলেন,

” যা করেছিস তোরা দু’টো! আমার হাতেই তোদের দু’টোর মৃত্যু লিখা আছে। যদি বাঁচতে চাস তাহলে আমার কথা মতো কাজ কর! ওই মেয়ের লাশ চাই আমি। নয়তো, তোদের লাশ তোদের বাড়ি পৌঁছাবে। তাও আজই! এই জামিল আহমেদ কি তা তোদের থেকে কেউ ভালো করে জানে না।

কল কেটে দিয়ে, ফুঁস করে ওঠেন জামিল সাহেব।
কাজের কাজ কিছুই হলো না উল্টো ছেলেটা আরো বিগড়ে গেলো৷ তিনি শাহানা বেগম এর উদ্দেশ্যে বলেন,

” ওর রুমে কেউ যাবানা। এভাবেই বাঁধা থাকবে ও। নয়তো ভেঙে ছুঁড়ে বেড়িয়ে আসবে। আমি এসে খাবার দিবো। আর যে যাবে সে জিবিত থাকবে না বলে দিলাম।

শাহানা বেগম কান্না করছেন সোফায় বসে বসে। কি একটা অশান্তি শুরু হলো আবার। এই জানলে কবেই ছেলে মেয়ে দুটোর বিয়ে দিয়ে নিশ্চিন্ত হয়ে যেতেন তিনি।
_________________

ডক্টর বের হতেই সবাই হুমড়ি খেয়ে পড়লো ডক্টরের সামনে। শুভ্র তাড়াহুড়ো করে অস্থির জিজ্ঞেস করলো,

” ডক্টর কেমন আছে আমার আলো? ও ঠিক হয়ে যাবে তো?

” কি হলো ডক্টর কিছু বলছে না কেন?

” আআমার মেয়ে কথা বলুন ডক্টর?

ডক্টরের মুখ থমথমে হয়ে আছে। তিনি আশ্বাস স্বরূপ বলেন,

” বেশী একটা ভালো নেই। কোনো রেসপন্স করছে না।
উপরওয়ালাকে ডাকুন আর কিছুটা সময় গেলে আমরা নিশ্চিত ভাবে বলতে পারবো। রোগীর যা অবস্থা তার তো এতোক্ষণ বেঁচে থাকা….

কথা বাড়ালো না ডক্টর বেড়িয়ে গেলেন তিনি। সবাই যেন থম মেরে গেলো। আশার আলো যেন নিভতে বসেছে। চিৎকার দিয়ে কেঁদে উঠলেন আফিয়া চৌধুরী।
নীলিমা চৌধুরী ও কান্না করছেন। এইটুকু বয়সে একি অবস্থা হয়ে গেলো মেয়েটার? পাশে বসে মুচকি হাসছেন আতিকা বেগম। বিরবির করে বলেন,

” প্ল্যান সাকসেসফুল হলো তাহলে, মরে যাক বা বেঁচে থাকুক আই ডোন্ট কেয়ার! তবে শুভ্রর জীবন থেকে চলে যাবে এটা আমি নিশ্চিত। এই আতিকা কখনোই কাঁচা কাজ করে না। এবার বুঝো ঠেলা মেয়ে কত করে বোঝালাম চলে যাও, চলে যাও, কিন্তু কে শুনে কার কথা! নিজের স্ট্যাটাস মতো একটা ছেলেকে বিয়ে করলে কত শান্তি পেতে আর এখন দু’টো ছেলের মাথা খাচ্ছে। ভাগ্যি জামিল সাহেবের সাথে দেখা হয়েছে নয়তো আমার এই আপদটাকে সহ্য করতে হতো। আর
ওরা ও পারে বটে কোথাকার কোন মেয়ের জন্য ন্যাকা কান্না জুড়ে দিয়েছে। বলি তোমাদের কি সন্তান নেই তাদের জন্য ভাবো। শুভ্রকে দোষারোপ না করে আপদ বিদায়ের জন্য তোমাদের আমাকে ধন্যবাদ দেওয়া উচিত। চৌধুরী বাড়িটা কত সুন্দর ছিলো এই একটা মেয়ের জন্য সব এলোমেলো হয়ে আছে। আমাদের সবার সাথে সম্পর্ক বিচ্ছেদ করেছো তোমরা। সবসময় কি মেনে নেওয়া যায় নাকি!

চৌধুরী বাড়িতে মিহুল ও রাফিন আসার পর জামিল সাহেব মিহুলর পিছু লোক লাগিয়েছিলেন কোথায় যাচ্ছে সে সব খবর জানতে। মিহুল যখন আতিকা বেগমের সাথে কথা বলে চলে যায় তখন জামিল সাহেবের দুটো চামচা এসে টাকার লোভ দেখিয়ে কথা নিয়ে জামিল সাহেবকে জানাতেই তিনি আতিকা বেগম এর সাথে মিলে এই প্ল্যান করে। যেন সাপ ও মরবে লাটি ও ভাঙবে না। সব দোষ যাবে শুভ্রর কাঁধে। আর টাকা থাকলে ওসব মামলা ডিসমিস করা কিছুই না।

” তুই ঠিক আছিস তো শুভ্র?

শুভ্র বাকরুদ্ধ হয়ে গেলো। এই মেয়েটা তাকে অপরাধী বানিয়ে তার কাছ থেকে পালানোর চেষ্টা করছে? কেন
পালাবে ও? পালাতে দেওয়া যাবে না ওকে।

” অর্নব আমি আলোকে ভিষন ভালোবাসি। আমি ওর কাছে আমার ভুল অন্যায় আমি সব স্বীকার করেছি। তাহলে কেন এতো অভিযোগ ওর আমার প্রতি। এতো কিছুই যখন হবে তাহলে কেন ও আমার কাছে ফিরলো? ও যেভাবে ভালো থাকে সেভাবে থাকতো।

” কিছুই হবে না আলোর। আলো অনেক ভালো মেয়ে।
শান্ত নির্মল একটা মেয়ে। ও তোকে ভালোবাসে সেটার সাক্ষী আমি। তোর পছন্দের যতো কিছু ও সব আমার থেকে জেনে ও তাই করে। ভাই মনে করে যা পরিবারের কাছে শেয়ার করতে পারে না তা আমায় বলতো মাঝেমধ্যে। তোর প্রতি ওর অভিমান থাকাটা স্বাভাবিক। শুধু অভিমান কেন আমি বলবো ও যদি সেদিন চলে ও যেতো তাতে ও কোনো আফসোস থাকতো না। আলোর কিছুই হবে না। এতোটা ভেঙে পড়িস না।

শুভ্র কোনো কথা বললো না। সোজা চলে গেলো নামাজ পড়তে। কেবল একজনই রহম করতে পারে এই বান্দার উপর। উপরওয়ালার ইচ্ছে ছাড়া কিছুই হবে না। আলো বাঁচবে। ওকে বাঁচতেই হবে। আমার জন্য ও বাঁচবে।
____________________

হাত উল্টো করে বেঁধে রেখেছে মিহুলের। ফ্লোরে শুইয়ে ছাঁদের দিকে তাকিয়ে কেবল চোখের পানি ফেলছে
মিহুল। ডক্টরের বলা কথাটা কানে এসে ভারি খাচ্ছে বারবার। কান্না জড়ানো কন্ঠে ছোটদের মতো বলে উঠলো মিহুল তার রবকে উদ্দেশ্য করে,

” ইয়া রব তুমি আমার প্রাণটা কেঁড়ে নাও তবুও আমার আলোর জীবনটা ফিরিয়ে দাও। তুমি তো জানো ওকে আমি কতটা ভালোবাসি। ওর যেন কষ্ট না হয় ওকে আমি আমার ভালোবাসার কথাটা অব্দি বলিনি। যদি সে আমার চোখের আড়াল হয়ে যায়। তোমার কাছে আমার একটা আবদার বলো আর অনুরোধ, ও যেন সুস্থ হয়ে যায়। তারপর না হয় পাওয়ার জন্য যুদ্ধ করবো। আপাতত বাঁচিয়ে দাও ওকে।

নরম আকুলতা ভরা কন্ঠ ভিড়িয়ে হিংস্রতা প্রকাশ পেলো মিহুলের চোখে মুখে,

” যে কু*ত্তার বাচ্চা আমার আলোকে এতো বড় আঘাত করেছিস বিশ্বাস কর তোকে পেলে যতোক্ষণ না অব্দি
তোর দেহে প্রাণ আছে ততোক্ষণই তোকে এই আঘাতটা
গিফ্ট করবো। আই প্রমিস! যাকে আমি ফুলের টুকা ও লাগতে দেইনি তোরা কেন আমার আলোকে আঘাত করলি? এই আঘাতটা আমায় করলে কি হতো বল?

এই কাঁদছে এই রেগে ফায়ার হচ্ছে মিহুল। মানতে পারছে আলোর এমন করুন পরিনতি। কেন করলো এমন কে করলো? কেন আলো শুভ্রর নাম নিলো? মিহুল একা একাই বলে যাচ্ছে। দরজার ওপাশ থেকে আহি দরজার সামনে বসে কাঁদছে। একটা মানুষ কিভাবে এতোটা পাগল হতে পারে তা মিহুলকে না দেখলে বুঝতেই পারতো না আহি। আলোর খাওয়া থেকে, সে ভালো আছে তো? সে আজ ভার্সিটি আসেনি কেন? সে কি খেতে পছন্দ করে সব খবর নিয়েছে আহির মাধ্যমে। একটু কিছু হলেই আহি ভয় পেতো, মিহুল বকবে ভেবে ভয়ে সিঁটিয়ে থাকতো। আহিতো অনেক সময় বলেই ফেলতো, এতোই যখন ভালোবাসো তাহলে বিয়ে করে নাও। ননির পুতুলের মতো চোখের সামনে সাজিয়ে রাখো আমায় কেন প্যারা দাও। তখনই মিহুলের একটায় কথা, আমার আলো যেদিন বলবে মুখ ফুটে সে আমায় ভালোবাসে তখন দুনিয়ার কোনো শক্তিই আমাদের বিয়ে করা থেকে আটকাতে পারবে না। আফসোস ভালোবাসা তো দূর কথাই বলতো না মেয়েটি। দেখলে পালানোর চেষ্টা করতো। এড়িয়ে যেতো, চোরের মতো লুকিয়ে থাকতো। এই নিয়ে অনেক ছেলে মেয়ে বলতো, আমরা কত পছন্দ করি আমাদের পাত্তায় দেয় না আর যে দেখতে চায় না, দেখলেই পালায় তাকে বডিগার্ডের মতে সারাক্ষণ পাহারা দেয় কি একটা অবস্থা! আলোকে ও অনেক কথা শুনাতো মেয়েরা। তার নাকি অনেক অহংকার। কি এমন রুপ আমাদের ও তো কম না তবুও তো তোমার মতো এতো অহংকারী নয়। অথচ আলোর কারনটা ছিলো অন্য। যা আহি আজ বুঝতে পারলো।
____________________

OT থেকে ICU তে শিফ্ট করা হয়েছে আলোকে। বাইরে
থেকে আলোর মলিন ফ্যাকাশে চেহেরা দেখে ডুকরে কেঁদে উঠলো সকলে। শুভ্র শুধু আলোর ফ্যাকাশে মুখের দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে ছিলো। যতোদূর
নিয়ে যাচ্ছিলো তাকে।

ডক্টর জানিয়েছেন চব্বিশ ঘণ্টা না গেলে কোনো কিছু বলতে পারবেন না তাই অপেক্ষা করতে হবে শুধু। আপাতত অবজারভেশনে রাখতে হবে।
আতিকা বেগম বিরক্ত হয়ে বলেন,

” আপা চলেন তো বাড়িতে। এই পরিবেশে থাকলে আপনি আরো ও অসুস্থ হয়ে যাবেন। আর ডক্টর তো বললো, এই মুহুর্তে তাদের কিছুই করার নেই। অযথা এখানে বসে থেকে কোনো লাভ নেই তো।

আফিয়া চৌধুরীর রেগে গেলেন,

” সবকিছুতে লাভ লস দেখো কেন ভাবি? আমার মেয়েটা জীবন মৃত্যুর সাথে লড়াই করছে আর আমাকে
শান্তিতে থাকতে বলছো তুমি? তুমি ও আমার জন্য এতোটা আপন না যতোটা আমার মেয়ে আমার জন্য যতোটা আপন। ভালোবাসা বুঝো তুমি? বুঝোতো কেবল স্বার্থ আর টাকা।

আতিকার মুখটা ভোতা হয়ে গেলো মুহুর্তের মধ্যে। এই ভাবে তাকে আফিয়া অপমান করবে ভাবতেই পারেননি তিনি। প্রতিশোধের আগুন আরেক ধাপ বেড়ে গেলো বোধহয়। মনে মনে জেদ জমলে ও উপর দিয়ে শান্ত হয়ে বলে,

” আমি ওভাবে বলতে চাইনি। আ…

” তোমরা থামবে? আর আতিকা ঠিকই বলেছে তোমরা চলে যাও বাড়িতে আমি থাকবো।

” আমি আর ভাইজান থাকবো তোমরা চলে যাও। আর শুভ্রকে ও নিয়ে যাও তোমাদের সাথে করে।

শুভ্র তড়িৎ গতিতে তাকালো তার চাচ্চুর মুখপানে।
বিস্ময়ের সহিত বলে উঠলো,

” আমি চলে যাবো মানে? চাচ্চু ও আমার ওয়াইফ। আর আমি ওকে একা ফেলে চলে যাবো কেন?

” ও তোমার কেউ না। ওকে তুমি ফেলেই চলে গিয়েছিলে আর আজ থেকে গেলে কি ও ঠিক হয়ে যাবে? যেখানে তুমি ওর এই অবস্থার জন্য দায়ী! আমরা আর কোনো রিস্ক নিতে চাই না। বিশেষ করে তো আমি না-ই। আর ভাইজান কি বলবে তা আমি পরোয়া করি না। আলোর নিরাপত্তার জন্য আমি চাই তুমি চলে যাও।

আরিফ চৌধুরীর কথায় আসিফ চৌধুরী সায় দিলো।
বলেন,

” আমি চাই ও চলে যাক। আমার কোনো ছেলে ছিলো না। আজ ওর জন্য আলো কষ্ট পাচ্ছে। না জানি আল্লাহ আমাদের জন্য কি রেখেছেন। যদি প্রয়োজন হয় আমি আমার সব প্রোপার্টি দান করে দিবো তাও আমি চাই আমার আলো সুস্থ হোক।

আসিফ চৌধুরীর এমনিতেই কথার কথা এই বাক্যটা শুনেই থমকে গেলো আতিকা বেগম। সামান্য একটা গাইয়া, পরের মেয়ের জন্য সব প্রোপার্টি দান করে দিবে? কি বলে এসব তাহলে এতো কিছু করার মানে কি? আর দান করলে কি সব ঠিক হয়ে যাবে নাকি!

হঠাৎ তিনি দাঁড়িয়ে গেলেন বলেন,

” কি বলেন দুলাভাই? শুভ্র কোথাও যাবে না। আপনাদের সবার থেকে বেশি শুভ্রর অধিকার আলোর
উপর। কেন তর্ক করছেন?

ভুত দেখার মতো সবাই তাকালো আতিকা বেগমের দিকে। যে মেয়েকে শুভ্রর বউ হিসেবে মানেইনি আজ সেই মেয়ের হয়ে কথা বলছে অদ্ভুত তো!

এই মুহুর্তে কারোরই মন মেজাজ ঠিক নেই তাই কথা বাড়ালো না কেউ। এই মহিলার সাথে কথা বললেই বিপদ।

____________________

“আহিরে বোন আমার দরজাটা খোলে দে না? প্লিজ একটিবার আমি আলোকে দেখে চলে আসবো।

” ভাইয়া আমাকে মাফ করে দিও আমার কিছুই করার নেই। আমি ও তো চাইছি আলোকে দেখতে ও কেমন আছে। আমি ও যে তোমার মতো ছটফট করছি।

” আমি তোকে কথা দিচ্ছি আব্বু আসার আগেই চলে আসবো। আমার চোখ দু’টো বড়ই তৃষ্ণার্ত হয়ে আছে
রে আমার আলোকে দেখার জন্য।

ওপাশ থেকে আহি কোনো জবাব দিলো না। তার কাছে জবাব নেই দেওয়ার মতো।

চলবে,,,,,,,,

[ পরবর্তী পর্ব পেতে পেইজে ফলো দিয়ে রাখবেন ]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here