#শুভ্রফুল — ৩
#কলমে_লিজা_আক্তার_আলো
[ কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ]
” আলো! এই আলো দরজাটা খোল মা।
কান্নারত আলো বিছানা থেকে ওঠে বসলো। কাকিয়া আসছে । চোখের পানি মুছে উড়না মাথায় দিয়ে দরজা খুলতেই দেখলো ফাহিমা চৌধুরী খাবার এর প্লেট হাতে দাঁড়িয়ে আছেন। আলো সাথে সাথে বলে উঠলো,
” আমি খাবো না কাকিয়া। ইচ্ছে নেই, সেইজন্যই তো নিচে যায়নি।
ফাহিমা চৌধুরী রুমের ভেতরে আসলে। বেড সাইড
টেবিলের উপর খাবার এর প্লেটটা রাখলেন। দরজায় মন খারাপ করে দাঁড়িয়ে থাকা আলোর কাছে গেলেন।
হাত ধরে টেনে এনে বসালেন বেডে। সাথে নিজে ও বসলেন। শাসনের স্বরে বলে উঠলেন,
” কেন পাগলামি করছিস আলো? ভাবি আসতে চেয়েছিলো তোর কাছে আমিই বারন করেছি নয়তো দুজন মিলে একসাথে কান্না করবি। নে আমি খাইয়ে দিচ্ছি খেয়ে নে।
আলো মলিন কন্ঠে বললো,
” কেন এতো মায়ায় জড়াচ্ছো কাকিয়া। ভুলতে কষ্ট হবে তো। লোভ জাগবে মনে, ছেড়ে যেতে পারবো না যে।
” থাপ্পড় দিবো কিন্তু আলো! এতো কথা বলছিস কেন?
আর কোথায় যাবি তুই? তুই শুধু শুভ্রর বউ না তুই
এই বাড়ির মেয়ে। ভাবি তোকে অনেক ভালোবাসে
তার চেয়ে সবচেয়ে বোশি অধিকার আমার তোর উপরে তুই আমার মেয়ে। আমার কাছে থাকবি। শুভ্রর চাওয়ার উপর তোর এই বাড়িতে থাকা না থাকা নির্ভর করে না আলো। আঁধারের মতো তুই ও আমার সন্তান। আসার পর থেকে আমি তোকে আমার মেয়ের জায়গাটা দিয়েছি। এই বাড়িতে তুই না থাকলে আমরা থাকতে পারবো না আলো। তোর হাসি, তোর মন খারাপ, দুষ্টুমি, আবদারে আমরা বিরক্ত নয় বরং অভ্যাসে করে ফেলেছি রে। ছাড়া মুশকিল। শুভ্র আসুক ওকে আমরা বোঝাবো।
” এটাই তো তোমাদের ভুল। ভুল মানুষকে অতি আদরে রেখেছো। অবহেলিত আলো এখন অবহেলা সহ্য করতে পারে না। জানো কাকিয়া আমি গুরুত্বের লোভি গুরুত্ব না পেলে অস্থিরতায় পড়ে যাই। মনে হয় দম বন্ধ হয়ে মারা যাবো।
” আলো পাগলামি করবি না একদম। খেয়ে নে তারপর শুনবো তোর কথা।
” আমার আজ খিদে লাগছে না কাকিয়া। আমার ভয় লাগছে। সব হারিয়ে ফেলার ভয়!
ভাত মেখে ভতের লোকমা মুখের সামনে মেলে ধরে
ফাহিমা চৌধুরী।
” আমি একটা কথা ও শুনতে চাই না আলো হা কর বলছি। নয়তো আমি তোর সাথে কোনো কথা
বলবো না। আর আমি ও খাইনি। তুই খেলে তারপর আমি আর ভাবি খাবো।
অনিচ্ছা সত্ত্বেও হা করলো আলো। কয়েক লোকমা
খেয়ে আর খেলো না সে। ফাহিমা চৌধুরী মুচকি
হাসলেন হাত ধুইয়ে নিজের শাড়ির আঁচল দিয়ে আলোর মুখ মুছে দিয়ে নিজের সাথে জড়িয়ে নিয়ে বললেন,
” এতো সরল কেন তুই আলো? শুভ্র চাইলো আর তুই ছেড়ে দিবি সব! তুই কোথাও যাবি না। ভাবি বলছে শুভ্র এই বাড়িতে আসবে তারপর সব ঝামেলা মিটমাট করবে।
আলো নিরবে কাঁধে মাথা রাখলো ফাহিমা চৌধুরীর।
শুনতে লাগলো ফাহিমা চৌধুরীর আদুরে কথাগুলো।
ছেলেটা এমন পাগলামি করার মানে কি? বিয়ে বা পছন্দ ও তো নেই থাকলে তো বিয়ে করতো। তিনি চলে গেলেন একা একা বলতে বলতে।
আলো বারান্দায় গেলো। বেলি ফুলের গাছটা রোদে কেমন শুঁকিয়ে যাচ্ছে। বিকেলে পানি দিতে হবে। শুভ্র লাগিয়েছিলো গাছটা। অনেক যত্ন করে আলো। প্রিয় মানুষের প্রিয় ফুল বলে কথা। সবসময় সাদা শুভ্র বেলি ফুল ফুটে। রুম জুড়ে ফুলের গন্ধে মঁমঁ করে। নীরবে দাঁড়িয়ে রইলো আলো।
____________
শুভ্র ফ্ল্যাটে এসেই গা এলিয়ে দিলো রকিং চেয়ারে।
শরীর মন দুটোই বড্ড ক্লান্ত লাগছে। বাবার প্রতি এতোই রাগ ছিলো যে মেয়েটির মুখ দেখার ও ইচ্ছে জাগেনি। এই বিয়ে যেহেতু সে মানে না মুখ দেখার প্রশ্নই আসে না। তবে বার বার চোখের সামনে সেই তৃষ্ণার্ত চাহনির মেয়েটির মুখটা ভেসে উঠছে কেন? কেন মন আর চোখ থেকে সরছেই না মায়াবী মুখখানা। তবে কি….
চোখ বন্ধ করে ফেললো শুভ্র। আপাতত ফ্রেস হতে হবে ধ্যান অন্যকিছু। শুভ্র ময়লা একদমই অপছন্দ করে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা আর হাইজেন মেইনটেইন করাই তার স্বভাব।
_____________
” মা তুমি খালামনিকে প্লিজ বোঝাও না এখন ও তো সময় আছে আলোকে ডিভোর্স দিবে শুভ্র ভাই। তারপর আমার বিয়ের কথা বলো। আমার অনেক ভালো লাগে শুভ্র ভাইকে। আ..
” থাপ্পড় দিবো অতিথি। সরম লজ্জার মাথা খেয়ে বসে আছিস। আজই বাসায় আসবি তুই।
ফোন কেটে দিলো অতিথির মা। এবং আফিয়ার ছোট বোন। অতিথি ফোনটা বিছানায় ছুঁড়ে ফেলে দিলো। মা হয়ে মেয়ের দুঃখ বুঝলো না। যেমন বড় বোন তার তেমন ছোট বোন৷
” না অতিথি! সবাই সরল সোজা ভাজা মাছটা উল্টিয়ে খেতে পারে না, এমন ভাব দেখালে ও তুই তোর জায়গাটা নিজেই তৈরি করবি। তার আগে আধ ইন’কমপ্লিট কাজটা পুরোপুরি কমপ্লিট করতে হবে। নয়তো আমার চোখের সামনে দু’জনকে একসাথে দেখে সহ্য করা ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না।
____________
চৌধুরী বাড়ির সকলেই খেতে বসেছে। আলো ও আছে। যৌথ পরিবার বলতে এই কয়েকজন। তারা হলো আসিফ চৌধুরী, আরিফ চৌধুরী দুই ভাই। দুজনের সহধর্মিণী, আফিয়া চৌধুরী ও ফাহিমা চৌধুরী। আসিফ চৌধুরীর একটা ছেলে শুভ্র শাহরিয়ার চৌধুরী। আরিফ চৌধুরীর ও একটা ছেলে আঁধার আরহাম চৌধুরী। আঁধার ছেলেটা আলো বলতে পাগল। আপু আপু বলে সারাক্ষণ পিছু পিছু ঘুরতো। কিন্তু পড়াশোনার জন্য আঁধারকে তারা হোস্টেলে পাঠিয়ে দিয়েছে। শুভ্র দেশে নেই এখন তো দেশে এসে ও সেই এই বাড়িতে নেই। ছোট বলতে শুধু আলো আছে। এখন কিছুদিনের জন্য অতিথি আসছে। কিছুদিন বলতে সে মাসে পনেরো দিন নিজের বাসায় আর পনেরো দিন চৌধুরী বাড়ি এভাবেই থাকে সে।
” আলো খাচ্ছিস না কেন?
আরিফ চৌধুরীর কথায় আলো চোখ তুলে তাকালো, বললো,
” খাচ্ছি তো চাচ্চু!
সকলেই আলোর মনের অবস্থা বুঝতে পারে তাই
এই মুহুর্তে কোনো কথা বলতে চাচ্ছে না। নয়তো আবার মন খারাপ করে না খেয়ে উঠে যাবে মেয়েটা।
” খেয়ে নাও ভালোমন্দ তারপর তো এসব খাবার জুটবে না কপালে।
এতোক্ষণ ভাত নাড়াচাড়া করছিলো আলো সবে মুখে দিতে নিবে তখনই উপহাস করে বলে উঠলো অতিথি।
” অতিথি!
আফিয়া চৌধুরীর চিৎকারে মুখ গুমরো করে ফেললো অতিথি। নিজের বোনের মেয়ের চেয়ে কোথাকার কোন মেয়ের দরদ দেখে ভেতরে ভেতরে অতিথি রাগের চরম পর্যায়ে চলে গেছে। কখন কি করে ফেলতে পারে তার কোনো ধারনা নেই। আফিয়ার মুখের উপরই বলতে লাগলো সে,
” কি অতিথি বলে চিৎকার করছো খালামনি! আমি ভুল কি বলেছি বলো? পরের মেয়ের জন্য নিজের ছেলেকে কষ্ট দিচ্ছো তোমরা। সে দূরে সরে গিয়েছে তাতে তোমাদের বিন্দু মাত্র কষ্ট হচ্ছে না? ওকে কোথাও দিয়ে আসো নয়তো, আংকেলের অফিসে জব দাও। আর নয়তো ভালো ছেলে দেখে বিয়ে দিয়ে দাও। রুপের তো অভাব নেই যে কেউ দেখলে এক দেখায় রাজি হয়ে যাবে। কেন শুধু শুধু নিজের ছেলেকে কষ্ট দিচ্ছো তোমরা?
” ফাহিমা এই মেয়েকে বল খেয়ে বাড়ি চলে যেতে।
আর হ্যা গাড়ির ড্রাইভার কে বলে দিস দিয়ে আসবে।
আলো শুনছিলো কথা। আফিয়া চৌধুরীর কথা শুনে অতিথি কিছু বলার আগে আলো বলে উঠলো,
” না মামুনি অতিথি ঠিক কথায় বলেছে। আমার জন্য সবাই অশান্তি শব্দটার সাথে ওতোপ্রোতো ভাবে জড়িয়ে গিয়েছো। একটা মানুষ তার পরিবার, বাড়ি ছেড়ে আলাদা থাকছে। আমি কিছুই চাচ্ছি না জাস্ট
দু’টো দিন সময় দাও আমি আমার একটা ব্যবস্থা
করে এই বাড়ি ছেড়ে চলে যাবো। তোমরা আমার জন্য নিজেদের মধ্যে ঝামেলা সৃষ্টি করো না।
অতিথির মন খারাপ হয়েছিলো চলে যাওয়ার কথা শুনে। কিন্তু আলোর কথা শুনে তার হেরে যাওয়া মুখটা দেখে শান্তি পেলো সে। প্রশান্তিময় মুচকি হাসি দিলো। আলো হাত ধুইয়ে ওঠে পড়লো সোজা নিজের রুমে চলে গেলো।
” আলো যাস না মা! খেয়ে যা! [ আফিয়া ]
” আলো! [ আরিফ ]
” এই আলো যাস না! [ ফাহিমা ]
” শোন মা! যাস না। [ আসিফ ]
এতোগুলা মানুষের কথা উপেক্ষা করলো আলো।
আলোর চলে যাওয়ায় সকলেরই মন খারাপ হলো।
অতিথি খেয়ে যাচ্ছে আপনমনে। সকলেই উঠে পড়লো। আফিয়াসহ সকলেই বিরক্ত হলো অতিথির প্রতি। মেয়েটা আলোকে সহ্যই করতে পারে না। ওর জন্য অনেক সুন্দর সুন্দর সময় নষ্ট হয়েছে। মেহমান কিংবা কেউ আসলে আলোকে অপমান করে কথা বলেছে। অনেক বার তো গ্রামের মেয়ে কাজ করে এই বাড়িতে কাজের মেয়ের পরিচয় ও দিয়েছে। আলো একটু ও ছাড় দেয়নি। অন্যায়কে অন্যায় আর ন্যায়কে ন্যায় দিয়ে বুঝিয়েছে। কিন্তু আজ তো অতিথি ঠিক সে ভুল। নত হওয়াটায় স্বাভাবিক! শশুর বাড়িতে থাকার জন্য হাসবেন্ড লাগে আর যেই মানুষটা পাশে নেই সেখানে তার থাকার প্রশ্নই আসে না। আর তার হাসবেন্ড তো চাই-ই না!
আলো রুমে গেলো না বরং ছাঁদে চলে গেলো। তার মন খারাপের অংশিদার এই ছাঁদ ও আকাশের চাঁদ!
কিন্তু আজ রাতের আকাশটা অমাবস্যার রাতের মতো অন্ধকার। চাঁদের দেখা মেলেনি। হীম শীতল বাতাস বয়ছে। বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। এই বুঝি বৃষ্টি এলো।
স্থির চিত্তে আলো দাঁড়িয়ে রইলো রেলিঙের পাশে হাত রেখে। চক্ষু জোড়া তার আঁধারে ঘনিয়ে থাকা আকাশ পানে। মনে হাজারো জল্পনাকল্পনা করে যাচ্ছে মেয়েটা। হঠাৎ টুপটাপ বৃষ্টির ফোঁটা পড়তে শুরু করলো। এভাবে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে তীব্র বেগে বৃষ্টি নামলো। বাতাসের সাথে তীব্র বৃষ্টির কণা গুলো যেন শরীরে তীরের মতো বিঁধছে। এতো তীব্র ভাবে বৃষ্টি পড়ছে। বৃষ্টির মধ্যে তার বৃষ্টির কথা মনে পড়ে গেলো। কেমন আছে সে এখন? শুনছিলো সে দু’বছর আগে মেয়েটার বিয়ে হয়েছে গিয়েছে। এখন বোধহয় স্বামী সন্তান নিয়ে সুখের সংসার করছে। এটাই তো চাওয়া মেয়েদের। ভালো একটা মানুষ হোক যে সবসময় পাশে থাকবে হাতটি শক্ত করে মুঠোবন্দি করে ধরে বলবে, এই হাত দেহে প্রাণ থাকা অব্দি ছাড়ছি না বউ। আফসোস তার কিছুই হলো না। তীরে এসে তরী ডুবলো। কেমন নীয়তি
না বাবা মায়ের আদর আর না পেলাম স্বামীর পরিচয়। সবশেষে আবার ও সর্বহারা হলাম। আর মাত্র দু’টো দিন কষ্ট করুন শুভ্র আমি আপনার জীবন থেকে চলে যাবো। আপনি অভিশাপ মুক্ত হবেন। মাছের কাঁটার মতো গলায় বিঁধে ছিলাম এতোদিন। প্রান ভরে শ্বাস নিবেন। বৃষ্টির সাথে চোখের নোনা পানি মিলেমিশে একাকার হয়ে গেলো।
ঠান্ডায় শরীরে কাঁপন ধরেছে সেদিকে কোনো খেয়ালই নেই আলোর। আধঘন্টা ধরে বৃষ্টিতে ভিজতেছে আলো। যখন শরীরে আর সায় দিচ্ছে না তখন মেয়েটা বাধ্য হয়ে নিচে আসলো। সকলেই রুমে চলে গিয়েছে। রুমে এসে দরজা লক করে ওয়াশরুমে চলে গেলো জামাকাপড় চেইঞ্জ করে এসে শুইয়ে পড়লো সে।
_______________
” এমন চুপচাপ আছিস যে আলো। মন খারাপ তোর? কাল এতোবার ফোন দিলাম ফোনটা সুইচ অফ করে রেখেছিস কেন? জানিস মিহুল ভাইয়া বার বার আমায় জিজ্ঞেস করছিলো কিছু হয়েছে কি না?
” আমি ঠিক আছি আর তোর মিহুল ভাইয়ার কথা আমার সামনে বলবি না প্লিজ ! যতোই এড়িয়ে চলি ততোই সামনে পড়ে।
আহি কিছুক্ষণ পরোখ করলো আলোকে। চিন্তিত কন্ঠে বললো,
” এই তুই আবার ও বৃষ্টিতে ভিজেছিস তাই না? কাল তো বৃষ্টি হয়েছিলো। তাও রাতে। তোর না নিষেধ বৃষ্টিতে ভিজা তাহলে? চোখ মুখ লাল হয়ে ফুলে আছে।
বিরক্ত হলো আলো। বললো,
” আমি গ্রামের মেয়ে আহি বৃষ্টিতে ভিজা আমার কাছে কোনো ব্যাপার না। ওসব অভ্যাস আছে।
” একটা রিকশা ও নেই। আচ্ছা এতো সকাল সকাল এখানে ডাকলি যে? কোনো দরকার? আর আমি তোর..
আলো রাস্তায় একটা বিড়াল ছানা দেখলো ঠিক রাস্তার মধ্য খানে । গাড়ি আসছে একটু পর পর। সকাল হওয়ায় এখন একটু কম গাড়ি কিন্তু, বিড়ালটা সরছে না কেন? বড় একটা ট্রাক আসছে। তার নিচে পড়লে বিড়ালের অস্তিত্ব মুছে যাবে। আগপিছু না ভেবে পা বাড়ালো মেইন রাস্তার মধ্যেখানে। বিড়ালটাকে বাছানোর চেষ্টায়। ওইদিকে আহি একা একা কথা বলছে আর হাঁটছে। তার খেয়াল নেই আলো আছে কি নেই।
গাড়িটা খুবই নিকটে চলে আসলো আলো বিড়াল ছানাটাকে তুলে সামমে গাড়ির দিকে তাকাতেই
স্থির হয়ে গেলো। ভয়ে হাত পা নাড়ানোর কথা ভুলে গেলো। সামনে থেকে ট্রাক চালক চিৎকার করছে। ট্রাক থামাতে গেলে আলোকে পেরিয়ে আরো সামনে যাবে। যখন তখন কি আর গাড়ি থামানো যায়। চোখ খিঁচে ফেললো আলো মরন বুঝি এই হলো। হঠাৎ কেউ আগলে নিলো মনে হলো। বিড়ালসহ ছুটে এসে পড়লো রাস্তার ফুটপাতে। ট্রমা থেকে আলো বের হতে পারেনি।
কিছুক্ষণ যেতেই চমকে উঠলো আলো তারমধ্যে
লোকটা সজোড়ে গালে থাপ্পড় বসালো। চেঁচিয়ে বলে উঠলো,
” আর ইউ ক্রেজি?! ওয়ান সেকেন্ড লেটার অ্যান্ড ইউড বি ডেড!
আলো ঝাপসা চোখে তাকিয়ে তাচ্ছিল্যের হাসলো।
” সামান্য একটা বিড়ালের জন্য এমন করে কেউ ?
” সব কিছুকে ছোট বড় করে দেখার দৃষ্টি ভঙ্গি পাল্টান
স্যা….
অতিরিক্ত ভয় পেয়ে সেন্সলেস হয়ে পড়লো আলো।
” এই আলো! কি হয়েছে ওর?
[ ভালো লাগলে ছোট্ট পেইজে ফলো দিয়ে উৎসাহিত করবেন। এবং লাইক কমেন্ট করবেন ]

