শুভ্রফুল — ৪ #কলমে_লিজা_আক্তার_আলো

0
60

#শুভ্রফুল — ৪
#কলমে_লিজা_আক্তার_আলো

[ কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ]

আলো জ্ঞান হারিয়ে পড়ে যেতে নিলে দু’হাতে কোমর জড়িয়ে আগলে নিলো শুভ্র। তার চোখে মুখে কেবল রাগ ছিলো। হঠাৎ কেমন শূন্য শূন্য লাগছিলো। ভয়ে কাঁপছে শুভ্র ও। কেন এমন লাগছে বুঝলো না শুভ্র। হারানোর তীব্র ভয়ে চড় মেরে বসলো সে। কিন্তু, আলোর এহেন কান্ডে হতবাক হলো। মেয়েটা তাকে ছোট-বড় শেখাচ্ছে? তাকে চেনে কতটুকুই? ভাবলো না বেশি শুভ্র। মেয়েটা অসুস্থ হয়ে গিয়েছে সেটা ভুলে রাস্তার পাশে ফুটপাত দাঁড়িয়ে সে আপন মনে মেয়েটির চেতনাহীন মুখশ্রীর দিকে পলকহীন তাকিয়ে আছে। আলোর অক্ষীযুগল হালকা কেঁপে কেঁপে ওঠছে। তেমন মানুষজন নেই বিদায় কেউ খেয়াল করলো না। তারমধ্যে হন্তদন্ত হয়ে দৌড়ে আসলো আহি। এসেই হাঁপাতে হাঁপাতে বলতে লাগলো,

ট্রাক চালকের চিৎকারের আহি পিছু ফিরে তাকাতেই তার আত্মা উড়ে যাওয়ার অবস্থা। ভয়ে চোখ দুটো কোঠর থেকে বেড়িয়ে আসার উপক্রম। যখন কেউ বাঁচিয়ে নিলো শুঁকিয়ে যাওয়া আত্মায় যেনো পানি আসলো। সে তাড়াহুড়ো করে গেলো তাদের কাছে।
স্যারকে দেখেই বলে উঠলো আহি ,

” আলো কি হয়েছে আলোর? ধন্যবাদ স্যার আপনি ঠিক সময় না বাঁচালে আমি আমার জান পাখিরে হারিয়ে ফেলতাম। ওর ছাড়া আমি রাস্তায় বের হতে ইচ্ছে হয় না। জামাই যতোদিন না কপালে জুটবে নিজ স্বার্থের জন্য হলে ও ওরে আমার দরকার। আর ওর কিছু হলে আমার কপালটা ও পুড়বে। আমি আপনার জন্য দোয়া করবো আপনি আমার বেস্টুর মতো একটা ভালো বউ পা পা পা…….

থেমে জিহ্বায় কামড় বসালো আহি। আবেগের বসে একি বলে ফেললো সে। কপালে হাত চলে গেলো তার সাথে সাথে। শুভ্র সব ভুলে আহির এমন কথাবার্তা শুনে কি বলবে সেটাই ভুলে গেলো। তবে সে শান্ত স্বরে বলে উঠলো,

” ও আলো রাইট!

এক চোখ খোলে খানিকটা লজ্জিত বোধ করলো আহি। নিচু স্বরে বললো,

” সরি স্যার! জ্বি স্যার ও আলো। ও কথা বলছে না কেন?

আলোর হাত ধরে ডলতে লাগলো আহি।

” পানি আছে?

শুভ্রর কথাটা শুনে তড়িঘড়ি করে পানির বোতল বের করলো আহি। এগিয়ে দিলো শুভ্রের সামমে। শুভ্র পানি ছিঁটাতে লাগলো আলোর চোখে মুখের উপর কিছুক্ষণের মধ্যে পিটপিট করে চোখ খোললো আলো। চোখের সামনে স্বামী নামক শুভ্রকে দেখে অবাক হলো। এই মানুষটা তাকে বাঁচিয়েছে? এই ও সম্ভব? যদি জানতো এই মেয়েই তার জীবনের সবচেয়ে বড় শত্রু তাহলে ও কি বাচাঁতো? উহুম হয়তো তাকিয়ে মুচকি হাসতো আর বলতো এভাবেই আমার জীবন থেকে বিদায় হও।

” তুমি ঠিক আছো?

” আলো কেন হঠাৎ করে এমন পাগলামি করতে গিয়েছিলিস হুম! যদি স্যার না থাকতো তাহলে কি হতো বলতো?

আলো ততোক্ষণে সরে আসলো শুভ্রর কাছে থেকে
মাথা নাড়িয়ে বোঝাল সে ঠিক আছে। আলো ফের নির্বিকার তাকিয়ে রইলো। শুভ্রর গতকালকের কথা মনে পড়ে গেলো। মেয়েটি তাকে চিনে? ও এভাবে তাকিয়ে তাকে কেন? কিছু কি বলতে চাই?

” কিছু বলবে?

আলো নিজের বেহায়া মনের কারনে লজ্জায় পড়ে
গেলো। শুভ্রর কথা শুনে মিনমিন করে বললো,

” ধন্যবাদ স্যার আমায় বাঁচানোর জন্য।

” সাবধানে চলাফেরা করবে বুঝেছো। নয়তো রাস্তায় বের হইয়ো না।

” স্যার আমরা আসি তাহলে।

শুভ্র সায় দিতেই আহি আলোর হাত ধরে নিয়ে যেতে যেতে বললো,

” ওভাবে ড্যাব ড্যাব করে স্যারের দিকে তাকিয়ে আছিস কেন আলো? মিহুল ভাইয়া জানলে তোর খবর আছে কিন্তু। আর তোর ওই চোখের চাহনি দেখলে যে কেউ প্রেমে পড়ে যাবে। আমি তো ফিদাআআ!

” তোর এই ফাটা বাঁশের গলা বন্ধ কর বইন! স্যার শুনতে পাচ্ছে।

আহি পিছু ফিরে দেখলো শুভ্র তাদের দিকেই তাকিয়ে আছে। আহি মনমরা হয়ে বলে উঠলো,

” এই আলো স্যারের লক্ষন তো ঠিক লাগছে না রে
আমি তো প্রেম প্রেম গন্ধ পাচ্ছি।

যে মানুষটা তাকে এতোটা অসহ্য করে। যে তার মুখটি অব্দি দেখতে চাইনি। তার জন্য নিজের বাবা মায়ের থেকে ও দূরে সরে গেলো আর যায় হোক তার প্রেমে পড়বে না। লোকটা হয়তো জানে না তাই একটু মানবিকতা দেখাচ্ছে। জানলে নিজ হাতে ওই ট্রাকের সামনে দিয়ে আসবে। বলবে মরে গিয়ে আমাকে উদ্ধার করো!

” এই টপিক এখানে অফ কর তো। আমাকে নোট গুলো দিবি। আর হ্যা তোর সাথে আমার জরুরি কিছু কথা
আছে আমাকে একটা হেল্প করবি?

” কি হেল্প বল?

হাঁটতে হাঁটতে মাটির দিকে তাকিয়ে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বলে উঠলো,

” আমাকে কিছু স্টুডেন্ট ম্যানেজ করে দিবি? টিউশনি পড়াবো।

দাড়িয়ে গেলো আহি। অবাক হয়ে তাকালো আলোর মুখপানের দিকে। ভ্রুঁ কুঁচকে তাকিয়ে বললো,

” তুই ঠিক আছিস তো আলো? না মানে জ্ঞান হারিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে কি স্মৃতি শক্তি ও হারিয়ে ফেলেছিস?

বিরক্ত হলো আলো। বললো,

” আমি মোটেও মজা করার মুডে নেই আহি। তুই
পারলে বল নয়তো আমাকেই দেখতে হবে। চেষ্টা করলে অবশ্যই পাবো নয়তো জব খুঁজবো।

আলো কেমন অদ্ভুত। তার বিষয়ে সে কখনো খোলসা করে কথা বলে না। সব ঝাপসা লাগে। ও কি বিপদে পড়লো ? ভাইয়াকে বলতে হবে। আহি মন খারাপ করে ফেললো। বললো,

” কি হয়েছে আমার জানের? আচ্ছা বল তোর কি এমন হয়েছে যে জব করবি। এতোটা অভাব পড়েছে তোর? বল তো আমায় ? আমি কি মিহুল ভা…

” তোকে কিছু এমনি এমনি বলি না আমি থাক বইন আমার ব্যাবস্থা আমিই করবো। খবরদার আহি ওই ছেলেকে একটা কথা ও বলবি না। ওনি আমার ভার্সিটির সিনিয়র ভাই হয় আর ভিপি। সেটা আমি কোন প্রবলেমে পড়লে যাবো জানিস? শুধু ভার্সিটির প্রবলেম বুঝেছিস তুই?

জানটা বেশ রেগে গিয়েছে। এক হাত কাঁধে রেখে আর এক হাত আলোর গাল টেনে বলে,

” সরি সরি জান আগে তুই তার পর মিহুল ভাই। চাচাতো ভাইয়ের জন্য কি আমি আমার জানকে
কষ্ট দিবো নাকি! কিছুই বলবো না তোর যা ইচ্ছে তাই কর।

” হয়েছে হয়েছে এখন চলেন!

” হ্যা চল।

_______________

সকাল ন’টা বেজে পয়ত্রিশ মিনিট। শুভ্র ভার্সিটি যাওয়ার জন্য রেডি হচ্ছে। আর বার বার তার আলোর কথা মনে পড়ছে। বার বার বেখেয়ালি উল্টা পাল্টা কাজ করছে। মানে কাজে তার মন বসছেই না। নিজের ভাবনায় নিজেই অবাক হয় শুভ্র। মেয়েটি তো তাকে পাগল বানিয়ে ছাড়বে এই একদিনেই। বড় করে শ্বাস ছেড়ে রেডি হয়ে ফোনটা হাতে নিতেই ফোনটা থরথর করে কেঁপে উঠলো। সাইলেন্ট করা ছিলো। অনেকক্ষণ যাবত বাজছিলো ফোনটা। নামটা দেখে রিসিভ করতে চাইনি তবুও করলো। করেই সোজা কথা,

” কাজের কথা হলে বল নয়তো…

” আরে ভাইয়া রিসিভ করতে না করতেই এমন এলার্ট দাও কেন? তোমার সাথে কি আমার হাসি টাট্টার সম্পর্ক নাকি?

” কাজের কথা বল।

শুভ্রর কথায় অতিথি নিজের গলা পরিষ্কার করে নিয়ে বললো,

” ওই গাইয়া মেয়েটা তো সারাক্ষণ খালামনি আর আংকেল এর টাকাই রাজরানীর মতো থাকছে,খাচ্ছে,
অশিক্ষিত মেয়ে একটা।

” অতিথি তুই এসব বলার জন্য ফোন দিয়েছিস?

অতিথি তারাহুরো করে বলে উঠলো,

” আরে না না আমি বলছি বলছি ভাইয়া আসলে কথা হলো তোমার বউ না মানে ওই অশিক্ষিত মেয়েটার টাকা লাগবে বলেছে।

” মানে!

শব্দহীন হাসলো অতিথি। মনে সাহস এনে শ্বাস ছাড়লো সে। বলতে লাগলো,

” ভাইয়া ওই গেউয়ো মেয়েটার টাকা লাগবে কেন জানো? ও বলেছে যদি তুমি ওকে পাঁচ লক্ষ টাকা
দাও তাহলে আগামী দুদিনের মধ্যে তোমাদের বাড়ি ছেড়ে চলে যাবে চিরদিনের জন্য। বোঝনা খালামনি আর আংকেল এর কাছে তো আর টাকা চাইতে পারবে না তাই ও আমায় বলছে এটা একান্তই ব্যক্তিগত থাকবে। আমি তুমি আর ওই মেয়েটা। আর কেউ এই কথা জানতে পারবে না।

” আমি টাকা পাঠিয়ে দিবো। তুই দিয়ে দিস।

” আচ্ছা ভাইয়া।

কেটে দিলো ফোন শুভ্রর মুখটা গম্ভীর হয়ে গেলো। তার বাবা তাকে একটা লোভী মেয়ের সাথে বিয়ে দিয়েছিলো। এই তো আসল রুপ বের হয়ে গেলো। লোভী কোথাকার! চুপচাপ বেরিয়ে গেলো সে।

” অতিথি অতিথি তুই তো ফাটিয়ে দিয়েছিস। এই
বুদ্ধিটা আগে আসলো না কেন তাহলে তো কবেই
আপদটা বিদায় হয়ে যেতো। উফ তোকে নিয়ে আমার প্রাউড ফিল হচ্ছে। লাভ ইউ অতিথি। শুভ্র ও পাঁচ লক্ষ টাকা দুটোই আমার হবে।

অতিথি নিজেকে নিজেই বাহবা দিচ্ছে। আর হাসছে।
তার প্ল্যান সাকসেসফুল হলো।

_______________

সময় তেমন হয় নি ক্লাসের। অনেকটা আগেই চলে আসছে তারা দুজন। দুজনে বসে এতোক্ষণ একটা ভার্সিটির পার্কে বসে স্টুডেন্ট এর বিষয়ে আলোচনা করেছে। তারপর ভার্সিটিতে আসছে। ক্যাম্পাসে আসতেই আহি প্রশ্ন করলো,

” কোথায় যাচ্ছি এখন?

” লাইব্রেরীতে যাবো। যাবি?

আলোর কথায় আহি বললো,

” নাহ! আমার ইচ্ছে করছে না যেতে। তুই যা।

” আচ্ছা।

আলো চলে গেলো। আহি বির বির করে বললো,

” লাইব্রেরী না ছায়! বই দেখলেই মাথাটা হ্যাং মারে ।
বই তার একমাত্র শত্রু আর দ্বিতীয় শত্রু তাকে সবসময় থ্রেট করে। উফ জামাই থাকলে কেউ কথা শুনাতে পারতো না। না বই আর না মানুষ। হায়রে অভাব!

হাটতে হাটতে ক্লাসে আসলো সে। বসে পড়লো ধুম করে। আহি ব্যাগের উপর শুইয়ে শুইয়ে ভাবছে,

” সবার বিয়ে হয় আমার কেন হয় না? সবসময় স্যার এর পড়া ভালো লাগে না। বলি এই বয়সে একটা
বাচ্চা থাকবে। আমি রান্না করবো একহাতে আরেক হাতে বাচ্চা সামলাবো। আর বাচ্চা আমার, জ্বালালে বাচ্চা সহ বাচ্চার বাপকে ও পিটাবো।

” একা থাকলেই তোর জামাইয়ের সংসার নিয়ে
পড়তে হয় তাই না?

কন্ঠস্বর শুনে চমকে দাঁড়িয়ে গেলো আহি। বললো,

” আমার সংসার এর চিন্তা আমায় করতে দাও ভাইয়া আজ জানো কি হয়েছে?

” সবই তো জানি জানবো না কেন? আমি তো সবজান্তা তাই না?

আহি অসহায় চোখে তাকিয়ে রইলো, মিহুল কড়া করে বললো,

” হয়েছে গাল ফুলানো বন্ধ কর। বল কি হয়েছে আর আলো কোথায়?

” জানো ভাইয়া আজ শুভ্র স্যার না থাকলে আলো
বোধহয় ট্রাকের নিচে পড়ে পিষে যেতো। আমার
ভাবতেই গা শিউরে উঠছে বারবার!

চোয়াল শক্ত হয়ে গেলো মিহুলের। তার মানে স্যার তার আলোকে ছুঁয়েছে। হাত দু’টো মুঠোবন্দি হয়ে এলো। রাগ হলো মিহুলের। আহি অবাক হলো মিহুলের এমন চেহেরা দেখে সে বললো,

” ভাইয়া তুমি খুশি হওনি আলোর বেঁচে থাকায়? এমন করছো কেন তুমি?

মিহুল চেঁচিয়ে উঠলো। চোখ দুটো লাল আভায় চেয়ে গিয়েছে। সে টেবিলে পাঞ্চ মেরে রেগে বলে উঠলো,

” পড়লে পড়তো, মারা গেলে যেতো, তারপর ও ওকে কেন অন্যকেউ ছুঁবে ? যাকে আমি প্রায় পাঁচশো পঞ্চান্ন দিন- তিন ঘন্টা -পঁচিশ মিনিটে এক সেকেন্ড এর জন্য ও টাচ করিনি তাকে স্যার টাচ করেছে কেন? সব তোর জন্য তুই কি করছিলিস? বিয়ে করার অনেক সখ না তোর? তোর বিয়ে ক্যান্সেল। বিয়ে আশা ছেড়ে দে বোন। বিয়ে বলতে কিছুই নেই, ভুলে যা। পড়াশোনা কর! তোর জন্য আমার আলোকে অন্য কেউ ছুঁয়ে দিলো। আর তোর বিয়ে আমি তোর কপাল থেকে মুছে দিলাম। আজ থেকে হুদাই বিয়ে, জামাই সংসার স্বপ্ন বাদ দিয়ে দে।

” ভাইআআআআআ!

” ডাকবি না আমায়। আমি আজই ছোটবাবাকে
বলবো তুই বিয়ে করবি না। পড়াশোনা কমপ্লিট হওয়ার পর বিয়ে। আর তুই তো জানিসই আমার কথার কত পার্সেন্ট পাওয়ার!

কাঁদো কাঁদো মুখ করে তাকিয়ে রইলো আহি। মিহুল চলে গেলো। মরার পড়ার জন্য এই ভাই নামক শত্রুটা তার সাথে শুধুই ত্যারামি করে। ভাল্লাগেনা নাহ! এভাবে হবে না নিজের জন্য নিজেকেই ছেলে খুঁজতে হবে কোনো রকম কিছুদিন প্রেম করে পালিয়ে যাবো। তারপর দুজনে মিলে কাজ করে খাবো তবুও পড়ার জন্য স্যারের বকা খাবো না। হুম! ডিসিশন ফাইনাল।

মিহুল চলে গেলো।
___________

” আলো!

আলো বই পড়ছিলো নিরিবিলি। লাইব্রেরীতে কেউ
নেই। হঠাৎ চেনা কন্ঠস্বর শুনে আবার ভয় হলো মনে। চকিতে দৃষ্টিতে তাকালো আলো।

তার থেকে কিছুটা দূরে পিলারে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে মিহুল। আলো নিজেকে আবার ও বইয়ে ডুবিয়ে ফেললো। কথা বলবে না সে বলতে চাই না। এড়িয়ে চলে সবসময় তবুও ছেলেটা বেহায়ার মতো তার কাছেই ছুটে আসে।

মিহুল আলোর সামনাসামনি বসলো। তাকালো আলোর দিকে। বললো,

” আমার তোমার সাথে ইম্পরট্যান্ট কথা আছে আলো।

আলো কথা বললো না মুখ গুঁজে রাখলো বইয়ে।

” আলো আমি কথা বলছি তোমার সাথে।

আলো বই ভাজ করলো। সরাসরি তাকালো সে।
বললো,

” জ্বি বলুন শুনছি।

” কি হয়েছিলো আজ?

বুঝলো আলো কারনটা। সে বললো,

” ঝামেলা থেকে মুক্তি হতে হতে আবার ও ঝামেলায় জড়িয়ে গেলাম।

মিহুল হতাশ! এই মেয়েটা তাকে ভয় পায় অথচ একটা কথা ও ঠিক ভাবে বলবে না।

” সোজাভাবে বললে কি হয়?

” জানেন তো সবটা তাহলে?

” আচ্ছা সব বাদ দাও ওসব। আমি তোমার বাবা মায়ের সাথে কথা বলতে চাচ্ছি।

” মানে কি? আমার মা বাবার সাথে আপনার কি কথা থাকতে পারে?

মিহুল শান্ত ও অদ্ভুত চোখে আলোর চোখের দিকে তাকালো। কিঞ্চিৎ হেঁসে বলে উঠলো,

” আমি তোমার হাত ধরার অধিকার আদায় করতে চাচ্ছি ম্যাডাম। আল্লাহ কে সাক্ষী রেখে তোমায় আমি
আমার…..

” থামুন আর না!

আলোর কথায় অবাক হলো মিহুল। ও রাগ দেখাচ্ছে কেন? ও তো কাউকে পছন্দ করে না। আর না বিয়ে হয়েছে তাহলে কি চাই ও?

” কেন আমাকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করো আলো। ভালোবাসি বলে? ভালোবাসার বদলে তো ভালোবাসা দিতে হয়। তাহলে আমি কেনো তুচ্ছতাচ্ছিল্য পাবো?

আলো অস্থিরতায় কাঁপছে। কি করবে সে? নিজের সেই অসহায়ত্বের গল্প বলবে? নাহ! আর এই লোকটা কেন বোঝে না।

” দেখুন মিহুল ভাইয়া আমি আগে ও বলেছি আর এখন ও বলছি, আমায় নিয়ে কিছু ভাববেন না। আমি এমনিতেই …

” বলো!

সত্যি কথা বলবে কি আলো! ভেবে পাচ্ছে না সে। চোখ বন্ধ করে বলে ফেললো সে,

” আমি ম্যারিড মিহুল ভাইয়া। আপনি শুনেছেন?

সামনে তাকালো আলো,

চলবে,

[ ভালো লাগলেই লাইক কমেন্ট করে পেইজে ফলো দিয়ে রাখবেন ]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here