#শুভ্রফুল — ৫
#কলমে_লিজা_আক্তার_আলো
[ কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ]
ভার্সিটির মধ্যে তীব্র মারামারি শুরু হয়েছে ইতিমধ্যে। বিরোধী পক্ষের ছেলেগুলো মিহুলের বন্ধু রাফিনের উপর হঠাৎ আক্রমণ করে বসলো। আকস্মিক আক্রমণে রাফিন একা সামলাতে গিয়ে হিমসিম খাচ্ছে। আলো চোখ খুলতেই দেখলো কেউ নেই। তার মানে আজ ও কথাটা জানানো হলো না। হঠাৎ জানালা দিয়ে বাইরে চোখ গেলো। মারামারি লেগেছে, ভয় পেলো আলো ভার্সিটির মধ্যে মারামারি করলে স্যার ম্যামরা ও সাহস পায় না আসতে। গুন্ডা দের সাথে কে যাবে অযথা ঝামেলা পাকাতে। মিহুল তাদেরকেই মারছে। বলতে গেলে পুরোদমে মারপিট চলছে। একটু হাল ছাড়লেই হেরে গিয়ে তাদের হাতে মরতে হবে। নয়তো আধমরা হয়ে হসপিটালের বেডে শুইয়ে থাকতে হবে।
আলো দ্রুত আসলো বাইরে। আহি ও আসছে সে
আলোর কাছে এসে দাঁড়ালো। চিন্তিত হয়ে বললো
আহি,
” কি হবে এখন আলো? ভাইয়া আর রাফিন ভাইয়ার যদি কিছু হয় কেউ তো নেই তেমন। আর দেখ যারা আছে তারা শুধু সার্কাস দেখে যাচ্ছে।
” শান্ত হো আহি। একটা কাজ কর পুলিশকে ফোন দে
নয়তো প্রাণঘাতি ও হতে পারে।
মিহুল সবকটাকে ইচ্ছে মতো মারতেছিলো। তাদের
বন্ধুদের মধ্যে আর কেউ আসেনি। প্রায় দশজন হবে তাদের সাথে দুজনের পেরে উঠা একটু মুশকিলই! কিন্তু তাও ছাড় দিচ্ছে না তাদের আচ্চা মতে দিচ্ছে। লাটির আঘাত করছে একেকটাকে।
আস্তে আস্তে লোকজন আসা শুরু করেছে। সবাই তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছে শুধু। স্যার ম্যামরা ও আসছে। কিন্তু, তারা কিছুই বলতে পারছে না। কারন, এখানে কিছু বললেই পথেঘাটে বিপদের সম্মুখীন হতে হবে তখন কে দেখবে? এইভেবে নিঃশব্দে এড়িয়ে চলে। আকস্মিক হঠাৎ একটা ছেলে পিছন থেকে লোহার লাটির আঘাত করে পিহুলের মাথায়। তাল সামলাতে না পেরে লুটিয়ে পড়লো নিচে। আহি ভয়ে ভাইয়া বলে চিৎকার করে উঠলো। কাছে আসতে নিলে গুন্ডা রাকিব ছেলেটা লাটি ছুড়লো আহির আসার দিকে, আলো সাথে থাকায় লাটিটা সজোরে এসে পড়লো আলোর কপালে। টাস করে ভারি খেলো কপালখানায়। পিছু হটে পড়ে গেলো আলো চোখ মুখ খিঁচে।
” আলোওওও!
মাথায় হাত দিয়ে চিৎকার দিয়ে উঠলো মিহুল। চোখ দুটো বারবার লেগে আসছে। শরীর না সায় দিলে ও মনের জোড় চেষ্টা করছে ওঠতে। কিন্তু পারলো না নেতিয়ে পড়লো সেখানেই।
আলো দাত চেপে ব্যাথা সহ্য করে নিলো। লোহার লাটি
একটু লাগলেই অবস্থা খারাপ। তবুও দিশেহারা আহির
দিকে তাকিয়ে সে বললো,
” আহি তোর ভাইয়ের কাছে যা। আমি ঠিক আছি।
আহি ভয়ে ছন্নছাড়া হয়ে দুদিকে তাকিয়ে কান্না করে দিলো। মিহুলের কাছে গিয়ে ডাকতে লাগলো আহি অজ্ঞানরত মিহুলকে। রাফিন রেগে ছেলেগুলোকে মারতে লাগলো। ছেলেগুলো এবার রাফিনকে ঘিরে দাঁড়ালো। একটা ছেলে ছুড়ি বের করলো। হাসতে হাসতে বললো,
” তোর লিডার তো শেষ এবার তোর পালা। শালা বেশি উড়ছিলো তাই না! পাখা ভেঙে দিলাম তো যে সে ভারি নারে পাগলা লডের ভারি দিয়েছি। তাও মাত্র একটা। আপাতত একটু শান্ত থাকুক পরিবেশ টা সুন্দর লাগবে। এবার তোর পালা। তার পর তোর লিডারকে আয়েশ করে শেষ করবো। অনেক জ্বালিয়েছে আমাদের। আর তারপর তোর লিডারের প্রেমিকা আর বোনকে নিয়ে আমরা মজা মাস্তি…
” রাকিববার বাচ্চা মুখ সামলে কথা বল বলছি। একটা মেয়েকে কিভাবে সম্মান দিতে হয় সেটা ও জানিস না কেমন মায়ের সন্তান তুই?
” আহা কথা কম বল জীবনের ইতি টানার সময় অন্যের কথা না ভেবে নিজের কথা ভাব ভাইই!
রাফিন রেগে বলে উঠলো,
” মরার ভয় এই রাফিন করে না বরং তোরা করিস তা না হলে এতোগুলা আসতি না একজনই যথেষ্ট ছিলো। ভীতুর দল।
রাকিব কথাটা শুনে রেগে রাফিনের দিকে এসে ছুড়িটা পেটে ঢুকাতে নিলে হাত আটকে নিলো কেউ। রেগে তড়িৎ গতিতে তাকালো পাশে বাজে একটা গালি দিয়ে। তাকাতেই ভ্রু কুঁচকালো, বললো,
” এই তুই আবার কে রে? আমার কাজে বাঁধা দিচ্ছিস প্রাণের ভয় থাকলে সরে যা বলছি। নয়তো তার আগে তোকে শেষ করবো।
টাস টাস করে চার পাঁচটা থাপ্পড় মারলো শুভ্র। মাথা ঘুরে পড়ে গেলো রাকিব। সবগুলো ছেলে কাছে আসতে নিলে শুভ্র হাত দিয়ে থামিয়ে দিলো তাদের। রাকিবকে টেনে তুলে দাঁড় করিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে হিসহিসিয়ে বললো,
” তোর প্রাণের ভয় নেই দেখেই তো তুই মেয়েটির গায়ে আঘাত করেছিস। বাজে কথা বলছিস তার উপর ভার্সিটিতে এসে দাদাগিরি করছিস। এটা তোর বাপের ভার্সিটি না শালা এবার দেখ তোর কি অবস্থা হয়। জীবনে আর বিয়ে করতে পারবি না। একদম সিঙ্গেল প্রোমেক্স হয়ে থাকবি।
বলতে দেরী হলে ও হাত পা চলতে দেরী হলো না শুভ্রর।
রাকিবের ভবিষ্যৎ অন্ধকারের রাস্তা তৈরি করে দিলো এক লাথিতেই। চিৎকার করে মাটিতে লুটিয়ে পড়লো রাকিব! একে একে সবকটাকেই সে মারতে লাগলো। আলো কপালে হাত রেখে দেয়ালের সাথে এলিয়ে দাঁড়িয়ে দেখছে শুভ্রর রাগ। আহি কারোর কাছ থেকে পানি আনলো মিহুলের চোখে মুখে দিতে থাকলো। মাথার নিচ দিয়ে রক্ত দেখে আৎকে উঠলো। আলো বলে চিল্লিয়ে উঠলো আহি।
” আলো ভাইয়ার মাথা দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে।
শুভ্র আসায় রাফিন দ্রুত মিহুলের কাছে আসলো।
আহিকে বললো,
” শান্ত হও কিছু হয়নি আমি মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যাচ্ছি।
দুটো ছেলে আসলো রাফিনসহ মিহুলকে নিয়ে গেলো মেডিকেলে। আহি আলোকে দেখে বলে,
” তুই ও চল তোর ও তো আঘাত লেগেছে।
আলোর চোখ শুভ্রর দিকে। সে ওভাবেই তাকিয়ে বললো,
” আমি ঠিক আছি তুই যা তোর ভাইয়ার সাথে।
আহি এতো কিছু ভাবলো না আলোকে জোড় করলো,
” আলো মজা করার সময় না সবসময় না করিস দেখেছিস কপালের কি অবস্থা হয়েছে? বেন্ডেজ করতে হবে।
” আমি ঠিক আছি আমাকে নিয়ে ভাবিস না তুই যা তো আহি ।
আহি আলোর চোখ অনুসরণ করে তাকালো সামনের দিকে। ইচ্ছে মতো শুভ্র ছেলেগুলোকে মারছে। আহি আলোর চোখ পড়ে যা বুঝলো আলোর আকুলতা আর উদ্ধিগ্নতা শুভ্র স্যারের উপর। আহি ব্যর্থ হয়ে মিহুলের কাছে গেলো। বাসায় খবর দিতে হবে। আর দিলে ও তারা টেনশন করবে বলবে বারন করে এসবে রাজনীতিতে না জড়াতে তবুও জড়াবে। কে শুনে কার কথা।
খানিকক্ষণের মধ্যে পুলিশ আসলো। শুভ্রর হাতে মার খেয়ে পালিয়ে গিয়েছে দু একটা। আর বাকিগুলো চেষ্টার কমতি রাখেনি কিন্তু পুলিশ দেখে পালাতে চেষ্টা করতেই গেঁড়াও করে ফেললো পুলিশ। এভাবে জনসম্মুখে মারপিট করবে আবার পুলিশ দেখে পালাবে ও হায়রে সন্ত্রাস!
শুভ্র পুলিশকে সব বুঝিয়ে বলে। তারপর প্রথমেই চোখ গেলো আলোর দিকে। আলোর চোখ তারই দিকে সীমাবদ্ধ ছিলো। শুভ্র ক্ষণে ক্ষণে অবাক হয়। সস্থির নিঃশ্বাস ফেলে শুভ্র মেয়েটা ঠিক আছে তাহলে। আলোর ও অস্থির মন শান্ত হলো। যেভাবে গুন্ডারা কৌশলে মিহুলকে মেরেছে, আবার শুভ্র কে না মারে। প্রিন্সিপাল স্যার আসে শুভ্রকে ধন্যবাদ দিয়ে সকলকে চলে যাওয়ার কথা বলতেই জায়গাটা খালি হয়ে গেলো
মুহুর্তের মধ্যে। শুভ্র ঠায় দাঁড়িয়ে থাকা আলোর কাছে আসলো। আলো চোখ নামিয়ে ফেললো সাথে সাথে। কানে ভেসে আসলো কিছু কথা,
” কপাল তো অনেকটা কেটে গিয়েছে মেডিকেল চলো আমার সাথে।
” আমি ঠিক আছি।
” তা তো দেখতেই পাচ্ছি চলো আমার সাথে।
হ্যা বোধক মাথা নেড়ে সায় জানালো আলো। কেন যেনো লোকটার সব আদেশ মানতে ইচ্ছে করে।
শুভ্রর পিছু পিছু গেলো সে।
ভেতরে আসতেই আলো অবাক হলো মিহুলের এমন কান্ড দেখে। সাথে শুভ্র ও।
” আমি ঠিক আছি রাফিন। আমাকে আলোর কাছে নিয়ে চল। আমি দেখেছি সয়তান গুলো ওর উপর আঘাত করেছে। কুত্তাগুলোরে আমি কেটে টুকরো টুকরো করে কুত্তারে দিয়ে খাওয়াবো ওর কতবড় সাহস ও আম…
” ভাইয়া শান্ত হও। আলো আসছে এই দেখো।
আলো ভেতরে আসে শুভ্র ও সাথে আছে। শুভ্র কে দেখে রাফিন ও মিহুল সালাম দিলো। বয়সে কয়েক বছর ডিফারেন্ট হলে ও স্যার হয় তো। মিহুল শুভ্রকে ধন্যবাদ দিলো,
” স্যার আপনি না থাকলে আজ একটা অঘটন ঘটে যেতো।
” স্যার আপনি না থাকলে আমি বোধহয় এখন ইন্না-লিল্লাহ!
” থামো তোমরা। আমি আমার দায়িত্ব পালন করেছি ব্যাস। কেমন আছো এখন?
” আমি ঠিক আছি কিন্তু আলো ওর আঘাত লেগেছে। প্লিজ আপনি বলুন না ওকে ও আমার কথা কখনোই শুনে না। কেন এমন করো আলো। নার্স নার্স প্লিজ কাম হিয়ার কুইকলি।
আহি চুপ করে রইলো। আহির বুঝতে বাকি নেই আলো মিহুল নয় বরং শুভ্র স্যারকে পছন্দ করে। কিন্তু মিহুল ভাইয়া জানতে পারলে কি হবে? ভয় হচ্ছে আহির। সামনে দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধ অপেক্ষা করছে। তার মধ্যে
শুভ্র শান্ত স্বরে বলে,
” রিলাক্স মিহুল। আমি আছি তুমি শান্ত হও!
শুভ্রর কথায় মিহুল শান্ত হয়ে গেলো। নার্স এলেই আলোর মাথার হিজাবটা খুলে জমে শুঁকিয়ে থাকা রক্ত
মুছে বেন্ডেজ করে দিলো।
” চলো তোমায় বাড়ি পৌঁছিয়ে দিই। এই অবস্থায় ক্লাস করতে হবে না। আর আজ ক্লাস হবে না।
শুভ্রর এহেন কথায় মিহুল সাথে সাথে বলে উঠলো,
” স্যার আপনি চিন্তা করবেন না আমি আছি ওকে আমি দিয়ে আসবো।
আলো দু’জনের কাজেই ভড়কে গেলো। কি বলছে এসব ওরা।
” ভাইয়া তুমি তো অসুস্থ কিভাবে যাবা?
মিহুল রাগী দৃষ্টিতে তাকালো আহির দিকে। আহি ভয়ে মিইয়ে গেলো। আলো পড়েছে বিপাকে কি বলবে সে এখন।
” আমি যাবো না স্যার আমি ক্লাস করতে পারবো এই সামান্য আঘাতে কিছুই হবে না।
কাউকে সুযোগ দিলো না মেডিকেল সেন্টার থেকে বেড়িয়ে আসলো সে। পিছু আসলো শুভ্র ও। তাদের চলে যাওয়ার পর পিহুল রেগে শুয়া থেকে উঠে বসলো।
রেগেমেগে বলতে লাগলো,
” আমার আলোর দিকে যে তাকাবে তার জীবন আমি
বরবাদ করে দিবো। সেটা স্যার হোক বা অন্য কেউ।
” শান্ত হো মিহুল তোর মাথায় আঘাত লেগেছে। এই মুহুর্তে এতো হাইপার হলে আবার অসুস্থ হয়ে যাবি।
” ভাইয়া তুমি চিন্তা করো না সব ঠিক হয়ে যাবে। তোমার আলো তোমারই থাকবে।
ফের তাকালো মিহুল আহির দিকে। আহি কাঁদো কাঁদো মুখ করে বলে,
” সব দোষ আমার নাকি সবাই শুধু আমাকে ভয় দেখায়? আমি কি করেছি?
” মিহুল ওর দিকে এভাবে তাকাচ্ছিস কেন ও কি করেছে?
” ওরই দোষ ও ছোট। ও ওর ভাইয়ের সংসার এর ব্যাবস্থা না করে ওর নিজের সংসার নিয়ে ব্যস্থ থাকে। আর এদিকে আমার আলোর দিকে অন্য কেউ নজর দিয়েছে। আর আমি সেটা বসে বসে দেখবো? উহুম!
বেচারি আহি চুপ করে বসে রইলো। মিহুল ঠোঁট চেপে হাসলো আহির ফেইস দেখে। আহারে বেচারি দোষ না করে ও দোষী হয় বারবার।
___________________
” আলো দাঁড়াও।
আলো দাঁড়িয়ে গেলো। শুভ্র সামনে এসে বললো,
” মিহুলের সাথে তোমার কিসের সম্পর্ক ? ও কেন তোমার বিষয়ে এতো পসেসিভ?
আলো মনে মনে হাসলো শুভ্রর কান্ড দেখে। সাবলীল ভাবে বললো,
” ওনার সাথে আমার দিকে থেকে একটায় সম্পর্ক সেটা
হলো ওনি ভার্সিটির সিনিয়র ভাই। কিন্তু মিহুল ভাইয়..
” বলো।
” স্যার আপনি এতো কৌতূহল দেখাচ্ছেন কেন?
শুভ্র নিজের অবস্থান বুঝতে পেরে নিজেকে সামলিয়ে নিলো। তবুও বললো,
” কেন স্যার বলে কি জানতে পারবো না?
” অবশ্যই! ওনি আমায় পছন্দ করে বোধহয়!
” আর তুমি?
তাকালো আলো শুভ্রর দিকে। কোথা থেকে আসলো এই সাহস আলোর নিজের উপর নিজেই অবাক হয় আলো।
” সেটা না হয় অজানায় থাক স্যার!
আলো চলে আসলো। আগ্রহ চ্যুত হয়ে শুভ্র চলে গেলো আলো যেহেতু বলতে চাই না তাহলে আর কি করার!
আর স্যার হিসেবে এর চেয়ে বাইরে গিয়ে প্রশ্ন করলে মেয়েটা উল্টাপাল্টা ভাবতে পারে।
__________
” মেয়েটা না খেয়েই চলে গেলো ফাহিমা তুই দেখলি না কেন?
আফিয়া চৌধুরীর কথায় ফাহিমা চৌধুরী ভার মুখ করে বলে উঠলো,
” আমার সাথে দেখা হয়নি তো ভাবি। ওর মনটা খারাপ
তাই হয়তো না খেয়েই চলে গেছে। আচ্ছা কি ভেবেছো তুমি আলোর ব্যাপারটা নিয়ে? ও যে পাগলামো করছে চলে যাবে।
আঙুল ঠেকালো কপালে আফিয়া চৌধুরী। টেনশনে মাথা ব্যাথা করছে ওনার। কিছুক্ষণ ভেবে বললেন,
” যা করার ভেবে চিন্তে করতে হবে। একটা কথা শোন তাহলে,
কাছে এসে বসলো ফাহিমা চৌধুরী। বললো,
” বলো ভাবি।
” শোন…………………….!
” খুব সুন্দর প্ল্যান ভাবি। তাহলে এখন থেকেই সব স্টার্ট
করতে হবে।
” অতিথিকে আগে বাড়িতে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে। তারপর কাজ।
” ঠিক বলেছো ভাবি। অতিথি থাকলে আমাদের প্ল্যান সাকসেসফুল হতে দিবো না।
” হুম!
দু’জনেই হেসে উঠলো একসাথে। গল্প করতে লাগলো দুজনে।
________________
আননোন নাম্বার থেকে ফোন আসলো আলোর ফোনে।
সে লাইব্রেরিতেই বসে বই পড়ছিলো। প্রথমবারে ধরলো না দ্বিতীয়বারে ও ধরলো না কিন্তু আবার ও বেজে উঠলো ফোনটা, ধরলো সে। কানে নিতেই তীব্র মেজাজে তিক্ত কিছু কথা কানে আসতেই চোখ দুটো খিঁচিয়ে ফেলে আলো।
” লোভী, ছোটলোক মেয়ে কোথাকার! আমি ডিভোর্স লেটার পাঠিয়ে দিয়েছি তার সাথে পাঁচ লক্ষ নয় সাত লক্ষ টাকা পাঠিয়েছি। আমার বাড়ি মম ড্যাড ও আমার জীবন থেকে চিরতরের জন্য চলে যাবে। ভালো মানুষের আড়ালে দিন শেষে আসলরুপটা বেরিয়ে আসলো তাহলে । লোভী মেয়ে কোথাকার!
কথা বলার তীব্র আকাঙ্খা থাকলে ও গলা দিয়ে আওয়াজ বের হলো না আলোর। শুভ্র ফোন কেটে দিলো। শরীরটা যেনো অসার হয়ে আসছে আলোর । এই মানুষটা থাকে না দেখেই তার নামে এতোগুলা কথা বলে দিলো? যাকে এতো ভালোবাসে সেই মানুষটা এভাবে বললো? ফোনটা হাত থেকে পড়ে গেলো আলোর।
ব্যাগটা তুলে বইটা লাইব্রেরির বুকসেল্ফে রেখে বেরিয়ে আসলো আলো। উদ্দেশ্য তার বাসায় যেতে হবে। কিসের লোভ? কিসের টাকার কথা বলছেন তিনি?
এতো ঘৃণা একটা মানুষ কিভাবে না দেখে করতে পারে?
কার কথায় না জেনেশুনে এভাবে কাপুরুষের মতো কথা বলছে তার প্রতিটা জবাব আপনাকে দিতে হবে মি. শুভ্র শাহরিয়ার চৌধুরী। আপনার মুখোমুখি হবো এবার আমি। নিঃশব্দে চলে যাওয়া বাতিল করে নিজের অধিকার নিয়ে লড়বে আলো। যাবো না আমি আপনার প্রাপ্য শাস্তি আপনাকে দিয়েই তবে আমি শান্ত হবো। এই আলো নরম নয় সরল! শান্তি চেয়েছিলাম, বাবা মায়ের ভালোবাসা চেয়েছিলা,। একটা ভরসার হাত চেয়েছিলাম, দিন শেষ কারোর বক্ষদেশে একটু ঠায় নিয়ে মনের মধ্যে জমে থাকার ব্যর্থতার গল্প গুলো শুনিয়ে মনটাকে হালকা করার ইচ্ছে পুষেছিলাম। বোকা আলো জানতো না তার মতো বোকা সবাই না।
সবাই সরল মনে মেনে নিতে পারে না। ভালোবাসতে পারে না। শান্তি চেয়েছিলাম আপনি আমায় পদে পদে শুধু শাস্তিই দিয়ে গেলেন চৌধুরী সাহেব। শুধুই শাস্তি।
চলবে,,,,
[ ফলো দিয়ে রাখবেন পরবর্তী পর্ব পেতে ]

