#শুভ্রফুল — ৬
#কলমে_লিজা_আক্তার_আলো
[ কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ]
” ভাইয়া পাগলামো করছো কেন তুমি? এই অবস্থায়
যেতে পারবা না তো।
” মিহুল এটা একটু অতিরিক্ত হয়ে যাচ্ছে না? স্যার
এর সাথে তুই আলোকে সন্দেহ করছিস? তুই চিনিস না আলো কেমন মেয়ে?
মিহুল খুঁজতে লাগলো আলোকে। ক্লাসে, ক্যাম্পাসে
খুঁজে হঠাৎ মনে এলো আলোর প্রিয় জায়গা তো লাইব্রেরী। সেদিকে পা বাড়ালো মিহুল । স্যার কে ও দেখা যাচ্ছে না কোথাও। রাগে রিরি করছে মিহুল।
পিছু ছুটছে আহি ও রাফিন। আহি কাঁপতেছে ভয়ে। যদি আলো সত্যিই স্যার অথবা অন্য কাউকে ভালো বাসে তাহলে মিহুল ভাইয়া কি করতে পারে, না কি করতে পারে, ভাবতেই কেঁপে উঠলো সে। আর মিহুল ভাইয়া সে ও তো কেমন আলো সবসময় তাকে এড়িয়ে চলে, বারন করে, তবুও বেহায়ার মতো পড়ে আছে আলোর পিছু। ভালোবাসলে বোধহয় বেহায়া হতে হয়? আহি দীর্ঘ শ্বাস ছেড়ে যেতে থাকে মিহুলের পিছু পিছু।
মিহুল লাইব্রেরীতে আসে কিন্তু কেউ নেই নীরব ফাঁকা। চোখদুটো বন্ধ করে নীরবে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো সে। কাঁধে হাত রাখে রাফিন। বলে,
” কেন হঠাৎ এমন পাগলামি করছিস মিহুল? তোর
আলোকে নিয়ে ভয় থাকলে বাসায় জানা তারপর
বিয়ের প্রস্তাব পাঠা আলোর বাসায়। এভাবে আর কতো বল?
রাফিনের কথার মধ্যে আহি বলে উঠলো,
” এই মুহুর্তে বড় আব্বু জীবনে ও রাজি হবে না। আর তো কিছুদিন বাকি তোমাদের মাস্টার্সের এক্সাম। তারপরই জানাতে হবে। ধৈর্য ধরতে হবে এই কয়েকদিন।
” ধৈর্য্য মাই ফুট! আমি আজই আলোর বাসায় যাবো। আহি আব্বুকে বল রেডি হতে আলোদের বাসায় যাবো নয়তো আমার লাশের খাটিয়ে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত হতে বল।
ভয়ে ডুগ গিললো আহি। কাঁপা কাঁপা হাতে ফোনটা
নিলো ব্যাগ থেকে। ফোন দিবে কি না ভয় পাচ্ছে সে।
আজ তার কপালে ও দুঃখ আছে বুঝতে বাকি নেই বেচারার। কাঁদো কাঁদো মুখ করে তাকায় মিহুলের দিকে।
” তাকিয়ে আছিস কেন ফোন দিয়ে বল।
মিহুলের কড়া ধমকে আৎকে উঠলো আহি। আমতা আমতা করে বললো,
” আআমি বলবো কেন? ততোমার বিয়ের কথা তুমি বলো।
” একটা দিবো কিন্তু,
” মিহুল তুই পাগলামি করছিস কেন? এই মুহুর্তে এসব বন্ধ করে বাসায় চলে যা। সবার সাথে আলোচনা করে কালকে আংকেলকে নিয়ে আলোদের বাসায় যাবি।
যখনতখন বললেই সব হয় নাকি?
রাফিনের কথায় আহি সাহস পেয়ে সায় জানালো।
বলে,
” হ্যা হ্যা রাফিন ভাইয়া ঠিক বলছে। ভাইয়া তুমি শান্ত হও না প্লিজ! তাড়াহুড়ো করলে কিছুই হবে না।
শান্ত হলো মিহুল। রাফিনের কথা মেনে নিলো সে।
সোজা হাঁটা ধরলো বাইরে । বাইক নিয়ে এই অবস্থায় আহিকে নিয়ে চলে গেলো বাড়িতে । রাফিন হতাশ হয়ে তাকিয়ে রইলো। এই ছেলেটার পাগলামো কেন বোঝে না আলো মেয়েটা। আর তার কথার মানে ও বোঝে না ভিতু ছিচকাঁদুনি মেয়েটা। মৃদু হেসে রাফিন নিজে ও বাইক নিয়ে চলে গেলো বাসায় । শরীরের অবস্থা যা আজ স্যার না থাকলে রাকিব্বা আজ কিছু একটা ঘটিয়ে ফেলতো।
____________
” আমার সাত লক্ষ টাকা কোথায় অতিথি ? আমার টাকা খাওয়ার প্ল্যান করছো নাকি?
রুমে বসে আরামসে বান্ধবীর সাথে শপিং করার প্ল্যানিং করছে অতিথি। হঠাৎ অসময়ে আলোকে দেখে হাসি মুখটা চুপসে গেলো অতিথির। দাঁড়িয়ে গেলো সে, ফোনটা কেটে পাশে রেখে দিয়ে আলোর উদ্দেশ্যে বললো,
” কি বাজে কথা বলছিস তুই? কালকে তো চলেই
যাবি এখন কি তোর টাকা নেওয়ার ধান্দা হচ্ছে নাকি?
আলো রুমের ভেতরে আসলো। মুখোমুখি দাঁড়ালো
সে। তাচ্ছিল্যের সহিত হাসলো আলো। রেগে বলে উঠলো আলো,
” খুব চালাক মনে করো নিজেকে তাই না? বোকা অতিথি তুমি আমার জন্য আমার হাসবেন্ড এর কাছ থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা চেয়েছো আর সে আরো দু’লক্ষ্য টাকা বাড়িয়ে দিয়েছে। সব টাকা তো আমার। আমি ডিভোর্স দিয়ে টাকা নিয়ে তারপর বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাবো।
অতিথি চোর ধরার মতো এদিক ওদিক তাকিয়ে কিছু একটা ভাবলো। অতঃপর হাসলো। বললো,
” জেনে গেছো তাতে কি? তুমি তো চলেই যাবে। আর চলে যাওয়ার আগে একটু ঘৃণা সাথে নিয়ে যাও। তাও যার তার না সয়ং তোমার হাসবেন্ড এর থেকে। যেনো কখনো তোমার কথা তার মনে ও না পরে। আর পড়লে ও, ঘৃণা করে তোমায় সেই ব্যবস্থা করলাম আর কি! তো কেমন হলো আইডিয়া টা? আর হ্যা, টেনশন করো না। টাকার তেমন লোভ নেই আমার পাঁচ সাত লক্ষ টাকা আমার বাবার কাছে কিছুই না চাও তো সব টাকা ও দিয়ে দিতে পারি। তবুও বিদায় হও, যাওনা চলে। বিরক্ত লাগে তোমায়! জাস্ট বিরক্ত!
হাসলো আলো ও। অতিথি অবাক হলো আলোর হাসি দেখে। আলো অতিথির কাঁধে চাপড় দিয়ে বলে,
” আমি ভুল ভেবেছিলাম অতিথি। তুমি খুবই বুদ্ধিমতী মেয়ে। আর টাকার প্রতি লোভ জন্মায় নি কোনোদিন আর জন্মাবে ও না। তোমার টাকা তোমার কাছেই রাখো। শপিং করবে না বলছিলে। আফসোস বাবা মা পেয়ে হারিয়ে ফেলছি। যায় হোক! দেখা হবে আজ তোমার সাথে লাস্ট বারের মতো।
আলোর কথার মানে বুঝলো না অতিথি। তবুও জয়ের হাসি হাসলো অতিথি। তার প্ল্যান একদম সাকসেসফুল। আলো চলে গেলো অতিথির রুম থেকে। অতিথি আগের মতো ফোনে কথা বলতে শুরু করলো।
আলোকে অতিথির রুম থেকে বেরিয়ে এসে শুভ্রর রুমে আসলো। পুরো রুমটা চোখ বুলালো সে। তার শান্তি নীড় এটা। একজনের অভাব পূরনের অস্ত্র বলা যায়।
একটা ছোট্ট লাগেজ নিলো আলো। প্রয়োজনীয় জামাকাপড় ও বই ব্যথিত কিছুই নিলো না সে। শেষের দিকে শুভ্রর একটা সাদা শুভ্র সার্ট ও তার একটা ছবি নিলো সাথে। সকলেই রুমে থাকার ধরুন কেউ বুঝেনি আলো আসছে যে। বেডে বসে একটায় কথা ভাবছে, কোথায় যাবে সে? ওরা ছাড়া তো আপন বলতে কেউ নেই। আর রইলো আহি। আহি মানেই মিহুল আর ভুলে
ও মিহুলের কাছে যাওয়া যাবে না। কোথায় যাবে সে? গ্রামে? হ্যা গ্রামেই চলে যেতে হবে। ফোন দিলো কাউকে আলো। দ্রুত আসার কথা বলে পা বাড়ালো আফিয়া চৌধুরীর রুমের দিকে। দরজার কাছে এসে দেখলো দুজনেই বসে গল্প করছেন। আলো কোমল হাসলো, কত সুন্দর তাদের সম্পর্ক! তাকিয়ে থাকতেই ইচ্ছে করে দুজনের দিকে।
” আরে আলো ওখানে দাঁড়িয়ে আছিস কেন? ভেতরে আয় মামুনি!
আসিফ চৌধুরীর কথায় আলো চমকালো। আফিয়া চৌধুরী তড়িঘড়ি করে বললেন,
” কিরে খেয়েছিস কিছু? মুখটা তো শুঁকানো লাগছে।
আলো ভেতরে আসলো। বসলো আফিয়া চৌধুরীর
পাশে। আলোর মাথায় হাত বুলিয়ে তিনি বলেন,
” তুই বস আমি খাবার নিয়ে আসছি।
আলো হাত ধরলো আফিয়া চৌধুরীর। শান্ত স্বরে বললো,
” আমি খেয়েছি মামুনি। তুমি শান্ত হও তো। বাবা মামুনি তোমরা আমার জন্য যা করেছো তার ঋণ আমি কখনোই শোধ করতে পারবো না। আমার জন্য তোমাদের ছেলেকে কষ্ট দিয়েছো। দূরে সরিয়ে রেখেছো। আমি জানি তোমাদের আর ওনার কতটা কষ্ট হচ্ছে। আমি অনুভব করতে পারি বাবা মা দূরে থাকার যন্ত্রনাটা। সে যায় হোক! আমার সাথে নিচে আসো দু’জনেই।
” কি বলছিস এসব আলো? আমি তোর বাবা তোর
ভালোর কথা আমি ভাববো নয়তো কে ভাববে?
আর রইলো শুভ্রর কথা! ওর আমাদের প্রয়োজন নেই। আর আমাদেরও ওকে প্রয়োজন নেই। যে ছেলে বাবা মায়ের কথা শুনে না সেই ছেলে দূরে থাকায় ভালো।
” তুই আমাদের ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা ভুলে ও ভাবিস না আলো। শুভ্র আজ কাল একদিন ফিরবেই। কিন্তু তোকে আমরা হারাতে পারবো না।
চোখ দুটো ভরে উঠলো পানিতে। ঝাপসা চোখে দু’টো মানুষের দিকে তাকিয়ে আছে আলো। কি এমন ভুল হতো শুভ্রর সবটা মেনে নিলে। কিসের রাগ তার প্রতি আজ আমি আপনাকে এই প্রশ্নটাই করবো। কেন এমন করছেন আপনি? শুধু কি গ্রামের মেয়ে বলে? শহরের সাথে কেন এতো গ্রামের তফাৎ? ভালো, খারাপ! শিক্ষিত, অশিক্ষিত সবখানেই আছে।
আলো চলে গেলো বাইরে। কাকিয়ার রুমে এসে বাইরে আসার কথা বললো। তারা বুঝলো না কারনটা। হয়তো আলো কিছু বলতে চাই ভেবে দুজনেই রাজি হলো। হাসি মুখে চলে আসলো আলো।
_____________
ডয়িংরুমে উপস্থিত সকলে। আসিফ চৌধুরী, আফিয়া চৌধুরী, আরিফ চৌধুরী ও ফাহিমা চৌধুরী বিরস মুখে বসে আছেন লিভিং রুমের মধ্যে অতিথি ও আসছে। আলোর পাশে লাগেজ দেখে তার আনন্দে চকচক করে উঠলো চোখ দুটো। মুখের অবয়বই বলে দিচ্ছে সে কতটা খুশি আজ । তার মানে কাল নয় বরং আজই আলো চলে যাবে।
” আলো কি হচ্ছে এসব?
” কাকিয়া প্লিজ একটু শান্ত হয়ে বসো তারপর যা ইচ্ছে বলো।
ফাহিমা চৌধুরী আর কিছুই বললেন না। মলিন মুখে তাকিয়ে রইলো আলোর দিকে। আসিফ চৌধুরী গম্ভীর হয়ে বসে রইলো। মেয়েটা তার কথা শুনছে না। কোথায় যাবে ও কেন করছে এমনটা? ওই ছেলের কারনে? ওই ছেলে তার দরকার নেই যে বাবার কথা রাখতে পারে না। মেয়েটা তার কত কষ্ট পাচ্ছে। ভুল হয়েছে এই বিয়ে দিয়ে। তার চেয়ে ভালো ছেলে দেখে নিজ দায়িত্বে বিয়ে দিলে আজ মেয়েটা ভালো থাকতো। খুব বড় মুখ করে এনেছিলো তিনি । কিছুই করতে পারেননি। নিজেকেই অপরাধী মনে হচ্ছে এখন। স্থির দৃষ্টিতে ফ্লোরের দিকে তাকিয়ে রইলেন আসিফ চৌধুরী।
আলো বোরখা পড়ে আছে। মুখ দেখা যাচ্ছে না তার।
নিকাব পড়ায় শুধু চোখগুলো দেখা যাচ্ছে।
” আলো! আমরা এসে গিয়েছি।
সকলের চোখ গেলো সদরদরজার দিকে। সকলেই দাঁড়িয়ে গেলো সাথে সাথে। দীর্ঘ তিন বছর পর পা রাখলো শুভ্র। হ্যা শুভ্র এসেছে। সাথে অনর্ব ও একজন উকিল ও আসছে। অর্নব এসেই আলোর কাছে গেলো।
” যেভাবে বলেছো আমি সেভাবেই করেছি। তবুও এই ভুলটা করো না। বড় ভাই বলে মানো। আমার কথাটা শুনো। আমি শুভ্রকে এনেছি তোমরা সবকিছু মিটিয়ে নাও। ওকে আমরা সবাই বোঝাবো।
হাসলো আলো। শুভ্রর দিকে তাকালো সে। শুভ্র তার বাবা মায়ের দিকে তাকিয়ে আছে। কতদিন তাদের দেখে না শুধু ওই মেয়েটির জন্য। চোখে মুখে এক রাশ কষ্টের চাপ প্রকাশ পাচ্ছে সেটা কেবল বাবা মায়ের জন্য। এই পরিবারের জন্য।
কিন্তু আফিয়া চৌধুরী ও আসিফ চৌধুরী মুখ ফিরিয়ে নিলেন। চোখে পানি তাদের তবুও তাকালো না ছেলের দিকে। শুভ্র মাথা নিচু করে ফেললো। বাবা মা তার উপর ভিষণ রেগে আছে। থাকাটাই স্বাভাবিক নয়কি!
অর্নব শুভ্রকে নিয়ে লিভিংরুমে আসিফ চৌধুরীর সামনাসামনি বসলো। উকিল সাহবে কাগজ রেডি করে এগিয়ে দিলে শুভ্রর দিকে। শুভ্র তাকালো ও না তার পাশে অসহায়ের মতো দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটির দিকে যার নিঃশব্দ কান্নায় নীকাব ভিজে একাকার। ভরা মজলিসে তার কান্নার বাঁধ ভেঙ্গেছে। চাইলে ও থামাতে পারছে না সে। কেন কষ্ট হচ্ছে তোর আলো কষ্ট পাবি না। তুইই তো সব রেডি করেছিস তাহলে কাঁদবি কেন? একদম কাঁদবি না। তোর এই একটা কষ্ট আর সবার সুখের কারন হবে। কষ্ট তেমন কিছু না আগে সুখটা যে দরকার। তারা ভালো থাকুক। দশজনের ভালোর কাছে একজনের কষ্ট কিছুই। তুচ্ছ একটা বিষয় নিয়ে কাঁদবি না আলো। যে মানুষটা তোকে চাই না ঘৃণা করে লোভী বলে। তিনটে বছর এড়িয়ে চলেছে তোর জন্য তার বাবা মাকে কষ্ট দিয়েছে আর যায় হোক তোকে কখনো ভালোবাসবে না। আর তুই ও এমন নীচু মনের মানুষকে ভালোবাসবি না ভুলে যা ওসব মায়া। এক পয়সার ও দাম নেই তার কাছে। হাহাকার করে উঠলো আলোর মন জোড়ে। নিঃশ্বাস আটকে আসার মতো কান্না পাচ্ছে তার।
নিজেকে নিজেই সামলাচ্ছে আলো। অন্যদিকে শুভ্র এদিক সেদিক তাকানোর প্রয়োজন মনে করলো না সিগনেচার করেদিলো সে। আলো অর্নবকে ফোন দিয়ে রিকোয়েস্ট করেছিলো এই সব ব্যবস্থা করা ও শুভ্রকে আনার জন্য। কারন আলো আজই বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে যাবে। আলো ফ্যালফ্যাল করে শুভ্রর কাজকর্ম দেখে যাচ্ছিলো। শুভ্রর কাজ শেষ ডাক পড়লো আলোর।
” আলো আপনি এবার সাইন করুন।
আলো নামটা শুনে মনের মধ্যে কেমন যেনো লাগলো। তখন হয়তো তেমন ভাবেনি যখন আলো নামটা অর্নব বলছিলো। বাবার মায়ের দিকে নজর থাকায় খেয়াল করেনি। কিন্তু এখন নামটা শুনে তাকানোর ইচ্ছে জাগলো শুভ্রর মনে । তবুও টাকার কথা মনে আসায় তাকালো না শুভ্র। যার সাথে গুলিয়ে ফেলছে ওই আলো আর এই আলো কখনোই এক হতে পারে না। ওই আলো লোভী হতে পারে না। নাম এক হলে কি মানুষ আবার এক হয় নাকি? নাহ তো! তারমধ্যে হঠাৎ চেনা কন্ঠ শুনে এক ঝটকায় তাকালো শুভ্র আলোর দিকে।
” আমি সিগনেচার করার আগে আপনাদের সামনে একটা কথা বলতে চাচ্ছি।
আলোর কথায় শুভ্র অদ্ভুত চোখে তাকিয়ে রইলো।
এটা কি সেই আলো? মুখ ডাকা কিন্তু সেই চোখ একই তো চাহনি। শুভ্র অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। আলো নিজের ফোনটা বের করলো। একটা রেকর্ডিং চালু করলো। যেখানে স্পষ্ট অতিথির বলা কথাগুলো শুনতে পাচ্ছে সবাই। অতিথি কিভাবে শুভ্রর কাছ থেকে মিথ্যা
বলে আলোর নাম করে টাকা নিয়ে আলোকে শুভ্রর
কাছে লোভী প্রমান করেছে। শুভ্র রাগে কটমট করে তাকালো অতিথির দিকে। শুধু শুভ্র নয় চৌধুরী পরিবারের সকলেই তাকালো রাগ ও তীক্ষ্ণ চোখে। এতেই অতিথির অন্তরাত্মা কেঁপে উঠলো সাথে সাথে।
সে কাঁদো কাঁদো মুখ করে বলে উঠলো,
” আমি ভুল করেছি আমাকে মাফ করে দাও শুভ্র ভাই খালামনি। তোমরা আমায় মাফ করে দাও। টাকাগুলো আমি ফেরত দিয়ে দিচ্ছি। আর কখনো এমন করবো না।
আফিয়া চৌধুরী চেঁচিয়ে উঠলেন,
” টাকাগুলো ফেরত দিয়ে এক সেকেন্ড ও আমার চোখের সামনে দেখতে চাচ্ছি না তোকে বেরিয়ে যা। আর কখনো আসবি না এই বাড়িতে। বেয়াদব মেয়ে একটা। আমি তোর বাবাকে সব জানাচ্ছি।
” না না খালামনি আমি আর এমন ভুল করবো না। তুমি কিছু বলো না বাবাকে তাহলে আমায় মেরে ফেলবে।
আমি এখনি চলে যাচ্ছি।
তাড়াহুড়ো করে উপরে নিজের রুমে চলে গেলো অতিথি। আগে জান বাঁচানো ফরজ। বাবা জানলে অবস্থা খারাপ। ভয়ে সিঁটিয়ে গিয়েছে সে।
” আপনি আজ থেকে মুক্ত মি. শুভ্র শাহরিয়ার চৌধুরী!
আপনার নতুন জীবনের সুন্দর সূচনা হোক! আলো নামক অভিশাপ আঁধারে হারিয়ে যাক! আপনার জীবন থেকে! একটা সিগনেচার সব সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে এই মুহুর্তের মধ্যে….! জাস্ট এ ফাইভ সেকেন্ড!
আলো পাথরের ন্যায় বসলো সোফায়। হাত কাঁপছে তার তবুও এমন মানুষের থেকে একা জীবন অনেক ভালো। কাঁপা কাঁপা হাতে নিজের নামটা লিখতে নিলো
তখনই বাঁধ সাধলো একটা হাত। আঁটকে নিলো নিজের হাতের মধ্যে। কাগজটা অন্য হাতে নিয়ে মুড়ে ফেলে দিলো ফ্লোরে।
আলো অবাক হয় তাকালো লোকটা এহেন কান্ড দেখে,
হঠাৎ এমন করছে কেন লোকটা?
চলবে,,,
[ ভালো লাগলে পেইজে ফলো দিয়ে লাইক কমেন্ট করবেন ]

