#শুভ্রফুল —৮
#কলমে_লিজা_আক্তার_আলো
[ কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ]
” আমি এসব কি শুনছি মিহুল? তোমার মা যা বলেছে তা কি সত্যি?
জামিল সাহেবের কথায় মিহুল নির্লিপ্ত চোখে ফ্লোরের
দিকে তাকিয়ে রইলো। কিছুক্ষণ আগে শাহানা বেগম আসছিলো ছেলের রুমে। প্রশ্ন করতেই সাথে সাথে বলে ওঠে মিহুল। তার একটা মেয়েকে পছন্দ ভালোবাসে সে, আর কালই মেয়েটির বাড়িতে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে যেতে হবে ৷ পারলে বিয়েটা ও কাল করতে পারে। শাহানা বেগম তখন কিছুই বলেনি। আর তার কথা ছেলে শুনবে ও না। উল্টো ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করবে। ছেলের যা রাগ তাই চুপ ছিলেন জামিল সাহেব আসা অব্দি। তিনি ভয় পাচ্ছিলেন, কারনটা অন্যকিছু ছিলো যা জামিল সাহেবই সকলের সামনে প্রকাশ করবেন। যদিও সময় আসেনি কিন্তু এখন দেরী হলে সম্মুখে বিপদ উঁকি দিচ্ছে দেখতে পাচ্ছেন তিনি।
এই মুহুর্তে জামিল সাহেবের সামনে বসে আছে মিহুল। সে নির্লিপ্ত ভাবেই বললো,
” মিথ্যা বলবো কেন?
জামিল সাহেব ক্ষোব্দ দৃষ্টিতে তাকালেন ছেলের মুখপানে। দরজার আড়ালে দাঁড়িয়ে সব দেখছে ও শুনছে আহি। ভয়ে তার হাত-পা কাঁপছে। বড়বাবা
যদি জানতে পারে আমার বান্দুবি তাহলে আমার আর রক্ষা নেই। এই ভেবে আহি আরো জমে যাচ্ছে ভয়ে। শাহানা বেগম বলেন,
” সবকিছু যখন হাতের বাইরে চলে যাবে তখন ওদের জানিয়েন। এখন জানালে তো আর পরে সমস্যা সৃষ্টি হবে না।
” তুমি চুপ থাকো আমি কথা বলছি। যা আমি এই
পনেরো বছর যাবত গোপন রেখেছি সঠিক সময়ের জন্য তা আজ বলতে বাধ্য করেছো তুমি মিহুল। আমি বারন করেছিলাম কারোর সাথে সম্পর্কে জড়াতে তাও তুমি এই পথেই হাঁটলে। এই সব অহেতুক পাগলামি বাদ দিয়ে জাহিদের সাথে কথা বলে তোমার আর আহির বিয়েটা এবার দিয়ে দিতে হবে। ভাবছিলাম তোমার পড়াশোনা শেষ হলে বলবো কিন্তু তুমি আর তা হতে দিলে কই?
চারটে চোখ বিস্ফোরিত নয়নে তাকিয়ে রইলো জামিল সাহেব এর দিকে।
” কিসব বলছো আব্বু? মাথা ঠিক আছে তোমার?আহি আমার ছোট বোনের মতো আর তুমি কি না আ…..
” তোর আব্বু ঠিকই বলেছে মিহুল। আহির যখন চার বছর বয়স তখন আহির মা ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। মারা যাওয়ার আগে চার বছরের আহির কথা ভেবে তোর আব্বু ও আমার হাত ধরে একটা অনুরোধ করে আহিকে যেনো আমরা আগলে রাখি। ও জানতো ও মারা গেলে জাহিদ আবার ও বিয়ে করবে আহিকে অত্যাচারিত হতে হবে সৎমায়ের হাতে৷ এই ভেবে তোর আব্বু ও আহির মাকে কথা দিয়েছে আহি আমাদের কাছেই থাকবে আর তোরা বড় হলে তোদের বিয়ে ও দিবে। তুই দেখেছিস আহিকে এই বাড়ি থেকে কখনো তোর কাকির বাড়িতে যেতে দিয়েছি? আমরা আলাদা হয়েছি কেবল আহির জন্য। একটা মৃত মানুষকে দেওয়া কথা রাখবি না বাবা? আহি কোনো দিক দিয়ে অসুন্দর? নাকি তোর সাথে যায় না বল?
আহি দূর থেকে কথাগুলো শুনে বাকরুদ্ধ হয়ে যায়।
যাকে আপন ভাইয়ের মতো দেখেছে তারা তার সাথে বিয়ের কথা বলছে? মিহুল ভাইয়া তো আলোকে ভালোবাসে। আর আমি কি না তাদের মধ্যে জড়িয়ে গেলাম? কি হবে এখন? জায়গা ত্যাগ করলো আহি। বিস্ফোরণ ঘটলো তার মনের মধ্যে। কি করবে এখন সে বড়মা বড়বাবার কথা শুনবে নাকি মিহুল ভাইয়ার কথা বুঝে পেলো না আহি।
” আমি কিছুই শুনতে চাচ্ছি না আব্বু আম্মু। আমি এই বিয়ে করবো না মানে করবো না ব্যাস। আমি আলোকে ভালোবাসি ওকেই বিয়ে করবো এটাই আমার ফাস্ট এন্ড লাস্ট ডিসিশন।
বড় বড় পা ফেলে রুম থেকে বেরিয়ে গেলো মিহুল।
বিস্ফোরিত নয়নে তাকায় জামিল সাহেব। স্ত্রীর পানে তাকিয়ে রুক্ষ কন্ঠে বলে উঠলেন তিনি,
” তোমার ছেলেকে বোঝাও আমার কথা না মানলে আমি ও যে কি করতে পারি সেটা ওর ধারনার ও বাহিরে। আমি গেলাম এখন রাতে এসে যেনো সব ঠিক দেখতে পায়। নয়তো ওর কিছু হোক বা না হোক অন্য কেউ ওর জন্য শেষ হতে পারে।
তিনিও বেরিয়ে গেলেন বাড়ি থেকে। মিহুলদের পারিবারিক ব্যবসা ও কয়েকটা রেস্টুরেন্টে আছে।তা ছাড়া জামিল সাহেব লোকটা যেমন গম্ভীর টাইপ তার চেয়ে ভয়ংকর রকমের মানুষ। মানুষ থাকে অনেক ভয় পায়। শাহানা বেগম পড়ে মহা বিপাকে। চিন্তিত হয়ে ভাবতে লাগলেন।
___________
খাবার টেবিলে সকলে উপস্থিত। সবার আগে এসে বসে আছে শুভ্র। কারনটা স্পষ্ট আলো রান্নাঘরে ফাহিমা চৌধুরীর সাথে হাতে হাতে কাজ করে দিচ্ছে। বাড়ির সার্ভেন্ট গুলোর আজ ছুটি। প্রতি সপ্তাহে একদিন করে তাদের ছুটি দেওয়া হয়। তাদের কথা তারা ও তো মানুষ অন্য জায়গায় জব করলে প্রতি শুক্রবারে তারা ছুটি পায় কিন্তু যারা বাসায় কাজ করে তাদের তো ছুটি নেই। তাই সবাই যেদিন ছুটি কাটায় সেদিন বাড়ির রান্না ফাহিমা চৌধুরী ও আলো করে। আফিয়া চৌধুরী অসুস্থ থাকায় বারন করে আলো। ও থাকতে অসুস্থ অবস্থায় কাজ করতে হবে না। ফাহিমা চৌধুরীকে ও বারন করে কিন্তু তিনি শুনেন না বলে মেয়ে কাজ করবে আর মা সুস্থ থেকে তা দেখবে নাকি? হাতে হাতে কাজ করলে দ্রুত কাজ ও শেষ হয়। বিরক্ত লাগে না।
শুভ্রকে দেখে আলো বিরক্ত হচ্ছে। ওড়নাটা ভালো করে মাথায় দিয়ে সে রান্না করছে। যেনো ওর বিরক্ত মুখখানা
যেনো শুভ্র দেখতে না পায়। ফাহিমা চৌধুরী ঠোঁট চেপে হাসছেন। অবাক হচ্ছেন কি একটা অবস্থা যে ছেলে এই মেয়েটার কারনে দূরে ছিলো আজ সেই মেয়ের দিকেই মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। রান্না হতেই সকলেই খাবার খেতে আসলো। আলো সবাইকে সার্ভ করে দিচ্ছে শুধু শুভ্রকে ছাড়া। কেউ কিছু বলছে না। ঠিকই করছে আলো। সবার দিক থেকে এটাই সঠিক মনে হয়েছে। ছেলেটার শাস্তি হওয়ার দরকার। পাশ থেকে আসিফ চৌধুরী বললেন,
” আলো আমার পাশে এসে বস মা।
” না বাবা তোমরা খেয়ে নাও আমি পরে খাবো। আমার খিদে নেই।
আসিফ চৌধুরীর কথা শুনে শুভ্রর হিংসে হলো। সে খালি প্লেট সামনে নিয়ে বললো,
” বউ আমার আর যত্ন করছে তোমাদের। আমি কি তাহলে খাবো না?
” হাত আছে তো নিয়ে খা। কে বারন করেছে তোকে?
আর এতোদিন তো একা একাই খেয়েছিস।
” মম!
” মম টম পড়ে এখন খাবো খুব খিদে লেগেছে। রান্নাটা অনেক মজা হয়েছে আলো।
শুভ্র বরাবরই গম্ভীর টাইপ ছেলে। কথা কম বলতো রাগ দেখাতো বেশি। কারোর সাথে এভাবে কথাই হতো না। হয়তো পড়াশোনা নয়তো সে গান গাইতো তাও একা একা। নিজেকে নিজের মধ্যেই ডুবিয়ে রাখতো। তার বন্ধুত্বের সংখ্যা ও খুব কম মানেই কম শুধু অর্নব যে কি না তার রাগ অভিমান সবই বোঝে সহ্য করে। ডাকলে ওড়ে আসে। এইযে এভাবে বউ বউ করছে এসে সকলেই মনে মনে তীব্র আনন্দ পাচ্ছে তাই তো সকলেই আলোর রাগের সাথে আর একটি মশলাপাতি এড করছে শুধু। শুভ্রকে একটু জ্বালানোর জন্য।
আলো চুপচাপ তার কাজ করছে। বাড়িতে তেমন কেউ নেই তাই তাকেই সামলাতে হচ্ছে। আর অতিথি কখন যে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছে কেউ দেখেইনি। সেটা নিয়ে কেউ ভাবেনি। শুভ্রর প্লেট এখনো খালি পড়ে আছে। সে নিঃশব্দে আলোকে দেখছে। অদ্ভুত ছোট বাচ্চাদের মতো তাকিয়ে আছে। আলো তা পাত্তা দিলো না। হঠাৎ এসে এতো ভালোবাসা দেখতে হবে না। আলোর রাগের শেষ নেই। হঠাৎ আলো খেয়াল করলো শুভ্র নেই। চারদিকে চোখ বুলাতে দেখলো শুভ্র শিড়ি বেয়ে দোতলায় যাচ্ছে। সাথে পরিবারের সবাই মন খারাপ করে তাকিয়ে রইলো। একটু বেশিই হয়ে গিয়েছে মনে হচ্ছে।
” আলো!
” হ্যা বাবা বলো।
” রাগ করে থাকিস না মা। আমার ছেলেটা তার ভুল বুঝতে পেরেছে। তুই ওকে মাফ করে দে। আমি তোর কাছে আমার ছেলের হয়ে মাফ চাইছি। নয়তো ও আবার চলে যেতে পারে। তুই কি চাস ও চলে যাক?
” কিসব বলছো বাবা। আমি মাফ করে দিয়েছি ওনাকে। ওনার প্রতি আমার রাগ নেই। যা আছে তা…. তোমরা শান্ত হও আমি খাবার নিয়ে যাচ্ছি উপড়ে।
” এখনি যা আলো। নয়তো দেখবি ও খাবেই না। আমি চিনি আমার ভাতিজাকে। এক কথার মানুষ যা বলবে তাই করবে।
” যাচ্ছি কাকাই তোমরা খেয়ে তারপর উঠো।
সবাই খুশি হলো। আলো ভাত তারকারি প্লেটে করে নিয়ে দোতালায় চলে গেলো।
” আমার আজ কি যে আনন্দ লাগছে তোমাদের বলে বোঝাতে পারবো না। আমাদের আলো আর শুভ্র এক হলে এই বাড়িতে আর দুঃখ কিংবা অপূর্ণতা বলতে কিছুই থাকবে না।
” ঠিক বলছো ভাবি দুইটা দিন শুধু আল্লাহর কাছে দোয়া করেছি আলো যেন আমাদের ছেড়ে কোথাও না যায়। যেমন শুভ্র তেমন আলো। যা বলে তাই করে। তারা আমাদের মনের অবস্থা পরিস্থিতি কিছুই বুঝে না। তারা তাদের রাগ নিয়েই সব ত্যাগ করে দিতে চাই।
” বুঝলে ফাহিমা এখনকার জেনারেশনটায় এমন।
তারা তাদের মতো দুঃখ পেয়ে দূরে সরে যাবে। কিন্তু তাদের আশেপাশের মানুষের কষ্ট হলো কি না সেটাতে তাদের কিছু যায় আসে না।
কথা বলতে বলতে খেতে লাগলো আরিফরা। ওই দিকে আলো দরজার কাছে এসে দেখলো দরজা ভেতর থেকে লক করা। নক করলো আলো। দুবারের মাথায় দরজা খুললো শুভ্র। মুড অফ দেখেই বুঝলো আলো । শুভ্র আলোকে এড়িয়ে নিজের মতো করে ছোট্ট লিভিং রুমে চলে গেলো। বই পড়তে লাগলো। আলো অবাক হলো। সে গেলো শুভ্রর কাছে বললো,
” আপনার খাবার রেখে গেলাম খেয়ে নিবেন।
কথা বললো না শুভ্র। এমনকি তাকালো ও না অব্দি।
আলো ও তা পাত্তা দিলো না সে নিচে চলে আসলো।আর কিছু কাজ বাকি ওগুলো শেষ করে পড়তে বসতে হবে। কিছুদিন যাবত পড়াশোনা ক্লাস কিছুই হচ্ছে না।
______________
ফাহিমা চৌধুরী ও আলো মিলে সব কাজ করে আলো বাগানে গিয়ে গাছে পানি দিলো। সময়টা বিকেল এখন।
ক্লান্ত লাগছে ভিষণ। সারাদিনের না খাওয়ার শরীর সাথে মাথায় পাওয়া আঘাতটাও টনটন করছে বেশ।
দোতলায় এসে রুমের সামনে দাঁড়াতেই দেখলো দরজাটা খোলা। ভেতরে গেলো আলো কোথায় শুভ্র
চারিদকে তাকাতেই দেখলো শুভ্র সোফাতেই ঘুমিয়ে পড়েছে। ঘুমন্ত শুভ্রকে নিষ্পাপ বাচ্চার মতো আদুরে লাগছে। খানিকক্ষণ দূর থেকে তাকিয়ে রইলো আলো।
পরোক্ষণে চোখ ফিরিয়ে নিলো সে। ভাতের প্লেট তার জায়গায় পড়ে আছে লোকটা খায়নি। ভিষণ রাগ হয়েছে তার ইগনোরতায়। একদিনে এক প্রহরেই এতো রাগ আর সে যে কতপ্রহর আর কত মানুষের কত কটু কথা, কত অবহেলা পেয়েছে তা কি সে অনুভব করতে পারবে? সেসব তো কবেই ভুলে গিয়েছি। কিন্তু গ্রামের মেয়ে বলে আপনি আমায় অনেক ছোট করেছেন। আমি আপনারই থাকবো আপনার পাশেই থাকবো। তবে দূরত্ব শব্দটা মেইনটেইন করে।
আলো ওয়াশরুমে চলে গেলো শাওয়ার নিতে। শুভ্র চোখ খুললো সে ঘুমোইনি বরং আলো আসার শব্দ পেয়ে ঘুমের অভিনয় করছিলো। যা ভেবেছিলো তাই হলো। সে ফোন দিলো কাউকে কিছু বলেই রুম থেকে বাইরে বেরিয়ে গেলো।
কিছুক্ষণের মধ্যে আলো শাওয়ার নিয়ে বেরুতেই তার
ডান দিকে তাকালো অবাক হলো কোথায় গেলো শুভ্র?
এই কিছুক্ষণ আগে না সে ঘুমিয়েছিলো। হয়তো ঘুম ভেঙে গিয়েছে বাইরে চলে গিয়েছে মনে হয়। ভাবলো না সে। মাথায় পানি দিতে পারেনি আলো অনেকটা জায়গা
ছিলে গিয়েছে। বেন্ডেজ খুললেই সমস্যা হবে। ফোন বেজে উঠলো আলোর সে দ্রুত তাকালো ফোনের দিকে, আহি ফোন দিয়েছে। রিসিভ করে কানের কাছে নিতেই আহির উদ্ধিগ্ন কন্ঠস্বর,
” আলো তোর সাথে আমার জরুরি কথা আছে শুনছিস তুই?
সালাম না দিয়ে সোজা কথায় চলে গেলো আজ আহি। অবাক হলো সে জিজ্ঞেস করলো,
” কি ব্যাপার আজ অন্যরকম লাগছে কি হয়েছে তোর?
ঠিক আছিস তো তুই?
ওপাশ থেকে ঝটপট উত্তর,
” আমি ঠিক আছি কিন্তু,
” কিন্তু কি আহি? স্পষ্ট ভাবে বল।
মিনমিন করে বললো আহি,
” বড়বাবা আর বড়মা বলছে মিহুল ভাইয়ার সাথে নাকি
আমার বিয়ে ঠিক করে রেখেছেন। যখন আমার মায়ের
শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার সময় ছিলো। মা মারা যাওয়ার আগে বলে গিয়েছেন আমাদের বিয়ের কথা। কিন্তু ভাইয়া তো মানছে না। সে তো তোকে ভালোবাসে।
এখন আমার ভয় তোর আর ভাইয়ার জন্য। সবসময় সংসার, বয়ফ্রেন্ড করতে করতে সময় পার করি কিন্তু কখনো দেখেছিস কারোর সাথে সম্পর্কে জড়াতে?
আলোর মনটা শান্ত হলো। যাক অবশেষে মিহুল নামক
মানুষটা তার জীবনে বাঁধা হয়ে দাঁড়াবে না আর। আহির কথায় আলো বলে,
” কেন?
” কারন বড়বাবা খুব ডেঞ্জারাস একটা লোক। মানুষ মারতে ও তার কোনো কষ্ট হয় না। ভয় পায় না সে। আমার তো তোর আর ভাইয়ার জন্য টেনশন হচ্ছে। ভাইয়া তোর কথা বলছিলো। তোদের বাসায় যাবে সে
বিয়ের কথা বলতে। আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলো তোর বাসার কথা আমি চুপ ছিলাম। কিন্তু মিহুল ভাইয়া বলে, কাউকে কিছুই বলতে হবে না এইটুকু একটা কাজ আমি নিজেই সল্ভ্ করতে পারবো। আমার ভয় হচ্ছে আলো। আমি তো জানি তুই তোর খালামনির বাসায় থাকিস। এখন কি ভাইয়া ওখানে যাবে?
আলো বুঝতে পারলো না কি বলবে। চুপ করে রইলো আহির কথা শুনে। আহি কোনো কথায় চেপে রাখতে পারে না তাকে কারোর না কারোর সাথে শেয়ার করতেই হবে। মেয়েটা বড্ড চঞ্চল স্বভাবের। তার মধ্যে আরেকটা কথা বলে উঠলো আহি,
” এই আলো কাল না অনুষ্ঠান তুই আসবি না? আমরা না শাড়ি পড়বো বলেছিলাম।
চরম পর্যায়ে অবাক হলো আলো। এতো টেনশনের মধ্যে মেয়েটা বিন্দাস!
” তুই কিসের টেনশনে আছিস আহি?
আহি লাজুক হেঁসে বলে,
” কালকের অনুষ্ঠানে সেজেগুজে যাওয়ার টেনশনে আছি আপাতত।
” তুই কবে বাস্তবতা বুঝবি বলতো?
আহির দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে যা আলোর কান অব্দি পৌঁছালো। আলো বুঝতে পারলো না আহির অবস্থা ঠিক কি ভাবছে মনে মনে সে?
” আমি সবই বুঝি আলো। আমি ভালোবাসা বুঝি, আমি
আমি অবহেলা ও বুঝি, আমি সবই মোটামুটি বুঝি কিন্তু আমার ভাগ্যটা ঠিক কেমন তাই বুঝতে পারি না। জীবন আমায় কি এক ঘোরের মধ্যে এনে দাঁড় করালো আলো। আমি একটা মানুষ চেয়েছিলাম যে আমায় ভালোবাসবে। কেবল আমায়! কিন্তু ভাগ্য আমায় এমন একটা মানুষের সাথে জুড়ে দিতে চাইছে যার মন জুড়ে শুধু তুইই আছিস কোথাও আহির আ ও নেই। আমি তো এমন মানুষ চাই নি আলো। আমি শুনেছি আমার বাবা আমার মাকে কতটা অবহেলা করেছে তাকে ভালোবাসেনি কখনো। কারন সে অন্য কাউকে ভালোবাসে। সৃষ্টিকর্তা তার ডাক কবুল করে আমার মাকে তার কাছে নিয়ে গিয়েছে। আর আমায় একা ফেলে রেখে গিয়েছে আমার মা। ওইদিকে আমার বাবা আমার সৎ মা মানে তার প্রেমিকাকে নিয়ে সংসার করছে। আমি যে তার মেয়ে সেটাও ভুলতে বসেছে।
আলোর চোখ বেয়ে অঝোরে পানি পড়ছে। আহির কথা
শুনে। এই প্রথমবার আহি এভাবে কথা বললো। আলোর এই কথাগুলো বিপরীতে কি বলবে তা বুঝে পেলো না সে। ফোনটা রেখে দিলো বেড সাইড টেবিলের উপর। আজ এই বাড়ির মানুষ গুলো না থাকলে আলো হয়তো কোথাও শেষ হয়ে যেতো নয়তো বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর, ধান ক্ষেতে দেওয়া বিষ খেয়ে মরতে হতো। এটাই তো ভেবেছিলো সে। কারন চাচা চাচি নিজেই সামনে এগিয়ে দিয়েছিলো মরতে।
নয়তো কোথাও চলে যেতে।
__________________
” কি হয়ছে তোর কেন এমন করছিস তুই?
রাফিনের কথায় মিহুল বলে উঠলো,
” আলোকে বুঝাতে হবে। আমি ওকেই চাই। আমার ওকে ছাড়া বেঁচে থাকা অসম্ভব। ভালোভাবে নয়তো অন্যভাবে ওকে আমার করেই ছাড়বো।
” কি হয়েছে আমাকে খুলে বলবি প্লিজ?!
” আব্বু আমার আর আহির বিয়ের কথা বলছে। আর এটা কখনো সম্ভব নয়।
রাফিন স্থির হয়ে গেলো। আহির বিয়ের কথা বলছে মানে সে তো আহিকে…
” তুই আহিকে বিয়ে করবি? যদি আংকেল বলে? জোড় করে?
” আমার মাথায় কেবল আমার আলো ছাড়া কিছুই আসছে না।
” আহি কি বললো? ও কি রাজি?
থমথমে মুখে সিগারেটে ধোঁয়া উড়ানো মিহুলের দিকে
উত্তরের অপেক্ষা তাকিয়ে রইলো রাফিন।
চলবে,,,,,,,
[ পেইজে ফলো দিয়ে লাইক কমেন্ট করবেন সবাই ]

