তোমার_আমার_প্রেম পর্ব – ০১ লেখনীতে – রুবাব ফারহা

0
27

চৌধুরী বাড়িতে যেনো উৎসব লেগে গেছে।সকাল থেকে ঘরের প্রতিটি কনা ঝাড়া মুছা থেকে শুরু করে তৈরি হচ্ছে হরেক রকম খাবার।হবেই না বা কেনো? চৌধুরী বাড়ির বড় ছেলে বিলেত থেকে ডাক্তারি পাশ করে আজ বাড়ি ফিরছে।তার আসার আনন্দেই তো এতো আয়োজন। মিনারা বেগম ছেলের জন্য উৎসুক হয়ে অপেক্ষা করছে।কতদিন পর নাড়ীছেড়া ধন আসছে। রান্নাঘরে নানা পদের রান্নায় ব্যস্ত মিনারা বেগম তার পাশে তাকে সাহায্য করছে ঈশানি।

মিনারা বেগম ঈশানির উদ্দেশ্যে বললেন
ইশু,সকাল থেকে অনেক খাটাখাটনি করছিস। যা নিজের রুমে গিয়ে গোসল করে ফ্রেশ হয়ে নে।

ঈশানি নিজের কাজে মনোযোগ দিয়ে বললো
হাতের কাজ শেষ করে যাচ্ছি , ছোটোমা।

মিনারা বেগম তাড়া দিয়ে বললেন
এখনি যা।আর পটের বিবিকে বলবি গোসল করে নিচে আসতে।
ইশু নিজের কাজ শেষ করে প্রথমে উপরে গেলেন আরিয়ার রুমে। আরিয়া ঈশানির চাচাতো বোন। ঈশানির থেকে আরিয়া দু’বছরের বড়। আরিয়ার রুমে তাকে দ্রুত নিচে নামার তাগিদ দিয়ে ঈশানি নিজের রুমে গেলো।
.
ঈশানির যখন এগারো বছর বয়সে তার বাবা – মা সড়ক দুর্ঘটনায় স্পট ডেথ হয়ে যায়। সেই বয়সে ঈশানি পরিচিত হই এতিম নামক শব্দে। তারপর ঈশানিকে আগলে নেয় তার ছোট চাচ্ছু জাহিদ চৌধুরী।তারপর থেকে সে এই চৌধুরী বাড়িতেই আছে।যদিও বাড়িটি তার বাপ – চাচা দুজনেরই তবুও বাবা – মা চলে যাওয়ার পর ঈশানি নিজেকে এই বাড়ির আশ্রিতা ভেবে আসছে। যার নিজের বাবা – মা নেই সে তো অন্যের বাড়িতে আশ্রিতাই।তার চাচা – চাচী ভালো মানুষ বিধায় তাকে নিজের মেয়ের মতো স্নেহ করে কিন্তু সে তো জানে সে তাদের জন্য উটকো ঝামেলা বই কিছু না।তাই লেখাপড়ার পাশে যতটুকু সময় ঈশানির হাতে থাকে সে বাড়ির বিভিন্ন কাজ করে থাকে।তার চাচা – চাচী না করলেও সে শুনে না।
.
নিচ থেকে হই হুল্লোড় শব্দ ভেসে আসছে।তখনি আয়রা দুম করে করে ঈশানির রুমে এসে হাঁপাতে হাঁপাতে বলতে শুরু করলো
ইশু,জলদি নিচে আয়। আরহান ভাইয়া চলে এসেছে।সবার জন্য এত্তো এত্তো গিফট এনেছে।
ঈশানি মলিন হাসলো।এবং বললো –
তুমি যাও আরুপু।আমি আসছি।
আয়রা তাড়া দিয়ে নিচে চলে গেলো।তার ভাই কি কি গিফট এনেছে দেখতে হবে তো।
.
চৌধুরী বাড়ির একমাত্র ছেলে আরহান মীর চৌধুরী।ইন্টার পরীক্ষার পরেই পারি জমিয়েছিলো লন্ডনে ডাক্তারি ডিগ্রি অর্জনের জন্য। আজ ৬ বছর পর দেশের মাটিতে পা দিলো শেষে। মা কে জড়িয়েই ধরতেই তিনি হুহু করে কেঁদে উঠলেন।কতদিন পর ছেলেকে কাছে পেলেন।মায়ের মাথায় একটা চুমু দিয়ে বাবার দিকে এগিয়ে গেলো আরহান।বাবাকে সালাম দিয়ে কোলাকোলি করতেই আদরের ছোটোবোনকে দেখতে পেলো। হাত বাড়িয়ে দিতেই আয়রা হামলে পড়লো ভাইয়ের বুকে। আরহান বোনের মাথায় হাত বুলিয়ে দিলো।এরমধ্যে মিনারা বেগম তাড়া দিলেন –
হয়েছে হয়েছে।ছেলেটাকে এবার ছাড়।বাবা,তুই উপরে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আয়।তোর পছন্দের সব খাবার করেছি।
আরহান মায়ের দিকে তাকিয়ে বললো –
তোমার রান্না সবচেয়ে বেশি মিস করেছি , মা।
তারপর কালো লাগেজের দিকে আঙুল তুলে দেখাতে দেখাতে আয়রাকে বললো –
ওখানে তোদের সকলের জন্য গিফট আছে।সকলকে দিয়ে দে।আমি ফ্রেশ হয়ে আসছি।
আয়রা তো খুশিতে লাফিয়ে উঠলো।ভাইকে ছেড়ে লাগেজের দিকে গেলো। আরহান ফ্রেশ হতে নিজের কক্ষে চলে গেলো।
কিছুক্ষণ পরেই ঈশানি আসলো ড্রয়িংরুমে।ঈশানি আসতেই আয়রা ডাকলো ঈশানিকে –
এই ঈশু,এদিকে আয়।দেখে যা ভাইয়া কত কি এনেছে।কতগুলো চকোলেট,গিফট এনেছে।
ঈশানি মৃদুপায়ে এগিয়ে গেলো।চকলেটের প্রতি তার দুর্বলতা আছে তবুও মুখ ফুটে বললো না আপুকে আমাকে চকোলেট দেও।সে এরকমই।কখনোই কিছু চাইতে পারে না।
আয়রা একে একে সকলের গিফট সকলকে দিলো। আয়রা আর ঈশানির জন্য একইরকম গিফট এনেছে আরহান।দুজনের জন্য দুটো ফোন,দুটো ল্যাপটপ আর অনেকগুলো চকোলেট তো আছেই। ঈশানি জিনিষ গুলো দেখে রান্নাঘরের দিকে গেলো মিনারা বেগমকে সহায়তা করতে। মিনারা বেগমের সাথে হাতে হাতে সকল খাবার টেবিলে এনে সাজাতে লাগলেন। আস্তে আস্তে জাহিদ চৌধুরী , আয়রা চলে আসলো।তাদের খাবার বাড়তে বাড়তে মীনারা বেগম আয়রাকে বললেন –
আরু,গিয়ে দেখে আয় তো আরহান আসছে না কেনো।
আরিয়া ততক্ষণে খাবার খেতে বসে পড়েছে।সেটা দেখে ঈশানি বললো –
আপু তো খেতে বসে গেছে, ছোটোমা।আমি দেখে আসছি।
মিনারা বেগম ঘাড় কাত করে সম্মতি জানাতেই ঈশানি উপরে গেলো। আরহানের রুমের দরজা ভেজানো।ঈশানি প্রথমে দুটো টোকা দিলো দরজায়।কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে মৃদু ধাক্কা দিলো দরজায়।দরজা খোলাই ছিলো বিধায় খুলে গেলো।ঈশানি প্রথমে উকি দিয়ে রুমটা দেখলো।কেউ নেই ভিতরে পুরো রুম ফাঁকা।বিছানার উপর ব্যাগ রাখা।ঈশানি এবার ঘরে ঢুকলো।ওয়াশরুম থেকে পানির শব্দে বুঝতে পারলো আরহান ভাই গোসল করছেন।ঈশানি থাকবে না চলে যাবে ভাবতে লাগলো।তারপর সিদ্ধান্ত নিলো একটু অপেক্ষা করবে।
ঈশানি প্রথমবারের মতো এই রুমে প্রবেশ করলো ঈশানি যখন বাবার মার মৃত্যুর পর এই বাসায় আসে তার একমাস পড়েই আরহান লন্ডন চলে যায়।এরপর থেকে এই রুমে তালাবন্ধ ই ছিলো।ঈশানির আসার সুযোগ হয়নি।ঈশানি ঘুরে ঘুরে রুম দেখতে লাগলো।গুছানো পরিপাটি রুম। মাস্টারসাইজ একটা বেড, বেডের পাশে একটা ছোট্ট টেবিল তারউপর ল্যাম্প রাখা। খাটের পাশেই একটা বড়সোফা রাখা।এবং সেটার পাশে এক বড় আলমারি এবং তার বিপরীত পাশে একটা ডেসিং টেবিল।ছিমছাম সুন্দর ঘর।রুমের পাশঘেষে রয়েছে একটা বেলকোনি। ঈশানি যখন সবকিছু ঘুরে ঘুরে দেখছিলো তখনি দরজার খট শব্দে পিছনে ফিরে চাইতেই লজ্জায় আড়ষ্ট হয়ে পড়লো ঈশানি। আরহান গোসল করে শুধু মাত্র একটা টাওয়াল কোমরে পেঁচিয়ে বেরিয়েছে।ঈশানি লজ্জায় মাথা নামিয়ে নিলো। আরহান ঈশানির দিকে তাকিয়ে এগিয়ে গেলো সামনে। এবং প্রশ্ন করলো –
তুমি ঈশানি?
ঈশানি মাথা নিচু করেই উত্তর দিলো –
জ্বী।ছোটমা খেতে ডাকছে এখুনি।
বলেই আর আরহানের দিকে না তাকিয়েই দৌড়ে নীচে চলে গেলো।
.
নিচে ঈশানি আসার দুমিনিটের মাথায় আরহান ও চলে এসেছে। জাহিদ চৌধুরীর পাশের চেয়ার টেনে তার পাশেই বসে পড়ে। মিনারা বেগম ছেলেকে আদর যত্ন করে খাওয়াতে লাগলেন।ঈশানি তখনো খেতে না বসায় মিনারা বেগম চোখ রাঙিয়ে বললেন –
ইশু, এক্ষুনি খেতে বস।সকাল থেকে কাজ করছিস।খেতে বস।
আরহান এক পলক চাইলো ঈশানির দিকে।পরপর ই খাওয়ায় মনোযোগ দিলো।খেতে খেতে বাবা – ছেলের টুকটাক কথা চললো।
জাহিদ চৌধুরী জিজ্ঞেস করলেন –
তো এখন তোমার প্ল্যান কি?
আরহান বললো –
একটি হাসপাতাল থেকে জয়েনিং লেটার এসেছে।কয়েকদিনের মধ্যেই জয়েন করবো।
জাহিদ চৌধুরী হেসে মাথা ঝাকিয়ে বললেন –
বেশ ভালো তবে।
খাওয়া শেষ করে তিনি উঠে গেলেন। আরহানও খাওয়া শেষ করে মাকে বলে বেরিয়ে গেলো।

#তোমার_আমার_প্রেম
পর্ব – ০১
লেখনীতে – রুবাব ফারহা

{আপনাদের সাপোর্ট একান্ত কাম্য। একদমই নতুন আমি।ভুল ত্রুটি থাকলে অবশ্যই ধরিয়ে দিবেন। আপনারা উৎসাহ দিলে পরবর্তী পর্ব লেখবো,ইন শা আল্লাহ্}

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here