তোমার_আমার_প্রেম পর্ব – ০৩ লেখনীতে – রুবাব ফারহা

0
27

তোমার_আমার_প্রেম
পর্ব – ০৩
লেখনীতে – রুবাব ফারহা

.
ঈশানি নিজের রুমে এসে ব্যাগটা ছুঁড়ে মারে।এই রনি ছেলেটা তাকে ভীষন জ্বালাচ্ছে।কখনো কল করে,কখনো মেসেজ দিয়ে।ছোটমার ভাইয়ের ছেলে বলে কাউকে কিছু বলতেও পারছে না। ছোটোমা যদি ভুল বুঝে।বিরক্ত হলো ঈশানি।শরীর খুব ক্লান্ত।গোসল নেয়া প্রয়োজন।গোসল করার উদ্দেশ্যে চলে যায় ওয়াশরুমে।
গোসল শেষে ওয়াশরুম থেকে বের হতেই দেখে রনি তারই রুমে তারই বিছানায় বসে আছে।ঈশানির যেনো মুহূর্তেই মেজাজ খিঁচে গেলো।লম্বা শ্বাস নিয়ে ঝাঁঝালো কন্ঠে জিজ্ঞেস করলো –
আপনি আমার রুমে কি করছেন?
রনি ঠোঁটে বিশ্রী হাসি নিয়ে এক চোখ টিপে বলে উঠলো –
এসেছিলাম তো তোমার সাথে গল্প করতে।কিন্তু তুমি যে সিনেমা দেখাবে সেটা তো ভাবিনি,ডার্লিং।

ঈশানি নিজের দিকে চাইতেই লজ্জায় ও রাগে চোখ খিঁচে নিলো।তার বুকে ওড়না নেই।গোসল করতে যাবে বলে বাহিরেই রেখে গিয়েছিলো।সে দ্রুত গিয়ে ওড়না ভালোমত শরীরে জড়িয়ে নেয়। কণ্ঠে দ্বিগুণ তেজ নিয়ে ধমকে বলে উঠে –
এক্ষুনি আমার রুম থেকে বেরিয়ে যান,অসভ্য লোক।
ঈশানির কোথায় রনি যেনো মজা পেলো।খ্যাক করে হেসে বললো –
অসভ্যতামি করার আগেই অসভ্য উপাধি দিলে সুন্দরী। নট ফেয়ার।এখন তাহলে অসভ্যতামি করেই উপাধিটাকে জাস্টিফাই করা উচিৎ কি বলো?
রনি একপা দুপা করে এগিয়ে আসতে লাগলো ঈশানির দিকে।মুখে তার সেই বিশ্রী হাসি।এতক্ষন রুদ্রমূর্তি রূপ নিয়ে দাড়িয়ে থাকা ঈশানি যেনো এবার দমে গেলো।বুকে ভয়েরা এসে দানা বাঁধলো।সে না চাইতেও কখন যেনো পিছনে হাঁটতে শুরু করেছে।পিঠ গিয়ে থেকেছে দেয়ালে।ভিতরে ভিতরে ভয় পেলেও উপরে সেটা প্রকাশ না করে ঝাঁঝালো কন্ঠে আবার ও বললো –
এগুচ্ছেন কেনো এভাবে?বেরিয়ে যেতে বলেছি আপনাকে আমি।
রনি একদম ঈশানির কাছে এসে দাড়ালো।গাল বেঁকিয়ে বিশ্রী হাসি দিয়ে তার এক আঙ্গুল দিয়ে ঈশানির গাল থেকে স্লাইড করে আঙ্গুল নিচে নামাতে নামাতে বললো-
অসভ্যতামি করছি,সুন্দরী।
ঈশানি চোখ খিঁচিয়ে বন্ধ করে নিলো এবং তৎক্ষণাৎ নিজের সর্বস্ব শক্তি দিয়ে রনির গালে একটি চড় বসালো।রাগে লাল হওয়া চোখ এবং নাকের পাটা ফুলিয়ে মৃদু চিল্লিয়ে বলে উঠলো –
এক্ষুনি বেরিয়ে যান রুম থেকে।নাহলে আমি চাচ্ছুকে ডাকবো।
রনি যেনো কল্পনা ও করতে পারেনি ঈশানি এমন কাজ করবে।এতদিন জেনে এসেছে ঈশানি ঠাণ্ডা স্বভাবের,নীরব ,সহজ – সরল মেয়ে। যে কি না সাত চড়েও কোনো রা’ করে না। ঈশানির থেকে থাপ্পড় খেয়ে রনি আরো ফুসে উঠলো ।ঈশানির গলা চেপে ধরে হিসিহিসিয়ে বললো –
চালচুলোহিন আশ্রীতা মেয়ের এতো সাহস আমার গায়ে হাত তোলা।রনি শিকদারের গায়ে।এর ফল তোমায় ভোগ করতে হবে।ভয়ংকরভাবে ভোগ করবে।
বলেই ঈশানির গলা ছেড়ে দিয়ে হনহন করে রুম থেকে চলে যায়।এতক্ষন ঈশানির গলা চেপে ধরায় গলা কাটা মুরগীর মতো ছটফট করতে থাকে।গলা ছেড়ে দিতেই যেনো দেহে প্রান আসে।ডুকরে কেঁদে উঠে ঈশানি। কেনো তার জীবনটা এমন? আজ যদি তার বাবা – মা বেঁচে থাকতো কেউ তার দিকে কুদৃষ্টি দিতে পারত?কেউ এভাবে গায়ে হাত দিতে পারতো?নিশ্চয় পারতো না।তার বাবা সেই হাত গুড়িয়ে দিতো।কিন্তু তার তো কেউ নেই। তাই তো তার জীবন এরকম। সে কাদতে কাদতে রুমের দরজা আটকে দিলো।তারপর আয়নার সামনে দাড়াতেই গলায় আঙুলের ছাপ দেখতে পেলো।ফর্সা শরীরে আঙুলের ছাপ যেনো টকটকে লাল হয়ে ফুটে উঠেছে।ঈশানি আবারো ডুকরে কেঁদে উঠলো।কাকে বলবে এসব সে? কেউ কি বিশ্বাস করবে?সমাজে সব দোষ তো মেয়েদেরই হয়।
.
ঈশানি আর রুম থেকে বের হয়নি। আয়রা রিমি ডাকতে এসেছিলো ওকে।মাথা ব্যথার বাহানায় আর নিচে যায়নি সে। সারা সন্ধ্যা দরজা আটকে নিজের রুমেই শুয়ে ছিলো সে।
নিচে ড্রয়িং রুমে আরহান বসে ফোন টিপছে।এসব ফ্যামিলি গ্যাদারিং তার মোটেও পছন্দ না।শুধুমাত্র মায়ের কথা রাখতে বসেছে সে। তার মামা তাকে প্রশ্ন করলে টুকটাক উত্তর দিচ্ছে মাঝে।
দুরু থেকে আরহানের প্রতিটি অঙ্গভঙ্গি গভীর দৃষ্টিতে পর্যবেক্ষণ করে যাচ্ছে রিমি।ছোটবেলা থেকেই সে তার আরহান ভাইয়ের প্রতি দূর্বল।এরকম সুদর্শন পুরুষ চোখের সামনে থাকলে প্রেমে না পড়ে থাকা যায়? যায় না তো। তাই তো রিমি ও পারেনি। আরহান যখন বিদেশে ছিলো তখনো বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া দিয়ে তাকে ফলো করেছে।অগণিত মেসেজ পাঠিয়েছে। আরহান এতো এতো মেসেজের ভিড়ে দু/একটা মেসেজের উত্তর দিতো।তবুও হাল ছাড়েনি রিমা। রিমা আরহানের দিকে এগিয়ে গেলো।এবং তার পাশে শরীরঘেষে বসে পড়লো।কন্ঠ নামিয়ে মিষ্টি করে জিজ্ঞেস করলো –
আরহান ভাই, আপনি কি আবার চলে যাবেন লন্ডনে?
আরহান ভ্রু কুচকে তাকালো রিমির পানে।খানিক ধমকে বলে উঠলো –
সরে বস রিমি।এরকম ঘেষাঘেষি আমার পছন্দ না।
রিমির যেনো অন্তরাত্মা কেঁপে উঠলো।তড়িৎ বেগে সেখান থেকে উঠে মায়ের কাছে চলে গেলো। আরহান কপালে ভাঁজ ফেলে মাকে বলে উপরে চলে গেলো।রাতের খাবার খেয়ে মামা – মামী ও চলে গেলো।
.
ঈশানির সময় কাটছে ভীষন ব্যস্ততায়।তার টেস্ট পরীক্ষা শুরু হয়ে গেছে।সে পড়াশোনায় ভীষন ভালো। তার জীবনের একমাত্র লক্ষ্য পড়াশোনা করে নিজের পায়ে দাঁড়ানো যাতে কারোর উপর নির্ভরশীল না হতে হয়।তাই সে সবসময় ভালোভাবে পড়াশোনা করেছে এবং আশানুরূপ ফলাফল করে এসেছে।
আজ পরীক্ষা দিয়ে বিকেলে বাসায় এসে দেখতে পায় ড্রয়িংরুমে মোটামুটি হই হুল্লোড় পড়েছে।কাজের লোক ড্রয়িংরুম পরিষ্কার করে নতুন টেবিল ম্যাট ,সোফা কভার সহ সব পরিবর্তন করছে।ঈশানি সোজা রান্না ঘরের দিকে গেলো।গিয়ে দেখতে পায় তার ছোটমা রান্নায় ব্যস্ত।ঈশানি পাশে গিয়ে দাড়াতেই মিনারা বেগম মিষ্টি করে হেসে বললেন –
এসে গেছিস।পরীক্ষা কেমন হয়েছে? ফ্রেশ হয়ে খেতে আয়।
ঈশানি মৃদু কন্ঠে বললো –
পরীক্ষা ভালো হয়েছে। আজ কি বাসায় কিছু আছে ছোটমা? এতো আয়োজন কিসের?
মিনারা বেগম হাতের কাজ করতে করতে ব্যস্ত কন্ঠে বললেন –
আরে বলিস না।আজ সকালেই তোর চাচ্ছু হুট করে বললো আরুকে দেখতে আসবে।ব্যবস্থা করতে।এরকম এদিনেই বললেই কি হয় বল? বাড়িতে মানুষ আসলে কত কাজ।এই লোক কি আর সেটা বুঝে ,উনি তো অর্ডার করেই খালাস।

ঈশানি ভীষণ খুশি হলো। তার আরুপুর বিয়ে হবে।নিশ্চয় এটা খুশির সংবাদ।ঈশানি খুশি হয়ে বললো-
আরুপু এসেছে?আপু জানে এব্যাপারে?
মিনারা বেগম এ পর্যায় হাতের কাজ স্থগিত রাখলেন।তারপর মলিন কন্ঠে বললেন –
মেয়েটা শুনেছে থেকেই রেগে আছে।একদফা কেঁদেও ভাসিয়েছে।সে এখন বিয়ে করবে না।এদিকে তোর চাচ্ছুও তো শোনার মানুষ নয়।তুই গিয়ে দেখ তো মেয়েটা কি করছে।মেয়েটাকে বুঝিয়ে শুনিয়ে তৈরি করে দে তো ,মা।
ঈশানির কিছুটা মন খারাপ হলো। কি দরকার আপুকে জোর করার।আপুর ইচ্ছের বিরুদ্ধে বিয়ে হলে কি আপু খুশি হবে কখনো?কিন্তু মুখে কিছু বললো না।ছোটমার কথা শুনে ছুট্টে আরিয়ার রুমে চলে গেলো।
আরিয়া কাদছে আর ফোনে কার সাথে যেনো ফিশফিশ করে কথা বলছে।ঈশানি যেতে ফোন রেখে দিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে দেয়।ছোট বাচ্চাদের মতো কাদতে কাদতে বলে –
আমি এই বিয়ে করতে চাইনা , ইশু। কিছু একটা কর প্লীজ।

চলবে~

{আসসালামু আলাইকুম। পর্বটি কেমন লেগেছে অবশ্যই জানাবেন}

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here