#তোমার_আমার_প্রেম
পর্ব- ১০
লেখনীতে – রুবাব ফারহা
.
চারদিকে কেমন এক অস্বাভাবিক নীরবতায় ছেয়ে আছে।চৌধুরী বাড়ির পরিত্যক্ত স্টোররুমে উপস্থিত মানুষগুলো তাকিয়ে আছে আমেনা শিকদারের দিকে।রবিন শিকদার বেশ খুশি হলো স্ত্রীর ধূর্ততায়।তিনিও খুব ব্যথিত হয়েছে এমন ভান করে জানালো –
“ঈশানির সাথে যেটা হয়েছে সেটা খুবই খারাপ হয়েছে ,ভাইজান।কিন্তু ভেবে দেখুন আমেনা কিন্তু ঠিক বলেছে।এখন আমাদের শাস্তির কথা না ভেবে ঈশানির কথা ভাবা উচিৎ।আমি কথা দিচ্ছি ঈশানিকে রানী করে রাখবো।এসব কলঙ্ক তখন আর কেউ মনে রাখবে না।তখন রনি ওর আইনত স্বামী হয়ে যাবে।”
ঈশানি ঘৃণায় চোখ মুখ খিঁচে নেয়। আঙুল দাবিয়ে দেয় আয়রার হাতে। আয়রা বুঝতে পারে ঈশানির মনোভাব।সে নিজেও চায় না এই লম্পট,চরিত্রহীন, বিকৃতমস্তিষ্কের মানুষের সাথে ঈশানির বিয়ে হোক।কিন্তু বাবার উপর কথা বলার সাহস তার নেই।তবুও বুকে সাহস সঞ্চয় করে কিছু বলার জন্য উদ্ধত্ব হয়,তখনি আরহান চিৎকার করে উঠে-“তোমাদের কি বিন্দুমাত্র সরম লজ্জা নেই? মামা,মামী নিজেদের ছেলের অপকর্ম ঢাকতে একটা ফুলের মতো পবিত্র মেয়ের জীবন নষ্ট করবেন? আপনাদের ছেলে ভালো? একটা মেয়ের শ্রীলতাহানি করতে এসেছে তার চরিত্র ভালো? বিবেকবুদ্ধি কি হাটে বেঁচে দিয়ে এসেছেন? এই জা*নো*য়া*র*কে বাঁচাতে আপনারা নিজেই জা*নো*য়া*র হয়ে যাচ্ছেন।”
রবিন তালুকদার খেঁকিয়ে উঠেন। ঝাঁঝালো কন্ঠে বলেন –
“মুখ সামলে কথা বলো আরহান।তুমি কার সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলছো ভুলে যেও না।”
আমেনা শিকদার স্বামীর হাত ধরে চুপ থাকতে বললেন ইশারায়।তারপর আরহানকে বললো –
” ও আর ফুলের মতো পবিত্র নেই।আমরা ভালো মানুষ, বিবেক আছে বলেই নষ্টা মেয়েকে নিজেদের বাড়ির বউ করতে চাচ্ছি। নাহলে রবিন শিকদারের ছেলের জন্য শহরের বড় বড় লোকেরা মেয়ে দেয়ার জন্য বসে আছে। আর ছেলেদের এমন টুকটাক দোষ থাকেই।পুলিশে দিলেই বা কি আমার ছেলেকে ছাড়াতে আমার দুমিনিট লাগবে না।ক*ল*ঙ্কি*ত হয়ে পড়ে থাকবে এই মেয়ে।”
এতক্ষন জাহিদ চৌধুরী চুপ করে থাকলেও এবার গর্জে উঠলেন।ঘরে উপস্থিত থাকা প্রতিটি জীব কেপে উঠেছে যেনো তার হুংকারে ।জাহিদ চৌধুরী আমেনা শিকদারের উদ্দেশ্যে বললেন –
“আমার মেয়ের চিন্তা তোমায় করতে হবে না।আপাতত তুমি তোমার ছেলের চিন্তা করো। এই ন*র*কে*র নি*কৃ*ষ্ট কিটকে যেনো তুমি দুমিনিটে জেল থেকে ছাড়াতে না পারো তার ব্যবস্থা আমি স্বয়ং জাহিদ চৌধুরী করবো।”
মিনারা বেগম সব শুনলেন।যতই হোক ওনার আপন ছোটো ভাই। মা মরার পর থেকে কোলেপিঠে মানুষ করেছে এই ছোট ভাইকে।নিজের সন্তানতুল্য ছোটো ভাইয়ের এহেন দশা সইলো না তার।এদিকে ঈশানিকে ও সে নিজের মেয়ের মতো মানুষ করেছে।তবুও দোনামোনা করে বললেন –
“রবিন বা ওর বউ ভুল কিছু বলেনি কিন্তু।আমার ভাইয়ের কোনদিক থেকে কম নেই। যা হওয়ার হয়ে গেছে।ঈশানির রনির সাথে বিয়ে হলে রাজরানী হয়ে থাকবে।নাহলে সমাজের মানুষ নানা কথা বলবে।এখনি কানাঘুষা শুরু করেছে।”
জাহিদ চৌধুরী শীতল দৃষ্টি নিপাত করলো স্ত্রীর পানে।তখনি আরহান বলে উঠলো –
“মা,তোমাকে আমি আমার শিক্ষা মানি।তোমার থেকেই আমি ঠিক ভুল শিখেছি।সেই তুমি কিনা এখন ভুলকে প্রশ্রয় দিচ্ছো?”
মিনারা বেগম চুপসে গেলেন।আর কোনো কথা বললেন না।পুলিশ এসে নিয়ে গেলো রনিকে। এই অপমান অপদস্ত সহ্য করতে না পেরে তখনি চৌধুরী বাড়ি থেকে চলে গেলেন রবিন তালুকদার এবং আমেনা তালুকদার।রিমির ইচ্ছে না থাকা সত্ত্বেও তাকেও যেতে হয়েছে।
জাহিদ চৌধুরী আয়রাকে বলে ঈশানিকে নিজের ঘরে নিয়ে যেতে বলেন এবং পাশে পাশে থাকার নির্দেশ দেয়। ছেলেকে বলে তার রুমে আসতে জরুরি কথা বলবে।
.
জাহিদ চৌধুরী নিজের রুমের বিছানার কোনায় বসে আছে নির্জীব হয়ে।চোখে তার অপরাধবোধ ,অনুশোচনা,আক্ষেপ,কষ্ট।আরহান দরজা ঠেলে ভিতরে প্রবেশ করে। সোজা বাবার সামনে গিয়ে দাড়ায়, চুপ করে বসলো বাবার পাশে।বাবার ডান কাধে নিজের হাত রাখলো।জাহিদ চৌধুরী চোখ তুলে তাকালেন আরহানের দিকে।নিজের বাবার চোখে ভেজা দেখে আরহান খুব অসহায়বোধ করলো।মনে করার চেষ্টা করলো ঠিক শেষ কবে দেখেছিলো বাবাকে কান্না করতে? হয়তো তার ছোটো চাচ্ছুর মৃত্যুতে। আরহান কিছুটা সময় দিলো জাহিদ চৌধুরীকে।জাহিদ চৌধুরী নিজেকে সামলে নিয়ে বলতে শুরু করলো-
“জাকির আমার ছোটো ভাই কম আমার বন্ধু ছিলো পিঠাপিঠি বয়সর হওয়ায় সবসময় সবকাজ একসাথে করতাম।এমন একটা দিন ও যেতো না ,যেদিন আমি আর জাকির দুরন্তপনা,ছেলেমানুষী করতাম না ।আমাদের দুজনের বাঁদরামিতে মা বিরক্ত হয়ে যেতো।বাবার কাছে আমরা বরাবরই ভদ্র ছিলাম।কারণ তাকে আমরা জমের মতো ভয় পেতাম।বাবা বাসায় আসলে আমরা দুই ভাই একদম চুপচাপ ভয়ে ভয়ে থাকতাম ।যখন আমি অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে আর জাকির কেবল ইন্টার পরীক্ষা দিলো তখন একদিন খুব ভোরে বাবা চিৎকার দিয়ে উঠলো।আমরা দুভাই দৌড়ে বাবার রুমে গিয়ে দেখি আমাদের মা আর বেঁচে নেই, মরণঘাতী ক্যান্সার আমাদের মাকে কেড়ে নেয়।জাকির ছিলো বেশি মায়ের ন্যাওটা। মা মারা যাবার পর ভীষণভাবে ভেঙে পড়লো ও।বাবা আগে থেকেই রুক্ষ স্বভাবের ছিলেন,মায়ের মৃত্যু যেনো তাকে পাথরে রূপান্তর করলেন।বিধ্বস্ত জাকিরকে আমি কাছে টেনে নিলাম।নিজের কান্না থামিয়ে ওকে সামলাতাম আমি।ওকে ঘিরেই আমার দুনিয়া ছিলো।এরপর আমি স্নাতক পাশ করে বাবার ব্যবসায় এলাম।জাকির তখনো বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয় বর্ষে পড়ছে। তোমার দাদু আমার বিয়ের জন্য মেয়ে দেখলেন।তোমার দাদুর পছন্দেই আমি তোমার মাকে বিয়ে করে আনলাম।কিন্ত জাকির শোনেনি বাবার কথা।তোমার মা যখন ছয়মাসের গর্ভবতী তখন হঠাৎ একদিন তোমার ছোট চাচ্ছু একটা মেয়ে নিয়ে এলো বাসায়।জানায় তারা বিয়ে করেছে।বাবার ভয়ে তটস্থ হয়ে থাকা জাকির সেদিন বাবার অবাধ্য হয়।বাবার সাথে সেদিন আমার জীবনের প্রথম আমি তর্কে জড়িয়েছিলাম।কিন্ত লাভ হলো না।সে নিজের কথায় অবিচল থেকে জাকিরকে ত্যাজ্য করে দিলো। জাকির ও মনের দুঃখে কষ্টে আক্রোশে ছেড়ে গেলো চৌধুরী বাড়ি।আমি শত চেষ্টা করেও আটকাতে পারিনি ওকে, আর না পরিবর্তন করতে পেরেছিলাম বাবার মন।এরপর থেকে জাকির আর চৌধুরী বাড়িতে পা দেয়নি। আমার সাথে ফোনে ফোনে টুকটাক কথা হতো।ওকে বাড়ি আসতে বললে ভারী কন্ঠে বলতো “যতদিন না বাবা নিজে ডাকবে ততদিন আসবো না।”জাকির তখন সেটেল হয়ে যায় বিদেশে।সেই দেশেই তাদের একটি ফুটফুটে মেয়ে হয়।স্ত্রী সন্তান নিয়ে ভালই কটছিলো ওর জীবন।
জাহিদ চৌধুরী একটু দম নিলেন।চশমা খুলে চোখের পানি মুছে নিলেন। আরহান এক গ্লাস পানিতে দিলে ঢকঢক করে সবটা খেলেন।তারপর আবার বললেন –
“বাবার শরীর বেশকিছুদিন যাবৎ খারাপ যাচ্ছিলো।বয়সের ভারে নুইয়ে পড়েছিলো।আগের সেই তেজ, দাম্ভীর্য,আত্মগরিমা,অহমিকা কিছুই ছিলো না।একদিন বলেই ফেললো আমাকে “জাহিদ, জাকিরকে কল দেও।”আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে ছিলাম পরপরই কল লাগাই জাকিরকে। দীর্ঘ ২০ বছর পর বাবা – ছেলের কথা হয়।জাকির সে কি কান্না।পারে তো তখনি উড়ে আসে।কথা বলে জানায় পরের সপ্তাহে ফ্লাইটে তারা দেশে আসবে।কিন্তু ভাগ্য সহায় হলো না জাকিরের।যেদিন তাদের ফ্লাইট সেদিনই বাবা স্ট্রোক করেন।জাহিদ তখনো জানে না কিছু। ও যখন চৌধুরী বাড়িতে প্রবেশ করে বউ বাচ্চা নিয়ে চারদিকে মানুষের সমাগম,কান্নার রোল।মানুষের ভিড় ঠেলে জাকির সামনে এগিয়ে দেখতে পায় বাবার লাশের সামনে আমি কাদছি।তখন তো তুমি যথেষ্ট বড় ছিলে তোমার জানা পরের ঘটনা।তবুও বলছি।”
আরহান হাতে হাত রাখলেন জাহিদ চৌধুরীর।থামিয়ে দিয়ে বললেন –
“আর বলতে হবে না বাবা। ছোটো চাচ্ছুর মৃত্যু এসব তো আমি জানি।তুমি নিজেকে আর কষ্ট দিও না।”
জাহিদ চৌধুরী বললেন –
“জানো না তুমি আরহান।আমার ভাই যখন এক্সিডেন্ট করে রাস্তায় পড়ে , আশেপাশের মানুষ হাসপাতালে নিয়ে যায়।ডাক্টার মৃত বলে ঘোষণা দিয়ে দেন।আমি গিয়ে আমার ভাই এবং তার স্ত্রীকে মৃত পাই। ঈশানি ভাগ্যের জোরে বেঁচে যায় সেদিন।কিন্তু আমি যখন জাকিরের লাশের সামনে ওর হাত ধরে আযহারী করছিলাম ।হঠাৎ আমি অনুভব করি ওর হাত নড়ছে,পিটপিট করে চাইছে।আমি জোড়ে ডাক্টার ডাক্টার বলে ডাকতে থাকি।কিন্তু ও আমাকে থামিয়ে দিয়ে নিভু নিভু কন্ঠে বলে “ভাইজান,আমার মেয়ে?”
আমি তাকে আশ্বস্ত করে বলি –
“ঈশানি ঠিক আছে।শুধু একটু ব্যাথা পেয়েছে।”
জাকির একটা লম্বা শ্বাস নিয়ে বলে –
” ভাইজান,আমার সময় ঘনিয়ে এসেছে।আমার মেয়েটাকে আপনাকে দিয়ে গেলাম।আমার আদরের ঘেরা রত্ন ও ভাই,আমার কলিজার টুকরা।মেয়েটাকে আপনার কাছে আমানত দিয়ে গেলাম। এই পুরো পৃথিবীতে আমি শুধু আপনাকেই বিশ্বাস করি।আমার বিশ্বাস আপনি থাকতে আমার ঈশুর শরীরে একটা আছর পড়বে না।”
আমি জাকিরের হাত ধরে কাদতে কাদতে বলেছিলাম –
“তোর রত্নের আমি কোনো অযত্ন হতে দেবো না। তোর মেয়ে আমার বাসায় নিজের মেয়ে হয়ে থাকবে।একটা আছর ও পড়তে দেবো না ওর শরীরে। তুই শুধু ….”
আরো কিছু বলার আগে জাকির ওর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে।যেনো একমাত্র ওর আমানত ওর মেয়ের দায়িত্ব আমাকে দিতেই ওর নিঃশ্বাস এসেছিলো।।আমি আমার মৃত্যু পথযাত্রী ভাইকে দেয়া কথা রাখতে পারিনি , আরহান।আমার বাড়িতে দাঁড়িয়েই ওকে এতকিছুর শিকার হতে হয়েছে,আমি হতভাগা কিচ্ছু করতে পারিনি।নিশ্চয় উপর থেকে আমার ভাই আমার উপর ভীষন রেগে আছে।আমি ঈশানিকে রক্ষা করতে পারিনি , আরহান।আমি ব্যর্থ একজন ভাই,ব্যর্থ একজন চাচ্চু!”
জাহিদ চৌধুরী কান্নায় ভেঙে পড়লেন। আরহান দুহাতে জড়িয়ে ধরলো বাবাকে।মুখে কিছু না বলে নীরব শান্তনা দিতে থাকলো।চোখ আবার লাল বর্ণ ধারণ করেছে।তারপর বাবার পিঠে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বললেন –
“এমন কেনো ভাবছো।ঈশানির কিছু হয়নি।সঠিকসময়ে আমি বাঁচিয়ে নিয়েছি। তুমি কখনোই ব্যর্থ ভাই বা চাচ্চু নও।তুমি একজন আদর্শ ভাই এবং ঈশানির ভালোবাসার চাচ্ছু।তুমি ঈশানিকেই জিজ্ঞেস করে দেখো।”
জাহিদ চৌধুরী কান্না আরো খানিক বাড়লো।তারপর খানিক কান্না থামিয়ে আবার অশ্রুভেজা কন্ঠে বললেন –
“আমি বেঁচে থাকতেই মেয়েটার সাথে এমন হলো।যতটুকুই হয়েছে ,সেটা হয়েছে।এই নরকের কীট আমার ফুলের মতো নিষ্পাপ মেয়েটিকে শেষ করে দিত— যদি না সময়মতো তুমি সেখানে উপস্থিত না হতে।আজকে হয়তো ভাগ্য সহায় ছিলো কিন্তু আমি মরে গেলে মেয়েটাকে কে আগলে রাখবে? এই নিষ্ঠুর দুনিয়াতে আমি আর কাউকে ভরসা করতে পারছি না।”
আবার একটু দম দিলেন।ছেলের হাত ধরে অসহায় চোখে চেয়ে বললেন –
“বাবা হিসেবে আমি তোমার কাছে কখনো কিছু চাইনি।তুমি যা চেয়েছো,যা করতে চেয়েছো আমি সবসময় তোমাকে সাহস জুগিয়েছি,সাপোর্ট করেছি।আমার এতবড় ব্যবসা রেখে তুমি ডাক্তারি পড়তে চেয়েছো আমি বিনাবাক্য বিনিময়ে তোমার আবদার রেখেছি।বাবা হিসেবে আমি আমার সর্বোচ্চ দিয়েছি তোমার ইচ্ছে ,স্বপ্ন,আকাঙ্ক্ষা পূরণে।বিনিময়ে কিছুই চায়নি তোমার থেকে আমি।তবে আমি আজ তোমার কাছে কিছু চাইলে তুমি আমাকে দিবে? ফিরিয়ে দিবে না তো?
আরহান সন্দিহান দৃষ্টি ফেললো বাবার দিকে।কপালে ভাঁজ পড়লো।পুনরায় মুহূর্তেই নিজেকে শান্ত করে বাবার মুঠো করে রাখা নিজের হাতের দিকে চাইলো।তারপর শান্ত কন্ঠে বললো –
“তুমি অনুরোধ কেনো করছো বাবা? তুমি আদেশ করবে বাবা।বলো তুমি কি চাও?”
জাহিদ চৌধুরী এবার ছেলের দিকে চাইলেন।এক নিঃশ্বাসে বললেন –
” আমি চাই ঈশানিকে তুমি বিয়ে করো, আরহান। তোমায় ছাড়া ঈশানির ব্যাপারে আর কাউকে ভরসা করতে পারছি না।”
~চলবে
{আজকের পর্ব কেমন লেগেছে ও অবশ্যই নিজস্ব মতামত জানাতে ভুলবেন না।}

