তোমার_আমার_প্রেম পর্ব -১২ লেখনীতে – রুবাব ফারহা

0
26

#তোমার_আমার_প্রেম
পর্ব -১২
লেখনীতে – রুবাব ফারহা
.
একটি সর্বনাশা,গুমোট, ক্লান্ত ,বিধ্বস্ত রাতের পর সুন্দর একটি নব দিনের সূচনা।আকাশে ঝলমলে রোদ উঠেছে।সূর্যের নরম আলো এসে ছুঁয়ে দিচ্ছে আরহানের মুখশ্রী।যে আলোতে তার ঘুম ভেঙে যায় না।বরং কারো কর্কশ কন্ঠে অবিরাম ডেকে চলায় তার ঘুম ভেঙে যায়। নাক মুখ কুঁচকে উঠে ঘুমের মধ্যেই।পিটপিট করে চোখ খুলে দেখতে পায় তার সামনে অলিভিয়া দাঁড়ানো।মেয়েটার ফর্সা মুখশ্রী রক্তবর্ণ ধারণ করছে । আরহান কিছুটা আন্দাজ করতে পারলো কি হতে চলেছে এখন।তবুও ভাবলেশহীনভাবে হাই তুলতে তুলতে বললো –
“কি সমস্যা?সকাল সকাল ঘুম ভাঙিয়ে কি নাটক শুরু করেছিস?”

অলিভিয়ার চোখ লাল হয়ে আছে।সকালে উঠে যখনি শুনেছে আরহান ঈশানির বিয়ের কথা তার মাথায় যেনো আকাশ ভেঙে পড়েছে।সে বিশ্বাস করেনি কারো কথা।দৌড়ে চলে এসেছে আরহানের কাছে।অলিভিয়া আরহানের দিকে চাইলো।ঘুম থেকে উঠার দরুন মুখটা একটু ফোলাফোলা লাগছে,চুলগুলো এলোমেলো হয়ে কপালে এসেছে কিছুটা।কি অমায়িক সুন্দর লাগছে। অলিভিয়া ঢোক গিললো তারপর কান্নারত অথচ শক্ত কন্ঠে জিজ্ঞেস করলো –
“তুই সত্যি বিয়ে করেছিস?”

আরহান নিরুদ্বেগ হয়ে বললো –
“তো বিয়ে কি কেউ মিথ্যে মিথ্যে করে?”

পাল্টা ত্যাড়া প্রশ্নে অলিভিয়া এবার নিজের বেগ হারিয়ে বসলো।একপ্রকার চিল্লিয়ে বলে উঠলো –
” তুই কি জানিস না আমি তোকে কতটা ভালবাসি?তারপরও কিভাবে পারলি?

আরহান প্রত্যুত্তর করলো –
“তুই কি জানতি না আমি তোকে ভালবাসি না।শুধু বন্ধুর চোখে দেখি,বন্ধুর থেকে বেশি না?”

অলিভিয়া পাগলপ্রায় হয়ে বলতে লাগলো –
“কেনো বাসিস না? আমি যে তোকে ভালবাসি ।কিভাবে দেখবো অন্য মেয়ের সাথে তোকে?তুই এক কাজ কর তুই ঈশানিকে ডিভোর্স দিয়ে দে, আরহান।আংকেলের কথায় বিয়ে করেছিস।ওকে’ও তো তুই ভালবাসিস না। আমি জানি তুই ওকে দয়া করে বিয়ে করেছিস। তাহলে আমাকে বিয়ে করে নে।ওকে ছেড়ে দে।আমি সব ব্যবস্থা করে দেবো। ওর সব দায়িত্ব আমি নেবো।তুই শুধু আমার আরহান।ছেড়ে দে ওকে,প্লীজ।”

আরহানের শান্ত দৃষ্টি নিক্ষেপ করলো অলিভিয়ার দিকে। সেই চাহনির মানে উদঘাটন করতে ব্যার্থ হলো অলিভিয়া। আরহান অলিভিয়ার উদ্দেশে বললো –
” একে মেয়ে মানুষ দুইয়ে বন্ধু।একমাত্র এই কারণেই তোকে কিছু বলছি না।নাহলে যে মুখ দিয়ে এসব বলেছিস সেই মুখ ভেঙে গুঁড়িয়ে দিতাম। আজ প্রথমবার ও শেষবার সুন্দর করে বুঝিয়ে বলছি – আমি বিবাহিত।আমার এই বিবাহিত জীবন তোর মেনে নিতে কষ্ট হলে দূরে দূরে থাকবি। এখন যেতে পারিস।বিবাহিত পুরুষের রুমে এভাবে হুটহাট আসতে হয়না।”

অলিভিয়াকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে দরজা আটকে দেয়। অলিভিয়াকে তার মাঝে মাঝে সাইকো মনে হয়।অলিভিয়া রাগে, জিদে তখনি নিজের বাসায় চলে যায়।
.
আজ আয়রার গায়ে হলুদ।গতকালের কলুষিত রাতকে ভুলিয়ে দিতেই হয়তোবা এতো আয়োজন ।জাহিদ চৌধুরী সকালে উঠেই জানিয়ে দিয়েছেন – আয়রা – ইয়াসিনের সাথে আরহান – ঈশানির বিয়েটাও হবে।একসাথে দুটো বিয়ে শুনে যেনো সকলে দ্বিগুণ তোড়জোড়,আনন্দ শুরু করেছে।ঈশানির এখন নিজেকে কলের পুতুল মনে হয়।যে যেভাবে চাচ্ছে সে নেচে যাচ্ছে।নিজের উপরই হাসি পেলো তার।
.
ঈশানিকে মন থেকে এখনো পুরোপুরি মেনে নিতে না পারলেও মিনারা বেগম সেটা প্রকাশ করলো না।মেয়ের বিয়ের আয়োজনে মা কি হাত গুটিয়ে বসে থাকতে পারে ? পারে না,সেও পারেনি।একমাত্র মেয়ের বিয়েতে সে কোনো কমতি চায় না।ছেলে ও স্বামীর সাথে যদিও এখনো তার দুরত্ব মিটেনি তবুও সকলের সামনে যথাসম্ভব সব স্বাভাবিক দেখানোর চেষ্টা করলো।কিন্তু ওই যে কথায় আছে “মানুষের মুখ রশি দিয়ে আটকানো যায় না।” যেমন এইতো একটু আগে একজন মহিলা কথায় কথায় মুখ বেকিয়ে দুঃখ প্রকাশ করলেন – “তোমার ছেলের সাথে খারাপ হয়েছে গো।ওমন সোনার টুকরো ছেলের কপালে নাকি শেষে এমন মেয়ে পড়লো। ছিঃ ‘
মিনারা বেশি কথা বাড়ালেন না। প্রত্যুত্তর করলো –
“আল্লাহ্ তায়ালা লিখে রেখেছিলো।আর কি করার।”
তারপরই উঠে চলে গেলেন।
.
গায়েহলুদের অনুষ্ঠান শুরু হলো সন্ধ্যার আগে আগে।চারদিকে ঝুলছে হলুদ, সবুজ আর গোলাপি কাপড়ের পর্দা—হাওয়ায় দুলে তারা যেন নিজেরাও নেচে উঠছে। গাছে গাছে জ্বলছে ফেয়ারি লাইট, আর মাঝখানের মঞ্চটা ফুলে ফুলে সেজে উঠেছে—গোলাপ, রজনীগন্ধা আর কৃত্রিম আলোয় ঝলমল করছে কনের নাম লেখা কাঠের কাটআউট। তার পাশেই একই রকম সাজে আরেকটি মঞ্জ সাজানো হয়েছে।যেহুতু ঈশানি ও আরহানের বিয়ে একই বাড়িতে হচ্ছে তাই তাদের গায়ে হলুদ ও বিয়ে একই সাথে হচ্ছে।চৌধুরী বাড়ির বিস্তৃত বাগান জুড়ে যেনো খুশির ঝলকানি বয়ে যাচ্ছে।

আয়রা ও ঈশানি দুজনকেই হলুদ শাড়ি পড়িয়ে রেডি করেছে পার্লারের মহিলা।প্রথমবারের মতো শাড়ি পড়ায় সেটা সামলাতে মারাত্মক হিমসিম খাচ্ছে ঈশানি।শুধু মনে হচ্ছে এখনি খুলে যাবে আর ইজ্জতের ফালুদা হয়ে যাবে।তবুও খুব সাবধানে দুহাত শাড়ি একটু উচু করে আয়রার পিছু নিয়েছে।উদ্দেশ্যে বাগানে যাওয়া।তার হঠাৎ হয়ে যাওয়া বিয়ের গায়ে হলুদ আজ।

আরহান অত্যধিক মাত্রায় বিরক্ত।এরকম ঘটা করে গায়ে হলুদ বিয়ে কোনোটাই তার পছন্দ হচ্ছে না।বিয়ে তো হয়েই গেছে এখন এগুলোর কি দরকার? কিন্তু জাহিদ চৌধুরী কারো কথা শুনেনি।নিজের মর্জি চালিয়ে গেছে। ছোটবোনের বিয়েতে তার বিয়ে হচ্ছে ব্যাপারটা তার কাছে খুবই এম্ব্যারাসিং।কিন্তু কিচ্ছু করার নেই।বাবার জেদের কাছে পরাজিত সে।বিরক্তি ভাব নিয়েই সাদা পাঞ্জাবি পড়লো,চুল আঁচড়ে বেরিয়ে পড়লো।

আয়রা ও ঈশানিকে তাদের জায়গায় বসানো হয়েছে। আয়রা একটার পর একটা পোজ দিয়ে যাচ্ছে,ফটোগ্রাফার ছবি তুলছে।ঈশানি রোবার্টের মতন বসে আছে। দুই /একটা ছবি তুলেছে আয়রার ধমকানিতে।জাহিদ চৌধুরী মিনারা বেগম সকলেই বাগানে উপস্থিত। আরহান আসলেই গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান শুরু করবে।জাহিদ চৌধুরী ছেলের এরকম বেলাগাম থাকায় ভীষন বিরক্ত হলো।ছেলের রুমের উদ্দেশ্যে পা বাড়ালেই , আরহানকে দেখতে পেলো। আরহান বাবা মার সামনে আসলে জাহিদ চৌধুরী ঝাড়ি দিয়ে বলে –
“সময়জ্ঞান নেই তোমার?”

আরহান প্রত্যুত্তর করলো না। মিনারা বেগম সকলকে তাড়া দিলেন। আরহানকে ঈশানির পাশে বসানো হলো। আরহান আর ঈশানির মাঝে ইঞ্চি কয়েক দুরত্ব। আরহানের শরীরের লেভ্যান্ভার পারফিউমের ঘ্রাণ অনায়াসে ঈশানি পাচ্ছে।তার শরীর কেমন যেনো এক শিহরণ বয়ে গেলো শক্ত হয়ে বসে রইলো সে।
সবার প্রথম মেয়েকে গায়ে হলুদ লাগালেন মিনারা বেগম।পরপর ঈশানি এবং আরহানকেও দিয়ে সরে এলেন। একে একে সকলে ওদের গায়ে হলুদ মাখিয়ে নিজেরাই হলুদ খেলায় মেতে উঠলো। আরহানের শরীর চুলকাচ্ছে এসব হলুদ লাগিয়ে।তার এক্ষুনি গোসল করা প্রয়োজন নাহলে থাকতে পারবে না। সে উঠে দাড়ালো।রুমের উদ্দেশ্যে পা বাড়াতেই পাঞ্জাবির পিছনে টান অনুভব করলো।পিছু ফিরে দেখতে পায় ঈশানি পিঠের নিচের একটু অংশ খামচে ধরেছে। আরহান সেভাবেই বললো –
“কি হয়েছে?”

ঈশানি ভীষন হাসফাঁস করলো।এদিকওদিক চাইলো।তারপর আবার আরহানের দিকে তাকিয়ে মাথা নিচু করে কন্ঠ নামিয়ে বললো –
“আরুপুকে ডেকে দিবেন?”

আরহান ঈশানিকে পর্যবেক্ষণ করলো।মেয়েটার কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমেছে।কিছু একটা নিয়ে নার্ভাস লাগছে। আরহান চারপাশে চোখ ঘুরিয়ে ফের সুধালো –
” আয়রা তো মনে হয় রুমে চলে গেছে।কোনো সমস্যা?”

ঈশানি এপর্যায় আরো ভীত হলো।বুকটা কেমন দুরুদুরু করছে।লজ্জায় মাথা নুইয়ে ফেললো।সেভাবেই মিনমিনে স্বরে বললো –
” আসলে আমিও রুমে যাবো।কিন্তু আমার শাড়ি খুলে গেছে মনে হয়।কাউকে একটু ডেকে দিন না।”

আরহান নিজেও কিছুটা অপ্রস্তুত হলো।আশেপাশে তাকিয়ে দেখলো পরিচিত কেউ আছে কি না।বাড়ির কেউ এদিকে নেই। আর বাকি যারা আছে সকলেই হলুদ খেলায় ব্যস্ত। আরহান ঈশানিকে বললো –
“দাড়িয়ে পড়।”

ঈশানি ভ্যাবাচেকা খেয়ে যায়।চোখমুখে প্রশ্ন নিয়ে তাকায়।বোঝার চেষ্টা করছে আরহান কি বলছে।তখনি আরহান নিজের হাতে বাড়িয়ে দিয়ে আবার বলে –
“দাড়িয়ে পড়।আমি দিয়ে আসছি।আশেপাশে তেমন কেউ নেই।”

ঈশানি তাকিয়ে আছে। কি করবে বুঝতে পারছে না।তার ঘরে যাওয়া ভীষন জরুরী।এভাবে কতক্ষন ‘ই বা বসে থাকা যায়। আরহান তখনো হাত বাড়িয়ে আছে।ঈশানির কোনো হেলদোল নেই দেখে,সে হাত নামিয়ে নেয়।তারপর কিছু না বলে হাঁটা শুরু করে।ঈশানির যেনো সৎবিৎ ফিরলো।সে দ্রুত উঠে দাঁড়িয়ে কোনরকম শাড়ি হাতে নিয়ে আরহানের পিছনে ছুটলে শাড়ির সাথে আটকে পড়ে যেতে নেয়। পড়ে যাওয়া থেকে বাঁচতে হাতের সামনে যা পেয়েছিলো সেটায় আঁকড়ে ধরে না দেখে।কিন্তু শেষরক্ষা হয়না। ধপাশ শব্দ করে পরে যায় ঈশানি।মুখ থেকে বের হয় ব্যাথাতুর শব্দ।
এদিকে আরহান হঠাৎ নিজের পাঞ্জাবিতে টান অনুভব করে কিছু বুঝে উঠার তার পিঠের উপর ভারী কিছু আছড়ে পরে।হঠাৎ করে হয়ে যাওয়ায় তাল সামলাতে না পেরে আরহান ও পরে যায় মুখ থুবড়ে। আর আরহানের পিঠের উপর পড়ে থাকে ঈশানি। বাগান থেকে কিছুটা দুর চলে আসায় এদিকটায় তেমন মানুষ ছিলো না ।দু/একজন পথচারী দেখে এগিয়ে আসলো।ঈশানি আরহানকে টেনে তুললো। ঈশানি মাটিতেই বসে রয়। আরহান রাগান্বিত চোখে ঈশানির দিকে তাকায়।চোখ লাল হয়ে আছে তার।কিন্তু ঈশানির ক্রন্দনরত মুখ থেকে আর কিছু বলেনা।এগিয়ে যায় ঈশানির দিকে।সে পা ধরে কেঁদে যাচ্ছে। হাত সরিয়ে পা দেখতে যায় আরহান। ঈশানি বাধা দিতে চাইলে , আরহানের লাল চোখে চেয়ে সাহস হয় না।চুপসে যায়।
আরহান দেখে ঈশানির কানি আঙুলের নখ উঠে এসেছে। বোধ হয় কোনো ইটের সাথে লেগেছে।কপালে আঙুল ঘষে ঈশানিকে রাগান্বিত কন্ঠে বলে-
“এভাবে দৌড়ে আসার কোনো দরকার ছিলো।কি অবস্থা হয়েছো দেখেছো।”

ঈশানি ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদছে ।কিছু বলছে না। আরহান স্থির নেত্রে চাইলো।তারপর আবার গম্ভীর কন্ঠে বললো-
“হাঁটতে পারবে?”

ঈশানি কোনরকম মাথা নাড়িয়ে “হ্যাঁ ” বুঝালে, আরহান নিজের হাত বাড়িয়ে দেয়।ঈশানিকে টেনে উঠাতে নিলে সে ব্যথায় চোখ মুখ খিঁচিয়ে নেয়।মুখ থেকে আপনা আপনি বের হয়ে আসে “আহ”।পরপর’ই ঈশানি অনুভব করে তার পেলব শরীর শূন্যে ভাসছে।সে ভয়ে আরহানের বুকের কাছের পাঞ্জাবির অংশ খামচে ধরে চোখ বন্ধ করে।চোখ আস্তে করে খুললে চোখের সামনে আরহানের মুখশ্রী দেখতে পায়।বুঝতে পারে লোকটা তাকে কোলে তুলে নিয়েছে।লজ্জায় যেনো মুছড়া গেলো মেয়েটা ।হৃদপিণ্ডের গতিবিধি বাড়লো। হাত নাড়িয়ে ছটফটিয়ে বলে উঠলো –
“কি করছেন? নামিয়ে দিন।আমি হেঁটে যেতে পারবো।বাড়ি ভর্তি মানুষ কেউ দেখলে খারাপ মন্তব্য করবে।প্লীজ নামিয়ে দিন।”

আরহান স্থবির দৃষ্টি নিপাত করলো ঈশানির দিকে।তারপর ভাবলেশহীন গম্ভীর কন্ঠে বলে –
“হেঁটে যেতে পারলে আর কোলে নিতে হতো না। আর বাড়ি ভর্তি মানুষ জানে তুমি আমার বিয়ে করা বউ।”

ঈশানির হৃদপিন্ডটা যেনো মুহূর্তেই ধক করে উঠল।”বউ ” ছোট্ট একটা শব্দ অথচ কি যেনো এক অদ্ভুদ শক্তি এই শব্দটার।ঈশানি আর কিছু বলতে পারলো না।শুধু নিজের মুখ লুকাতে ব্যস্ত হয়ে পড়লো। আরহান এমনভাবে যাচ্ছে যেনো আশেপাশে কেউ নেই।এটা তার রোজকার কাজ।সে তার মতো সিঁড়ি ডিঙিয়ে সোজা নিজের ঘরে চলে গেলো।ঈশানিকে বিছানায় বসিয়ে দিলো।আলমারির ক্লোজেট খুলে সেখান থেকে ফার্স্ট এইড বক্স বের করে এনে ঈশানির পায়ের কাছে বসলো।ঈশানির পায়ে হাত দিতে নিলেই ঈশানি পা সরিয়ে নেয়।ইতস্তত করে বলে –
“কি করছেন?আপনি আমার বড় পায়ে হাত দিবেন না ,প্লীজ।”

আরহান কপাল কুচকে তাকায় ঈশানির পানে।চোখে মুখে বিরক্তভাব নিয়ে বলে –
“পায়ে হাত না দিয়ে ট্রিটমেন্ট করবো কিভাবে ,আজব?এখন তুমি আমার পেশেন্ট। তাই এসব ফালতু কথা বাদ দিয়ে পা’টা দেও।”

আরহান একপ্রকার জোর করেই ঈশানির পা এনে তার উরুতে রাখলো।ঈশানি নিজের চিবুক এনে ঠেকালো নিজের গলার কাছে। আরহান ঈশানির ক্ষত স্থানে রক্ত মুছে এন্টিসেপটিক লাগিয়ে দিতে নিলে ক্ষত স্থান জ্বলে উঠে ।সে ব্যথায় চোখ খিঁচিয়ে বন্ধ করে নিয়ে একহাতে আঁকড়ে ধরে বিছানায় চাদর,অন্যহাতে খামচে ধরে আরহানের প্রশস্থ কাঁধ। আরহান কিছু বলে না।নিজের কাজ শেষে ব্যান্ডেজ করে দেয়।তারপর ঈশানিকে আবার কোলে তুলে নেয়। উদ্দেশ্যে তাকে নিজের ঘরে রেখে আসা।এদিকে ঈশানি লজ্জায় আবারো হাসফাঁস করতে থাকে,বুকের ভেতর যেনো কেউ হাতুড়িপেটা করছে।

~চলবে

{রিয়েক্ট কমেন্ট করে যাবেন সকলে।}

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here