চূর্ণচূড়ায়_চাঁদের_পাহাড় লেখনিতে— #সৈয়দ_মারিয়াহ্_হামিদ ১১.ok

0
29

#চূর্ণচূড়ায়_চাঁদের_পাহাড়
লেখনিতে— #সৈয়দ_মারিয়াহ্_হামিদ

১১.
বাতাসের দমকা হাওয়ায় সাইরের শরীরের চাঁদর কিছুটা উন্মুক্ত হয়ে এক-টুকরো আলো বেরিয়ে পরলো। চাঁদের আলো। সাইর মুচকি হেসে বলল„ —“আমি পেয়েছি তোমার ধাঁধার উত্তর।”

—“বলো কি হবে উত্তর?”

—“চাঁদ। এর উত্তর হবে চাঁদ?”

শকুন আড়ষ্ট হলো„ —“বুঝিয়ে বলো?”

সাইর ধাঁধাটা মনে করে বলল„ —“কলঙ্কের কুলসিত রমনী‚ উঠিলে আঁধারে। কলঙ্ক নিয়া ঘুরে সবারই মাঝে। এটা হলো চাঁদ। কেননা চাঁদকে সবাই কলঙ্কের নারী বা ঐশ্বর্যী বলে। আর পরের লাইনের কখনো অর্ধ‚ কখনো বা পূর্ণ‚ কখনো আবার গোলকধাঁধার গোলাকার। যেমন চাঁদ কখনো অর্ধেক বাঁকা হয়ে উঠে আবার পূর্ণিমায় পূর্ণ গোলকধাঁধার রূপ ধারণ করে। আর চাঁদের ৮টি দশা রয়েছে।”

সঙ্গে সঙ্গে সামনে একটা সুরঙ্গ তৈরি হলো। সাইর সেই সুরঙ্গ দিয়ে শকুনের পেট থেকে বাইরে বেরিয়ে এলো। মুচকি হেসে হাতের মতিটা উচু করে ধরলো। পরপরই বলল„ —“এই যে মতি যার দ্বারা তোমার শরীরের বিশেষ অংশ আমি বাইরে এনেছি যেটা অপরিবর্তিত যা বাইরের জগতে সাথে সাদৃশ্য।”

হাত উঁচিয়ে তালুতে মতিটা রেখে বলল„ —“এই যে মায়াবী মতি। যার জন্য তোমার পেটে খাদ্যস্থল নয় বরং বন-জঙ্গলে পরিপূর্ণ ছিল যা বাইরের জগতের সাথে সাদৃশ্য।”

সাইরের হাত থেকে সঙ্গে সঙ্গে মতিটা উধাও হয়ে গেলো। শকুন ডানা ঝাপটে বলল„ —“যাও তোমার ভালোবাসার মাঝে অনেক জোর আছে। এখন তুমি এই গাছের পাতা নিতে পারো।”

সাইর খুশি মনে ভেসচ গাছের তিনটে পাতা ছিঁড়ে নিলো। পাতাটা নিজের কাছে রেখে শূন্যে দু-হাত তুলে আবারও ঈগলের রূপ নিলো। শকুনের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে পারি দিলো নীলপলাশ পাহাড়ের দিকে। হেম নদী পেরিয়ে মস্ত বড় একটা নীলপলাশ পাহাড় রয়েছে। সেখানে বাবলা গাছের ছাল পাওয়া যাবে। সেটা পেলেই তুলিকে সুস্থ করার দ্বিতীয় উপায় পাওয়া যাবে। সূর্য উঠার আগেই সবকিছু জোগাড় করতে হবে তাকে। উদ্দেশ্য নিয়ে উড়াল দিলো সাইর।

অন্ধকার কাল-কুঠুরিতে বন্দি আছে জমিদার মমিনুর আর অর্কা। সাইরের মায়াজাল থেকে তারা বের হতে ব্যর্থ। জমিদার ঠাই মাটিতে বসে আছে। তার শক্তি এখন তার নিয়ন্ত্রণে নেই। রাগের বসে তার সর্বশক্তি দিয়ে সাইরকে তীর মেরেছিল। যেটা ছিল তার শক্তির মারণাস্ত্র। আর সাইর সেই শক্তিতে নিজের করে নিয়েছে। আগামীকাল চাঁদ না দেখা পর্যন্ত তার শক্তি কাজ করবে না। অর্কা রাগে ক্রোধে ফেটে পরল„ —“মেয়েটাকে কোথায় পেয়েছিলে জমিদার।”

জমিদার তাকালো ধোঁয়ার কুন্ডলীর দিকে। বিগত ১১বছর হলো কোনো দিন সেই ধোঁয়ার কুন্ডলী থেকে কাউকে বেরিয়ে আসতে দেখি নি সে। শুধু আওয়াজই বেরিয়ে আসে। সে অকপটে জবাব দিলো„ —“আমার বাড়ির কামলার সাথে এসেছিল।”

অর্কা আদেশের স্বরে বলল„ —“তারা কোথায়?”

জমিদার শুকনো ঠোক গিলল। সেদিন সাইর তুলিকে নিয়ে বেরিয়ে যেতেই জমিদার রেগে মেগে আজাদের কাছে গেলো। আজাদ বাইরে বাগান পরিষ্কার করছিল। সাবিনা রান্নাঘরে উনুন জ্বালিয়েছে। সাইর যে তুলিকে নিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে তা সবাই জানে এমনকি আজাদ আর সাবিনাও। কিন্তু সাজাদের বিয়ের দিন বিধায় কেউ কিছু বলেনি তাদের। বিয়ে শেষে যখন সাইরকে নিতে গিয়েছিলো জমিদার তখন সাইর আসে নি। রাগে ক্ষোভে মতিকে জানায় জমিদার যাতে আজাদ আর সাবিনাকে কুঠুরিতে নিয়ে যাওয়া হয়। ততক্ষণে আজাদ আর সাবিনা বাড়ি চলে গেছে। মতি তাদের দুজনকে নিয়ে কুঠুরিতে এসেছে প্রায় ঘন্টা খানেক আগে কিন্তু জমিদার আসে নি। তারা বাড়ি ফিরার জন্য উদ্যোগ হতেই জমিদার চৌকাঠে পা রাখলো। মুহুর্তেই আজাদ আর সাবিনা দৌড়ে গিয়ে জমিদারের পা জড়িয়ে কাঁদতে লাগলো। কিন্তু জমিদার তাদের কান্না শুনেনি। তারা হাত জোড় করে তাদের প্রাণ ভিক্ষা চেয়েছিল। বারবার বলেছিল তুলির সাথে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। তাকে কুড়িয়ে পেয়েছে তারা দুজন। কিন্তু জমিদার তাদের কথা অগ্রাহ্য করে আজাদের পেটে ছুরি ঢুকিয়ে দিলো। রক্তের বন্যা বইয়ে গেলো কুঠুরির মেঝেতে। রক্তাক্ত দেহ নিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পরলো আজাদ। সাবিনা তার উঁরুতে আজাদের মাথা নিয়ে পাগলের মতো চিৎকার করতে করতে কাঁদতে লাগলো। ছুরি ফেলে মতিকে আদেশ করলো জমিদার„ —“আজাদের মৃত দেহ নদীর ধারে পুতে দিবি যাতে কেউ কিছু জানতে না পারে। আর সাবুকে কোনো এক গভীর জঙ্গলে ছেড়ে দিয়ে আসবি যেখানে হিংস্র’ জানো’য়ারেরা বসবাস করে‚ তাকে ছিড়ে খেয়ে নেয়।”

চলে গেলো জমিদার মতি তার কর্তব্য পালনের জন্য লাথি মেরে সাবিনাকে দূরে সরিয়ে দিলো। স্বামীর মৃত দেহ চোখের সামনে থেকে উঠিয়ে নিয়ে যেতে দেখে উন্মাদের মতো কাঁদছে সাবিনা। আজাদের মস্ত বড় দেহটাকে কাঁধে উঠালো মতি। কুঠুরি থেকে বেরিয়ে পরলো নদীর কিনারার দিকে। সাবিনা দৌড়ে গিয়ে মতির পা জড়িয়ে মাটিতে শুয়ে পরলো। মতি সামনে পা টানছে কিন্তু সাবিনার জন্য যেতে পারছে না। পা দিয়ে বার কয়েক লাথি মারলো সাবিনাকে কিন্তু সে পা ছাড়ছে না। আজাদের মৃত দেহটা মাটিতে রেখে এদিক সেদিকে একটা ইট খুঁজে পেলো সে। সেই ইট’টা হাতে তুলে সাবিনার মাথায় আঘাত করলো। মাথা ফেটে রক্ত পরতে লাগলো সাবিনার। মতির পা ছেড়ে দুই হাতে মাথা চেপে কাতরাতে লাগলো সাবিনা। সাবিনার চিৎকারের মাঝ রাতেই মুহুর্তেই লোকজনের সমাগম তৈরি হলো। পরিস্থিতি হাতের বাইরে যেতে দেখে আজাদের মৃত দেহটা কাঁধে তুলে সেখান থেকে পালিয়ে গেলো মতি।

—“আমি তোকে কিছু প্রশ্ন করেছি জমিদার?”

অর্কা’র ধমকে হকচকিয়ে গেল জমিদার মমিনুর। সামনে তাকিয়ে উত্তর দিলো„ —“মেরে দিয়েছি দু’টোকে।”

অর্কা রেগে একটা আগুনের গোলা ছুড়লো জমিদারের দিকে। কিন্তু খাঁচায় প্রতিধ্বনি হয়ে সেই গোলা এসে বিস্ফোরণ ঘটলো অর্কা’র খাঁচায়। ধোঁয়ায় ভরে গেলো খাঁচা। রেগেমেগে বলল„ —“মূর্খ মানব। জানিস তুই? তুই কি করেছিস? যদি তাদের বাঁচিয়ে রাখতি তাহলে মেয়েটাকে নিজের আয়ত্তে আনতে পারতি? আর তুই?”

জমিদার তার রাগ সঞ্চয় করে বলল„ —“নেমক’ হারামদের আমি দু’চোখে সহ্য করতে পারি না। তাই মেরে ফেলেছি দুজনকেই।”

অর্কা নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করলো। বেশি রাগ শরীরের জন্য ক্ষতিকর। ধোঁয়া চলে যেতেই সে স্পষ্ট হলো„ —“তুই বাড়ি ফিরবি। আর সাইরের সামনে এমন অভিনয় করবি যাতে তোর সকল শক্তি তুই হারিয়ে ফেলেছিস?”

জমিদার বলল„ —“সাইরকে দেখলে আমি নিজেকে সামলাতে পারি না। ক্রোধে ফেটে পরি। মন বলে দ্রুত গিয়ে ঘাড়টা মটকে দিই।”

কুন্ডলী থেকে উচ্চ স্বরে হাসির শব্দ এলো অর্কা’র„ —“সাইরের শক্তির সম্পর্কে তোর কিচ্ছু জানা নেই জমিদার। ওকে শক্তি দিয়েছি আমি। সে এখন আমার থেকেও বেশি শক্তিশালী। তবে ও আমার থেকে বাঁচতে পারবে না।”

উড়তে উড়তে হেম নদী পারি দিলো সাইর। উঁচুতে গিয়ে একটা বটগাছের নিচে দাড়ালো মনুষ্য রূপে। সামনে তাকাতেই বাবলার গাছ চোখে পরল তার। এগিয়ে গিয়ে বাবলার গাছে হাতে দিতেই কেউ পেঁচিয়ে ধরলো সাইরকে। সাইর নড়াচড়া করতে পারছে না। তাকিয়ে দেখলো শেওলা গাছের লতা-পাতাগুলো তাকে পেঁচিয়ে ধরছে অনবরত। সে চাইলেও নিজেকে ছাড়াতে পারছে না সেখান থেকে। পুরো শরীর পেঁচিয়ে ধরেছে লতা-পাতা। ব্যাথাতুর শরীরে লতা-পাতারা আরও ব্যাথা দিতে সক্ষম হলো। শরীরের সকল শক্তি নিস্তেজ হয়ে পরলো। সাইর চিৎকার করল„ —“থামো। কে আছো এখানে? সামনে এসো বলছি? ভীতু কাপুরুষের মতো লুকিয়ে আক্রমণ করছো কেন? সামনে এলো বলছি?”

অট্ট হাসিতে ফেলে পরলো গুল্মলতারা। তাদের আড়াল থেকে কালো কুচকুচে একটা মহিলা বেরিয়ে এলো। মহিলা বললেও ভুল হবে বলতে গেলে পেত্নী। মুখমণ্ডলে শুধু দু’টো চোখ আর চকচকে দাঁতগুলোই দেখা যাচ্ছে। সাইর চিৎকার করলো„ —“কে তুমি? আমাকে এভাবে বেঁধেছো কেন?”

একহাতে লতার ডাল নিয়ে সাইরের চারপাশে ঘুরতে লাগলো মহিলাটি। বলল„ —“আমি কৌশলী। এই বাবলা গাছের রক্ষক। তুমি জানো? তুমি কোথায় এসেছো?”

সাইর মাথা নাড়াল„ —“হ্যাঁ জানি। মর্ণ গুহাড় উল্টো পথে।”

কৌশলী তার সাদা দাঁতগুলো বের করে উচ্চ স্বরে হাসলো„ —“মরতে এসেছে তাহলে?”

সাইর ব্যাথায় চোখ মুখ খিঁচলো„ —“আমি মরতে আসিনি। বাঁচাতে এসেছি।”

কৌশলী ভ্রু-জোড়া কুঁচকে বলল„ —“কাকে বাঁচাতে এসেছো? এখানে তো কেউ নেই?”

সাইর সামনে তাকালো„ —“আমার ভালোবাসাকে বাঁচাতে এসেছি। যদি আজ‚ এই মুহুর্তে আমি বাবলা গাছের ছাল নিয়ে যেতে না পারি তাহলে আমার তুলির মৃত্যু হবে। আর আমি ভালোবাসাহীনতায় ধুঁকে ধুঁকে মরবো।”

কৌশলী মুচকি হাসলো„ —“আমি এমনি এমনি তোমাকে ছাল দেবো না বাছা। তোমাকে আমার কিছু কাজ করতে হবে।”

সাইর জিজ্ঞেস করল„ —“কি কাজ?”

কৌশলী হাত উচিয়ে ঐ পাহাড়ের মর্ণ গুহা দেখিয়ে দিয়ে বলল„ —“ঐ মর্ণ গুহাড় রাক্ষসটাকে মেরে কর্ণফুলী আনতে হবে আমার জন্য তাহলেই আমি তোমাকে বাবলা গাছের ছাল দিতে পারি।”

সাইর মাথা নেড়ে সম্মতি দিলো„ —“আমি আসছি।”

—“দাড়াও।”

থেমে গেলো সাইর। পেছন ফিরে তাকালো কৌশলীর দিকে সে একটা লাঠি সাইরের হাতে দিয়ে বলল„ —“এই লাঠির একটা ছোঁয়ায় রাক্ষস মরে যাবে। তবে মনে রেখো রাক্ষসের মাথায় ছোঁয়াতে হবে লাঠি আর এটি মাত্র একবার কাজ করবে। সুতরাং তোমাকে বুঝে শুনে কাজ করতে হবে।”

কৌশলী ছুঁয়ে দিলো সাইরের হাত। সঙ্গে সঙ্গে শরীরে যত জীর্ণশীর্ণ ব্যাথা ছিল সব গায়েব হয়ে গেলো সাইরের। কোমড় সোজা করে জোড়ে একটা নিঃশ্বাস ফেললো। বড় বড় পা ফেলে সামনে এগিয়ে গেলো মর্ণ গুহাড় দিকে।

জমিদার বাড়িতে বেশ হুলুস্থুল বেঁধে গেছে। সাইরের ঘরের দরজা-জালানা ভাঙা পরে আছে। জমিদার যখন বাইরে থেকে সাইরকে আঁটকে রেখেছিল তখন সাইর উম্মাদের মতো আচরণ করতে শুরু করেছিল। ঘরের সব আসবাবপত্র এদিকে সেদিকে ছুঁড়ে মারতে লাগলো। রাগে চোয়ালদ্বয় শক্ত করল। তার জন্য তুলির কোনো ক্ষতি হবে না তো? রেগে মেগে জোড়ে দরজায় লাঠি মারলো সাইর। কপাটের দুই তল্লা খুলে পরে গেলো দুই দিকে। সাইর বাইরে পা রাখতেই ঝালের গুড়া গুলো বাতাসের সাথে উড়তে শুরু করলো। সাইর ঝালের গুড়া সহ্য করতে পারছে না ঘরে ফিরলো আবারও৷ জালানার কাছে গিয়ে দ্রুত ছিটকি খুলল কিন্তু জালানা বাইরে থেকে লাগানো। দোতলার জালানা বাইরে থেকে লাগানো বিষয়টা বেশ অদ্ভুত। সাইর একটা হাতল দিয়ে জালানায় বারি দিলো। জালানা খুলে যেতে জমিদার দৌড়ে সাইরের ঘরে এলো। ঝালের গুড়াগুলো আরও বেশি তেজ নিয়ে উড়তে লাগলো। জমিদার সাইরের হাত চেপে ধরেছে কিছুতেই তাকে যেতে দিবে না। সাইর অনেক চেষ্টা করলো তার বাবার থেকে বাঁচতে কিন্তু কোনো লাভ হলো না। শেষে কালো জাদুর শক্তি নিয়ে ঝড়ের তৈরি হলো। ঝালের গুড়া গুলো জমিদারের চোখে মুখে উপচে পরলো। সাইরকে ছেড়ে দুই হাতে চোখ-মুখ চেপে ধরলো জমিদার। ঝড়ের তীব্যতায় কিছুই দেখতে পেলো না জমিদার। ঝড় থামতেই জালানা দিয়ে দেখতে পেলে ঈগল রূপে সাইর উড়াল দিয়ে চলে গেলো।

পারুলের বাড়ির পেছনে ঝোপের আড়ালে গিয়ে ঈগল থেকে মনুষ্য রূপ ধারণ করলো সাইর। হাতের কড়িগুলো গুনতে গুনতে পারুলের বাড়িতে গেলো। জোড়ে জোড়ে ডাকলো„ —“বাড়িতে আছেন?”

পারুল সবেই রান্না শেষ করে বারান্দার উঠোনে মধুকে নিয়ে ফুরসত করছে। সাইরকে দেখে এগিয়ে এলো„ —“হ বাপু কও কি কইবা?”

সাইর বাকি কড়ি পারুলের হাতে দিয়ে বলল„ —“আপনার পাওনা কড়ি পরিশোধ করলাম। এখন আমাকে মধুকে নিয়ে যেতে দিন।”

বাকি পরিশোধ হতেই পারুল আনন্দে আত্মহারা হলো। মধুকে সাইরের হাতে তুলে গিয়ে গটগট করে ঘরের ভেতরে চলে গেলো। মধুকে যখন মাধুরীদের বাড়িতে দেখতে পেয়েছিল পারুল তখনই ধরে এনে সারাদিন বারান্দায় বেঁধে রেখেছিল মধুকে। সারাদিনে কিচ্ছু খায় নি মধু শুধি ম্যাঁ ম্যাঁ করে কান ঝালাপালা করে দিয়েছে পারুলের। তবুও পারুল মধুকে কোথাও যেতে দেয় নি। মধুও রাগ করে কিছুই খায় নি। সাইরকে পেয়ে সে খুশি হয়ে তার সাথে পাহাড়ের চূড়ায় গেলো। ঠিক তখনই অর্কা তুলির গলা চেপে ধরে ছিল।

দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে মর্ণ গুহাড় সামনে দাড়ালো সাইর। মাথা উঁচিয়ে উঁকি দিতেই একটা বিশ্রী গন্ধ নাকে এলো। দুই পা সামনে দিতেই বড় একটা রাক্ষস দেখতে পেলো সে। রাক্ষসের সামনেই কর্ণফুলী আছে। সাইর দ্বিধাদ্বন্দে পরে গেলো। ফুল আনতে গিয়ে যদি রাক্ষস দেখে ফেলে তখন কি করবে সে? যদি রাক্ষসকে মারতে না পারে তখন?

সৈয়দ মারিয়াহ্ হামিদ 🕊️

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here