চূর্ণচূড়ায়_চাঁদের_পাহাড় লেখনিতে— #সৈয়দ_মারিয়াহ্_হামিদ ১২.

0
24

#চূর্ণচূড়ায়_চাঁদের_পাহাড়
লেখনিতে— #সৈয়দ_মারিয়াহ্_হামিদ

১২.
মাঝরাত পেরিয়ে গেলো তবুও জমিদার তার বাড়িতে ফিরে নি। এই নিয়ে বেশ চিন্তিত জমিদার গিন্নী। রীতিমতো উঠোনে পায়চারি করছেন তিনি। সাজাদকে কয়েকবার বলেছিল তার বাবার কথা কিন্তু সে কিছুই জানে না। রাতের খাবার খেয়ে নিজের ঘরে গেছে সাজাদ আর সহিনী। আজ সহিনীর ওপরে অনেক ধকল গেছে। সারাদিনে গ্রামের সকল লোকজন এটা-সেটা প্রশ্নের উত্তর আর কাজের বর্ণনা দিতে দিতেই সে হাঁপিয়ে গেছে। তবে একটা কথা তার কাছে লজ্জাজনক লেগেছে। একে একে যখন লোকেরা বলছিল„ —“তা বৌউ রান্ধন পারো নি? জমিদার বাড়িতে কত্ত কাম? কাম করতে পারো নি?”

সহিনী মাথা নিচু করে জবাব দিয়েছিল„ —“জ্বি। রান্না পারি না। বাকি কাজ মোটামুটি পারি।”

মাঝখানের একজন বলেছিল„ —“জমিদার বাড়িতে তো কত্ত কাম তোমারে তো কাম শিইখা আসতে হইতো মা? নইলো ভাতও খুটবো না জমিদার বাড়িতে।”

সহিনীর মুখটা ফেঁকাসে হয়ে এলো। পারিবারিক বিয়েতে সে কখনোই রাজি হতে চেয়েছিল না। সে চেয়েছিল কোনো একজন ছেলেকে সে নিজে দেখে পছন্দ করবে। নিজের মতো করে তার সাথে সময় কাটাবে তারপর বিয়ে নিয়ে ভাববে। কিন্তু তার বাবা রঞ্জু মোল্লা হার্ডের রোগী। কোনো প্রেসার তাকে দেওয়া যাবে না। তাছাড়া সে যেদিন সাজাদকে দেখেছিল তার বেশ ভালোই লেগেছিল সাজাদকে। তাই বাবার কাছে আর না করেনি সে। কিন্তু যদি তাকে এখানেই থাকতে হয় দিনের পর দিন‚ মাসের পর মাস‚ বছরের পর বছর তাহলে তার জীবন বৃথা। সে কাজে ততটাও পারদর্শী নয়। তার বাড়িতে সব কাজ তার মা রুজিনা করে থাকে। কিন্তু জমিদার বাড়িতে যেমন লোকজন বেশি তেমনি কাজও বেশি। শোঁকনো ঢোক গিলল সহিনী। তৎক্ষনাৎ জমিদার গিন্নী এসে তাদের উদ্দেশ্যে জবাব দিয়েছিলো„ —“ছেলের-বউ আমার। কিছু না শিখলে আমি শিখাই দিবো। একদিনে সবাই বড় হয় না। তেমনি সব কাজে জেনেও কোনো মেয়ে শ্বশুড় বাড়িতে আসে না।”

জমিদার গিন্নীর কথা শুনে সহিনী অনেকটা ভরসা পেয়েছিল। মুহুর্তেই সব দ্বিধা-দ্বন্দ্ব পেরিয়ে জড়িয়ে ধরেছিল জমিদার গিন্নীকে। তার মনে হয়েছিল এক মায়ের কাছ থেকে সে অন্য মায়ের কাছে এসেছে। এক বাড়ি থেকে অন্য বাড়িতে এসেছে। নতুন বাড়ি নতুন লোকজন বেশ ভালোই লাগছিল তার কাছে। কত-শত আয়োজন, কত-শত পরিচয়। সব কিছু একেবারে মন ভালো করে দেওয়ার মতো। সব কথার উপকৃতি ঘটিয়ে আড়মোড়া দিতেই সাজাদ ঘরে এলো। খট করে দরজা লাগার শব্দে সহিনী তাকালো সেদিকে। কালো রঙের ফতুয়া আর সাদা রঙের ঢিলে-ঢালা টাইজার পরে ঘরে এলো সাজাদ। দিনের কথায় মনে করে সাজাদের কোনো খবর রাখেনি সে। কত-শত লোকের ভীড়ে তার তো সাজাদের মনে পরে নি। এত এত লোকজনের ভীড়ে স্বামী নামক পুরুষকে মনে করেনি সে। কিছুটা লজ্জিত হলো সহিনী। মাথা নুইয়ে জিজ্ঞেস করল„ —“প্রথমেই ক্ষমা চেয়ে নিই যেহেতু সারাদিন তোমার কোনো খোঁজই রাখি নি আমি। তুমি চাইলে শাস্তিও দিতে পারো।”

সাজাদ হাসলো। চৌকিতে এসে সহিনীর পাশে বসলো। বলল„ —“শাস্তি তো তোমাকে দেবোই আমি।”

সহিনী মলিন মুখে তাকালো সাজাদের দিকে„ —“সত্যি আমাকে শাস্তি দেবে তুমি?”

সাজাদ হাসলো। সহিনীকে তার বুকে টেনে কপালের ছোট ছোট চুলগুলো কানের পীঠে গুঁজে দিয়ে বলল„ —“অবশ্যই দেবো। ভুল করলে শাস্তি তো পেতেই হবে।”

সহিনী সাজাদের বুকে মাথা রাখলো„ —“তা আমার শাস্তিটা কি শুনি?”

—“তোমার শাস্তি হবে নিদ্রাহীন রাত আমার সাথে কাটানোর।”

সহিনী আড়ষ্ট হলো সাজাদের বুকে। আঙুল দিকে সাজাদের ফতুয়ার বোতাম খুলতে খুলতে বলল„ —“সারাদিনে খেয়েছো?”

সাজাদ চকিতে তাকালো„ —“খেয়েছি। তুমি খেয়েছো?”

সহিনী মাথা নাড়াল„ —“হুম।”

সাইর চিন্তিত ভঙ্গিতে শুধাল„ —“জানো সহিনী? মাঝ রাত হলো বাবা বাড়িতে ফেরেনি? জানি না কোথায় গিয়েছে? মাও খুব চিন্তিত?”

সহিনী কিছু একটা ভাবলো। পরপরই সাজাদের বুক থেকে মাথা তুলে বলল„ —“চিন্তা করো না। বাবা ঠিক ফিরে আসবে দেখে নিও। তবে আমার মনে একটা প্রশ্ন আছে?”

সাজাদ ভ্রু উঁচিয়ে বলল„ —“কি প্রশ্ন?”

সহিনী সাজাদের চোখের দিকে তাকালো„ —“এ বাড়িতে আসার পর থেকে তোমার ভাইকে দেখছি না? কোথায় আছে ও?”

সাজাদ হকচকিয়ে গেলো। নিজেকে সামলে নিয়ে বলল„ —“শহরে গেছে কিছু কাজের জন্য। খুব তাড়াতাড়ি ফিরবে দেখে নিও।”

সহিনী সম্মতি জানালো। সাজাদ নিজের জড়তাকে সরিয়ে নিলো। দুই হাতে সহিনীর গাল চেপে বলল„ —“তুমি ঘুমিয়ে পরো। অনেক রাত হয়েছে।”

সহিনী গম্ভীর গলায় বলল„ —“আর তুমি?”

সাজাদ হাসলো„ —“আমিও ঘুমাবো। তোমার পাশে।”

সহিনী আর কথা বাড়ালো না। সাজাদের কাছাকাছি এসে নিজেকে আবৃত্ত করলো নিজেকে। স্বামী নামক পুরুষের জন্য এক মায়া কেন হয় তার। এর আগে তো কোনো পরিচয় ছিল না তাদের। দুই দিনের মাঝেই এতটা গভীরতা দেখা দিয়েছে যেন জন্মজন্মান্তরের পরিচয় তাদের। আসলেই কবুলের কত শক্তি। যে মানুষটাকে আমরা চিনতামই না‚ কখনো দেখিও নি যদি তার সাথে আল্লাহর কালেমা পরে লোকজনের স্বাক্ষী রেখে কবুল পড়ে বিয়ে করা হয় তাহলে মহান আল্লাহ আরশে-আযীম থেকে ভালোবাসা সৃষ্টি করে দেন। সকল দ্বিধাদ্বন্দ্ব পেরিয়ে স্বামীকে নিজের বুকে জড়িয়ে ঘুমিয়ে পরলো সহিনী।

পরিবারের সকল সদস্যরা ঘুমে অচেতন অথচ জমিদার গিন্নী এখনো উঠোনে তার স্বামীর জন্য অপেক্ষা করছে। গভীর রাত হলো তবুও জমিদার বাড়ি ফিরলো না। আগে তো কখনো এমন করেন নি তিনি। তাহলে আজকে কি এমন হলো যে বাড়ি ফিরতে দেরি হচ্ছে তার। বিরক্ত নিয়ে উঠোন ছেড়ে ঘরে গেলো জমিদার গিন্নী। বাড়ি ফিরলে আচ্ছা মতো বকে দিবে বলে মনস্থ করলো জমিদার গিন্নী।

চাঁন্দের দ্বিপ্রহর পেরিয়ে গেছে। অর্কা আবারও জমিদারের পাশের খাঁচায় উপস্থিত হলো। সে অদৃশ্য হয়ে থাকলেও সাইরের মায়াবী জাদুর থেকে পালাতে পারবে না। কেননা তার সব শক্তি সাইরের কাছে বিরাজমান। সে চাইলেও এ খাঁচা থেকে পালাতে পারবে না। যতক্ষণ পর্যন্ত না বাইরে থেকে কেউ সাহায্য করছে। জমিদার চোখ ভড়া ঘুম নিয়ে খাঁচার মধ্যেই ঝিমোচ্ছে। অর্কা গম্ভীর গলায় ডাকলো„ —“জমিদার?”

জমিদার হকচকিয়ে গেলো। সামনে তাকিয়ে বলল„ —“কি হয়েছে ডাকলে কেন? শান্তিতে একটু ঘুমতেও দিবে না নাকি?”

অর্কা জানালো„ —“তোমার ছেলে মৃত প্রায়। এবার তুমি শান্তিতে ঘুমিয়ে পরো।”

জমিদার ধরফরিয়ে উঠে বসলো„ —“কোথায়? সাইর কি সত্যি মরে গেছে?”

অর্কা তার নিজ শক্তির দ্বারা মায়াবী আয়না তৈরি করলো। আয়নার মাঝে সাইরকে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। তার সামনে রাক্ষস। রাক্ষস বললে ভুল হবে কেননা একটা হিংস্র দানব দাড়িয়ে আছে সাইরেন সামনে। সরু মাথার মাঝখানে একটা বড় চোখ। হাতে রাম-দা। উঁচু পেটে থাঁক নেমেছে তিনটে। শ্যাওলা রঙের দেহটা একটু বেশি কুৎসিত। সাইর তার সামনে রক্তাক্ত অবস্থায় পরে আছে। সাইর রাক্ষসের ঘুমের সুযোগ নিয়ে কর্ণফুলী নিতে গিয়েছিলো কিন্তু সেই পাত্রে হাত দেওয়া আগেই রাক্ষস জেগে উঠেছে। রামদা দিয়ে সাইরের পিঠে কোপ দিতেই সে মাটিতে লুটিয়ে পরেছে। জমিদার সাইরের এমন দৃশ দেখে খুশিতে আত্মাহারা হলো। আয়না অদৃশ্য হতেই উচ্চ স্বরে হাসির আওয়াজ এলো অর্কা’র।

রক্তাক্ত শরীর নিয়ে মাটিতে পরে আছে সাইর। তার সামনে কর্ণফুলী রাখা পাত্র। হাত বাড়িয়ে ছুঁতে গিয়েও ছুঁতে পারছে না সে। রাক্ষসটা আবারও সামনে এলো তার। রক্ত দেখে সে হিতাহিত জ্ঞান শূন্য হয়ে পরে রাক্ষস। রাম-দা ফেলে দিয়ে সাইরের রক্ত পান করতে নিচে ঝুঁকে বসলো। রক্তের ক্ষুধায় যখন সাইরের রক্ত পানতে করতে যাবে তখনই নিজের সর্বস্ব শক্তি দিয়ে কৌশলীর দেওয়া সেই লাঠিটা রাক্ষসের মাথায় ছোঁয়ালো সাইর৷ এমনি রাক্ষস মৃত্যুর যন্ত্রণায় কাতর হয়ে পরলো। মাটিতে পরে হাত পা ছড়িয়ে ছিটিয়ে কাতরাতে লাগলো। মুহুর্তেই আগুনে ভস্ম হয়ে পুড়ে গেলো রাক্ষস। সাইরেরও ধীরে ধীরে রাক্ষসের থেকে পাওয়া আঘাতের ক্ষত সেরে গেলো। উঠে দাড়ালো সে। সামনে কর্ণফুলীর পাত্রটা নিয়ে চলে গেলো নীলপলাশ পাহাড়ে।

কৌশলী এতক্ষণ সাইরের জন্য অপেক্ষা করছিল। সে জানে এ যাবৎ পর্যন্ত যারা ঐ গুহাড় পৌঁছেছে তারা আর কেউ ফিরেনি। সবাই রাক্ষসের পেটে চলে গেছে। কিন্তু সাইরকে ফিরতে দেখে সে সবকিছু ভুলে গেলো। সাইর কৌশলীর কাছে এসে পাত্রটা এগিয়ে দিলো„ —“নাও তোমার পাত্র। এবার আমাকে বাবলার ছাল দাও?”

কৌশলী সাইরের থেকে পাত্রটা নিয়ে এক নিঃশ্বাসে ফুলের রস পান করলো। মুহুর্তেই কালো চেহারা বদলে সুন্দর রমনীতে পরিবর্তন হলো কৌশলী। সাদা ফর্সা চেহারায় সাদা রঙের গাউনে বেশ লাগছে তাকে। নজরকারা সৌন্দর্যের রূপে তৈরি কৌশলী। সাইর অকপটে জিজ্ঞেস করল„ —“আসলে কে তুমি?”

কৌশলী উত্তর দিলো„ —“আমি পরী।”

সাইর আর কোনো কথা বাড়ালো না„ —“আমাকে বাবলার ছাল দিন। আমাকে ফিরতে হবে। আমার ভালোবাসার মানুষ অসুস্থ। তাকে যে করেই হোক বাঁচাতে হবে আমার।”

কৌশলী বাবলার গাছ থেকে খানিক ছাল তুলে এনে হাতে ধরিয়ে দিলো সাইরের। সাইর ফিরতে নিলেই কৌশলী বাঁধা দিলো„ —“আমিও যাবো তোমার সাথে?”

—“কিন্তু কেন? তুমি পরী আর তোমার উচিত মানুষদের থেকে দূরে থাকার?”

কৌশলী মাথা নিচু করলো„ —“আমি পরী হতে পারি তবে কি তোমার ভালোবাসার মানুষটিকে দেখার সৌভাগ্য আমার নেই?”

সাইর চাঁদের দিকে তাকালো। তার কাছে আর বেশি সময় নেই। ছোট করে উত্তর দিলো„ —“চলুন।”

কৌশলী তার জাদু দিয়ে একটা মাদুর হাজির করলো। তারপর দুইজনে মিলে একটা মাদুরে বসলো। কৌশলী ইশারা করতেই মাদুর আকাশ পথে উড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে তাদের। সাইর বিড়ম্বনা করল„ —“আমাকে ধান-শীষার শেঁকড় নিতে হবে।”

মাদুর উড়তে উড়তে একটা শাল বনে গিয়ে থামলো। কৌশলী সাইরকে নিয়ে বনের ভেতরে গেলো। কৌশলী আগে আগে যাচ্ছে সাইর তাকে অনুসরণ করছে। কিছুদূর গিয়ে ছোট্ট ছোট ধান-শীষার গাছ দেখতে পেলো কৌশলী। হাত বাড়িয়ে ইশারায় দেখিয়ে দিলো সাইরকে। বলল„ —“ঐ যে তোমার গন্তব্য।”

সাইর দৌড়ে গিয়ে একটানে ধান-শীষার গাছটা তুলে নিলো৷ মুহুর্তে চারপাশ থেকে বিচ্ছু এগিয়ে এলো। চারপাশে থেকে ঘীরে ধরলো সাইরকে। কৌশলী ভরকে গেলো। উত্তেজিত কন্ঠে বলল„ —“তুমি দাঁড়াও নড়চড়া করো না। আমি দেখছি।”

একটা বিচ্ছু সাইরের পায়ের বুড়ো আঙুলে কামড় দিতেই ব্যাথায় তুলির নাম নিয়ে চিৎকার করল„ —“তুলিিিিিিিিি।”

সাইর নিজেকে বাঁচানোর জন্য বিচ্ছু গুলোকে পা দিয়ে পীষে দিতে লাগলো। এতে যেনো আরও বিচ্ছুর সংখ্যা বাড়তে লাগলো। আরেকটা বিচ্ছু এসে সাইরের পায়ের টাকনুতে কামড় দিতেই আর্তনাদ করে উঠলো সাইর। সাইরের আতর্নাদ শুনে ধরফরিয়ে উঠলো কৌশলী। জাদু দিয়ে রূপ’র লাঠি আনলো হাতে। সেই লাঠির সাহায্যে সাইরকে বাঁচাতে লাগলো বিচ্ছুগুলোর থেকে।

লাঠির আলো বিচ্ছুদের উপর পরতেই তারা পুড়ে ছাই হয়ে গেলো। কয়েক মুহুর্তের মাঝে সফল হলো কৌশলী। কিন্তু সাইরের পায়ের আঙুল আর টাকনু থেকে অনবরত রক্ত ঝড়ছে। হন্তদন্ত হয়ে কাছে এলো কৌশলী। নিজের গাউনের একপাশে ছিঁড়ে নিজ হাতে সাইরের পায়ের ক্ষতস্থান বেঁধে দিলো সে। তারপর মাদুরে করে চলে এলো চূর্ণচূড়া পাহাড়ে। মাদুর থেকে নেমে জাদুর শক্তিতে তুলিকে রাখা অদৃশ্য সেই খুপরি আবারও স্পষ্ট করলো সাইর। দরজার কপাট খুলে দ্রুত ভেতরে গেলো সাইর। তার পেছনে পেছনে কৌশলীও গেলো। তুলির শরীর নীল হয়ে গেছে। মধু তুলির শিয়রের পাশে বসে আছে। সাইরকে আসতে দেখেই এগিয়ে এলো তার কাছে। অনেকক্ষণ কেঁদেছে মধু। চোখের লোমকূপ দিয়ে বন্যা বইয়ে দিয়েছে সে তা তাকে দেখেই বুঝা যাচ্ছে। সাইর মধুর মাথায় হাত বুলিয়ে বলল„ —“তুই কিছু খেয়ে নে। সারাদিন তো কিছু খাস নি?”

মধু দুই শিং দিয়ে সাইরের হাত ঘষলো। বলল„ —“তুলিকে দেখ আগে। ও ভালো হবে তো।”

সাইর আশ্বাস দিলো„ —“সব ঠিক হবে।”

ভেসচ গাছের পাতা‚ বাবলার ছাল আর ধান-শীষার শেঁকড় একত্র করে দাবাই বানালো সাইর। কৌশলী সাইরের বিষন্নতা দেখে মুগ্ধ হলো। সে নিজে তুলির জন্য সব কাজই করছে। ক্ষতস্থানে ধীরে-সুস্থে দাবাই লাগিয়ে দিলো সাইর। কৌশলীর উদ্দেশ্যে বলল„ —“এই সেই মেয়ে। যাকে ভালোবেসে সব কিছু আমার কাছে সম্ভব হয়েছে। এমনকি মৃত্যুও।”

কৌশলী তুলির দিকে অপরূপ দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো। শ্যামলা মুখটায় হলদেটে ছাপ। ঠোঁটের কার্ণিশে ছোট্ট একটা তিল। গলার ক্ষতস্থানটা বেশ গভীর। শরীরে মেরুন রঙের একটা সুতি শাড়ি পরে শুইয়ে আছে তুলি। বিষের প্রভাবে শরীর নীল হয়ে আছে। সাইর উঠে দাড়ালো„ —“আপনি এখানে থাকুন আমি আসছি।”

কৌশলী বাঁধা দিলো„ —“সে কি কোথায় যাচ্ছো তুমি? তুলি তো এখনো অসুস্থ।”

সাইর খুপরি ছেড়ে বেরিয়ে পরলো আর বলল„ —“আপনি ওকে দেখে রাখুন। আপনার ওপরে সম্পূর্ণ ভরসা আছে আমার।”

সাইর মধুকে নিয়ে চলে গেলো। কৌশলী গিয়ে তুলির শিয়রের পাশে বসলো।

সৈয়দ মারিয়াহ্ হামিদ 🕊️

[ পর্বটি আবারও সংযোজন-বিয়োজন করা হয়েছে সবাই আবারও পরে নিয়েন। ভুল-ভ্রান্তির সম্ভাবনা আছে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। পর্বটি কেমন হয়েছে অবশ্যই জানাবেন কিন্তু। পরবর্তী পর্বটি পেতে সাথেই থাকুন ধন্যবাদ ]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here