চূর্ণচূড়ায়_চাঁদের_পাহাড় লেখনিতে— #সৈয়দ_মারিয়াহ্_হামিদ ৫.

0
30

#চূর্ণচূড়ায়_চাঁদের_পাহাড়
লেখনিতে— #সৈয়দ_মারিয়াহ্_হামিদ

৫.
সন্ধ্যা হতেই জমিদার বাড়িতে তোড়জোড় বেরে গেলো। সকলকে খাওয়ার জন্য ধাবায় নেওয়া হলো। কয়েকজন বাবুর্চি মিলে সবাইকে খাবার খাওয়াতে ব্যস্ত হয়ে পরলো। নানান পদের রান্নায় নানান লোকের ভোজ। জমিদার গিন্নী তুলিকে সেই কখন থেকে ডেকে যাচ্ছে কিন্তু তুলি নেই। সাবিনাকে ডাকতেই সাবিনা তার সামনে হাজির হলো„ —“গিন্নী মা ডাকতাছেন?”

জমিদার গিন্নী রেগে গেলো„ —“তোদের কানে কয় ভরি সোনা আছে বল তো বাপু? যাক গে তুলি কই? তারে দেখি না কেন?”

সাবিনা নড়েচড়ে দাঁড়াল„ —“গিন্নী মা হেয় মাছ কাটতে গিয়ে হাত কাইটা ফালাইচে তাই একটু বয়তে কইছি।”

জমিদার গিন্নীর রাগে যেন সবকিছু ভেঙে দিবে। গরগর করে বলল„ —“কাজের জন্য আসতে বলছি। ভালো-মন্দ গিলতে নয়। যা গিয়ে মা-মেয়েতে কাজ কর।”

সাবিনা মাথা দুলিয়ে সম্মতি জানিয়ে চলে গেলো। গোয়াল ঘরের পাশেই একটা ছোট্ট খুপরি আছে সেখানে তুলি বসে বিশ্রাম নিচ্ছিল। বিকালবেলায় যখন মাছ কাটতে বসেছিল তখন সে কিছুটা বিরক্ত হয়েছিল। কেননা সে এর আগে কখনো এত কাজ একসাথে করে নি। অন্যমনষ্ক হয়ে মাছ কাটতে গিয়ে ভুলবসত হাতের আঙুলের এক পাশ বটির আঁচড়ে কেটে গেছে কতখানি। রক্তে ভিজে উবথুব হয়েছে মাছগুলো। সাবিনা দ্রুত তুলির হাতে পট্টি বেঁধে দিয়েছিল। পরে মাছগুলো ভালো করে ধুয়ে কেটে রেখেছে সে। সব কাজ সে আর মমতা করেছে। ভেবেছিল তুলিকে আনলে তিনজন মিলে সব কাজ তাড়াতাড়ি শেষ হবে কিন্তু সেখানে বিপত্তি ঘটলো।

সাবিনা খুপরিতে এসে দেখলো তুলি কাটা আঙুল মুখের সামনে অন্য হাতে চেপে ধরে ঘুমিয়ে আছে। পাশের বসে মাথায় হাত বুলিয়ে দিলো সাবিনা৷ বিরবিরিয়ে বলল„ —“ক্যান যে তোরে কামে আনলাম? তোর তো এসবে অভ্যাস নাই। তোরে দিয়ে ১২দিনের ঋণ খাটাইতাছি। মাফ করিস মা?”

তুলি চোখ খুলে পিটপিট করে তাকালো। মুখে দুটোনা হাসি এনে বলল„ —“চলতো খালা। আমি এখন ঠিক আছি সব কাজ করতে পারুম।”

তুলি উঠল সাবিনা কোনো বাঁধা দিলো না। অনেক কাজও তো বাকি আছে। রান্নাঘরে গেলো দুজন মিলে। সাবিনা আর তুলিকে আসতে দেখে প্লেট ভর্তি খাবার দিলো মমতা। খাবার সামনে নিতেই জমিদার গিন্নী এলো রান্নাঘরে। তুলির ভাতের থালাটা কেরে নিয়ে বলল„ —“নিজেরে খিদা লাগছে খাইতে বয়ছোস। আমার পোলাডা খায় নাই সেই দুপুর থেইকা তার বেলা? যা খাওন দিয়া আয়?”

বাহিরে থেকে জমিদার বাবু চেঁচিয়ে বলল„ —“তোমাকে না কতবার বলেছি ভালোভাবে কথা বলবা? তুমি আবার এসব ভাষা কবে থেকে শিখছো?”

জমিদার গিন্নী রাগান্বিত হলো„ —“চাকর-বাকরের লগে এমনেই কথা কইতে হইবো। ওরা শুদ্ধ ভাষার মানে বুঝে না?”

হনহনিয়ে চলে গেলো জমিদার গিন্নী। মমতা এক প্লেট ভাত বেরে দিলো সাইরের জন্য। তুলি উঠে প্লেট আর পানির মগ নিয়ে সাইরের ঘরের গেলো। এ বাড়িতে সাইরই একমাত্র মানুষ যে সময়ের কাজ অসময়ে করে। তুলি দরজায় গিয়ে জোড়ে জোড়ে শব্দ করলো। কপাটে হাত দিয়ে বারি দিচ্ছে অনবরত কিন্তু ভেতর থেকে কেউ কোনো কথা বলছে না আবার দরজাও খুলছে না। তুলি জোড়ে ঠেলা দিতেই দরজা খুলে গেলো। ভেতরে গিয়ে টেবিলের ওপরে খাবার রেখে দ্রুত বেরিয়ে এলো। হাসফাস করতে করতে বলল„ —“বাবাগো ভেতরে কি অন্ধকার? নিশ্চয়ই গন্ডার থাকে এ ঘরে। আমি আগে পালাই?”

তুলি পালিয়ে যেতেই সাইর খপ করে হাতটা ধরে ফেললো। হেঁচকা টেনে ঘরের ভেতরে আনলো তুলিকে। অন্ধকার ঘরটায় সাইর আর তুলি সম্মুখে দাড়িয়ে আছে। তুলে ভয়ে খামচে ধরলো সাইরকে। সাইর হাতে তুবড়ি বাঁজাতেই ঘরটা আলোকিত হলো। তুলি চোখ-মুখ খিঁচে শক্ত করে সাইরকে ধরে রেখেছে। সাইর তুলির মুখটা দেখে স্পষ্ট হলো না। ঘোমটা তুলে চেহারায় এত কাটা দাগ দেখে বিস্মিত হতো সে। নিজের হাত দিয়ে তুলের চেহারায় হাত বুলালো। বিস্মিত হলো তুলি। সামনের মায়াবী আয়নায় সে নিজের চেহারা দেখতে পাচ্ছে। চূড়া থেকে পরার আগে যেমন চেহারা ছিল ঠিত তেমনই। কোনো কাটা চিহ্নে দাগ নেই চোখে-মুখে। নিজের হাত দিয়ে চোখ-মুখ বুলালো তুলি। না স্বপ্ন নয় সত্যি। তাহলে সাইর কি তাকে ধরে ফেললো? নাহ ধরা পরলে চলবে না? আমাকে বাঁচতে হবে?

ধাক্কা মেরে সাইরকে ফেলে দিয়ে দৌড়ে পালালো তুলি। মাথায় ঘোমটা টেনে রান্নাঘরের দিকে গেলো। সাবিনা আর মমতাকে তার জন্য খাবার নিয়ে এভাবে বসে থাকতে দেখে বড্ড মায়া হলো তার। পেটে খিদেও আছে অনেক। কিন্তু এখন তাদের সামনে যেতে পারবে না সে। তার চেহারা হঠাৎ করে ভালো হওয়া দেখলে তারা হয়তো বহুরূপী বলে তাড়িয়ে দিবে এখান থেকে। কিন্তু তাকে এখন এখান থেকে যাওয়া যাবে না। যে করেই হোক তাকে থাকতে হবে এ বাড়িতে। জমিদার গিন্নীকে আসতে দেখে রান্নাঘরে ঢুকলো তুলি। হয়তো আবার কোনো না কোনো কাজ দেবে সুতরাং একটু সময় ওদের সাথে থাকলে আর কিছুই হবে না। তাছাড়া মাথায় ঘোমটা তো দিয়েছিই।

—“সাবু। সাবুওওও।”

ডাকতে ডাকতে রান্নাঘরে এলো জমিদার গিন্নী। সবাইকে একসাথে দেখে সাবিনাকে আড়ালে ডাকলো„ —“শোন সাবু? জরুরি কাজ আছে।”

সাবিনা উঠে এলো„ —“হুম গিন্নী মা।”

—“তুই আর মমতা গিয়ে আত্নীয়দের শসা আর টমেটোর সালাত দে? আমি তুলিকে নিয়ে একটা কাজে যাচ্ছি?”

সাবিনা আপত্তি জানালো„ —“গিন্নী মা মাইয়াডা কিছু খায় নাই। ওরে আগে খাইতে দেন?”

জমিদার গিন্নী জোড়ে ডাকলেন„ —“তুলি।”

তুলে যেন ছুটে দরজায় এলো„ —“জ্বি?”

—“খাবার খেয়ে নে তাড়াতাড়ি। আমি তোকে নিয়ে একটা কাজে যাবো?”

তুলি দুপাশে মাথা নাড়ালো। দ্রুত গিয়ে খেতে বসলো। সাবিনা আর মমতা গিয়ে আত্নীয়দের টমেটোর সালাত আর শসা দিতে লাগলো। জমিদার গিন্নী দরজায় দাড়িয়ে তুলির দিকে তাকিয়ে বলল„ —“এখানে তো কেউ নেই ঘোমটা দিয়ে খাচ্ছিস কেন?”

তুলি ঘোমটার নিচ দিয়ে খাবার খাচ্ছিলো। তা দেখে জমিদার গিন্নী প্রশ্ন করলো। তুলি খেতে খেতেই উত্তর দিলো„ —“আমার কাটা ছেড়া মুখ কাউকে দেখাবো না গিন্নী মা। আমি চাই না আমার জন্য আপনার পরিবারের কোনো ক্ষতি হোক।”

জমিদার গিন্নী হাসলেন। তুলি প্লেটে হাত ধুয়ে উঠে দাড়ালো„ —“চলুন হয়ে গেছে।”

জমিদার গিন্নী প্লেটের দিকে তাকিয়ে বলল„ —“পুরোটা তো খেলি না?”

তুলি মাথা নিচু করলো„ —“মালিককে দাড়িয়ে রেখে কর্মচারীর খাওয়াটা বেয়াদবি।”

জমিদার গিন্নী আর কিছুই বলল না। তুলিকে নিয়ে সোজা দোতরায় সহিনীর ঘরে গেলো। বউ সাজে সাজানো হচ্ছে সহিনীকে। সুন্দর চেহারায় যা পরিয়ে দিচ্ছে সবকিছুই মানিয়ে যাচ্ছে। তুলি ঘোমটার আড়াল থেকে সবকিছু দেখছে। লাল রঙের শাড়ি পরিয়ে দেওয়া হয়েছে সহিনীকে। গায়ে ভারি গহনা‚ হাতে বালা‚ নাকে নত। অসম্ভব সুন্দর লাগছে সহিনীকে।

জমিদার গিন্নী এগিয়ে গেলো সহিনীর কাছে। থুতনিতে হাত রেখে মুখ উঁচিয়ে বলল„ —“বাহ আমার বউমাকে তো বেশ লাগছে।”

সহিনী লজ্জায় নুইয়ে গেলো। জমিদার গিন্নী সহিনীকে নিয়ে নিচে নেমে গেলো। তুলিকে আদেশ দিলো„ —“থালাগুলো নিচে নিয়ে আয়।”

সবাই নিচে চলে গেলো। তুলি উঠে মেহেদীর থালাগুলো হাতে নিলো। মাথায় ঘোমটা আর একটু এগিয়ে নিলো। সোজা হেঁটে সিঁড়ির দিকে গেলো। সামনেই সাইরের ঘর। কেউ কথা বলছে। তুলি দরজায় কান পেতে দিলো।

সাইর হাসছে। জোরে জোরে হাসছে। কারও সাথে কথাও বলছে হেঁসে হেঁসে। সাইর তাকালো সামনে। একটা ধোঁয়ার কুন্ডলী থেকে কথা আসছে„ —“আমি বলেছিলাম তোমাদের বাড়ির নতুন মেয়েটা ঐ মেয়েটাই। তুমি তো বিশ্বাসই করো নি? এবার তো করেছো বিশ্বাস?”

সাইর হাসলো„ —“আমি যাকে খুঁজছি বনে-জঙ্গলে সে এসে আছে কি না আমার বাড়িতেই। অবিশ্বাস্য।”

ধোঁয়া থেকে আবার কথা ভেসে এলো„ —“এতটাও উৎকন্ঠা হইও না সাইর। মেয়েটা তোমার চাঁদ দেহ ফেলেছে। আর দুপুরে তোমার মায়াবী শক্তিও নষ্ট করেছে? তোমার কি মনে হয় না? মেয়েটা তোমাকে বিনাস করতেই এসেছে?”

সাইর রেগে গেলো। গ্লাস পরার ঝনঝন শব্দ হলো। সে রেগেমেগে বলল„ —“এমন কোনো শক্তি হয় নি জন্ম হয় যে সাইরের শয়তানি শক্তিকে নষ্ট করতে পারবে?”

—“তুমি বোকা সাইর। আমার কথাটা শুনো? যত সম্ভব মেয়েটার সাথে মিলিত হয়। বেশি সময় নেই আমাদের হাতে। আর ১৮ দিন পরেই পূর্ণিমা। এর আগে তিন রাত মেয়েটির সাথে মিলিত হতে হবে তোমার? তিন সপ্তাহে তিন রাত।”

সাইর চিন্তিত হলো„ —“কিন্তু আমি কিভাবে মেয়েটির সাথে তিন সপ্তাহ মিলিত হবো? এত রাত হলে কোনো সমস্যা হতো না কিন্তু তিন সপ্তাহে তিন রাত একটু দীর্ঘ নয় কি?”

—“তোমার অর্ধ শক্তি নষ্ট হয়েছে সাইর। সন্ধ্যায় যে খাবার খেয়েছো সে খাবারগুলো দরুদপাঠ করা ছিল। মেয়েটি তোমার খাবারে তার দোয়া-দরুদ কাজে লাগাচ্ছে। তোমার শক্তি ক্রমশ কমিয়ে যাচ্ছে। তুমি কি করবে ভেবে দেখো? তোমার কাছে অমরত্ব আগে নাকি অন্য কিছু?”

সাইর ভিতু কন্ঠে বলল„ —“আমার কাছে অমরত্ব আগে। বলো কি করতে হবে আমাকে?”

—“তুমি মেয়েটিকে সম্পূর্ণ আগের রূপ ফিরিয়ে দাও। তারপর সবাইকে জানাও তুমি মেয়েটিকে বিবাহ করতে চাও। সবাই যদি আপত্তি করে তাহলে হুমকি দাও‚ তোমার ঐ মেয়েকেই লাগবে। তুমি আগামী ১৮ দিন কোনো শক্তি ব্যবহার করতে পারবে না। যত দ্রুত সম্ভব মেয়েটিকে বিবাহ করে রাত্রিযাপন করো। প্রথম দিন মিলিত হলে বিছানায় শোয়ার স্থান দু’ভাগ করে দাও। কেননা তোমার হারানো শক্তি রাতের বেরা ফিরে আসবে। এক বিছানায় থাকলেও সমস্যা হবে না কিন্তু মনে রেখো তুমি শুধু সপ্তাহে একবারই মিলিত হতে পারবে।”

সাইর হাসলো„ —“হাতে নাগালেই যে এত সুন্দর রাস্তা থাকবে তা তো আমি দেখতে পারি নি। তোমাকে ধন্যবাদ অর্কা। আমি তোমাকে প্রভু হিসেবেই মান্য করবো।”

—“মনে রেখো তোমার কাছে মাত্র ১৮ দিন সময় আছে। আর ঐ মেয়েটির মাঝে বিশেষ শক্তি আছে। যা তোমাকে বারবার বাঁধা দিবে। তুমি মনোবল রেখো। গত তিন বছরের মিলিয়ে ১০০ বলী সম্পূর্ণ হবে আগামী পূর্ণিমা।”

সাইর মাথা নোয়াল„ —“আমি সব সময় মনে রাখবো অর্কা।”

ধোঁয়া মিলিয়ে গেলো বাতাসের মাঝে। সাইর সোজা হয়ে দাঁড়ালো। জোড়ে সোড়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল। বাইরে কারও গলা শুনতে পেলো সে।

—“বলি কাজের সময় যেখানে-সেখানে এত দেরি করিস কেন তুই?”

হকচকিয়ে গেল সাইর। বাইরে কি কেউ ছিলো? দ্রুত দরজা খুলেই আসে-পাশে তাকালো। না কেউ নেই তো? কিন্তু সে তো স্পষ্ট কারও গলা শুনেছে। যে হয় হোক তেমন কিচ্ছু জানবে না তারা। ভেতরে গিয়ে ঘরটাকে ঠিক করতে লাগলো সে। কালো পাঞ্জাবি পরে সোজা সাজাদের ঘরের দিকে গেলো।

আয়নার সামনে নিজেকে পরিপাটি করছে সাজাদ। কমলা রঙের পাঞ্জাবি পরেছে সাজাদ। চিরুনি দিয়ে চুল আচরে সাইরের দিকে তাকালো সাজাদ। কালো পাঞ্জাবি পরতে দেখে মুখ কুঁচকালো সাজাদ„ —“তোকে না বলেছে কালো রঙ আমার পছন্দ না তবুও তুই আমার সামনে?”

সাইর আমতা আমতা করল„ —“আসলে ভাইয়া একটা কথা ছিল।”

সাজাদ সোজা হয়ে সাইরের দিকে তাকালো„ —“হুম বল কি কথা আছে তোর?”

সাইর বিছানায় বসলো„ —“ভাইয়া তুমি কালকে যে ছবিটা দেখেছিলে মনে আছে তোমার?”

সাজাদ মনে করতে লাগলো। কাল তুলির ছবিটা দেখে সারারাত ঐ একটা মুখই তাকে ঘুমতে দেয় নি। মুচকি হাসলো সাজাদ„ —“তুই যে এত সুন্দর আর্ট করিস তা তো আগে জানতাম না।”

সাইর মাথা চুলকিয়ে বলল„ —“আসলে ভাইয়া। আমি মেয়েটাকে ভালোবাসি। তুমি যদি।”

সাজাদ চোখ নামালো। একটা মেয়ের জন্য দুই ভাইয়ের মাঝে দ্বন্দ্ব মানায় না। তাছাড়া মেয়েটিকে সাইরই আগে পছন্দ করেছে সেখানে সে তো কোথাকার বাপু। সাইর যদি মেয়েটিকে ভালোবাসে তাহলে তার কিসে আপত্তি। সাইরের চোয়াল চেপে ধরলো সাজাদ„ —“আমি বাবাকে বলবো আমার বিয়ের পরেই যেনো তোদের বিয়ে হয়।”

সাইর নড়েচড়ে বসলো„ —“আসলে ভাইয়া আমার কাছে এতটাও সময় নেই। দু-তিন দিনের মধ্যেই বিয়ে করা জরুরি আমাদের।”

সাজাদ ভরকে গেলো„ —“কিন্তু এত তাড়া কেন তোর?”

—“আমার কিছু কাজ পরেছে ভাইয়া। আর ঐ মেয়েটাকে আমার চাই-ই চাই। তুমি কিছু একটা করো।”

সাজাদ চিন্তিত ভঙ্গিতে গালে হাত রাখলো„ —“তুই কি মেয়েটির খোঁজ পেয়েছিস?”

সাইর হাসলো„ —“হুম আমার কাছে আছে সে?”

সাজাদ বিছানায় বসলো„ —“কে সেই মেয়ে? আর কেথায়?”

সাইর সাজাদের উপলব্ধি বুঝতে পারলো। তার ভাইয়ের চোখের দিকে তাকালো„ —“তুমি কি মেয়েটিকে দেখতে চাচ্ছো ভাইয়া?”

সাজাদের চোখ-মুখ উজ্জ্বল হলো„ —“অবশ্যই এত অপরূপা সৌন্দর্যের অধিকারীনিকে দেখতে ইচ্ছে তো করবেই।”

সাইর উঠে দাড়ালো„ —“ঠিক আছে রাতে যখন পালিয়ে যাবো তখন তোমাকে দেখাবো?”

সাজাদ হকচকিয়ে গেলো„ —“কিহ?”

—“হুম। কেননা এছাড়া দ্বিতীয় আর কোনো পথ খোলা নেই আমাদের। আমিও তাকে ভালোবাসি আর সেও আমাকে ভালোবাসে। আমরা দুজন চাই না যে আমাদের মাঝে তৃতীয় কেউ আসুক। তাই দুই দিনের মধ্যেই আমরা বিয়ে করবো। তুমি কি আমাদের পালিয়ে দিতে পারবে?”

সাজাদ জোড়ে একটা নিশ্বাস ছাড়লো„ —“ঠিক আছে অনুষ্ঠান শেষে তোরা তৈরি থাকিস। আমি তোদের বিয়ে পরিয়ে দিবো।”

সাইর খুশিতে গদগদ হলো। জড়িয়ে ধরলো সাজাদকে। সাজাদও তার ভাইকে জড়িয়ে নিলো দুই হাতের বাহুডোরে।

ঘড়ির কাটা রাত ১১ টাই ছুঁইছুঁই। তুলি বাসন মেজে রান্নাঘরে রাখতে এসেছে। বাড়ির সবাই ঘুমিয়ে পরেছে। আজাদ আর সাবিনা খুপরিতেই ঘুমিয়ে পরেছে। মমতা তার বাড়ি চলে গেছে। তুলিকে রান্নাঘরে থাকতে বলেছে জসিদার গিন্নী। সকালের কয়েকটা কাজ কাটা আঙুলের রাতেই সেরে নিলো তুলি। দরজা বন্ধ করে মেঝেতে আঁচল বিছিয়ে শুয়ে পরলো সে। ঘরের ল্যাম্প বন্ধ করে নিমিষেই ঘুমিয়ে গেলো তুলি। আজ তার ওপর দিয়ে বেশ ধকল গেছে। তাই শুতেই ঘুমের দেশে পারি দিলো নিমিষেই।

রান্নাঘরের দরজায় ঠেলা দিতেই বুঝলো ভেতর থেকে বন্ধ। চোখ বন্ধ করে কিছু বিরবির করলো সাইর। চোখ খুলে তাকালো দরজার বালার দিকে। চোখ দিয়ে লাল রশি বেরিয়ে দরজা খুলে গেলো নিঃশব্দে। ভেতরে ঢুকে পরলো সাইর। তুলি মাথার নিজে হাত রেখে ঘুমিয়ে আছে। কাটা আঙুলটা চোখে পরতেই হাত ছোয়ালো সাইর। সঙ্গে সঙ্গে কাটা আঙুল আবারও স্বাভাবিক হয়ে গেলো। নিচে মেঝেতে বসে তুলির মাথা হাত বুলিয়ে দিতেই ঘুম ভাঙলো তুলির। চেঁচিয়ে উঠতেই সাইর মুখ চেপে ধরলো তুলির। ঠোঁট চেপে শব্দ করলো „ —“হিসসসসস। কোনো কথা হবে না। আমার সাথে চলো।”

তুলি দু’পাশে মাথা নাড়ালো। যার অর্থ সে তার সাথে যাবে না। সাইর আবারও শান্ত স্বরে বলল„ —“যাবে কি না?”

তুলি আবারও দুই পাশে ঘুরালো। সাইর রেগে তুলির চুলগুলো মুষ্টিবদ্ধ করে নিলো। ব্যথায় কাতরাতে থাকে তুলি কিন্তু কোনো কথা বলতে পারছে না। কেননা অন্য হাতে সাইর তার মুখ চেপে আছে। কি করবে বুঝছে না সে। মাথা দুলিয়ে সম্মতি দিলো। সাইর ছেড়ে দিলো তুলিকে। পাজা কোলে তুলে নিয়ে বাইরে বেরিয়ে গেলো।

সৈয়দ মারিয়াহ্ হামিদ🕊️

[ ভুল-ভ্রান্তির সম্ভাবনা আছে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। আর হ্যাঁ আমি নিয়মিতই গল্প দিবো হয়তো সময়ের কম-বেশি হতে পারে কিন্তু দিবো ইন-শা-আল্লাহ। সুতরাং গল্প নিয়ে বেশি বেশি মন্তব্য করুন। আজকের পর্বটা কেমন হয়েছে অবশ্যই জানাবেন কিন্তু। ভালো থাকবেন‚ সুস্থ থাকবেন‚ ধন্যবাদ ]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here