#উৎসর্গ
#পর্ব:১৪
#তানজিনা ইসলাম
মায়া বিছানার উপর শুয়ে বই পরছে। হাতে ওর হুমায়ুন আহমেদের উপন্যাস ‘অপেক্ষা’!তবে আদতে সে পড়ছে না। মুখের উপর বই ধরা থাকলেও,তার দৃষ্টি রুদ্রর দিকে।রুদ্র ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে রেডি হচ্ছে।তার পরণে চকলেট কালারের টিশার্ট।
-“যদি দেখতেই হবে তাহলে সরাসরি দেখ।এভাবে লুকিয়ে দেখার দরকার কী?”রুদ্র চুল ঠিক করতে করতে মায়ার দিকে না তাকিয়েই বললো।
মায়া থমথম খেয়ে উঠে বসে।ও যে লুকিয়ে দেখছিলো সেটা রুদ্র বুঝলো কী করে?মায়া নিজেকে সামলায়।কন্ঠে অসম্ভব বিশ্বাস ঢেলে বলে উঠে
-“তোকে দেখতে যাবো কেন?নিজেকে কী মনে করিস হ্যাঁ?”
-“আমি নিজেকে নায়ক মনে করি।তোর কোনো সমস্যা?তুই অস্বীকার করার চেষ্টা করলেও আমি জানি তুই আমাকে দেখছিলি। ”
মায়া কিছু না বলে বিছানা ছেড়ে রুদ্রর পিছনে গিয়ে দাঁড়ালো।আয়নায় রুদ্রর বিম্বের দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করলো।
-“পার্টিতে যাচ্ছিস,এভাবে সেজেগুজে যাওয়ার দরকার কী?”
-“কোথায় সাজলাম?”পিছনে ফিরে মায়ার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো রুদ্র।
-“বারে যাচ্ছিস যেহেতু,সেখানে অন্য মেয়েরা থাকবে নিশ্চয়ই।তাঁদেরকে দেখানোর জন্য এই সাজ?”
-“না,আজকে পুরো ক্লাব বুক্ড।সেখানে আমাদের ব্যাচের ছেলেরা ছাড়া অন্য কারো ঢোকা নিষিদ্ধ। ”
-সত্যি!”মায়া খুশি হয়ে বলে।
-“হ্যাঁ।আচ্ছা মায়া,তুই কী জেলাস ফিল করছিলি নাকি এতক্ষণ? ”
-“জেলাস কেন হবো?”
-“এই যে বললি।সেজেগুজে যাচ্ছি।মেয়েরা আমার দিকে তাকাবে।বেশি সুন্দর লাগছে নাকি আমাকে?”
-“একটুও সুন্দর লাগছে না।”মায়া রুদ্রর কলার ঠিক করে দিতে দিতে বলে।রুদ্র শার্টের দুটো বোতাম খোলা রেখেছিলো।মায়া বুকের উপরের একটা বোতাম লাগিয়ে দেয়।যাতে বুক দেখা না যায়।ড্রেসিং টেবিল থেকে হাতঘড়ি নিয়ে সেটা রুদ্রর হাতে পড়িয়ে দেয় যেটা মায়া বিয়ের দিন উপহার দিয়েছিলো তাকে।রুদ্র মৃদু হেসে পারফিউম মেখে নেয় শরীরে।
-“শোন, ব্যাচেলর পার্টি করবি ভালো কথা।কিন্তু উলোটপালোট কিছু যাতে না খাস।”
-“কী খাওয়ার কথা বলছিস? ”
-“বুঝো না তুমি তাই না!সাবধান বাণী দিচ্ছি কিন্তু আমি।মামনির হাতে যদি পরিস তাহলে আমি বাঁচাতে পারবো না।”
-“আচ্ছা ঠিক আছে। খাবো না।যদি বেশি জোরাজোরি করে তাহলে একটু করে খাবো কেমন?”
-“না। তোদের আমি চিনিনা ভেবেছিস।বেস, সাবধান করার জন্য বললাম আরকি।আমি তো জানি তুই আমার কথা শুনবি না।”
রুদ্র দাঁত কেলিয়ে হাসলো।মায়া এগিয়ে দিলো রুদ্রকে।রুদ্র গাড়িতে বসে যখনই গাড়ি স্টার্ট দিতে যাবে তখনই মায়া চিল্লিয়ে বললো
-“তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরিস।”
হাত নাড়িয়ে বাই জানালো রুদ্র।গাড়ি স্টার্ট দিয়ে সাই করে ছুটে চলে গেলো চোখের সামনে থেকে।মায়া দাঁড়িয়ে থাকলো বেলকনিতে।একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকলো অদৃশ্য হয়ে যাওয়া গাড়িটির দিকে।
,
বেলকনিতে দাঁড়িয়ে মনোযোগ দিয়ে রাতের আকাশ দেখছে মায়া।এই বাড়ির দুটো জায়গা মায়ার সবচেয়ে বেশি পছন্দের। একটা হচ্ছে রুদ্রর কক্ষের এই বেলকনি আরেকটা হচ্ছে বাগানের ওই দোলনার সাইটটা।এই দুই জায়গায় বসে মায়া পুরো দিন কাটিয়ে দিতে পারবে, কোনো বিরক্তি ছাড়াই।আজকে চাঁদের দেখা নেই।কালো মেঘে ঢেকে রেখেছে গোটা আকাশ।অমাবস্যার রাত মনে হচ্ছে।ভারী ঠান্ডা বাতাসে পরিবেশ মুখরিত। মায়ার চিন্তা হচ্ছে ভীষণ। আজ নির্ঘাত বৃষ্টি হবে।আকাশের অবস্থা দেখেই বোঝা যাচ্ছে ঝড়ের তান্ডবলীলা শুরু হতে আর বেশি দেরি নেই।কিন্তু রুদ্র এখনো বাড়ি ফিরেনি।রাত ১২ টা বেজে ৫৫ মিনিট।বাড়ির সকলেই ঘুমিয়ে গেছে।শুধু মায়া জেগে আছে।মায়ার অস্থির লাগছে।এই নিয়ে মনে হয় ত্রিশ বারের উপর কল করে ফেলেছে রুদ্র কে।কিন্তু একবারো রিসিভ করেনি রুদ্র।অন্য বন্ধুদের কল দিলে তারাও ধরেনি। মায়ার চিন্তায় মাথা-ব্যাথা উঠে গেছে।একটু আগেই দু’দুটো মাথা ব্যাথার ঔষধ খেয়েছে। কিন্তু মাথা ব্যাথা কমার বদলে আরও যেন বাড়ছে।মায়া মনে মনে দোয়া করছে যাতে বৃষ্টি টা এখন শুরু নাহয়।বৃষ্টি শুরু হলে রুদ্র নির্ঘাত রাস্তায় বিপদে পরবে।
গাড়ির হর্ণের শব্দে মায়ার মনোযোগের ব্যাঘাত ঘটে। মায়া নিচে তাকিয়ে দেখে রুদ্রর গাড়ি ঢুকছে গেইট দিয়ে।এতক্ষণে যেন প্রাণ ফিরে পেলো মায়া। চটজলদি দৌড়ে সিড়ি বেয়ে নিচে নামলো। সদরদরজা পেরিয়ে বাইরে গেলো। রুদ্র গাড়ি থেকে কোনোমতে নেমে দাড়ালো। মায়া দৌড়ে এসে রুদ্রর বুকে ঝাঁপিয়ে পরলো।যতটা শক্ত করে জড়িয়ে ধরলে বুকের ভেতরে ঢুকে যাওয়া যায় ততটা শক্ত করে জড়িয়ে ধরার চেষ্টা চালালো।রুদ্র পরতে পরতে বেঁচে গেলো।মায়া বুক থেকে মাথা তুলে রুদ্রর দিকে তাকালো।রুদ্র ছোট ছোট চোখে তাকিয়ে আছে তার দিকে।চুল এলোমেলো হয়ে আছে।নাকের উপর লাল আভা।রুদ্রর গা থেকে আসা গন্ধে মায়া চোখমুখ কুচকে ফেললো।রুদ্রকে ঝাঁকিয়ে জিজ্ঞেস করলো
-“তুই ড্রিংক করে এসেছিস?”
রুদ্র ঠোঁট উল্টে ইনোসেন্টভাবে মাথা নাড়লো।মানে সে ড্রিংক করে নি।কিন্তু,রুদ্রর বিহেভিয়ারেই স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে সে ড্রিংক করে এসেছে।মায়ার অসম্ভব রাগ উঠলো। ঝাঁজালো কন্ঠে বললো
-“মানা করেছিলাম না এসব খেতে।কেন খেলি এসব?যদি মামনি জানতে পারে তাহলে কতটা কষ্ট পাবে একবারো ভেবেছিস?”
-“বেশি খাইনি তো। একটু করে খেয়েছি। “রুদ্র কাপা কাপা কন্ঠে বলে।মায়া চোখ বুজে শ্বাস নিলো।এখন রাগ করলে চলবে না।আগে রুদ্রকে কক্ষে নিয়ে যেতে হবে।মায়া রুদ্রকে শক্ত করে ধরার চেষ্টা করলো।রুদ্র দাঁড়াতে পর্যন্ত পারছে না,টলছে সমানে।তাঁরপরও বলছে একটু করে খেয়েছে।মায়ার রুদ্রকে এখানে ধরে মারতে মন চাইছে।এই ড্রিংক অবস্থায়ও একা গাড়ি চালিয়ে এসেছে। ভাগ্যেস কোনো বিপদ হয়নি।
মায়া রুদ্রকে ধরে ধীরে ধীরে হাটছে।কারণ রুদ্র টালমাটাল পায়ে এগোচ্ছে। আচমকা বৃষ্টি শুরু হয়ে গেলো।সাথে ঝড়োয়া বাতাস।বাতাসে মায়ার চুলগুলো এলোমেলো ভাবে উড়ছে।মায়া চেয়েও চুলগুলো সামলাতে পারছে না।কারণ চুল ঠিক করতে গেলে রুদ্রকে ছেড়ে দিতে হবে। রুদ্রকে ছেড়ে দিলে রুদ্র পরে যাবে।বাড়িতে ঢুকতে ঢুকতে মায়া অর্ধেক ভিজে গেলো।মায়া কোনোমতে রুদ্রকে নিয়ে দোতলায় গেলো। কক্ষে গিয়ে ঢুকতেই রুদ্র বিছানায় গিয়ে ঠাস করে শুয়ে পরলো। মায়া রুদ্রর কাছে গিয়ে দেখলো রুদ্রর শার্টও ভিজে গেছে।আগে ওকে টক কিছু খাওয়ানো দরকার। নয়তো একে সামলানো দায় হয়ে যাবে। বাইরে যাবে তার আগেই মায়ার মুঠোফোন বেজে উঠল। মায়া ফোন নিয়ে দেখে রাহুল কল করেছে।মায়া ফোন রিসিভ করে কানে দিতেই ওপাশ থেকে মাতাল কন্ঠে রাহুল বললো
-“মায়ু রুদ্র বাড়িতে পৌছে গেছে? ”
-“ওই বেদ্দপ। এতক্ষণে খবর হলো তোর। কতক্ষণ ধরে কল করছিলাম।তোকে বলেছিলাম না রুদ্রর খেয়াল রাখতে।তারপরও ও এতটা ড্রিংক করলো কী করে?তুই ওকে পৌঁছে দিসনি কেন?ওর যদি কোনো বিপদ হতো।”
-“না,আসলে।মানে।
-“কী আসলে মানে?ও, তোকে এসব বলছি কেন?তুইও নিশ্চয়ই গলা পর্যন্ত গিলে তারপর থেমেছিস।তুই আরেক মাতাল হয়ে কী করেই বা ওকে পৌঁছে দিতি?”
-“আসলে ওই মেয়েটা।”
-“কোন মেয়েটা?”
-“আমাদের সামনের মেয়ে টা।”রাহুল বিরবির করে কিছু বলতে বলতে কল কেটে দিলো।মায়া কয়েকটা গালি দিলো রাহুলকে।কিন্তু রাহুল হয়তো তা শুনতে পায়নি।মায়া রুদ্রর ফোন হাতে নিয়ে দেখলো, ফোন বন্ধ হয়ে গেছে। নিশ্চয়ই চার্জ শেষ হয়ে গেছে।
তবে মায়া মনে মনে শান্তি পেলো।নিশ্চয়ই ছেলেগুলো কোনো মেয়ের পাল্লায় পরেছে।ভাগ্যেস রুদ্র চলে এলো।নয়তো এতক্ষণে ও নিজেও ওই মেয়েটা ওই মেয়েটা করতো।
মায়া বিছানা থেকে নেমে দাড়ালো। রুদ্রর শার্ট বদলে দিতে হবে।নিজের পরণের টিশার্টও বদলানো প্রয়োজন।ভিজে একেবারে গায়ের সাথে লেপ্টে গেছে।কিন্তু সবার আগে রুদ্রকে হ্যাংওভার কাটাতে হবে। মায়া রুদ্রর পাশ থেকে উঠে আগাতে যাবেই তার আগে মায়ার কোমড় সমান চুলে টান পরলো।মায়া ব্যাথায় চোখমুখ কুচকে পেছনে ফিরল। রুদ্র তার আঙ্গুলে মায়ার চুলগুলো পেচিয়ে রেখেছে।
-“রুদ্র,আমার চুল ছাড়।নিচে যাবো আমি।”
রুদ্র উঠে বসে মায়ার চুলগুলো হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরলো। মুখে ইনোসেন্ট ভাব ফুটিয়ে বললো
-“না,ছাড়বো না আমি।আমাকে ছেড়ে চলে যাচ্ছিস কেন?”
-“আমি এখনই চলে আসব রুদ্র।প্লিজ, চুল ছাড়।বাচ্চাদের মতো করছিস কেন?”মায়া চুল ছাড়ানোর চেষ্টা করে বললো। কিন্তু ছাড়াতে পারলো না।রুদ্র শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আছে মায়ার চুলগুলো।
রুদ্র এবারে নিজেই চুলগুলো ছেড়ে উঠে দাড়ালো। বাইরে প্রচন্ড ঝড়-বৃষ্টি হচ্ছে।বেলকনির দরজা খোলা থাকায় বাইরের বাতাস শো শো করে ঘরের ভেতরে ঢুকছে।জোরে বজ্রপাতের শব্দে রুদ্র হুট করে জড়িয়ে ধরল মায়াকে।মায়া চমকে গেলো।রুদ্র শক্ত করে জড়িয়ে ধরে মায়ার কাধে মুখ গুজলো।মায়া রুদ্রকে ছাড়ালো।গায়ের টিশার্ট ভিজে যাওয়ায় বাইরের ঠান্ডা বাতাসে মায়ার ঠান্ডা লাগছে।লোমকূপ সহ দাঁড়িয়ে গেছে ঠান্ডায়।ইমিডিয়েট টিশার্ট বদলানো দরকার।কিন্তু রুদ্র তো কোথাও যেতেই দিচ্ছে না।
রুদ্র হুট করে মায়ার কোমড় পেঁচিয়ে ধরে মায়াকে একদম নিজের কাছে নিয়ে আসলো।মায়া হতবাক হয়ে তাকালো রুদ্রর দিকে।রুদ্র মায়ার তাকানো এড়িয়ে মায়ার কপালে গভীর চুমু খেলো।তারপর মায়ার গাল টেনে দিয়ে বলে উঠলো
-“আজকে তোকে অনেক সুন্দর লাগছে।”
মায়া উত্তর দিতে পারছে না।আর না পারছে নিজেকে ছাড়াতে।রুদ্র মায়ার ঠোঁট হাতের বুড়ো আঙুল দিয়ে ছুয়ে দিল। ঠোঁটের তিলের দিকে গভীর দৃষ্টি নিক্ষেপ করে বললো
-“জানিস এই তিলের জন্য তোর সৌন্দর্য আরো কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। ”
-“ছাড় আমাকে।”মায়া শক্ত কন্ঠে বললো
-“উহু ছাড়বো না।”
তখনই কক্ষের লাইট নিভে গেলো।মায়া বিরক্তির শ্বাস ফেললো।নিজেকে বহু কষ্টে রুদ্রর থেকে ছাড়াতে সক্ষম হলো। এই ঝড়-বৃষ্টির জন্য সকাল থেকে কারেন্ট ছিলো না।হয়তো এখন আইপিএস ও শেষ হয়ে গেছে। কক্ষের চারিদিক অন্ধকারে ছেয়ে গেছে।কারো বিম্ব পর্যন্ত ঠাওর করার অবস্থা নেই।মাঝে মাঝে বিজলির চমকানিতে ঘর দিনের মতো আলোকিত হয়ে যাচ্ছে।মায়া সেই আলোয় বিছানা হাতড়ে নিজের ফোন হাতে নিলো।ফোনের চার্জ প্রায় শেষের ঘরে।নিশ্চয়ই রুদ্রকে কল করতে করতে সব চার্জ শেষ হয়ে গেছে। মানে বিপদ যখন আসে সব একসাথে আসে।মায়া ফ্লাশ লাইট জালালো মোবাইলের। রুদ্র আবার গিয়ে মায়ার চুলগুলো জড়িয়ে ধরলো।মায়া হতাশার শ্বাস ফেলে। এই ছেলের হয়েছেটা কী আজকে?খালি ওর চুল কেন সাপের মতো পেঁচিয়ে পেঁচিয়ে ধরছে।
একটু পরেই ফোনের চার্জ শেষ হয়ে যাবে।মোমবাতি জালাতে হবে।রাফানা চৌধুরী দুপুরে মোমবাতি দিয়ে গিয়েছিল। ক্ষনে ক্ষনে কারেন্ট চলে যায় বলে।মায়া ফোন হাতে নিয়ে ওয়ারড্রবের ডয়ারের দিকে এগিয়ে গেল।রুদ্রও চুল জড়িয়ে ধরে মায়ার পিছু পিছু গেল।মায়া যেদিকে যাচ্ছে,রুদ্রও মায়ার চুল ধরে সেদিকে যাচ্ছে।মায়া ড্রয়ার খুজে মোমবাতি বের করলো।দিয়াশলাই ধরিয়ে মোমবাতি জ্বালালো।
-“রুদ্র পরে যাবি তো।সামনে এসে হাত ধর আমার।বাচ্চাদের মতো চুল ধরে আছিস কেন?চুল ছাড়।”
-“না,আমি চুল ছাড়বো না।নয়তো তুই আবার চলে যাবি।”
-“রুদ্র চুল ছাড় আমার।আমি কোথাও যাবো না।যদি তুই চুল না ছাড়িস তাহলে কিন্তু আমি তোর সাথে কথা বলবো না।”
রুদ্র চুল ছেড়ে দিলো।মায়া রুদ্রর সামনে মোমবাতি নিয়ে দাড়ালো।মোমবাতির আলোতে রুদ্রর মুখের দিকে তাকিয়ে মায়ার বুক ধ্বক করে উঠে।রুদ্র নেশালো দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।মায়া রুদ্রকে পাশ কাটিয়ে গিয়ে সাইট টেবিলে মোমবাতি রাখলো।রুদ্র আবার গিয়ে মায়াকে নিজের কাছে টানলো।মায়া ছাড়ানোর চেষ্টা করছে নিজেকে।কিন্তু একটা শক্তির সাথে সাথে পেরে উঠা ওর পক্ষে সম্ভব নয়।
মায়ার মোচড়ামুচড়ি তে রুদ্র ঠোঁট উল্টে বললো
-“এমন করছিস কেন?আমার ছোয়া বুঝি তোর পছন্দ নয়?”
-“রুদ্র তুই এখন নিজের মধ্যে নেই।প্লিজ,তুই না ভালো ছেলে।ভালো ছেলেরা এমন করে না।”
-“ভালো ছেলেরা বুঝি ভালোবাসাও চাইতে পারে না?কিন্তু আমার যে ভালোবাসা চাই।”
-“রুদ্র আমাদের মধ্যে তেমন সম্পর্ক নেই। প্লিজ ছাড় আমাকে।উলোটপালোট কাজ করছিস। ”
-“উহু, একটুও উলোটপালোট না।তুই আমার বউ।তাই তোর কাছ থেকে ভালোবাসা পেতেই পারি আমি।ভালোবাসা দে আমাকে।”
-“ছাড় আমাকে।”মায়া শত চেয়েও ছাড়াতে পারলো না নিজেকে।আর চেষ্টা করার শক্তি টুকু পেলো না।সেতো ভালোবাসে রুদ্রকে।রুদ্রর মাঝে সে নিজেও বিলিন হতে চায়,কিন্তু এভাবে নয়।রুদ্রর এই অবস্থায় নয়।
মায়া আবেগে গা ভাসালো।শান্ত হয়ে গেলো একদম।রুদ্র অমায়িক হাসি দিলো মায়ার দিকে তাকিয়ে। কালবিলম্ব না করে সন্তর্পণে কোলে তুলে নিলো।মায়া খিচে বন্ধ করলো নিজের চোখ।
পিঠের নিচে তুলতুলে বেড অনুভব করতে চোখ খুলে তাকালো।রুদ্র গায়ের উপর আধশোয়া হয়ে, নেশালো দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।
মায়ার লাল হয়ে যাওয়া গালের উপর গভীর ঠোঁট বসালো রুদ্র।মায়া লজ্জায় নিজের চোখের উপর হাত রাখলো।রুদ্র মায়ার চোখের থেকে হাত সরিয়ে হাত দুটো বিছানার সাথে আকড়ে ধরে।
গভীর চুম্বন বসায় মায়ার ঠোঁটে।মায়ার চোখের কার্ণিশ বেয়ে একফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ে।রুদ্র একের পর এক চুমু বসিয়ে দিচ্ছে ঠোঁটের উপর।নিজের আধিপত্য বিস্তার করে, একের পর এক অস্বাভাবিক ছোয়ায় সিক্ত করে মায়ার গলার ভাজে,।রুদ্রর বেসামাল হাতের অযাচিত ছোয়ায় মায়া কুঁকড়ে উঠে।নিজেকে সমর্পণ করে এক যুগ ধরে অপেক্ষা করা তার সবচেয়ে প্রিয় মানুষের নিকট।
,
বাইরে থেকে আসা স্নিগ্ধ, সতেজ,ঠান্ডা বাতাস মুখের উপর আঁচড়ে পরতেই রুদ্রর ঘুম ভেঙে গেলো। কোনোমতে টেনে চোখদুটো খুলে জানালা দিয়ে দৃষ্টি নিক্ষেপ করলো বাইরে।সূর্যের আলোর ছিটেফোঁটাও নেই বাইরে।বৃষ্টির দরুন এখনো বাইরে অন্ধকার হয়ে আছে।ঈষৎ অন্ধকারে সন্ধ্যা নাকি সাতসকাল তা ধারণা করার জো নেই।রুদ্রর গায়ে ব্ল্যাঙ্কেট জড়ানো।কাল রাতের বৃষ্টিতে পরিবেশ শীতল হয়ে আছে। রুদ্র বিছানায় ভর দিয়ে উঠে বসলো।সকাল নাকি সন্ধ্যা বোঝার চেষ্টা করলো। মাথা ব্যাথার কারণে পুরো শরীর অসার হয়ে আছে। মাথার চুল খামচে ধরে বসে থাকলো কতক্ষণ। নিজের দিকে চোখ পরতেই হতবাক হলো রুদ্র।কী হয়েছে কিছুই মনে পরছে না কেন? কাল সন্ধ্যায় পার্টিতে গিয়েছিলো, সেখানে অনেক বেশিই ড্রিংকস করে ফেলেছে।তারপর? রুদ্র একে একে কাল রাতের ঘটনা মনে করার চেষ্টা চালালো।ভাবনার কূল -কিনারা হাতড়ে মনে পরলো কাল রাতে তার নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ঘটে যাওয়া অযাচিত ঘটনাগুলো।
রুদ্র হাত দিয়ে মুখ ঢাকলো।এরকম হওয়ার কী খুব বেশিই প্রয়োজন ছিলো?এখনতো স্বামী -স্ত্রীর মতো সম্পর্কেই পদার্পণ করতে পারলো না।তার আগেই এসব।ও নাহয় ড্রাংক ছিলো,কিন্তু মায়া।মায়াতো নিজের চেতনায় ছিলো।তাহলে কেনো আটকালোনা ওঁকে? আবেগে গা ভাসিয়েছে? হ্যাঁ, সেটাই করেছে। রুদ্রর নিজের উপর সম্পূর্ণ বিশ্বাস আছে।ওযে ড্রাংক অবস্থায়ও মায়ার সাথে জোরজবরদস্তি করতে পারে না সে বিশ্বাস আছে ওর।
রুদ্র বিছানা ছেড়ে উঠে ওয়াশরুমে গেলো।মনের ক্ষোভ রাখতে না পেরে বারকয়েক ঘুষি বসালো ওয়াশরুমের দেয়ালে।নিজের দিকে তাকালেই রাগ উঠছে।আর তার চেয়েও বেশি রাগ হচ্ছে মায়ার উপর।হ্যাঁ,ওরা স্বামী- স্ত্রী। এসব হতেই পারে তাদের মধ্যে। কিন্তু এভাবে কেনো? তার চেতনাহীন অবস্থায় কেনো হলো এটাই মানতে পারছে না সে।রুদ্র ঝর্ণা ছেড়ে দিয়ে দাড়ালো তার নিচে।ঝরনার এক এক ফোটা পানি যেন হৃদয়ের যন্ত্রণা আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে। মায়া ঠিক করলো না এটা।ওর অনুভূতি নিয়ে খেলার হিসাব ওকে দিতেই হবে।
রুদ্র ফ্রেশ হয়ে নিচে নামলো।সবাই টেবিলে বসে সকালের নাস্তা করছে।রুদ্র সকলের সাথে যোগ দিলো।চামচের টুংটাং শব্দ ছাড়া আর কোনো শব্দ হচ্ছে না।রুদ্র খাওয়ার মাঝে তাকালো মায়ার দিকে। মাথা নিচু করে খাচ্ছে।যেন এই মুহূর্তে খাওয়ার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছু নেই। এখন যদি মাথা তুলে কারো দিকে তাকায় তাহলে অনেক বড়ো ক্ষতি হয়ে যাবে।রুদ্র তাকিয়ে থাকলো কিছুক্ষণ। কিন্তু মায়া মাথা তুলে তাকালো না।রুদ্র খাবার শেষ করে রুয়ান চৌধুরীর সাথে অফিসের কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করে উঠে দাড়ালো। মায়া রাফানা চৌধুরীকে কাজে সাহায্য করছে।রাফানা চৌধুরী মানা করলেও শুনছে না।রুদ্রর সামনে দিয়ে রুদ্রকে অদেখা করেই কাজ করে যাচ্ছে। রুদ্র এই অবস্থায় মায়ার সাথে কথাও বলতে পারছে না।রুদ্র আর না পেরে মায়াকে ডেকেই ফেললো
-“একটু উপরে আইতো।হেল্প লাগবে একটু।”
বলেই গটগট পায়ে সিড়ি বেয়ে উপরে চলে গেল। অথৈ সাগরে পরলো মায়া।এখন গেলেও বিপদ না গেলেও বিপদ।রাফানা চৌধুরী কিচেন থেকে বেরিয়ে এসে মায়াকে বললেন
-“কীরে।ডাকলোনা তোকে।উপরে যা,হয়তো কোনো সাহায্য লাগবে”।
-“যাচ্ছি।”
বলেই দোতলায় উঠে কক্ষের সামনে দাঁড়ালো।এতক্ষণ কচ্ছপের গতিতে এসেছে ও।শেষমেশ এসেই গেলো।কিন্তু এখন ঢুকতেই তো কেমন জানি লাগছে!রুদ্রর সামনে কী করে দাঁড়াবে এই চিন্তায় বুকে কাঁপন ধরে যাচ্ছে।মায়া সাহস সঞ্চয় করলো মনের মধ্যে। বুকের মধ্যে ফু দিয়ে আয়াতুল কুরসি পরে ভেতরে ঢুকলো।রুদ্র বিছানার উপর বসে আছে। তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে দেখছে তাকে।মায়ার হার্টবিট বেড়ে গেছে রুদ্রর এই চাহনিতে। তবুও জিহ্বা দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে জিজ্ঞেস করলো
-“ডেকেছিস কেন?”
রুদ্র মায়ার সামনে এসে দাড়ালো। মায়া মাথা নিচু করে আছে।
-“আমার দিকে তাকা।”রুদ্র গম্ভীর স্বরে বললো।কিন্তু মায়া মাথা তুললো না। “তাকাতে বলেছি”।চিবিয়ে চিবিয়ে বললো রুদ্র। কিন্তু মায়া নিজের অবস্থানেই আছে।রুদ্র শক্ত করে মায়ার চিবুক ধরে ওর মুখ উপরে তুললো।চোখে চোখ রেখে বললো
-“কালকে আমি ড্রাংক ছিলাম। নিজের মধ্যে ছিলাম না। তুই জানতিস সেটা।তাঁরপরও বাধা দিসনি কেনো আমাকে?”
মায়া নিশ্চুপ।
রুদ্র আবার বললো
-“তুই এটাও জানিস আমি তোকে আমার বেস্টফ্রন্ড ছাড়া অন্য কিছু ভাবতে পারিনি এখনো।তুই শুধুই আমার ছোটোবেলার বন্ধু। বিয়েটাও তোর ইচ্ছে তে হয়েছে। আমার ইচ্ছে জানার প্রয়োজনবোধটুকু করিসনি।বাবা-মাও আমার উপর যা চাপিয়ে দিয়েছে তা মেনে নেওয়ার চেষ্টা করেছি।কিন্তু বিশ্বাস কর যেখানে আমি এখনো বিয়েটাই মানতে পারিনি সেখানে আমাদের মধ্যে এসব আমি কখনো কল্পনায় করতে পারিনা।মানছি আমি ভুল করেছি কিন্তু তুইতো সেন্স এ ছিলি তাহলে কেন বাধা দিলি না?”
-“আমি বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছি রুদ্র।কিন্তু…. ”
মায়াকে বলতে না দিয়ে রুদ্র বললো
-“কিন্তু আবেগে পরেছিলি তাইতো।বাধা দিতে মন চায়নি পরে আর।”
-“রুদ্র।” কাতর কন্ঠে ডাকলো মায়া।
-“চুপ একদম চুপ।আমার কষ্ট হচ্ছে মায়ু যে তুই এতোটা নিচে নেমে গেছিস।অন্তত বন্ধুত্বের কথাটাতো মনে রাখতে পারতি।কিন্তু এখানেও নিজের ইচ্ছেরই প্রাধান্য দিলি।আমার টা একবারো ভাবলি না।আমি মেনে নিতে পারছি না কালকের রাতের ঘটনা।”
-“রুদ্র। আমার কথাটা শোন অন্তত।”
-“বাদদে। আর কোনো এক্সপ্লেনেশন দেওয়ার কোনো দরকার নেই।বিয়ে যখন হয়েছে তখন তোর দায়িত্ব আমার।আমাকে আমার দায়িত্ব পালন করতেই হবে আমি না চাইলেও।”
-“আমি শুধুই তোর দায়িত্ব?”মায়া ভেজা কন্ঠে বললো।
-” হ্যাঁ।”রুদ্র শক্ত কন্ঠে বলে মায়ার সামনে থেকে চলে যায়। অফিসের জন্য ফরমাল ড্রেস পরে কক্ষ থেকে বেরিয়ে যায়।মায়া শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে।শুধুই দায়িত্ব? রুদ্র বোঝাতে চাইলো যে সবাই মিলে রুদ্রর উপর ওর দায়িত্বের বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে। মায়া মেঝেতে বসে পরে।কষ্ট হচ্ছে বুকের ভিতর।অসম্ভব কষ্ট হচ্ছে।সব দোষ কী শুধু ওর ছিলো?হ্যাঁ।ওর নিজেরই দোষ ছিলো প্রথম থেকে।যা আজকে রুদ্র খোঁটা দিয়ে বলে গেছে।
,
কেবিনে বসে একের পর এক ফাইল উল্টাচ্ছে রুদ্র।কিন্তু কাজে এক অণু পরিমানও মন নেই। হাজার চেষ্টা করেও কাজে মন দিতে পারছে না ও।কী করে পারবে,মেয়েটাকে যে একের পর এক তিক্ত বুলি শুনিয়ে এসেছে।নিশ্চয়ই অনেক কষ্ট পেয়েছে।রুদ্রর নিজেকে নিজে থাপ্রাতে মন চাইলো।কেন যে রাগ কন্ট্রোলে রাখতে পারে না, জানা নেই ওর।মায়ারও বা কী দোষ। ও যে ছোটো থেকেই ইমোশনাল। নিজের ইমোশন কোনো মতেই কন্ট্রোল করতে পারে না ও।
কী আশ্চর্য! এসব কথা তখন মনে আসেনি যখন মায়াকে ইচ্ছেমতো ঝারছিলো।এখন মনে পরে মনের কষ্ট আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।রুদ্র মুঠোফোন হাতে নিল মায়াকে সরি বলার জন্য।কিন্তু কী ভেবেই যেন আবার রেখে দিলো।একেবারে বাড়ি গিয়ে সরাসরি সরি বলবে। কিন্তু মন টিকবে ততক্ষণ?এখনই তো মনটা আকুপাকু করছে ওঁকে দেখার জন্য। গাঢ় বিষাদে ছেয়ে আছে হৃদয় টা।
নিশ্চয়ই মিটিং শেষ করতে অনেক দেরি হয়ে যাবে।এসব ভাবতে ভাবতে দরজায় কেউ নক করলো।
-“স্যার আসতে পারি?”
-“এসো,অশোক।”
অশোক দরজা ঠেলে ভেতরে প্রবেশ করে।রুদ্রর পিএ হিসেবে অফিসে জয়েন করেছে কয়েকদিন আগেই।রুদ্রর সামনে কতকগুলো ফাইল রেখে বললো
-“স্যার ক্লাইন্টরা চলে এসেছে।মিটিং কী এখন শুরু করবেন?”
-“হ্যাঁ।এই ফাইল গুলো একটু চেক করে দাও।”
-“ওকে।”
,
রুদ্র বাড়ি ফিরলো বেশ রাত করে। মিটিং সাকসেসফুল হওয়ার খুশিতে স্টাফরা সবাই মিলে চ্যায়ার আপ করছিলো।অনেকদিনের কষ্টের ফল সবার।নিউ এমডি হওয়ায় সবাই ধরে রেখেছিলো।রুদ্র চেয়েও আসতে পারছিলো না।
বাড়িতে ঢুকেই দেখলো ডাইনিংরুম অন্ধকার। কোনোমতে বাগানের আলো রেখার মতো করে ঢুকছে। পুরো বাড়িতেই শুনশান নিরবতা।রুদ্র দ্রুত পায়ে দোতলায় উঠে। মেয়েটা নিশ্চয়ই এখনো রেগে আছে।খায়নি হয়তো এখনো।ওকে ছাড়া তো কোনোদিন খায়না।রুদ্র কক্ষে ঢুকে দেখলো মায়া নেই। ও ঠিক জানতো মায়াকে কখনই কক্ষে পাওয়া যাবে না।রুদ্র বেলকনিতে দেখে আসলো।সেখানেও নেই।একে একে বাগান, ছাঁদ, ডাইনিংরুম বাড়ির প্রতিটি কোণায় কোণায় খুঁজে ফেললো।কিন্তু কোথাও মায়া নেই।
রুদ্রর বুকের মধ্যে খিচে ধরলো যেন কেও।ভয় হচ্ছে এবার।কোথায় চলে গেলো ওর আবেগী মানুষটা?
চলে গেছে ওকে ফেলে?দায়িত্ব বলার কারণে রাগ করে কোথাও চলে গেছে? কী করে যেতে পারে মায়া ওকে ফেলে?ও না বলতো রুদ্রকে ভালোবাসে ও।যায় হয়ে যাক না কেন রুদ্রকে ছেড়ে যাবে না,যতই কষ্ট দিক না কেন দাঁতে দাঁত চেপে পরে থাকবে এখানে।
তাহলে শুধুমাত্র এক ঝগড়ায় কী করে ফেলে চলে যায় ওকে?রুদ্র রাফানা চৌধুরীর কক্ষে উঁকি দিলো।তার মা-বাবা বসে কিছু নিয়ে কথা বলছে।রুদ্র পারমিশন নিয়ে ভেতরে ঢুকলো।তড়িঘড়ি করে জিজ্ঞেস করলো
-“মায়া কোথায় আম্মু?”
-“ও কোথায় সেটা জেনে তুমি কী করবে?”
-“মানেটা কী?ও কোথায় সেটা জানতে পারবো না আমি?”
-“না পারবে না।ওর সাথে ঝামেলা করার আগে তোমার মনে রাখা উচিত ছিলো যে, ওর কথা তোমার মনে পরতে পারে বা তুমি ওঁকে ছাড়া থাকতে পারবে না।”
রুদ্র অবাক হলো।রাফানা চৌধুরীর তো জানার কথা না ওদের ঝগড়ার কথা।মায়া নিজেও কখনো বলবে না এসব কথা।রুদ্র মনে মনে এসব ভেবে আবার বললো
-“ওর সাথে কোনো ঝামেলা হয়নি আমার।তুমি আমাকে বলো কোথায় ও?”
-“বাবার বাড়ি চলে গেছে ও। মুস্তাফিজ এসে নিয়ে গেছে ওকে।”রুয়ান চৌধুরী গম্ভীর কন্ঠে বললেন।
-“কেন চলে গেছে? আর কোনোদিন আসবে না এ
বাড়িতে?”অবিশ্বাস্য কন্ঠে বললো রুদ্র।
-” না।একেবারের জন্য চলে গেছে।”
-“পুতুল খেলা নাকি এটা,যখন ইচ্ছে আসবে আবার যখন ইচ্ছে চলে যাবে?আমি ওর পুতুল?যেভাবে মন চায় সেভাবে মন মর্জি করবে আমার সাথে?আমার ফিলিংস এর কোনো দাম নাই?” নাক ফুলিয়ে বললো রুদ্র।
রুয়ান চৌধুরী নির্লিপ্ত দৃষ্টিতে তাকালেন।বললেন
-“তুমি যদি ওর সাথে থাকতে না পারো তবেতো ওকে না পেরে চলে যেতেই হবে।”।
রুদ্র এক অসীম কষ্ট নিয়ে তাকিয়ে থাকে দুজনের দিকে।বড্ড অসহায় লাগে নিজেকে।কিছু না বলেই কক্ষের বাইরে পা বাড়ায়।
-“কোথায় যাচ্ছো এখন?”রাফানা চৌধুরী পেছন থেকে জিজ্ঞেস করেন।
-“মায়ার বাপের বাড়িতে।”বলেই রুদ্র বড় বড় পা ফেলে বেরিয়ে যায়।
রুদ্র দৃষ্টিসীমার বাইরে চলে গেলেই দুজনে হেঁসে দেয়।রুয়ান চৌধুরী রাফানা চৌধুরীকে উদ্দেশ্য করে বলেন
-“বলেছিলাম না।ছেলেটা একটা দিনও থাকতে পারবে না মায়াকে ছাড়া।”
-“তাইতো দেখছি।মায়ার মন খারাপ দেখেই বুঝেছিলাম দুজনের মধ্যে কিছু একটা হয়েছে।আর সেটা নিশ্চয়ই সিরিয়াস কিছু।তারপর যখন মুস্তাফিজ ভাইয়া বলার সাথে সাথেই মায়া যেতে রাজি হয়ে গেলো,রুদ্রকে বলা ছাড়াই তখন আরো বেশি শিওর হয়েছি।”
-“হুম।আমার ছেলেটা এবার তার আসল ভালোবাসা বুঝুক,এটুকুই চাইবো ।”
-“মানুষ তার আসল ভালোবাসা দেরিতে হলেও বোঝে।শুধু আমার ছেলেটা বুঝতে দেরি না করুক।”
‘
‘
#চলবে

