#উৎসর্গ
#পর্ব:১৫
#তানজিনা ইসলাম
মায়ার বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ক্রমাগত বেল বাজাচ্ছে রুদ্র।কীভাবে যে এসেছে ও, তা একমাত্র ওই জানে।এমনভাবে এসেছে যেন গাড়ি চালিয়ে নয় উড়িয়ে এনেছে।রুদ্র নিজের হাতের ঘড়ির দিকে তাকালো।রাত একটা বাজে।এতো রাতে এভাবে আসা একদমি ঠিক হয়নি।নিশ্চয়ই বাড়ির সবাই ঘুমিয়ে গেছে।যেখানে বাড়ির দারোয়ানই নাক ডেকে ঘুমাচ্ছে, সেখানে বাড়ির মানুষগুলো আর জেগে থাকবে কীভাবে? কিন্তু ওই বা কী করতো?মায়াকে সরি না বলা পর্যন্ত যে মনের শান্তি আসছে না।মেয়েটা পেয়েছে টা কী ওঁকে?এই বিয়ে করছে এই ছেড়ে চলে আসছে!যেন ওর অনুভূতি, মতামতের কোনো দামই নেই।সব ফিলিংস খালি ওর!
রুদ্র একবার ভাবলো ওইদিনের মতো পাইপ বেয়ে উঠবে।কিন্তু এতোবার বেল দিয়ে দিয়েছে।কারো না কারো ঘুম ভেঙেছে নিশ্চিত। রুদ্র দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ ভাবলো কী করবে?রুদ্রর ভাবনার মাঝেই মাহেরা খান এসে দরজা খুললো।রুদ্রকে দেখে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকলো কতক্ষণ। রুদ্র হেসে দিয়ে বললো
-“ঢুকতে দিবে না,মামনি?”
মাহেরা খান দরজা থেকে সরে দাঁড়ালেন।রুদ্র বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে তার মামনিকে জড়িয়ে ধরে।মাহেরা খান মুচকি হাসেন।রুদ্র ঠোঁট উল্টে বললো
-“মামনি।আমার মনে হচ্ছে তুমি আমাকে দেখে খুশি হওনি।”
-“খুশি হবো না কেন বাবা?অনেক খুশি হয়েছি।বিয়ের পরতো এই প্রথম এলে।আসলে এতো রাতে তোমাকে দেখে অবাক হয়ে গিয়েছিলাম।”
-“অফিস থেকে ফিরতে দেরি হয়ে গিয়েছিল অনেক।বাড়িতে গিয়ে ড্রেস পর্যন্ত বদলাইনি।সোজা এখানে চলে এসেছি।তোমরা মনে হয় ঘুমিয়ে গিয়েছিলে।বিরক্ত করলাম?”
-“ছি!বিরক্ত হবো কেন। আমরা জেগেই ছিলাম।ভালোই করেছো চলে এসে।এমনিতেই অফিসের জন্য আসতে পারো না।বসো এখানে।”
মাহেরা খান সোফায় বসতে বসতে বললেন।রুদ্রর এক্ষুনি মায়ার সাথে দেখা করতে মন চাইছে।ছটফট করছে হৃদয়টা।তবুও কথা অমান্য করলো না। সোফায় বসলো মাহেরা খানের মন রাখার জন্য। মাহেরা খান হাসি মুখে বললেন
-“কী খাবে বলো? ”
-“কিছু খাবো না মামনি।খেয়ে এসেছি।”রুদ্র মিথ্যা বললো।কারণ এখন যদি খেতে বসে তাহলে মায়ার সাথে দেখা করতে দেরি হয়ে যাবে।
-“এইতো বললে যে বাড়িতে গিয়ে নাকি ড্রেস ও বদলাওনি।”
-“বাড়িতে খাইনি। আসলে আমার খেতে মন চাচ্ছে না।বাইরে থেকে খেয়ে এসেছি।”
-“তাই বলে কিছুই খাবে না রুদ্র?”
-“খাবো না মামনি।মায়া কোথায়?”রুদ্র মিনমিন করে বললো।
-“ওতো ঘুমোচ্ছে।”
-“এত তাড়াতাড়ি ঘুমোচ্ছে মামনি?”রুদ্র অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে।
-“এতো তাড়াতাড়ি কই?রাত দেড়টা বাজতে চললো।”
-“মামনি এটা বলো না।তোমার মেয়েকে নিশাচর বললেও ভুল হবে না।সারারাত জেগে মোবাইল টিপে ও।আর পুরোদিন ঘুমায়।”
-“সেটাতো জানি।আসলে আমার মেয়েটা অসুস্থ রুদ্র।”
-” কী হয়েছে?সকাল পর্যন্ত তো ঠিকই ছিলো।”রুদ্র আতঙ্কিত হয়ে জিজ্ঞেস করে।
-“আর বলো না,বিপি লো হয়ে গেছিলো।জ্বরও উঠেছে হালকা।ডাক্তার বলেছে কিছু নিয়ে টেনশন করছিলো হয়তো।”
-“এতো কীসের টেনশন তোমার মেয়ের?এই বয়সে কী নিয়ে এতো প্যানিক করছে?”
-“জানি না রুদ্র।তুমি তো জানো দুদিন পরপর অসুস্থ হয়ে পরে ও।তাও কয়েকদিন একটু সুস্থ ছিলো সেটাও সহ্য হলো না ওর।কী নিয়ে টেনশন করছে কে জানে?ছোটবেলা থেকেই তো অনেক কমপ্লিকেশন নিয়ে বড় হয়েছে আমার মেয়েটা।ভয় লাগে রুদ্র।যদি কোনোদিন কিছু হয়ে যায় ওর।”মাহেরা খান মন খারাপ করে বললেন।
রুদ্র বিচলিত হলো। দ্রুত বললো
-“মামনি প্লিজ।কী বলছ এসব। কিচ্ছু হবে না ওর।আমি কিছু হতে দেব না।তুমি চিন্তা করোনা তো।”
-“তুমি খেয়াল রাখবে তো রুদ্র ওর?সারাজীবন দেখে রাখবে তো ওকে?তুমি তো জানো ও অন্যদের মতো স্বাভাবিক না, একটু কিছু হলেই অসুস্থ হয়ে পরে ও। কোনোদিন শাসন করিনি ওকে রুদ্র,তাই হয়তো একটু অবাধ্য।তোমাকে অনেক জ্বালায়,আমি জানি সেটা।কিন্তু তুমি একটু বুঝিয়ে বললেই হবে,তোমার সব কথা শুনবে ও।”
-“ও আমার সাথে যাই করুক না কেন মামনি,দিনশেষে শুধু একটা কথাই সত্যি। ও আমার বন্ধু।আর বন্ধুদের সাথে কখনো বুঝিয়ে কথা-বার্তা হয় না।সোজা মারপিট হয়।আমি দেখে রাখবো মামনি ওঁকে। কথা দিলাম তোমায়।” মাহেরা খানের হাত ধরে বললো রুদ্র।মাহেরা খান মুচকি হেসে মাথা নাড়ায়।
-“আচ্ছা তাহলে এবার উঠা যাক।নিশ্চয়ই অনেক ক্লান্ত তুমি।”
বলেই মাহেরা খান দাড়িয়ে যান।রুদ্র নিজেও উঠে দাড়ালো।
আঁজলাভাবে বন্ধ দরজা খুলে রুদ্র মায়ার কক্ষে ঢোকে।
পা টিপে টিপে মায়ার বেডের কাছে যায়।ডিমলাইটের আলোয় ঘরের সবকিছু রঙিন দেখাচ্ছে।রুদ্র মায়ার পাশে বসে পরে। অঘোর ঘুমে ঘুমোচ্ছে মায়া।চুলগুলো মুখের সামনে পরেছে।রুদ্র আলতো হাতে চুলগুলো সরিয়ে কানের পিছনে গুঁজে দিলো।মুখটা মলিন হয়ে আছে।রুদ্র মায়ার গালে হাত রাখলো, ফিসফিস করে বললো
-“সরি,জান।”
মায়ার পাশে শুয়ে,একটানে মায়াকে বুকের মধ্যে নিয়ে নিলো রুদ্র।কপালে হাত দিয়ে দেখলো হালকা জ্বর আছে এখনো।মায়া শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো ওঁকে।রুদ্র আলতো করে মায়ার মাথায় চুমু খেলো।তারপর নিজেও ঘুমের রাজ্যে পাড়ি জমালো।
,
মায়ার ঘুম ভাঙলে রুদ্রকে দেখে অবাক হলো।সে রুদ্রর বুকের উপর ঘুমোচ্ছে। গায়ে এখনো অফিসের ফর্মাল শার্ট জড়ানো।মায়া ফোন বের করে দেখলো এখনো সকাল সাতটা। এই সাতসকালে রুদ্র কী করে আসবে? আচ্ছা ওকি হ্যালুসিনেশনে ভুগছে?রুদ্রর মুখে হাত বুলিয়ে ভাবুক হলো মায়া।ওর ভাবনার মাঝেই রুদ্র বললো
-“স্বপ্ন না। সত্যিসত্যিই এসেছি আমি।”
মায়া অবাক হলো।এক্ষুণি তো ঘুমচ্ছিল ছেলেটা। উঠলো কখন?রুদ্র শোয়া থেকে উঠে বসে।মায়ার দিকে তাকিয়ে বলে
-“কীরে?কই হারায় গেলি?”
-“তুই এত সকালে এখানে?”
-“আমার শ্বশুর বাড়ি। আমি যখন মন চায় তখনই আসতে পারি।এখানে তোর সমস্যা হওয়ার তো কোনো কথা না।”
-“সমস্যা কই বললাম?কিন্তু এতো সকালে তোকে এখানে দেখে অবাক হয়েছি ।”
-“আমি কাল রাতেই এসেছি। তুই ঘুমোচ্ছিলি তাই আর ডাকিনি।মামনি দরজা খুলে দিয়েছিলো।”
রুদ্র মায়ার কপালে হাত দিয়ে চেক করলো।এখন নরমাল টেম্পারেচারে আছে,তার মানে জ্বর কমে গেছে।
-“এখনোতো অফিসের শার্টই বদলাসনি।” অবাক স্বরে বললো মায়া।
-“আমিতো কোনো কাপড় নিয়ে আসিনি মায়ু।আর তাছাড়াও আমার রাতে অনেক ঘুম পাচ্ছিলো। তাই ঘুমিয়ে পরেছি।”
-“ডেকে দিতে পারতি আমাকে।”
-“তুই নাকি অসুস্থ ছিলি।তাই আর ডাকিনি।”
-“হুম।”
-“এতো কীসের টেনশন তোর?না,আমাকেও বল এই বয়সে কীসের চিন্তা? ”
-“কে বললো যে চিন্তা করলাম?”
-“ডক্টর বলেছে। মায়া,নিজের ফালতুমি বন্ধ কর তুই! কীসের চিন্তা করছিস?আবার প্যানিক অ্যাটাক করার শখ হয়েছে তোর! আর তোর সাহস কী করে হলো আমাকে না জানিয়ে চলে আসার?”
-“জানাতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তোর মোবাইল অফ ছিলো।”
-“মিটিং এ ছিলাম,তাই সুইচড অফ করে রেখেছিলাম। কল ধরিনি বলে এভাবে চলে আসবি?যদি এতই আসতে মন চাইতো,দুজনে একসাথে আসতাম।”
-“সরি।”মায়া মাথা নিচু করে বললো।
মায়া পা ঝুলিয়ে বসে ছিলো বিছানার উপর। রুদ্র এগিয়ে এসে বেডের সামনে বসে মায়ার হাঁটুতে মাথা রেখে জড়িয়ে ধরলো ওঁকে।মায়া রুদ্রর সিলকি চুলে হাত রাখলো। রুদ্র জড়িয়ে ধরা অবস্থায় বলে উঠলো
-“সরি বলছিস কেন?সরি তো আমি বলতে এসেছি।দোষতো আমি করেছি।”
-“কোনো দোষ করিসনি তুই। ভুলটা আমারই ছিলো।আসলেই তো আমার একটু বেশিই।”
-“উহু।ভুল শুধু তুই একা করিসনি আমিও করেছি।তারপরও আমি তোকে কথা শুনিয়েছি।প্লিজ মাফ করে দে।”রুদ্র মাথা তুলে মায়ার মুখের দিকে তাকিয়ে বললো।”
মায়া মুচকি হাসলো। রুদ্রর গাল টেনে দিয়ে বললো
-“আমি রাগ করিনি রুদ্র।কিন্তু আমার কষ্ট লাগছিলো খুব। তাই চলে এসেছি।”
-“কষ্ট পাওয়ার মতোই কথাগুলো শুনিয়েছি।যার কোনো ভিত্তি ছিলো না।বিশ্বাস কর একটা কথাও মন থেকে বলিনি।তুইতো জানিস তোর রুদ্র রাগলে ভেবে কথা বলেনা।ওসব রাগের বশে বলেছি মায়ু।প্লিজ, মনে কোনো কষ্ট রাখিস না।যদি তোর কষ্ট লাগে তাহলে আমার উপর ঝেরে ফেল।মনের মধ্যে জমিয়ে রাখলে কষ্টগুলো আরো বেড়ে যাবে।”
-“আরে ইয়ার।কোনো কষ্ট রাখিনি মনের ভেতর।এটা তোর সৌভাগ্য যে আমি কষ্ট পেয়ে এখানে চলে এসেছি।কারণ আমি যদি বাড়িতে থাকতাম তবে তোর থাকা কষ্ট হয়ে যেতো।
-“তুই মারলে মনে হয় আমি বসে থাকতাম।”
-“বসে থাকতি কিনা জানিনা।কিন্তু আমি মারা শুরু করলেও বকা কিন্তু তুই খেতি।”
-“তা তো জানি।মা-বাবা তো আমার দোষই দেখে শুধু।তুই আমাকে খুন করলেও বলবে, নিশ্চয়ই রুদ্রর কোনো দোষ ছিলো নয়তো মায়া খুন করবে কেন?”
মায়া অট্টহাসি দিয়ে বললো
-“ঠিক বলেছিস।দেখ, একটা কথা বলি তোকে।আমি জানি যে আমি তোকে জোর করে বিয়ে করেছি।সেটা বার বার মনে করিয়ে দেওয়ার দরকার নেই আমাকে।তুই চাইলেও আমার সাথে থাকতে হবে আর না চাইলেও।এই জনমে ছাড়ছি না তোকে।”
রুদ্র হতাশ হয়ে তাকিয়ে থাকলো মায়ার দিকে।কুত্তার লেজ যেমন কোনোদিন সোজা হবেনা,তেমনই মায়াও কোনোদিন বদলাবে না,না কোনোদিন শোধরাবে।যেভাবে ছোটেবেলা থেকেই মায়ার কথা শুনে এসেছে,এখনো সেভাবেই শুনতে হবে।
,
মায়া মুখ কালো করে রুদ্রর পাশের সিটে বসে আছে।রুদ্র ড্রাইভিং করার ফাঁকে ফাঁকে মায়াকে দেখছে।এখন ওরা দুজনে চৌধুরী ম্যানশনে ফিরে যাচ্ছে।মায়া অনেক করে থাকতে চেয়েছিলো বাড়িতে।এমনকি তার মা-বাবা ও রুদ্রকে বলেছে কয়েকদিন বেড়িয়ে চলে যাবে ও। কিন্তু রুদ্র শোনেনি।জোর করে নিয়ে এসেছে ওকে।
-“মুখে ঠাডা পরেছে নাকি তোর।এমন করে আছিস কেন?”রুদ্র সামনের দিকে তাকিয়ে বললো।
-“আমি যেমন করেই থাকি তাতে তোর কী?তুই নিজের কাজ করনা।”মায়া রেগে বলে উঠে।
-“রাগ করছিস কেন?আবার কয়েকদিন পর গিয়ে থেকে আসিস।আমি নিয়ে যাবো তোকে।”
-“কিন্তু আমিতো আজকে থাকতে চেয়েছিলাম।আম্মুর কথা মনে পড়ছে অনেক।”
-“মন খারাপ করিস না জান।আবার নিয়ে যাবো তোকে।”
মায়া আর কিছু বললো না।সিটে হেলান দিয়ে বসে থাকলো।
,
সময় এবং স্রোত কারো জন্য অপেক্ষা করে না।সময় তার মতো করে চলে যাবে এবং মানুষের জীবন-যাত্রার পরিবর্তন ঘটাবে।দেখতে দেখতে কেটে গেছে পাঁচ মাস।এই পাঁচ মাসে রুদ্র আর মায়ার জীবনের তেমন কোনো পরিবর্তন না ঘটলেও অনেক কিছুই পরিবর্তন হয়েছে। রুদ্ররটা জানা জেনে নেই তবে মায়ার ভালোবাসা আর পাগলামো বেড়েছে আরও শতগুণ। এখন সে আরও বেশি আসক্ত হয়ে পরেছে রুদ্রর উপর। খুনসুটি, ঝগড়া আর ভালোবাসায় পরিপূর্ণ হয়েছে তাদের সংসার।তবে এখনো মায়া বুঝতে পারে না রুদ্রকে।সে কী ভালোবাসতে পেরেছে মায়াকে?মায়ার জানা নেই তা।তবে যতটুকু পেয়েছে তাতেই মায়া খুশি।হয়তো রুদ্র এখনো তাকে বন্ধুর মতোই ভালোবাসে ।তাঁরপরও মায়ার এটুকুই স্বপ্ন ছিলো, রুদ্রর সাথে সুখের সংসার পাতানো।যা পেয়েছে সে।আর কিছুই চাওয়ার নেই তার।
এখনো আরশি রুদ্রর সাথে কথা বলার চেষ্টা করে ভার্সিটিতে।কিন্তু ওর বন্ধুদের জন্য পারে না।কেও কথা বলার সুযোগই দেয়না আরশিকে।
মায়া আর রুদ্র ভার্সিটিতে যায়নি আজকে। সকালে রুয়ান চৌধুরী দুজনের সাথে ডাইনিংরমে বসে আছে।রাফানা চৌধুরী চা দিচ্ছেন সকলকে।রুয়ান চৌধুরী আর মায়া সোফায় বসে গল্প করছে। আর রুদ্র বসে বসে মোবাইল টিপছে। কলিংবেলের আওয়াজে তিনজনের মনোযোগ ক্ষুন্ন হয়।
-“এই সকালে কে এলো আবার?”রুদ্র চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে বললো।
-“সেটা আমরা কী করে জানবো?তুমি যেখানে বসে আছো আমরাও সেখানে বসে আছি।”রুয়ান চৌধুরী রুদ্রর দিকে তাকিয়ে বলেন।
-“আমি যাচ্ছি।”বলেই মায়া চায়ের কাপ রেখে উঠে দাড়ায়।
দরজা খুলে দিয়ে দেখে রাহুল দাঁড়িয়ে আছে। মায়া খুশি হয়ে বলে
-“আরে তুই। আয় ভেতরে আয়।”
পেছন থেকে রুদ্র জিজ্ঞেস করে
-“কে এসেছে মায়ু?”
-“রাহুল এসেছে।”বলেই মায়া রাহুলের দিকে তাকায়। রাহুল এখনো বাইরে দাঁড়িযে আছে।ঘেমে নেয়ে একাকার ছেলেটা। কিছু একটা বলার চেষ্টা করছে
-“কীরে ভেতরে আয়।আর এমন করছিস কেন তুই?কিছু হয়েছে?
রাহুল বিচলিত হয়ে বললো
-“একটা কাহিনি ঘটে গেছে রে? ”
-“কী হয়েছে?”
-“আরশি।”
-“আরশির আবার কী হলো?”
-“আরশি সুই*সাইড করেছে।”
#চলবে

