#উৎসর্গ
#পর্ব:২
#তানজিনা ইসলাম।
অতীত…..
গ্রীষ্মের প্রচন্ড দাবদাহে জনজীবন অতিষ্ঠ। সকাল ৮ টা বাজেও রোদের তেজ প্রখর। চট্টগ্রাম শহরের ব্যাস্ত রাস্তা।সাউন্ড বক্সে ফুল ভলিউমে গান বেজে চলেছে।মনোযোগে ড্রাইভিং এ ব্যাস্ত মায়া।স্টিয়ারিং ঘোরাচ্ছে আর নিঃশব্দে ঠোঁট নাড়িয়ে গানের সাথে সাথে তাল মেলাচ্ছ।ফোনের রিংটোনে মনোযোগের ব্যাঘাত ঘটলো ওর ।ভলিউম কমিয়ে দিয়ে কল রিসিভ করলো।ব্লুটুথ কানেক্ট করতেই ওপাশ থেকে কেও তড়িঘড়ি করে বললো
-“কোথায় তুই??”
-“এইতো রাস্তায়। আসছি। কেন কিছু হয়েছে??”
-“কী হয়নি সেটা বল!সিনেমা হচ্ছে বন্ধু।তুমুল মারপিট লেগেছে ক্যাম্পাসে। অনেকেই হতাহত।রোহানদের গ্যাং এর সাথে রুদ্রর ঝামেলা লেগেছে।আর তুই তো জানিস বন্ধুর ঝামেলা মানে আমাদের ঝামেলা।”
-“ওহ শিট!রাহুল, রুদ্রর কিছু হয়নি তো? তোরা ঠিক আছিস তো সবাই?”আতঙ্কিত হয়ে বললো মায়া।
ফোনের ওপাশ থেকে প্রচুর চিৎকার চেঁচামেচির আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। রাহুল কথা বললো না অনেক্ষণ। মায়া আবারো চিন্তিত স্বরে বললো
-“হ্যালো, হ্যালো রাহুল।ভয় হচ্ছে আমার দোস্ত। ঠিক আছিস তো তোরা।রুদ্র কই?ওর কিছু হয়নি তো?”
-“তোর কী মনে হয়,আমরা ওর কিছু হতে দেব?এখন সেইভ জোনে থেকে ঢিল ছুড়ছি ওঁদের কে!সবগুলোর মাথা ফাটাবো একে একে।আমাদের সাথে পাঙ্গা নেবে, তাই না !সবগুলো কে হসপিটালে ভর্তি করাবো আজকে।তুই জলদি আয়!”
-“আচ্ছা, আমি আসছি।কিছু সাসপেন্স বাকি রাখিস আমার জন্য! ”
চিন্তিত ভঙ্গিতে গাড়ির স্পিড বাড়ালো মায়া।যত দ্রুত সম্ভব পৌঁছাতে হবে।সাসপেন্স মিস করা যাবে না কোনোমতেই। বন্ধুদের পক্ষ থেকে কয়েকটা ঢিল ওঁকেও ছুড়তে হবে।আবার রুদ্রর জন্যও চিন্তা হচ্ছে।যদিও এসব ওরা হরহামেশাই করে থাকে।তবুও!মারমারি করে শ’খানেক জখম নিয়ে ফিরবে ছেলেটা।মায়ার সহ্য হবে না সেসব!রাহুলের কন্ঠও কেমন জানি লাগছিল। ওরা ঠিক আছে কিনা কে জানে!
,
ভার্সিটির মূল ফটকের বাইরে গাড়ি এসে থামতেই নামলো মায়া।ফটকের ওপর গোটা গোটা অক্ষরে লেখা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।চারপাশে নজর ঘুরিয়ে বায়োক্যামিস্ট্রি ডিপার্টমেন্টের দিকে এগিয়ে গেলো ও।পরিবেশ শান্ত।
রাহুলেন স্বীকারোক্তি অনুযায়ী যেমন হওয়ার কথা ছিলো তেমন না।কোনো জটলা নেই, চেঁচামেচি নেই।ঘূর্ণিঝড় বইয়ে যাওয়ার পর পরিবেশের যেমন শান্ত রূপ থাকে তেমনই।
দ্রুত পা চালিয়ে হাঁটে মায়া।এদিক ওদিক তাকায়। না তার বন্ধুদের কাউকে দেখা যাচ্ছে না।সিড়ি বেয়ে উঠার সময় চোখ পরে,রেলিঙের পাশে উদাস দাঁড়িয়ে থাকা আরশির দিকে।মেয়েটা কাঁদছে, চোখ মুচছে বারংবার।ওর বন্ধু গ্যাং ঘিরে আছে ওঁকে।না চাইতেও কিছু কথোপকথন শুনতে পেলো মায়া। আরশি রেগে বলছে
-“আমার রুদ্রকে মারার সাহস কী করে হয় ওই রোহানের? বেয়া*দব!ওর হাত কেটেছে রে অনেক।র*ক্ত ঝরছিলো।আল্লাহ! কীভাবে ব্যাথা পেয়েছে আমার জান টা!”
-“আরে রুদ্র ভাইয়া ওই রোহানকে আরো বেশি মেরেছে।রুদ্র ভাইয়ার মারের চোটে ওই রোহান ওঠার শক্তি পর্যন্ত পাচ্ছিল না।
-“তুই কাঁদিস না আরশি।কিচ্ছু হবে না রুদ্র ভাইয়ার।”
আরশির বন্ধুরা স্বান্তনা দেয় এসব বলে। কিন্তু আরশির কান্না থামে না।চোখ দিয়ে অবিকল ধারায় অশ্রু গড়ায়।ভেজা গলায় অসহায় ভাবে আওড়ায়
-“যদি রেড টিসি দিয়ে দেয়?আমি কী করে থাকবো ওঁকে ছাড়া?” রেলিঙের উপর মাথা ঠেকালো আরশি।
এতো পিরিতি দেখে বুক জ্ব*লে গেলো মায়ার। হাত মুষ্টিবদ্ধ করে,মুখ বাকিয়ে বললো
-“ন্যাকা’।
দৌড়ে সিড়ি বেয়ে উপরে উঠে দোতলায় নিজেদের ক্লাসে যায় ও। মায়া এবারে ফোর্থ ইয়ারের স্টুডেন্ট। ক্লাসে গিয়ে দেখে ক্লাসে হাতে গোনা কয়েকজন স্টুডেন্ট আছে।তারা গল্পে মশগুল। দিন-দুনিয়া নিয়ে আহামরি মাথা ব্যাথা নেই তাদের।এমন কিছু এলিয়েন থাকে আসলে, দুনিয়া উল্টে যাক,এদের গল্প শেষ হয় না।
ব্যাগ টা টেবিলে রেখে, নিজের পরিচিত ব্যাগ গুলো খোজে। কিন্তু কোথাও তাদের ব্যাগ নেই।পুনম নামের একজন মেয়ে কে ডাকলো মায়া।মেয়েটি এগিয়ে আসতেই জিজ্ঞেস করে
-“এই পুনম। ক্লাসের সবাই কই রে?
-“সবাই সাত তলায়। রুদ্র আর রোহানকে প্রিন্সিপাল স্যার তার অফিসে ধরে নিয়ে গেছে।”
-“কী বলিস?প্রিন্সিপাল স্যার নিশ্চয়ই অনেক খেপেছেন। ”
-“হ্যাঁ।অনেক। প্রিন্সিপাল স্যার না গেলে তো খু*নখু*নী হয়ে যেত।তিনি গিয়েই থামিয়েছে।মারামারি থামিয়ে, রেগে ফায়ার হয়ে কলার ধরে নিয়ে গেছে দু’জনকে। নির্ঘাত টিসি খাবে!”
মায়া চিন্তিত হয়। পুনম কে কিছু বলতে না দিয়ে বেরিয়ে যায় কক্ষ ছেড়ে।লিফ্টের সাহায্যে সাত তলায় এসে পৌঁছালো মায়া। বারান্দায় পা দেওয়ার যায়গা নেই। স্টুডেন্টদের উপচে পরা ভীড়।গিজগিজ করছে মানুষে।মাথা উঁচিয়ে কোনোমতে ওর বন্ধুদের খোঁজে। একসময় পেয়েও যায়। ভীড় থেকে একটু দুরে ছাঁদের সিড়ির কাছাকাছি দাড়িয়ে আছে ৫ জন।রাহুল,আরিয়ান, রুহানি,রিয়ানা আর সাহিল দাঁড়িয়ে আছে।কিছু নিয়ে নিজেদের মধ্যে কথা বলছে ওরা। ভীড় ঠেলেঠুলে ওদের কাছে এগিয়ে গেলো মায়া।
রাহুল রেলিঙের সাথে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলো। মাযাকে দেখতেই মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়ালো। বললো
-“এতক্ষণে আসার সময় হলো তোর। কখন কল করেছি।”
-“তোদেরকেই খুজছিলাম। এসেছি অনেক্ষণ হলো।কিন্তু তোরা এখানে কী করছিস? রুদ্র কই?”
-“প্রিন্সিপালের অফিসে।”
-“এখনো বেরোয়নি?”
-“না!” দু’পাশে মাথা নেড়ে বললো রাহুল।
-“এতো ভীড় কেন এখানে?” আশেপাশে তাকিয়ে বললো মায়া।
-“নাটক দেখতে এসেছে সবাই!” বিরক্তি নিয়ে বললো রুহানি।
আরিয়ান মুখ বিকৃত করলো।গমগমে স্বরে বললো
-” এদের চেচামেচিতে কান ঝালাপালা হয়ে গেল।এক্ষুনি রফিক স্যার আসলো বলে।”
তক্ষুনি রফিক স্যার এসে ধমক দিল সবাইকে।ওঁদের বায়োক্যামিস্ট্রি ডিপার্টমেন্টের হ্যাড।মেজাজ সবসময় খিটখিটে থাকে।রাগ থাকে নাকের ডগায়। উঠতে বসতে ধমকায় সবাইকে। কাল বিলম্ব না করে সবাইকে নিচে যেতে আদেশ দিল সে।তার আদেশ অমান্য করবে এমন সাধ্যি নেই কারো।অগত্যা জটলা বেঁধে নিচে নামতে আরম্ভ কররো সবাই।
-“বলতে না বলতেই। ” নাক কুঁচকে বললো আরিয়ান।
রাহুল বিরক্তির স্বরে বললো
-“এই টাকলা আমাদের একটুও শান্তিতে থাকতে দিবে না। এই সবাই চলত নিচে।”
-“রুদ্রকে ফেলে চলে যায় কী করে?ভেতরে কী হচ্ছে কে জানে??” চিন্তিত স্বরে বললো মায়া।
রফিক স্যারের চোখ পরলো ওঁদের দিকে। ধমক দিয়ে বললো সবাইকে
-“নিচে যেতে বলেছি সবাইকে। তোমরা দাঁড়িয়ে আছো কেন?”
অদৃষ্টে মুখ বাকালো সবাই।নামতে যাবে, তখনই রুদ্র আর রোহান বেরিয়ে আসে অফিস কক্ষ হতে।দু’জনের গায়ে জ*খম।গায়ের বিভিন্ন অংশে কেটে গেছে।তবুও মুখের কাঠিন্য ভাব সরেনি।প্রিন্সিপালের এতো গা*লি, থ্রেট খেয়েও একটু অনুতপ্ত না ওরা।উল্টো চোখ দিয়ে ভ*স্ম করে দিচ্ছে একজন আরেকজনকে। চোখের ইশারায় খুন করে ফেলতে চাচ্ছে।রাহুল দৌড়ে যায় রুদ্রর কাছে।গায়ে হাত দিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে বলে
-“সব ঠিক আছে তো দোস্ত?
টুপটুপ করে র*ক্ত ঝরছে রুদ্রর হাত থেকে।চেপে রাখা টিস্যুটা র*ক্তে ভিজে চপচপে হয়ে আছে।অথচ মুখে ব্যাথার কোনো রেশ নেই।যেন কিছুই হয়নি।চ-বর্গীয় শব্দ করলো রুদ্র।কন্ঠে অহং ঢেলে বললো
-“আরে হ্যাঁ!কারো সাধ্য আছে নাকি আমাকে কিছু করার!”
মুখ বাকালো রোহান।রুদ্রকে আরেকটা ঘুষি মারার ইচ্ছে পোষণ করলো মনে মনে। তবে স্যার উপস্থিত থাকায় নেটা সম্ভব হয়ে উঠলো না।রুদ্র অতিষ্ঠ হয়ে বললো
-“বাদ দে তো এসব, নিচে চল।”
একসাথে নিচে নামলো সবাই।মায়া এদিক ওদিক তাকিয়ে বললো
-“চল ক্যান্টিনে গিয়ে বসি।”
তখনই কোত্থেকে আরশি দৌড়ে এসে ঝাপ্টে জড়িয়ে ধরলো রুদ্রকে।রুদ্র পরতে পরতে সামলালো নিজেকে।সেকেন্ডেই কী ঘটে গেলো তা বুঝে উঠতে সময় রাগলো কিছুক্ষণ!ফুঁপিয়ে কেঁদে দিলো আরশি।কাঁদতে কাঁদতে বললো
-“তোমার কিছু হয়নি তো রুদ্র। ঠিক আছো তো তুমি?”
রুদ্র আড়চোখে তাকালো মায়ার দিকে। মায়া শান্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।ভয়ার্ত ঢোক গিললো রুদ্র।সকালে অনেক মার পড়েছে।এখনো সারা গায়ে টনটনে ব্যা*থা।শুধু এটিটিউড বজায় রাখতে টু শব্দ করতে পারছে না।আবার মার খেতে পারবে না এই মেয়ের হাতে।রোহানকে তো তাও প্রতিঘাত করতে পেরেছে।ওর বন্ধুরাও ওর পক্ষ নিয়ে মেরেছে রোহান আর ওর বন্ধু গুলোকে ।কিন্তু এখন তো সবাই মায়ার পক্ষ নিয়ে মারবে ওঁকে।
রুদ্র জোর করে ছাড়ালো আরশিকে। আমতা আমতা করে বলে উঠল
-“আমি ঠিক আছি আরশি। তোমাকে চিন্তা করতে হবে না।”
চোখ মুছলো আরশি।মায়াময় দৃষ্টিতে তাকালো রুদ্রর দিকে। ঠোঁটের কোণে কেটে গেছে রুদ্রর। র*ক্ত লেগে আছে সেখানে।আরশি আলতো হাত বুলালো ওর ঠোঁটে। ছলছল নয়নে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো
-“বেশি ব্যাথা করছে?”
রুদ্র দুই পাশে মাথা নাড়ালো। মায়া আর দাড়ালো না।হনহনিয়ে চলে গেল ক্যান্টিনে।রুদ্র একপলক তাকালো মায়ার যাওয়ার পানে।সবাই দৌড়ে চলে গেল মায়ার পিছু পিছু।
রাহুল আরশির পাশ কাটিয়ে গিয়ে রুদ্রর হাত ধরলো শক্ত করে।তারপর টেনে নিয়ে গেল ক্যান্টিনের দিকে।
,
নিরব পরিবেশ।পাখির কিচিরমিচির ছাড়া অন্য কোনো শব্দ শোনা যাচ্ছে না। কারো মুখে কোনো কথা নেই। ক্যান্টিনে যে যার মতো বসে খাচ্ছে।
মায়া গোমড়া মুখে বসে আছে চেয়ারে। রাহুল রুদ্রর হাতে ব্যান্ডেজ করে দিচ্ছে।অন্যরা যে যার মতো আছে। নিরবতা ভেঙে আরিয়ান বললো-
-“কিছু অর্ডার দেওয়া উচিত। খিদে পেয়েছে খুব।”
-“তোর খিদে পায় না কখন??” ঠেস মেরে বললো রুহানি।
-“আমার বাপের টাকায় খাই আমি।তোর সমস্যা কীসে??”
রুহানি মুখ বাকায়।আরিয়ান ওয়েটার কে ডেকে কোল্ড ড্রিংকস আর পিৎজা অর্ডার দেয় সবার জন্য।
বেন্ডেজ করা শেষে রুদ্রর উদ্দেশ্যে রাহুল বললো
-“রোহানের সাথে ঝামেলা বাঁধলো কেন?”
-“তুই জানতি না, কেন ঝামেলা বেধেছে?না জেনেই মারা শুরু করে দিলি রোহানকে?” অবাক হয়ে বললো মায়া।
ঘাড় বাঁকিয়ে মাথা ঝাকালো রাহুল।বললো
-“ঝামেলা কেন বেঁধেছে সেটা তো আমার জানার দরকার নাই মায়ু।আমি খালি দেখলাম, আমার বন্ধুরে সে মারতেছে।এখন দোষ তার হোক বা বন্ধুর অবশ্যই আমি রুদ্রর পক্ষ নিয়ে ওর হাড়গোড় ভাঙবো!”
পরক্ষণেই আবার রুদ্রর দিকে তাকিয়ে বললো
-“গুরুতর কিছু হয়েছে নিশ্চয়ই। এমনি এমনি তো এতো বড় ঝামেলা বাঁধার কথা না।”
-“বলিস না আর। ফার্স্ট ইয়ারের মেয়ে একটা কে উত্যক্ত করছিল।করুক তাতে আমার তো কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু আমি ওখানে ছিলাম। মাত্রই ঢুকছিলাম গেইট দিয়ে।মেয়েটা এসে হেল্প চাইলো আমার কাছে।হিরো সাজতে রোহানের কাছে গিয়ে সাবধান বাণী দিলাম,মেয়েটাকে যাতে বিরক্ত না করে। সে আমাকে বললো সে বিরক্ত করবে, সে র্যাগ দিচ্ছে আর আমি তার কাজে বা’হাত ঢোকাতে পারি না।আমরাও নাকি জুনিয়র দের র্যাগ দিই।হুদাই ভালো সাজার চেষ্টা না করি।আমি মেনে নিলাম তার কথা।বাট মেয়েটা বারবার হেল্প চাইছিলো ইয়ার।আমরা র্যাগ দিই,কিন্তু কারো ইজ্জত নিয়ে তো আর টানাটানি করি না।আমি এটাই শান্তভাবে বোঝাচ্ছিলাম ওঁকে।আমার সামনে মেয়েটার বুকে হাত দিয়েছে।ওড়না ধরে টান দেওয়ায় রাগ উঠেছিল।
ফারাবি চৌধুরী রুদ্র আমি, আমার কথা হেলায় ফেলে দিচ্ছিলো,একটা মেয়েকে অসম্মান করছিলো এমনে এমনে ছেরে দিতাম নাকি ওকে।”
এটুকু বলে থামলো রুদ্র।রাহুল ঠোঁট কামড়ে তাকালো ওর দিকে।উদ্বিগ্ন স্বরে বললো
-“ভালো করেছিস। প্রিন্সিপাল কী বললো? গালি খেয়েছিস নিশ্চয়ই অনেক!”
-“তো!সাবধান বাণী দিয়েছেন। পরের বার রেড টিসি দেবেন।”
মুখে কুলুপ এঁটে বসে ছিলো মায়া।গোমড়ামুখে নিশ্চুপ কথা শুনছিলো সবার। রুহানির চোখ পরলো ওর দিকে।ওভাবে চুপচাপ বসে থাকতে দেখে কপালো ভাজ ফেলে জিজ্ঞেস করলো
-“তোর কিছু হয়েছে মায়ু?কিছু বলছিস না যে?”
-“কী বলতাম??”
-“না,কিছু না। কিন্তু এতটা চুপচাপ।”
-“ভালো লাগছে না।”
রুদ্র কোণা চোখে পরখ করলো মায়াকে।মুখে অমাবস্যা দেখে ঠোঁট টিপে হাসলো। হেসে হেসে বললো
-“বেচারি এত কাহিনি দেখে ভয় পেয়ে গেছে!রোহান মার খেয়েছে তো তাই, কষ্ট পেয়েছে।”
বিরক্তিকর দৃষ্টিতে তাকালো মায়া।বিতৃষ্ণায় মুখ দিয়ে গালি টুকুও বের হলো না।
তক্ষুনি হন্তদন্ত হয়ে একটা মেয়ে দৌড়ে আসলো।এভাবে দৌড়ে আসায় হকচকিয়ে যায় সবাই।মেয়ে টা কোমড়ে হাত রেখে হাপালো কিছুক্ষণ। সোজা হয়ে উঠে দাঁড়িয়ে রুদ্র কে উদ্দেশ্য করে বললো
-“থ্যাংক্স রুদ্র ভাইয়া।আপনি না থাকলে ছেলেটা আমাকে আরো বেশি অপমান করত। কিন্তু আমার জন্য আপনাকে এত সমস্যার সম্মুখ হতে হয়েছে।এতো হার্ট হয়েছেন আপনি, সরি।”
-“ইটস ওকে। সমস্যা নেই।সিনিয়র হিসেবে এটুকু দায়িত্ব ছিলো আমার।এখানে থ্যাংক্স বা সরি বলার কিছু নেই। আর যদি কোনো সমস্যার সম্মুখীন হও আমাকে বলবে।”মুচকি হেসে আশ্বাস দিলো রুদ্র।
মেয়েটি লাজুক হাসে।বিদায় নিয়ে চলে যায়।রুদ্র মেয়েটির যাওয়ার পানে তাকিয়ে বাঁকা হাসলো।সবার দিকে তাকাতেই খেয়াল করলো সবাই ছোট ছোট চোখে স্ক্যান করছে ওঁকে।
বিহ্বল পলক ঝাপ্টালো ও।সন্দেহ নিয়ে বললো
-“কী ব্যাপার? সবাই এভাবে তাকিয়ে আছিস কেন??”
নাক ফুলিয়ে তাকালো মায়া।দাঁতে দাঁত চেপে বললো
-“কয়টা লাগে তোর?আর কয়টাকে ফাদে ফেলে শান্তি হবে?একটু আগেই না একজন তুই ব্যাথা পেয়েছিস বলে চোখের পানি নাকের পানি একসাথে করছিলো।এখন আবার আরেকজন লাজুক হাসছে তোর দিকে তাকিয়ে!আর ক’জনের সাথে খেলবি, ভাই!লজ্জা করে না?”
-“আরে একটা বাচ্চা মেয়ে ও। সাহায্য করায় ধন্যবাদ দিতে এসেছিল।” হতভম্ব হয়ে বললো রুদ্র।
-“হ্যাঁ রে। ফার্স্ট ইয়ারের বাচ্চা মেয়ে। এখনো ফিডার খায়।”
রুদ্র সাফাই দিয়ে আর কিছু বলতে যাবে তার আগেই উঠে দাড়ালো মায়া।বন্ধুদের উদ্দেশ্য করে বললো
-“আমি চলে যাচ্ছি। আজকে আর ক্লাস করব না।যা হলো তাতে মনে হয় না আর ক্লাস হবে।”
-“এত তাড়াতাড়ি চলে যাবি? আর কিছুক্ষণ থাক।আজ নাহয় ক্লাস করবো না, ঘুরবো!”তড়িঘড়ি করে বললো রুহানি।
-“নাহ রে। সকাল থেকে যা দেখছি তাতে আর থাকার ইচ্ছে নেই।ইউ নো ক্যারেক্টারল্যাসদের থেকে দুরে থাকা উচিত।”
বড় বড় পা ফেলে চলে গেলো মায়া। রুদ্র মুখ লটকে তাকিয়ে থাকলো সেদিকে।মেয়েটা যা মন চায় তাই বলে ওঁকে। মুখের উপর বলে দিয়ে চলে যায়।না,রুদ্র সেরকম সেটা বড় কথা না তাই বলে পিঠ পিছনে বলা যায়।কিন্তু সে বলবে সামনাসামনি। গা*লিগা*লাজ করতে পর্যন্ত ছাড়ে না।অথচ রুদ্রর তার পাল্টা জবাব দিলে সমস্যা। বন্ধুমহল রনচন্ডী রূপ ধারণ করে তেড়ে আসবে ওঁকে মারতে।
আরিয়ান বিরক্তি নিয়ে তাকালো রুদ্রর দিকে।ভ্রূদ্বয় গুটিয়ে বললো
-” তোর জন্য চলে গেল মেয়ে টা।
-“আমি আবার কী করলাম? মানে সব দোষ আমার তাই না?” বিমূঢ় স্বরে বললো রুদ্র!
-“না,সব দোষ মায়ার।তোর সাথে কোনো মেয়েকে পিরিতি করতে দেখলেই ওর এমন করতে হবে কেন!”
#চলবে

