উৎসর্গ #পর্ব:৫ #তানজিনা ইসলাম

0
31

#উৎসর্গ
#পর্ব:৫
#তানজিনা ইসলাম

নিস্তব্ধ গভীর রাত। ক্ষণে ক্ষণে ঝিঁঝি পোকার ডাক শোনা যাচ্ছে। মায়া নিজের কক্ষে বসে পড়ছে।সামনে এক্সাম।কিন্তু এখনো অনেক পড়া বাকি।রাতেই তার বাবা-মা তাকে রুয়ান চৌধুরীর প্রস্তাবটা জানিয়েছে।মায়া সঙ্কোচহীনভাবে উত্তর দিয়েছে, সে রাজি। হঠাৎ একটা শব্দে মায়ার মনোযোগের ব্যাঘাত ঘটে। মায়া এদিক ওদিক তাকিয়ে নিজের মনের ভুল ভেবে আবার পড়ায় মনোযোগ দেয়। আবার সেই ঠক ঠক আওয়াজ। মায়া ভয় পেয়ে যায়। না,এবার সে ভুল শুনছে না। কিন্তু এই রাত দুটোর সময় কে এলো। পড়ার টেবিল থেকে উঠে দাড়িয়ে দরজায় কান পাতলো মায়ক। এত রাতে তো তার মা-বাবার আসার কথা নয়।না,আওয়াজ টা দরজা থেকে আসছে না। আওয়াজ টা আসছে বেলকনির দরজা থেকে।

-“এতো রাতে কে এলো??চোর নয়তো।কিন্তু চোর আসলে তো আর দরজা ধাক্কা দিত না।”মায়ার ভয়ে গলা শুকিয়ে গেছে।কী করবে সে এখন।মাকে ডেকে আনবে।মায়া নিজের সিদ্ধান্ত নিজেই নাকোচ করল৷ এত রাতে মা-বাবার কক্ষে গিয়ে দরজা ধাক্কানো ভালো দেখাবে না।মায়া আশেপাশে কিছু খুঁজলো। কিন্তু মাথা ফাটানোর মত কিছু পেলো না।অনেক খোঁজার পর খাটের নিচ থেকে ক্রিকেট ব্যাট খুঁজে পেল।মাঝে মাঝে ক্রিকেট খেলার মুড সুইং হয় তার । ধীর পায়ে দরজার দিকে এগিয়ে গেল। ওপাশের ব্যাক্তি টি এখনো দরজা ধাক্কাচ্ছে।মায়া কান পাতলো।কেউ একজন ফিসফিস করে কিছু বলছে। দরজা খুলে হাত উচিয়ে ব্যাট দিয়ে বারি মারতে যাবে তার আগেই তার হাত একটা পুরুষালী হাতে আটকে নিল।এবং অন্য হাতে মায়ার মুখ বন্ধ করে দেয়ালের সাথে আটকে নিল। আগন্তুক ব্যাট কেড়ে নিয়ে সন্তর্পণে মাটিতে রাখল যাতে আওয়াজ না হয়।মায়া পিটপিট করে চোখ খুলল।রুদ্র চোখমুখ কুচকে তার দিকে তাকিয়ে আছে।হাত দিয়ে ঠেসে বন্ধ করে আছে মায়ার মুখ।

-“কতক্ষন ধরে ডাকছি তোকে। বে*দ্দপ কোথাকার। দরজা খুলছিলি না কেন??

ক্রুদ্ধ হয়ে বললো রুদ্র।মায়া উম উম করছে কিন্তু কেনো উত্তর দিচ্ছে না।

-“কীরে উত্তর দিচ্ছিস না কেন??বেশি ফালতুমি করছিস আজকে তুই।”

মায়া চোখ দিয়ে ইশারা করে রুদ্রর হাতের দিকে দেখায়।এখনো তার হাত দিয়ে মায়ার মুখ বন্ধ করে আছে।রুদ্র বুঝতে পেরে হাত সরিয়ে নিল।
মায়া এতক্ষণে যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে।বুকে হাত দিয়ে জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছে।

-“এ ড্রামা কুইন।এতো নাটক করার কিছু হয়নি। আমি আলতো করেই ধরেছি।”মায়া রেগে তাকালো রুদ্রর দিকে।সহসা চড় বসালো রুদ্রর বাহুতে।এখন যদি ওকে খুন করে ফেলতে পারত তাহলে হয়তো শান্তি হতো।

-“এতো রাতে এখানে এসেছিস কেন??আমি অনেক ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম।”

-“নাচতে এসেছি নাচতে।”রুদ্র নিজের বাহুতে হাত বোলাতে বোলাতে বলে।
মায়া ভেংচি কাটলো।

-“এই দোতলায় কিভাবে আসলি।তাও দরজা ছাড়া।”

-“পাইপ বেয়ে এসেছি। তোর বাপ এমন দারোয়ান রেখেছে যে পাহারা না দিয়ে নাক ডেকে ঘুমাচ্ছে।এখন যদি বাড়িতে চোর ঢোকে তারপরও ওই ব্যাটা টের পাবে না।”

মায়া বিরক্তি নিয়ে তাকালো।রুদ্র মায়াকে পাশ কাটিয়ে গিয়ে খাটে গিয়ে বসলো।
-“এখানে এসে বোস।গুরুত্বপূর্ণ কথা আছে তোর সাথে। ”

মায়া রুদ্রর দিকে মুখ করে বসলো।গোমড়ামুখে বললো
-“বলেন আপনার ইম্পর্ট্যান্ট কথা।যার জন্য এতো রাতে বাড়ি বইয়ে এসেছেন!”

-“ভয় পাচ্ছিস?”

-“ভয় কেনো পাব?”

-“এত রাতে একটা ছেলে তোর রুমে। তোর যদি কোনো কিছু করে ফেলি।”

-“তুই কিছু করবি আমার!” হাসতে থাকলো মায়া।ছোট ছোট চোখ করে তাকিয়ে থাকলো রুদ্র।মায়া হাসতে হাসতে বললো
-“বন্ধু,উল্টো তোর ভয় পাওয়া উচিত। একা একটা ছেলে তুই আমার সাথে।যদি তোর কিছু করে ফেলি!” শয়তানি হাসলো মায়া।রুদ্র মিছেমিছি ভয় পাওয়ার নাটক করলো।শার্ট ঠিক করার ভং ধরলো।
মায়া সিরিয়াস হয়ে বললো

-“বল তোর গুরুত্বপূর্ণ কথা। যেটা বলার জন্য এতো রাতে চলে এসেছিস।”

-“জানিস মায়ু বাবা আমাদের বিয়ে ঠিক করেছে। “রুদ্র এক্সাইটেড হয়ে বলে উঠল।তার মনে হলো মায়া অসম্ভব বিস্মিত হবে।

-“জানিতো।”মায়া নির্লিপ্ত স্বরে বলল।

মায়ার নির্লিপ্ততা যেন রুদ্রকেই বিস্মিত করে দিল।
-” তুই জানতিস? কিন্তু কী করে?”

-“বাবাই আগে এসব নিয়ে এখানে আলোচনা করে গেছে।মানে দুই বন্ধু মিলেই বিয়েটা ঠিক করেছে। ”

-“তোর থেকে জিজ্ঞেস করেছে তুই রাজি কিনা?”

-“হ্যাঁ করেছে। ”

-“কী বলেছিস তুই?”

-“রাজি আমি।”

হতভম্ব হয়ে তাকালো রুদ্র।ওর দৃষ্টিকে একপ্রকার উপেক্ষা করে মায়া আবার বললো

-“তুই কী উত্তর দিয়েছিস আমাকে সেটা বল।”

-“আমি বলেছি আমি রাজি না। “রুদ্র নিজেকে ধাতস্থ করে উত্তর দিল।”

-“কেন রাজি না??”

-“তুই জানিস না আমি কেন রাজি না।আমি তোকে বিয়ে করতে পারব না।”

-“কেন পারবি না?কী কমতি আছে আমার মাঝে বল?”

-“আমি তোকে কোনোদিন সেই চোখে দেখি নি। তুই আমার বেস্ট ফ্রেন্ড। কী করে তোকে বিয়ে করতে পারি আমি। ”

-“বাংলাদেশের কোন সংবিধানে লেখা আছে বেস্ট ফ্রেন্ড কে বিয়ে করা যাবে না।”

-“মায়া তোর মতো শাঁকচুন্নির সাথে আমি সংসার পাতাতে পারব না।আর..।

-“আর?”

-“তোর প্রতি আমার কোনোদিন সেই ভালোবাসা টা আসবে না।”

-“ভালোবাসতে হবে না তোকে।সংসার করলেই হবে। ”

-“আমি করব না বিয়ে। যে করেই হোক আমি বিয়েটা ভাঙাবো ই৷”

-“যদি তুই নিজে কিছু করতে পারিস কর। কিন্তু আমি বড়দের কে কষ্ট দিতে পারব না।”

-“মায়ু বোঝার চেষ্টা কর। আমি কী করে বিয়ে করি তোকে।আমি যে ভালোবাসি আরশিকে। ”

-“হু। জানা আছে তোমার ওই ভালোবাসা। কয়েকদিন পর সেই ভালোবাসা আরেকজনের উপর বর্তাবে।ক্যারাক্টারলেস কোথাকার।”

-“দেখ একদম গা*লি দিবি না।আমি ওকে সত্যিই ভালোবাসি। আর যদি ক্যারাক্টারলেস হয়েই থাকি তাহলে বিয়ে কেন করতে চাইছিস?করিস না।”

-“ভালোবাসি যে। তোর সাথে সারাজীবন থাকতে চাই তাই।”

-“হু!জানা আছে তোমার ভালোবাসা!ও তুই সব ছেলেকেই বাসিস!”

-“তোমার মতো বাই** ভাইবোনা আমারে!তোর মতো ওভাবে আর কাওকে বাসি না! কীভাবে বোঝালে বুঝবি আমাকে,আমার অনুভূতি কেবল ওভাবেই বোঝায়!”

-“তুই মজা করছিস তাই না,সবসময়ের মতো?”

মায়া এতক্ষণ মাথা নিচু করে ছিল।এবার মাথা তুলে রুদ্রর দিকে তাকালো।
-“আমার চোখের দিকে তাকিয়ে বল। আমি মজা করছি??”

রুদ্র মায়ার চোখের দিকে তাকাতে পারলো না বেশিক্ষণ।মায়া ওই চোখ দু’টো দিয়ে জাদু করে মানুষকে।ওর চোখের মণি দু’টো কুচকুচে কালো।গভীর ভীষণ। রুদ্র সেই গভীরতায় হারিয়ে যায়। বেশিক্ষণ চোখে চোখ রাখতে পারে না।ওই চোখের দিকে তাকালেই নরম হয়ে যায় ও।মেনে নেয় মায়ার সব কথা।
রুদ্র মাথা নুইয়ে আস্তে করে বললো
-“আমি তোকে ভালো রাখতে পারব না মায়ু।”

-“তোর সাথে থাকার জন্য যদি আমাকে শর্ত দেওয়া হয় আমার সব সুখ চলে যাবে তারপরও আমি তোকেই চাই।

-“মায়া, প্লিজ।”অনুনয় করে বললো রুদ্র।

অনেক সময় কেটে গেছে।দুইজনই মুখোমুখি বসে আছে। কারো মুখে কোনো কথা নেই। রুদ্রর বুকের মধ্যে ধ্রীমধ্রীম শব্দ হচ্ছে। সবেগে লাফাচ্ছে হৃৎপিণ্ড। অথচ মুখে কিছু বলতে পারছে না।তার কাছে ভালোবাসা মানে শুধুই কষ্ট।তাইতো সে কোনোদিন কাউকে সত্যিকারের ভালোবাসেনি। কিন্তু মায়া?ও তো চায় না মায়া কোনোদিন কষ্ট পাক। মেয়েটার মন যে খুব নরম।ছোটবেলা থেকে ভীষণ আদরে আদরে বড় হয়েছে কি-না!ওই নরম হৃদয়খানা ভেঙে যাক ওঁকে ভালোবেসে তা যে সহ্য করতে পারবে না ও। রুদ্র কিছু বলতে চেয়েও বললো না।

-“রুদ্র। আমার মনে হয় তাের চলে যাওয়া উচিত। এক্ষুনি সকালের আজান দিবে। এলাকার মুরব্বিরা নামাজ পড়তে যাবে।তোকে এই সময়ে এখান থেকে বেরোতে যদি কেউ দেখে ফেলে এক কথাকে ছয় কথা বানিয়ে রটাবে।তোর সাথে এখনো মাত্র বিয়ের কথা চলছে। আমি আমার গায়ে কলঙ্ক লাগাতে চাই না।”মায়া হাটুতে থুতনি রেখে বলে উঠে।

রুদ্র চিন্তা করে দেখলো মায়ার সব কথাই ঠিক।এখন কারো হাতে ধরা পরলে তিল থেকে তাল হয়ে রটবে।ও চায় না মায়ার দিকে কেউ আঙুল তুলুক। রুদ্র উঠে দাড়ালো। বেলকনির দিকে আগাতে যাবে তখনি মায়া উঠে দাড়িয়ে বাধা দিল।বললো

-“কষ্ট করে পাইপ বেয়ে নিচে নামতে হবে না।দরজা খুলে দিচ্ছি দরজা দিয়ে যা।

-“লাগবে না। যেদিক দিয়ে এসেছি সেদিক দিয়েই যাব।”

-“কিন্তু…”

-“কোনো কিন্তু না। বাইরের মানুষের কথার ভয় পাচ্ছিস। তাহলে ভেতরের মানুষ। মামনি আর বাবাই যদি উঠে যায়।”

-“ওরা কিছুই বলবে না।”

-“না বললে ও। সম্মান ঘরে -বাইরে দুই দিকেই রক্ষা করতে হবে। ”

রুদ্র বেলকনিতে চলে গেল।তার পিছু পিছু মায়াও গেল।বেলকনিতে পা রেখে পাইপে পা রাখতে যাবে,তখনই পা স্লিপ করল।মায়ার বুক ধ্বক করে উঠল।তাড়াতাড়ি এগিয়ে গিয়ে হাত ধরতে যাবে তার আগে রুদ্র নিজেকে সামলে নিল।হাতলে রাখা রুদ্রর হাত দুটো শক্ত করে ধরল মায়া।দূর থেকে আজানের ধ্বনি ভেসে আসছে।সকাল হয়ে গেছে তাহলে।রুদ্র নরম স্বরে বললো
-“মায়ু,হাত ছাড় আমার।নিচে নামতে হবে তো।”

-“আমার যে ভয় লাগছে।”

-“ভয় পাসনা।কিচ্ছু হবে না।”

-“বিয়ের আগে বিধবা হতে চাই না রুদ্র।উঠে আয় প্লিজ, দরজা দিয়ে যা।”

-“ফালতুমি করিস না জান।হাত ছাড়!”

মায়া হাত ছেড়ে দিল। অসহায় ভাবে বললো
-“সাবধানে। ”

রুদ্র পাইপ বেয়ে নিচে নামছে।মায়া দুরুদুরু বুক নিয়ে দোয়া ইউনুস পড়ছে।
অবশেষে রুদ্র মাটিতে পা রাখল।মায়া স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়ল।এতক্ষণ যেন শ্বাস বন্ধ করে ছিল ও।
রুদ্র মায়াকে হাত দিয়ে বাই বলে।মায়াও মুচকি হেসে হাত নাড়ায়।রুদ্র দ্রুত পা বাড়ালো।মায়া চাতক পাখির ন্যায় চেয়ে থাকলো সেদিকে ।দারোয়ান এখনো ঘুমোচ্ছে।রুদ্র গেইট পেরিয়ে বেরিয়ে যায়।গাড়ি নিয়ে এসেছিল সে,গেইট থেকে কিছুটা দূরে পার্ক করেছিলো।গাড়ি স্টার্ট দিয়ে রুদ্র তার গন্তব্যের দিকে রওনা দেয়।মায়া রুদ্রর গাড়ি অদৃশ্য হওয়া পর্যন্ত তাকিয়ে থাকে একদৃষ্টে।দৃষ্টিসীমানা থেকে রুদ্রর গাড়ি অদৃশ্য হতেই দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো মায়া।নির্নিমেষ তাকিয়ে থাকলো কালো আকাশের দিকে।পাখির কিচিরমিচির শোনা গেলেও কিছুটা নিস্তব্ধতা ছেয়ে আছে চারপাশ।এই নিস্তব্ধ রজনী তে এক অপেক্ষমাণ রমনীর নিস্তব্ধতাও মিশে একাকার হয়ে যায়।
,

বেলা বাজে সাড়ে বারোটা। মায়া এখনো পরে পরে ঘুমাচ্ছে।ডাইনিং এ টুকটাক আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। মিসেস মাহেরা খান কিচেনে কাজ করছেন।তাকে বাড়ির অনান্য সার্ভেন্টরা সাহায্য করছেন।ষষ্ঠ বারের মতো তিনি ডেকে উঠলেন মায়াকে।সকাল থেকে এই নিয়ে কয়বার যে ডেকেছেন তিনি তার হিসাব নেই। কিন্ত মায়ার উঠার নাম গন্ধও নেই। অবশেষে আর না পেরে তিনি মায়ার কক্ষে গেলেন।
উপুর হয়ে বেঘোরে ঘুমাচ্ছে মায়া।কক্ষ এখনো অন্ধকারাচ্ছন্ন।পর্দার কারণে সূর্যের আলো ভিতরে ঢুকতে পারছে না।তিনি পর্দা সরিয়ে দিলেন।সূর্যের আলো চোখ মুখে আঁচড়ে পরতেই,মায়া চোখ মুখ কুচকে অপর পাশ ফিরে শুয়ে পরলো ।টেবিলে এখনো বইগুলো মেলে রাখা।মায়ার অগোছালো টেবিল দেখে মিসেস খান হাসেন।মাঝে মাঝে মায়া টেবিলে মাথা রেখেই ঘুমিয়ে পরে। আজকে তাও বিছানায় ঘুমিয়েছে।
টেবিলের বইগুলো গুছিয়ে দিয়ে মায়ার পাশে বসেন। চুলগুলো কপালের উপর থেকে সন্তর্পণে সরিয়ে দেন।তার একমাত্র মেয়ে মায়া।খুব বেশিই ভালোবাসেন তাকে।তার জীবনের একমাত্র অবলম্বন। দেখতেও হয়েছে একদম তার মতো।
অসুস্থতা যেন মেয়েটার পিছু ছাড়ে না। ছোটবেলা থেকেই ভীষণ নাজুক ভাবে বড় হয়েছে ও।দু’দিন পরপর অসুস্থ হয়ে পরে।হসপিটালে ভর্তি হতে হয়।মা-বাবা দু’জনে একটু বেশিই ভালোবাসে ওঁকে। ওর কোনো ইচ্ছে অপূর্ণ রাখে না।ছোটবেলা থেকে যা চেয়েছে তাই পেয়েছে।ওর আদরে খামতি হবে বলে ওর কোনো ভাইবোন পর্যন্ত নেই।ছোটবেলা থেকেই ভীষণ রকমের জেদি হয়েছে মেয়েটা।ওর আশেপাশের মানুষগুলোও সবসময় ওর জেদ মেনে নেয়।ওর বন্ধু হোক ওর মা-বাবা হোক সবাই।তাই জেদগুলোও পাল্লা দিয়ে বেড়েছে সময়ের সাথে।
জেদ রচানোর জন্য সবকিছু করতে পারে ও। কারো কথা শোনে না।কারো নিষেধ মানে না।

নিজের মেয়ের মনের খবর জানেন তিনি।রুদ্রর জন্য মেয়ের এই অগাধ ভালোবাসার খবর তিনি অনেক আগেই পেয়েছেন।বেস শুধু এইটুকুই দোয়া দুজনেই যাতে ভালো থাকতে পারে,সংসার যাতে অসম্ভব সুখের হয়।মাহেরা খান ডাকলেন মেয়ে কে।কিন্তু মায়া চোখ টেনে খুলতে পারছে না।

-“মায়া উঠো।সকাল হয়ে গেছে। ”
-“আরেকটু ঘুমাতে দাও আম্মু।”চোখ বন্ধ করে বললো মায়া।
-“একি অবস্থা তোমার, সারারাত চোর পাহাড়া দিয়েছ নাকি।”
মায়া ফট করে চোখ খুলে উঠে বসে।চোখ কচলে সামনে তাকায়।মাহেরা খান সন্দিহান দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ওর দিকে।মায়া ঘুমঘুম স্বরে বললো

-“কয়টা বাজে??”
-“সাড়ে বারোটা টা।”
-“কী?এত দেরি হয়ে গেছে ঘুম থেকে উঠতে?”
-“কতক্ষণ ধরে ডাকছি তোমাকে? উঠছই না।সারারাত ঘুমাও নি?

শেষ রাতে নামাজ পড়ে ঘুমিয়েছিল মায়া।পরশু রাতেও চিন্তায় চিন্তায় ঘুমাতে পারে নি।তাই ঘুম থেকে উঠতে কষ্ট হচ্ছিল।
মায়া আমতা আমতা করে বললো –
-“আরে না।ঘুমিয়েছি তো।বাবা কী অফিসে চলে গিয়েছে? ”
-“হ্যাঁ।তোমার সাথে বসে নাস্তা করতে চেয়েছিল।”
-“ওহ।আচ্ছা আমি ফ্রেশ হয়ে আসছি।”
বিছানা ছেড়ে তড়িঘড়ি করে উঠলো মায়া।

#চলবে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here