উৎসর্গ #পর্ব:৬ #তানজিনা ইসলাম

0
21

#উৎসর্গ
#পর্ব:৬
#তানজিনা ইসলাম

দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়ে গেছে। মুস্তাফিজ খান সোফায় বসে আছেন।কোলে তার ল্যাপটপ।সাসনে গোল কাচ টেবিলের উপর ধোঁয়া উঠা কফি।অফিসের কোনো কাজে ব্যস্ত তিনি। আজ অফিস থেকে একটু তাড়াতাড়িই ফিরেছেন ।মায়া তার সামনের সোফায় বসে আছে।মনোযোগ দিয়ে টিভিতে কার্টুন দেখছে ও।
হঠাৎ কলিংবেলের আওয়াজে দুজনের মনোযোগ ব্যাহত হয়।মায়া উঠে গিয়ে দরজা খুলে দিল।দরজার ওপাশের ব্যাক্তিটি দেখে খুশিতে আটখানা হয়ে “মামনি ” বলে চিল্লানি দিলো।পরপর ঝাপ্টে জড়িয়ে ধরলো তাকে।মিসেস রাফানা চৌধুরীও মিষ্টি হেঁসে জড়িয়ে ধরেন ওঁকে।মুস্তাফিজ খান উঠে দাড়ান।মাহেরা খান কিচেন থেকে বেরিয়ে আসেন।মায়া অনেক্ষণ জড়িয়ে ধরে থাকে তার মামনি কে।

-“বাহ বাহ! মা-মেয়ের এত ভালোবাসা।আমাকে তো কেউ চোখেই দেখছেনা।”রুয়ান চৌধুরী মন খারাপের নাটক করে বলে উঠেন।তার হাতে মিষ্টির প্যাকেট।

মিছেমিছে রাগ করলেন রাফানা চৌধুরী। বললেন
-“এই তুমি আমাদের মা-মেয়েকে হিংসে করছ কেন?তুমি তো কালকেই এসেছ।তোমাকে আবার আলাদা করে দেখতে হবে কেন?”

-“হ্যাঁ বাবাই।কালকেই তো তোমার সাথে কথা হলো।কিন্তু মামনি কে তো অনেকদিন পর দেখছি।”

-“মায়া ছাড়ো তোমার মামনি কে।আগে তাকে বসতে তো দাও।”

মাহেরা খান এগিয়ে এসে বললেন।রাফানা চৌধুরীর সাথে কুশলাদি বিনিময় করেন।মুস্তাফিজ খান রুয়ান চৌধুরী কে জড়িয়ে ধরেন।রুয়ান চৌধুরী মিষ্টির প্যাকেটগুলো মাহেরা খানের হাতে দেয়।দুজনকেই সোফায় বসতে দেওয়া হয়।রাফানা চৌধুরী মায়াকে নিজের পাশে বসালেন।মাহেরা খান কিচেনে ছুটলেন নাস্তা বানানোর জন্য।
নাস্তার পর্ব শেষ করে রাফানা চৌধুরী কথা তুললেন

-“আসলে, আমরা আজ এখানে এসেছি একটি বিশেষ কারনে।”

-“কী কারণ ভাবি?”মাহেরা খান বললেন।

রাফানা চৌধুরী মায়াকে জড়িয়ে ধরলেন।মৃদু হেসে বললেন
-“আসলে আমি রুদ্র আর মায়ার বিয়ের ডেট ফিক্সড করতে এসেছি।”

-“এতো তাড়াতাড়ি? “অবাক হয়ে বললো মায়া।

-“কেন বাচ্চা?তুমিতো বিয়েতে রাজি।তাহলে সমস্যা কোথায়?

-” না।সমস্যা নেই।কিন্তু সামনে তো এক্সাম। ”

-“এক্সামের টেনশন করো না।এক্সাম তো বিয়ের পরও দেওয়া যাবে।আর আমি জানি আমার মেয়ে এমনিতেই ভালো করবে। “রাফানা চৌধুরী মায়ার হাত বুলিয়ে দিয়ে বললেন।মায়া মুচকি হাসে।

মাহেরা খান কোমল স্বরে বললেন
-” ভাবি আপনি বলেন।কখন বিয়েটা ঠিক করতে চাচ্ছেন।”

-“এইতো চার-পাঁচ দিনের মধ্যে।”

মাহেরা খান অবাক হলেন। কপালে ভাজ ফেলে বললেন

-“ভাবি কোনো সমস্যা হয়েছে?না মানে একটু বেশিই তাড়াতাড়ি হয়ে যাচ্ছে না!”

রুয়ান চৌধুরী কিছু বলতে যাবেন তার আগেই রাফানা চৌধুরী তাকে থামিয়ে দেন। ঠোঁটে হাসি ফুটিয়ে বলেন
-“না। কোনো সমস্যা না।আমি একটু তাড়াতাড়িই মায়াকে নিয়ে যেতে চাচ্ছি।এর বেশি কিছু না।”

মুস্তাফিজ খান আর মাহেরা খান একে অপরের মুখের দিকে তাকান।একজন আরেকজনকে ইশারা করেন।কনফিউজড তারা এখনো।এতোটা তাড়াহুড়ো কীসের? মায়া নিজেই বললো
-“মামনি।আমার মনে হচ্ছে তুমি আমাদের থেকে কিছু লোকাচ্ছ। সত্যি করে বলো তো কী হয়েছে। ”

-“আসলে…

-“রুদ্র বিয়েটা করতে নাকোচ করে দিয়েছে তাই তো?”

চমকে তাকালেন রাফানা চৌধুরী সহ সকলে।এতোগুলো হতভম্ব দৃষ্টি ওর দিকে আঁচড়ে পরতেই থমথম খেলো মায়া।চোখ পিটপিট করে তাকালো সকলের দিকে।রাফানা চৌধুরী হতবাক স্বরে বললেন
-“তুমি কিভাবে জানলে?”
-“ও আমাকে নিজেই বলেছে।আর বলেছে আমি যাতে বিয়েটা না করি।ও আমাকে মেনে নিতে পারবে না।”
-“ওর এত বড় সাহস ও তোমাকে এসব বলেছে?”রাগী স্বরে বললেন রাফানা চৌধুরী।

রুয়ান চৌধুরী শান্ত করার চেষ্টা করলেন তাকে।উদ্বিগ্ন স্বরে বললেন
-“রাফানা শান্ত হোও তুমি।”
-“কী শান্ত হবো?শুধুমাত্র তোমার জন্য তোমার ছেলের এত বার বেরেছে। লাই দিয়ে দিয়ে মাথায় তুলে ফেলেছো।”

রুয়ান চৌধুরীর অসহায় শ্বাস ফেললেন।এই মা ছেলের চক্করে মাইনকার চিপায় পরেছেন তিনি।দু’টোই সমান জেদি। একপলক মায়ার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন
-“মায়া তুমি বলো তো ওর কী কেউ আছে?”

-“হ্যাঁ,আছে!ওর নাম আরশি।দু’বছর ধরে রিলেশনে আছে তোমার ছেলে আর ও।” কন্ঠ খাদে নামিয়ে বললো মায়া।

-“আমার পুত্রবধূ যদি কেউ হয় তাহলে শুধু মায়াই হবে।অন্য কাউকে যদি আনে ও তাহলে আমি ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যাব বলে দিলাম।”অস্হির স্বরে বললেন রাফানা চৌধুরী।

-“তুমি আগে শান্ত হও প্লিজ।ওনাদের সামনে এসব কী করছো?”রুয়ান চৌধুরী তড়িঘড়ি করে বললেন।

মুস্তাফিজ খান এতক্ষণ নিশ্চুপ বসে ছিলেন।সবার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনলেও একটা কথা বলেননি। এবারে তিনি মুখ খুললেন।গম্ভীর স্বরে আওড়ালেন
-“রুদ্র যদি এই বিয়েতে রাজি না থাকে তাহলে আমাদের আর না আগানোই উচিত।ওর থেকে ওর ভালোবাসা কেড়ে নেওয়া ঠিক হবে না।”

-“একি বলছেন ভাইজান!ওকে এতোবার বলার পরও ও আরশির কথা একবারো বলেনি।যদি এতই ভালোবাসে তাহলে আরশির কথা অবশ্যই বলতো।”রাফানা চৌধুরী সাফাই দিয়ে বললেন।
রাফানা চৌধুরী আর মুস্তাফিজ খান আলোচনা করছেন।তিন জন মানুষ মন দিয়ে তাদের কথা শুনছে।মুখে কুলুপ এঁটে বসে ছিলো মায়া।মনটা খারাপ হয়ে গেছে ওর। ভীষণ ভাবে রাগও উঠছে।আর সব রাগ গিয়ে পরছে রুদ্রর উপর।এতো করে বলার পরও ছেলেটা মানলো না।সেই নিজের কথাই জারি রাখলো,নিজের জেদেই অটল থাকলো। একবার বিয়েটা কোনোমতে হোক এর সবকিছুর শোধ তুলবে মায়া।মায়া হঠাৎই অপ্রত্যাশিতভাবে বললো

-“রুদ্র কে ছাড়া আমি কাউকে বিয়ে করব না বাবা।”

ডাইনিং রুমে যেন একটা ছোটোখাটো বিস্ফোরণ ঘটলো। সবাই অবাক চোখে তাকিয়ে থাকলো মায়ার দিকে।মায়া নির্বিকার। মুখটাকে বাংলা পাঁচের মতো করে বসে আছে।মুস্তাফিজ খান অবাক স্বরে ডাকলেন
-“মায়া। ”

-” তুমি তো আমার সব পছন্দের জিনিস না চাইতেও এনে দিতে আমাকে।তবে এখন কেন পিছু হটছো!ওর ভালোবাসা গুরুত্বপূর্ণ, আমার না?আমি ওঁকে শুধু পছন্দ করি না বাবা, ভালোবাসি।আমি ওঁকে চাই, নিজের করে চাই। কিন্ত ও যে আমায় চায়ছে না।আমার কাছে এনে দাও তাকে বাবা।যদি এনে দিতে না পারো তবে এ জনমে আমার আর কাওকে বিয়ে করা হবে না!”মায়া টলমল চোখে চেয়ে বলে উঠে।

-“এসব তুমি কী বলছ প্রিন্সেস!”মুস্তাফিজ খানের কাতর কন্ঠস্বর।

-“তোমার প্রিন্সেস তোমার কাছে কিছু চাইছে,বাবা।আমি ওঁকে ছাড়া মরে যাবো সত্যি বলছি।ও আমাকে না চাইলেও আমাকেই বিয়ে করতে হবে ওঁকে।”

রাফানা চৌধুরী মায়ার মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়। মায়া মাথা নিচু করে আছে।মাহেরা খানের বুকের মধ্যে কষ্ট হচ্ছে।মায়ার কোনো ইচ্ছা তিনি কোনোদিন অপূর্ণ থাকতে দেননি।সবকিছু মুখ ফুটে চাওয়ার আগেই ওর সামনে হাজির করেছেন।তবে জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিনটাই বুঝি দেওয়া হলো না মেয়েকে? মেয়েটা তার ভালোবাসা পাবে না?এই ভয়টাই তো পাচ্ছিলেন তিনি।
রাফানা চৌধুরী নরম স্বরে বুঝিয়ে বললেন
-“তুমি চিন্তা করো না মায়া।রুদ্র বিয়ে করলে তোমাকেই করবে।

-“বলছো?”

-“হুম, বলছি বাচ্চা।”

-“তাহলে ওর অমতেই বিয়েটা হবে।ওর মতামতের ধার ধারি না আমি।”

-“রুদ্রর অমতে কেমনে বিয়ে হবে?ওঁকে চিনো না তুমি, জানো না ওর জেদ।তোমার মাথায় কী চলছে বলো তো!রাফানা চৌধুরী চিন্তিত হলেন।

-“আগে বলো তোমরা সবাই আমাকে সাথে আছো?”
-“আমরা সবাই তোমার সাথে আছি মায়া।”
রুয়ান চৌধুরী আশ্বাস দিয়ে বললেন। ”

-“বাবা?”
মায়ার ডাকে মুস্তাফিজ খান ওর দিকে ফিরে তাকালেন। নিশ্চুপ থাকলেন ক্ষণকাল।পল কয়েক ভাবার পর বললেন-
-“আমিও আছি।মেয়ের জন্য একটু কুট কাচালি নাহয় করলাম।”

মায়া চোখের জল মুছে বাকা হসে।রুয়ান চৌধুরীর দিকে তাকিয়ে বলে উঠে –
-“ঠিক আছে।আপাতত বিষয়টা ধামাচাপা দাও।আর ঘাটিওনা ওঁকে। কয়েকদিন নিজের জেদের উপর অটল থাকুক।আমাকে রিজেক্ট করা তাই না, এমন কাহিনী করবো না।ও কোনোদিন জিততে পেরেছে বুঝি আমার সাথে!”
,

দুজন কপোত-কপোতী বসে আছে পার্কের একটি বেঞ্চে ।মেয়েটির পরণে নীল রঙের শাড়ি।আর ছেলেটির পরণে নীল পাঞ্জাবি। মেয়েটির কোলে মাথা রেখে ছেলেটি বেঞ্চে শুয়ে আছে।মেয়েটির হাতে বাদামের টোঙ্গা। সন্তর্পনে বাদামের খোসা ছাড়িয়ে ছেলেটির মুখে দিচ্ছে আবার নিজেও খাচ্ছে।ছেলেটি মুখ নাড়িয়ে কিছু বলছে।হয়তো প্রেমময় বাক্য আওড়াচ্ছে প্রিয়তমার নিকট।মেয়েটিও তা শুনে খিলখিল করে হেসে উঠছে।ছেলেটি তা দেখে মেয়েটির চুলে বাধা গাজরা ধরে টান দিচ্ছে।বিকেলের সময়।মাথার উপর নীল আকাশ।সূর্যরশ্মি কিরণ দিচ্ছে। কাচের ওপাশ থেকে দুজনের দিকে একদৃষ্টে চেয়ে আছে রুদ্র।মুখে তার হাসি লেপটানো। মানুষের ভালোবাসা দেখতেও ভালো লাগে। তার পরনে অফিসের ফর্মাল পোশাক।সামনের টেবিলে ধোঁয়া উড়া গরম কফি।কয়েকদিন হলো বাবার অফিসে জয়েন করেছে সে।পড়াশোনার পাশাপাশি অফিসের হাল ধরারও চেষ্টা করছে। অফিস থেকে ফেরার পথে পার্কে কিছুক্ষণ সময় কাটাতে চেয়েছিল ।পার্কে সব কপোত-কপোতী। অনেকে তাদের বাচ্চা নিয়েও পার্কে ঘুরতে এসেছে।তাই পার্কের পাশের রেস্টুরেন্টে বসে কফি অর্ডার দিয়েছিল। আর তখনই চোখ পরে দুজন কপোত-কপোতীর দিকে।

মাঝে দুইদিন কেটে গেছে।কিন্তু অবাক করা বিষয় হচ্ছে তার মা-বাবা এই দুই দিনে একবারো বিয়ের কথা তুলে নি।তার মা যে বিয়ে নাকোচ করার ফলে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছিল সেও বিয়ের কথা বলে নি।মায়াও কেমন জানি ব্যবহার করছে।এই দুই দিন ভার্সিটি তে দেখা হয়েছিল।মায়া কেমন যেন ইগনোর করছিল তাকে।রুদ্র দীর্ঘশ্বাস ফেলে। ও মায়ার ফিলিংস বোঝে।কিন্তু মায়াকে নিজের জীবনের সাথে জড়াতে ভয় হয়। যদি কোনোদিন মনের অজান্তে কষ্ট দিয়ে ফেলে সেই ভয়। বিয়ে ভালোবাসার চক্করে যদি ওর বন্ধুত্ব নষ্ট হয়ে যায় রুদ্র সহ্য করতে পারবে না।এই বন্ধুত্ব সবকিছুর উর্ধ্বে। রুদ্র কফির কাপে চুমুক দেয়।

-“রুদ্র!”

আরশির ডাকে দৃষ্টি তুলে তাকালো রুদ্র।আরশি বসে আছে ওর সামনের চেয়ারে।রুদ্র মিষ্টি হেঁসে বললো
-“হুম!”
-“থ্যাঙ্কস!এতো ব্যস্ততার মাঝেও দেখা করতে আসার জন্য!আসলে, কথাটা অনেক আর্জেন্ট ছিলো।না বলা পর্যন্ত শান্তি পাচ্ছিলাম না!”
-“বলো,কী বলবে?”
-“আমার কথা তোমার মা-বাবাকে কখন বলবে?”

অবাক হয়ে তাকালো রুদ্র।এই প্রথমবার আরশি এই কথাটা বললো।নয়তো ওরা রিলেশনে আছে দু’বছর হতে চললো।আরশি কখনো বিয়ে করার কথা বলেনি ওঁকে! রুদ্র বিভ্রান্ত স্বরে আওড়ালো
-“হঠাৎ এই কথা!কোনোদিন তো বলোনি তুমি!”
-“কোনোদিন বলিনি আজ বলছি।বিয়ের বয়স হয়েছে আমাদের।তুমিও অফিসে জয়েন করেছো।আম্মু একবার তুলেছে বিয়ের কথা আমি তোমার কথা বলেছি।আম্মু-আব্বুর আপত্তি নেই।তুমি তোমার মা-বাবাকে জানাও!”

রুদ্র চুপ থাকলো ক্ষণকাল।মাথা নিচু করে দৃষ্টি রাখলো টেবিলে।এই কথাটা রাফানা চৌধুরীর কানে গেলেই হলো, ওর আম্মাজান ঘর থেকে বের করে দিবে ওঁকে।বিয়ে করার চক্করে উপরে একমাত্র ছাদ টাও হারাতে হবে রুদ্রকে।মায়াকে বিয়ে করবে না বলেছিলো তাতেই যে রণচণ্ডী রূপ ধারণ করেছে।আরশিকে বিয়ে কথা বললে কী যে হবে তা ভাবতেই রুদ্রর গায়ে কাটা দেয়।

শুনেছিলো মায়ার জন্মের সময় যে কেবিনে মায়ার জন্ম হয়েছিলো সে কেবিনেই দু’জনের বিয়ে ঠিক করে রেখেছিলো ওঁদের পরিবার।কোনোদিন এই কথাটা শোনানো হয়নি ওদেরকে। হয়তো পড়ালেখায় এফেক্ট পরবে তাই।শোনালেই ভালো হতো বোধহয়। রুদ্র মায়াকে ওই দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখতে পারতো।এতগুলো রিলেশন করতো না।
বাট মেয়েটাকে যে ও বেস্টফ্রেন্ড ছাড়া আর কোনোদিন কিছু ভাবতেই পারেনি।
এমনকি,রিলেশন গুলো ও জাস্ট টাইম পাস করার জন্য করেছিলো।বিয়ের জন্য না।আরশিকে কী করে বোঝাবে এটা!হাজারো মিথ্যের মাঝে এটাই সত্যি আরশির জন্য ওর সফ্ট কর্ণার জেগেছে।বাট সেটা বিয়ে পর্যন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া কোনোভাবেই সম্ভব না।

আরশি আবার ডাকলো ওঁকে। রুদ্র তাকালো ওর দিকে। নম্র স্বরে মিথ্যে আশ্বাস দিয়ে বললো
-“আচ্ছা, আম্মু কে বলবো।”

ঠোঁট বিস্তৃত করে হাসলো আরশি।রুদ্র কথাটা বড্ড আকুপাকু মন নিয়ে বলেছে।ও জানে ওর মা মানবে না।দরকার হলে তেজ্য করবে ওঁকে তবুও মায়া ছাড়া আর কারো শুনবে না।তবুও কেন যেন মিথ্যা বললো ও।আরশির হাসি দেখে মনে হলো ভাগ্যেস মিথ্যে বললো, নয়তো মেয়েটা মুখ কালো করে ফেলতো।রুদ্রর ভালো লাগতো না জিনিসটা!

আরশি কফির কাপে চুমুক দিয়ে বললো
-“এই কথাটা ক’দিন ধরে বলার জন্য পিছুপিছু ঘুরছি তোমার জানো?কিন্তু কোনোমতেই সুযোগ হয়ে উঠছিলো না!”
-“কেন?সুযোগ হচ্ছিলো না কেন?ভার্সিটিতে তো প্রতিদিনই দেখা হয়।”
-“দেখা হলেই বা কী!তোমার সাথে কথা বলা যায় সেখানে, হাই হ্যালো পর্যন্ত করা যায় না তোমার বন্ধু গুলোর জন্য। খালি টেনে টেনে নিয়ে যায় তোমাকে।তুমি তো ওদের বলোও না কিছু।মাঝে মাঝে বড্ড রাগ হয় আমার।”

আক্রোশ নিয়ে বললো আরশি।এবারে মুখের হাসি গায়েব হলো রুদ্রর। কিছুটা গম্ভীর হয়ে বললো
-“আমাদের বন্ধুদের নিয়ে কিছু বলবে না আরশি।ওরা আমার একটা পরিবার,আমার জন্য সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।কনসার্ণ হয় আমার জন্য।ওঁদের কিছু বলার ক্ষমতা আমার নেই!”

আরশি দেখলো পরিস্থিতি বিগড়ে যাচ্ছে। রুদ্রর মন খারাপ করে দিচ্ছে ও। তাই কথা ঘোরানোর জন্য আমতা আমতা করে হেঁসে বললো
-“আচ্ছা,আচ্ছা!বলবো না।অন্য কিছু বলো।সব ভালো তো?”

কথা বলছিলো দু’জনে।হঠাৎই টেবিল কাপিয়ে রুদ্রর মুঠোফোনটি বেজে উঠলো।
রুদ্র ফোন হাতে নেয়।নাম্বার দেখতেই হাসলো ও। মায়া কল করেছে।এই মেয়ে তার উপর রাগ করে দুইদিনের বেশি থাকতে পারে না।রুদ্র কল রিসিভ করে।কৌতুক মিশ্রিত স্বরে বললো

-“শেষমেশ তো কল দিতেই হলো আমাকে!”
-“রুদ্র তুই তাড়াতাড়ি আমাদের বাড়িতে আয়।” তড়িঘড়ি করে বললো মায়া।

রুদ্র হকচকিয়ে যায় মায়ার কন্ঠ শুনে।উদগ্রীব হয়ে আওড়ায়
-“কী হয়েছে?তোর গলা এমন লাগছে কেন?তুই ঠিক আছিস তো? ”

-“আমি ঠিক আছি। কিন্তু বাবাইয়ের কী জানি হয়েছে। আব্বুর সাথে দেখা করতে এসেছিল।কিন্তু এখন নাকি খারাপ লাগছে। তুই তাড়াতাড়ি আয়। আমি ডক্টর কে ফোন করে দিয়েছি।”

-“মায়ু আমার বাবার কী হয়েছে? হ্যালো,হ্যালো।”
রুদ্র ফোন সামনে এনে দেখে মায়া কল কেটে দিয়েছে।আরশি অবাক দৃষ্টিতে দেখছিলো ওঁকে। রুদ্র ফোন রাখতরই উদ্বিগ্ন হয়ে বললো
-“কী হয়েছে রুদ্র?”
-“বাবা, বাবা অসুস্থ হয়ে পরেছে আরশি। আমাকে যেতে হবে!”

আরশিকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই উঠে দাড়ালো রুদ্র।তাড়াহুড়ো করে বিল পে করে হন্তদন্ত হয়ে বেরোলো ক্যাফেটোরিয়া ছেড়ে ।আরশি বলতে যাচ্ছিলো বিল দিতে হবে না আমি দেব।বলতে যাচ্ছিলো আরো অনেক কিছুই তবে সে সুযোগ দিলো না রুদ্র।আরশিও ছুটলো ওর পিছু পিছু। গাড়িতে বসে সাই করে ছুটে চলে গেলো রুদ্র।আরশি মন খারাপ করে দাঁড়িয়ে থাকে ক্যাফের সামনে।কু ডাকছে মন।মনে হচ্ছে খারাপ কিছু হবে।ও হারিয়ে ফেলবে ওর ভালোবাসাকে!

#চলবে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here