#উৎসর্গ
#পর্ব:৯
#তানজিনা ইসলাম
সন্ধ্যার দিকে মায়ার সব বন্ধুরা এলো চৌধুরী ম্যানশনে। রাফানা চৌধুরী সবাইকে ডাইনিংরুমে এ বসতে দিলেন।রুহানি,রাহুল,রিয়ানা আর সাহিল এসেছে।রুদ্র আর মায়াও বসলো ওদের সাথে।সাহিল আর রিয়ানা রেগে বোম হয় আছে।বিয়ের খবরটা কেউই ওদের জানায়নি ।ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্র খবর পর্যন্ত বন্ধুমহলে কেউ কারো থেকে লোকায় না।একটা পিঁপড়া মরলে পর্যন্ত সেটা নিয়ে একদফা কেচ্ছা হয়ে যায়। অথচ এতো বড় একটা ঘটনা ঘটিয়ে ফেললো চারজনে, বাকি তিনজন কী বানের জলে ভেসে এসেছে।
মায়া ওদের কে বোঝানোর চেষ্টায় আছে।অথচ ওরা একটার পর পিঞ্চ মেরেই যাচ্ছে। কাচুমাচু হয়ে বসে আছে রুদ্র।সাহিল আর রিয়ানা ননস্টপ কথা শুনিয়ে যাচ্ছে। এতো চিল্লাপাল্লার মাঝেও আরিয়ানের শূণ্যতা অনুভব করলো রুদ্র।উদ্বিগ্ন স্বরে আওড়ালো
-“তোরা সবাই এসেছিস,আরিয়ান আসেনি?ওকি তোদের চেয়েও বেশি খেপে আছে না-কি! ”
-“খেপবে না তো কি করবে!তোরা দুজন তো চুপিচুপি বিয়ে করে নিলি।আমাদের তো জানালিনা পর্যন্ত। কিন্তু রাহুল আর রুহানিকে ঠিকই বলেছিস।শুধু মুখেই বন্ধুত্ব। কাজের বেলায় না।তারপরও নির্লজ্জের মতো রুদ্র একবার বলাই চলে এসেছি।”সাহিল মুখ বাকিয়ে বললো।
মায়া সাফাই দেওয়ার চেষ্টা করলো।উদগ্রীব স্বরে আওড়ালো
-“প্লিজ রাগ করিস না।রাহুল আর রুহানিকে তাৎক্ষণিক পাওয়া গিয়েছিল।কিন্তু তোরা মনে হয় বিজি ছিলি।রাহুল অনেকবার কল দিয়েছিলো তোদেরকে।ধরিসনি।আমি মেসেজ দিয়েছি, রুহানি মেসেজ দিয়েছে।দুটোর একটাও অনলাইনে ছিলি না।আর বিয়েটা হুট করেই হয়ে গেছে।সময় নিয়ে যে কল করবো তোদেরকে সে সুযোগ পাইনি!”
-” আরে ওর কথা কিছু মনে করিস না।তোর মেসেজ অনেকক্ষণ পরে দেখেছিলাম।আসলে আমরা একটু এসাইনমেন্ট নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম।”রিয়ানা মায়াকে আশ্বস্ত করে বললো
রাফানা চৌধুরী টেবিলে নাস্তা নিয়ে আসলেন।সোফায় বসে কুশলাদি বিনিময় করলেন সবার সাথে।সকলকে উদ্দেশ্য করে বললেন
-“বিয়েটা ঘরোয়াভাবে হুট করেই হয়ে গেছে।তাই জানানোর সুযোগ হয়নি তোমাদের কে।তবে হ্যাঁ, চিন্তা নেই বড় করে অনুষ্ঠান হবে দু-একদিনের মধ্যে। তোমরা সবাই মিলে সবকিছু ব্যবস্থা করবে।যেহেতু তোমাদের দুইজন বন্ধুর বিয়ে।পারলে আজকে রাতটা এখানে থেকে যাও।”
-“অবশ্যই আন্টি।আমরাই করব সবকিছু। কিন্তু আজকে রাতে থাকতে পারব না।কালকে সকাল সকাল চলে আসব সাজানোর জন্য।”মিষ্টি হেঁসে উত্তর দিলো সাহিল।
রুদ্র তখনও ভাবছিলো আরিয়ানের কথা।বন্ধুমহল ওঁদের একটা পরিবার আর প্রত্যেকটা বন্ধু ওর সে পরিবারের সদস্য। একজন ছাড়াও ওঁদের সবকিছুই অপূর্ণ। রুদ্র চিন্তিত স্বরে বললো
-“আমার প্রশ্নের উত্তর তো কেউ দিলি না।রিয়ান কি আসলেই জানে না?তাই আসেনি?ফোন ও বন্ধ সকাল থেকে।”
-“ওর খবর আমরাও জানি না।সকাল থেকে দেখা নেই ওর।”
সাহিল উত্তর দেয়।
-“ও এসেছিল সকালে।আমার সাথে দেখা করে চলে গেছে।আমি অনেক বলেছি বসতে।কিন্তু বসেনি।”
মায়ার কথায় সবাই তাকালো ওর দিকে।রুদ্র অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো
-“কই আমি তো দেখিনি।সকালে তোর আগে তো আমিই উঠেছি।”
-“অনেক সকালে এসেছে।তখন কেউ উঠনি ঘুম থেকে।আমার ঘুম ভেঙে যাওয়ায় বাগানে হাঁটতে গিয়েছিলাম।প্রায় সাড়ে পাঁচটার দিকে এসেছিল।মন খারাপ ছিলো ওর।কিছু নিয়ে ডিপ্রেসড ছিলো।
সবাই অবাক হয়ে তাকালো ওর দিকে।রিয়ানা বিহ্বল স্বরে বললো
-“আরিয়ান এসেছিল তাও সকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে।মায়া তোর কী মাথা খারাপ হয়ে গেছে। ”
-” আমার মনে হয় তুই স্বপ্ন দেখেছিস।”রাহুল দুষ্টামি করে বললো।
-“তোদের কী আমাকে মেন্টাল মনে হয়।যে স্বপ্ন আর বাস্তবতার পার্থক্য বুঝবো না।ও সত্যিই এসেছিল।মন খারাপ ছিলো ওর।কী কী বলে চলে গেছে আমাকে।অর্ধেক বুঝেছি অর্ধেক বুঝিনি!”
-“আরিয়ান তো এমন না।ও আমাদের সবার চেয়ে আলাদা, বুঝদার। ওর তো এসবে মাথা ঘামানোর কথাই না।ও তো সারাক্ষণ ওর কাজ আর পড়াশোনা নিয়েই পরে থাকে।তাও আবার দেখা করতে এসেছে সকাল সাড়ে পাঁচটায়!চিন্তার বিষয়!”রুদ্র চিন্তিত হয়ে বললো।
-“আচ্ছা ওর কথা বাদ দে।তোরা কেউ আরশিকে বলিসনি।ওর ওতো জানা উচিত আমাদের বিয়ের কথা।”মায়া মিটিমিটি হেসে বললো।
-“কেন ওকে বলব কেন?ওতো আমাদের বন্ধু না।”মুখ ফুলিয়ে বললো রিয়ানা!
-“আমাদের বন্ধু না ঠিকি।কিন্তু রুদ্রর তো অনেক কিছু।বন্ধুর চেয়েও বেশি।না বললে বিষয়টা কেমন দেখায় না!”
রুদ্র শান্ত দৃষ্টিতে তাকালো মায়ার দিকে। মনে মনে শয়তান মেয়েটাকে একশো একবার খুন করার ইচ্ছে পোষণ করলো।চিবিয়ে চিবিয়ে বললো
-“ফালতুমি বন্ধ কর।সাহিল আর রাহুল আমার সাথে ওপরে চল।”
বলতেই রাহুল আর সাহিল রুদ্রর সাথে উপরে চলে গেল।তিনজন নিচে সোফায় বসে থাকলো।রুহানি আর রিয়ানা চা খেয়ে মায়ার পাশে এসে বসলো।দুজনেই মায়াকে দুদিক থেকে জড়িয়ে ধরে জিজ্ঞেস করলো
-“কাল রাতে কী হলো?”
-“কী হবে?”
-“যা হয়।”রুহানি চোখ মেরে বললো!”
-“তোদের মনে হয় কিছু হবে? তবে যদি জিজ্ঞেস করিস রুদ্র কী করেছে তাহলে বলব একটা থাপ্পড় মেরেছে আমাকে।”
-“কী?”রিয়ানা আঁতকে উঠে বলে।
-“হ্যাঁ।জানিস ও আমার উপর অসম্ভব রেগে আছে। ওর মনে হচ্ছে সবকিছু আমিই করেছি।যদিও আমিই করেছি, কিন্তু সবাই সাহায্য করেছে আমাকে।ইভেন ওর এটাও মনে হচ্ছে আমি ওর মা-বাবা কে ওর কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছি।কারণ সবাই আমার পক্ষ নিচ্ছে।”
-“ইশ! কেন যে ওভাবে বিয়ে টা করতে গেলি?”ওর রাগটাই স্বাভাবিক রে।ছেলে হয়েও এভাবে জোর জবরদস্তির স্বীকার হলো।বেচারা!আঙ্কেল এভাবে অসুস্থতা না দেখালেই পারতো!”রিয়ানা আফসোস করে বললো।
-“আমি মানছি আমি ভুল করেছি।কিন্তু তুই দেখিসনি ও আরশির সাথে,অন্য মেয়েদের সাথে কীভাবে পিরিতি করতো।আমার ভয় লাগতো ওকে হারিয়ে ফেলার।আমি ওকে ভালোবাসি।যেটা আমার সেটা শুধুই আমার।আমার পছন্দের জিনিস টা কেউ ধরা তো দুরের কথা কেউ যদি দৃষ্টিও দেয় আমার সহ্য হয় না।সেখানে তোরা ভাবলি কী করে আমার প্রিয় মানুষ টাকে ছেড়ে দিব আমি বা ও বোঝার অপেক্ষায় থাকবো।যা আমার প্রিয় তা নিজের করে পাওয়ার জন্য আমি সবকিছু করতে পারি!”
,
ধরণীর বুকে সূর্যরশ্মির বিচরণ ঘটেছে অনেক্ষণ হলো।শোরগোলের আওয়াজে মায়ার ঘুম ভাঙে। নরম বিছানা থেকে আড়মোড়া ভেঙে উঠে বসলো ও।চোখ কচলে আশেপাশে তাকালো।কিন্তু রুদ্র কে কোথাও দেখতে পেলো না।কাল রাতেও জোর করে রুদ্রর বুকে ঘুমিয়ে ছিল।কিন্তু এখন গেলো কোথায় ছেলে টা?মায়া ঘড়িতে সময় দেখে। দশটা বেজে ত্রিশ মিনিট।মায়া হড়বড় করে বিছানা ছেড়ে নামলো।এতো বেলা পর্যন্ত ঘুমিয়েছে ও?
নিচ থেকে কিসের আওয়াজ আসছে এইভাবে?মায়া নিচে নেমে দেখে বাড়ি ভর্তি গিজগিজ করা মানুষ। সবাই বাড়ি সাজানোতে ব্যস্ত।কেউ লাইটিং এর কাজ করছে তো কেউ ফুলের কাজ।রাহুল আর সাহিলও সাহায্য করছে এক একজনকে। রিয়ানা আর রুহানি সোফায় বসে আছে। রাফানা চৌধুরীর সাথে কিছু নিয়ে আলোচনা করছে। তাহলে সবাই কালকের কথা রেখেছে।মায়া গিয়ে বসলো ওদের পাশে।
-“কীরে এতক্ষণে ঘুম ভাঙলো তোর। আমরা সেই কখন এসেছি।কতক্ষণ ধরে অপেক্ষা করছি।”রিয়ানা মায়াকে উদ্দেশ্য করে বলে।
-“রুমে গিয়ে ডাকিসনি কেন?আমি কী জানতাম নাকি তোরা এসেছিস?রুদ্র কোথায় মামনি?”
-“রুদ্র তোর বাবাইয়ের সাথে বাইরে গেছে। বিয়ে,গায়ে হলুদ সব বাড়িতেই হবে।কোনো ত্রুটি যাতে না থাকে, তাই ডিজাইনার এর সাথে কথা বলতে গেছে।”রাফানা চৌধুরী মায়াকে চায়ের কাপ এগিয়ে দিয়ে বলেন।
-“আজ রাতে মেহেন্দি হবে মায়ু।কাল হলুদ।তাই মেহেন্দি ডিজাইন সিলেক্ট করছিলাম।দেখতো তোর কোন ডিজাইন পছন্দ হয়?রুহানি মায়াকে তার মোবাইল এগিয়ে দেয়।
মায়া মেহেদী দেখে সিলেক্ট করে দেয়।
-“সন্ধ্যার দিকে ড্রেস নিয়ে আসবে বিয়ে আর মেহেন্দির জন্য। তোমরা সবাই মিলে সিলেক্ট করে দিও মায়ার জন্য।”
রাফানা চৌধুরী উঠতে উঠতে বলেন।তিনজনই মাথা নাড়ে।ড্রেস আর মেহেদী দেখতে আবার ব্যস্ত হয়ে পরে।
,
বিকেলের শেষের দিকে বাড়ির ভেতরে লাইটিং, ফুলের কাজ সব শেষ হয়।যদিও বাইরের দিকের অনেক কাজ বাকি থেকে গেছে।সবাই ডাইনিং এ বসে শাড়ি দেখছে। রিয়ানা আর রুহানি মায়াকে সাহায্য করছে। তখনই সদরদরজা পেরিয়ে রুদ্র ঢোকে।সিড়ি বেয়ে উপরে উঠতে যাবে তখনই রাফানা চৌধুরী ডাক দেয়। সোফায় তার পাশে বসতে বলেন।রুদ্র না করলেও মায়ের ধমকে বসে যায়।
মায়া রুহানি আর রিয়ানার সাথে ড্রেস সিলেক্টে ব্যস্ত ছিলো।ওর দিকে তাকিয়ে বললো
-“তোর ড্রেস এখনো সিলেক্ট করা হয়নি?”
-“না। বুঝতে পারছি না কোনটা নেব?হলুদের টা নিয়ে ফেলেছি।কিন্তু বিয়ের জন্য কোনটা নেব বুঝতে পারছিনা।সব লেহেঙ্গাই সুন্দর লাগছে।”মায়া অসহায় মুখ করে বললো।
-“মায়ু। এই লেহেঙ্গা টা দেখ। এটা সবচেয়ে সুন্দর।সুন্দর লাগবে তোকে পরলে।”রুহানি মায়াকে একটা লেহেঙ্গা হাতে দিয়ে বলে।
মায়া হাতে নিয়ে উল্টে পাল্টে দেখে।লেহেঙ্গা সুন্দর। কিন্তু উপরের পার্ট অনেক ছোট। পুরো গায়ের গড়ন বোঝা যাবে।যদিও মায়া মাঝে মাঝে ওয়েস্টার্ন পরে।কিন্তু কখনোই তা শরীরের স্ট্রাকচার বোঝা যাওয়ার মতো নয়।
-“লেহেঙ্গা তো ভালোই। কিন্তু বড়দের সামনে এই লেহেঙ্গা পরবো কী করে?মান-ইজ্জত সব যাবে ভাই!
আচমকা রুদ্র হাত থেকে কেড়ে নেয় লেহেঙ্গা টি।সব লেহেঙ্গা থেকে আলাদা করে সরিয়ে রাখে।
-“এই লেহেঙ্গা তোকে পরতে হবে না।এই টা সুন্দর। এইটাই পরিস বিয়ের দিন।”হাতে থাকা লেহেঙ্গা টি মায়ার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে রুদ্র বললো
মায়া মুচকি হেসে হাতে নিলো।রুদ্রর দেওয়া লেহেঙ্গা টিও সুন্দর। কিন্তু মায়ার মনে হচ্ছে দুনিয়ার সবচেয়ে সুন্দর পোশাক হয়তো এটিই।ভালো লাগাই মনটা ছেয়ে আছে। এই ছোট কেয়ার টুকুও অনেক তার জন্য।রিয়ানা, রুহানি আর রাফানা চৌধুরী ঠোঁট চেপে হাসে।রুদ্র যতই রেগে থাকুক বা বলুক না কেন যে মায়াকে ওর সহ্য হয় না।কিন্তু কোথাও না কোথাও মায়ার জন্য ওর সত্যিই অসম্ভব দুর্বলতা কাজ করে।
,
সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে রাতের নিস্তব্ধতা বাড়ছে। আকাশে অসংখ্য তারার মেলা। তার মাঝখানে একটি সুন্দর চাঁদ। যা চারিদিকে আলো ছড়িয়ে রেখেছে। প্রেমিক পুরুষরা যার সাথে তাদের প্রিয়তমার তুলনা দেয়।রুদ্র নিষ্পলক চেয়ে আছে ঐ দুর আকাশের দিকে।ছাদের রেলিং এ পা ঝুলিয়ে বসে আছে। তার এক পাশে সাহিল,অপর পাশে রাহুল।তিনজনই নিরব হয়ে বসে আছে। নিচে মেয়েরা বসে মেহেদী দিচ্ছে।তাই তাদের অবস্থান হয়েছে ছাদে।
-“রুদ্র। একটা সত্যি কথা বলতো, তুই মায়াকে আসলেই ভালোবাসিসনা??”নিরবতা ভেঙে বললো রাহুল।
-“তোর কী মনে হয়?”রুদ্র আকাশপানে দৃষ্টি রেখেই বললো।
-“আমার মনে হয় তুই ওকে ভালোবাসিস। কিন্তু তা বুঝতে পারিস না।”
-“ঠিক বলেছিস।আমি আসলেই ওর প্রতি নিজের অনুভূতি বুঝতে পারি না। আমি বেস্টফ্রেন্ডের বেশি আর কিছু ভাবতে পারি না ওঁকে। যদি ওর সাথে আমি সারাজীবনও সংসার করি তবুও ভালোবাসার কোনো অনুভূতি আসবে না ওর প্রতি।আর এখন ওর প্রতি আমার রাগটাই শুধু অনুভব হয়।আমার এটাও মনে হয় যে আমি হয়তো আরশিকে ঠকিয়েছি।ওর সাথে ফ্লার্ট করে ওকে ভালোবাসার জালে ফাঁসিয়েছি। যা আমার একদম উচিত হয়নি।আমার ওর জন্য অসম্ভব খারাপ লাগে।”
রাহুল রুদ্রর কাধে মাথা রেখে বসেছিলো।ওভাবেই ক্ষীণ স্বরে বললো
-“হুদাই না এসব ছ্যাবলামি করতে গেলি!ঠিক ক’টা মেয়ের সাথে পিরিতি করেছিস তুই, হিসাব আছে? মায়ার প্রতি তোর রাগটাও স্বাভাবিক। ও তোকে কতটা ভালোবাসে সেটা বোঝানোর সাধ্য আমাদের নেই। হয়তো মায়ারও নেই। কিন্তু তুই তো জানিস ও কেমন।ও নিজের জিনিসের প্রতি ছোটোবেলা থেকে কতটা পসেসিভ সেটা নিশ্চয়ই তোকে বলে দিতে হবে না।ও নিজের পছন্দের জিনিস কারো সাথে শেয়ার করে না।তাই তোর সাথে এমন করেছে ও।”
সাহিল বললো
-” রাগ মনের মাঝে পুষে রাখিস না রুদ্র।রাগ মানুষ কে ধ্বংস করে দেয়। ক্ষমা করে দে ওকে।নয়তো কখনো শান্তিতে থাকতে পারবি না।অর্ধাঙ্গিনী হিসেবে নয় বন্ধু হিসেবে ক্ষমা করে দিবি।বন্ধুদের উপর রাগ রাখা যায় না রুদ্র।”
রুদ্র দীর্ঘশ্বাস ফেলে।সাহিল আর রাহুল ভুল কিছু বলেনি।কিন্তু মায়ার এই ঔধ্যত্ব মাঝে মাঝে মেনে নিতে পারে না ও।সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্ম।ছোটোবেলা থেকে যা চেয়েছে তাই পেয়েছে।তাই জেদটা সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে।নিজের ফিলিংসটাই ওর কাছে ম্যাটার করে, অন্যের যেন কোনো দাম নেই।মাঝে মধ্যে একটু নরম হলে কী খুব বেশি ক্ষতি হয়ে যায়।
সাহিল দেখলো পরিস্থিতি গম্ভীর হয়ে যাচ্ছে। অথচ ওরা এখানে মাইন্ড ফ্রেশ করতে এসেছে।পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সাহিল বললো
-“ব্রো।নিচে মেয়েরা মেহেদী দিচ্ছে। আমাদেরও তো কিছু করা উচিত। ”
-” তোরো মেহেদী দিতে মন চাচ্ছে নাকি সাহিল।”রাহুল ঠেস মেরে বললো।
-“মেহেদী কেন দিতে যাব বেয়াদব। কাল থেকে রুদ্রর নতুন জীবন শুরু।তাই আজকে একটু সেলিব্রেট করাই যায়।”
-“আগে বলতি তাহলে এনে রাখতাম।এখন এতো রাতে কোনো বার খোলা থাকবে বলে মনে হয় না।”গোমড়া মুখে বললো রুদ্র।
-“আরে আনাতে হবে কেন? আমি তো এনেই রেখেছি।”
বলেই ছাদের অপর সাইডের ছাদ রুম থেকে দুই বোতল ড্রিংকস বের করে আনে।রুদ্র আর রাহুল লাফ দিয়ে রেলিং থেকে নিচে নামে।
-“কখন করলি এসব?”রাহুল খুশিতে গদ গদ হয়ে বলে।
-“সন্ধ্যায়।”
রাহুল ছাদে পাটি বিছিয়ে দেয়।তিনজন গিয়ে পাটির উপর বসে।সাহিল ছাদ রুমে গ্লাস ও এনে রেখেছিল সেগুলোও বের করে।
-“ইশ!এতোসব মজা মিস করে গেল আরিয়ান।”রাহুল গ্লাসে ড্রিংকস ঢালতে ঢালতে বলে।
-“কালকেও কি আসবে না ও?”সাহিল জিজ্ঞেস করে।
-“না আসলে ওর বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে আসব ওকে।তারপর প্রশ্ন করব যে কে ছেঁকা দিয়েছে ওকে?”উত্তর দিলো রুদ্র।
-“আমারও মনে হয় বেচারা কিছু নিয়ে ছেঁকা খেয়ে বেকা হয়ে গেছে। “রাহুল অট্টহেসে বললো।
-” তোরা বোস। আমি গিয়ে পানি নিয়ে আসছি।যদি কিছুক্ষণ পর পিপাসা পায় তাহলে সমস্যায় পরে যাব।এতক্ষণে হয়তো সবাই ঘুমিয়ে গেছে।”
ছাদ থেকে নিচে দোতলায় নামলো রুদ্র।নিচতলায় নামতে যাবে তখনই ওর মা-বাবার গলা শুনে থেমে গেলো।তারা ডাইনিংরুমে বসে কিছু নিয়ে কথা বলছে। রুদ্র আর নিচে নামলো না।এখন নিচে নামলে একশোটা প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে।
ইতস্ত করে নিজের কক্ষের সামনে গিয়ে দাঁড়ালো রুদ্র।
ওখানেও নিজের প্রয়োজনে জগে করে পানি রাখে ও।কিন্তু সমস্যা হলো তিন তিনটা মেয়ে একসাথে ঘুমাচ্ছে সেখানে, এভাবে তাদের ঘুমের ঘোরে ঢুকে পরা ভালো দেখায় না।দেনামোনা মন নিয়ে পা টিপে টিপে কক্ষে ঢুকলো রুদ্র।মায়া,রুহানি আর রিয়ানা এক বিছানায় ঘুমোচ্ছে।রুদ্র বেডসাইড টেবিল থেকে জগটা হাতে নিল।বের হতে যাবে তখনই চোখ পরল মায়ার হাতের উপর।মায়ার মেহেদী রাঙানো হাতে রুদ্রর নামটা জ্বলজ্বল করছে।ড্রিম লাইটের রঙিন আলোয় মায়ার মেহেদী রাঙানো হাত দুখানা অসম্ভব সুন্দর লাগছে। রুদ্রর হাত দুটো ধরতে মন চাইলো খুব করে।তবে ধরলো না।জগ নিয়ে পা বারালো কক্ষের বাইরে।
#চলবে

