#হিপনোটাইজ
#তাজনিন_তায়্যিবা
পর্বঃ15
⭕পূনর্জন্ম বা টাইম ট্রাবল কোন ধর্মে গ্রহনযোগ্য
___________________________________________ নয়,এটি কেবল রুপকথার উপমা।
_______________________________⭕
খাবার টেবিলে বসে খাওয়ায় মনযোগ দিয়েছে নিস্পাপ, অনুরিকা মাত্রই এলো খাবার খেতে। আসা মাত্রই নজর পড়লো নিস্পাপের আঙুলে চকচকে আংটির উপর। আংটিটির প্রতিটি খাঁজ আর নিখুঁত নকশার সৌন্দর্য বিমোহিত করলো তাকে।এগিয়ে গিয়ে দু হাতে আগলে ধরলো নিস্পাপের হাত,
“ওয়াও নিস্পা! এই রিং তুমি কোথায় পেলে?”
চট করেই খাওয়া থেমে যায় নিস্পাপ,আংটির কথা মনেই ছিলো না একদম,যার অন্যতম একটি কারন চোখে দেখতে পায় না সে। নিস্পাপ নিস্প্রভ হাসলো,
“পছন্দ হয়েছে তোমার? ”
অনু খুশিতে গদগদ হয়ে বললো,
“হ্যাঁ খুব পছন্দ হয়েছে।”
নিস্পাপ আংটি টা খুলতে খুলতে বললো,
“তবে তুমিই রেখে দেও।”
অনুরিকা দ্বিমত করলো নিস্পাপের কথায়,
“সরি নিস্পা, তোমার জিনিস আমি কি করে নিবো?দেখতে ভালো দেখায় না।”
“আরে আমার এসব পড়তে ভালো লাগে না, তারচেয়ে বরং তুমিই রাখো।তোমার তো পছন্দ হয়েছে।”
নিস্পাপ জোর করেই অনুর হাতে আংটি টি পড়িয়ে দিলো। অনুরিকা বিস্মিত দৃষ্টিতে নিস্পাপের দিকে তাকালেও, তার মন তখন আংটির অপূর্ব সৌন্দর্যে মোহিত হয়ে আছে। আংটিটির গাঢ় সবুজ পাথরটি আলোয় চকচক করছে, কখনো আবার বেগুনি আভা ছড়িয়ে দিয়ে চিকচিক করে উঠছে।
অথচ তারা কেউই যানে না, এ আংটি শুধু একটি সাধারণ অলংকার নয়, বরং এটি মহামূল্যবান রত্ন আলেকজান্দ্রিত, যার রঙ পরিবর্তনের মাঝে লুকিয়ে আছে এক অতীতের তরঙ্গলীলাময় প্রেমের ইতিহাস।
যার কোমল দীপ্তি যেন অতীতের কোনো অলৌকিক গল্প ফিসফিসিয়ে বলছে সময়ের পরত জমে থাকা বহু যুগ আগের কোনো বিষাধময় স্মৃতির গল্প।
⚫⚫⚫⚫⚫⚫⚫⚫⚫⚫
পরের দিন সকালে নতুন ভোরের আগমনে প্রকৃতি জেগে উঠল নতুন করে । পূর্ব আকাশের সূর্য ধীরে ধীরে উদিত হলো, তার কোমল আলো চারপাশে ছড়িয়ে পড়ল নিয়ম মাপিক। বাতাসে ভাসতে থাকা পাখিদের কিচিরমিচির শব্দ ঘুম ভাঙিয়ে দিল নিস্পাপ আর অনুরিকার। এ এক চেনা সকাল, প্রতিদিনের মতোই পরিচিত, অথচ প্রতিবারই নতুন করে ছুঁয়ে যায় তাদের মন।
ভোরের প্রথম আলো, পাখিদের গান, সকালের স্নিগ্ধতা সব কিছু তাদের জীবনের একটি নিয়মে পরিণত হয়েছে।
সকাল গড়িয়ে ঘড়ির কাঁটা ঠিক নটার ঘরে পৌঁছানো মাত্রই, নিস্পাপ রওনা দিল তার চেনা গন্তব্য, দোকানের দিকে। আর অনুরিকা বেরিয়ে পড়ল ভার্সিটির পথে, হাতে বইয়ের ব্যাগ, চোখে নতুন দিনের স্বপ্ন,পরিচিত পথ, চেনা মানুষজন সবকিছুই যেনো জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
****
ভার্সিটিতে পৌছে বান্ধবীদের সাথে কুশল বিনিময় সারলো অনু।তারপর এগিয়ে গেলো ক্লাসের দিকে। জ্যামে আটকে থাকতে হয়েছে প্রায় ঘন্টা খানেক, পিপাসায় গলাটা শুখিয়ে গিয়েছে, পরিনত হয়েছে শুখনো কাঠে। পানির পট টাও আনে নি সাথে, রোদের মধ্যে হেটে এসে ক্লান্ত লাগছে খুব, জন্মের অলসতা ভর করেছে কাধে, পানি খাওয়ার জন্য ক্লাসের বাহিরে হেটে যাওয়াকে মনে হচ্ছে হিমালয় জয় করার সমান।
বিরক্ত হয়ে ঘুরে পেছনে তাকাতেই দেখলো তার পেছনের মেয়েটার কাছে পানির বোতল আছে।মেয়েটা নিচের দিকে মাথা নুইয়ে খাতার উপর কলম চালাচ্ছে কেবল।এতো জোরেই কাজটা করছে যে ঘর্ষনের মৃদু আওয়াজ বের হচ্ছে।অনুরিকা মাথা ঘামালো না, যার যা ইচ্ছে করুক তাতে তার কি? সে এস্ত ডাক দিলো মেয়েটিকে,
“এই যে শুনছো?”
মেয়েটি না উত্তর দিলো না মাথা তুলে তাকালো, একই ভাবে খাতার উপর কলমটাকে আচ্ছা করে ঘসছে সে, যেনো একটা ছোট বাচ্চার কির্তিকলাপ।অনু আবার ডাকলো,
“এক্সকিউজ মি আমি তোমাকে বলছি? আমি কি একটু পানি খেতে পারি?”
নাহ! কোন উত্তর ফিরে এলো না। অনু ঠোঁট উল্টালো নিজের হাতটা মেয়েটির চোখের সামনে রেখে নাড়ালো কয়েকবার,
“এই যে উত্তর দিচ্ছো না কেনো?কখন থেকে ডাকছি।”
মেয়েটির হিংস্র চোখের নজর আটকালো অনুর হাতের আংটির উপর, মূহুর্তেই হাইপার হয়ে গেলো সে, দু হাতে চেপে ধরলো অনুর হাত, সবটুকু হিংস্র তা মিশিয়ে টেনে খুলতে চাইলো আংটি টি, বিরবির করে বলতে লাগলো,
“তুই আবার ফিরেছিস? কেড়ে নিতে এসেছিস আবার? এই আংটি তোর হাতে কেনো এই আংটি টা আমার, আমার হাওয়ার কথা ছিলো। ”
উন্মাদের মতো চেচাতে লাগলো মেয়েটি। অনু হকচকালো, মেয়েটির শক্তির সাথে পেরে উঠছে না সে, ক্লাসের সবাই মিলে কোন রকম শান্ত করলো তাদের, কিন্তু অনু তখনো বুঝতে পারলো না, সামান্য পানি চাইলো বলে মেয়েটা এমন করলো নাকি এই আংটির জন্য?
________________
প্রতিদিনের মতো আজও আয়মান ভুল করেনি, নিস্পাপকে রাস্তা পার করানোর দায়িত্ব যেন একান্তই তার। দিনের এই নির্দিষ্ট সময়টাতে নিস্পাপের পাশে থাকাটা তার অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। মেইন রোডের কাছাকাছি এসে আয়মান হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আগেই তাকরিম এসে নিস্পার হাত চেপে ধরল দৃঢ়ভাবে। আয়মানের বাড়ানো হাত মাঝপথেই থেমে গেল, চোখে ফুটে উঠলো এক মুহূর্তের দ্বিধা।
নিস্পাপ স্পষ্ট বুঝতে পারল, এই অচেনা ছোঁয়া আয়মানের নয়,অস্ফুটে বলে উঠলো,
“আয়মান?কোথায় আপনি? আমার হাত ধরলো কে?”
তাকরিমের লোকেরা আচমকাই আয়মানের মুখ চেপে ধরে টেনে হিচড়ে নিয়ে যেতে লাগল গলির ভেতরে। আয়মান প্রাণপণ ছাড়ানোর চেষ্টা করছিল, হাত-পা ছুড়ছিল বাঁচার জন্য, কিন্তু তাদের শক্ত গ্রিপের কাছে সে অসহায় হয়ে পড়ল।
নিস্পার দিকে তাকিয়ে তার মুখ থেকে কোনো শব্দ বের হওয়ার আগেই একজন শক্ত করে মুখ চেপে ধরল, যেন নিস্পা কিছু বুঝতে না পারে।
আয়মান নিস্পার দিকে হাত বাড়িয়ে কাতরাচ্ছিল, চোখের ভাষায় বলতে চাইছিল কিছু, কিন্তু তাকরিমের লোকেরা তাকে আর সেই সুযোগ দিল না,টেনে নিয়ে গেল অন্ধকার গলির দিকে , নিস্পা কিছু বুঝে ওঠার আগেই নিস্তব্ধ হয়ে গেল চারপাশ।নিস্পার সন্দেহ হলো এবার,কৌতুহলি কন্ঠে ফের ডাকলো,
“আয়মান আপনি আছেন?”
আয়মানের কোন উত্তর না পাওয়া গেলেও, পাশ থেকে ভেসে এলো তাওসিফ তাকরিমের স্পষ্ট কন্ঠস্বর,
“তোমার হাত ধরার একমাত্র অধিকার আমার, আয়মানের চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে দেও।”
তাকরিমের ভরাট কন্ঠ কর্ণকূহর হতেই,নিস্পাপের রাগ সপ্তম আকাশে,
“একদম বাজে কথা বলবেন না,আমি কাউকে আমার হাত ধরার অধিকার দিতে বাধ্য নয়, আর আপনার মতো গায়ে পরা লোককে তো নয়ই।”
নিস্পাপের কথা বলা মাত্রই, মাঝ রাস্তায় নিস্পাকে কোলে তুলে নিলো তাকরিম,নিস্পা ঘাবড়ে গেলো,
“একি কি করছেন?খারাপ হয়ে যাচ্ছে বলে দিলাম। ”
তাকরিম প্রগাঢ় কন্ঠে বলে উঠে,
“শুধু হাত ধরলাম বলে এতো কথা শুনালে, এখন তো গোটা তুমি টাকেই ছুয়ে দিলাম। কি করবে শুনি?”
___________
প্রায় ঘন্টার বেশি হতে চলেছে তাকরিম ফুলের দোকানে এসে বসে আছে, দোকানের দু পাশে খাম্বার মতো দুজন গার্ড সটান হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।নিস্পাপ বিরক্ত হয়ে বসে আছে দাতে দাত চেপে। লোকটা দেশের এমপি, বেশি বাড়াবাড়ি করলে যদি দোকানটাই উঠিয়ে দেয়, সেই ভয়েই চুপসে আছে মেয়েটা। কারন দোকানটার কারনে তার পুরো সংসার চলে।কেমন দাতে দাত চেপে হাত গুটিয়ে শক্ত হয়ে বসে আছে সে।
অনু আজ আর ক্লাস করে নি, ভার্সিটিতে ঢুকতে না ঢুকতে যেই সিনক্রিয়েট হলো আর ইচ্ছে করলো না ক্লাস করতে। সোজা চলে এলো নিস্পাপের দোকানে।
এসেই কপাল কুচকে গেলো আপনা আপনি, দু হাতে চোখ কচলে ফের চাইলো, নাহ! সে তো ঠিক দোকানেই এলো তবে এই দুটো খাম্বা কোথা থেকে আসলো? অবিশ্বাস চাহুনি মেলে খুব কাছ থেকে কালো সুট আর কালো সানগ্লাস পরিহিত গার্ডকে দেখতে লাগলো সে, পা থেকে মাথা অব্দি এমন ভাবে তাকাচ্ছে যেনো পৃথিবীর অষ্টম আশ্চর্যের জিনিস দেখে ফেলেছে সে। দোকানের বাইরে দাঁড়িয়েই হাক ছুড়লো,
“নিস্পা তোমার দোকানে এসব খাম্বার মতো লোকগুলো কোথা থেকে আসলো?”
অনুর কথা শুনে ভ্রু গোটাল তাকরিম?
“হোয়াট ইস খাম্বা।”
তাকরিমের কথা কানে গেলো অনুর, তড়িঘড়ি করেই ভেতরে আসলো,দর্শন মিললো এক অতুলনীয় সুন্দর সুপুরুষের, যেকিনা ভাবলেশহীন চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে আছে।অনু চোখ উল্টোলো, নিস্পাকে প্রশ্ন ছুড়লো,
“এই আধ পাগল টা কে নিস্পা?”
চটাং করেই চোখের কালো সানগ্লাস টি খুলে হাতে নিলো তাকরিম,কপাল কুচকে বলে উঠলো,
“কি বললে তুমি?
” বললাম আপনি কে?
“নাহ তুমি অন্য কিছু বলেছিলে,”
অনু নড়েচড়ে দাড়ালো,
“ও একই, দোকানের ভিতরে বসে চোখে চশমা লাগিয়ে বসে থাকা পাগলের ওই উদাহরণ। ”
তাকরিম রেগে বোম,
“এই মেয়ে মাইন্ড ইউর লেঙ্গোয়েজ।”
অনু কিছু বলার আগেই নিস্পা বলে উঠলো,
“থামো অনু, কি করছো কি উনি এমপি তাওসিফ তাকরিম, সে কেনো পাগল হতে যাবে। ”
কথাটা বলতে গিয়েও পিক করে হেসে দিলো নিস্পা।এমপি মশাইকে ভারি জব্দ করার সুযোগ পেয়েছে হাতে।
অনু মুখ বাকালো,
“সে এমপি, মন্ত্রি, মিনিস্টার যেই হোক না কেনো অনু সোজা সাপ্টা কথা বলতে ভয় পায় না।”
তাকরিম নিয়ন্ত্রণ করতে পারলো না নিজেকে, শক্ত হাতে চেপে ধরলো অনুর গাল,
“আর একটা বেশি কথা বললে মুখটা সারাজীবনের জন্য বন্ধ করে দিবো, মেনারলেস বেয়াদব মেয়ে। ”
অনু এক প্রকার যুদ্ধ করে টেনে সরালো তাকরিমের হাত, অবশ্য তাকরিম না ছাড়লে ছাড়ানোর সাধ্য তার ছিলো না।অথচ অনু তার থেকে নিজেকে ছাড়াতে পেরেই নিজের শক্তিকে বাহুবলির কাটাপ্পার শক্তির সাথে তুলনা করে ফেললো, গা ছাড়া ভাব নিয়ে বললো,
“এহ,,,এমন বা*লে*র মন্ত্রিকে এই অনুরিকা ভয় পায় না,আয়, আয় না ছুয়ে দেখা একবার,নারি নির্যাতনের মামলা দিয়ে জেলে ঢুকিয়ে দিবো।”
অনুর কথা শুনে না চাইতেও হেসে দিলো তাকরিম,
“আর ইউ ক্রেজি?যেই তাওসিফ তাকরিমের ইশারায় পুরো পুলিশ পোর্স উঠবস করে তাকে তুমি জেলে পাঠানোর ভয় দেখাচ্ছো। তোমাকে মূর্খ বললেও তো শব্দটা অপমানিত হবে।”
_______________
,ল্যাপটপের স্ক্রিনের দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ত্রিজয়।তার তীক্ষ্ণ চোখের গভীরে অদ্ভুত হিংস্রতার ছাপ । তার পাশে একঘেয়ে দাঁড়িয়ে আছে ইভান, চোখে মুখে বিরক্তি নিয়ে তাকিয়ে আছে স্ক্রিনের দিকে।যেন পুরো ব্যাপারটা তার ধৈর্যের বাঁধ ভাঙতে চলেছে।
অথচ ত্রিজয়ের চোখে স্পষ্ট, এক অমোঘ অনুসন্ধিৎসা, যেন সে এই ভিডিও এর গভীরে লুকিয়ে থাকা কিছু খুঁজে বের করতে চায়, যা বারবার দৃষ্টির আড়ালে রয়ে যেতে চাইছে।
সেদিনের কঙ্কাল পাওয়ার ঘটনাটি পুরো দেশজুড়ে আলোড়ন তুলেছিল। সংবাদমাধ্যম থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ, সবাই এ নিয়ে জল্পনা-কল্পনায় মত্ত। তবে ত্রিজয় এসব সাধারণ ঘটনায় সচরাচর মাথা ঘামায় না। কিন্তু আজ যেন ব্যতিক্রম। ঘটনাটির প্রতি তার অদ্ভুত রকমের আগ্রহ চোখে পড়ার মতো।
কারনটা ইভানের অজানা নয়, ত্রিজয়ের এই বাড়তি আগ্রহের পেছনে একটাই কারণ এমপি তাওসিফ। তাকরিমের সঙ্গে ত্রিজয়ের শত্রুতা এতটাই গভীর যে, তারা একে অপরকে পর্যদুস্ত করতে কোনো সুযোগই হাতছাড়া করে না। বরং কিভাবে একজন আরেকজনকে আরও বেশি ক্ষতি করতে পারে, সেই নিয়েই দিনরাত পরিকল্পনা করতে থাকে।এইযে স্ক্রিনে আটকে থাকা ত্রিজয়ের চোখের দৃষ্টি খুব ভালো করেই ইঙ্গিত দিচ্ছে আরেকটি নতুন সংঘর্ষের। যদিও এ সংঘর্ষের মূল কারণ যানে না ইভান।
সেদিনের কঙ্কাল পাওয়ার ঘটনাটি তাকরিমের সঙ্গে জড়িত বলেই ত্রিজয় এতটা গভীর অনুসন্ধানে ডুব দিয়েছে । স্পাইয়ের কাছ থেকে পাওয়া ভিডিও ক্লিপটি ইতোমধ্যে দশ বারেরও বেশি দেখে ফেলেছে। স্ক্রিনের প্রতিটি ফ্রেম, প্রতিটি পয়েন্ট বিশ্লেষণ করছে অসম্ভব রকমের স্থিরতা, যেন ধৈর্যের সঙ্গে, যেন কিছু মিস না হয়ে যায়।
অন্যদিকে, ইভান রীতিমতো বিরক্ত। তার ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে, কিন্তু ত্রিজয়ের উপস্থিতিতে নড়াচড়া করারও সাহস পাচ্ছে না। ভেতরে ভেতরে ইচ্ছে করছে ভিডিওটা এখনই ডিলিট করে ক্ষান্ত হতে।
মনের ইচ্ছেটুকু চাপা দিয়ে অগত্যা চুপচাপ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে আছে সে । মনেমনে গজগজ করছে
“এই বালের ভিডিও তো কিছু নেই, এতবার দেখেও কী পাবে?”
“স্টপ” হটাৎ করেই ত্রিজয়ের কন্ঠ শুনে ধ্যান ছুটলো ইভানের, ব্যাস্ত হাতে তড়িঘড়ি করে স্টপ করলো ভিডিও টা।কপাল কুচকে বললো,
“কি হয়েছে স্যার?সামথিং,,,,,,”
“জুম করো” ইভানের কথা থামিয়ে দিয়ে বলে উঠলো ত্রিজয়।
ইভান চোখ ছোট ছোট করে নিলো, নিগুঢ় দৃষ্টিতে তাকালো স্ক্রিনের দিকে।
ত্রিজয় তাড়া দেখালো,
“হারিয়াপ ইভান,কঙ্কালের হাতের দিকটা জুম করো।”
ইভান তৎক্ষনাৎ জুম করলো স্ক্রিন,ত্রিজয় ঝুকে এলো ল্যাপটপের দিকে, রহস্যময় দৃষ্টি চিকচিক করে উঠলো কিছু একটা দেখতে পেয়ে,ঠোঁটে ধরা দিলো বিজয়ের হাসি, বিরবির করে বললো,
“তাওসিফ তাকরিম।”
ত্রিজয়ের বিরবিরানি বুঝতে পারলো না ইভান,অস্ফুটে জিজ্ঞেস করলো,
“হু?কিছু বললেন স্যার?”
“এই পাথরের রহস্যটা বের করো ইভান,এমপি মশাই সবার আড়ালে পাথরটা লুকিয়ে ফেলেছেন। তার মানে পাথরটাতে নিশ্চয়ই কোন বিশেষত্ব আছে।”
ইভান হতহ্বিবল!ভ্যাবলার মতো তাকালো ত্রিজয়ের দিকে, বিস্মিত কন্ঠে বললো,
“এই ছোট পাথরটাও আপনার চোখ এড়াতে পারলো না?এতো সহজে ধরে ফেললেন? আপনার জায়গায় আমি হলে বছর ফেরিয়ে গেলেও এই জিনিস টা কেচ করতে পারতাম না।”
ডেবিল হাসলো ত্রিজয়,বললো,
“এজন্যই তুমি তোমার জায়গায়,আমার জায়গায় বসার চান্স পেলে এতোক্ষণে ভিডিও টা ডিলিট করে দিতে।আই এম ইন রাইট ইভান?”
ইভান ভড়কালো, মুখটা চুপসে নিয়ে নড়েচড়ে দাড়ালো, কাচুমাচু করতে করতে বললো,
“না মানে স্যার,আপনি কি করে বুঝলেন।”
ত্রিজয়ের চোখে মুখে খেলে গেলো রহস্য,ইভানের কথার উত্তর না দিয়ে,অত্যন্ত দৃঢ় গতিতে ধরালো একটি সিগারেট, ধোঁয়া উড়াতে উড়াতে বিরবির করে বললো,
“ত্রিজয়ের চোখে ধুলো দেওয়া এতো সহজ নয় এমপি মশাই।”
চলবে,,,,,,,,

