#ফালাক #লেখিকা_ইনায়া_জারিশ
#পর্ব_________১২
ফালাকের গলায় একরাশ বিস্ময়, উদ্বেগ মেশানো প্রশ্ন— “আপনি… আপনি এখন এখানে? এই মাঝরাতে?”
ফালাকের গলার আওয়াজে সাদের যেন ঘোর কাটল। এতক্ষণ সে এক ঘোরের মধ্যে ছিল, যে ঘোরে সে শুধু ফালাকের মুখটাই দেখতে চেয়েছিল। কিন্তু ফালাকের প্রশ্নে বাস্তবটা তার সামনে এসে দাঁড়াল।বুঝতে পারল, নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সে কী পাগলামিটাই না করেছে! সাদের গাম্ভীর্য আর ইগো আবার মাথা চাড়া দিয়ে উঠল।
সাদ কোনো উত্তর দিল না। একটা শব্দও তার ঠোঁট দিয়ে বের হলো না। পাশ থেকে হেলমেটটা তুলে নিয়ে ধীর পায়ে বাইকের দিকে হাঁটতে শুরু করল, যেন সে এখানে আসেইনি, যেন এই কয়েক মিনিটের দৃশ্যটা স্রেফ একটা ভ্রম ছিল।
সাদকে চলে যেতে দেখে ফালাকের বুকটা ধক করে উঠল। এতদূর থেকে এই রাতে বাইক চালিয়ে আসা মানুষটা কি এভাবে এক মুহূর্তেই চলে যাবে? সে কি একবারও বলবে না সে কেন এসেছে?
ফালাক জানালার ওপর দিয়ে খানিকটা ঝুঁকে আর্তস্বরে বলে উঠল—
“কোথায় যাচ্ছেন? দাঁড়ান!”
ফালাকের মায়াবী আর আকুল করা ডাকটা সাদের পায়ের গতি কমিয়ে দিল। কিন্তু থামল না, শুধু ঘাড় ফিরিয়ে একবার জানালার দিকে তাকাল। ফালাক এক মুহূর্ত দেরি না করে জানালার পাশ থেকে সরে এল। এই মানুষটাকে আজ রাতে এভাবে চলে যেতে দেওয়া যাবে না।
জানালার উচ্চতা খুব বেশি নয়, আর কোনো গ্রিল না থাকায় ফালাকের জন্য বাইরের বাগানে নামাটা সহজ ছিল। সাদের প্রস্থান রুখতে ফালাক কোনো কিছুর তোয়াক্কা করল না। শাড়ির আঁচলটা কোমরে গুঁজে জানালার কার্নিশ ধরে খুব সাবধানে নিচে পা রাখল।
সাদ তখন বাইকের দিকে পা বাড়িয়েছে, কিন্তু পেছনে ঘাসের ওপর পায়ের শব্দ পেছনে ফিরল। ফালাক ওই জানালা দিয়েই নিচে নেমে এসেছে। সাদের চোখে বিস্ময়—যে মেয়েটা সবসময় ভয়ে কুঁকড়ে থাকত, সে আজ এত বড় সাহস দেখাল!
ফালাক দৌড়ে গিয়ে সাদের সামনে দাঁড়াল। তার শ্বাস বইছে দ্রুত, কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম।
“কোথায় যাচ্ছেন? একবার আসলেন, আবার একটা কথা না বলে চলে যাচ্ছেন?
সাদ স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। ফালাক সাদের জ্যাকেটের হাতাটা খপ করে ধরে ফেলল। তার ছোট ছোট আঙুলগুলো সাদের শক্ত হাতের ওপর কাঁপছে, কিন্তু তার মুঠো আজ খুব দৃঢ়।
“চলুন ভেতরে। আপনি এভাবে যেতে পারবেন না।”
সাদ এতক্ষণ নিজেকে পাথর করে রাখার চেষ্টা করছিল, কিন্তু ফালাকের ওই অবাধ্যতা আর হাতের স্পর্শে তার সব বাঁধ ভেঙে গেল। নিজেকে আর আটকে রাখতে পারল না। কোনো কথা না বলে ফালাকের হাতটা নিজের বড় হাতের মুঠোয় নিল। সাদের হাতের সেই উষ্ণতা ফালাকের সারা শরীরে এক বিদ্যুৎ খেলে গেল।
সাদ ফালাককে নিয়ে জানালার দিকেই এগোলো। এই রাতে সদর দরজা খুলে সবাইকে জাগিয়ে তোলা ঠিক হবে না। জানালার কাছে এসে সাদ দুহাতে ফালাকের কোমর জড়িয়ে ধরল। ফালাক চমকে উঠে সাদের কাঁধে হাত রাখল। সাদ খুব আলতো করে, যেন কোনো কাঁচের পুতুল তুলছে, সেভাবে ফালাককে তুলে জানালার ভেতর দিয়ে ঘরের মেঝেতে নামিয়ে দিল।
এরপর সাদ নিজে এক লাফে জানালার কার্নিশ ধরে ভেতরে ঢুকে পড়ল। দুজনে এখন ঘরে। ঘরের ভেতর চাঁদের আলো আর বাইরের হাসনাহেনার সুবাস যেন আরও গাঢ় হয়েছে। সাদ জানালার পাল্লা দুটো টেনে দিয়ে খিল আটকে দিল।
ঘরের ভেতর এখন পিনপতন নীরবতা। ফালাক দেয়ালের সাথে পিঠ ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, আর তার ঠিক সামনেই সাদ। সাদের চোখে এখন আগুনের মতো তীব্রতা।
“ফালাক বলল যান ফ্রেশ হয়ে আসুন “!
সাদ বাথরুমে ঢুকে গেল। ফালাক দ্রুত ঘরটা একটু গুছিয়ে নিল। বিছানাটা টানটান করে ঝাড়ল। সাদের ফেলে রাখা জ্যাকেটটা তুলে আলনায় রাখল। প্রতিটি কাজের মাঝেই ফালাক এক ধরণের পরম সুখ অনুভব করছে।
ফ্রেশ হয়ে বাথরুম থেকে বের হওয়ার পর সাদের শরীরের সব ক্লান্তি যেন এক নিমেষেই অবসাদে রূপ নিল। এখন সাদকে অনেক বেশি স্নিগ্ধ দেখাচ্ছে। ঘরটা এখন একদম নিস্তব্ধ।
তাদের মধ্যে আর কোনো কথা হলো না। যেন এই মুহূর্তে সব কথা অপ্রয়োজনীয়। ফালাক বিছানার একপাশে গিয়ে শুয়ে পড়ল। সাদ কিছুক্ষণ খাটের পাশে দাঁড়িয়ে রইল, তারপর ধীর পায়ে ফালাকের পাশে এসে শুয়ে পড়ল।
বিছানার ওপর ফালাকের ছড়িয়ে থাকা রেশমি চুলের সুবাস ঘরের বাতাসে ভাসছে। সাদ বালিশে মাথা রাখতেই ঘ্রাণটা তাকে আচ্ছন্ন করে ফেলল। একপাশে ফিরে ফালাকের দিকে একটু সরে এল। ফালাক তখন সাদের দিকে পিঠ ফিরে শুয়ে আছে, কিন্তু তার শ্বাস-প্রশ্বাসের গতিই বলে দিচ্ছে সে জেগে আছে।
সাদ খুব সন্তর্পণে নিজের হাতটা বাড়িয়ে ফালাকের এলোমেলো চুলগুলোর ওপর রাখল। ফালাক একটু কেঁপে উঠল, কিন্তু সরে গেল না। সাদ তার মুখটা আরও কাছে নিয়ে এল। ফালাকের একগুচ্ছ ঘন কালো চুলের মাঝে নিজের মুখ ডুবিয়ে দিল।
দীর্ঘ একটা সময় পর সাদ যেন শান্তির কোনো কিনারা খুঁজে পেল। চোখ বুজে প্রাণ ভরে সেই নিশ্বাস নিলো—যেই নিশ্বাসটা নেওয়ার জন্য সে মাঝরাতে শহর ছেড়ে এই গ্রামে ছুটে এসেছে। ফালাকের চুলের সুবাস সাদের মস্তিষ্কের প্রতিটি শিরায় এক শীতল প্রশান্তি ছড়িয়ে দিচ্ছে। সাদ ফালাকের চুলের মাঝে মুখ গুঁজে দিয়েই ফিসফিস করে কিছু একটা বলতে চাইল, কিন্তু পরক্ষণেই নিজেকে সামলে নিয়ে আরও গভীরভাবে সেই ঘ্রাণ নিতে লাগল।
নিস্তব্ধ রাতে কেবল দুজনের নিশ্বাসের শব্দই এখন ঘরের একমাত্র সঙ্গীত। ফালাকের চুলের মায়াবী ঘ্রাণে মগ্ন হয়ে সাদ এক সময় গভীর ঘুমের কোলে ঢলে পড়ল, যা তার জীবনে বহু বছর পর আসা এক পরম শান্তিময় ঘুম।
________
বেলা বাড়ার সাথে সাথেই নিস্তব্ধতা ভেঙে শুরু হলো হৈচৈ।
সাদের দাদি তিনি সবার আগে ঘুম থেকে উঠেছেন। লাঠি ঠকঠক করে বারান্দায় পায়চারি করছেন আর উচ্চস্বরে নির্দেশ দিচ্ছেন, “ওরে রহমত, পুকুর থেকে টাটকা মাছ ধরলি? দাদির গলার আওয়াজে বাড়ির বাকিদেরও ঘুম ভাঙতে শুরু করল।
সাদের বাবা ও চাচারা তারা লুঙ্গি আর পাঞ্জাবি পরে বাড়ির সামনের উঠোনে গোল হয়ে বসেছেন। সকালের রোদে বসে তাঁরা গ্রামের পুরনো বন্ধুদের সাথে রাজনীতি আর চাষবাস নিয়ে খোশগল্পে মেতেছেন।
মীরা ও রিমা: এই দুই জন সকাল সকাল পুকুরে নেমে পড়েছে। তাদের চিৎকার আর হাসাহাসিতে পুরো পাড়া সরগরম। মীরা পুকুর ঘাট থেকে রিমাকে জল ছিটিয়ে বলছে, “ভাবি, দেখ! শাপলা ফুলগুলো কী সুন্দর ফুটেছে!”
চাচিরা তারা রান্নাঘরে বটি আর মাটির উনুন নিয়ে বসে গেছেন। চালের রুটি আর হাঁসের মাংসের ভুনা রান্না হচ্ছে সকালের নাস্তার জন্য। নীলা এক হাতে চা নাড়ছে
“আচ্ছা নীলা, ফালাক কই? ও তো এখনো নাস্তার টেবিলে এল না। শরীর ঠিক আছে তো ওর?” সাদের মেঝো চাচি জিজ্ঞেস করলেন।
“হয়তো বড় ভাইয়ার কথা ভেবে মন খারাপ করে ঘুমাচ্ছে চাচি। আমি বরং ওকে ডেকে আনি।”
নীলা যখন ফালাকের ঘরের দিকে যাচ্ছিল, ঠিক তখনি ফারদিন বাইরে থেকে হন্তদন্ত হয়ে দৌড়ে এল। তার চোখেমুখে বিস্ময় আর উত্তেজনা।
“আব্বু! চাচু! আমাদের গেটের একটু দূরে ভাইয়ার বাইকটা দাঁড়িয়ে আছে! ভাইয়া কি রাতে এসেছে নাকি?”
ফারদিনের কথা শুনে সবাই থমকে গেল। বাড়ির বড়রা নিজেদের মধ্যে মুখ চাওয়া-চাওয়ি করতে লাগলেন। দাদি তো লাঠি ফেলে দিয়ে প্রায় দৌড়ে বারান্দার কিনারায় চলে এলেন।
“সাদ এসেছে? ওরে, রাতে এল কীভাবে? কাউকে ডাকল না কেন? কোথায় ও?”
সবার মনে এখন একই প্রশ্ন—সাদ যদি এসেই থাকে, তবে সে কোথায়? দাদি আর নীলা মিলে ফালাকের ঘরের দরজার সামনে এসে দাঁড়ালেন। নীলা খুব সাবধানে দরজায় টোকা দিল—
“ভাবী? ও ভাবী? দরজা খোলো… ভাইয়ার বাইক বাইরে দেখা যাচ্ছে! ভাইয়া কি ভেতরে?”
দরজার টোকা শুনে সাদের ঘুমটা পাতলা হয়ে এল। ফালাক তখনো সাদের বাহুবন্দি হয়ে গভীর ঘুমে।
সাদ বুঝতে পারল বাইরের হইহুল্লোড়। সাদ খুব সন্তর্পণে ফালাকের মাথার নিচ থেকে নিজের হাতটা সরিয়ে নিল। ফালাক ঘুমের ঘোরে একটু কুঁকড়ে শুলেও তার ঘুম ভাঙল না। সাদ আলতো করে কম্বলটা ফালাকের গায়ে টেনে দিল।
সাদ ধীরপায়ে দরজার কাছে এগিয়ে গেল। নিজের চুলগুলো একটু হাত দিয়ে ঠিক করে নিয়ে দরজার খিলটা খুলে দিল।
দরজা খুলতেই এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতা নেমে এল। দাদি, ছোট চাচি আর নীলা—তিনজনেরই চোখ বড় বড় হয়ে গেল। তারা দেখল সামনে দাঁড়িয়ে আছে স্বয়ং সাদ। চোখে কিছুটা ঘুমের রেশ,।
“ওরে আল্লাহ! কিরে সাদ, তুই তো বলেছিলি আসবি না।
সাদ দাদির কথার কোনো সরাসরি উত্তর দিল না। দরজার পাল্লাটা এমনভাবে ধরে রাখল যাতে বাইরের মানুষের দৃষ্টি সরাসরি বিছানায় থাকা ফালাকের ওপর না পড়ে।
“ঈশান কাল রাত থেকে আমাকে মেসেজ করে পাগল করে দিচ্ছিল আসার জন্য। বারবার বলছিল বাড়িতে নাকি অনেক কাজ, আমার থাকা খুব দরকার। সাদের কথা শুনে ঈশান বিষম খেয়ে কাশতে কাশতে চোখ বড় বড় করে তাকাল।
“আমি? আমি কখন আপনাকে মেসেজ করলাম ভাইয়া? আমি তো কাল সারা রাত ফোনই ধরি—”
ঈশানের কথা শেষ হওয়ার আগেই সাদ তার দিকে একটা তীব্র গরম চোখে তাকাল। সাদের সেই চাহনিতে স্পষ্ট লেখা— “যদি বাঁচতে চাস, তবে এখনই হ্যাঁ বল!” সাদের খুনে চাহনি দেখে ঈশানের পিলে চমকে গেল। তৎক্ষণাৎ ভোল পাল্টে ফেলে মাথা চুলকাতে চুলকাতে বলতে লাগল—
“ওহ! আচ্ছা… হ্যাঁ হ্যাঁ! একদম ভুলে গিয়েছিলাম। আমিই তো ভাইয়াকে কাল অনেকবার ফোন করেছি, মেসেজ করেছি। আসলে গ্রামের নেটওয়ার্ক তো, তাই মনে হয় ভাইয়ার কাছে মেসেজগুলো দেরিতে গেছে। আমার একদম মনেই ছিল না!”
বাড়ির বড়রা ঈশানের এই হঠাৎ স্মৃতি ফিরে পাওয়া দেখে মুচকি হাসলেন। দাদি তো হেসেই কুটি কুটি। তিনি জানেন তাঁর বড় নাতি কতটা জেদি আর চাপা স্বভাবের, তাই ঈশানকে বলির পাঁঠা বানানো ছাড়া সাদের আর কোনো উপায় ছিল না।
এরপর দাদি এদিক ওদিক তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, “তা বড় নাতবউ কোথায়? সে তো অনেক সকালেই উঠে যায়, আজ কি শরীর খারাপ?”
“না, শরীর খারাপ না। ও আসলে রাতে অনেক দেরি করে ঘুমিয়েছে, তাই এখনো ওঠেনি। ঘুমাচ্ছে ও।”
সাদের এই সোজাসাপ্টা কথা শুনে মুহূর্তের জন্য পিনপতন নীরবতা নেমে এল। দাদি, ছোট চাচি আর মীরা একে অপরের দিকে তাকিয়ে চোখের ইশারায় হাসাহাসি শুরু করে দিল।
______
ওদিকে ফালাকের ঘুম ভাঙতেই ঘড়ির দিকে তাকিয়ে চমকে উঠল। সকাল ১০টা বেজে গেছে! তড়িঘড়ি করে উঠে শাড়ি ঠিক করতে করতে যখন ঘরের বাইরে এল, দেখল বাড়ির সবাই তাকে দেখে এক অদ্ভুত অর্থপূর্ণ হাসি দিচ্ছে। দাদি ফালাককে কাছে ডেকে কানে কানে বললেন—
“যাও মা, হাত মুখ ধুয়ে নাও। সাদ তো বললই যে তুমি কাল রাতে অনেক দেরি করে ঘুমিয়েছো। তাই আমরা কেউ তোমাকে ডাকিনি।”
ফালাকের ফর্সা মুখটা মুহূর্তেই লজ্জায় টকটকে লাল হয়ে গেল। বুঝতে পারল সাদ সবাইকে কী যেন একটা বুঝিয়ে রেখেছে। লজ্জায় তার মনে হচ্ছে এখনই যদি মাটির নিচে ঢুকে যাওয়া যেত! চুরচুর করে রান্নাঘরের দিকে পালিয়ে গেল, আর পেছনে শোনা গেল বাড়ির সবার মিলিত হাসির শব্দ।
_________
মির্জা মঞ্জিলের বিশাল উঠোনটা এখন উৎসবে মেতেছে। সকালে পুকুর থেকে যে জাল ফেলা হয়েছিল, তাতে ধরা পড়েছে ইয়া বড় বড় সব রুই, কাতল আর মৃগেল মাছ। রূপালি মাছগুলো উঠোনের বড় বড় গামলায় লাফাচ্ছে। গ্রামের বাড়িতে মাছ কাটার উৎসবটা বেশ জমজমাট।
উঠোনের একপাশে শতরঞ্জি আর পিঁড়ি পেতে বসে গেছেন বাড়ির বউরা। সাদের মা, মেঝো চাচি আর ছোট চাচি—সবার হাতে বটি। ফালাকও একটা পিঁড়ি টেনে নিয়ে বড় এক রুই মাছ কাটতে বসেছে।
সূর্যটা এখন ঠিক মাথার ওপর উঠে এসেছে। আকাশ একদম পরিষ্কার হওয়ায় রোদের তেজ বেশ কড়া। ফালাক যেখানে বসেছে, সেখানে সরাসরি দুপুরের কড়া রোদ এসে পড়ছে। মাছ কাটায় মনোযোগ থাকায় রোদের কথা ভাবেনি, কিন্তু কড়া রোদে তার ধবধবে ফর্সা মুখটা একদম টকটকে লাল হয়ে উঠেছে। কপালে ছোট ছোট ঘাম জমছে, যা রোদে মুক্তোর মতো চিকচিক করছে।
সাদ এতক্ষণ বারান্দার থামে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে দূরে ভাইদের সাথে কথা বলছিল। কিন্তু তার চোখ বারবার সেই উঠোনের দিকেই যাচ্ছিল। ফালাকের লাল হয়ে যাওয়া মুখটা সাদের নজরে আসতেই খুব স্বাভাবিক ভঙ্গিতে পকেট থেকে ফোনটা বের করল, যেন সে খুব জরুরি কোনো মেইল পড়ছে বা ফোন চেক করছে।
ধীরপায়ে হাঁটতে হাঁটতে ঠিক ফালাকের পেছনে গিয়ে দাঁড়াল। এমন এক কোণে দাঁড়াল যাতে তার দীর্ঘ দেহের ছায়াটা ঠিক ফালাকের ওপর গিয়ে পড়ে।
ফালাক মাছ কাটছিল, হঠাৎ অনুভব করল মাথার ওপর থেকে তাপটা চলে গেছে। চারপাশটা যেন স্নিগ্ধ হয়ে গেল। একটু অবাক হয়ে ওপরের দিকে তাকাতেই দেখল সাদের ছায়া তার ওপর পড়ে আছে। সাদ এমনভাবে ফোন নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে যেন সে খুব সিরিয়াস কোনো কাজ করছে, কিন্তু আসলে সে ফালাকের জন্য এক জীবন্ত ছাতা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
সাদের দীর্ঘ দেহের ছায়ায় ফালাকের লাল হয়ে যাওয়া মুখটা মুহূর্তেই শীতল হতে শুরু করল। বাড়ির বড়রা নিজেদের মাছ কাটা আর গল্পে এতই মশগুল যে কেউ এই সূক্ষ্ম বিষয়টা খেয়াল করেনি। সবাই ভাবছে সাদ হয়তো নেটওয়ার্ক খুঁজছে বা কাজের কোনো ফোন করছে।
কিন্তু ফালাক ঠিকই বুঝতে পারল। একবার আড়চোখে সাদের দিকে তাকাল। সাদ ফালাকের দিকে তাকাচ্ছে না, ফোনের দিকেই তাকিয়ে আছে। কিন্তু তার শরীরের অবস্থান,নীরব দাঁড়িয়ে থাকাটা ফালাককে অনেক কিছু বলে দিচ্ছে।
ফালাকের ঠোঁটের কোণে একটা লাজুক হাসি ফুটে উঠল।
চলবে —
( শেষে কিনা সাদ মির্জা জানলা দিয়ে ঢুকে বউ এর কাছে গেলো 😝।
সাদ আর ফালাক কে নিয়ে একটা ভিডিও আছে লিংক কমেন্টে )

