ফালাক #লেখিকা_ইনায়া_জারিশ #পর্ব_________১৩

0
26

#ফালাক #লেখিকা_ইনায়া_জারিশ
#পর্ব_________১৩

মির্জা মঞ্জিলের বিশাল উঠোনটা আজ যেন এক চাঁদের হাট। মাঝখানে বড় একটা শতরঞ্জি বিছানো, তার চারপাশে সবাই বসেছে। আকাশটা একদম পরিষ্কার, অজস্র তারা ঝিলমিল করছে। গ্রামের রাতের এই নিস্তব্ধতা কাটাতে ঈশান আর ফারদিন মিলে গান-বাজনার আসর জমিয়েছে। ফারদিনের হাতে একটা গিটার, টুংটাং সুর তুলছে আর মীরা-রিমা তাল মেলাচ্ছে।
সাদ একটু দূরে একটা কাঠের চেয়ারে বসে আছে। ফালাক বসেছে নীলার পাশে, তবে তার নজর বারবার চলে যাচ্ছে ওই দূরে বসে থাকা মানুষটার দিকে।
হঠাৎ মীরা আবদার করে বসল—
“সাদ ভাইয়া! আমি শুনেছিলাম তুমি নাকি খুব সুন্দর গান গাইতে পারো। কিন্তু আমি তো কোনোদিন শুনিনি। আজ এই সুন্দর রাতে একটা গান না গাইলে আমরা কেউ এখান থেকে উঠব না। প্লিজ ভাইয়া!”

মীরার কথায় সবাই একযোগে সায় দিল। ঈশান তো গিটারটা বাড়িয়ে দিয়ে বলল, “ভাইয়া, আজ আর না করবে না। গ্রামের এই আকাশ, এই বাতাস—সবই তো একটা গানের দাবি রাখে।”
সাদ প্রথমে একটু ইতস্তত করল। আড়চোখে ফালাকের দিকে তাকাল। দেখল ফালাকও খুব কৌতূহল নিয়ে তার দিকে তাকিয়ে আছে, যেন সেও উন্মুখ হয়ে আছে
সাদ চেয়ার ছেড়ে উঠে এসে গিটারটা নিল। গিটারের তারে আঙুল ছোঁয়াতেই একটা মায়াবী সুর বেজে উঠল, যা মুহূর্তেই পুরো উঠোনকে নিস্তব্ধ করে দিল।
সাদ গান শুরু করার আগে এক মুহূর্তের জন্য চোখ বুজল। ভাবছিল অতীত……
সাদ শুরু করল _

Chanda Hain Aasman Hain, Aur Baadal Bhee Ghane Hain
Yeh Chanda Chhup Jaaye na
Tanhaayi Das Rahi Hain, Aur Dhadkan Badh Rahi hai
Ek Pal Bhi Chain Aaye Naa
Kaisi Ajab Dastaan Hain, Bechainiyaan Bas Yahaaa Hai
Tu Meri Adhuri Pyaas Pyaas, Tu Aa Gayi Mann Ko Raas Raas
Abb Toh Tu Aaja Paas Paas, Hai Guzaarish
Hain Haal To Dil Ka Tang Tang, Tu Rang Ja Mere Rang Rang
Bas Chalana Mere Sang Sang, Hai Guzaarish
Kehde Tu Haan Toh Jindagi, Zharano Se Chhutke Hasegi
Moti Honge Moti Raaho Mein Yeah Yeah Yeah
Tu Meri Adhuri Pyaas Pyaas
Hmm Hmm Hmm Hmm Hmm Hmm Hmm……….

সাদের গলার আওয়াজটা খুব গভীর আর ভরাট। ফালাক মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনছে। বিশ্বাসই করতে পারছে না যে মানুষটা গলায় এত মায়া লুকিয়ে আছে!
গানের সুরে সুরে সাদ ভাবছিল—ভাবছিল, কীভাবে এই একটা মেয়ে তার সাজানো গোছানো নিরস জীবনটাকে ওলটপালট করে দিল।

পুরো উঠোন তখন নিস্তব্ধ। সবাই মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে আছেন সাদের দিকে।
গান শেষ হওয়ার পর অনেকক্ষণ কেউ কোনো কথা বলল না। রাতের বাতাসে শুধু সাদের গানের রেশটুকু ভেসে বেড়াতে লাগল।
__________
মির্জা মঞ্জিলের সবাই যে যার ঘরে ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। সাদ নিজের ঘরে বিছানায় বসে আছে। ঠিক এই মুহূর্তেই হুট করে চারপাশটা ঘুটঘুটে অন্ধকারে ডুবে যায়। লোডশেডিং!
সাদ বিরক্তিতে কপালে হাত দেয়। শহরের এসির অভ্যাসে এই গুমোট অন্ধকার যেন দমবন্ধ করা এক অনুভূতি।
“ফাক! এই গ্রাম্য ঝামেলা আর সহ্য হয় না। উফ্, অসহ্য!”

অন্ধকারে হাতড়ে ফোনটা খোঁজার চেষ্টা করে, কিন্তু কোথাও পাচ্ছে না। পুরো বাড়ি এক ভুতুড়ে নীরবতায় ছেয়ে গেছে। বাইরের ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক যেন নীরবতাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। ফালাক এখনো রুমে আসেনি, সম্ভবত রান্নাঘরে বড়দের সাহায্য করছে। সাদ একা এই অন্ধকারে বসে নিজের রাগকে সামলানোর চেষ্টা করছে।
হঠাৎ গা ছমছমে নীরবতা ভেঙে এক জোড়া নুপুরের রিনিঝিনি শব্দ কানে আসে সাদের। একদম হালকা, মিষ্টি এক আওয়াজ। শব্দটা যেন অলিন্দ থেকে ধীরপায়ে এই রুমের দিকেই এগিয়ে আসছে। অন্ধকার বারান্দায় শব্দের প্রতিধ্বনি সাদের বিরক্তি ছাপিয়ে এক অদ্ভুত কৌতূহল তৈরি করে।
ঠিক তখনই দরজার কাছে এক চিলতে হলুদ আলো দেখা যায়। সাদের বড় বড় চোখের সামনে ধরা দেয় এক অপার্থিব দৃশ্য।
ফালাক আসছে। তার এক হাতে ধরা একটা পুরনো আমলের পিতলের লণ্ঠন। মির্জা বাড়িতে এরকম অনেক পুরনো শৌখিন জিনিস আছে, ফালাক আজ অন্ধকার দেখে সেটাই খুঁজে বের করেছে। লণ্ঠনের ভেতরের আগুনের শিখাটা কাঁচের ঘেরাটোপে কাঁপছে, আর সেই মায়াবী আলো নিচ থেকে আছড়ে পড়ছে ফালাকের মুখে।
সাদ স্তম্ভিত হয়ে তাকিয়ে থাকে। এই প্রথম ফালাকের চেহারার প্রতিটি খুঁটিনাটি এত নিবিড়ভাবে দেখছে। লণ্ঠনের ওই কাঁপতে থাকা আলো-ছায়ার খেলায় ফালাককে কোনো মানবী নয়, বরং কোনো প্রাচীন কাব্যের নায়িকা মনে হচ্ছে।
ফালাকের মুখটা যেন কোনো নিপুণ শিল্পীর আঁকা শ্রেষ্ঠ ক্যানভাস।বড় বড় চোখ,মায়াবী বড় বড় চোখ দুটো লণ্ঠনের আলোয় হীরার মতো জ্বলজ্বল করছে। চোখের মনিতে আগুনের শিখার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।তীক্ষ্ণ নাক আর রক্তিম ঠোঁট আগুনের হলদেটে আভায় তার গায়ের রঙটা যেন কাঁচা সোনার মতো দেখাচ্ছে।
ফালাক খুব সাবধানে পা ফেলে ঘরের ভেতর ঢোকে, ফালাক যখন সাদকে দেখার জন্য লণ্ঠনটা একটু উঁচু করে ধরে, তখন সাদের সাথে তার চোখাচোখি হয়।
সাদের পলক পড়ছে না। সে যেন এক জাদুকরী ঘোরে আটকে গেছে। তার বিরক্তি, তার রাগ—সবই ওই লণ্ঠনের আলোর কাছে তুচ্ছ হয়ে গেছে। ফালাক একটু লজ্জা পেয়ে মাথা নিচু করে ফেলে, কিন্তু সাদ এখনো সেই নিপুণ সুন্দর মুখটার দিক থেকে চোখ সরাতে পারছে না।

লণ্ঠনের হলুদ আলোয় ফালাক স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, তখন সাদের ভেতরে এক আদিম আর দুর্নিবার তৃষ্ণা জেগে ওঠে। সাদ আর নিজেকে সামলাতে পারে না। সাদ আচমকা ফালাককে নিজের দিকে টেনে নেয়। ফালাক কিছু বুঝে ওঠার আগেই সাদ তার কোমরে মুখ ডুবিয়ে দেয়। সাদের তপ্ত নিশ্বাসের ছোঁয়ায় ফালাক শিউরে ওঠে, এক অদ্ভুত শিহরণে নিজের ঠোঁট কামড়ে ধরে। ফালাকের হাত কাঁপতে শুরু করে, হাতে থাকা লণ্ঠনটা প্রায় পড়ে যাচ্ছিল—ঠিক সেই মুহূর্তে সাদ ক্ষিপ্র হাতে লণ্ঠনটা ধরে ফেলে, পাশের টেবিলে সরিয়ে রাখে।
সাদ এক মুহূর্ত দেরি না করে দরজার কাছে যায়। দরজাটা শক্ত করে বন্ধ করে দেয়। খিল লাগানোর শব্দটা এই নিস্তব্ধ ঘরে এক চূড়ান্ত পরিণতির সংকেত দেয়। ঘরজুড়ে এখন লণ্ঠনের মায়াবী আলো আর দুজনের দ্রুত বয়ে চলা নিশ্বাসের শব্দ।
সাদ আবার ফিরে আসে ফালাকের কাছে। এবার আরও বেশি বেপরোয়া। ফালাকের খুব কাছে এসে দাঁড়ায়।সাদের দীর্ঘ দেহের ছায়া এখন ফালাকের ওপর। সাদ কোনো কথা বলছে না, কিন্তু তার নীরবতা আজ হাজারো শব্দের চেয়েও বেশি মুখর।
​সাদ খুব সন্তর্পণে হাত বাড়িয়ে ফালাকের নিপুণ সুন্দর মুখটা হাতের মুঠোয় নেয়। আঙুলগুলো ফালাকের গালের নরম চামড়ায় বিচরণ করে। ফালাক চোখ বুজে ফেলে, হৃদস্পন্দন এখন ড্রাম বাজানোর মতো দ্রুত হচ্ছে যেন। সাদের হাতের ছোঁয়ায় ফালাকের সারা শরীরে এক অদ্ভুত শিহরণ বয়ে যায়।

সাদ ফালাককে আলতো করে তুলে নিয়ে বিছানার নরম আশ্রয়ে শুইয়ে দেয়।
সাদ খুব ধীরলয়ে ফালাকের পরিহিত শাড়িটা শরীর থেকে আলগা করে দেয়। শাড়ির ভাঁজগুলো একে একে মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে। ফালাক তখন লজ্জায় আর আবেশে থরথর করে কাঁপছে,।
সাদ নিজের শরীরের ওপর থেকে শার্টটা খুলে ছুড়ে ফেলে দেয়। তার সুগঠিত পেশীবহুল শরীরটা লণ্ঠনের আলোয় ব্রোঞ্জের মূর্তির মতো চকচক করছে। ফালাকের দিকে এগোয় অতি সন্তর্পণে ফালাকের ব্লাউজের হুকগুলো খুলে ফেলে। এক সময় ফালাকের শরীর থেকে শেষ আবরণটুকুও খসে পড়ে। লণ্ঠনের কাঁপা কাঁপা আলোয় ফালাকের উন্মুক্ত শরীরের ভাঁজগুলো সাদের চোখে এক অপার্থিব সৌন্দর্যের আধার হয়ে ধরা দেয়।
সাদ এবার ফালাকের চোখের পাতায়, কপালে আর চিবুকে খুব আলতো করে ঠোঁট ছোঁয়ায়। প্রতিটি ছোঁয়ায় যেন বসন্তের প্রথম বৃষ্টির মতো প্রশান্তি মিশে আছে।
সাদ আর ফালাক একে অপরের মাঝে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের জমাট বাঁধা দূরত্ব এক নিমিষেই শেষ।
লণ্ঠনের মিটিমিটি আলোয় ঘরটা তখন এক উষ্ণ মায়াজালে ঘেরা। সাদের সুঠাম দেহের বলিষ্ঠতায় ফালাক যেন এক লতার মতো জড়িয়ে আছে। বিছানার চাদরে ফালাকের ছড়িয়ে থাকা চুলগুলো যেন এক অন্ধকার সমুদ্রের মতো দেখাচ্ছে, আর লণ্ঠনের আলো সেই সমুদ্রে সোনার রেখা এঁকে দিচ্ছে।
সাদ এর নিশ্বাস ফালাকের গলার ভাঁজে আছড়ে পড়ছে। ফালাক আবেশে চোখ বুজে সাদের শক্ত কাঁধ দুটো খামচে ধরে। সাদ ফালাকের কানের লতিতে দাঁত দিয়ে মৃদু কামড় বসাতেই ফালাকের মুখ দিয়ে এক অস্ফুট আর্তনাদ বেরিয়ে আসে।
সাদের প্রতিটি ছোঁয়া এখন আরও গভীর, আরও তৃষ্ণার্ত। ফালাকের উন্মুক্ত পিঠে নিজের আঙুল দিয়ে এক অদৃশ্য নকশা আঁকে, আর ফালাক শিহরণে ধনুকের মতো বেঁকে ওঠে। সাদ ফালাকের চিবুক ধরে মুখটা একটু উঁচু করে, কাঁপতে থাকা ঠোঁটে নিজের ঠোঁট ডুবিয়ে দেয়। এক দীর্ঘ, গভীর চুম্বন।
লণ্ঠনের শিখাটা তেলের অভাবে কাঁপছে। স্তিমিত আলোতেই সাদ ফালাকের প্রতিটি রেখা, প্রতিটি ভাঁজ নিজের করে নিতে চায়। ফালাকের শরীরের ঘ্রাণ আর সাদের গায়ের সেই তীব্র পুরুষালি সুবাস মিশে গিয়ে এক মাতাল করা পরিবেশ তৈরি করেছে।
সাদ ফালাকের পেটের ওপর নিজের মুখ নামিয়ে আনে, তার প্রতিটি চুম্বনে ফালাকের শরীরে আগুনের ঢেউ খেলে যাচ্ছে। ফালাক সাদের চুলে নিজের আঙুল চালিয়ে দেয়, তাকে আরও নিবিড়ভাবে নিজের সাথে পিষে ধরতে চায়।
লণ্ঠনের শিখাটা তখনো নিভু নিভু করে জ্বলছে, আর সেই মৃদু আলোয় সাক্ষী হয়ে থাকে এক গভীর নিবিড় পূর্ণতার।

চলবে–

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here