ফালাক #লেখিকা_ইনায়া_জারিশ #পর্ব_______১৪

0
27

#ফালাক #লেখিকা_ইনায়া_জারিশ
#পর্ব_______১৪

সাদ তার বাইকের চাবিটা হাতে নিয়ে বেরিয়ে এল। চোখেমুখে সেই চিরচেনা গাম্ভীর্য ফিরে এসেছে। জানিয়ে দিল, সে আজই ঢাকা ফিরে যাবে। সাদের
দাদি আর মা অনেক জোরাজোরি করলেন আরও দুদিন থেকে যাওয়ার জন্য। কিন্তু সাদ এক কথায় বুঝিয়ে দিল তার পক্ষে আর থাকা সম্ভব নয়। বাড়ির সবাই দীর্ঘশ্বাস ফেলে মেনে নিল—সাদ যে নিজে থেকে এসেছে, এটাই তো মির্জা মঞ্জিলের জন্য অনেক বড় পাওয়া। বড়রা সিদ্ধান্ত নিলেন, তাঁরা আরও দুদিন গ্রামে কাটিয়ে তারপর ফিরবেন।
সাদ যখন বাইকটা স্টার্ট দিয়ে হেলমেটটা হাতে নিয়েছে, ঠিক তখনই ফালাক ধীরপায়ে এগিয়ে এল। হাতে একটা ছোট ব্যাগ। ফালাকের মুখটা লজ্জায় কিছুটা নুয়ে থাকলেও তার দুচোখে এক অদ্ভুত দৃঢ়তা। সাদের সামনে এসে দাঁড়াল।
“আমিও যাব আপনার সাথে।”
সাদ ভ্রু কুঁচকে ফালাকের দিকে তাকাল। বাড়ির সবাই নিজেদের মধ্যে একটু মুখ চাওয়া-চাওয়ি করলেন। দাদি মুচকি হেসে বললেন—

“ঠিক আছে। ফালাক যখন যেতে চাইছে, তখন ও সাদের সাথেই যাক। একা একা এই বাড়িতে মন বসবে না ওর। সাদ, তুমি ফালাককে সাথে করেই নিয়ে যাও।”

সাদের মা ফালাকের মাথায় হাত রেখে দোয়া করে দিলেন। ঈশান আর ফারদিন আড়ালে হাসাহাসি করছে। ফারদিন টিপ্পনি কেটে বলল—
“ভাবী, তোমাকে মিস করব কিন্তু! তবে ভাইয়াকে একা থাকতে দেওয়া ঠিক হবে না, তুমি যাও।”

সাদ কোনো কথা বলল না। শুধু একবার ফালাকের মুখটার দিকে তাকাল, বাইকের হেলমেটটা মাথায় পরে ফালাকের দিকে ব্যাগটা বাড়িয়ে দিল।

“উঠে বসো।”

ফালাক সবার কাছ থেকে বিদায় নিল।
“সাবধানে যেও মা।” ফালাক লজ্জায় মাথা নিচু করে সাদের বাইকের পেছনে গিয়ে বসল। ।বাইকটা বেশ উঁচু আর গতির রাজা। কিছুটা নার্ভাস হয়ে এদিক-ওদিক তাকাচ্ছে। শাড়ির কুঁচি সামলে নিয়ে সে খুব সন্তর্পণে একপাশে পা রেখে বসল। বসার সাথে সাথেই বাইকটা একটু দুলে উঠল আর ফালাক ভয়ে সাদের চওড়া পিঠের ওপর নিজের হাতটা রেখে দিল।এই প্রথম সে সাদের বাইকের পেছনে বসছে
সাদ আয়নায় ফালাকের সেই নার্ভাস মুখটা দেখল। ফালাকের কাঁপতে থাকা হাতটা সাদের কাঁধে পড়তেই সাদের ঠোঁটের কোণে একটা রহস্যময় হাসি ফুটে উঠল।।
সাদ ইঞ্জিন স্টার্ট দিল। ইঞ্জিনের গর্জন শুনে ফালাক একটু কেঁপে উঠতেই সাদের জ্যাকেটের একপাশটা শক্ত করে চেপে ধরল। সাদ আয়নায় দেখল ফালাক তাকে ধরেছে। সে আর সময় নষ্ট না করে বাইকের গতি বাড়াল।
গ্রামের মেঠো পথ ধুলো উড়িয়ে সাদ আর ফালাক এগিয়ে চলল শহরের দিকে। পেছনে ফেলে গেল মির্জা মঞ্জিলের স্মৃতি।
বিকেলের হালকা নরম রোদটা তখন ম্লান হয়ে আসছে।
ফালাকের পেস্ট কালারের শাড়ির আঁচলটা অবাধ্য হয়ে বারবার উড়তে চাইছে, সে এক হাত দিয়ে সেটা সামলানোর চেষ্টা করছে।
বাইক যখন হাইওয়েতে উঠল, সাদ গতি বাড়িয়ে দিল। বাতাসের শোঁ শোঁ শব্দে ফালাক এখন রীতিমতো ভীত। আর কোনো দূরত্ব না রেখে সাদের পিঠের সাথে একদম মিশে গেল। কপালটা সাদের জ্যাকেটের পিঠে ঠেকিয়ে সে চোখ বুজে ফেলল। সাদের জ্যাকেট থেকে তীব্র পুরুষালি সুবাস এক অদ্ভুত অনুভূতি তৈরি করছে ফালাকের মনে।
সাদ আয়নায় দেখছে, ফালাক তাকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরেছে। তখনি শয়তানি বুদ্ধি মাথায় আসে- ইচ্ছা করেই বাইকটা এক জায়গায় একটু ব্রেক কষল, আর ফালাক ছিটকে এসে সাদের পিঠের ওপর আছড়ে পড়ল। ফালাকের দ্রুত বয়ে চলা নিশ্বাস সাদের ঘাড়ে লাগছে।

হাইওয়ের উন্মুক্ত রাস্তায় সাদের বাইক এখন বাতাসের সাথে পাল্লা দিচ্ছে। দুই পাশে দিগন্তজোড়া ফসলি জমি আর মাঝখানে পিচঢালা কালো পথ। সাদের গতির নেশা সবসময়ই প্রবল,
বাইকের লুকিং গ্লাসে সাদের চোখ আটকে গেল। বাতাসের তীব্র ঝাপটায় ফালাকের মাথার লম্বা রেশমি চুলগুলো বাঁধন ছিঁড়ে উড়তে শুরু করেছে। পেস্ট কালারের শাড়ির আঁচলটা একদিকে সামলাতে গিয়ে ফালাক তার চুলগুলো আর সামলাতে পারছে না। একগুচ্ছ অবাধ্য চুল বারবার উড়ে এসে সাদের ঘাড় আর হেলমেটের কাঁচে আছড়ে পড়ছে।
ফালাক বারবার এক হাত দিয়ে অবাধ্য চুলগুলো কানের পেছনে সরাবার চেষ্টা করছে, ওই মুহূর্তেই তার চোখের কোণে লেগে থাকা লজ্জা আর ভয় মেশানো চপলতা সাদকে মুগ্ধ করে দিচ্ছে।
সাদ হেলমেটের ভেতরের একজোড়া চোখে বিস্ময় নিয়ে দেখছে— উড়ান্ত চুলের ফাঁক দিয়ে দেখা ফালাকের সেই নিপুণ সুন্দর চেহারাটি আজ বিকেলের নরম আলোয় আরও মায়াবী হয়ে উঠেছে।
সাদ ইচ্ছা করেই বাইকের গতি কিছুটা কমিয়ে দিল। সে চায় এই দৃশ্যটা আরও কিছুক্ষণ দীর্ঘ হোক।

সন্ধ্যার আবছা অন্ধকার তখন চারপাশকে ধূসর করে দিয়েছে। হাইওয়ের দুপাশে জনমানবহীন প্রান্তর। হঠাৎ করেই আকাশের মেঘগুলো যেন জেদ করে ফেটে পড়ল। কোনো পূর্বাভাস ছাড়াই শুরু হলো ঝুম বৃষ্টি। বড় বড় ফোঁটাগুলো সাদের হেলমেটের কাঁচে আর ফালাকের শাড়িতে আছড়ে পড়ছে।
মিনিট কয়েকের মধ্যেই হাইওয়ের পিচঢালা পথ বৃষ্টির জলে ধোঁয়াটে হয়ে উঠল। ফালাক সাদের জ্যাকেটটা আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরল, কিন্তু বৃষ্টির তেজ এতই বেশি যে পেস্ট কালারের পাতলা সুতির শাড়িটা মুহূর্তেই ভিজে শরীরের সাথে লেপ্টে যেতে শুরু করেছে।
সাদ সামনের ফাঁকা রাস্তায় চোখ বুলিয়ে একটু দূরে একটা বিশাল বটগাছ দেখতে পেল। বাইকের গতি কমিয়ে ব্রেক কষল।

“দ্রুত নামো ফালাক!” —সাদ চিৎকার করে বলল।

দুজন হন্তদন্ত হয়ে বাইক থেকে নেমে গাছের ঘন পাতার নিচে আশ্রয় নিল। কিন্তু ততক্ষণে যা হওয়ার হয়ে গেছে—দুজনই ভিজে একাকার।
গাছের নিচে দাঁড়াতেই ফালাক শীতে আর অস্বস্তিতে কাঁপতে শুরু করল। ভিজে যাওয়ার ফলে,শাড়িটা এখন প্রায় স্বচ্ছ হয়ে তার গায়ের সাথে লেপ্টে আছে, যা ফালাকের সুগঠিত শরীরের প্রতিটি ভাঁজকে স্পষ্ট করে তুলেছে। মুখ দিয়ে বৃষ্টির জল চুঁইয়ে চুঁইয়ে পড়ছে। অবাধ্য চুলগুলো ভিজে সাপের মতো ঘাড় আর পিঠে লেপ্টে আছে।
সাদ হেলমেটটা খুলে পাশে রাখল। সাদা শার্টটা ভিজে শরীরের সাথে সেঁটে যাওয়ায় পেশীবহুল শরীরটা ফুটে উঠেছে।চুলগুলো হাত দিয়ে পেছনে ঠেলে ফালাকের দিকে তাকাল।
শীতল বৃষ্টির মাঝেও সাদের দৃষ্টিতে তখন আগুনের উষ্ণতা।, ফালাক দুই হাতে নিজের ভিজে যাওয়া বাহু জড়িয়ে ধরে কাঁপছে। বৃষ্টির শব্দ আর বাতাসের শোঁ শোঁ ছাড়া চারপাশ একদম নিস্তব্ধ।
সাদ ধীরপায়ে ফালাকের দিকে এগিয়ে এল। ফালাক মাথা নিচু করে নিজের পায়ের দিকে তাকিয়ে ছিল, সাদের উপস্থিতিতে সে আরও সংকুচিত হয়ে গেল। সাদ তাকিয়ে আছে ফালাকের দিকে—ভেজা শাড়িতে লেপ্টে থাকা ফালাককে এই মুহূর্তে কোনো মানবী নয়, বরং এক বনদেবী মনে হচ্ছে সাদের কাছে। ফালাকের ঠোঁট দুটো বৃষ্টির হিমেল ছোঁয়ায় কিছুটা নীলচে হয়ে কাঁপছে, আর সেই কাঁপতে থাকা ঠোঁট দুটোই যেন সাদের জন্য এক অনিবার্য সর্বনাশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সাদ নিজের হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে। মাথায় তখন না আছে হাইওয়ের কথা, না আছে অন্য কিছু। তৃষ্ণার্ত চোখ শুধু ফালাকের ভেজা ঠোঁট দুটোকে চাইছে। সাদ কোনো কথা না বলে নিজের পরনের লেদার জ্যাকেটটা পুরোপুরি খুলে ফেলল। তারপর সেই বড় জ্যাকেটটা দিয়ে নিজের আর ফালাকের মাথা একসাথে ঢেকে নিল—তৈরি করল এক ক্ষুদ্র, ব্যক্তিগত জগত।
জ্যাকেটের আশ্রয়ে তারা এখন খুব কাছাকাছি। ফালাক কাঁপছে। সাদ খুব আলতো করে দুহাতে ফালাকের ভেজা গাল দুটো আগলে ধরল। সাদের হাত তখন বরফের মতো ঠান্ডা, ফালাক কিছুটা কেঁপে উঠে। কিন্তু চোখে আগুনের উত্তাপ।
মাথা নিচু করে ফালাকের ভেজা চোখের পাপড়িতে নিজের ঠোঁট ছোঁয়াল। সাদের স্পর্শে ফালাকের সারা শরীরে এক তীব্র শিহরণ বয়ে যাচ্ছে। ফালাকের হাতে থাকা ব্যাগটা কখন যে হাত থেকে ছিটকে কাদামাটির ওপর পড়ে গেল, তার কোনো খেয়ালই রইল না।
এরপর সাদ আর সময় নিল না। নিজের ঠোঁট চেপে ধরল ফালাকের বৃষ্টিভেজা কাঁপতে থাকা ঠোঁটে।
প্রথমে খুব আলতো, তারপর এক গভীর নেশাতুর চুম্বনে ফালাককে নিজের করে নিতে চাইল। ফালাক আবেশে আর শিহরণে সাদের জ্যাকেটের ভেতর সাদের ভিজে যাওয়া শার্টটা খামচে ধরল।
সাদের ঠোঁটের স্পর্শ ফালাকের ঠোঁটে লাগতেই এক অদ্ভুত আগুনের জন্ম হলো, যা বাইরের হিমেল বৃষ্টিকেও হার মানায়। ফালাক প্রথমে আড়ষ্ট হয়ে থাকলেও পরক্ষণেই সে নিজেকে সঁপে দিল সাদের বলিষ্ঠ বাহুবন্দি হয়ে।
সাদের চুম্বনের তীব্রতা ক্রমশ বাড়তে থাকে। শুধু ফালাকের ঠোঁটেই সীমাবদ্ধ রইল না; মুখ সরিয়ে নিয়ে ফালাকের ভেজা গলার ভাঁজে মুখ ডুবিয়ে দিল। সাদের তপ্ত নিশ্বাস ফালাকের সংবেদনশীল ত্বকে আছড়ে পড়তেই ফালাক এক অস্ফুট আর্তনাদ করে সাদের ঘাড় জড়িয়ে ধরল।
সাদ আবার ফিরে এল ফালাকের ঠোঁটে। এবার তার চুম্বন আরও বেশি দাবিদার, আরও বেশি তৃষ্ণার্ত। ফালাকের নিচের ঠোঁটটা আলতো করে নিজের দাঁত দিয়ে চেপে ধরল, আর মৃদু ব্যথার শিহরণে ফালাকের সারা শরীর ধনুকের মতো বেঁকে উঠল।
ফালাকের লম্বা ভেজা চুলগুলো থেকে বৃষ্টির জল গড়িয়ে সাদের বুকের ওপর পড়ছে, কিন্তু সাদের ভেতরে তখন মরুভূমির মতো তৃষ্ণা। ফালাকের কান থেকে গাল পর্যন্ত ছোট ছোট চুম্বনে ভরিয়ে দিল। ফালাক আবেশে চোখ বুজে সাদের কানের কাছে ফিসফিস করে কিছু বলতে চাইল, কিন্তু তার বদলে বেরিয়ে এল শুধু এক দীর্ঘ উত্তপ্ত নিশ্বাস।
বাইরে বৃষ্টির দাপট বাড়ছে, এদিকে সাদ ব্যস্ত ফালাকের ঠোঁটের অমৃত সুধা পানে মগ্ন। বৃষ্টির প্রতিটি ফোঁটা যেন তাদের এই মিলনের সাক্ষী হয়ে ঝরছে।

চলবে —

( আশিকি -3 শুরু হয়ে গেলো 😝। এই সিন্ টা প্ৰিয় তাই ফালাকে দিয়ে দিলাম।। কেউ আবার ভেবো না গল্প কপি শুধু এই টুকু দিলাম।)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here