ফালাক #লেখিকা_ইনায়া_জারিশ #পর্ব__________১৬

0
30

#ফালাক #লেখিকা_ইনায়া_জারিশ
#পর্ব__________১৬

আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬—অর্থাৎ ভ্যালেন্টাইনস ডে।বিশ্ব ভালোবাসা দিবস।

ভ্যালেন্টাইনস ডের সকাল থেকেই মির্জা মঞ্জিলে এক উৎসব মুখর পরিবেশ। নীলা আর (রিমা) দুজনেই উচ্ছ্বসিত। ফালাক রান্নাঘরের এক কোণে দাঁড়িয়ে কাজ করছিল, আর এই দুই জা আর ননদ মিলে তাদের আজকের প্ল্যান শেয়ার করছে ফালাকের সাথে।
“জানো ভাবি, ঈশান সকালে অফিস যাওয়ার আগেই আমাকে এই লকেটটা গিফট করেছে। আর বলেছে রাতে ডিনারে নিয়ে যাবে।”

“আয়ানও কম না ভাবি! সে তো আমাকে একগুচ্ছ লাল গোলাপ দিয়ে ঘুম থেকে জাগিয়েছে। আর বলেছে আজ রাতে নাকি আমাকে নিয়ে লং ড্রাইভে বের হবে। উফ, আমি তো ভাবতেই পারছি না কী পরব!”
ফালাক মৃদু হেসে ওদের কথা শুনছে, কিন্তু মনের ভেতরে কোথাও একটা সূক্ষ্ম ব্যথা চিনচিন করে উঠছে। তার স্বামী সাদ মির্জা—যে মানুষটা পাথর আর গাম্ভীর্যের চাদরে নিজেকে ঢেকে রেখেছে, তার কাছ থেকে ভ্যালেন্টাইনস ডের উইশ পাওয়া তো দূরের কথা, একটা স্বাভাবিক কথাও যেন অনেক বড় পাওয়া।

এইসব কথা শুনতে পায় সাদ ও।সাদ আজ একটু দেরি করেই বের হচ্ছিল। তার কানে নীলা আর মিরার উচ্ছ্বাস আর ফালাকের নীরব দীর্ঘশ্বাসটুকু পৌঁছে গেল। লক্ষ্য করল ফালাকের চোখের বিষণ্ণতা, যা সে আড়াল করার চেষ্টা করছে।
সাদ কোনো কথা না বলে গটগট করে বেরিয়ে গেল ঠিকই, কিন্তু গাড়িতে বসে ড্রাইভারকে স্টার্ট দিতে বলে সে পকেট থেকে ফোনটা বের করল।
________
সন্ধ্যার আকাশে তখন গোধূলির লাল আভা মুছে গিয়ে অন্ধকার নামতে শুরু করেছে। রাস্তার পাশে সাদের জিপ দাঁড়ানো। গাড়িতে হেলান দিয়ে সাদ দাঁড়িয়ে আছে, পরনে ব্ল্যাক শার্ট। চারপাশে বন্ধুদের দল—আবির, ফয়সাল আর রনি।
সাদ অনেকক্ষণ ধরে চুপচাপ দাঁড়িয়ে সিগারেট টানছিল। হঠাৎ বন্ধুদের দিকে জিজ্ঞেস করল—

“শোন… মেয়েদের আসলে কী গিফট দিলে তারা খুশি হয় রে?” গয়না গাটি না??

সাদের মুখে এই কথা শুনে তিন বন্ধু একে অপরের দিকে তাকিয়ে হা হয়ে গেল। দাপুটে সাদ মির্জা, যার এক কথায় পুরো এলাকা কাঁপে, সে আজ ভালোবাসা দিবসের গিফট নিয়ে চিন্তিত!

“কী রে সাদ! সূর্য কি আজ পশ্চিমে উঠেছিল? তুই গিফটের কথা ভাবছিস? তা ফালাক… ভাবি কী পছন্দ করে? জুয়েলারি, নাকি দামি ব্র্যান্ডের পারফিউম?”

সাদ এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে থমকে গেল। মনে মনে হাতড়াতে লাগল—ফালাক কী পছন্দ করে? সে কি কখনো ফালাকের কাছে জানতে চেয়েছে তার কী ভালো লাগে? ফালাকের সাথে তো সাদের কখনো ভালো মতো কথাই হয় নি।ফালাক তো সবসময় ওর সামনে ভয়ে কুঁকড়ে থাকে। কোনো আবদার করা তো দূরের কথা, ঠিকমতো চোখ তুলে তাকাতেও সাহস পায় না। সারাদিন শুধু বাড়ির কাজ, রান্নাবান্না আর সাদের মেজাজ বুঝে চলা—এটাই তো ফালাকের জীবন।

সাদকে চুপ করে থাকতে দেখে ফয়সাল বলল—
“দেখ সাদ, ভাবীর টাইপ মেয়েদের মন খুব সাধারণ হয়। ওরা হীরা-জহরত যতটা না বোঝে, তার চেয়ে বেশি বোঝে সম্মান আর একটুখানি সময়। তুই যদি ওকে আজ একটু সুন্দর কোথাও নিয়ে যাস —তাতেই সে কুপোকাত!”

_______

মির্জা মঞ্জিলের বিশাল বারান্দায় অন্ধকার করে একা বসে ছিল ফালাক। আকাশে আজ চাঁদের আলোটাও যেন একটু বেশি মায়াবী।
সাদ রুমে ঢুকে চারপাশটা একবার দেখল। বিছানাটা গোছানো, কিন্তু ফালাক কোথাও নেই।
সাদ হঠাৎ নিজের অজান্তেই একটু উঁচু গলায় ডাক দিয়ে বসল—
“ফালাক!”

বারান্দায় বসে থাকা ফালাক মুহূর্তের জন্য জমে গেল। আজ পর্যন্ত সাদ তাকে শুধু ‘এই’ বা ‘শোন’ বলে ডেকেছে, কিংবা একদম সরাসরি কথা শুরু করেছে। এই প্রথম তার নামটা সাদের কণ্ঠে ঝঙ্কৃত হলো। ফালাকের মনে হলো, তার নামটা বুঝি এত সুন্দর কোনোদিন ছিল না!
আর এক মুহূর্ত দেরি না করে বারান্দা থেকে উঠে দ্রুত রুমে এসে দাঁড়াল। সাদের সামনে আসতেই দেখল, সাদ তার দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। সাদের হাতে একটা ছোট কাগজের প্যাকেট।
সাদ একটু ইতস্তত করে প্যাকেটটা ফালাকের দিকে বাড়িয়ে দিল।

“নে, ধর এটা।”

ফালাক অবাক হয়ে কাঁপা কাঁপা হাতে প্যাকেটটা নিল। খুলতেই একরাশ মিষ্টি গন্ধে ঘরটা ভরে গেল। ভেতরে যত্ন করে রাখা এক জোড়া সাদা বেলি ফুলের তাজা গাজরা।
ফালাকের চোখের পাতা ভিজে উঠল। যে মানুষটা এলাকার মাস্তান হিসেবে পরিচিত, যে সারাক্ষণ গাম্ভীর্যের চাদরে ঢাকা থাকে—সে আজ নিজের হাতে তার জন্য বেলি ফুল নিয়ে এসেছে!
সাদ ফালাকের বিস্ময় দেখে একটু অস্বস্তিতে পড়ে গেল।
ফালাক কোনো কথা বলতে পারল না। শুধু গাজরাটা নাকের কাছে নিয়ে গভীর করে শ্বাস নিল।
সাদ বিস্ময় নিয়ে ফালাকের দিকে তাকিয়ে রইল। দেখল, ফালাক বেলি ফুলের গাজরাটা হাতে নিয়ে এমনভাবে তাকিয়ে আছে যেন সে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় কোনো গুপ্তধন পেয়েছে। তার চোখদুটো চিকচিক করছে, আর মুখে এক স্বর্গীয় তৃপ্তি।
সাদ মনে মনে ভাবল—
“অদ্ভুত তো এই মেয়েটা! আমি ভেবেছিলাম মেয়েরা বুঝি শুধু দামি ব্র্যান্ডের শাড়ি-গয়না পেলেই খুশি হয়। অথচ এই সামান্য কয়েক টাকার এক জোড়া ফুলের গাজরা পেয়ে ও এভাবে হাসছে?”

সাদের মনে পড়ে গেল ফেরার পথের সেই দৃশ্যটা। সিগন্যালে যখন গাড়িটা থামল, তখন এক ছোট ছেলে জানালার কাছে এসে বারবার বলছিল—
“ও ভাই, আইজ তো ভালোবাসার দিন! ভাবির লিগা এই বেলি ফুলের মালাটা নিয়া যান না। খুব খুশি হইবো।”
সাদ প্রথমে বিরক্তি নিয়ে তাকালেও কেন যেন ছেলেটার মুখের দিকে তাকিয়ে আর না করতে পারেনি। পকেট থেকে একটা নোট বের করে দিয়ে মালাটা নিয়ে ড্যাশবোর্ডে রেখে দিয়েছিল। তখনো ভাবেনি, এই তুচ্ছ ফুলগুলো ফালাকের মনে এতটা প্রভাব ফেলবে।
সাদ ফালাকের একদম কাছে এসে দাঁড়াল। বেলি ফুলের তীব্র মিষ্টি সুঘ্রাণ এখন তাদের দুজনের মাঝে মায়াবী এক সেতু তৈরি করেছে।

“এত সামান্য জিনিসে কেউ এত খুশি হয় সেটা আগে জানতাম না। চুলে পরে নে।”

ফালাক গাজরাটা নিয়ে ড্রেসিং টেবিলের আয়নার সামনে দাঁড়াল। চিরুনি দিয়ে চুলটা ঠিক করে চেষ্টা করছিল নিজের হাতে মালাটা সুন্দর করে চুলে জড়িয়ে নিতে। কিন্তু কেন যেন তার হাত কাঁপছিল, বারবার বেলি ফুলের মালাটা ফসকে যাচ্ছিল। আয়নায় নিজের প্রতিফলন দেখে ফালাক এক অদ্ভুত আবেশে ডুবে আছে।
সাদ দাঁড়িয়ে ফালাকের এই ব্যর্থ চেষ্টাটুকু দেখছিল। ধীরপায়ে এগিয়ে গেল ফালাকের পেছনে।
ফালাক আয়নার দিকে তাকিয়ে দেখল সাদ একদম তার পিঠ ঘেঁষে দাঁড়িয়েছে। মুহূর্তেই ফালাকের নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসার উপক্রম হলো। সাদ কোনো কথা না বলে ফালাকের হাত থেকে খুব আলতো করে ফুলের মালাটা নিয়ে নিল। সাদের লম্বা আর শক্ত আঙুলগুলো যখন ফালাকের ঘাড়ের কাছের অবাধ্য চুলগুলো সরাল, তখন ফালাকের সারা শরীরে এক তীব্র শিহরণ বয়ে গেল।
সাদ খুব নিপুণভাবে ফালাকের খোঁপার চারপাশ দিয়ে বেলি ফুলের গাজরাটা জড়িয়ে দিল। সাদের হাতের ছোঁয়া ফালাকের ত্বকে লাগতেই তার মনে হলো সে এখনই জ্ঞান হারাবে।
সাদের গরম নিঃশ্বাস ফালাকের কানে লাগতেই সে চোখ বন্ধ করে ফেলল। আয়নায় দেখল সাদ তার কাঁধে চিবুক রেখে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।
পুরো ঘরে তখন বেলি ফুলের তীব্র ঘ্রাণ আর দুই হৃদস্পন্দনের শব্দ। আজ রাতে সাদের এই রূপটা ফালাকের কাছে পৃথিবীর সবচাইতে বড় উপহার।
ফালাকের বয়সটা এমন এক সন্ধিক্ষণে, যেখানে মনটা কাঁচের মতো স্বচ্ছ আর আবেগে টইটুম্বুর। সদ্য কৈশোর পেরিয়ে যৌবনে পা দেওয়া এই মেয়েটি এতদিন কেবল সাদের গাম্ভীর্য আর দাপট দেখে এসেছে। কিন্তু আজ, ড্রেসিং টেবিলের আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে সাদের হাতের আলতো ছোঁয়া আর বেলি ফুলের স্নিগ্ধ ঘ্রাণে তার পৃথিবীটা যেন ওলটপালট হয়ে গেল।
ফালাকের মনে হলো তার শরীরের প্রতিটি কোষে এক অজানা শিহরণের স্রোত বয়ে যাচ্ছে। তার সদ্য প্রস্ফুটিত মনটা যেন এক পশলা বৃষ্টির অপেক্ষায় ছিল, আর সাদের এই সামান্যতম মনোযোগ যেন সেই তৃষ্ণার্ত চাতক পাখির মতো তাকে পূর্ণতা দিল।
______
সাদ আয়নার দিকে তাকিয়ে ফালাকের চেহারার পরিবর্তনগুলো লক্ষ্য করছে । ফালাকের গালে লজ্জার যে রক্তিম আভা ছড়িয়ে পড়েছে, তা দেখে সাদেরও মনে হলো—। এই মায়াবী মেয়েটার হাসিতে যে এত শান্তি থাকতে পারে, তা জানা ছিলো না।
_______

পরের দিন সন্ধ্যার দিকে হঠাৎ করেই ফালাকের শরীরটা খুব খারাপ হয়ে গেল। চনমনে মেয়েটা নিস্তেজ হয়ে বিছানায় পড়ে আছে, কপালটা জ্বরে একদম পুড়ে যাচ্ছে। বাড়ির সবাই ফালাকের রুমে ভিড় করেছে। নীলা জলপট্টি দিচ্ছে, সাদের মা মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন—সবার মুখে চিন্তার ছাপ। ফালাক কিছুই মুখে দিতে চাইছে না, এমনকি ওষুধের নাম শুনলেই মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।
সাদ বাইরে থেকে ফিরে ঘরে ঢোকার আগেই হইচই শুনে থমকে দাঁড়াল। সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠে নিজের রুমে এসে দেখল ভেতরে সবাই। ফালাক চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছে, তার ফর্সা মুখটা জ্বরে টকটকে লাল হয়ে গেছে।
সাদ গম্ভীর গলায় বলল-

“কী হয়েছে এখানে? সবাই এভাবে ভিড় করে আছ কেন?

মিরা আমতা আমতা করে বলল, “ভাইয়া, ভাবির খুব জ্বর। দুপুর থেকে কিছুই খাচ্ছে না, এখন ওষুধ না খেলে তো জ্বর কমবে না।”
সাদ ফালাকের দিকে একবার স্থির দৃষ্টিতে তাকাল। কোনো কথা না বলে সরাসরি নিচে নেমে গেল। রান্নাঘরে গিয়ে কাজের লোককে কড়া গলায় নির্দেশ দিল যেন এক্ষুনি গরম সবজি স্যুপ তৈরি করে উপরে দিয়ে আসে। মিনিট দশেকের মধ্যে স্যুপের বাটি নিয়ে সাদ আবার রুমে ঢুকল।
রুমে তখনো সবাই ফালাককে বোঝানোর চেষ্টা করছে। সাদ ভেতরে ঢুকে হাত বাড়িয়ে বাটিটা নিল। তারপর ঘরের বাকিদের দিকে তাকিয়ে এক প্রকার আদেশ দেওয়ার ভঙ্গিতে বলল—
“তোমরা এখন নিচে যাও। আমি দেখছি।”

সাদের কথা কেউ ফেলার সাহস পেল না। সবাই অবাক হয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল, শুধু দরজার আড়ালে দাঁড়িয়ে আড়চোখে দেখতে লাগল আসলে কী ঘটে।
সাদ বিছানার পাশে বসল। ফালাক জ্বরের ঘোরেও সাদের উপস্থিতি বুঝতে পেরে একটু কুঁকড়ে গেল। সাদ চামচ দিয়ে স্যুপ তুলে ফালাকের ঠোঁটের কাছে ধরল।

“খাও এটা।”

ফালাক মাথা নেড়ে মৃদু স্বরে বলল, “ভালো লাগছে না… খাব না।”
সাদের চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল। ফালাকের চিবুকটা এক হাত দিয়ে শক্ত করে ধরল।

“বেশি কথা বলবি না। চুপচাপ খা বলছি! শরীর খারাপ করে ঢং করা হচ্ছে? এটা শেষ না করলে আজ কপালে দুঃখ আছে।”

ফালাক ভয়ে আর কথা বাড়াল না। সাদের এই রাগী রূপটা দেখে সে বাধ্য হয়ে মুখ খুলল। সাদ নিজ হাতে, চামচে করে প্রতিটা লোকমা ফালাককে খাওয়ালো। বাইরে থেকে সবাই এই দৃশ্য দেখে রীতিমতো আকাশ থেকে পড়ল। যে সাদ নিজের খাবার নিজে বেড়ে খায় না, যার মেজাজ সারাক্ষণ সপ্তমে থাকে, সে আজ নিজের হাতে বউকে ধমকিয়ে খাওয়াচ্ছে!
খাওয়া শেষ করে সাদ টেবিলের ওপর বাটিটা রাখল। ফালাকের কপালে হাত দিয়ে তাপমাত্রাটা একবার মেপে নিল। সাদের হাতের রুক্ষ স্পর্শে ফালাকের মনের ভেতরটা কেমন যেন শান্ত হয়ে এল। ধমক দিলেও এই ধমকের আড়ালে যে অধিকার লুকিয়ে ছিল, তা ফালাক বুঝতে পারল।

“এখন ঘুমা। কাল সকালে যেন দেখি জ্বর কমেছে। নাহলে খবর আছে।”

সাদ রুম থেকে বেরিয়ে যেতেই ফালাক চাদরটা টেনে মুখ ঢেকে ফেলল। তার জ্বরের উত্তাপের মাঝেও মনে হলো, এই ‘ রাগী, গম্ভীর ‘ মানুষটার শাসনটাও যেন বড্ড আদুরে।

চলবে —
(Valaintains day উপলক্ষে সাদ আর ফালাক জুটি নিয়ে কিছু বলে যান ❤️)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here