ফালাক #লেখিকা_ইনায়া_জারিশ #পর্ব________৭

0
31

#ফালাক #লেখিকা_ইনায়া_জারিশ
#পর্ব________৭

সাদ তার কালো জিপটা নিয়ে ঝড়ের গতিতে বাজারের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। দুপাশের দোকানদার আর পথচারীরা সাদের গাড়ি দেখলেই তটস্থ হয়ে পথ ছেড়ে দেয়। কিন্তু বাজারের মাঝখানের মোড়টাতে আসতেই গাড়িটা হঠাৎ ব্রেক কষতে বাধ্য হয়।
সামনে একদল ছোকরা একটা গাড়ি আটকে ঝামেলা করছে। বাজারের ভিড়ে রাস্তাটা জ্যাম হয়ে আছে। সাদ গাড়ির গ্লাস নামিয়ে কর্কশ গলায় চিৎকার করে-

“রাস্তা ছাড়! কার এতো বড় কলিজা যে সাদ মির্জার গাড়ি আটকায়?”

ঐ দলের লিডার মতো একটা ছেলে, যে কি না এই এলাকার নতুন উদীয়মান সে না চিনে বলে ওঠে—

“আরে কে রে তুই? রাস্তা তোর বাপের? একটু দাড়া, কাজ শেষ করে ছাড়ছি।”

কথাটা শেষ হওয়ার আগেই সাদ গাড়ি থেকে নামে। চোখের দৃষ্টি এখন চিতা বাঘের মতো ধারালো। সোজা এগিয়ে গিয়ে ছেলেটার চুলের মুঠি ধরে একটা চলন্ত ট্রাকের বডির সাথে সজোরে আছড়ে ফেলে।

“আমার বাপের রাস্তা কি না সেটা তোকে এখন আজরাইল এসে বলবে।”

সাদ পকেট থেকে একটা ব্রাস-নাকল বের করে আঙুলে পরে নেয়। এরপর শুরু হয় তার তান্ডব। রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে একা চার-পাঁচজনকে পেটাতে শুরু করে। বাজারের লোক স্তম্ভিত হয়ে দেখছে—সাদের প্রতিটি ঘুষি আর লাথিতে হাড় মড়মড় করার শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। কারো নাক ফেটে রক্ত পড়ছে, কেউ দাঁত হারিয়ে মাটিতে গড়াগড়ি খাচ্ছে।
সাদের শার্টের ওপর কয়েক ফোঁটা রক্ত ছিটকে আসে, কিন্তু তার ভ্রুক্ষেপ নেই। সে যেন এক উন্মাদ জানোয়ার। যে ছেলেটা অপমান করেছিল, তাকে মাটিতে ফেলে বুকের ওপর পা দিয়ে দাঁড়ায় সাদ।

“সাদ মির্জার নাম শুনেছিস কখনো? এরপর যদি আমার ছায়া দেখিস, তবে রাস্তা পরিষ্কার করে উল্টো দিকে দৌড় দিবি। মনে থাকবে?”

ছেলেটা আধমরা হয়ে হাত জোড় করে ক্ষমা চায়। সাদ তাকে লাথি মেরে সরিয়ে দিয়ে আবার গাড়িতে গিয়ে বসে। তার হাত এখন রক্তে ভেজা। সোজা গাড়ি চালিয়ে চলে আসে তার সেই ক্লাবে।
ক্লাবের ভেতরে অন্ধকার আর ধোঁয়ার রাজত্ব। সেখানে তার চামচারা তাকে দেখে উঠে দাঁড়ায়। সাদ এক কোণে বসে এক গ্লাস কড়া মদ আর সিগারেট হাতে নেয়।
ক্লাবের গুমোট অন্ধকারের ভেতর তখন তামাকের ধোঁয়া আর উচ্চস্বরে হাসির আওয়াজ। মির্জা বাড়ির বড় ছেলে সাদ মির্জা একা নয়, সেখানে গোল হয়ে বসে আছে তার পুরনো সেই ‘ জাউরা ‘ বাহিনী। এরা ছোটবেলার বন্ধু, যারা সাদের সাথে পাল্লা দিয়ে একসময় সারা শহর দাপিয়ে বেড়িয়েছে, একসাথে মারপিট আর ‘জাউরামি’ করে হাত পাকিয়েছে।
সাদের হাতে মদের গ্লাস, অন্য হাতে জ্বলন্ত সিগারেট।
_______

রাত প্রায় দুইটা বাজে। ফালাক অপেক্ষা করছে সাদের জন্য। মানুষটা যতই পাষাণ হোক, এই গভীর রাতে সে কোথায় আছে, কেমন আছে—এই দুশ্চিন্তা ফালাক এর।
বাড়ির সবাই যার যার ঘরে অঘোরে ঘুমাচ্ছে। শুধু ড্রয়িং রুমের একটা ডিম লাইট জ্বলছে। ফালাকের চোখ বারবার দরজার দিকে যাচ্ছে। স মনে মনে বলছে—” ওনি যেন সহি-সালামতে বাড়িতে চলে আসে।”
হঠাৎ গেটের বাইরে একটা গাড়ির ইঞ্জিনের গোঙানি শোনা গেল। ফালাক এর বুক ধক করে উঠল। জানালার পর্দা সরিয়ে দেখল—সাদের কালো জিপটা এঁকেবেঁকে এসে থেমেছে। ফালাক দ্রুত পায়ে দরজা আগেই খুলে দিল।

সাদ টলতে টলতে ভেতরে ঢুকল। অতিরিক্ত মদ্যপানে তার চোখ দুটো লাল হয়ে আছে। কিন্তু সামনে দরজাটা ওভাবে হা হয়ে খোলা দেখে আর ফালাককে ওভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে দাঁড়িয়ে গেলো। মাতাল মস্তিষ্কেও যেন একটা ধাক্কা লাগল। ফালাকের দিকে তাকিয়ে রইল। এই বাড়ির কেউ কোনোদিন সাদের জন্য এভাবে দরজা খুলে রাখেনি; সবাই জানে এক জানোয়ার আছে, যখন ইচ্ছা আসবে আর যখন ইচ্ছা যাবে।
সাদ জড়ানো গলায় ভ্রু কুঁচকে কর্কশ স্বরে বলল—

“এই মেয়ে! এত রাতে তুই এখানে কী করছিস?

“না… মানে আপনার জন্য… আপনার জন্য অপেক্ষা করছিলাম।”

সাদ কয়েক সেকেন্ড স্থির হয়ে ফালাকের মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। চোখে এক বিচিত্র বিস্ময় আর অবিশ্বাস। এই নিঃস্বার্থ অপেক্ষাটা তার পাষাণ হৃদয়ে যেন তীরের মতো গিয়ে বিঁধল। কিছু বলতে চাইল, কিন্তু পরক্ষণেই নিজের ভাবমূর্তি ধরে রাখতে আবার গম্ভীর হয়ে গেল। কোনো উত্তর না দিয়ে, একটা অবজ্ঞার দৃষ্টি ছুঁড়ে দিয়ে সে টলতে টলতে ওপরের দিকে নিজের ঘরের দিকে চলে গেল।
ফালাক একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। সে জানে, এই মানুষটার কাছ থেকে কোনো ধন্যবাদ পাওয়া সম্ভব নয়। ধীরপায়ে মেইন দরজাটা বন্ধ করে দিল, তারপর অন্ধকার ড্রয়িং রুম পেরিয়ে সিঁড়ি দিয়ে ওপরে সাদের ঘরের দিকে এগিয়ে গেল।

ফালাক ঘরে ঢুকে , দেখে সাদ বিছানার এক কোণে বসে আছে, এক পা মেঝেতে আর অন্য পা বিছানায় তোলা। কালো শার্টের বোতামগুলো খোলার চেষ্টা করছে, কিন্তু নেশার ঘোরে হাত বারবার লক্ষ্যভ্রষ্ট হচ্ছে। ফালাক ধীর পায়ে এগিয়ে গিয়ে সাদের সামনে দাঁড়ায়।
সাদ মুখ তুলে তাকাল। “তুই কেন আমার পিছু ছাড়ছিস না বল তো? তোকে কি আমি আদর করি যে তুই আমার জন্য রাত জেগে থাকবি?”
ফালাক উত্তর দিল না। সে সাদের সামনে হাঁটু গেড়ে বসল কাঁপাকাঁপা হাতে সাদের শার্টের বোতামগুলো একটা একটা করে খুলে দিতে লাগল। সাদ বাধা দিল না, বরং নির্লিপ্ত হয়ে ফালাকের এই যত্নটা দেখতে লাগল। ফালাকের আঙুলগুলো যখন সাদের বুকের তপ্ত চামড়ায় স্পর্শ করছে, তখন সাদের শরীরের ভেতরে এক শিহরন বয়ে যাচ্ছে।

সাদ এইবার ফালাককে নিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়ল। তার মাথার ভেতরের সব অন্ধকার আর কোলাহল যেন ফালাকের এই ছোট্ট সান্নিধ্যে এসে থমকে গেল। ফালাক সাদের চোখের ওপর হাত রাখল। সাদ গভীর ঘুমে তলিয়ে যাওয়ার আগে শুধু একবার অস্ফুট স্বরে বলল— “তুই খুব অদ্ভুত রে মেয়ে।”
_______

ভোরের কাঁচা রোদ জানালার পর্দার ফাঁক গলে এসে ফালাকের মুখে খেলা করছে। আজ তার ঘুম ভাঙতে বেশ দেরি হয়ে গেছে। । চোখের পাতা মেলে ফালাক আড়মোড়া ভাঙে। ঘরের ভেতরের এসি-র হিমেল আমেজ এখনো বিদ্যমান।
সাদ পাশে নেই। ফালাকের মনে এক চিলতে ভয় আর সংশয় উঁকি দেয়—মানুষটা কি আবার সেই মেজাজ নিয়ে বেরিয়ে গেল? কিন্তু তখনই নজর যায় নিজের বালিশের একদম পাশে। সেখানে একগুচ্ছ টাটকা, সতেজ শিউলি ফুল রাখা। সাদা পাপড়ি আর কমলা বোঁটার সেই চিরচেনা মাধুর্য দেখে ফালাকের বুকটা এক অপার্থিব সুখে ভরে ওঠে।
ফালাক আলতো করে ফুলগুলো হাতে তুলে নেয়। দুহাতের তালুতে ফুলগুলো নিয়ে নাকের কাছে চেপে ধরে গভীর এক শ্বাস টানে । ওই স্নিগ্ধ ঘ্রাণটা যেন তার কষ্টকে এক নিমেষে মুছে দিচ্ছে। ফালাকের ঠোঁটের কোণে এক চিলতে হাসি ফুটে ওঠে। আপনমনেই ভাবছে—‘এই ফুল গুলো কে রাখল এখানে।
ঠিক তখনি বারান্দার দিক থেকে ভারী পায়ের শব্দ পাওয়া যায়। ফালাক চমকে তাকিয়ে দেখে সাদ ঘরে ঢুকছে। সাদের পরনে একটি হাফ স্লিভ টি-শার্ট আর ট্রাউজার। ভেজা চুলগুলো কপালে লেপটে আছে। তার চোখে সেই চেনা কঠোরতা থাকলেও কোথাও যেন একবিন্দু নরম ভাব লুকিয়ে আছে।
ফালাক অপ্রস্তুত হয়ে ফুলগুলো সরিয়ে রাখার চেষ্টা করে। নিচু স্বরে বলে—
ফালাক: “আপনি… আপনি কি এগুলো আমার জন্য এনেছেন?”
সাদ একটা তাচ্ছিল্যের হাসি দেয়। পকেট থেকে একটা সিগারেট বের করতে গিয়েও কী ভেবে থেমে যায়। ধীর পায়ে বিছানার দিকে এগিয়ে আসে। সাদের উপস্থিতি ফালাকের হৃদপিণ্ডকে আবার দ্রুত নাচিয়ে তুলে
“বেশি আহ্লাদিত হওয়ার দরকার নেই। কাল রাতে আমার জন্য দরজা খুলে রেখেছিলি, না খেয়ে রাত জেগে অপেক্ষা করেছিস—তাই এটা কেবল একটা ‘ফেভার রিটার্ন’। সাদ মির্জা কারো ধার রাখে না। ওই ফুলটা তোর পছন্দ, তাই বাগানে গিয়ে কয়েকটা আনলাম। এর পেছনে অন্য কোনো কারণ খুঁজতে যাস না।”

সাদের কথাগুলো তীরের মতো হলেও ফালাকের কিশোরী মন আজ কিছুতেই বিষণ্ণ হতে পারছে না। এই প্রথম সাদের হাত থেকে কোনো উপহার পেল। সেটা স্রেফ কৃতজ্ঞতা হোক আর জেদ হোক, ফালাকের কাছে এই শিউলি ফুলগুলো হীরা-জহরতের চেয়েও দামী মনে হচ্ছে।
ফালাক ফুলগুলো নিজের বুকের কাছে চেপে ধরে। সাদের চোখের দিকে তাকিয়ে এক অদ্ভুত শান্তি অনুভব করে। সাদ ফালাকের এই হাসি দেখে কিছুটা অস্বস্তিতে পড়ে যায়। ভ্রু কুঁচকে বলে—
“তাকিয়ে আছিস কেন ওভাবে? তাড়াতাড়ি উঠে নিচে যা। মা তোকে খুঁজছে।”
সাদ কথাটি বলেই গটগট করে ঘরের বাইরে চলে যায়। ফালাক বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়ায়। আয়নায় নিজের প্রতিচ্ছবি দেখে ফ্যাকাশে মুখে আজ যেন এক নতুন লাবণ্য খেলে যাচ্ছে। সাদের দেওয়া শিউলি ফুলের গন্ধে পুরো ঘরটা এখন এক মায়াবী অরণ্য মনে হচ্ছে। শিউলি ফুলের মাদকতাময় ঘ্রাণটা যেন ফালাকের শিরায় শিরায় এক অদ্ভুত শিহরন জাগিয়ে দিচ্ছে। ফুলগুলো হাতের তালুতে নিয়ে বারবার দেখছে। ছোটবেলায় যখন সে বাবার সাথে বাগানে যেত, তখন এই ফুলগুলো দেখলে তার মনে হতো এগুলো বুঝি ঝরে পড়া কোনো নক্ষত্র। আজ সেই একই ফুল তার কাছে জীবনের এক নতুন অর্থ হয়ে ধরা দিয়েছে।
________

ডাইনিং টেবিলে এক থমথমে পরিবেশ। মির্জা বাড়ির সবাই নাস্তা করতে বসেছে। সাদ বসে চুপচাপ খাচ্ছে, হঠাৎ সাদের বাবা গম্ভীর গলায় কথা বলা শুরু করলেন।
“কাল বাজারে তুমি যা করেছ, সে খবর আমার কানে এসেছে সাদ। মির্জা বাড়ির বড় ছেলে হয়ে তুমি রাস্তার মাঝখানে ওভাবে মাস্তানি করতে পারো না। এই আভিজাত্যের সম্মান না রাখতে পারলে এ বাড়িতে তোমার থাকার দরকার নেই।”

সাদের মা নিচু স্বরে বললেন— “আহা, সকালবেলা নাস্তার টেবিলে এসব থাক না।”

“না, থাক কেন । তোমার ছেলের এই গুন্ডামির জন্য কাল বাজারে আমাদের মুখ ছোট হয়েছে। লোকে বলাবলি করছে বড় ছেলেটা একটা জানোয়ার হয়ে জন্মেছে।”
সাদ আর এক লোকমাও মুখে তুলল না। ধপ করে পানির গ্লাসটা রেখে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়াল। কোনো কথা না বলে হনহনিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে বাইরের দিকে পা বাড়াল। ফালাক একপাশে দাঁড়িয়ে ভয়ার্ত চোখে দেখছিল সবটা।

এদিকে আয়ান, ঈশান, ফারহান, মীরা সবাই খাওয়া ছেড়ে উঠে দাঁড়ায়।
তোমাদের আবার কি হলো???
খাবো না বলে সব কয়টা সাদের পেছন পেছন চলে গেলো।
সাদ গ্যারেজের দিকে যাচ্ছে তার কালো জিপটার কাছে, তখন পেছন থেকে —আয়ান,ঈশান ডাক দিলো – ভাইয়া ”
সাদের রাগ আর জেদ ওরা খুব ভালো করে চিনে।
সাদ গাড়ির দরজা খুলে উঠতে যাবে, ঠিক তখনই—
“ভাইয়া! দাঁড়াও!”
সাদ ভ্রু কুঁচকে পেছনে ফিরল। আয়ান আর ঈশান এসে সরাসরি সাদকে জাপ্টে ধরল। ফারহান আর মীরাও এসে জড়িয়ে ধরল। “ভাইয়া যেও না।।।

সাদ পাথরের মতো দাঁড়িয়ে থাকে কয়েক সেকেন্ড। এরপর দীর্ঘ বলিষ্ঠ হাত দুটো দিয়ে একে একে সবার মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়। এই স্পর্শে কোনো রুক্ষতা নেই, আছে এক বড় ভাইয়ের আজন্ম লালিত দায়িত্ব আর অব্যক্ত ভালোবাসা। আলতো করে ওদের হাত সরিয়ে দেয়। এরপর কোনো কথা না বলে, কোনো প্রতিজ্ঞা না করে ধীরপায়ে গিয়ে জিপের ড্রাইভিং সিটে বসে পড়ে।
গাড়িটা গিয়ারে ফেলে যখন ক্লাচ ছাড়বে, ঠিক তখনই সাদের দৃষ্টি হঠাৎ আটকে যায় দরজার এক কোণে। সেখানে গুটিশুটি হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ফালাক। বড় বড় চোখ দুটোতে এক অদ্ভুত অস্থিরতা আর মায়া। হয়তো সবার মতো সামনে এসে “যেও না” বলার সাহস পায়নি, কিন্তু তার ওই নীরব চাউনি যেন সহস্রবার সাদকে ফিরে আসার আকুতি জানাচ্ছে।
সাদ এক মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে যায়। ফালাকের ওই চাহনি সাদের বুকের বাঁ পাশে এক অজানা মোচড় দেয়।
সাদ ফালাকের চোখ থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নেয়। নিজেকে শক্ত করে। স্টিয়ারিংটা শক্ত করে ধরে এক্সিলারেটরে চাপ দেয়। ধুলো উড়িয়ে জিপটা গেট দিয়ে বেরিয়ে যায়। ফালাক এক দৃষ্টিতে সেদিকে তাকিয়ে থাকে যতক্ষণ না গাড়িটা চোখের আড়ালে চলে যায়।

চলবে —

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here