ফালাক #লেখিকা_ইনায়া_জারিশ #পর্ব________৯

0
31

#ফালাক #লেখিকা_ইনায়া_জারিশ
#পর্ব________৯

নিচে উৎসবের রঙ এখন বাঁধভাঙা। বক্সের গানে আর আত্মীয়স্বজনের কোলাহলে পুরো বাড়ি গমগম করছে। আয়ান আর ঈশানকে হলুদের মঞ্চে বসানো হয়েছে; দুজনের কপালে-গালে হলুদের ছোঁয়া দিয়ে বাড়ির মুরুব্বিরা দোয়া করছেন। মীরা আর কাজিনরা মিলে নাচের তালে মাতোয়ারা। ফালাক নিজের মনের অস্থিরতা চেপে রেখে সবার সাথে যোগ দেয়। মেহমানদের তদারকি করছে, মুখে একটা সপ্রতিভ হাসি বজায় রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করছে।
এই মেহমানদের ভিড়ে কনে পক্ষ থেকেও বেশ কয়েকজন এসেছেন। তাদের মাঝেই একজন যুবক, নাম শাহরিয়ার। সে কনে পক্ষের কাছের আত্মীয়। শাহরিয়ারের দৃষ্টি অনেকক্ষণ ধরেই ফালাকের ওপর স্থির হয়ে আছে। ভিড়ের মাঝে বাসন্তী শাড়ির এই মেয়েটি যেন আলাদা এক দ্যুতি ছড়াচ্ছে। ফালাক যখনই মিষ্টির ট্রে হাতে মেহমানদের কাছে যাচ্ছে, শাহরিয়ার তার দিকে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকছে।
একপর্যায়ে ফালাক শাহরিয়ারের টেবিলের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল, শাহরিয়ার বেশ ভদ্রভাবেই তাকে সম্বোধন করে।
মির্জা বাড়ির মেহমানদারি যে এত চমৎকার, সেটা আপনার ব্যবহার না দেখলে বুঝতাম না।”

ফালাক একটু অপ্রস্তুত হয়ে থামে। বিনীতভাবে উত্তর দেয়—
“না না, এটা তো আমার দায়িত্ব।

“আসলে আপনার হাসিমুখটাই তো সব কষ্ট ভুলিয়ে দেওয়ার মতো। আপনি কি আয়ান ভাইদের বোন?”
ফালাক সহজভাবে বলে— ” না, আমি এই বাড়ির বড় পুত্রবধূ।”
শাহরিয়ার একটু অবাক হয়, কিন্তু তার চোখে সেই মুগ্ধতা কমেনি। আরও কিছু কথা বলার জন্য এগোয়, ফালাকও ভদ্রতাসূচক সৌজন্য আলাপ চালিয়ে যায়। ফালাক জানে না, এই আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ মুহূর্তটির দিকে ওপর থেকে কেউ বিষাক্ত চোখে তাকিয়ে আছে।
সিঁড়ির রেলিং ধরে দোতলার বারান্দায় অন্ধকারের ভেতর দাঁড়িয়ে আছে সাদ। তার হাতে জ্বলন্ত সিগারেট। নিচে আলোকোজ্জ্বল স্টেজের নিচে ফালাক আর ওই বাইরের ছেলেটার কথা বলা তার নজর এড়ায়নি।
সাদ ওপর থেকে দেখছে, ফালাক কীভাবে ওই অচেনা ছেলেটার সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলছে, মাঝে মাঝে ঠোঁট টিপে হাসছে। শাহরিয়ারের সেই নিখুঁত পর্যবেক্ষণ আর ফালাকের নমনীয়তা সাদের ভেতরে এক পৈশাচিক অস্থিরতা তৈরি করছে। সাদের চোয়াল শক্ত হয়ে আসে। সে সাত দিন পর ফিরেছে, আর তার অনুপস্থিতিতে এই মেয়েটা কি তবে বাইরের লোককেও কাছে টানার সাহস পেয়ে গেছে?
সাদের হাতের সিগারেটটা আঙুলের চাপে চ্যাপ্টা হয়ে যায়।

_______

স্টেজের সবার দৃষ্টি একে একে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যাক্তিটির দিকে গেলো।সেখানে দাঁড়িয়ে আছে সাদ মির্জা।
পুরো বাড়ি যেন এক লহমায় স্তব্ধ হয়ে যায়। সাদের পরনে একটি বাসন্তী রঙের দামী তসর সিল্কের পাঞ্জাবি। পাঞ্জাবির সূক্ষ্ম কারুকাজ সাদের চওড়া বুক আর বলিষ্ঠ কাঁধের সাথে এক অন্যরকম আভিজাত্য যোগ করেছে। হাতা দুটো কনুই পর্যন্ত নিখুঁতভাবে গোটানো, যার নিচে তার পুরুষালি হাতের শিরাগুলো স্পষ্ট ফুটে উঠছে। সেখানে থাকা তরুণী কাজিন আর কনে পক্ষের মেয়েরা আক্ষরিক অর্থেই হাঁ হয়ে তাকিয়ে আছে। সাদের ব্যক্তিত্বের তীব্র আকর্ষণ যেন পুরো দখল করে নিয়েছে। ফালাক এক কোণে দাঁড়িয়ে আছে এই প্রথম সাদকে পাঞ্জাবিতে দেখল। এই মানুষটা যে এতটা সুদর্শন হতে পারে, এতটা মুগ্ধকর হতে পারে—তা ফালাকের কল্পনার অতীত ছিল। বুকটা ধুকপুক করছে।
সাদ নকারো দিকে না তাকিয়ে সরাসরি শাহরিয়ারের পাশ দিয়ে হেঁটে যায়। যাওয়ার সময় সে শাহরিয়ারের চোখে এমন এক তীক্ষ্ণ আর শীতল নজর দেয় যে শাহরিয়ারের মেরুদণ্ড দিয়ে এক হিমেল স্রোত বয়ে যায়। সাদ কোনো কথা না বলে সোজা স্টেজের দিকে এগিয়ে যায়।
সাদকে স্টেজে উঠতে দেখে আয়ান আর ঈশান এগিয়ে এসে ভিসিলে জড়িয়ে ধরল।
সাদ ম্লান একটু হাসে—যা তার মুখে বিরল। এই এক দৃশ্য যেন যথেষ্ট ছিলো মেয়েগুলো মাথা খারাপ করতে। আসে পাশের মেয়ে গুলো চোখ দিয়ে গিলে খাচ্ছে যেন। দুই ভাইকে একসাথে জড়িয়ে ধরে। এরপর হলুদের বাটি থেকে এক চিমটি হলুদ নিয়ে আয়ান আর ঈশানের গালে মেখে দেয়। চারদিকে ক্যামেরার ফ্ল্যাশ জ্বলছে।
ঠিক তখনি আয়ান চিৎকার করে ওঠে—
“ভাবী! এভাবে দূরে দাঁড়িয়ে আছ কেন? এসো আমাদের সাথে!”
সাদের শরীরটা এক মুহূর্তের জন্য শক্ত হয়ে যায়। ফালাকের দিকে তাকায় না, মীরা দৌড়ে গিয়ে ফালাকের হাত ধরে এক প্রকার টেনেই স্টেজে নিয়ে আসে।
“একদম পারফেক্ট! এই তো বড় ভাইয়া আর বড় ভাবী। তোমরা পাশে দাঁড়াও, ছবি তুলব আমরা একসাথে।”
মীরা ফালাককে প্রায় ধাক্কা দিয়েই সাদের একদম গা ঘেঁষে দাঁড় করিয়ে দেয়। ফালাকের কাঁপাকাঁপা শরীরটা সাদের সেই শক্ত বলিষ্ঠ বাহুর সাথে স্পর্শ করে। সাদের পাঞ্জাবির সিল্কের কাপড়টা ফালাকের হাতের চামড়ায় এক অদ্ভুত শিরশিরানি জাগাচ্ছে। ফালাক মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে, তার গাল দুটো লজ্জায় আর অস্বস্তিতে লাল হয়ে উঠেছে।
সাদ এখনো নিশ্চুপ।

মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা ওই জোড়াটির সামনে। সাদ আর ফালাক। বাসন্তী রঙের এক মায়াবী আবহে তারা দুজন যেন কোনো ধ্রুপদী উপন্যাসের পাতা থেকে উঠে আসা নায়ক-নায়িকা। সাদের দীর্ঘদেহী, বলিষ্ঠ গড়ন আর ফালাকের নমনীয়, লাজুক রূপ—সব মিলিয়ে এক অপার্থিব দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে।
চারপাশে আত্মীয়স্বজন আর মেহমানদের মাঝে ফিসফিসানি শুরু হয়ে গেছে।
“আহারে! নজর লেগে যাবে গো! এমন রাজযোটক আমি খুব কম দেখেছি।

এক পাশে দাঁড়িয়ে আছেন সাদের মা আর বাবা। সাদের মা আঁচলে মুখ চেপে কান্না লুকানোর চেষ্টা করছেন। তাঁর বড় ছেলেটা চিরকালই অবাধ্য, ঘরছাড়া; তাকে নিয়ে দুশ্চিন্তার শেষ ছিল না। কিন্তু আজ তাকে এভাবে ফালাকের পাশে শান্ত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তাঁর চোখ জুড়িয়ে যাচ্ছে। তিনি মনে মনে হাজার বার দোয়া পড়ছেন যেন তাঁর সংসারে এই শান্তিটুকু চিরস্থায়ী হয়। সাদের বাবা, তাঁর ঠোঁটের কোণেও আজ এক চিলতে তৃপ্তির হাসি। তিনি তাঁর ছোট ভাইদের দিকে তাকিয়ে গর্বের সাথে মাথা নাড়ছেন, যেন বলতে চাইছেন— “এরাই আমার বংশের গৌরব।”

ফালাকের বুকটা ঢিপঢিপ করছে। সে মানুষের গুঞ্জন শুনতে পাচ্ছে— সবাই বলছে তাদের কত সুন্দর মানিয়েছে।
______

তিন ভাই মিলে শুরু করে নাচ। আয়ান আর ঈশানের নাচে কোনো ব্যাকরণ নেই, আছে শুধু অকৃত্রিম আনন্দ। ফারদিন তাদের মাঝখানে থেকে দারুণ সব স্টেপ দিচ্ছে। তিনজনের এই নাচ দেখে উপস্থিত মেহমানরা সিট ছেড়ে উঠে দাঁড়ায়। ছোটরা একে বাড়ির মুরুব্বিদের হাত ধরে টানতে শুরু করে।
“ও বড় আব্বু! ছোট চাচা! আপনারা এভাবে কাঠের পুতুলের মতো বসে থাকলে চলবে না। আজ আমাদের আয়ান আর ঈশানের হলুদ, আপনাদের নাচতেই হবে!”

সাদের বাবা,, তিনি প্রথমে একটু লজ্জা পেয়ে পিছিয়ে যেতে চাইলেন। কিন্তু আয়ান আর ঈশান দুই পাশ থেকে এসে বাবার দুই হাত ধরে ফেলল। অগত্যা গম্ভীর মেজাজের মানুষটিকেও পা মেলাতে হয়। সাদের ছোট চাচা তো আরও এক কাঠি সরস। তিনি রীতিমতো পাঞ্জাবির হাতা গুটিয়ে ভাগ্নে-ভাতিজাদের সাথে এমন ভঙ্গিতে নাচতে শুরু করলেন যে পুরো প্যান্ডেলে হাসির রোল পড়ে যায়।
বাবা-চাচাদের এই বিরল মুহূর্ত দেখে বাড়ির মহিলারাও বসে থাকতে পারেন না। সাদের মা আর চাচিরাও হাসিমুখে তালি দিচ্ছেন, কেউ কেউ আবার শাড়ির আঁচল ঘুরিয়ে হালকা পা মেলাচ্ছেন। একটা বিশাল একান্নবর্তী পরিবারের এই যে একাত্মতা, এটা যেন রূপকথার মতো লাগছে। ফালাক একপাশে দাঁড়িয়ে এই আনন্দযজ্ঞ দেখছে।
______
ফালাক ঘরের দিকে আসল। ধীরপায়ে হাত দিয়ে দরজাটা ঠেলল। দরজা খুলতেই ফালাকের চোখ ছানাবড়া হয়ে গেল।
​পুরো ঘরটা যেন কোনো টর্নেডোর কবলে পড়েছিল। আলমারির সব কাপড়চোপড়—সাদের শার্ট, ফালাকের শাড়ি, এমনকি আলমারির ভেতরের থাকা সব মেঝেতে আর বিছানায় পড়ে আছে। ড্রয়ারগুলো টেনে বের করা হয়েছে, ভেতরের জিনিসপত্র সব তছনছ। ঘরটা চেনাই যাচ্ছে না। ফালাক স্তব্ধ হয়ে দরজার মুখে দাঁড়িয়ে রইল। তার মাথায় কাজ করছে না যে এখানে কী ঘটে গেছে।
​ ধীরপায়ে ঘরের মাঝখানে গিয়ে দাঁড়াল। বিড়বিড় করে বলল—
“এসব কী?
​কথাটা শেষ করার সুযোগটুকুও সে পেল না। কিছু বুঝে ওঠার আগেই বাতাসের বেগে সাদের হাতটা এসে আছড়ে পড়ল ফালাকের বাম গালে।
​’ঠাস!’
​চড়টা এতটাই তীব্র ছিল যে ফালাক ভারসাম্য হারিয়ে ছিটকে গিয়ে পাশের ড্রেসিং টেবিলের কোণায় বাড়ি খেয়ে মেঝেতে পড়ে গেল। তার চোখের সামনে হাজারটা তারা জ্বলে উঠল, কান ভোঁ ভোঁ করতে শুরু করল। মুখ দিয়ে এক আর্তচিৎকার বের হতে গিয়েও আটকে গেল—ভয়ে আর অপমানে তার কণ্ঠনালী রুদ্ধ হয়ে গেছে।
​সাদ বাঘের মতো গর্জন করে ফালাকের দিকে এগিয়ে এল। সে ফালাকের শাড়ির কাঁধের অংশটা শক্ত করে চেপে ধরে তাকে এক ঝটকায় আধশোয়া করে তুলল। চোখ দুটো এখন টকটকে লাল, কপালে রাগের শিরাগুলো ফুলে উঠেছে।
​সাদ ফালাকের একদম মুখের কাছে মুখ এনে চিৎকার করে উঠল—
​”সাহস কোত্থেকে পাস তুই? আমার ড্রয়ারে হাত দিয়েছিস কেন? জবাব দে! কে দিয়েছে তোকে এই অধিকার?”
​ফালাক ভয়ে কাঁপছে। গালটা তখন আগুনের মতো জ্বলছে, চোখের জল বাঁধ ভেঙে নামছে। সে যন্ত্রণায় কুঁকড়ে গিয়ে অস্ফুট স্বরে বলল—
ফালাক: “আ… আমি তো শুধু কাপড় রাখতে গিয়েছিলাম… আমি জানি না আপনি কীসের কথা বলছেন…”
​সাদ আরও বেশি খেপে গেল। ফালাককে একটা হেঁচকা টান দিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে ধরল। তার অন্য হাতটা ফালাকের গলার খুব কাছে মুষ্টিবদ্ধ হয়ে আছে।

​”মিথ্যে বলবি না!
​নিচে তখনো গান বাজছে। কেউ জানতেও পারছে না যে মির্জা ভিলার এক ঘরটাতে আজ এক ভয়াবহ অন্ধকার নেমে এসেছে। সাদের এই রূপ ফালাক আগে দেখেছে, কিন্তু আজ যেন তাতে এক পৈশাচিক হিংস্রতা মিশে আছে।
​সাদ ফালাককে ঝটকা দিয়ে ছেড়ে দিল। ফালাক আবার মেঝেতে ধপাস করে পড়ে গেল। সাদ মেঝের কাপড়গুলোর ওপর দিয়ে পা দিয়ে মাড়িয়ে ড্রয়ারের দিকে এগিয়ে গেল।
​সকালের সোনালী রোদ জানালার পর্দা ভেদ করে ঘরে এসে পড়েছে, কিন্তু সেই আলো ফালাকের মনের অন্ধকার দূর করতে পারল না। সারা রাত সে মেঝেতেই পড়ে ছিল, কখন যে যন্ত্রণায় আর ক্লান্তিতে চোখ লেগে এসেছিল সে নিজেও জানে না। যখন চোখ খুলল, দেখল সারা ঘরে কালকের সেই ধ্বংসলীলার চিহ্ন। কাপড়চোপড় সব অবিন্যস্তভাবে ছড়িয়ে আছে, গালটা এখন তীব্র ব্যথায় টনটন করছে।
________
বাড়ির সবাই আজ মহাব্যস্ত। আজ আয়ান আর ঈশানের জীবনের সবচেয়ে বড় দিন, সবাইকে কমিউনিটি সেন্টারে যেতে হবে।
মীরা আর ফারদিন কয়েকবার এসে দরজায় কড়া নেড়েছে। আয়ান আর ঈশানও এসেছিল।

“ভাবী, বেরোও! আমাদের দেরি হয়ে যাচ্ছে। তুমি না গেলে তো আমাদের বিয়েই অপূর্ণ থেকে যাবে।”
ফালাক অনেক বুঝিয়ে বলল যাবে না।
আয়ান আর ঈশান অনেকক্ষণ সাধ্যসাধনা করল, তারা বুঝতে পারছিল না বাড়ির হাসিখুশি ভাবীটা হঠাৎ কেন এমন পাথর হয়ে গেল। শেষে আন্দাজ করল সাদের সাথে কিছু হয়েছে। তার ভাই ই কিছু একটা করেছে।
বাড়ির সবাই কম বেশি বুঝেছে সাদ কিছু একটা করেছে।।। অনেক জোর করলা তবুও ফালাক গেলো না।
সবাই যখন বেরিয়ে যাচ্ছে, তখন সাদের বাবা একবার ওপরের তলায় এলেন। তিনি সাদের স্বভাব জানেন, তার ক্রোধের ভয়াবহতা সম্পর্কে তিনি অবগত। তিনি ধীরপায়ে ঘরের সামনে এসে দাঁড়ালেন। দরজাটা আধখোলা ছিল। ভেতরে উঁকি দিতেই দেখলেন ফালাক এক কোণে জড়সড় হয়ে বসে আছে, চুলগুলো আলুথালু, আর গালে সেই স্পষ্ট আঘাতের চিহ্ন।
সাদের বাবার চোয়াল শক্ত হয়ে এল। তিনি দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। তাঁর নিজের ছেলের এই পৈশাচিক আচরণের কোনো উত্তর তাঁর কাছে নেই। তিনি একবার চাইলেন ভেতরে গিয়ে ফালাককে সান্ত্বনা দিতে, কিন্তু কী বলবেন? “মা, আমার ছেলেকে ক্ষমা করে দাও?” এ কথা বলার মুখ তাঁর নেই। তিনি শুধু একবার করুণ চোখে ফালাকের দিকে তাকিয়ে আবার নিঃশব্দে নিচে নেমে গেলেন। তিনি বুঝতে পারলেন, আজ এই বাড়িতে আনন্দের মাঝেও একটা প্রাণ ডুকরে কাঁদছে।
পুরো বাড়ি এখন খাঁ খাঁ করছে। সবাই চলে গেছে, শুধু কয়েকজন কাজের লোক ছাড়া আর কেউ নেই। ফালাক জানালার পাশে গিয়ে শূন্য দৃষ্টিতে বাইরের দিকে তাকিয়ে রইল। তার মনে পড়ে গেল তার ফেলে আসা দিনগুলোর কথা।

“বাবা-মা বেঁচে থাকলে কি আজ আমায় এই মেঝেতে পড়ে থাকতে হতো? গরীব ঘরের মেয়েদের কি কোনো আত্মসম্মান থাকতে নেই? মা বাবা নেই বলে আজ আমি এই মির্জা বাড়ির দয়ায় বেঁচে আছি, তাই সাদ মির্জা যা ইচ্ছে তাই করতে পারে আমার সাথে। আমার তো যাওয়ার কোনো জায়গা নেই, কোনো অভিযোগ করার মানুষ নেই।”
ফালাক বুঝতে পারছে, তার মতো অসহায় আর অভিভাবকহীন মেয়েদের জন্য এই জীবনটাই নিয়তি। সাদ তাকে চড় মারুক বা অপমান করুক, তাকে এই চার দেয়ালের ভেতরেই মুখ বুজে সব সইতে হবে। এসব ভাবতে ভাবতে চোখের পানি ফেলতে থাকে ফালাক।

চলবে —-
(আজকে আগে দিয়েছি ✨✨ আর কেউ nice, next কমেন্ট করবেন না আগ্রহ কমে যায় লেখার)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here