শূন্য_অর্থ_পূর্নতা(১০)

0
38

#শূন্য_অর্থ_পূর্নতা(১০)

রেয়ান চৌধুরী হুরের এমন অদ্ভুত কথা শুনে যা বোঝায় বুঝে গেলেন , হতাশ কন্ঠে বললো- হুর নিচে গিয়ে গাড়িতে বসো পাপা আসছি ।
হুর ও খুশিমনে বেরিয়ে গেলো তবে যাওয়ার আগে নওশাদ এর দিকে তাকিয়ে মিষ্টি হেসে সালাম দিয়ে গেলো ।

নওশাদ বিষ্ফরিত নয়নে রেয়ান চৌধুরীর দিকে তাকালো , রেয়ান চৌধুরী হেহে বললো- আরে চিন্তা করো না , ও গত তিন চার দিনের কথা ভুলে গিয়েছে , আবার তিন চার দিনের মধ্যে মনেও পড়ে যাবে ।মাঝে মাঝেই হয় এটা এই কয়দিন ও ওষুধ খায়নি তাই এটা হয়েছে ।

নওশাদ ঠাস করে বলে ফেললো – টিউবলাইট!
রেয়ান চৌধুরী শুনতে পেলেন না কথাটা- কি বললে? শুনতে পাইনি ।

নওশাদ ফিচলে হেসে বলল – না না কিছু না । আচ্ছা ওকে দেখে রাখবেন , আমি কাল যাব আপনাদের বাসায়, পরশুর মধ্যে বিয়ের বিষয়টি ক্লিয়ার করা উচিত।
রেয়ান চৌধুরী – ঠিকাছে যেও তবে বিয়ে নিয়ে আপাতত বলতে পারছিনা মেয়ে আমার খুব ছোটো।

নওশাদ এগিয়ে দিলো ওদের , এরপর নিজের রুমে এসে লম্বা একটা শাওয়ার নিয়ে বের হলো ।

ড্রয়ার থেকে কালো জ্যাকেট মাস্ক ক্যাপ পড়ে নিলো , রাত হয়ে এসেছে ভালোই , এরপর এই রাতের অন্ধকারে কোথাও একটা মিলিয়ে গেলো ।

….
– নওশাদ, নওশাদ, নওশাদ, প্রতিবার ই এভাবে বেঁচে যাস তুই , আমার এতোবড় পরিকল্পনাতে এক বালতি পানি ঢেলে আবার বিয়ে করবি ? জানে মেরে ফেলবো । আমার জীবনের সবকিছু ধ্বংস হয়েছে তোর জন্য তোকে শান্তিতে থাকতে দেব না কোনোভাবেই না ।তোর কলিজা ছিঁড়ে আনবো আমি।
হঠাৎ দড়জা খুলার শব্দে লোকটা নওশাদ এর ছবিটা লুকিয়ে ফেললো , মুখের হিংস্রতা সরিয়ে হাসি নিয়ে এলো ।
– তুমি এসেছো সুইটহার্ট?
নীল শাড়ি পরিহিত মেয়েটা মিষ্টি হেসে এগিয়ে আসলো , হাতের কাগজ বাড়িয়ে দিয়ে বললো- আমার প্রিয় দেখো আমি মুক্তি পেয়েছি , এই দেখো প্রমাণ, এবার আমি আমার স্বামীর সাথে সংসার করতে পারবো।
লোকটাও মেয়েটাকে একটানে নিজের কোলের উপর বসিয়ে মেয়েটার গালে চুমু খেয়ে বললো- প্রিয়তমা স্ত্রী, তুমি সত্যিই ডিভোর্স নিয়ে চলে এসেছো।

কথাটা লোকটা দাঁতে দাঁত পিষে বললেও মেয়েটা বুঝলো না ছলছল নয়নে ঠোঁট কামড়ে মাথা নাড়িয়ে বললো- চলো আমরা দেশ ছেড়ে বহুদূর চলে যাই , আমাদের সন্তান হবে , আমরা খুব সুন্দর একটা পরিবার হবো ।

লোকটা মেয়েটাকে সরিয়ে উঠে দাঁড়ালো – রেস্ট নাও তুমি , আমার একটা কাজ আছে , দেরি হবে আসতে।সময় মতো খেয়ে নিও ।

মেয়েটা লোকটাকে জড়িয়ে ধরে বললো- আজ কি আমরা একান্তে সময় কাটাতে পারি না?
লোকটা পিছু ফিরলো না চলে গেলো , শুধু বিড়বিড় করে তিনটা শব্দ বললো যা মেয়েটা শুনতে পেলো না – আমাকে মাফ করো ।

…..
হুর মহল নামক বিশাল প্যালেস এ রেয়ান চৌধুরীর গাড়িটা প্রবেশ করলো গাড়ি থেকে নেমেই হুর মায়ের কাছে দৌড়ে গেলো ।হুর বের হতেই বাহিরে থাকা সকল পুরুষ গার্ড মাথা নিচু করে রাখলো ।বাড়ির ভেতরে সকল মহিলা সার্ভেন্ট আছে কোনো পুরুষ নেই ।
ইয়াসমিনা আল-হাদাদ চৌধুরী (ইমিনা চৌধুরী বলবো এখন থেকে)বসে ছিলেন ল্যাপটপ নিয়ে,তাকে অন্যমনস্ক লাগছিল,মেয়েকে খুঁজে পাচ্ছেনা বুকটা ফেটে যাচ্ছিল।
হঠাৎ বুকের মধ্যে একটা বিড়াল ছানা ঝাঁপিয়ে পড়তেই তার চোখ বড়ো বড়ো হয়ে গেলো ।হুরকে আগলে ধরলো বুকের সাথে ।তিনি ফ্যাচফ্যাচ করে কান্না করার মানুষ না , কঠোর হৃদয়ের মহিলা তিনি তাই বেশি আবেগ দেখালো না আদর করে হুরকে ওর রুমে পাঠিয়ে দিলো ।
যা কথা হবে রেয়ান চৌধুরীর সাথে হবে ।রেয়ান চৌধুরী ভেতরে আসতেই ইমিনা চৌধুরী তার সামনে বুকে হাত গুজে দাঁড়ালো।
রেয়ান চৌধুরী -ইমি তুমি এভাবে দেখছো কেন , আমার কিন্তু ভয় লাগছে,চলো ওখানে গিয়ে সব বলছি ।

………
সব কথা শুনে ইমিনা চৌধুরী স্বামীর দিকে শক্ত দৃষ্টিতে তাকালো – ও বললো আর সব বিশ্বাস করে নিলে? কাল আসতেও বলেছো? এই বিয়ে মানিনা । আমার বাচ্চা ছোট আমাদের ছাড়া থাকতে পারে না ।

রেয়ান চৌধুরী হেসে স্ত্রীর কোমড় জড়িয়ে কাছে এনে বললো- তো তোমার মতো বুড়ি হয়ে বিয়ে করবে ও ? নওশাদ ভালো ছেলে ।

ইমিনা চৌধুরী আগুন দৃষ্টিতে তাকালো তা দেখে রেয়ান চৌধুরী শুকনো ঢোক গিললো ।
– আমাকে কোন অ্যাঙ্গেল দিয়ে বুড়ি মনে হচ্ছে তোমার? এখোনো যথেষ্ট ফিট আমি , আমার স্কিন দেখো! কোনো নায়িকার স্কিন ও এতো ভালো না ।যাই হোক তোমার বোনের মেয়ের সাহস কি করে হলো ওকে ক্লাবে নিয়ে যাওয়ার, প্রিন্সেস কখোনোই সেরকম জায়গায় যায়নি ।
রিমি মেয়েটাকে আমার প্রথমেই ভালো লাগে নি । নেহাতই তোমার বোন আমার মেয়েকে চোখে হারায় তাই বিশ্বাস করেছিলাম।

রেয়ান চৌধুরী – আচ্ছা এ বিষয়ে পরে কথা হবে ।তুমি চাইলে নওশাদ মির্জার ব্যাপারে ইনফরমেশন কালেক্ট করতে পারো ।আমি যাচ্ছি ফ্রেশ হবো প্রিন্সেস কে খাবার খাইয়ে দাও যাও ,ও আবারো গত তিন চার দিন এর ঘটনা ভুলে গিয়েছে । ওষুধ খাইয়ে দিও ।তিনি কেটে পড়লেন,বউ তার ফায়ার মুডে আছে ।

ইমিনা চৌধুরী কোনোভাবেই মেয়ের বিয়ে দিবেন না ,তাই কাউকে ফোন করে নওশাদ এর ইনফরমেশন কালেক্ট করতে বললো ।

….
– প্রিন্সেস!
হুর নামাজ পড়ে উঠলো মাত্র ,রেয়ান চৌধুরী মুচকি হাসলেন,তার মেয়ে কি করে এমন হলো কে জানে? ইমিনা বা রেয়ান দুজনের একজন এর ভাবসাব হুরের মধ্যে নেই ।হুর হলো নিজের মতো । যেখানে ইমিনা চৌধুরী বাহিরে গেলে কোর্ট প্যান্ট পড়ে যান ,মাঝে মধ্যে হিজাব পড়েন সেখানে হুরের মুখ আজ পর্যন্ত কেউ দেখেনি ।এদিকে থেকে ভালোই হয়েছে মেয়েকে নিয়ে চিন্তা করতে হয় না তার,কতো বড়োলোকের মেয়েরা নিজেদের মর্জি মতো চলে ।

হুর ওর বাবা মায়ের উপর প্রচুর নির্ভরশীল, কিন্তু মাকে ভয় পায় খুব।রেয়ান চৌধুরী ভেতরে আসতেই উচ্চ স্বরে একটা শব্দ এলো- প্রিন্সেস পাপা এসেছে , প্রিন্সেস পাপা এসেছে । প্রিন্সেস এবার খেলবে ।

হুর খিলখিল করে হেসে হাতের ইশারায় কাছে ডাকলো বিরল প্রজাতির তোতা পাখিটা । শুভ্র রঙের,তার উপর গাঢ় নীল রঙের রাজকীয় চিন্হ।ঠোঁট দুটো নীল রঙের। আকৃতি স্বাভাবিক এর থেকে বড়ো ।হুরের ডাকে হুরের ঘাড়ে এসে বসলো ।
হুর – পাপা দেখো আইভি কতো দুষ্টু হয়ে গিয়েছে,আমাকে খুব জালায় ও ।

হুরের এমন কথা শুনে আইভি একটা পাখা দিয়ে হুরের মাথায় চাটি মেরে বললো- আইভি জালায় না ,আইভি জালায় না , প্রিন্সেস দুষ্টু।

রেয়ান চৌধুরী – প্রিন্সেস আমার কথা শোনো এখন ,আইভি কে রাখো ,চলো বারান্দায় বসি ।
ওরা গিয়ে বারান্দার বসলো ,হুর উৎসুক নয়নে তাকিয়ে আছে বাবার দিকে ,কি বলতে চায় ।

রেয়ান চৌধুরী – পাপা যদি তোমার বিয়ে ঠিক করি কোনো আপত্তি আছে?

কথাটা শুনে হুরের চোখ জ্বলজ্বল করে উঠল উৎফুল্ল হয়ে বললো- না না পাপা আপত্তি কেন থাকবে ,আমি রাজি কবে বিয়ে বলো ,বিয়ের মাধ্যমে আমার অর্ধেক দ্বীন পূর্ন হবে ।

রেয়ান চৌধুরীর কাঁশি উঠে গেলো ,এতো অবাক সে জীবনেও হয়নি ।এই মেয়ে তো লজ্জা ই পাচ্ছে না , কিংবা ভয়ও পাচ্ছে না।
হুর পানির গ্লাস এগিয়ে দিলো ,রেয়ান চৌধুরী সেটা খেয়ে বললো- প্রিন্সেস তুমি শিওর?
হুর মাথা উপরনিচ ঝাঁকালো অর্থাৎ সে শিওর।

হুর – ছেলে কে পাপা ? আচ্ছা নামাজ পড়ে তো? হুজুর টাইপ না হলে কিন্তু বিয়ে করবো না!
কথাটা বলেই মুচকি হাসলো ।
রেয়ান চৌধুরী খুক খুক করে কেশে নওশাদ এর একটা ছবি বারিয়ে দিল। শুভ্র পাঞ্জাবি পরনে ।হাতা গোটানো , চুলগুলো এলোমেলো।বুকে হাত গুজে দাঁড়িয়ে আছে ।
হুর ছবিটা হাতে নিয়ে বললো- হুজুর কোথায় লাগছে ? কেমন পাগলের মতো লাগছে ।
কথাটা বলেই আবার হা করে তাকিয়ে রইল ছবিটার দিকে, অস্ফুট স্বরে বলল – আঙ্কেল না উনি?

রেয়ান চৌধুরী বিরক্ত হয়ে বলল – প্রিন্সেস তোমাকে একবার ও বলেছি সে তোমার আঙ্কেল? তার সাথে তোমার বিয়ে হবে।

হুর মুখটা কালো করে বললো – পাপা , আমি তোমার পরিচিত সকল কে তো আঙ্কেল আর আন্টি বলি তাই বলেছি ।ওনাকে কীভাবে বিয়ে করবো দেখলেই তো ভয় লাগছে ।

রেয়ান চৌধুরী মেয়ের আদুরে কন্ঠ শুনে বুকে জড়িয়ে সব কথা খুলে বললো , এটাও বললো হুর ভুলে গিয়েছে ।
রেয়ান চৌধুরী একটু চিন্তিত হয়ে বললো- প্রিন্সেস এতো বোকা কিকরে হলে ? তোমার মায়ের মতো হয়েছো মনে হচ্ছে।
হুর এই কথা শুনে করুন দৃষ্টিতে তাকালো এরপর একটু রাগী গলায় বলল – মাম্মা কে বলে দেব , তারপর দেখবে তোমাকে কি করে ।
রেয়ান চৌধুরী হেসে ফেললো মেয়ের কথায় ।
রেয়ান চৌধুরী – প্রিন্সেস তাকে তুমি তোমার মারহাম হিসেবে মেনে নাও আবার বিয়ের পর নিজের মতো তৈরি করে নিও , ছেলেটা খুব ভালো।

হুর রেয়ান চৌধুরীর আদুরে কথা আইসক্রিম এর মতো গলে গিয়ে রাজি হয়ে গেলো , বাবার বুকে মাথা রেখে ধীরে ধীরে বললো- তুমি যা বলবে আমি শুনবো পাপা , বিকজ আই লাভ ইউ সো মাচ , ভাইয়ার সাথে কথা বলবো , ভাইয়ার সাথে কথা বলতে না পারলে আমি এখন মরেই যাব ।

রেয়ান চৌধুরী তার ফোন দিয়ে চলে গেলো নিজের রুমে ।


বিশাল অট্টালিকায় একজন রাজপুত্ররের মতো ছেলে বসে আছে , হাতে একগাদা ফাইল , তবে ঠোঁটের কোনে মৃদু হাসি , প্রায় দুমাস পরে বোনের সাথে দেখা হবে তাই এতো কাজ কে কোনো কাজ মনে হচ্ছে না।
সকল ক্লান্তি দূর হয়ে গেলো একটা ফোন কল পেয়ে , বোনের সাথে কথা বলতে শুরু করলো সব কাজ ফেলে রেখে ।

– ভাইয়ু আমাকে আইসক্রিম খেতে দেয় না ঠান্ডা লাগবে তাই তুমি থাকলে আমাকে এভাবে আইসক্রিম ছাড়া থাকতে হতো না ।

সাদি হেসে ফেললো বোনের কথা শুনে, – ঠিক আছে আমি আসলে পরে কিনে দেব , ঘুমা এখন।
হুর – ভাইয়া কবে আসবে তুমি? আইভি তোমাকে মিস করছে, তাই না আইভি?
আইভি পাখা ঝাপটে বললো- আইভি মিস করে ,আইভি মিস করে ।

সাদি – আসবো আসাবো, তুই এখন ঘুমা পাখি , নাহলে কিন্তু আসবো না।

হুর ফোন রেখে দিলো । এরপর বারান্দায় বসলো , হাতে একটা ইংরেজি ফ্যান্টাসি ব্ই নিয়ে , রানীদের মতো পায়ের উপর পা তুলে বইয়ে মনোযোগ দিলো , পাশে আইভি বসে তার খাবার খাচ্ছে।

একটু পড়ার পর আর ইচ্ছে করলো না পড়তে শরীর টা ম্যাজম্যাজ করছে।পাশের টেবিল থেকে নওশাদ এর ছবিটা নিলো ।
এরপর বইয়ের ভাজে রেখে দিলো ।এই লোকটার সাথে নাকি বিয়ে হয়েছে তার?তাহলে আবার বিয়ে কেন?

বিছানায় শুতেই ঘুমের রাজ্যে পারি দিলো ।

….
হুর মহলের সামনে একটা ছায়া তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে বাড়িটার দিকে এরপর খুব সতর্কতার সাথে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করলো।বাড়ির ট
পাইপ বেয়ে একটা রুমের বারান্দায় গিয়ে লাফ দিয়ে পড়লো ।লোকটা বুঝতে পারলো না সে আসলে কার রুমে এসেছে।ধীর পায়ে এগিয়ে গেলো রুমে ,,,
মিহিকা রোজা- Black Rose
চলবে,,,
শর্ত: ১হাজার রিয়েক্ট করতে হবে।
সবাই রেসপন্স করবেন। দুঃখিত দেরি করার জন্য।সবাই মন্তব্য করবেন। আপনাদের কমেন্ট আমাকে অনুপ্রাণিত করে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here