শূন্য_অর্থ_পূর্নতা (৯)

0
35

#শূন্য_অর্থ_পূর্নতা (৯)

গতকাল রাতে নওশাদ হুরকে ধমকি ধামকি দিয়ে রুমে চলে আসলো একটা মিটিং অ্যাটেন্ড করতে । তারপর বেশ রাত হয়ে যাওয়ায় আর যায়নি ওইদিকে, কিন্তু যখন হুরের কথা মনে পড়লো তখুনি একজন করে ফোন করলো ,,,

ওপাশ হতে রিসিভ হতেই – হ্যালো কে ? আমি আয়ান বলছি ,আপনি যেই হন না কেন আপনি মরে গেলেও আমি এখন কথা বলতে ইচ্ছুক নই, আমার সুন্দর ঘুম কে সুন্দর হতে দিন ধন্যবাদ।
বলেই মুখের সামনে ফোনটা নিয়ে ঘুমিয়ে নাক ডাকতে শুরু করলো ।আয়ানের কথা শুনে নওশাদ জোড়ে একটা ধমক দিলো – আবালের বাচ্চা,কাল তোকে আমি কুত্তার গু না খাওয়ালে আমি নওশাদ না ।

আয়ান তড়িৎ বেগে লাফিয়ে উঠে ফোনটা ধরলো ,- বববস সরি সরি ,আদেশ মি,আমি সকল কাজ দেব ।

নওশাদ – স্টুপিড! হুরের সম্পর্কে যা ইনফরমেশন এনেছিস সব ভুল ,শালী আলালের ঘরের দুলালী ,তোকে কেটে টুকরো টুকরো করবো যদি তুই ঐ ভুল ইনফরমেশন দেওয়া মানুষ কাকে কাল না নিয়ে আসতে পারিস ।

আয়ান এর গলা শুকিয়ে গেলো , আবার কি গন্ডগোল করলো ও ,- অবশ্যই অবশ্যই স্যার,আমি করবো,আমি এখুনি বের হচ্ছি ।

নওশাদ ফোন কেটে বললো – কোন উগান্ডার রাজার মেয়ে এই হুর ,বলদে হাত দিয়েও খেতে পারে না ।

এখন বর্তমান এ নওশাদ রেয়ান চৌধুরী কে দেখে ভাবছে উগান্ডার রাজার তারই সামনে বসে আছে । কিন্তু হুর এখানে কি করছে? দেখলো কীভাবে? ভাবতে ভাবতে তাকিয়ে দেখলো রেয়ান চৌধুরী বাজপাখির মতো তাকিয়ে থাকে দেখছে তারপর আবার নিজের মেয়েকে সামলাতে লেগে পড়লো ।

হুর আবার বড্ড নাজুক কাঁদতে কাঁদতে বাপের বুকেই জ্ঞান হারিয়েছে। কিন্তু বাবার বুকে ঝাঁপিয়ে পড়ার পর তার দ্বিতীয় কথা ছিলো – পাপা এই লোকটা আমাকে মেরে ফেলতে চায় , তোমার প্রিন্সেস কে বাঁচাও ।

নওশাদ কি রিয়্যাকশন দেবে সেটাই ভেবে পাচ্ছেনা ডিল এর তো কোনো প্রশ্নই উঠে না , ইজ্জত বাঁচানো ফরজ এই মূহুর্তে। কীভাবে,কেন ,কোথা থেকে হুর এনার মেয়ে সেটাও ভাবলো না ।
ব্লেজার টা খুলে ফেললো এসির মধ্যেও গরম লাগছে ।হুরকে কয়েকটা কসিয়ে থাপ্পড় মারতে পারলে শান্তি পেতো ।

এদিকে রেয়ান চৌধুরী মেয়েকে কয়েকবার ডেকেও সাড়া পেলো না , নওশাদ এর দিকে তাকিয়ে কিছু বলতে যাবে তখনই নওশাদ ফিচলে হেসে বললো – আঙ্কেল,হুরকে একটা রুমে নিয়ে যান আপাতত, এরপর আপনাকে সব খুলে বলছি ।
রেয়ান চৌধুরী দ্রুত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার মানুষ নন তাই মেয়েকে কোলে তুলে নিলো , নওশাদ তাকে হুরের সেই রুমটায় নিয়ে গেলো ।

নওশাদ হুরকে দেখানো ডাক্তার কে ফোন করে আসতে বললো , যদিও হুরের কয়েকটি রিপোর্ট এখনো দেওয়া বাকি আছে ।
রেয়ান চৌধুরী মেয়ের পাশে বসলো ,তার মেয়ে এখানে কীভাবে ?

…..
রেয়ান চৌধুরী আর নওশাদ মুখোমুখি বসে আছে ,রেয়ান মির্জা নিরবতা ভেঙে বললো – তার বলো আমার মেয়ে তোমার কাছে কীভাবে আর ও তোমাকে এমন ভয় পাচ্ছিল কেন ? ওর সাথে কি করেছো ?

রেয়ান চৌধুরীর ঠান্ডা কথায় নওশাদ এবার ভরকে গেলো না ,বেশ অ্যাটিটিউড নিয়ে উঠে গিয়ে একটা ফাইল রেয়ান চৌধুরীর সামনে দিলো – চেক ইট আঙ্কেল।
রেয়ান চৌধুরীর চোখ ছানাবড়া হয়ে গেলো ,তার মেয়ে মিনি স্ট্রোক করেছিল !
নওশাদ মুচকি হাসি দিয়ে বললো – আঙ্কেল হুর ***ক্লাবে গিয়েছিল সেদিন মনে হয় ,কারন সেখানেই ওকে দেখেছিলাম কতগুলো ছেলে ওকে বিরক্ত করছিল, পরবর্তী তে ওর মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হয় ,আমি ওকে সাহায্য করতে যাই ।ও ভয়ে স্ট্রোক করে বসে । এরপর আমাকে দেখলেই ভয়ে ভয়ে চিৎকার দেয় । সেদিন আমি না গেলে কি যে হয়ে যেত আঙ্কেল, বাচ্চা একটা মেয়ে ও।ওকে বোরকা পড়া অবস্থায় দেখে ওকে আরোও বিরক্ত করছিল।

( ওরে বাটপার রেএএএ, নওশাদ কি বাটপারি লাগাইছে 🫣😁 সবগুলো মিথ্যা কথা 😂)

রেয়ান চৌধুরী ইমোশনাল হয়ে গেলেন মেয়ে তার কলিজার টুকরা নওশাদ বাঁচিয়েছে শুনে তো নওশাদ কে একহাতে জড়িয়ে ধরলো ।
– ধন্যবাদ নওশাদ, তোমার কাছে আমি ঋণী থাকবো আজীবন।

নওশাদ মুচকি হেসে বললো – আঙ্কেল আপনি হুরের কাছে গিয়ে বসুন আমি ওয়াসরুম থেকে আসছি ।

রেয়ান চৌধুরী হুরের কাছে চলে গেলেন , এদিকে নওশাদ নিজের রুমে গিয়ে দ্রুত দড়জা আটকে দিলো ।
নিজের বিশাল বিছানায় চিৎপটাং হয়ে ঠাস করে শুয়ে ফোস করে নিঃশ্বাস ছাড়লো ।
নিজেই বললো- বাহ নওশাদ প্রাউড অফ ইউ । কিন্তু ঐ মেয়েটার জ্ঞান ফিরলে যদি সব বলে দেয়?

ঠাস করে আয়ান কে ফোন লাগালো – আয়ান !
আয়ান – আসসালামুআলাইকুম ভাই আমি তো ড্রয়িংরুমে বসে আছি ,আপনি দোতালায় বসে আমাকে মিস করছেন?

নওশাদ চুপ কর শালা কথা শোন মন দিয়ে – ……………………………।বিশ মিনিট এর মধ্যে চাই আমার।

আয়ান- স্যার তার মানে আপনি একটা বাচ্চা মেয়েকে আপনার বউ…..
নওশাদ ধমক দিলো – গুরুর নাতি চুপ ,কল রাখ।

….
– আঙ্কেল একটু এদিকে আসেন ।
রেয়ান চৌধুরী নওশাদ এর ডাক শুনে এগিয়ে গেলো – হ্যাঁ বলো , কিছুক্ষন পর আমরা বের হবো , অফিস এ দেখা হবে ইনশাআল্লাহ।

নওশাদ – আসলে আঙ্কেল আমি একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা বলতে চাচ্ছি ,আপনি তো জানেন আমি এই দেশের একটা পরিচিত মুখ ।

কথাটা বলে থামলো , এরপর মনে মনে বললো- বাহ নওশাদ,আরেকটু নাটক কর।
রেয়ান চৌধুরী বলেন – তা তো অবশ্যই।
নওশাদ মাথা চুলকে বললো – আসলে আঙ্কেল সেদিন হুরের সাথে দেখা হওয়ার পর, ভুলক্রমে মিডিয়ার লোক সবকিছু জেনে যায়,আর তারা ভুল অর্থ বের করে ,আমাকে নিজের সম্মান বাঁচাতে আপনার মেয়েকে আমার স্ত্রী রূপে পরিচয় করিয়ে দেই। কিন্তু তাদের প্রমাণ চাই , আমার উপর প্রচুর প্রেশার পড়ায় বাধ্য হয়ে ওকে বিয়ে করি ,এই নিন কাগজ । এখানে সবকিছু দেওয়া আছে ।

রেয়ান চৌধুরী হা করে তাকিয়ে রইল,কাগজ টা নিয়ে দেখলো হুরের সাইন রয়েছে আর তাদের নাম দেওয়া আছে ।
রেয়ান চৌধুরী রেগে বললো- এসব কি বলছো তুমি ? আমাদের নাম ই যদি জানতে তাহলে আমাদের খবর কেন দাওনি ।

নওশাদ মুখটা কালো করলো , ইমোশনাল হওয়ার ভান ধরে বললো – আঙ্কেল হুর একটা বাচ্চা মেয়ে ,তার উপর আমার সাথে ওর বিয়ে হয়েছিল,আমি যে পরিমাণ খারাপ পরিস্থিতি তে ছিলো ভয়ঙ্কর আমার মাথায় ই আসেনি এটা আপনি হতে পারেন ।

নওশাদ থামলো , এরপর দম নিয়ে আবার বললো – এরপর হুরের মতো বাচ্চা মেয়েটা,ওর বাবা মা কে ছাড়া কষ্টে স্ট্রোক করে , এসবকিছু সামলাতে সামলাতে আমি আর কিছুই ভাবতে পারিনি।

কথা গুলো বলে শেষ করলো নওশাদ। কিন্তু ফ্যাচফ্যাচ করে কান্নার আওয়াজ কানে আসতেই নওশাদ আর রেয়ান চৌধুরী দুজনেই তাকালো , এতোক্ষণ আয়ান তাদের পাশেই ছিল। নওশাদ ই বলেছিল থাকতে ।

আয়ান একেকটা টিস্যু নিয়ে চোখ মুছে ফেলে দিচ্ছে, এরপর নাক টানতে টানতে রেয়ান চৌধুরী কে বললো – স্যার,আপনি জানেন না হুর ম্যাডাম কে নিয়ে কতো ঝামেলায় পড়েছিল বস । সারাক্ষণ নিজের চোখে চোখে রাখা লাগতো ।
ম্যাডাম যখন অসুস্থ হয় তখন দিন রাত এক করে আমাদের বস হসপিটাল এর দুয়ারে বসে থেকেছেন।উনি হুর ম্যাম কে অনেক স্নেহ করেন ।

আবার আরেকটা টিস্যু নিয়ে নাক মুছলো , এদিকে রেয়ান চৌধুরীও ইমোশনাল হয়ে গেলেন তিনিও আয়ানের কাছে এসে ওর কাধ চাপড়ে বললো – ইয়াং ম্যান,আই এম ইমপ্রেসড।তোমরা তোমাদের স্যার কে কতো ভালোবাসো , নিঃসন্দেহে সে একজন ভালো মানুষ,আমি ভেবে দেখবো ।

নওশাদ কটকটে দৃষ্টিতে আয়ানের দিকে তাকালো , কিন্তু আয়ান তা দেখলো না ।
আয়ান রেয়ান চৌধুরীর হাত ধরে নাক টেনে বললো – স্যার,বস একজন মাটির মানুষ, মানুষের সাথে জীবনেও উঁচু গলায় কথা বলেননি তিনি ।সবসময় মিষ্টি করে কথা বলেন উনি ,এরকম মিষ্টি মানুষ এর জন্য হুর ভাবী পারফেক্ট।তাই না?

রেয়ান চৌধুরী মাথা নাড়লেন।
আয়ান নওশাদ এর দিকে তাকালো , কিন্তু নওশাদ এর কটকটে চাহুনি দেখে আরোও দুই খাবলা টিস্যু নিয়ে মুখ মুছতে মুছতে বললো – স্যার আমি আসি , আপনারা মেহমান, গার্ড দের আপ্যায়ন করতে হবে না ?
আয়ান চলে গেলো ।আয়ান যেতেই নওশাদ রেয়ান চৌধুরী কে বললো – আঙ্কেল ওর কথায় কিছু মনে করবেন না ,ও আসলে একটু এমন ই তারকাটা টাইপ।

রেয়ান চৌধুরী – আরে না ,কি মনে করবো ।তুমি যথেষ্ট ভালো ছেলে , প্রিন্সেস কে বাসায় নিয়ে যাব আপাতত তারপর তুমি তোমার পরিবার কে নিয়ে একদিন যেও ।

একজন সার্ভেন্ট আসলো – স্যার ম্যামের জ্ঞান ফিরছে ।

নওশাদ আর রেয়ান চৌধুরী ভেতরে গেলো , নওশাদ চুপ করে ভাবছে হুর জ্ঞান ফেরার পর কি বলবে ,যা হবার হবে ,দেখা যাবে ।

হুর চোখ মেললো , পাশেই রেয়ান চৌধুরী ছিল ,তাকে জড়িয়ে ধরে বললো – পাপা বাঁচাও রিমি আপু আমাকে এখানে ফেলে গিয়েছে।
রেয়ান চৌধুরী অবাক হয়ে বললো- কোথায়?
হুর ফুঁপিয়ে উঠল – আমাকে ক্লাবে নিয়ে এলো জোর করে এরপর আমাকে ফেলে কোথায় যেন চলে গেলো ।

এদিকে নওশাদ সরু চোখে তাকিয়ে আছে ,এই মেয়েতো তারকাটাও !

হুর – আমরা কোথায় পাপা ।

রেয়ান চৌধুরী – আমরা নওশাদ এর বাড়িতে আছি প্রিন্সেস।
রেয়ান চৌধুরী মেয়ের মতিগতি বুঝতে চেষ্টা করছেন, কিছুক্ষন ভাবতেই অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল।

হুর – নওশাদ কে পাপা ।
রেয়ান চৌধুরী মাথায় হাত দিয়ে নওশাদ কে দেখালেন।
হুর নওশাদ কে দেখলো কোনো প্রতিক্রিয়া দেখালো না – পাপা বাসায় যাবো।

রেয়ান চৌধুরী – হ্যাঁ যাবো তো পাপা ,আগে নওশাদ কে ধন্যবাদ দাও ও তোমাকে বাঁচিয়েছে। এখুনি বের হবো আমরা ।

হুর উঠে দাড়ালো, মিষ্টি করে হেসে বললো- ধন্যবাদ আঙ্কেল আমাকে বাঁচানোর জন্য। আমাদের বাসায় দাওয়াত রইল, আসবেন কিন্তু।

হুরের বোকা বোকা কথায় রেয়ান চৌধুরী আর নওশাদ দুজনের ই কাশি উঠে গেলো ….

চলবে কি?

মিহিকা রোজা- Black Rose
যতক্ষণ রেসপন্স করতে থাকবেন ততক্ষণ আমি লিখবো ,তাই এই পর্ব তেও রেসপন্স আশা করছি ।১ হাজার করলে কালকেই পাবেন।

এই পর্ব সম্পর্কে মন্তব্য করবেন,এটা আমাকে অনুপ্রাণিত করে ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here