শূন্য_অর্থ_পূর্নতা (৮

0
34

#শূন্য_অর্থ_পূর্নতা (৮) (নওশাদ কি বেঁচে যাবে আজ ?😂)
….
নাবিলা সেখানে ঠায় দাঁড়িয়ে রইল মেহেরিন মির্জার দিকে তাকিয়ে।ধীর গলায় বললো- মামুনি! ডাকটা সম্পর্কের খাতিরে বলতে হয় লোক দেখানো, এতো পাওয়ার আপনাদের! যাক নিজেদের সম্মান টা অন্তত বাঁচাতে পারলেন।আর হ্যাঁ আমাকে নিয়ে ভাবতে হবেনা আপনার।যা করেছেন কৃতজ্ঞ আমি ।

এদিকে হুর নওশাদ কে বাসায় দেখে চমকে উঠলো , পালানোর রাস্তা খুঁজলো কিন্তু ওদের এমন অদ্ভুত কথাবার্তা শুনে দাঁড়িয়ে কান পেতে শুনতে লাগলো , মেয়েটার পরিচয় টা জেনে তারপর যাবে ।তাই একটু দূরে সরে চুপচাপ উৎসুক নয়নে তাকিয়ে রইল।
সত্যি বলতে হুরের এসব ঝুট ঝামেলা দেখতে ভালোই লাগে , যেখানে ঝগড়া বা কথা কাটাকাটি দেখে চুপচাপ বিড়াল ছানার মতো দাঁড়িয়ে না কামড়াতে থাকে। বাঙালির রক্ত বলে কথা !

নাবিলা নওশাদ এর মুখোমুখি দাঁড়ালো , দৃষ্টি খুব দূর্বল, ঠোঁট কাপছে তার – এই কাগজ টায় সাইন করে দিন সামাজিকতার খাতিরে।আর আমি আপনার কাছে পঁচিশ লাখ টাকা চাইছি আমার ক্ষতিপূরণ হিসেবে।

মেহেরিন মির্জা তেড়ে আসলেন – তোমাকে তো কখনো লোভী মনে হয়নি নাবিলা , তাহলে আজ এমন কেন করছো । তোমার মাকে আমি বিশ্বাস করতাম,ও আমাদের এতো বড়ো ক্ষতি করলো ।

নাবিলা শক্ত কন্ঠে বললো – আপনার বান্ধবী ছিলো লোভী আর আপনি ছিলেন অহংকারী ,এর মাঝে বলির পাঠা বানিয়েছেন।

নাবিলা শুকনো হেসে মেহেরিন মির্জার হাত ধরে বললো – মামুনি সেটা আপনার বান্ধবী কেই জিজ্ঞেস করবেন , টাকাগুলো তার কাছে পাঠিয়ে দিবেন ।এই ক্ষমতার জোড়ে আমাকেই শেষ করে দিলেন আপনি ।

মেহেরিন মির্জা চুপ করে গেলেন কিছু বললো না ,নাবিলা তার থেকে উওর এর আশা না করে নওশাদ কে অনুরোধ এর সুরে বললো – নওশাদ আপনার উপর আমি কৃতজ্ঞ থাকবো আজীবন,নূর কে যদি আপনি রাখতে চান রাখতে পারেন নাহলে ওকে কোনো আশ্রম এ দিয়ে দেব ।

হুর এবার বুঝলো এটা নওশাদ এর স্ত্রী,ও হঠাৎ ভেবে বসলো ওর জন্য হয়তো এমন কিছু ঘটছে ,ও ফট করে উঠে দাড়ালো একাই সুযোগ ওর এখানে থেকে বের হওয়ার- আরে আপু আপনি যা ভাবছেন তেমন কিছু নয় ,উনার সাথে কোনো বিয়ে টিয়ে হয়নি ,আপনি সুখে সংসার করুন আমি আসছি ।
নাবিলা ফ্যাকাশে হাসলো ,হুরের থুতনি ধরে বললো- তুমি খুব অবুঝ মেয়ে ,আর নিস্পাপ।
হুর – বিশ্বাস করুন……
আর বলতে পারলো না, নওশাদ এর ধমক ভেসে এলো – হুর তুমি তোমার রুমে যাও ,সাথে নূরকেও নিয়ে যাও । খবরদার কোনো তেড়িবেড়ি করলে ফ্যানের সাথে উল্টো ঝুলিয়ে রাখবো ।

হুরের রাগ লাগলো খুব,মুখ বাঁকিয়ে নূরকে নিয়ে চলে গেলো , নওশাদ অবাক হয়ে দেখলো হুরের মুখ বাঁকানো ,এই মেয়ের কতো রূপ দেখবে ও মুখ বাকাতেও জানে!

নাবিলা মুচকি হাসলো – বাচ্চা মেয়ে ।

নওশাদ এবার পূর্ন দৃষ্টি নিক্ষেপ করলো নাবিলার দিকে , নওশাদ কে অসুস্থ লাগছে , নাবিলা সেদিকে তোয়াক্কা করলো না , কাগজ টা বের করে রাখলো নওশাদ এর সামনে

নওশাদ কিছু বললো না সাইন করে দিলো , নাবিলা – ধন্যবাদ, এটা মিডিয়ায় বলে দেবেন, ছবিটাও দিয়ে দিবেন।যদিও আমাদের বিয়েটা কোনো বিয়ে ছিল না , লোক দেখাতে ডিভোর্স টা দরকার ছিলো ।
নওশাদ মাথা নাড়ালো ।
এদিকে হুর যেতে যেতে নওশাদ কে ডিভোর্স পেপার এ সাইন করতে দেখে গেলো মনের মধ্যে একরাশ অনুসূচনা গিয়ে ধরলো , এটা কি তার জন্য ই হলো ? কিন্তু তাদের যে বিয়েটা হয়েছে সেটা তো কোনো বিয়েই না কারন নাম থেকে শুরু করে সবকিছুই ভুল ছিল।

হুর গভীর চিন্তায় পড়ে গেলো ।

এদিকে নওশাদ নাবিলার দিকে পঞ্চাশ লাখ টাকার চেক ধরিয়ে দিলো , নাবিলা অবাক হলো , নওশাদ সেদিকে পাত্তা দিলো না বুকে হাত গুজে বললো- আপনার মেয়ে বলতে কিছুই থাকবে না , নূর এখন আমার মেয়ে। আমার বউটা ছোটো তো তাই নূর ই থাকুক । এক বাচ্চা আরেক বাচ্চাকে পালবে।
নাবিলা থতমত খেয়ে গেলো এরূপ কথা , ও শুধু মাথা নিচু করে ধন্যবাদ জানালো ।
নওশাদ – জীবন থাকতে যদি কখোনো নূরের দিকে ফিরে তাকানোর চিন্তা করেছেন তাহলে আমি ভুলে যাব আপনি নূরের জন্মদাত্রী ভুলে যাবেন না এই বাচ্চাটা কে আপনি মেরে ফেলতে চেয়েছিলেন, আমিও তখন আপনাকে আপনার অবস্থান বুঝিয়ে দেব ।

নাবিলা মাথা নিচু করলো তার চোখে অশ্রুকণা এসে জমেছে , এতো অপমান? এতোকিছু তো সে নিজের ভালোবাসার জন্য করেছে, আপন মানুষ এর ব্ল্যাকমেইল!?
নাহ আর কিছু ভাবতে পারলো না, যে রাস্তায় এসেছিল সেই রাস্তায় ফিরে গেলো ।

….
মির্জা ভিলায় সামনে দশটা মার্সিডিজ কার এসে থামলো । একজন গার্ড গাড়ির দড়জা খুলে তাদের আমন্ত্রণ জানালো ।
গাড়ি থেকে নেমে এলো রেয়ানশ চৌধুরী এবং তার গার্ড।সকলেই বাড়ির সামনে দুই সারিতে দাঁড়িয়ে পড়লো ।রেয়ান চৌধুরী তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে আশেপাশে দেখলো , এরপর গম্ভীর হয়ে হেঁটে এলো ।
একজন কর্মচারীর হাতে দুটো ফাইল সেটা নিয়ে সে রেয়ান চৌধুরীর পাশে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইল।

নওশাদ সব দেখলো , পরনে তার কোর্ট প্যান্ট, পাক্কা বিজনেস ম্যান লাগছে এখন তাকে ।রেয়ান চৌধুরী কে সরু চোখে দেখে নিলো ।সাদা লং কোর্ট, সাদা ফর্মাল প্যান্ট।চোখে সানগ্লাস। যথেষ্ট ফিট তিনি । চুলগুলো ঘন কালো কুচকুচে। মাফিয়া লাগছে একদম ,এক সেকেন্ড এর জন্য নওশাদ এর চোখের সামনে একজন এর চেহারা ভেসে উঠলো, মূহুর্তের মধ্যে তার মিলিয়ে গেলো ।

বয়স আন্দাজ করলে চল্লিশ এর উপরে কেউ উঠতে পারবে না।ভারী বুটের শব্দ করে নওশাদ রেয়ান চৌধুরীর দিকে এসে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানালো ।হাত মিলিয়ে ভেতরে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হলো ।
রেয়ান চৌধুরী নওশাদ এর অভ্যর্থনা গ্ৰহন করলেন, তার নওশাদ এর অভ্যর্থনা ভালো লাগলো ।
বিশাল আভিজাত্য পূর্ন ড্রয়িংরুমের একপাশে বসার আয়োজন করেছে। সেখানে গিয়ে বসলো তারা ।
বিজনেস নিয়ে কথা বললো কিছুক্ষন তারা ।ডিল টা ফাইনাল হতোই তবে রেয়ান চৌধুরী কিছুক্ষন চুপ থাকলো এরপর হঠাৎ যে কথাটা বললো নওশাদ অবাক হয়ে গেলো ।
– মিস্টার নওশাদ মির্জা, তোমার আতিথেয়তায় আমি খুশি হয়েছি তবে এখানে আশার উদ্দেশ্যে বিজনেস নয় , আমার একটা সাহায্য যদি করতে পারো তবেই আমি কথা এগোবো।

নওশাদ অবাক হলো , এতো বড়ো বিজনেস ম্যান এর সাহায্যের প্রয়োজন তাও ওর!
নওশাদ হালকা হেসে বললো- জি আপনি বলুন, সেক্ষেত্রে ডিল এর বিষয় টেনে আনবেন না একজন এমপি হিসেবে জনগণের সকল দেখভাল করার দায়িত্ব তো আমার ই ।

রেয়ান চৌধুরী হাসলো – সেটাই, তুমি এমপি এই এলাকার এটা জানতে পেরেই এসেছি , আমার একমাত্র মেয়ে হারিয়ে গিয়েছে ওকে খুঁজতে সাহায্য করতে হবে , পুলিশ এর কাছে যেতে পারবো না এতে ওর জীবনের ঝুকি হবে ।আর আমি আমার মেয়েকে মিডিয়ায় থেকে দূরে রেখেছি ।আমিই একাজটা পারতাম তবে একটা ছোট ঝামেলার জন্য সম্ভাব না ।ওকে এখনি মিডিয়ার সামনে নিয়ে আসতে চাইনা ।

নওশাদ এর বুক ধ্বক করে উঠলো , নিজেকে সামলে নিলো , এতো বড় মানুষ, ওনার তো নওশাদ এর থেকেও ক্ষমতা বেশি ,দোয়া করলো সন্দেহ যেন সত্যি না হয় , সত্যি হলে নওশাদ তো আজ টপকে যাবে ।

নওশাদ মুচকি হেসে বললো – অবশ্যই আঙ্কেল, আপনি আমার বাবার বয়সী , চেষ্টা করবো আমি আমার সর্বোচ্চ দিয়ে ।

রেয়ান চৌধুরী – ধন্যবাদ নওশাদ,এই প্রজেক্ট নিয়ে…..

কথাটা শেষ করতে পারলো না,কানের মধ্যে তীক্ষ্ণ একটা শব্দ এসে বাড়ি খেলো ,মাথা ভনভন করে উঠলো ,মনে হচ্ছিল যেন চোখের সামনে সবকিছু ঝাপসা হয়ে আসছে । হৃৎপিণ্ডের রক্ত চলাচল কিছুক্ষন এর জন্য থেমে গেলো একটা ডাক শুনে..

– পাপা!
শরীরে ঠান্ডা শিহরণ বয়ে গেলো রেয়ান মির্জা,বুকের উপর ঝাঁপিয়ে পড়া মেয়েটাকে জরিয়ে ধরে কিছুক্ষন চুপ করে বসে রইল, বুকের সাথে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো ।

নওশাদ ধপ করে উঠে দাঁড়ালো………

চলবে কি?

মিহিকা রোজা- Black Rose

এই পর্ব টার রেসপন্স থেকে পরের পর্ব আসবে, পরিস্কার করে বলে দিলাম।১ হাজার পূর্ন না হলে আমি গল্প দেব না,বার বার বলতে ভালো লাগে না।

এই পর্ব সম্পর্কে মন্তব্য করতে ভুলবেন না, অবশ্যই কমেন্ট করবেন যারা পড়ছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here